Basic Knowledge Centre - BKC
BKC is a tuition centre for the students of class 6-12, BBS, BBA, Honours, Master, MBA, Law and ACCA.
Which class's which student can learn which subjects from Basic Knowledge Centre (BKC) these list have mentioned below:
► Class 4 → All subjects.
► Class 5 → All subjects.
► Class 6 → English, Math, Science, Information & Communication Technology (ICT), Bengali 2nd.
► Class 7 → English, Math, Science, Information & Communication Technology (ICT), Bengali 2nd.
► Class 8 → All subjects.
► Clas
29/09/2016
সাকিব আল হাসান কি জিপিএ ফাইভ পেয়েছিলেন?
- আসাদুজ্জামান নূর
আমরা যেভাবে আমাদের সন্তানদের বড় করছি, আমার নিজের মনে হয় এটা সঠিক না। ভালো রেজাল্ট করতে হবে, লেখাপড়া করতে হবে, নিশ্চয়ই করতে হবে। আমি অনেক বাবা-মাকে বলেছি যে আপনার ছেলেমেয়েকে আপনি গল্পের বই পড়তে দেন, কবিতার বই পড়তে দেন, অ্যাডভেঞ্চারের বই পড়ুক, গোয়েন্দা কাহিনি পড়ুক, ভ্রমণকাহিনি পড়ুক, ইতিহাসের কাহিনি পড়ুক, জীবনকাহিনি পড়ুক, পড়তে দেন। যত পড়বে ওর মস্তিষ্ক তত সতেজ ও সজীব হবে। এবং তারপর ও যখন বইয়ের পাঠ্যপুস্তকটা পড়তে যাবে, তখন যে জিনিসটা বুঝতে ওর তিন ঘণ্টা সময় লাগত, সেটা ৩০ মিনিটে শিখতে পারবে। অন্যথায় সে কী করছে? বইয়ের পাতা পড়ছে, বইয়ের পাতা পড়ছে...ওর মস্তিষ্ক তো শুকিয়ে যাচ্ছে। ও তো ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে। এই ক্লান্ত মস্তিষ্ক নিয়ে তো ভালো ছাত্র হতে পারে না। এটা অনেক বাবা-মা বুঝতে চান না।
আমার একজন মায়ের সঙ্গে কথা হচ্ছিল, আমরা এক ফ্লাইটে আসছিলাম সৈয়দপুর থেকে। উনি বলছেন, ‘এই যে, আপনাকে পেয়ে ভালোই হলো। আপনি শিক্ষামন্ত্রীকে গিয়ে একটা কথা বলবেন। এই যে আপনারা চারু ও কারুকলা শুরু করেছেন স্কুলে পড়ানো, এটা পড়ে কী হবে? আমার ছেলে কি জয়নুল আবেদীন হবে?’ তারপরে বললেন, আপনারা শরীরচর্চা বাধ্যতামূলক করেছেন, ‘এতে তো লেখাপড়ার খুব ক্ষতি হচ্ছে।’ একজন মা বাচ্চার কথা এভাবে বলছেন। তো আমি তাঁকে বললাম, ‘আচ্ছা, আপনার বাচ্চাকে আপনি কীভাবে মানুষ করতে চান?’ বললেন, ‘লেখাপড়া শিখবে, ভালো চাকরি করবে।’ বললাম, ‘নিশ্চয়ই, আমরা সবাই-ই চাই যে আমাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া শিখে ভালো ফল করবে, ভালো চাকরি করবে, ব্যবসা করবে, অনেক টাকা আয় করবে। আমি-আপনি নিশ্চিন্ত জীবন যাপন করব। ছেলেমেয়েরা আয় করলে তো আমরা নিশ্চিন্ত।’
তো আমি বললাম যে আপনি ক্রিকেট খেলা দেখেন? বললেন, ‘হ্যাঁ দেখি। আমরা বাড়িশুদ্ধ সবাই-ই খুব ক্রিকেট খেলা পছন্দ করি।’ আমি বললাম আপনার প্রিয় খেলোয়াড় কে? বলছি কয়েক মাস আগের কথা। তো উনি বলছেন যে সাকিব আল হাসান। আমি বললাম, আপনি কি জানেন সাকিব আল হাসান কয়েক দিন পরে আইপিএলে খেলতে যাচ্ছেন ইন্ডিয়াতে? তিনি ওখানে মাস দেড়েক থাকবেন। কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলবেন। সব খেলা যে খেলবেন এমনও না। কিছু খেলা খেলবেন কিছু খেলা খেলবেন না। তো উনি কত টাকা পাবেন আপনি জানেন? বললেন, না জানি না। আমি বললাম, প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা পাবেন। তো কেউ কি জিজ্ঞেস করে যে ‘সাকিব আল হাসান, আপনি কি জিপিএ ফাইভ পেয়েছিলেন কি না?’
আমি বললাম, আমাদের একজন এমপি আছেন। সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম। খুব ভালো গান করেন। তো উনি গান করতে কত টাকা নেন, আপনি জানেন? বললেন, ‘না, আমার তো কোনো ধারণাই নেই।’ আমি বললাম, আমার আছে। কারণ ওনার সঙ্গে আমার নিয়মিত যোগাযোগ হয়। আপনার সঙ্গে যদি খুব ভালো বন্ধুত্ব থাকে, তাহলে মোটামুটি পাঁচ লাখ টাকায় রাজি হতে পারেন। আর যদি না থাকে তাহলে ১০ লাখ টাকা। আর যদি বিদেশে নিয়ে যান তাহলে ২৫ লাখ টাকা। আমি ধরে নিলাম যে সবার সঙ্গেই ওনার বন্ধুত্ব, উনি পাঁচ লাখ টাকা করেই নিচ্ছেন এবং মাসে ১০টা অনুষ্ঠান করেন। তাহলে কত টাকা পাবেন? ৫০ লাখ টাকা। কেউ কি জিজ্ঞেস করেন যে মমতাজ বেগম, আপনি কী পাস করেছেন?
