THT Family
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from THT Family, Educational consultant, Bahirsignal, Chandgoan, Chattogram.
আরবি ভাষা ও সাহিত্য | নাহু, সরফ, বালাগাত, ইত্যাদি।
📝 শিক্ষা সহায়ক তথ্য, নোট, ইত্যাদি।
✍️ বিভিন্ন বিষয়ের গঠনমূলক লেখা।
✅ সত্য যাচাই ও উপস্থাপন।
🔄 নিয়মিত আপডেট, শিক্ষামূলক কন্টেন্ট।
29/08/2026
সাতজন ফকিহ (الفقهاء السبعة)
সাত ফকিহ বলতে সেই সাতজন ফকিহকে বোঝানো হয়, যারা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নগরী মদিনায় গড়ে উঠেছিলেন। তাঁরা ছিলেন তাবেয়ি। তাঁদের সময়কাল ছিল চার ইমামের আগের যুগে। বরং চারজন প্রসিদ্ধ ফকিহ ইমামের মধ্য থেকে কেউ কেউ এই সাতজনের কিছু আলেমের কাছ থেকে জ্ঞান গ্রহণ করেছেন।
যেমন, ইমাম মালিক ইবন আনাস (রহ.) ছিলেন রবীআ ইবন আবদুর রহমানের ছাত্র। তাঁকে রবীআতুর রায় (ربيعة الرأي) নামেও ডাকা হতো।
এই সাতজন ফকিহ হলেন:
১. সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব — তিনি ৯৪ হিজরিতে ইন্তিকাল করেন।
২. উরওয়া ইবনুয যুবাইর — তিনিও ৯৪ হিজরিতে ইন্তিকাল করেন।
৩. আবু বকর ইবন আবদুর রহমান ইবনুল হারিস ইবন হিশাম আল-মাখযূমী আল-কুরাইশী — তিনিও ৯৪ হিজরিতে ইন্তিকাল করেন।
৪. আব্দুল্লাহ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন উতাইবা ইবন মাসউদ — তিনি ৯৮ হিজরিতে ইন্তিকাল করেন।
৫. খারিজা ইবন যায়েদ ইবন সাবিত — তিনি ৯৯ হিজরিতে ইন্তিকাল করেন।
৬. কাসিম ইবন মুহাম্মদ ইবন আবু বকর সিদ্দীক — তিনি ১০৭ হিজরিতে ইন্তিকাল করেন।
৭. সুলাইমান ইবন ইয়াসার — তিনি ১০৭ হিজরিতে ইন্তিকাল করেন।
কবি বলেছেন:
«যখন বলা হবে—জ্ঞান-সমুদ্রে সাতজন মহাসাগর কারা,
তাঁদের বর্ণিত জ্ঞান কখনো সীমার বাইরে নয়।
তখন বলবে—তাঁরা হলেন: উবাইদুল্লাহ, উরওয়া, কাসিম,
সাঈদ, আবু বকর, সুলাইমান ও খারিজা।»
এ কারণেই আলেমগণ ৯৪ হিজরি সালকে ‘ফকিহদের বছর’ (سنة الفقهاء) বলে উল্লেখ করেন। কারণ, সে বছরে অনেক ফকিহ ইন্তিকাল করেছিলেন।
আর সেই বছরেই আলী যায়নুল আবিদীন ইবনুল হুসাইন ইবন আলী ইবন আবি তালিব (রহ./রাঃ)-ও ইন্তিকাল করেন। তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর দৌহিত্র হযরত হুসাইন (রা.)-এর পুত্র এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বংশধর।
#فقيه #العلماء #الفقيه #شريعة
29/08/2026
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ جَهْدِ الْبَلَاءِ، وَدَرَكِ الشَّقَاءِ، وَسُوءِ الْقَضَاءِ، وَشَمَاتَةِ الْأَعْدَاءِ، وَزَوَالِ نِعْمَتِكَ، وَتَحَوُّلِ عَافِيَتِكَ، وَفُجَاءَةِ نِقْمَتِكَ، وَجَمِيعِ سَخَطِكَ.
