GS Garments
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from GS Garments, 3/1 An-Noor Market, West Mokondopur, Jhalam, Barura, Cumilla.
27/12/2025
বরুড়াবাসীর জন্য সু-খবর
বহু বছর পর একজন আলেম মুফতী
নবীর ওয়ারিসকে সংসদে নিয়ে নবীর শাষনের
মত একটি দেশের উপজেলাকে চাদা সন্ত্রাস দূর্নীতিমুক্ত করতে নিজের ভোট আমানত প্রয়োগ করার সুবর্ণ সুযোগ। হাদিসে আছে যাহারা আলেমকে মুহব্বত করলো তথা সাপোর্ট করলো তাহারা নবীকে মুহব্বত বা সাপোর্ট করলো। তাই আসুন আমরা ফাসেককে ভোট না দিয়ে একজন আলেম ও হাতপাখাকে ভোট দেই। আমিন।
সবাই বলে হাতপাখা
কুমিল্লা ৮ বরুড়া
সাদিক মাহমুদ বিন নূরী
Hi
সাদ সাহেবের গোমরাহী সম্পর্কিত দেওবন্দের দেওয়া প্রথম ফতওয়াটির অনুবাদ নিচে দেওয়া হল। এতে চিন্তাশীলদের জন্য চিন্তার অনেক খোরাক রয়েছে। মনোযোগ দিয়ে পড়ুন ও গভীর ভাবে চিন্তা করুন। তাবলিগকে হেফাজতের এক তড়প ও বেচাইনি এই ফতোয়ার মধ্য সুন্দরভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
==========================================
তাবলীগের মুরব্বি মাওলানা সা’দ সাহেব সম্পর্কে দেওবন্দের ফতোয়ানুবাদ!
৬ ডিসেম্বর ২০১৬
মুহাম্মাদ নাজমুল ইসলাম, দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে :নিঃসন্দেহে তাবলিগ জামাত আমাদেরই দীনপ্রচারের একটি মাধ্যম৷ ব্যক্তি বিশেষ কারোর কোনো বক্তব্যের ফলে খোদ তাবলিগ জামাত দীনবিচ্যুত হতে পারে না৷ কোনো সমালোচনা উদ্দেশ্য নয়, বরং একে বাড়াবাড়ি থেকে রক্ষা করা আমাদেরই দায়িত্ব৷ সে লক্ষ্যেই দু-চারটে কথা :
তাবলিগ জামাতের প্রধান আমির হজরত মাওলানা মুহাম্মদ সাদ সাহেবের বক্তব্য শুনলাম গভীর মনোযোগসহ৷ ভূপালে তাবলিগ জামাতের জোড়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পাওয়া যায় তার একপেশে ধ্যানধারণার খোঁজ৷
গত পরশুদিন ভারতীয় উর্দু দৈনিক ইনকিলাব, আখবারে মাশরিক, সাহারাসহ বেশকিছু দৈনিকে এ ব্যাপারে ছিলো দ্বিমুখী টাটকা বয়ান-বক্তব্য৷ দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম আমাদের উস্তাযে মুহতারাম হজরত মুফতি আবুল কাসেম নোমানি বানারসি (দামাত বারাকাতুহুম) তার বক্তব্য স্পষ্ট করবার জোরালো কোশেশ করেছেন মিডিয়ায়৷
এদিকে দারুল উলুম দেওবন্দের আকাবির আসাতিযায়ে কেরাম ও মুফতিয়ানে কেরাম বরাবর তার একাধিক বক্তব্যের রেকর্ড পৌঁছে৷ অডিওগুলি শুনে তারা পত্র মারফত তাকে রুজু করবার ব্যাপারে জানান৷ অথচ তার পক্ষ থেকে মেলে না আশ্বস্ত হবার মতো তেমন কোনো জবাব৷
অগত্যা দারুল উলুম দেওবন্দের দারুল ইফতা থেকে প্রকাশ করা হয় তার উৎপটাং বক্তব্যের ব্যাপারে জনসাধারণকে সতর্কতাস্বরূপ একটি অবহিতনামা৷ দারুল উলুম দেওবন্দের আকাবির আসাতিযায়ে কেরাম ও মুফতিয়ানে কেরামের মধ্য হতে ১৭ জনের স্বাক্ষর সম্বলিত উর্দুভাষায় রচিত চার পৃষ্ঠার সেই ফতোয়াটির বাংলা অনুবাদ এমন—
জনাব মাওলানা মুহাম্মদ সাদ কান্ধলবি সাহেবের কয়েকটি ভ্রান্ত ধ্যানধারণা এবং প্রশ্ন উত্থাপনযোগ্য বয়ানসমূহের ব্যাপারে দেশ ও দেশের বাইরে থেকে প্রাপ্ত চিঠিপত্র, নানা প্রশ্ন দেখে দারুল উলুম দেওবন্দের মুরব্বিপর্যায়ের আসাতিযায়ে কেরাম ও মুফতিয়ানে কেরাম স্বাক্ষরিত সর্বসম্মত একটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিলো৷ কিন্তু সেটি লেখার আগে জানা গেলো, হজরত সাদ সাহেবের তরফ থেকে একদল লোক কথা বলার জন্য দারুল উলুম দেওবন্দে আসতে চায়৷
তারা এসে হজরত সাদ সাহেবের তরফ থেকে এই বার্তা পৌঁছুলো, তিনি রুজু করার জন্য প্রস্তুত৷ তাই সিদ্ধান্তকৃত একটি কপি তাদের মারফত তার বরাবর পাঠানো হয়৷ তার পক্ষ থেকেও পত্রটির একটি জবাব মেলে৷ কিন্তু সামগ্রিকভাবে দারুল উলুম দেওবন্দ তার জবাব দ্বারা আশ্বস্ত হয় না৷ যার কিছুটা সবিস্তারে তার বরাবর পত্রের মাধ্যমে আবার পাঠানো হয়৷