তো আমি বললাম যে আসলে পয়সা তো নানাভাবে আয় করা যায়। তাঁর জন্য যে সব সময় আপনাকে মহাপণ্ডিত হতে হবে—এমন কোনো কথা নয়। আমি বলছি না যে আপনার ছেলেমেয়ের লেখাপড়া বন্ধ করে তাকে ক্রিকেট খেলতে নামিয়ে দেন। সাকিব আল হাসান তো ভালো লেখাপড়া জানা ছেলে, আমি জানি। কিন্তু কথাটা হলো আপনারা যেভাবে দেখছেন, জীবনটা এ রকম নয়। আমি আরও বললাম, আমাদের একজন বিখ্যাত শিল্পী আছেন কাইয়ুম চৌধুরী। মারা গেছেন কিছুদিন আগে। তাঁর একটা তেলরঙের পেইন্টিংয়ের দাম ৩০ থেকে ৫০ লাখ টাকা। কেউ তো খোঁজ করেননি কাইয়ুম চৌধুরী কী পাস করেছেন? সুতরাং মানুষের মেধার বিকাশ নানাভাবে হতে পারে। আমাদের সন্তানদের মধ্যে কিন্তু আমরা সেই সম্ভাবনাগুলো দেখার কোনো চেষ্টা করি না। আমরা শুধু পাস, ভালো রেজাল্ট চাই।
ক্লাসে তো একটা ছেলে ফার্স্ট হবে, একটা ছেলে সেকেন্ড হবে। তাই বলে যারা ফার্স্ট, সেকেন্ড, থার্ড, ফোর্থ—এগুলো হবে না, তাদের আমরা বঙ্গোপসাগরে ভাসিয়ে দেব? আমি তো বুঝতে পারি না! তাঁদের দিয়ে আর কিছু হবে না? আমি জানি না জামান ভাই (অনুষ্ঠানে উপস্থিত বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক, অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান) কত ভালো ছাত্র ছিলেন। তবে আমি ছিলাম না।
তো যা-ই হোক, আমি তারপর আবারও সেই ভদ্রমহিলাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আচ্ছা, আপনি আইনস্টাইনের ছবি দেখেছেন? মহাবিজ্ঞানী, সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী বলা হয় তাঁকে।’ বলেন যে, ‘না, আমি দেখিনি।’ লক্ষ করে দেখবেন, উনি যেখানেই যেতেন ওনার হাতে একটা ছোট্ট বাক্স থাকত। এবং সেই বাক্সটার মধ্যে কী থাকত জানেন আপনারা? একটা ভায়োলিন থাকত, একটা বেহালা! অত বড় একজন বিজ্ঞানী, তার যদি বেহালা শেখার সময় হয়ে থাকে, বেহালা বাজানোর সময় হয়ে থাকে, তাহলে আমরা এমন কী পণ্ডিত হয়েছি যে আমাদের একটু গান করার সময় হবে না? একটা কবিতা পড়ার সময় হবে না, একটা ছবি আঁকার সময় হবে না?
আমরা তো ছেলেমেয়েদের সেই সুযোগগুলো দিচ্ছি না। সেই জন্যই বলছি, আমাদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির জায়গাটা নতুন করে ভাবা দরকার। চিন্তাভাবনা করা দরকার। এটা ছিল একসময়। এটা কী করে যেন আস্তে আস্তে বিলীন হয়ে গেল। আমরা এখন শুধু পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা মুখস্থ করাচ্ছি। আজকে যে ঘটনাগুলো ঘটছে, এটাও তার একটা বড় কারণ বলে আমার মনে হয়। আপনারা এখানে বিজ্ঞজনেরা আছেন, শিক্ষক আছেন, মেধাবী ছাত্রছাত্রী আছেন। আপনারা সবাই ভাববেন যে আমরা এটা নিয়ে কী কাজ করতে পারি। কীভাবে আমাদের সন্তানদের সুসন্তান হিসেবে, মানুষ হিসেবে, বাঙালি হিসেবে গড়ে তুলতে পারি। (সংক্ষেপিত)
04/09/2015
ডেঙ্গুজ্বর কি?
ডেঙ্গুজ্বর একধরনের জীবাণু বাহিত একটি রোগ। ডেঙ্গুজ্বরের নির্দিষ্ট কোন চিকিৎসা নেই এবং অধিকাংশ রোগীই আরোগ্য লাভ করে। কিন্তু রোগের মারাত্মক ধরনে আক্রান্ত হলে রোগীকে অবশ্যই হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা করাতে হবে।
কিভাবে হয়?
এডিস নামে এক ধরনের মশার কামড়ে ডেঙ্গুজ্বর হয়। এই মশা সাধারণত দিনের বেলা কামড়ায়।
ডেঙ্গুজ্বর হয়েছে কি করে বুঝবেন?
