Science Express
Science Express (সায়েন্স এক্সপ্রেস) is a platform that helps young people learn about science in a simple and fun way!
25/04/2026
হেজহগের কঙ্কাল আশ্চর্যজনকভাবে ছোট, হালকা ও নমনীয়, যা তার বিখ্যাত আত্মরক্ষার ভঙ্গির জন্য উপযুক্ত। বিপদ অনুভব করলে পিঠের শক্তিশালী পেশি শরীরকে ভেতরের দিকে টেনে আনে, ফলে প্রাণীটি গোল বলের মতো কুঁকড়ে যেতে পারে এবং তার ধারালো কাঁটাগুলো বাইরে বেরিয়ে থাকে। কাঁটার নিচে থাকে হালকা কঙ্কাল, বাঁকানো মেরুদণ্ড, ছোট পাঁজরখাঁচা এবং খোঁড়াখুঁড়ি ও খাবার খোঁজার উপযোগী সূক্ষ্ম পায়ের হাড়। এর লম্বাটে খুলির ভেতরে থাকে ধারালো দাঁত, যা দিয়ে এটি পোকামাকড়, কেঁচো ও ছোট শিকার খায়। এই বিশেষ কঙ্কাল গঠন হেজহগকে ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী থেকে প্রায় দুর্ভেদ্য কাঁটাওয়ালা গোলকে পরিণত হতে সাহায্য করে।
📍 যুক্ত হোন : বিজ্ঞানচর্চা - BigganChorcha
25/04/2026
কেবল আপনার আজকের দুপুরের বা রাতের খাবারের চাহিদা মেটাতে বিশ্বজুড়ে প্রতি সেকেন্ডে কতগুলো প্রাণ প্রাণ হারাচ্ছে? পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রতিদিন কয়েক কোটি প্রাণী জবাই করা হচ্ছে কেবল মানুষের প্রোটিনের চাহিদা মেটানোর জন্য। এই বিশাল সংখ্যাটি আমাদের বৈশ্বিক খাদ্য ব্যবস্থার এক রূঢ় বাস্তবতা তুলে ধরে।
এই পরিসংখ্যানের পেছনের যুক্তি অত্যন্ত গভীর এবং জটিল। আল্লাহর সৃষ্টিতলে প্রতিটি প্রাণীর জীবনচক্র ভিন্ন হলেও, বর্তমান শিল্পায়িত পশুপালন ব্যবস্থায় সংখ্যার এই উল্লম্ফন মূলত মানুষের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার ফল। প্রতিদিন গড়ে ২০.২ কোটি মুরগি জবাই করা হচ্ছে, যার অর্থ প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২৩০০টি মুরগি তাদের জীবন দিচ্ছে। এছাড়া প্রতিদিন গড়ে ৯ লাখ গরু, ১৮ লাখ ছাগল এবং ১৯ লাখ ভেড়া খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি যেমন একটি বিশাল বায়োলজিক্যাল সাপ্লাই চেইন, তেমনি এটি পরিবেশের ওপর বিপুল কার্বন ফুটপ্রিন্ট এবং মিথেন গ্যাস নির্গমনের অন্যতম প্রধান কারণ। বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য বজায় রাখতে এই বিশাল উৎপাদন ও ব্যবহারের চক্রটি কীভাবে প্রকৃতিকে প্রভাবিত করছে, তা আজ এক বড় চিন্তার বিষয়।
বিপুল এই সংখ্যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, খাদ্যের অপচয় রোধ করা কেবল নৈতিক দায়িত্ব নয়, বরং এই কোটি কোটি প্রাণের ত্যাগের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি মাধ্যম। প্রতিদিন এই বিশাল প্রাণহানির পরিসংখ্যান কি আপনাকে নতুন করে ভাবাচ্ছে? খাদ্য অপচয় রোধে আপনার ব্যক্তিগত পদক্ষেপ কী হতে পারে? কমেন্টে আমাদের জানান।
📍 যুক্ত হোন : বিজ্ঞানচর্চা - BigganChorcha
25/04/2026