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কঠিন বিপদ-পরীক্ষা, দুর্ভাগ্য ও দুঃখ-কষ্টে পতিত হওয়া, অকল্যাণকর ফয়সালা, শত্রুদের উপহাস ও আনন্দ, আপনার নিয়ামত দূর হয়ে যাওয়া, আপনার দেওয়া সুস্থতা ও নিরাপত্তা পরিবর্তিত হয়ে যাওয়া, আপনার হঠাৎ শাস্তির সম্মুখীন হওয়া এবং আপনার সমস্ত অসন্তোষ ও ক্রোধ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
#دعاء #مناجات
29/08/2026
ইসলামে দল নিয়ে যত দ্বন্দ্ব - সব একসাথে আলোচনা।
☞রাসুল (সা.) বলেন,
“ইহুদিরা ৭১ বা ৭২ দলে বিভক্ত হয়েছিল ও খ্রিস্টানরাও ৭১ বা ৭২ দলে বিভক্ত হয়েছিল। আর আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে।"
নবি করিম (সা.) আরও বলেছেন,
"আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে, যার মধ্যে একটি দল জান্নাতে যাবে। ও ৭২টি দল জাহান্নামে যাবে। জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, তারা (মুক্তিপ্রাপ্ত দলটি) কারা? তিনি বললেন, আল-জামা'আহ।”
মুফাসসিরিন ও মুহাদ্দিসিনগণ গবেষণা করে তার নাম দেন ‘আহ্লুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত সংক্ষেপে: সুন্নি'।
নিজেদেরকে 'সুন্নি' দাবী করে এমন দুটি দল শাখা:
১. লা-মাজহাবি
২. মাজহাবি
এদের মতে, বাকি সব দল পথভ্রষ্ট। নিচে তাদের তালিকা দেওয়া হয়েছে।
ঐতিহাসিক আলেমদের মতানুসারে ৭২টি পথভ্রষ্ট দল:
১. খারেজি (প্রায় ২০টি শাখা)
২. শিয়া (প্রায় ২২টি শাখা)
৩. মুতাজিলা (৫টি শাখা)
৪. কাদরিয়াহ ও জাবরিয়াহ (প্রায় ৬টি শাখা)
৫. ৪. মুরজিয়া (৫টি শাখা)
৬. মুশাব্বিহা ও মুজাসসিমা
৭. অন্যান্য শাখা
আমি আজ নিরপেক্ষভাবে কেবল সুন্নি শাখা নিয়ে কথা বলব। আমি কেবল সেসব আকিদার কথা উল্লেখ করব যেগুলোর কারণে এক শাখা অন্য শাখা থেকে ভিন্ন। অন্যান্য আকিদায় সবাই এক।
[১] লা-মাজহাবি>নজদি (ওয়াহাবি)/সালাফি/আহলুল হাদিস/আছারি
তাদের আকিদা:
১. কোনো নির্দিষ্ট ফিকহি মাজহাব (হানাফি, শাফেয়ি, মালেকি, হাম্বলি) মানা আবশ্যক মনে করেন না।
২. ফিকহি মাসআলায় সরাসরি কুরআন ও সহিহ হাদিসের অনুসরণ করেন। তাঁরা যেকোনো মাজহাবের যুক্তি বাদ দিয়ে সহিহ হাদিসকে প্রাধান্য দেন।
৩. কুরআন ও হাদিসে আল্লাহর যেসব গুণাবলী (যেমন: আল্লাহর হাত, আরশে আরোহণ ইত্যাদি) যেভাবে এসেছে, সেগুলোকে কোনো রূপক ব্যাখ্যা (তাবিল) না করে হুবহু বিশ্বাস করেন।