রোগের ধরন ও মাত্রা অনুযায়ী ডেঙ্গুজ্বরের লক্ষণ ও উপসর্গ ভিন্ন হয়ে থাকে। ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে সাধারণত: যেসব লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা যায় সেগুলো হলো:
তীব্র জ্বর ১০৫ ফারেনহাইট(৪০.৬ সে.) পর্যন্ত।
সারা শরীরজুড়ে লালচে দানা যা কিছুদিনের জন্য চলে গিয়ে পুনরায় দেখা দেয়।
তীব্র মাথা ব্যথা, পিঠ ব্যথা অথবা দুটোই।
চোখের পিছনে ব্যথা।
অস্থি সন্ধি এবং মাংসপেশীতে তীব্র ব্যথা।
বমি বমি ভাব এবং বমি।
ডেঙ্গু হেমোরেজিক জ্বর:
এটি রোগের মারাত্মক একটি ধরণ। এই জ্বর মৃদু জ্বরের মতোই শুরু হয়। পরবর্তী কিছু দিনের মধ্যেই অবস্থা অধিকতর খারাপ হতে শুরু করে। এই জ্বরে ডেঙ্গুজ্বরের লক্ষণ ও উপসর্গের পাশাপাশি আরো যে সমস্যা গুলো হয়:
রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্যকারী রক্ত কোষের সংখ্যা কমে যায় ফলে চামড়ার নিচে রক্তক্ষরণ হয় এবং নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত পড়া শুরু হয়।
অনেক সময় মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
ডেঙ্গু শক সিনড্রোম:
এটি ডেঙ্গুজ্বরের সবচেয়ে মারাত্মক ধরন। এই জ্বরে মৃদু ডেঙ্গুজ্বরের লক্ষণ ও উপসর্গের পাশাপাশি অন্যান্য যে সমস্যা গুলো হয়:
তীব্র পেটে ব্যথা,
ঘন ঘন বমি,
জ্ঞান হারানো,
অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ,
রক্তচাপ হঠাৎ কমে যাওয়া,
এতে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
কখন ডাক্তার দেখাবেন?
ডেঙ্গুজ্বরের যে কোন লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা দেয়ার সাথে সাথে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।
কোথায় চিকিৎসা করা হয়?
জেলা সদর হাসপাতাল,
মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল,
বেসরকারী হাসপাতাল,
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
কি কি পরীক্ষা করার প্রয়োজন হতে পারে?
সাধারণত লক্ষণ দেখেই ডাক্তাররা বুঝতে চেষ্টা করেন ডেঙ্গু হয়েছে কিনা, তবে এর পাশাপাশি রক্ত পরীক্ষাও করা হয়ে থাকে। রক্ত পরীক্ষা করে রোগের ধরন ও মাত্রা বুঝা হয়।
কি চিকিৎসা আছে?
বেশি করে তরল জাতীয় খাদ্য গ্রহন,
প্যারাসিটামল ওষুধ সেবন,
হাসপাতালে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করা,
দরকার হলে শিরাপথে স্যালাইন দেয়া,
রক্তচাপ পরীক্ষা,
রক্ত ঘাটতি পূরণের জন্য রক্ত দেয়া।
পথ্য ও বাড়তি সতর্কতা:
বমি এবং জ্বর থেকে পানিশূণ্যতা পূরণের জন্য রোগীকে বেশি করে স্যালাইন ও অন্যান্য তরল খাবার খেতে দিতে হবে।
আক্রান্ত রোগীকে মশারীর ভিতর রাখতে হবে।
কখনোই নিজে থেকে কোন ব্যথানাশক ঔষধ খাবেন না, তাতে ডেঙ্গুজ্বরের জটিলতা বেড়ে যেতে পারে।
ডেঙ্গুজ্বর কিভাবে প্রতিরোধ করবেন?
ডেঙ্গুজ্বরের জীবাণু বহনকারী মশা দিনের বেলায় কামড়ায়। তাই দিনের বেলা মশারী টাঙিয়ে অথবা কয়েল জ্বালিয়ে ঘুমাতে হবে।
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে অবশ্যই সবসময় মশারীর মধ্যে রাখতে হবে যাতে করে রোগীকে কোন মশা কামড়াতে না পারে।
বাড়ির আশেপাশের ঝোপঝাড়, জঙ্গল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
বাড়ির আশেপাশে ভাঙ্গা ফুলের টব, ভাঙ্গা ফুলদানি, অব্যবহৃত কৌটা, ডাবের খোসা, ভাঙ্গা বেসিন, অব্যবহৃত টায়ার, মুখ খোলা পানির ট্যাঙ্ক, প্লাস্টিকের প্যাকেট, পলিথিন এবং ঘরের আশেপাশে যেন পানি না জমে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
সচরাচর জিজ্ঞাসা:
প্রশ্ন # ১: ডেঙ্গুজ্বর কেন হয়?
উত্তর: এক ধরনের জীবাণু দিয়ে ডেঙ্গুজ্বর হয়। এডিস নামে এক ধরনের মশা এই রোগের জীবাণু বহন করে।
প্রশ্ন # ২: কিভাবে এডিস মশা ডেঙ্গুজ্বরের জীবাণু ছড়ায়?
উত্তর.ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত কোন ব্যক্তিকে কোন সাধারণ এডিস মশা (যে এডিস মশা ডেঙ্গু ভাইরাসের জীবাণু বহন করছে না) কামড়ালে সেই এডিস মশাটিও ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। এই মশা যখন আরেকজন সু্স্থ্য মানুষকে কামড় দেয় তখন সেও ডেঙ্গুরোগে আক্রান্ত হয়।
প্রশ্ন # ৩: ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্তের ক্ষেত্রে কারা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ?
উত্তর: সাধারণত শহর অঞ্চলে এই রোগ বেশি দেখা যায়।
যেসব অঞ্চলে গরম বেশি সেখানকার মানুষ ডেঙ্গুজ্বরে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে।
যারা আগেও ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এই রোগে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এটি বেশি দেখা যায়।
প্রশ্ন # ৪: ডেঙ্গুজ্বর ভালো হতে কতদিন সময় লাগে?
উত্তর: ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগীরা সাধারণত ৫ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়।
প্রশ্ন # ৫: ডেঙ্গুজ্বরে কি ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে?