নাকের লোম উপড়ে ফেলা সাধারণত ক্ষতিকর নয়, কিন্তু খুব বিরল ক্ষেত্রে এটি গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। নাকের ভেতরের অংশ মুখের “ডেঞ্জার ট্রায়াঙ্গেল”-এর অন্তর্ভুক্ত, যেখানে সংক্রমণ রক্তনালীর মাধ্যমে মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। যখন একটি লোম উপড়ে ফেলা হয়, তখন ফলিকলে ছোট ক্ষত তৈরি হতে পারে, যার মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া ঢুকে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। যদি সেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে, তবে ক্যাভারনাস সাইনাস থ্রম্বোসিসের মতো গুরুতর সমস্যা হতে পারে, যদিও এটি খুবই বিরল। তাই চিকিৎসকেরা সাধারণত নাকের লোম উপড়ে না ফেলে কেটে ছোট করতে পরামর্শ দেন।
📍 যুক্ত হোন : বিজ্ঞানচর্চা - BigganChorcha
25/04/2026
লাল কানের লতি থাকা মুরগি সাধারণত বাদামি ডিম পাড়ে, আর সাদা কানের লতি থাকা মুরগি সাধারণত সাদা ডিম দেয়। এই পার্থক্যের মূল কারণ জিনগত বৈশিষ্ট্য, খাদ্য বা পরিবেশ নয়। রোড আইল্যান্ড রেড ও প্লাইমাউথ রকের মতো লাল লতি বিশিষ্ট জাতগুলো বাদামি ডিম দেওয়ার জন্য পরিচিত। ডিমের খোসার বাদামি রং আসে প্রোটোপরফিরিন নামের এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ থেকে, যা ডিম গঠনের সময় যোগ হয়। তবে খোসার রং আলাদা হলেও বাদামি ও সাদা ডিমের পুষ্টিগুণ ও স্বাদ প্রায় একই।
📍 যুক্ত হোন : বিজ্ঞানচর্চা - BigganChorcha
25/04/2026
শীতের তীব্র ঠান্ডায় বেঁচে থাকতে ছোট পাখি যেমন কার্ডিনালকে অসাধারণভাবে নিজেকে মানিয়ে নিতে হয়। জমাট তাপমাত্রায় শরীরের উষ্ণতা ধরে রাখতে তাদের বিপাকক্রিয়া অনেক বেড়ে যায়। এর ফলে কার্ডিনালের হৃদস্পন্দন প্রতি মিনিটে প্রায় ৪০০ বার পর্যন্ত হতে পারে, যা দ্রুত সারা শরীরে উষ্ণ রক্ত পৌঁছে দেয়। এই দ্রুত রক্তসঞ্চালন পেশীতে অক্সিজেন ও শক্তি সরবরাহ করে, ফলে ঠান্ডার মধ্যেও পাখিটি সক্রিয় থাকতে পারে। এটি দেখায়, প্রকৃতি কীভাবে ছোট প্রাণীকেও কঠিন পরিবেশে টিকে থাকার শক্তিশালী উপায় দিয়েছে।
📍 যুক্ত হোন : বিজ্ঞানচর্চা - BigganChorcha
25/04/2026
মানুষের ত্বক শরীরের সবচেয়ে বড় অঙ্গ।
যদি এটি খুলে সমতলভাবে বিছানো হয়, তবে প্রায় ১.৫ থেকে ২ বর্গমিটার জায়গা ঢাকতে পারে, যা একটি বড় কম্বলের সমান। এই পাতলা স্তরটি পুরো শরীরকে ঘিরে রাখে এবং ভেতরের সবকিছুকে সুরক্ষা দেয়। এটি ব্যাকটেরিয়া, আঘাত এবং ক্ষতিকর পরিবেশগত প্রভাব থেকে রক্ষা করে। একই সঙ্গে ত্বক শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং আমাদের স্পর্শ, চাপ ও ব্যথা অনুভব করতে সক্ষম করে।
📍 যুক্ত হোন : বিজ্ঞানচর্চা - BigganChorcha
14/04/2026
সবচেয়ে শক্তিশালী প্রাণীর কামড় (Bite Force Ranking)
1️⃣ ডলফিন (অরকা)
🟢 19,000 PSI
➡️ সমুদ্রের সবচেয়ে শক্তিশালী কামড়ের মালিক। দলবদ্ধভাবে শিকার করে এবং অত্যন্ত বুদ্ধিমান।
2️⃣ নাইল কুমির
🟢 5,000 PSI
➡️ আফ্রিকার নদীগুলোতে পাওয়া যায়। পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী স্থল-জল উভচর শিকারি।
3️⃣ গ্রেট হোয়াইট হাঙর
🟢 4,000 PSI
➡️ সমুদ্রের ভয়ংকর শিকারি। ধারালো দাঁত দিয়ে দ্রুত আক্রমণ করে।
4️⃣ লোনা পানির কুমির
🟢 3,700 PSI
➡️ সবচেয়ে বড় জীবিত সরীসৃপ। এদের কামড় অত্যন্ত শক্তিশালী এবং প্রাণঘাতী।
5️⃣ হিপোপটামাস (জলহস্তী)
🟢 1,800 PSI