আকাবির প্রতিষ্ঠিত তাবলিগ জামাতের পবিত্র কাজকে উল্টো ধ্যানধারণার সম্ভাবনা থেকে রক্ষা করতে, মাসলাকে আকাবিরের ওপর কায়েম রাখতে, তাবলিগের ফায়দা এবং হক্কানি উলামায়ে কেরামের মাঝে এর ওপর পূর্ণ ভরসা অবশিষ্ট রাখতে, নিজেদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তের ব্যাপারে মাদরাসা সংশ্লিষ্ট ও আলেমদের হজরত বরাবর উম্মাহর স্বচ্ছতাস্বরূপ সিদ্ধান্ত প্রেরণকে দীনি কর্তব্য ভাবে দারুল উলুম দেওবন্দ৷ আল্লাহতায়ালা এই মোবারক জামাতকে পূর্ণাঙ্গ হেফাজত করুন৷ আমাদের সবাইকে মাসলাক ও আমলের দিক থেকে হকপথে কায়েম থাকবার তৌফিক দিন৷ আমিন৷
মূল আলোচনা
বর্তমানে পৃথিবীর অধিকাংশ হক্কানি উলামায়ে কেরাম ও মাশায়েখগণের আবদার হলো, জনাব মাওলানা মুহাম্মদ সাদ কান্ধলবি সাহেবের চিন্তাচেতনার ব্যাপারে দারুল উলুম দেওবন্দ নিজেদের মতামত যেনো স্পষ্ট করে দেয়৷ হালে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের নির্ভরযোগ্য বেশ কয়েকজন উলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে চিঠিও মিলেছে৷ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকেও দারুল উলুম দেওবন্দের ইফতা বিভাগে প্রশ্ন এসেছে বহু৷
তাবলিগের ভেতরকার মতনৈক্য ও যাবতীয় ব্যবস্থাপনা কথা আলোচনা বৈ সরাসরি পেশ করতে চাই, গেলো বছর কয়েক ধরে ইস্তিফতা ও পত্র মারফত মাওলানা মুহাম্মদ সাদ কান্ধলবি সাহেবের মতাদর্শ-চিন্তাচেতনা সম্পর্কিত তথ্য দারুল উলুম দেওবন্দে মেলে৷ সেগুলো যাচাইয়ের পর স্পষ্টভাবে তার বয়ানে কুরআন ও হাদিসের ভুলত্রুটি তথা মারজুহ ব্যাখ্যা, গলদ ইস্তিদলাল, মনগড়া ব্যাখ্যা পরিলক্ষিত হয়৷
কিছু কথায় আম্বিয়ায়ে কেরাম আলাইহিস সালামের ব্যাপারে বেয়াদবিমূলক আচরণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে৷ অথচ অনেক ব্যাপার এমন রয়েছে, যার ফলে আলোচ্য ব্যক্তি জমহুরে উম্মাহ ও ইজমায়ে সালফের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে যেতে থাকেন৷
বেশকিছু ফিকহি মাসায়েলেও তিনি গ্রহণযোগ্য দারুল ইফতাসমূহের দেয়া ফতোয়ার বিপরীত মূলনীতিহীন মত কায়েম করে আমজনতার সামনে তাগিদের সঙ্গে বয়ান করে থাকেন৷
তাবলিগজামাতের কাজের গুরুত্ব তিনি এভাবে বয়ান করে থাকেন, যার মাধ্যমে দীনের অন্যান্য শাখার ওপর কঠোরভাবে দোষত্রুটি আরোপ করা এবং হীনতা প্রদর্শিত হয়; সালফে সালেহিনের দাওয়াতি পুরোনো পন্থার রদ ও অস্বীকার লাজিম আসে৷ ফলে আকাবির ও আসলাফের মাহাত্ম্যেও ঘাটতি, হীনতা প্রদর্শিত হয়৷
তার এই মতাদর্শ তাবলিগ জামাতের সাবেক দায়িত্বশীল হজরত মাওলানা ইলিয়াস সাহেব রহ., হজরত মাওলানা ইউসুফ সাহেব রহ., হজরত মাওলানা ইনামুল হাসান সাহেব রহ.-এর একেবারে বিপরীত৷
মাওলানা মুহাম্মদ সাদ সাহেবের বয়ানসমূহের যতোটুকু আমাদের অবধি পৌঁছেছে, আর যেগুলোর সম্বন্ধ তার প্রতি সত্যই প্রমাণিত হয়েছে, তার মধ্য থেকে কিছু এমন—
০১. রাব্বুল আলামিনের ডাকে হজরত মুসা আলাইহিস সালাম নিজ কওম ও জামাত ছেড়ে একাগ্রতায় চলে যান৷ ফলে বনী ইসরাঈলের ৫ লাখ ৮৮ হাজার মানুষ পথভ্রষ্ট হয়ে যায়৷ মূল তো ছিলেন তিনিই৷ আর তিনিই ছিলেন দায়িত্বশীল৷ মূল যিনি, তার থাকা চাই৷ হজরত হারুন আলাইহিস সালাম তো ছিলেন তার সহযোগী৷
০২. নকল ও হরকত তওবার পূর্ণতা ও আত্মশুদ্ধির জন্য৷ তওবার তিনটে শর্ত তো লোকে জানে৷ কিন্তু চতুর্থটি কারোর জানা নেই৷ ভুলে গেছে৷ আর সেটি হলো আল্লাহর পথে বের হওয়া৷ এটিকে মানুষ ভুলিয়ে দিয়েছে৷ নিরানব্বইভাগ খুনির সাক্ষাৎ কোনো পাদ্রীর সঙ্গে হয়েছে৷ পাদ্রী তাকে নিরাশ করেছে৷ এরপর তার দেখা এক আলেমের সঙ্গে হয়েছে৷ আলেম তাকে বলেছে, ‘তুমি অমুক বস্তিতে বেরিয়ে পড়ো৷’