উত্তর: ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে সাধারণত যেসব জটিলতা দেখা দিতে পারে:
জীবাণুতে আক্রান্ত হওয়ার পরের কয়েক সপ্তাহ বা মাস পর্যন্ত কোন কোন বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে ক্লান্তিবোধ, অবসন্নতা দেখা দেয়।
মারাত্মক ডেঙ্গুজ্বর থেকে ডেঙ্গু হেমোরেজিক জ্বর এবং ডেঙ্গু শক সিনড্রোম হতে পারে। এর ফলে যে সমস্যা গুলো হতে পারে সেগুলো হলো-অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ,শক এমনকি এ ধরনের সমস্যা থেকে মৃত্যু।
অনেকসময় সু্স্থ্য হলেও অনেকের যকৃত, রক্তনালী এবং মস্তিস্কের ক্ষতি হতে পারে।
তথ্যসূত্র: জাতীয় ই-তথ্যকোষ।
18/08/2015
Basic Knowledge ভালো থাকলে যে কোন বিষয়ে খুব সহজেই উতরে যাওয়া যায়। আর বেশির ভাগ সচেতন মানুষই চায় যে কোন বিষয়ে Basic Knowledge অর্জন করতে। (y)
01/08/2015
বৈদ্যুতিক বাতি'র আবিষ্কারক টমাস আলভা এডিসন'র একটি উদ্দীপনামূলক সত্য কাহিনী যা অন্যের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। :)
টমাস আলভা এডিসন যখন টাংস্টেন তারের পৃথিবীর প্রথম বৈদ্যুতিক বাল্বটি আবিষ্কার করেন তখন তার ল্যাবে ভীষণ ভীড়-ভাট্টা, সাংবাদিক, বন্ধুবান্ধবে গিজগিজ করছে। বাল্বটি যখন প্রথমবারের মত জ্বলে উঠলো তখন সবাই আনন্দে হই হই করে উঠলো। এবার এডিসন সাবধানে বাল্বটি খুলে তার চাকরের হাতে দিয়ে বললেন, “সাবধানে পাশের ঘরে রেখে আসো।” সাবধানে বলার কারণেই কিনা এডিসনের বেকুব চাকর পৃথিবীর প্রথম বাল্বটি তৎক্ষণাৎ হাত থেকে ফেলে ভেঙে চুরমার করে দিলো। আশেপাশের সবাই হায় হায় করে উঠলো। সিটিয়ে গেল চাকরটি, শুধু এডিসন কিছু বললেন না।
এর কিছুদিন পর দ্বিতীয়বারের মতো এডিসন বাল্বটি তৈরী করলেন। বলা যায় পৃথিবীর দ্বিতীয় বৈদ্যুতিক বাল্ব। এবারও তার ল্যাবে ভীড় আগের মতোই। এবারও বাল্বটি জ্বলে উঠলো সবাই আনন্দে হই হই করে উঠলো এবং এবারও এডিসন বাল্বটি সাবধানে পাশের ঘরে রেখে আসার জন্য তার চাকরকে ডাকলেন। সবাই আঁতকে উঠলো, “কি করছেন, কি করছেন, ঐ গাধাটা আবার বাল্বটা ভাঙবে, আপনি নিজ হাতে রেখে আসুন, নইলে আমাদের কারো হাতে দিন। এডিসন স্মিত হেসে বললেন, “ও যদি এবারও বাল্বটা ভাঙে সেটা আমি আবার তৈরী করতে পারব। কারণ এর ম্যাকানিজমটা আমার মাথায় আছে; কিন্তু প্রথম বাল্বটি ভাঙ্গার পর আমার চাকরের আত্মবিশ্বাস ভেঙে যে চুরমার হয়েছে সেটা জোড়া লাগাতে বাল্বটা এবারও তার হাতেই দিতে হবে।” চাকরটি অবশ্য বাল্বটি না ভেঙ্গে ঠিক জায়গায় রেখে আসতে পেরেছিলো। (y)
টমাস আলভা এডিসন (ফেব্রুয়ারি ১১, ১৮৪৭ - অক্টোবর ১৮, ১৯৩১) ছিলেন মার্কিন উদ্ভাবক এবং ব্যবসায়ী। তিনি গ্রামোফোন, ভিডিও ক্যামেরা এবং দীর্ঘস্থায়ী বৈদ্যুতিক বাতি (বাল্ব) সহ বহু যন্ত্র তৈরি করেছিলেন যা বিংশ শতাব্দীর জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।
এডিশন ইতিহাসের অতিপ্রজ বিজ্ঞানীদের অন্যতম একজন বলে বিবেচিত, যার নিজের নামে ১,০৯৩টি মার্কিন পেটেন্টসহ যুক্তরাজ্যে, ফ্রান্স এবং জার্মানির পেটেন্ট রয়েছে। গণযোগাযোগ খাতে বিশেষ করে টেলিযোগাযোগ খাতে তার বহু উদ্ভাবনের মাধ্যমে তার অবদানের জন্য তিনি সর্বস্বীকৃত। যার মধ্যে একটি স্টক টিকার, ভোট ধারনকারী যন্ত্র, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারী, বৈদ্যুতিক শক্তি, ধারনযোগ্য সংগীত এবং ছবি। এসব ক্ষেত্রে উন্নতি সাধনকারী তাঁর কাজগুলো তাঁকে জীবনের শুরুর দিকে একজন টেলিগ্রাফ অপারেটর হিসেবে গড়ে তোলে। বাসস্থান, ব্যবসায়-বানিজ্য বা কারখানায় বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন ও বন্টনের ধারনা এবং প্রয়োগ দুটিই এডিসনের হাত ধরে শুরু হয় যা আধুনিক শিল্পায়নের একটি যুগান্তকারী উন্নতি। নিউইয়র্কের ম্যানহাটন দ্বীপে তাঁর প্রথম বিদ্যুত কেন্দ্রটি স্থাপিত হয়।