৪. রাসুল (সা.) নূর না বাশার (মানুষ)প্রশ্নে তাঁরা সম্পূর্ণরূপে মানুষ (বাশার) বলেন।
৫. অসীম ও নিজ থেকে ইলমে গায়েব কেবল আল্লাহর।
৬. আল্লাহ ছাড়া কেউ সর্বস্থানে হাজির-নাজির নন। হাজির ও নাজির কেবল আল্লাহ তাআলা।
৭. আল্লাহ তাআলার নিকট মাধ্যম ধরা বা পীর-আউলিয়াদের অসিলা দিয়ে দোয়া করা জায়েয মনে করেন না।
৮. সুফিবাদ, পীর-মুরিদি বা বায়আত গ্রহণ প্রথাকে বিদআত মনে করেন।
৯. মিলাদ ও কিয়াম বিদআত মনে করেন।
১০. মাজারে উৎসব, ওরস, আলোকসজ্জা, মানত করা বা শবে বরাত, শবে কদরে বিশেষ নফল অনুষ্ঠান, ২০ রাকাত তারাবি, ৩ রাকাত বিতরকে বিদআত/শিরক মনে করেন।
[২] দেওবন্দী
তাদের আকিদা:
১. কঠোরভাবে হানাফী মাযহাবের তাকলীদ করেন। তাঁদের মতে, সাধারণ মানুষ বা আলেমদের জন্য চার মাযহাবের যেকোনো একটির পূর্ণ অনুসরণ করা ওয়াজিব।
২. 'মাতুরিদি' বা 'আশআরি' আকিদা লালন করেন। কালামশাস্ত্রের আলোকেই আল্লাহর সিফাত বোঝেন এবং প্রয়োজনবোধে কিছুটা রূপক ব্যাখ্যা (তাবিল) বা আল্লাহর ওপর অর্থ সোপর্দ করেন।
৩. রাসুল (সা.) মানুষ (বাশার), তবে সৃষ্টির সেরা ও তাঁর রুহানি নূর রয়েছে।
৪. নবিজিকে আল্লাহ যতটুকু জানিয়েছেন, ততটুকুই তিনি জানেন। অসীম ও মৌলিক ইলমে গায়েব কেবল আল্লাহর। নবিজিকে আল্লাহ সৃষ্টির সর্বাধিক জ্ঞান দান করেছেন।
৫. জীবিত বা মৃত নেককার বান্দা এবং নবিজি (সা.)-এর অসিলা দিয়ে দোয়া করা জায়েয মনে করেন।
৬. নবিজি একযোগে সর্বত্র হাজির নন।
৭. প্রচলিত মিলাদ-কিয়াম ও সম্মিলিত প্রথাকে বিদআত মনে করেন।
৮. তাসাউফ ও পীর-মুরিদিকে ইসলামের আত্মশুদ্ধির অংশ মনে করেন। চিশতিয়া, নকশবন্দিয়া, কাদেরিয়া ও সোহরাওয়ার্দিয়া তরিকায় বিশ্বাস করেন ও বায়আত নেন।
৯. ঈদে মিলাদুন্নবি পালনের প্রচলিত রূপকে (কাইফিয়াত) বিদআত মনে করেন।
১০. মাজার নির্মাণ, মেলা, ওরস ও মাজারে মানত করাকে হারাম ও বিদআত মনে করেন। শবে বরাতে ব্যক্তিগত ইবাদত জায়েয মনে করেন।
[৩] ব্রেলভী
তাদের আকিদা:
১. কঠোরভাবে হানাফী মাযহাবের তাকলীদ করেন।
২. আশআরী/মাতুরিদী আকিদা লালন করেন।
৩. আল্লাহ তাআলা নবিজিকে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকল সৃষ্টির জ্ঞান (আতায়ি ইলম) দান করেছেন।
৪. রাসুল (সা.) মূলত 'নূরে মুজাসসাম' (নূরের তৈরি মানব রূপ)।
৫. আউলিয়া ও পীরদের মাধ্যমে শাফায়াত ও সরাসরি সাহায্য চাওয়াকে (যেমন: 'ইয়া আলী', 'ইয়া গাউসুল আজম') জায়েয মনে করেন।