অতঃপর সেই খুনি বেরোলো৷ আর আল্লাহতায়ালা তার তওবা কবুল করেছেন৷ এর দ্বারা বোঝা যায়, তওবার জন্য আল্লাহর পথে বেরোনো শর্ত৷ অন্যথায় তওবা কবুল হয় না৷ এই শর্তটি মানুষ ভুলে গেছে৷ অন্য তিনটি শর্ত বয়ান করে কেবল৷ অথচ চতুর্থ শর্ত অর্থাৎ আল্লাহর পথে বেরোনোর শর্তটি ভুলে গেছে একেবারেই৷
০৩. হেদায়েতপ্রাপ্তির স্থল একমাত্র মসজিদ৷ যেখানে কেবল ধর্মীয় পড়াশোনা হয়, তাদের সম্পর্ক যদি মসজিদের সঙ্গে কায়েম না হয়, তাহলে আল্লাহর শপথ সেখানেও দীন রয়েছে বলে ধরা হবে না৷ সেখানে ধর্মীয় পড়াশোনা হতে পারে, কিন্তু দীন বা ধর্ম হবে না৷
(এই চয়নে মসজিদের সম্পর্কের সঙ্গে তার উদ্দেশ্য মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়া নয়৷ এজন্য এ কথা তিনি মসজিদের গুরুত্ব এবং দীনের কথা মসজিদেই নিয়ে করার ব্যাপারে নিজের বিশেষ মতাদর্শ বয়ানকালে বলেন৷ যার বিস্তারিত অডিও বিদ্যমান৷ তার এই দৃষ্টিভঙ্গি হয়ে গেছে এমন, দীনের কথা মসজিদের বাইরে বলা সুন্নতের বিপরীত; আম্বিয়ায়ে কেরাম, সাহাবায়ে কেরামের মতাদর্শের খেলাফ)৷
০৪. পারিশ্রমিক নিয়ে দীন শেখানো দীনবিক্রির নামান্তর৷ ব্যভিচারকারী কুরআনে কারিম শিখিয়ে পারিশ্রমিক গ্রহণকারীর আগে জান্নাতে যাবে৷
০৫. আমার মতে ক্যামেরা সিস্টেম মোবাইল পকেটে রাখাবস্থায় নামাজ হয় না৷ উলামায়ে কেরাম থেকে যতো ইচ্ছে ফতোয়া নাও, ক্যামেরা সিস্টেম মোবাইলে কুরআনে কারিম শোনা, দেখে দেখে পড়া কুরআনে কারিমের অপমান করার মতো৷ এর দ্বারা গোনাহ বৈ সওয়াব মিলবে না৷ এর কারণে আল্লাহতায়ালা কুরআনে কারিমের ওপর আমল করা থেকে বঞ্চিত করে দেবেন৷
যে সমস্ত উলামায়ে কেরাম এ ব্যাপারে বৈধতার ফতোয়া দিয়ে থাকেন, তারা নিঃসন্দেহে ‘উলামায়ে সু’৷ তাদের মন-মস্তিস্ক ইহুদি, খৃস্টানদের চিন্তাচেতনায় প্রভাবিত৷ তারা একদম মূর্খ আলেম৷
আমার মতে যে আলেম এর বৈধতার ফতোয়া দেয়, আল্লাহর শপথ! তার অন্তর অাল্লাহতায়ালার কালামের মাহাত্ম্যশূন্য৷ এ কথা আমি এজন্য বলছি, আমায় একজন আলেম জিজ্ঞেস করেছেন, ‘এতে অসুবিধে কী?’ আমি বলেছি, ‘আসলে এই আলেমের অন্তর আল্লাহতায়ালার বড়ত্বশূন্য; চাই তার বুখারি শরিফই মুখস্থ হোক না কেনো৷ আরে, বুখারি শরিফ তো অমুসলিমদেরও মুখস্থ থাকতে পারে৷
০৬. কুরআনে কারিম বুঝে বুঝে পাঠ করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ওয়াজিব৷ যে এই ওয়াজিব ছেড়ে দেবে, তার ওয়াজিব ছেড়ে দেবার গোনাহ মিলবে৷
০৭. আমার আফসোস হয় তখন, যখন কাউকে জিজ্ঞেস করা হয় ‘তোমার ইসলাহি সম্পর্ক কার সঙ্গে?’ কেনো বলুন না তখন, আমার ইসলাহি সম্পর্ক এই দাওয়াত ও তাবলিগের কাজের সঙ্গে! এ কথার ওপর বিশ্বাস করো, দাওয়াতের কাজ তরবিয়তের জন্য যথেষ্ট নয়; বরং জামিন তথা দায়িত্বশীল৷ আমি অনেক ভেবে দেখেছি, কর্মীদের পা তোলার মূল কারণ এটাই৷
আমার তো সেসব লোকের জন্য চিন্তা হয়, যারা এখানে বসে বলে—‘ছয় নম্বর পূর্ণ দীন নয়৷’ নিজের দইকে নিজেই টক বর্ণনাকারী কখনও ব্যবসা করতে পারে না৷
আমার বড় আফসোস হলো, যখন আমাদের একজন তাবলিগি ভাই আমায় বললো, ‘আমার এক মাসের ছুটি দরকার৷ অমুক শায়খের সঙ্গে এতেকাফের উদ্দেশ্যে যেতে হবে৷’ আমি বললাম, আজ অবধি তোমরা দাওয়াত ও ইবাদতকে এক করো নি৷ তোমাদের কমপক্ষে চল্লিশ বছর পেরিয়ে গেলো তাবলিগের কাজে৷ এতোদিন পর একজন এসে এভাবে বলে—‘আমার ছুটি প্রয়োজন৷ এক মাস এতেকাফের জন্য যেতে চাই৷’
আমি বললাম, যে ইবাদতের জন্য দাওয়াত থেকে ছুটি চাচ্ছে, সে দাওয়াত বিনে ইবাদতে উন্নতি করতে পারে কী করে?