- উইকিপিডিয়া।
22/07/2015
ছবিটি প্রায় সকলের কাছে পরিচিত হলেও এটির ব্যাপারে সাধারণ কিছু তথ্য জেনে রাখুন।
এটি বাংলাদেশ সরকারের সিলমোহর। বাংলাদেশ সরকার এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় দাপ্তরিক কাজকর্মে এটি ব্যবহার করে থাকে।
এটি বাংলাদেশের প্রথম দিকের পতাকার একটি গোলাকার চিত্র। মাঝখানে লালবৃত্তের মাঝে হলুদাভ রঙে বাংলাদেশের মানচিত্র। এর চতুর্দিকে সাদা বৃত্তের মাঝে সবুজ অক্ষরে লেখা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সরকারের দুই পাশে দুটি করে চারটি পাঁচ কোণাকৃতির তারকা।
18/07/2015
রথযাত্রা বা রথদ্বিতীয়া একটি আষাঢ় মাসে আয়োজিত অন্যতম প্রধান হিন্দু উৎসব। দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর কৃষ্ণের বৃন্দাবন প্রত্যাবর্তনের স্মরণে এই উৎসব আয়োজিত হয়ে থাকে।
রথযাত্রার দিন পুরীর জগন্নাথ মন্দির সহ দেশের সকল জগন্নাথ মন্দিরে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা ও সুদর্শন চক্র মূর্তি মন্দির বাহিরে সর্বসমক্ষে বাহির করা হয়। তারপর তিনটি সুসজ্জিত রথে (কোনো কোনো স্থলে একটি সুসজ্জিত সুবৃহৎ রথে) বসিয়ে দেবতাদের পূজা সম্পন্নপূর্বক রথ টানা হয়। পুরীতে রথ টানতে প্রতি বছর লক্ষাধিক পূণ্যার্থীর সমাগম হয়।
পুরীতে বছরে এই একদিনই অহিন্দু ও বিদেশীদের মন্দির চত্বরে এসে দেবদর্শনের অনুমতি দেওয়া হয়। পুরীতে যে রথগুলি নির্মিত হয় তাদের উচ্চতা ৪৫ ফুট। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক টেলিভিশন চ্যানেলে এই রথযাত্রা সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।
১৯৬৮ সাল থেকে ইসকন হরে কৃষ্ণ আন্দোলনের ফলস্রুতিতে সারা বিশ্বের বিভিন্ন শহরে রথযাত্রা শুরু হয়। এই সংঘের নেতা এ সি ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ লন্ডন, মন্ট্রিল,
18/07/2015
ঈদ মোবারক হল মুসলিমদের একটি ঐতিহ্যবাহী শুভেচ্ছা বাক্য যেটি তারা ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহায় পরস্পরকে বলে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করে থাকেন। ঈদ শব্দের অর্থ আনন্দ বা উদযাপন। আর মোবারক শব্দের অর্থ কল্যাণময়। সুতরাং ঈদ মোবারক'র অর্থ হল ঈদ বা আনন্দ উদযাপন কল্যাণময় হোক।
আরবিতে ঈদ মোবারক : عيد مبارك
15/07/2015
ইন্টারনেট ব্যবহারকারী হিসেবে Google, Facebook, Youtube ব্যবহার করেন না এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাবে। তাই এটির ব্যাপারে কিছু আপডেটেড তথ্য জেনে রাখুন। জেনে না রাখলেও কোন ক্ষতি নেই। :D
১৫ জুলাই ২০১৫, দুপুর ২ টা ০৫ মিনিট সময় অনুযায়ী;
Google:
→ প্রতিদিন ৬৫,৫০,০০,০০০ (৬৫ কোটি ৫০ লক্ষ) ভিজিটর গুগলের ওয়েবসাইট ভিজিট করে।
→ সারা বিশ্বের সকল ওয়েবসাইটের রেটিং - এ এটির অবস্থান ১ম।
→ IP Location: USA, California, Mountain View.
→ Hosting Address: 1600 Amphitheatre Parkway, Mountain View, CA, 94043, US.
Facebook:
→ প্রতিদিন ৬০,০০,০০,০০০ (৬০ কোটি) ভিজিটর ফেইসবুক ভিজিট করে।
→ সারা বিশ্বের সকল ওয়েবসাইটের রেটিং - এ এটির অবস্থান ২য়।
→ IP Location: USA, Ohio, Kensington.
→ Owner Address: 1601 Willow Rd. Menlo Park, CA, 94025, US.
Youtube:
→ প্রতিদিন ৫৫,০০,০০,০০০ (৫৫ কোটি) ভিজিটর ইউটিউব ভিজিট করে।
→ সারা বিশ্বের সকল ওয়েবসাইটের রেটিং - এ এটির অবস্থান ৩য়।
→ IP Location: USA, California, Mountain View.
→ Hosting Address: 1600 Amphitheatre Parkway, Mountain View, CA, 94043, US.