➡️ দেখতে শান্ত হলেও খুব আক্রমণাত্মক। আফ্রিকায় মানুষের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রাণীগুলোর একটি।
📍 যুক্ত হোন : বিজ্ঞানচর্চা - BigganChorcha
14/04/2026
বেলারুশের Pavel Silivonchik একটি ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনায় তার ডান চোখ হারান। সেই দুর্ঘটনায় তার নাকের বড় একটি অংশও নষ্ট হয়ে যায় এবং মুখজুড়ে গভীর দাগ পড়ে। ডাক্তাররা স্কিন গ্রাফটের মাধ্যমে তার মুখের কিছু অংশ পুনর্গঠন করেন, এমনকি ভাস্করদের সাহায্যে পুরোনো ছবির ভিত্তিতে তার নাকও আবার তৈরি করা হয়। কিন্তু হারানো চোখটি ছিল সবচেয়ে কঠিন সমস্যা।
সংক্রমণ যাতে তার সুস্থ চোখে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য সার্জনরা চোখটি পুরোপুরি অপসারণের পরামর্শ দেন। কিন্তু পাভেল, যিনি ডায়াবেটিসেও ভুগছিলেন, বারবার অপারেশনে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “যা কাজ করে না, আমি তা আঁকড়ে ধরে থাকি না।”
তখনই তিনি ভিন্ন একটি পথ বেছে নেন—আরেকটি ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচারের বদলে তিনি একজন মেডিকেল ট্যাটু শিল্পীর কাছে যান, যিনি ট্রমা ও ক্যান্সার থেকে বেঁচে ফেরা রোগীদের জন্য অত্যন্ত বাস্তবসম্মত 3D কাজ করেন। এই জায়গাটাতেই আসে Paramedical Tattoo—যা আসলে চিকিৎসা ও শিল্পের এক অসাধারণ মিশ্রণ।
প্যারামেডিক্যাল ট্যাটু সাধারণ ট্যাটুর মতো নয়। এখানে লক্ষ্য থাকে দাগ, পোড়া অংশ বা অপারেশনের চিহ্নকে এমনভাবে ঢেকে দেওয়া, যেন তা স্বাভাবিক ত্বকের মতো দেখায়। শিল্পী শুধু আঁকেন না—তিনি প্রথমে রোগীর ত্বক ভালোভাবে বিশ্লেষণ করেন, পুরোনো ছবি থাকলে সেগুলো দেখেন, তারপর সেই অনুযায়ী কাস্টম রঙ তৈরি করেন। অনেক সময় এমন নিখুঁত শেডিং করা হয় যে বাস্তব আর ট্যাটুর মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে যায়।
পাভেলের ক্ষেত্রেও শিল্পীটি প্রায় এক বছর সময় নিয়ে তার পুরোনো ছবিগুলো বিশ্লেষণ করেন, রঙ তৈরি করেন এবং কৃত্রিম ত্বকে অনুশীলন করেন। এরপর খুব সূক্ষ্মভাবে ত্বকের উপরিভাগে রঙ প্রয়োগ করে তার বন্ধ চোখের পাতার ওপর একটি চোখের আকৃতি তৈরি করেন।
শেষ ফলাফল—একটি অবিশ্বাস্যভাবে বাস্তবসম্মত চোখের ট্যাটু, যা প্রথম দেখায় একেবারে স্বাভাবিক মনে হয়।
এটা কোনো সার্জারি নয়, তাই তুলনামূলকভাবে ঝুঁকি কম। তবে পুরোপুরি স্থায়ীও নয়—সময় গেলে রঙ হালকা হতে পারে, তখন আবার ঠিক করতে হয়। কিন্তু সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, এই পদ্ধতি একজন মানুষকে তার হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে সাহায্য করে—যা অনেক সময় যেকোনো অপারেশনের চেয়েও বেশি
📍 যুক্ত হোন : বিজ্ঞানচর্চা - BigganChorcha
একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের তেরী রাস্তার ডিজাইন, যেখানে কোনো ট্রাফিক বা ট্রাফিক লাইটের প্রয়োজন নেই।
বিজ্ঞানের অজানা তথ্য আপনিও শেয়ার করতে পারেন বিজ্ঞানচর্চা - BigganChorcha তে।
10/04/2026