৬. নবিজি আল্লাহর দেওয়া ক্ষমতায় একই সাথে একাধিক স্থানে উপস্থিত (হাজির) ও দ্রষ্টা (নাজির) হতে পারেন।
৭. মিলাদ ও দাঁড়িয়ে 'কিয়াম' করাকে সওয়াবের কাজ ও আবশ্যকীয় আদব মনে করেন।
৮. তাসাউফ ও পীর প্রথা তাঁদের চর্চার মূল কেন্দ্রবিন্দু। পীর ও মাজারে ভক্তি প্রকাশকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেন।
৯. ঈদে মিলাদুন্নবিকে সকল ঈদের সেরা ঈদ মনে করে ব্যাপকভাবে উদযাপন করেন।
১০. মাজার জিয়ারত, ওরস পালন, মাজারে গিলাফ চড়ানো এবং শবে বরাত, শবে কদর উৎসবে গুরুত্ব প্রদান করেন।
তবে এঁরা নিজেদের সুন্নি দাবি করলেও ইমাম আলা হযরত আহমদ রেজা খান ব্রেলভি 'হুসামুল হারামাইন' (১৯০৬) গ্রন্থে ৩টি প্রধান পক্ষকে তাকফির (কাফের ঘোষণা) করেন।
সেগুলো হলো:
১. গোলাম আহমদ কাদিয়ানী
২. দেওবন্দি আলেম
৩. ওয়াহাবি/আহলুল হাদিস/সালাফি
[১] কাদিয়ানি:
কাদিয়ানি নবুয়তের মিথ্যা দাবি করে। এজন্য তাকে কাফের ঘোষণা করা হয়।
[২] দেওবন্দি আলেম:
(ক) মাওলানা আশরাফ আলি থানভি 'হিফজুল ঈমান' গ্রন্থে
*অভিযোগ: মহানবী (সা.)-এর 'ইলমে গায়েব' -কে শিশু, উন্মাদ বা পশু-পাখির জ্ঞানের সাথে তুলনা করার অভিযোগ (নবির অবমাননা)।
**দেওবন্দি আলেমদের ব্যাখ্যা:
মূল উদাহরণের উদ্দেশ্য কস্মিনকালেও মহানবি (সা.)-এর মর্যাদা লাঘব করা ছিল না। আশরাফ আলি থানভি নিজে ব্যাখ্যা করেন যে, তিনি বুঝাতে চেয়েছিলেন—অংশবিশেষ বা আংশিক অদৃশ্য জ্ঞান (যা আল্লাহ সৃষ্টিকে দেন) তা তো অন্যান্য সৃষ্টির মধ্যেও কিছু না কিছু থাকতে পারে, কিন্তু আল্লাহ তাআলার মতো সর্বাত্মক অসীম জ্ঞান কেবলই আল্লাহর। শব্দচয়নে ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ থাকায় তিনি পরবর্তীতে শব্দগুলো পরিবর্তন করেন এবং জানান যে, নবীর সম্মানহানিকে তিনি নিজেও কুফরি মনে করেন।
(খ) মাওলানা খলিল আহমদ সাহারানপুরি ও রশীদ আহমদ গাংগুহি 'বরাহিনে কাতিআহ' গ্রন্থে
*অভিযোগ: শয়তান ও ইবলিসের জ্ঞানের পরিধিকে পৃথিবীর ক্ষেত্রে মহানবী (সাঃ)-এর জ্ঞানের চেয়ে প্রশস্ত বলা হয়েছে।
**দেওবন্দি আলেমগণ ব্যাখ্যা দেন যে, এই আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল কুরআন ও হাদিসের স্পষ্ট প্রমাণ সংক্রান্ত। শয়তানের কাজকারবার বা বাহ্যিক বিস্তৃতি সম্পর্কে কিছু স্পষ্ট দলিল রয়েছে, কিন্তু আল্লাহর দেওয়া জ্ঞান ব্যতীত কোনো সৃষ্টির স্বাধীন অসীম জ্ঞান নেই, এ কথা বুঝাতেই আলোচনার অবতারণা হয়েছিল, নবিজি (সা.)-এর মর্যাদা কমানোর জন্য নয়।
(গ) মাওলানা মুহাম্মদ কাসেম নানুতবী 'তাহজিরুন্নাস' গ্রন্থে