12/07/2015
জীবনের গল্প
বিচিত্রা সেন।
সহকারী অধ্যাপক।
বাংলাদেশ নৌবাহিনী কলেজ, চট্টগ্রাম।
(৮)
এবার মিতুকে শ্বশুর বাড়িতে পাঠানোর পর থেকে মিতুর বাবা কেমন অস্থির হয়ে উঠেছে। বার বার মনে হচ্ছে মেয়েটা ভালো নেই। কি যেন লুকোচ্ছে উনাদের কাছ থেকে। এর মধ্যে নয়ন কিন্তু একবারের জন্যও আসে নি। এমন কি ব্যস্ততা ওর? মিতুর মায়ের সাথে পরামর্শ করেন সারারাত। তারপর একটা সিদ্ধান্ত নেন।
পরদিন আবার গিয়ে উপস্থিত হন মিতুর শ্বশুর বাড়ি। বলেন, মিতুর মা গুরুতর অসুস্থ। মিতুর শ্বশুর-শ্বাশুড়ীর ভ্রুকুটিকে অগ্রাহ্য করে মিতুকে আবার নিয়ে আসেন নিজের কাছে।
মিতুর কাছে এখন সব জায়গাই সমান। এখানে এসেও তার খুব একটা ভাল লাগে না। মন বার বার নয়নকে কাছে পেতে চায়। মেয়ের এমন উদাসীন অবস্থা সহ্য করতে পারেন না মিতুর বাবা। বার বার মনে হতে থাকে তিনি নিজ হাতে মেয়ের জীবন ধবংস করে দিয়েছেন। কতদিন তিনি মিতুর মুখে হাসি দেখেন নি। এমনভাবে চলতে থাকলে তো মেয়েটা মারা যাবে। না, আর না, এবার যা করতে হয় তিনিই করবেন।
একদিন সকালে মিতুকে তিনি জিজ্ঞেস করেন, “নয়নের কাছে যাবি?” মিতু যেন কাঙাল হয়েই ছিল। বলল, “কে নিয়ে যাবে?” বাবা বললেন, “আমি।”
পরদিন মিতুকে নিয়ে বাবা ঠিক ঠিক নয়নের কর্মক্ষেত্রে রওয়ানা দিলেন।
ওদের দেখে তো নয়ন ক্ষেপে আগুন। ওকে না জানিয়ে কেন এখানে আসা হলো? মিতুর বাবা কঠোরভাবে বললেন, “স্বামীর কাছে স্ত্রী আসবে। এতে তো আমি কোনো অপরাধ দেখছি না।” মিতুর বাবার কণ্ঠস্বরে এমন কিছু ছিল যে নয়ন আর কথা বাড়ালো না। ওদেরকে বাসায় নিয়ে গেলো। খুব পরিপাটি বাসা। বেশ গোছানো। নয়নের এমন গোছানো স্বভাবের কথা মিতুর জানা ছিল না। বেশ ভালো লাগলো তার। আজ খুব ভালো লাগছে মিতুর। এমন একটা দিনের প্রতীক্ষায় ছিল সে কতদিন ধরে।
পরদিন সকালে বাবা চলে যান। কিন্তু যাবার সময় মেয়ের চোখে মুখে দেখে যান এক অদ্ভুত প্রশান্তি। বাবা চলে যাবার পর মিতু ঘুরে ঘুরে দেখতে থাকে সারা ঘর। নয়ন অফিসে চলে গেছে। ওয়ারড্রোবের একটা ড্রয়ার খুলে সে চমকে ওঠে। মেয়েদের সাজ সজ্জ্বার সব জিনিস। এইসব কার? এমন সময় ঘরের দরজায় করাঘাত শুনে তাড়াতাড়ি ড্রয়ার বন্ধ করে দরজা খুলে দেয় মিতু। দেখে একজন মহিলা। উনি নিজেই পরিচয় দেন, “আমি পাশের বাসায় থাকি। আপনি?” মিতু জানায় নয়ন তার স্বামী। মহিলা খুব অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকেন তার দিকে। তারপর কথা না বাড়িয়ে খুব দ্রুত চলে যান। মিতুর কাছে সবকিছু খুব রহস্যময় মনে হয়। রাতে নয়ন ফিরলে নয়নের কাছে গিয়ে বসে। সে বুঝতে পারে নয়ন বিরক্ত হচ্ছে। কিন্তু মিতু বসেই থাকে। নয়ন ল্যাপটপে কাজ করছে খুব মনোযোগ দিয়ে। মিতুর ঝিমুনি আসে, এবং এক সময় নিজের অজান্তে ঘুমিয়েই পড়ে।
হঠাৎ ধড়মড় করে উঠে বসে মিতু। দেখে পাশে নয়ন নেই। পা টিপে টিপে সে পাশের রুমের দিকে এগিয়ে যায়। ওই রুম থেকে নয়নের কথা শোনা যাচ্ছে। মিতু সব শুনতে পায়.... সব স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে.... পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে মিতুর। নয়ন তখন কেয়াকে আশ্বস্ত করে বলছে, “তুমি রাগ করো না। আমাকে কয়েক দিন সময় দাও। যেমন করে পারি আমি ওকে তাড়াবো। আমরা যেমন আছি তেমনি থাকবো। তুমিই আমার একমাত্র স্ত্রী। এই বাসা তোমার। তোমারই থাকবে। প্লিজ, প্লীজ, রাগ করো না।” অন্ধকার হয়ে আসে মিতুর চারপাশ। কিছু ভাবতে পারছে না সে। এত বড় বিশ্বাসঘাতকতা কি করে সে মেনে নেবে? কী হবে তার সন্তানের? কী দোষ করেছিল সে? কেন এমন করে তাকে নিয়ে খেললো নয়ন? কার কাছে জবাব চাইবে সে?