আমি পরিষ্কারভাবে বলছি, আমালে নবুওয়াত এবং আমালে বেলায়েতের মাঝে যেই পার্থক্য, সেটি কেবল নকল ও হরকত না হবার৷
আমি স্পষ্টভাবে বলছি, আমরা কেবল দীন শেখবার জন্য তাশকিলে বেরোই না৷ কারণ দীন শেখবার তো আরও পথপন্থা রয়েছে৷ সুতরাং তাবলিগে বেরোনোটা কেনো জরুরি? দীনই তো শেখা দরকার৷ মাদরাসা থেকে শেখো, খানকা থেকে শেখো৷
তার বয়ানের কিছু এমন অংশও পৌঁছেছে, যার মাধ্যমে স্পষ্ট হয় মাওলানা মুহাম্মদ সাদ সাহেবের মতে দাওয়াতের প্রশস্ত বুঝের ভেতর কেবল তাবলিগি জামাতের বর্তমান ব্যবস্থাপনাই অন্তর্ভুক্ত৷ একে কেবল তিনি আম্বিয়ায়ে কেরাম ও সাহাবায়ে কেরামের পথপন্থার সঙ্গে ব্যাখ্যা করেন৷
আর এই বিশেষ সিস্টেমকে সুন্নত ও হুবহু আম্বিয়ায়ে কেরামের মেহনতের মতো সাব্যস্ত করেন৷ অথচ উম্মতের সর্বসম্মত মাসলাক হলো, দাওয়াত ও তাবলিগ একটি সামগ্রিক বিষয়৷ শরিয়তে যার এমন কোনো বিশেষ পদ্ধতি আবশ্যক করা হয়নি, যা পরিত্যাগের ফলে সুন্নত ছেড়ে দেয়া সাব্যস্ত হয়৷ বিভিন্ন কালে দাওয়াত ও তাবলিগের নানান পদ্ধতি ছিলো৷ কোনো যমানায়ই দাওয়াতের দায়িত্ব থেকে কোনোরূপ একপেশে আঞ্জাম প্রকাশ পায়নি৷
সাহাবায়ে কেরামের পরে তাবেয়িন, তাবে তাবেয়িন আইম্মায়ে কেরাম, মুজতাহিদিন, ফুকাহা, মুহাদ্দিসিন, মাশায়েখ, আওলিয়ায়ে কেরাম এবং নিকটতম সময়ে আমাদের আকাবিরে কেরাম দুনিয়ায় দীন কায়েম রাখতে নানামুখী পথপন্থা অবলম্বন করেছেন৷
সংক্ষিপ্ততার কারণে আমরা এই সামান্য কথাগুলিই পেশ করলাম৷ এছাড়াও এমন অনেক কথাও আমাদের অবধি পৌঁছেছে, যা জমহুর উলামায়ে কেরাম থেকে দূরে সরে একটি নবউদ্ভাবিত বিশেষ মতাদর্শের প্রমাণবাহক৷ তার এসব কথা ভুল হওয়াটা একদম স্পষ্ট৷ সেজন্য এখানে এর ওপর বিস্তারিত আলোচনার দরকার নেই৷
এর আগেও দারুল উলুম দেওবন্দের তরফ থেকে বার কয়েক পত্র মারফত এবং দারুল উলুম দেওবন্দে তাবলিগের ইজতেমাকালে বাংলাঅলি মসজিদের প্রতিনিধিদলের সামনেও এসবের ওপর মনোযোগ দেবার কোশেশ করানো হয়েছিলো৷ কিন্তু সেসব চিঠিপত্রের আজ অবধি কোনো জবাব মেলে নি৷
তাবলিগ জামাত একটি খালেস ধর্মীয় জামাত৷ যা আমল ও মাসলাক হিসেবে জমহুরে উম্মাহ ও আকাবিরের পদ্ধতি থেকে দূরে সরে গিয়ে সংরক্ষিত থাকতে পারে না৷ আম্বিয়ায়ে কেরামের ব্যাপারে বেয়াদবিমূলক মন্তব্য, উল্টো ধ্যানধারণা, মনগড়া তাফসির, হাদিস-আসারের মনগড়া ব্যাখ্যার সঙ্গে হক্কানি উলামায়ে কেরাম কখনও ঐক্যমত পোষণ করতে পারেন না৷ আর এর ওপর চুপ থাকাও যায় না৷ কারণ এধরনের চিন্তাচেতনার ফলে পরবর্তীতে পুরো তাবলিগ জামাতকে হকপথ থেকে বিচ্যুত করে দেয়ার মতো হয়৷ যেমনিভাবে আগেও কতক ইসলাহি ও দীনি জামাতের সঙ্গে এমন ঘটনাই ঘটেছে৷
এজন্য আমরা এসব উত্থাপিত প্রশ্নের আলোকে উম্মাহ বিশেষ করে সাধারণ তাবলিগি ভাইদেরকে এ কথাগুলি সম্বন্ধে অবহিত করানোকে নিজেদের কর্তব্য মনে করছি, মৌলবি মুহাম্মদ সাদ সাহেব স্বল্প ইলমের কারণে নিজের চিন্তাভাবনা, মতাদর্শ এবং কুরআন-হাদিসের ব্যাখ্যায় জমহুর আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের সঠিক পথপন্থা থেকে সরে যাচ্ছেন৷ যা নিঃসন্দেহে ভ্রষ্টতার পথপন্থা৷ এ কারণে এসবের ওপর চুপ থাকাটা সমীচীন নয়৷ কারণ যদিও এই চিন্তাচেতনা একজনের, কিন্তু এসব সাধারণ মানুষের মাঝে খুব প্রবল বেগে ছড়িয়ে যাচ্ছে৷
জামাতের হালকায় প্রভাবিত ইতিদালি মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীলদেরকেও আমরা দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, আকাবিরের প্রতিষ্ঠিত এই জামাতকে জমহুর উম্মাহ ও আকাবির দায়িত্বশীলদের পথপন্থায় কায়েম রাখবার আপ্রাণ কোশেশ করুন৷
আর মৌলবি মুহাম্মদ সাদ সাহেবের যে ভ্রান্ত চিন্তাচেতনা সাধারণের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে, সেসব সংশোধনের পূর্ণ চেষ্টা চালিয়ে যান৷ যদি এর ওপর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তাহলে আশঙ্কা হয়, আগামীতে তাবলিগ জামাতের কারণে উম্মাহর একটি বৃহৎ অংশ পথভ্রষ্টতার শিকার হয়ে গোমরাহ দলের রূপ নেবে৷
আমাদের প্রার্থনা হলো, রাব্বুল আলামিন যেনো তাবলিগ জামাতের হেফাজত করেন৷ সঙ্গে সঙ্গে আকাবিরের পথে একনিষ্ঠভাবে জারি ও প্রবহমান রাখেন৷ আমিন৷ সুম্মা আমিন৷