*অভিযোগ: মহানবী (সা.) যে শেষ নবি (খাতামুন্নাবিয়্যিন), এই মৌলিক আকাইদকে অস্বীকার বা শিথিল করার অভিযোগ।
**দেওবন্দী আলেমদের ব্যাখ্যা:
মাওলানা নানুতবি গ্রন্থে আলোচনা করেছিলেন যে, মহানবি (সাঃ)-এর 'খাতামিয়্যাত' (সর্বশেষ হওয়া) কেবল জামানাগত (সময়ের দিক থেকে শেষে আসা) নয়, বরং তিনি সত্তাগতভাবেও সকল নবীদের শ্রেষ্ঠ ও শেষ। তিনি স্পষ্ট করেছিলেন যে, তাঁর পর নতুন কোনো নবি আসা অসম্ভব এবং যে তা দাবি করবে, সে কাফের। কিন্তু তাঁর সূক্ষ্ম ও দর্শনভিত্তিক বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল বলে দেওবন্দি আলেমগণ দাবী করেন।
(ঘ) মাওলানা রশীদ আহমদ গাংগোহী 'ফতোয়া-ই-রশিদিয়্যা' গ্রন্থে
*অভিযোগ: "আল্লাহ তাআলা মিথ্যা বলতে সক্ষম" (ইনকান-ই-কিবজ) বা আল্লাহ মিথ্যা বলতে পারেন—এই মতবাদের সমর্থক হিসেবে অভিযুক্ত করা।
**দেওবন্দি আলেমদের ব্যাখ্যা:
এটি 'কুদরতে ইলাহিয়্যা' (আল্লাহর ক্ষমতা) সংক্রান্ত একটি কালাম শাস্ত্রীয় সূক্ষ্ম বিতর্ক ছিল। দেওবন্দী আলেমদের বক্তব্য ছিল: আল্লাহ তাআলার মিথ্যা বলা অসম্ভব এবং তিনি তা থেকে পবিত্র। কিন্তু তিনি যদি কোনো কিছুতে সক্ষম না হন, তবে তাঁর সর্বময় ক্ষমতায় ঘাটতি আসে কি না—এটি ছিল যৌক্তিক ও দার্শনিক আলোচনা, আল্লাহ বাস্তবে মিথ্যা বলেন বা বলবেন এমন বিশ্বাস তাদের ছিল না।
[৩] ওয়াহাবি/আহলুল হাদিস
আল্লাহর জন্য শারীরিক দিক বা সীমা নির্ধারণ (তাজসিম/তাশবিহ) করা এবং বিশ্বমানের সুফি-আলেমদের গণহারে তাকফীর বা বিদআতি বলার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধেই জারি।
ফাতওয়াগুলো নিয়ে ইমাম আহমদ রেজা খান মক্কা ও মদিনার তৎকালীন প্রায় ৩৩ থেকে ৩৫ জন প্রখ্যাত আলেম, মুফতি ও শিক্ষক এই সংকলনে স্বাক্ষর ও অনুমোদন প্রদান করেন।
স্বাক্ষরকারীগণ:
১. শেখ সালেহ কামাল
(মক্কার হানাফি মুফতি)
২. শেখ মুহাম্মদ সাঈদ বাবাসিল
(মক্কার শাফেয়ি মুফতি)
৩. শেখ মুহাম্মদ আবেদ বিন হুসাইন
(মক্কার মালেকি মুফতি)
৪. শেখ আহমদ খাতিব
(মসজিদুল হারামের আলেম ও শিক্ষক)
৫. শেখ মুহাম্মদ আলী বিন হুসাইন আল-মালেকি
৬. শেখ তাজউদ্দিন ইলিয়াস
(মদিনার হানাফি মুফতি)
৭. শেখ ওসমান বিন আবদুস সালাম দাগেস্তানি
৮. শেখ খলিল বিন ইব্রাহিম খারবুতি-সহ আরও অনেকে।