Artemis II মিশনের স্পেসক্রাফটটি মহাকাশে তার দীর্ঘ যাত্রা শেষ করে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শুক্রবার, ১০ এপ্রিল পৃথিবীতে ফিরে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের সময় অনুযায়ী বিকাল ৫টা ৭ মিনিট (PT) বা রাত ৮টা ৭ মিনিট (ET)-এ অবতরণের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী ১১ এপ্রিল ভোর ৬টা ৭ মিনিট। অবতরণের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে San Diego উপকূলের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরের একটি নিরাপদ এলাকায়।
মহাকাশ থেকে ফেরার সময় স্পেসক্রাফটটি প্রথমে একটি নির্দিষ্ট বিন্দু দিয়ে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, যাকে Entry Interface বলা হয়। এরপর প্রায় ২০০০ মাইল দীর্ঘ নির্ধারিত পথে ধীরে ধীরে পৃথিবীর দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এ সময় এর গতি কমতে থাকে এবং তাপ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় থাকে, যাতে নিরাপদে নামা সম্ভব হয়। সবশেষে নির্দিষ্ট এলাকায় পৌঁছে এটি সমুদ্রের পানিতে অবতরণ করে, যাকে Splashdown বলা হয়।
অবতরণের সঙ্গে সঙ্গেই আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা উদ্ধারকারী জাহাজ ও টিম দ্রুত স্পেসক্রাফটের কাছে পৌঁছে নভোচারীদের নিরাপদে উদ্ধার করবে। পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত পরিকল্পিত ও নিয়ন্ত্রিত, যাতে মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে ফিরে আসাটা সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সফল হয়।
📍 যুক্ত হোন : বিজ্ঞানচর্চা - BigganChorcha
10/04/2026
মানব ইতিহাসের দুঃসাহসিক মহাকাশ অভিযানের মধ্যে Artemis II একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই মিশনে মহাকাশচারীরা চাঁদের কক্ষপথ ঘুরে পৃথিবীতে ফিরবেন, আর সেই ফেরার সময়ই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা—রি-এন্ট্রি।
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় মহাকাশযানের গতি থাকে প্রায় ৪০,০০০ কিমি/ঘণ্টা। এত দ্রুতগতিতে বায়ুর সাথে সংঘর্ষে তৈরি হয় প্রচণ্ড তাপ, যা প্রায় ২,৮০০° সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। সাধারণভাবে এমন তাপে যেকোনো বস্তু পুড়ে যাওয়ার কথা, কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তি এটিকে সম্ভব করে তুলেছে নিরাপদভাবে।
এই চ্যালেঞ্জ সামাল দেয় Orion spacecraft-এর উন্নত heat shield। এটি বিশেষ ablative material দিয়ে তৈরি, যা ধীরে ধীরে ক্ষয় হয়ে তাপ শোষণ করে এবং ভেতরের অংশকে সুরক্ষিত রাখে। পাশাপাশি, রি-এন্ট্রির সময় নির্দিষ্ট কোণে প্রবেশ করানো হয়, যাতে ধাপে ধাপে গতি কমে এবং তাপের চাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
ফলাফলটা অবাক করার মতো—বাইরে যখন আগুনের মতো তাপ, তখন ভেতরের কেবিনে থাকে প্রায় স্বাভাবিক পরিবেশ। এই প্রযুক্তির কারণেই মহাকাশচারীরা নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারেন।
📍 বিস্তারিত কমেন্ট | যুক্ত হোন : বিজ্ঞানচর্চা - BigganChorcha
07/04/2026