পুনশ্চ : আগে এধরনের অগ্রহণযোগ্য কথাবার্তা তাবলিগ জামাতের কিছু লোকের থেকে প্রকাশ পেয়েছিলো৷ সেকালে উলামায়ে দেওবন্দ, যেমন হজরত শাইখুল ইসলাম মাওলানা হুসাইন আহমদ মাদানি রহ. ও অন্যান্যরা তাদের সতর্ক করেন৷ তারা থেমে গেছেন৷ কিন্তু এখন স্বয়ং দায়িত্বশীলই এধরনের; বরং এরচেও বড়ধরনের কথাবার্তা (যেমনি উপরোল্লিখিত আলোচনায় স্পষ্ট) বয়ানে উল্লেখ করছেন, তাকে সতর্কও করানো হচ্ছে, কিন্তু তিনি ভ্রুক্ষেপই করছেন না৷ ফলে সাধারণকে এধরনের ফেৎনা থেকে রক্ষা করতে এই সিদ্ধান্ত ও ফতোয়ার সত্যায়ন করা হলো৷
#মাও_সাদ_সাহেবই_তাবলীগের
#দুই_পক্ষের_বিবেধ_মিটাতে_রাজী_হননি
#দেখুন_বিস্তারিত_
ামাতের_চিঠিতে
বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম
ইন্ডিয়া, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের পরম শ্রদ্ধেও মুরুব্বিদের প্রতি আরজ
আমরা রাইবেন্ডের শেখ আবদুল ওয়াহহাব (হাফিজাল্লাহ) এর পক্ষ থেকে ফোন কল পাই; যাতে তিনি আমাদের অনুরোধ করেন যেন আমরা নিযামুদ্দিনের বড়দের উভয় পক্ষের (একপক্ষে মাওলানা ইব্রাহীম, মাওলানা আহমাদ লাট, মাওলানা ইয়াকুব, মাওলানা ইসমাইল, ভাই ফারুক, প্রফেসর আবদুর রহমান, প্রফেসর ছানাউল্লাহ এবং খালিদ সিদ্দিকি; এবং অপর পক্ষে মাওলানা সা’দ-হাফিজাল্লাহু জামিআ) মধ্যে মীমাংসা করার জন্য সেখানে যাই। এই অনুরোধ ছিল গত রমজানে নিযামুদ্দিনে মারামারি ও রক্ত ঝরানো ঘটনার প্রেক্ষাপটে। যার কারণে বড়দের আটজন মার্কাজ ছেড়ে চলে যান এবং তাদের বাড়িতে অবস্থান নেন। এই বিষয়ে আমরা নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গুলো নিয়েছিলাম।
(ক) ঈদুল ফিতরের পরঃ
১। আমরা নিযামুদ্দিনে সফর করলাম এবং মাওলানা সাদ সাহেবের সাথে সাক্ষাত করে ওনার এবং অন্য সব বড়দের মাঝে মধ্যস্থতাকারী হওয়ার কথা জানালাম, যাতে বিভিন্ন মতামতগুলো একত্র করা যায়। তিনি (মাওলানা সাদ) আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান এবং বলেন-“আপনারা আল্লাহর পক্ষ থেকে নুসরত হিসেবে এসেছেন।” এরপর তিনি আরও বলেন-“আপনারা রমজানের যে মারামারি ও রক্ত ঝরানো ঘটনার কথা শুনেছেন, তা অপর পক্ষের দ্বারাই হয়েছে, যাদের উদ্দেশ্য ফেতনা সৃষ্টি করা এবং তারা তাবলীগের লোক নয়।”
আমরা এই সম্পর্কে কোন মন্তব্য করিনি, যদিও আমরা এই ব্যাপারে আশ্চর্য হলাম যে একদল লোক কোন সাহসে মার্কাজে ঢুকল, দুপক্ষের মধ্যে শুধু একদলকে মারল এবং কেনইবা তারা ঐ সময়কেই বেছে নিল। যাই হোক আমরা চুপ ছিলাম।
২। আমরা মাওলানা ইব্রাহীম সাহেব, মাওলানা আহমাদ লাট সাহেব, মাওলানা ঈসমাইল সাহেব, ভাই ফারুক এবং অন্যান্য হযরতগণের সাথেও সাক্ষাত করি যারা এসব ব্যাপারে প্রচন্ড মনঃক্ষুন্ন ছিলেন। ওনারা বলেন যে- ওনারা মাওলানা সাদ সাহেবকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যেন তিনি পূর্ববর্তী বড়দের পদাঙ্ক অনুসরণ করেন।
ওনারাও আমাদের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেন এবং প্রস্তাব দিলেন যে এই সমাধানের প্রচেষ্টা যেন হজ্জের পর শুরু করা হয়। কেননা এই কাজের জন্য কয়েক দফা বৈঠকের প্রয়োজন এবং হজ্জের সময়ও কাছাকাছি ছিল।
(খ) হজ্জের সময়ঃ
১। আমরা মক্কা মুকাররমায়, মদীনা মুনাওয়ারায় এবং মীনায় মাওলানা সাদ সাহেবের সাথে মোট চারবার সাক্ষাত করলাম এবং ১৫ই অক্টোবর প্রথম বৈঠকের জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হল। আমরা প্রস্তাব দিলাম বৈঠকের দুদিন আগেই আমরা অন্যান্য হযরতগণের সাথে বসে আলোচনার বিষয় নির্ধারণের জন্য নিযামুদ্দিন আসব।
২। আমরা মাওলানা সাদ সাহেবকে অনুরোধ করলাম- তিনি যেন মক্কা ও মদীনার পুরাতন সাথীদের মধ্য থেকে ৬ জনের একটা জামাত বানানোর অনুমতি দেন যারা দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করবেন। আমরা ৬ জনের নাম প্রস্তাব করলাম এবং মাওলানা সাদ মঞ্জুর করেন।
৩। এর মধ্যে একটি গুজব রটে যে মাওলানা ইব্রাহীম সাহেব অসুস্থতার জন্য মার্কাজ ছেড়ে চলে গেছেন এবং হজ্জের পর মার্কাজে আসবেন। কিন্তু প্রকৃত ঘটনা বোঝা যায় তাঁর পত্র থেকে যাতে তিনি অভিযোগ করেন যে- বর্তমানে মার্কাজে ঐ রকম পরিবেশ নাই যেরকম মাওলানা ইলিয়াস রহঃ , মাওলান ইউসুফ রহঃ এবং মাওলানা এনামুল হাসান রহঃ এঁর সময় ছিল। এ থেকে পরিষ্কার হয় যে অসুস্থতা একটি বাহানা ছিল। মাওলানা সাহেব গুজরাটে গিয়ে বুখারীর দরস দেওয়া শুরু করেন।