অপরদিকে ১ ও ৩ থেকে কোনো প্রতিত্তোর না-আসলেও ২ নং অর্থাৎ দেওবন্দি আলেম থেকে অভিযুক্ত দেওবন্দি আলেমগণ দৃঢ়ভাবে ঘোষণা দেন যে, তাঁরা এসব বিভ্রান্তিকর আকাইদ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত, তাঁরা মুহাম্মদ (সা.)-কে আল্লাহর শেষ নবি ও সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মনে করেন এবং কোনো আলেম যদি ইচ্ছাকৃতভাবে নবী (সা.)-এর অবমাননা করে, তবে তাকেও তাঁরা কাফের মনে করেন। পরবর্তীতে তাদের আকিদা বিষয়ক বই লিখেন মাওলানা খলিল আহমদ 'আল-মুহান্নাদ আলাল মুফান্নাদ' নামে।
আকিদাগুলো ওপরে বর্ণিত হয়েছে।
তাছাড়া যা যা যুক্ত হলো:
১. নবিজি (সা.) তাঁর রওজা মোবারকে শারীরিকভাবে জীবিত (হায়াতুন্নবি)।
২. ওয়াহাবি বা নজদি আন্দোলন সম্পর্কে অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট করা হয় যে, দেওবন্দী আলেমগণ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব বা নজদি আন্দোলনের অন্ধ অনুসারী নন। দেওবন্দিগণ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের অনুসারী এবং ফিকহে হানাফি ও তাসাউফে বিশ্বাসী, যা সালাফি/ওয়াহাবী মতাদর্শ থেকে ভিন্ন।
৩. মহানবি (সা.)-এর রওজা মোবারক জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করাকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত ও সওয়াবের কাজ (মুস্তাহাব/কাছাকাছি ওয়াজিব) মনে করেন।
৪. দোয়া করার সময় নবিজি (সা.) বা অন্যান্য বুজুর্গ ও নেককার বান্দাদের অসিলা (মাধ্যম) দিয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা জায়েয ও উত্তম।
৫. হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবি। তাঁর পর নতুন কোনো নবী আসার কোনো সুযোগ নেই। যে ব্যক্তি তাঁর পর নতুন নবুয়তের দাবি করবে, সে কাফের ও ইসলাম থেকে খারিজ (মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অবস্থান)।
৬. নবিজির সামান্যতম অবমাননা করাকেও দেওবন্দী আলেমগণ কুফরী মনে করেন। দেওবন্দি আলেমদের বইয়ের যেসব বক্তব্য নিয়ে অবমাননার অভিযোগ তোলা হয়েছিল, সেগুলো ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছিল বলে স্পষ্ট করা হয়।
৭. আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসুল (সাঃ)-কে পূর্বাপর সকল সৃষ্টির চেয়ে সর্বাপেক্ষা বেশি জ্ঞান ও অদৃশ্য বিষয় জানিয়েছেন। তবে অসীম ও স্বাধীন 'কূল্লী ইলমে গায়েব' কেবল একমাত্র আল্লাহ তাআলারই রয়েছে।