নীরব ঘরে বসে আছেন আপনি। চারপাশে কোনো শব্দ নেই, অথচ আপনার কানে বাজছে এক অদ্ভুত আওয়াজ—নিজের শরীরের ভেতরের শব্দ। হৃদস্পন্দনের ঢিপঢিপ, রক্তের প্রবাহের শো-শো কিংবা চোখ নড়াচড়ার ক্ষুদ্র খসখস শব্দ। কল্পনায় অস্বস্তিকর মনে হলেও বাস্তবে অনেক মানুষ ঠিক এমন ভৌতিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান। তারা বছরের পর বছর ডাক্তারদের কাছে গিয়েছেন, কিন্তু বেশিরভাগ সময়েই তাদের অভিযোগ গুরুত্ব পায়নি। অনেককে বলা হয়েছে এসব কেবল কল্পনা, আবার কেউ ভুল রোগ নির্ণয়ের শিকার হয়েছেন।
১৯৯৫ সালে এই রহস্যময় অবস্থার সমাধান খুঁজে পান যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির চিকিৎসক ড. লয়েড মাইনর। তিনি এক রোগীর সঙ্গে দেখা করেন, যিনি শব্দ শুনলে চোখে দৃষ্টিবিভ্রম অনুভব করতেন। বিস্ময়কর এই উপসর্গ নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে ড. মাইনর আবিষ্কার করেন এক বিরল রোগ—Superior Canal Dehiscence Syndrome (SCDS)। মানুষের কানের ভেতরে সুপিরিয়র সেমিসারকুলার ক্যানাল নামের সূক্ষ্ম গঠনটি শক্ত হাড় দিয়ে ঢাকা থাকে। কিন্তু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে সেই হাড়ে ছোট্ট একটি ছিদ্র তৈরি হয়। এই ছিদ্র হয়ে ওঠে এক অস্বাভাবিক “তৃতীয় জানালা” যার মাধ্যমে শরীরের ভেতরের ক্ষুদ্র শব্দ কানে প্রবেশ করে অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে শোনা যায়। ফলে রোগীরা নিজের হার্টবিট, নিজের কণ্ঠস্বরের প্রতিধ্বনি, এমনকি চোখের নড়াচড়ার শব্দ পর্যন্ত শুনতে পান। শুধু তাই নয়, ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়, হাঁটা-চলাফেরাও হয়ে ওঠে কঠিন।
ড. মাইনর শুধু রোগটির কারণ খুঁজে পাননি, তিনি এর চিকিৎসার পথও খুলে দেন। তিনি এক ধরণের অস্ত্রোপচার প্রবর্তন করেন, যেখানে হাড় ও টিস্যু ব্যবহার করে সেই ছিদ্র সিল করে দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে ফলাফল ছিল তাৎক্ষণিক ও নাটকীয়। যেসব রোগী বছরের পর বছর ধরে নিজেদের শরীরের শব্দ শুনে ভুগছিলেন, তারা হঠাৎ করেই শান্ত নীরবতায় ফিরে আসেন। শ্রবণশক্তি স্বাভাবিক হয়ে যায়, ভারসাম্যের সমস্যা কমে যায় আর মানসিক যন্ত্রণার অবসান ঘটে।
এরপর থেকে পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে শত শত মানুষ জনস হপকিন্সে গিয়েছেন এই অস্ত্রোপচার করাতে। কেউ কেউ দেশ-বিদেশ পেরিয়ে ভ্রমণ করেছেন শুধু সেই সুযোগের জন্য—যাতে তারা আবার নীরব জীবনে ফিরতে পারেন। কারও জন্য সবচেয়ে অবিস্মরণীয় মুহূর্ত হলো যখন প্রথমবার তারা বুঝতে পারেন, আর নিজের চোখ নড়াচড়ার শব্দ শোনা যাচ্ছে না।
ড. লয়েড মাইনরের আবিষ্কার প্রমাণ করেছে যে চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় এখনো বহু রহস্য অপেক্ষা করছে। যেসব উপসর্গকে একসময় অবাস্তব ভেবে উড়িয়ে দেওয়া হতো, সেগুলোই হতে পারে জটিল শারীরবৃত্তীয় বাস্তবতা। আর চিকিৎসার অগ্রগতি মানুষের জীবনকে ফেরাতে পারে স্বস্তি, নীরবতা এবং স্বাভাবিকতার সহজ আনন্দে।
📍 যুক্ত হোন : বিজ্ঞানচর্চা - BigganChorcha
Click here to claim your Sponsored Listing.
Website
Address
Maijdee Court
Cumilla