৪। হজ্জের সময় মাওলানা সাদ সাহেব আমাদেরকে বলেন- ফায়সাল একজনই হবে; হয় মাওলানা সাদ না হয় মাওলানা ইব্রাহীম সাহেব। তিনি এও জানান – মেওয়াত ও উত্তর প্রদেশের লোকজন মাওলানা ইব্রাহীম সাহেবকে মেনে নেবে না। আমরা তখন অনুরোধ করি যেন এই আলোচনাগুলো নির্ধারিত ১৫ই অক্টোবর, ২০১৬ সময়ই করা হয়।
(গ) হজ্জের পরঃ
১। নিযামুদ্দিন গেলে বিপদ হতে পারে- এই মর্মে আমরা বিভিন্ন ভাইদের কাছে থেকে সতর্কবানী পেয়েছিলাম। আমাদেরকে বলা হয়েছিল- আমরা যেন নিজেদেরকে হেফাজত করি এবং এটাও বলা হয়েছিল যে মাওলানা সাদ আমাদের সাথে সাক্ষাত করবেন না। কিন্তু আমরা এই গুজবের কোন উৎস খুঁজে পেলাম না।
২। আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম- আল্লাহর ওপর ভরসা করে ১২ই অক্টোবর, ২০১৬ তারিখে ওয়াদামাফিক ভারত যাব। জামাতের ২ জন সাথি ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে যেতে না পারায় আমরা ৪ জন রওয়ানা হয়ে গেলাম।
৩। আমরা পুরোপুরি নিরপেক্ষ ছিলাম এবং নিযামুদ্দিনের বাইরে থাকার জায়গা ভাড়া করেছিলাম যেন আমরা উভয় পক্ষ থেকেই একটা দূরত্বে থাকতে পারি।
৪। এরপর আমরা যখন মাওলানা সাদ সাহেবের সাথে সাক্ষাতের জন্য গেলাম, তিনি আমাদের সাথে হাসিমুখে সাক্ষাত করেন নি বরং আমরা যখন বৈঠকের সময় নির্ধারণের কথা বললাম, ওনার মুখ মলিন হয়ে গেল এবং তিনি সবার সামনে আমাদেরকে চিৎকার করে বললেন- “আপনারা কেন এসেছেন? আপনারা কেন নিযামুদ্দিনের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেন? এই সমস্ত বিষয় আপনাদের লেভেলের উপরের বিষয়।” আমরা বললাম যে- হেজাজে আপনার সাথে যে কথা হয়েছিল, সে অনুযায়ীই আমরা এসেছি। তিনি বললেন- এই বিষয়ে সমাধান হয়ে গেছে, আমাদের এখানে আর কোন সমস্যা নাই এবং কাজ যেভাবে হওয়া উচিৎ সেভাবেই হচ্ছে। এখন আপনাদের উচিৎ যারা মার্কাজ ছেড়ে চলে গেছেন তাদেরকে গিয়ে বলা যে মার্কাজে উনাদের প্রয়োজন আছে, উনারা যেন মার্কাজের আমলে অংশগ্রহণ করেন।
৫। এরপর আমরা চিন্তা করলাম- মাওলানা সাদ সাহেবের একজন কাছের লোককে আমাদের ও সাদ সাহেবের মধ্যস্থতাকারী নির্ধারণ করার।
এ উদ্দেশ্যে আমরা মুফতী শেহজাদের সাথে কথা বললাম। আমরা উনাকে এই বিষয়ের গুরুত্ব বোঝানোর চেষ্টা করলাম। বড়দের মধ্যে এই মতানৈক্য পুরো উম্মতের কাজকে নষ্ট করে দিতে পারে, কারণ প্রত্যেক মুরুব্বীরই অনেক অনুসারী রয়েছে। এজন্য আমাদের অতি শীঘ্রই এই মতানৈক্য দূর করার চেষ্টা করা দরকার। তিনি কথা দিলেন- উনি চেষ্টা করবেন। কিন্তু পরে তিনি আর আমাদের নিকট ফেরত আসলেন না। এরপর আমরা উনাকে ডাকলে উনি বললেন- মাওলানা সাদ সাহেবের কাছে জিজ্ঞাসা করে পরে আমাদের কাছে আসবেন। যথারীতি মুফতী সাহেব আমাদের ডেকে আমাদের থাকার অবস্থানের কথা জানতে চান এবং পরদিন বাদ ফজর আমাদের সাথে সাক্ষাত করার কথা জানান। আমরা আমাদের অবস্থান জানালাম।
এছাড়াও দিল্লীতে মাওলানা সাদ সাহেবের অনেক কাছের একজন সাথীকে এ ব্যাপারে জানালাম। তিনি আমাদের আশ্বস্থ করলেন। সাদ সাহেবের কাছে যখন এই কথা তিনি জানালেন-এর প্রেক্ষিতে সাদ সাহেব আমাদের মার্কাজের আমলে জোড়ার এবং সাধারণ দস্তরখানে শরীক হওয়ার দাওয়াত দেন। এরপর ঐ সাথী যখন আমাদের আসল মাকসাদের কথা পেশ করল- সাদ সাহেব নারাজ হন এবং ঐ সাথীকে বলেন তারা যদি এ ব্যাপারে আলোচনা করে- তবে কিন্তু আমার গলার স্বর উঁচু হয়ে যাবে, একঘণ্টার মধ্যে মার্কাজ মেওয়াতী দিয়ে ভরে যাবে এবং আরবের ঐ লোকগুলো মার্কাজ তো দূরের কথা আমার রুম থেকেই বের হতে পারবে না; আর এজন্য তুমিই দায়ী হবে। এই ঘটনা আমাদেরকে প্রচন্ড ধাক্কা দিল। সাদ সাহেবের ঈদুল ফিতরের পরের বক্তব্য আমাদের মনে পড়ল- বাইরের কিছু লোক মারামারি করেছে, ফেতনা সৃষ্টি করেছে। আসলে তো তারা সাদ সাহেবেরই বাহিনী। তারাই সেই মেওয়াতী, যারা কিনা আমাদেরকে উনার রুমই ত্যাগ করতে দিবে না!!! আমরা আরও আশ্চর্য হলাম, এই ধরণের হুমকী তাবলীগী মার্কাজে???