- সমাপ্ত।
11/07/2015
জীবনের গল্প
বিচিত্রা সেন।
সহকারী অধ্যাপক।
বাংলাদেশ নৌবাহিনী কলেজ, চট্টগ্রাম।
(৭)
কয়দিন ধরে মিতুর শরীরটা একদম ভালো যাচ্ছে না। কিন্তু কাউকে বলতেও পারছে না। নয়নের উপর খুব অভিমান হয়। এতই ব্যস্ত সে? একটা ফোন করার প্রয়োজনও মনে করছে না। নিশ্চয় তার শ্বশুর-শ্বাশুড়ীকে ফোন করে। উনারা অবশ্য এ ব্যাপারে কিছুই বলেন না। এসব ভাবতে ভাবতে ফোন এলো মায়ের।
মিতুর কণ্ঠ শুনেই মা জিজ্ঞেস করলেন, “কি রে তোর শরীর খারাপ নাকি? স্বরটা এমন লাগছে কেন?” মিতু বললো, “ হ্যাঁ মা খুব খারাপ লাগছে।”
তারপরের দিন মিতুকে অবাক করে দিয়ে ওর বাবা এসে উপস্থিত। মিতু তো বাবাকে দেখেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল। মিতুর বাবা অনেক অনুরোধ করে মিতুকে দুই দিনের জন্য নিজের বাসায় নিয়ে আসলেন। পরদিন ওকে ডাক্তারের কাছে নেওয়া হল। মিতুর মা ঠিকই আন্দাজ করেছিলেন। মিতু মা হতে চলেছে। খুব খুশি উনারা। একটা বন্ধন তৈরী হচ্ছে। নয়নের মন এবার নরম হয়ে যাবে। কিন্তু শান্তি নেই মিতুর মনে। সে মা বাবাকে জানাতে চায় না নয়নের অবহেলার কথা। চলুক না যেমন চলছে।
পরদিন ফোন আসে নয়নের। মিতুর কাছে নয়, তার বাবার কাছে। বাবা শুভ সংবাদ জানায়। তেমন কোন প্রতিক্রিয়া দেখায় না নয়ন। শুধু বলে দেয় যেন কালকেই মিতুকে বাড়িতে পৌঁছে দেয়। মিতুর বাবা কিছু বলতে চায়, কিন্তু ফোন কেটে দেয় নয়ন। অগত্যা আবার ফিরে যেতে হয় মিতুকে তার আসল ঠিকানায়।
- চলবে।
10/07/2015
জীবনের গল্প
বিচিত্রা সেন।
সহকারী অধ্যাপক।
বাংলাদেশ নৌবাহিনী কলেজ, চট্টগ্রাম।
(৬)
আজ দুই দিন হলো মিতু তার বাবার বাসায় এসেছে। বাবা মা তাকে এত আদর করছে মাঝে মাঝে তার খুব অচেনা মনে হচ্ছে উনাদেরকে। নয়ন প্রতিদিন কয়েকবার ফোন করছে। তার বিরহে নয়, সে যেন কোথাও না যায় তার তদারকী করার জন্য। কিছুই ভালো লাগছে না মিতুর। বার বার শুধু মনে পড়ছে নয়নের শেষ কথাগুলো। নয়ন বিন্দুমাত্র ভনিতা না করে তাকে বলে দিয়েছে, “দেখো মিতু, আমি তোমাকে আগেও বলেছি, এখনও বলছি আমি তোমাকে আমার জন্য বিয়ে করিনি। আমার মা বাবার সেবা করাই তোমার প্রধান কাজ। তা ছাড়া আমি ছোট এবং কালো মেয়ে বিয়ে করেছি শুধু একটা কারণে। বউ যেন কখনো আমার মুখের উপরে কথা না বলে। তাই কখনো আমার সাথে পাল্লা দিতে আসবে না। তাহলে কিন্ত সারা জীবন কাঁদতে হবে।”
মিতু অপমানে কিছু বলতে পারে নি। তার মনে হয়েছে এসব কথার উত্তর দেওয়ার চেয়ে না দেওয়াই সম্মানজনক। কিন্তু একটা ব্যাপার সে কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না কেয়ার ফোন রিসিভ করাতে নয়ন ওর সাথে এমন দুর্ব্যবহার করল কেন? কে এই কেয়া? তাকে জানতে হবে।
কয়েকদিন পরেই মিতুকে ফিরে যেতে হলো শ্বশুর বাড়ি। ওখানে মিতুর দম বন্ধ হয়ে আসলেও করার কিছু নেই। মা বাবা বলে দিয়েছেন মেয়েদের আসল ঠিকানা ওটাই। তাই মিতু তার আসল ঠিকানাকে আপন করে নেওয়ার জন্য মনে প্রাণে চেষ্টা চালাতে লাগলো। মা বাবা ফোন করে প্রতিদিন, মিতু জানায় সে ভালো আছে। কি দরকার তার নকল ঠিকানার প্রতি মায়া বাড়িয়ে। কিন্তু একটা ব্যাপার মিতুকে খুব কষ্ট দেয়। নয়ন তাকে একটা ফোন পর্যন্ত করে না এখন। খুব ইচ্ছে করে তার নয়নের কাছে ছুটে যেতে। তার সাথে বেড়াতে যেতে। কিন্তু তীব্র অভিমানে সেও ফোন করে না।
মিতু বুঝতে পারে তার শ্বশুর-শ্বাশুড়ী তাকে ঠিক পছন্দ করছে না। আবার তা প্রকাশও করছে না। কোথায় যেন তাদের বাধা। তার শ্বাশুড়ী প্রায়ই তাকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলে, যেসব মেয়ে স্বামীকে বেঁধে রাখতে পারে না তাদের কপালে অনেক দুঃখ থাকে। মিতু বুঝতে পারে না স্বামীকে বাঁধার কথা কেন আসছে। তাহলে কি এখানে অন্য কোনো কাহিনী আছে? কি সেই কাহিনী?