৬। আমরা বুঝতে পারলাম, আমাদের এই প্রচেষ্টা সফল হবে না। এদিকে অন্যান্য মুরুব্বীরা যাদেরকে হজ্জের সময় কথা দেওয়া হয়েছিল; তাঁরা দূর থেকে এসে দুদিন ধরে অপেক্ষা করছিলেন। আবার আমরা সাদ সাহেবকে তাঁর পূর্বের নির্ধারিত সময় এবং আলোচনার কথা স্মরণ করিয়ে আরেকটি চিঠি দিই এবং পরদিন রাতের মধ্যে সময় চাই; অন্যথায় ঐ মুরুব্বিরা যার যার শহরে ফিরে যাবেন।
৭। এই চিঠির পর আমরা মুফতী শেহজাদের কাছ থেকে ফোন পেলাম- তিনি আমাদের সাথে আমাদের অবস্থানের জায়গায় সাক্ষাত করতে চান। সুতরাং আমরা উভয়ের মাঝামাঝি অবস্থানে একটা মসজিদে সাক্ষাতের কথা জানালাম। পরদিন সকালে তিনজন এলেন- মুফতী শেহজাদ, ভাই মুরসালিন এবং ভাই মুস্তাক। উনারা জানালেন- আপনারা মার্কাজে আমলে স্বাগতম এবং এটা সবার জন্য উন্মুক্ত। সুতরাং আমরা ঐ তিন মাশায়েখদের জানিয়ে দিলাম- যেহেতু মাওলানা সাদ বৈঠকে বসতে রাজী নন; সুতরাং আপনারা চলে যেতে পারেন।
৮। ঐ দিনই যোহরের নামাযের পর আমাদের অবস্থানের জায়গায় একজন পুলিশ অফিসার আসেন এবং আমাদের পাসপোর্টের ফটোকপি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। বাড়ির ম্যানেজার যখন থানায় পুলিশ আগমনের কারণ জানতে চান- থানা থেকে বলা হয় যে কোন অজ্ঞাত লোকের ফোন থেকে পুলিশ জানতে পারে যে সেখানে সন্দেহভাজন আরব রয়েছেন।
৯। আমরা মাসওয়ারা করলাম যে আমাদের করণীয় আর কিছু আছে কি না। যখন দেখলাম করার মত আর কিছু নাই, আমরা মক্কা মুকাররমায় এবং মদীনা মুনাওয়ারায় ফেরত আসলাম।
১০। ভারত ত্যাগের পূর্বে আমরা মাওলানা সাদকে চিঠি লিখলাম- আমরা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করার জন্য যে কোন সময়ের জন্য তৈরি আছি। চিঠিটা এরকমঃ
“ আমরা আপনার মত সম্মানিতকে জানাতে চাচ্ছি যে-আমরা আপনার সম্মানিত পরিবারের প্রশংসা করি; যেনাদেরকে আল্লাহ তাআ’লা সারা পৃথিবীতে রাসুল্লাহ সঃ এঁর দ্বীনের মেহেনতকে পূনর্জীবিত করার উসিলা বানিয়েছেন। যার কারণে আমরা আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে ভালবাসি। এবং আল্লাহর কাছে চাই , তিনি যেন আপনাকে ঐ কাজ করার তৌফিক দেন যা তিনি ভালবাসেন এবং যা তেনাকে সন্তুষ্ট করে। আমরা আশা করতেছিলাম যে আমরা আপনার সাথে বসব, যাতে আমরা আপনার এবং অন্যান্য মুরুব্বীদের মতামতগুলো একত্র করতে পারি এবং এইভাবে উম্মতকে বিভক্ত হওয়া এবং কলহে লিপ্ত হওয়া থেকে বাঁচাতে পারি। এটা শুধু আমাদেরই প্রস্তাব নয় বরং এটা আপনারই ব্যক্তিগত মতামত যা আপনি হজ্জের পূর্বে এবং হজ্জের সময় ব্যক্ত করেছিলেন।
আপনি প্রথমে বৈঠকে বসতে রাজী হওয়ার পর তা প্রত্যাখ্যান করায় আমরা অত্যন্ত আশ্চর্য হয়েছি। তারপরও আমরা মুরুব্বীদের একত্রে বসাতে চেয়েছি যাতে বিভিন্ন মতামত একত্র করা যায়। আমরা আরও আশ্চর্য হয়েছি- আপনি আপনার দাওয়াতের কাজের সাথী, যিনারা নিযামুদ্দীনের মুরুব্বী, তাদের সাথে বসতে রাজি হননি।
এরপরও আপনার ভালবাসা ও শ্রদ্ধা আমাদের অন্তরে বিদ্যমান এবং আমরা দুয়া করি- আল্লাহ যেন আমাদের অন্তরগুলো একত্র করে দেন এবং ঐ কাজ করার তৌফিক দেন যা তিনি ভালবাসেন এবং যা তাঁকে সন্তুষ্ট করে।
আমাদের আপনার সাথে দেখা করার ও বসার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু আমরা এই সতর্কবানী শুনতে পেয়ে আশ্চর্য হয়েছি যে আমরা যদি মাওলানা সাদের সাথে দেখা করে এইসব বিষয় আলোচনা করি- তাহলে তিনে অনেক দুঃখিত হবেন এবং ওনার গলার স্বর উঁচু হয়ে যাবে এবং মেওয়াতিরা আমাদেরকে তাঁর রুম থেকেই বের হতে দিবে না। তাই আমরা মাশওয়ারা করি যে এই অশান্ত পরিস্থিতিতে আপনার সাথে সাক্ষাত করা সম্ভব নয়।
এতসব কিছু সত্ত্বেও আমরা আপনাকে জানাতে চাই- আমরা এখনও আপনাকে ভালবাসি এবং আমরা মার্কাজে না আসা মানে এটা নয় যে আমরা রাগ করেছি বরং আমরা দুঃখিত যে ঘটনা এতদূর চলে গেছে।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এমন কাজ করার তৌফিক দান করেন যা আমাদের অন্তরগুলোকে একত্র করে দেয়।
সর্বশেষে, আমরা আপনার ইচ্ছামত যে কোন সময়ে আসতে ও বৈঠকের পরিবেশ সৃষ্টি করে সবার মতামত গুলো একত্র করার ইচ্ছা পোষণ করি।” (চিঠি শেষ)
আমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের ও পুরো উম্মতে মুহাম্মদীর ছোট বড় সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেন এবং তিনি যেন আমাদের অনুশোচনাকে কবুল করেন এবং তিনি যেন আমাদেরকে এই মহান কাজ ও উম্মতের ঐক্য থেকে বঞ্চিত না করেন। অবশ্যই তিনি সবচেয়ে বেশি দয়ালু।
মক্কা মুকাররমা - মদীনা মুনাওয়ারার সাথীদের পক্ষে,
(১) ভাই গাছছান এবং (২) ভাই ফাদিল
(১৬ই মুহাররম, ১৪৩৮ / ১৭ই অক্টোবর, ২০১৬)
একটি সতর্ক বার্তা। জি জানতাম এতাতিরা এমনটাই করবে। উনি বলছে এক বিষয় নিয়ে, এতাতিরা সেটিকে প্রচার করছে অন্য ভাবে।হযরত আরশাদ মাদানী [দা. বা.]-এর বয়ান, সৈয়দ আবদুল্লাহদের খেয়ানত এবং কিছু কথা
'আমীরুল হিন্দ'খ্যাত মাওলানা আরশাদ মাদানী দা. বা. এর তাবলীগের ইস্যুতে সর্বশেষ মন্তব্য ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। ৩মিনিট ১৪সেকেণ্ডের বয়ানের ক্লিপটি খুব মনোযোগ সহকারে আমি শুনেছি। ৩টি আইডি থেকে পাঁচবারেরও অধিকবার শুনেছি হযরতের বয়ান, তাঁকে প্রশ্নকারীদের খেয়ানত এবং তার প্রচারকদের কৃত ক্যাপশনের খেয়ানত প্রসঙ্গে দু'য়েকটি কথা আরজ করতে চাই।
১.
প্রথমত, যেকোনো শ্রোতা মাত্রই বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়, হযরতের পুরো বয়ান ছিল প্রতিপক্ষকে তাকফীর করা বিষয়ে। হযরত 'তাকফীর' ও 'কুফর' শব্দটি কমটক্ষে ৯বার উচ্চারণ করেছেন। কয়েকবার লা'নত করা প্রসঙ্গে কথা বলেছেন।
কিন্তু কথা হলো হযরত সা'দ সাহেবকে বা তার অনুসারীদেরকে কেউ কি বাংলাদেশে তাকফীর করেছে? তাদেরকে কেউ কাফির বলেছে বা লা'নত দিচ্ছে? আমি এপর্যন্ত একজন আলিমকেও শুনিনি তাদের কাফের বলেছে। হযরতের কাছে চিরকুট দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের আলিমদের ব্যাপারে যে বাংলাদেশ আলেমরা সাদ সাহেবকে তাকফির বা কাফের সাবস্ত করে)
এটা তো আলিমদের প্রতি নিজামুদ্দীনভক্তদের সুস্পষ্ট জঘন্য তোহমত ও মিথ্যা অপবাদ। কোনো আলিম তাদেরকে কাফির বলেছে, আজ পর্যন্ত আমি শুনিনি।
২.
হযরত মাদানী দা.বা. বলেছেন, দেওবন্দের কাছে মাওলানা সা'দ সাহেবের কতক বিষয়ে ফতওয়া চাওয়া হয়েছে। দেওবন্দ ফতওয়া দিয়েছে। মাওলানা সা'দ সাহেব সেগুলো সংশোধন করে নিয়েছেন এবং ভুল থেকে রুজু করেছেন। ( তার মানে এতদিন যে আলেমরা বার বার সাদ সাহেবের গোমরাহি কর্ম কান্ডের ব্যাপারে যত কিছু বলছে সব সত্য , আর এতাতিরা যে এতদিন ওলামাদের বিরুদ্ধে যত অপবাদ দিছে যে তাদের আমীর কোন ভুল করেওনি, আবার কিছু ভুল বলেওনি, এরাসবাই মিথ্যাবাদী)।
হযরতের কথা ঠিক যে, মাওলানা সাদ সাহেব প্রথম দিককার আপত্তিগুলি থেকে রুজু করেছেন।
কিন্তু সা'দ সাহেবের অনুসারীদের কাছে কাছে আমার দুটি প্রশ্ন :
[১] ২০২৩সালে দেওবন্দের মুহতামিম সাহেব সহ অগণিত মুফতী ও শিক্ষকদের সাক্ষরিত ২৮পৃষ্ঠার ফতওয়ায় সা'দ সাহেবের যে ভুলগুলো আলোচিত হয়েছে, ফতওয়া প্রকাশের পর সেগুলো থেকে কি তিনি রুজু করেছেন? রুজু করে থাকলে সেই রুজুনামা ও ভুল স্বীকারের দলীল দেখতে চাই। সা'দ সাহেবের কোনো ভক্ত কি তা দেখাতে পারবেন।
[২] দেওবন্দের আগের ও পরের ফতওয়ায় সা'দ সাহেবের কেবল কয়েকটি ভুলের কথা বলেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং স্পষ্ট করে মাওলানা সা'দ সাহেবের চিন্তাগত বিচ্যুতির কথাও স্পষ্ট উল্লেখ আছে, যেকারণে তাকে অনুসরণ করা ঝুঁকিপূর্ণ বলা হয়েছে। মাওলানা সা'দ সাহেবের রুজু প্রমাণিত হলেও ফতওয়ার সে অংশের কি হবে?
০৬।০২।২৪
মুহতরাম. Saifuddin Gazi
Click here to claim your Sponsored Listing.
Culinary Team
Attire
Telephone
Website
Address
3/1 An-Noor Market, West Mokondopur, Jhalam, Barura
Cumilla
3560