- চলবে।
09/07/2015
জীবনের গল্প
বিচিত্রা সেন।
সহকারী অধ্যাপক।
বাংলাদেশ নৌবাহিনী কলেজ, চট্টগ্রাম।
(৫)
শ্বশুর বাড়িতে পা রেখেই মিতু বুঝতে পারল ওদের পরিবারের সাথে এদের সবদিক দিয়েই বিস্তর ব্যবধান। সে এটাও বুঝতে পারলো যে, নয়নই ওদের পরিবারের প্রথম উচ্চশিক্ষিত। ওদের আত্মীয় স্বজনদের কথাবার্তা শুনে ওর মন খুব খারাপ হয়ে গেল। খুবই অশিক্ষিত ওরা। যাই হোক মিতু ভাবলো, তাকে এদের নিয়েই থাকতে হবে। সুতরাং, মন খারাপ করলে চলবে না। কিন্তু একটা ব্যাপারে তার মন খুব খুঁতখুঁত করছে। তাকে যখন বরণ করে নেওয়া হচ্ছিল তখন একজন বয়স্কা মহিলা তার শ্বাশুড়ীকে বলছিল, “যে কালো বউ ঘরে আনলে, একে দিয়ে তোমার ছেলেকে ফেরাতে পারবে?” তার শ্বাশুড়ী তাড়াতাড়ি কথাটাকে এড়িয়ে গেলেন।
এরপর থেকেই মিতুর মনটা ভার হয়ে আছে। কোথা থেকে নয়নকে ফেরাতে হবে তাকে? সারাদিন নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে গেল। এর মাঝে কিন্তু একটিবারের জন্যও নয়ন তার খবর নিল না। মিতুর চোখ বার বার তাকে খুঁজে বেড়াতে লাগলো। সন্ধ্যার পরে তার ঘরে এল নয়ন। বলল, “কেমন দেখলে তোমার শ্বশুর বাড়ি? এখানেই কিন্তু তোমাকে থাকতে হবে। আমি হয়তো মাসে কিংবা দুই মাসে একবার আসবো। আমার বাবা মা এর সেবা করাই তোমার প্রধান কাজ আমার এখন বিয়ে করার কোন ইচ্ছেই ছিল না। শুধু বাবা মার জন্য বিয়ে করেছি।” মিতু চুপ করে শুনে যাচ্ছিল , কিছুই বলল না সে। তার মনে বার বার ঘুরপাক খাচ্ছিল তিনটা শব্দ ‘ওকে ফেরাতে হবে।’
এরপর একটা একটা দিন যাচ্ছিল আর মিতু বুঝতে পারছিল তার কল্পনার সংসার জীবনের সাথে বাস্তবের সংসারের কোনো মিলই নেই। নয়ন বিয়ের পর ১৫ দিন ছিল বাড়িতে। এই সময়টা সে মিতুকে নিয়ে যত কথা বলেছে তার সবটুকুই ছিল মিতু যেন ঘরের কাজকর্ম তাড়াতাড়ি শিখে নেয়। লাকড়ীর চুলাতে রাঁধতে গিয়ে মিতু গলদঘর্ম হলেও নয়নের বিন্দুমাত্র সহানুভুতি পায়নি। বরং রান্নাঘর থেকে যখনি খেয়াল করেছে দেখা গেছে নয়ন চুটিয়ে কারো সাথে ফোনে কথা বলছে। মিতু রুমে আসলেই ব্যস্ততার ভান করে রুম থেকে বেরিয়ে গেছে।
মিতুর কিছু বলার ছিল না। নয়ন এমন দূরত্ব রাখে তা অতিক্রম করে নয়নের কাছাকাছি যাওয়া মিতুর সম্ভব হয় না। আরেকটা ব্যাপার মিতু খেয়াল করেছে নয়নকে বাড়ির সবাই খুব ভয় পায়। ও চাওয়ার আগেই সবকিছু ওর জন্য তৈরী করে রাখা হয়। আরো একটা বিষয় মিতুর চোখে পড়েছে, আর তা হলো মিতুর শ্বাশুড়ী কিছুতেই মিতুকে একা রেখে কোথাও সরে না এবং কাউকে মিতুর কাছে আসতে দেয় না।
১৪ দিন হয়ে গেলো মিতুর বিয়ে হয়েছে। মা বাবা প্রতিদিন ফোন করে জানতে চান মিতু কেমন আছে। মিতু জানায় সে খুব ভাল আছে। আসলেই তো সে খারাপ নেই। যেসব প্রশ্ন তাকে পীড়া দিচ্ছে এসব কি মা বাবাকে বলবে সে! তাই সে ভালোই আছে বলে। কালকে নয়ন চলে যাবে তার কর্মক্ষেত্রে। মিতুকে কয়েক দিনের জন্য তার বাবার বাসায় যাবার অনুমতি দিয়েছে। তবে ৭ দিনের বেশি থাকতে পারবে না। মিতু সব গুছিয়ে নিচ্ছে। নয়ন রুমে নেই। ওর ফোন বেজেই চলেছে। ও কখনো ফোন রেখে কোথাও যায় না। বার বার বাজছে দেখে খুব জরুরী ফোন মনে করে মিতু রিসিভ করতে গেলো। হাতে নিয়ে দেখলো কেয়া নামের কেউ ফোন করেছে। ‘হ্যালো’ বলতেই ও পাশ থেকে ফোন কেটে দিল।
সাথে সাথেই রুমে ঢুকলো নয়ন। মিতু ফোনটা এগিয়ে দিয়ে বললো, “কেয়া নামের একজন ফোন করেছে।” সাথে সাথে নয়ন ছোঁ মেরে ফোনটা কেড়ে নিল। তার চোখে আগুন জ্বলে উঠল। বলল, “আমার ফোন ধরার সাহস তোমাকে কে দিল?” মিতু বিস্ময়ে হতবাক।
- চলবে।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Contact the university
Telephone
Address
Chittagong
Opening Hours
| Monday | 07:00 - 21:15 |
| Tuesday | 07:00 - 09:15 |
| Wednesday | 07:00 - 09:15 |
| Thursday | 07:00 - 09:15 |
| Saturday | 07:00 - 09:15 |
| Sunday | 07:00 - 09:15 |