পুনশ্চ:
বাংলাদেশে কওমিরা নিজেদেরকে দেওবন্দি দাবি করলেও তারা কখনও সালাফি/ওয়াহাবিদের আকিদা লালন করে, কখনও জামায়েতে ইসলামির আকিদা লালন করে। কিছু কিছু বিষয়ে তাদের আকাবির হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী, মাওলানা কাসেম নানুতবী, মাওলানা আশরাফ আলী থানভী, মাওলানা মুহাম্মদ জাকারিয়া কান্ধলভী, মাওলানা হুসাইন আহমদ মাদানী ও মাওলানা খলিল আহমদ সাহারানপুরী -এঁর আকিদা লালন করে না। কিছু কওমিদের মধ্যে ওয়াহাবিয়্যতের গন্ধ পাওয়া যায়।
অন্যদিকে, ব্রেলভী ধারা থেকে বিচ্যুত হয়ে কিছু কিছু সারাদিন মাজার নিয়ে পড়ে থাকে, মাজার-খানকায়-দরবারে গান-বাজনা, নাচানাচি করে, মাজারে সিজদা দেওয়ার মতো কাজও করে। অথচ এগুলো থেকে আলা হযরত ইমাম আহমদ রেজা খান ব্রেলভী, মাওলানা নাঈম উদ্দিন মুরাদাবাদী, মাওলানা মুস্তফা রেজা খান ও মুফতি আহমদ ইয়ার খান নঈমি থেকে সাবিত নয়। কিছু ব্রেলভিদের মধ্যে শিয়াদের গন্ধ পাওয়া যায়।
আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাত -এর প্রকৃত শাখা কোনটি?
হানাফি? শাফেয়ি? মালেকি? হাম্বলি? ওয়াহাবি? সালাফি? ব্রেলভি? দেওবন্দি? কওমি?
আসল কথা হলো- শরয়ি মাসআলা নিয়ে মাজহাব বিভক্ত, আকিদা নিয়ে শাখা বিভক্ত। কিন্তু এজন্য কোনোদিন হানাফিরা শাফেয়িকে, শাফেয়ি মালেকিকে পথভ্রষ্ট বলেননি। যুগের প্রয়োজনে অনেক আকিদা-সংস্কৃতির জন্ম নেয়, যার কারণে ওয়াহাবি/সালাফি, দেওবন্দি ও ব্রেলভি ধারা ভিন্ন। ইসলামের স্বর্ণযুগে এমনও অনেক আকিদা ছিল না বা রচিত হয়নি, যা তারা মানতেন, করতেন; যা আজ আমাদের মধ্যে বিদ্যমান। এসব নতুন আকিদার কারণে কেউ যদি 'কাফের' হয়ে যায়, তাহলে আগের যুগের তাবেয়ি, তাবে তাবেয়ি, মুজতাহিদ, মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ফকিহ, আলেমগণ 'কাফের' হয়ে যাবেন? কুরআন,হাদিস, ইজমা, কিয়াস (শরীতের মূলনীতি) -এর বাইরে বাকিসব আকিদা পথভ্রষ্ট। উপর্যুক্ত ৭২ দলের মধ্যে শরিয়তের মূলনীতির বাইরে আকিদা লালন করত বলে তারা পথভ্রষ্ট।
আপনি কোন দলের?
- সংগৃহীত
#আকিদা #ইসলাম #ইমান #মূল #বিশ্বাস #কুরআন #হাদিস #মাযহাব #সুন্নি #ব্রেলভি #দেওবন্দি #শিয়া #সালাফি #মাতুরিদি #আশআারি #হানাফি #শাফেয়ি #মালেকি #হাম্বলি #ফিকহ #উসুল
27/08/2026
كل نفس ذائقة الموت....🥲🥹
#বাংলা
27/08/2026
.
#বাংলা
25/08/2026
মাযহাব চারটির ইমামদের মতে ওযুর ফরজ কতটি?
ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে: ওযুর ৪টি ফরজ। এগুলো হলো—
১. মুখমণ্ডল ধৌত করা
২. দুই হাত ধৌত করা
৩. মাথা মাসেহ করা
৪. দুই পা ধৌত করা
এগুলো পবিত্র কুরআনে উল্লেখিত ফরজ।
ইমাম শাফেয়ী (রহ.)-এর মতে: ওযুর ৬টি ফরজ। এগুলো হলো—
১. নিয়ত করা
২. মুখমণ্ডল ধৌত করা
৩. দুই হাত ধৌত করা
৪. মাথা মাসেহ করা
৫. দুই পা ধৌত করা
৬. ধারাবাহিকতা বজায় রাখা (তারতীব)
ইমাম মালেক (রহ.)-এর মতে: ওযুর ৭টি ফরজ। এগুলো হলো—
১. নিয়ত করা
২. মুখমণ্ডল ধৌত করা
৩. দুই হাত ধৌত করা
৪. মাথা মাসেহ করা
৫. দুই পা ধৌত করা
৬. অঙ্গগুলো ভালোভাবে ঘষে ধোয়া (দালক)
৭. ধারাবাহিকতা বজায় রাখা/একটির পর আরেকটি করতে দীর্ঘ বিরতি না দেওয়া (মুওয়ালাত)
ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.)-এর মতে: ওযুর ৭টি ফরজ। এগুলো হলো—
১. নিয়ত করা
২. মুখমণ্ডল ধৌত করা
৩. দুই হাত ধৌত করা
৪. মাথা মাসেহ করা
৫. দুই পা ধৌত করা
৬. ধারাবাহিকতা বজায় রাখা (তারতীব)
৭. ধারাবাহিকভাবে করা (মুওয়ালাত)
#الوضوء #فرض #مذهب
23/08/2026
☞রাসুলুল্লাহ ﷺ হিরাক্লিয়াসের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন—এটি সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। সহিহ বুখারি ও মুসলিমে আবু সুফিয়ান (রা.)-এর বর্ণিত দীর্ঘ হাদিসে চিঠিটির বক্তব্যও এসেছে।
-ছবিটির আরবি চিঠি টি হরকত সহ অর্থসহ;
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
مِنْ مُحَمَّدٍ عَبْدِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ إِلَى هِرَقْلَ عَظِيمِ الرُّومِ.
سَلَامٌ عَلَى مَنِ اتَّبَعَ الْهُدَى.
أَمَّا بَعْدُ، فَإِنِّي أَدْعُوكَ بِدِعَايَةِ الْإِسْلَامِ، أَسْلِمْ تَسْلَمْ، وَأَسْلِمْ يُؤْتِكَ اللَّهُ أَجْرَكَ مَرَّتَيْنِ، وَإِنْ تَوَلَّيْتَ فَإِنَّ عَلَيْكَ إِثْمَ الْأَرِيسِيِّينَ.
وَيَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَىٰ كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلَّا نَعْبُدَ إِلَّا اللَّهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلَا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ، فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُولُوا اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ.
★ অনুবাদ:
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
“আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল মুহাম্মদ-এর পক্ষ থেকে রোমের সম্রাট হিরাক্লিয়াসের প্রতি।
যে ব্যক্তি হেদায়াতের অনুসরণ করে, তার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক।
অতঃপর, আমি তোমাকে ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছি। ইসলাম গ্রহণ করো, নিরাপদ থাকবে। ইসলাম গ্রহণ করো, আল্লাহ তোমাকে দ্বিগুণ প্রতিদান দেবেন। আর যদি তুমি মুখ ফিরিয়ে নাও, তাহলে আরিসিয়্যীনদের পাপও তোমার ওপর বর্তাবে।
হে আহলে কিতাব! এসো এমন একটি কথার দিকে, যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে সমান—আমরা আল্লাহ ছাড়া কারো ইবাদত করব না, তাঁর সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক করব না এবং আমাদের কেউ আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে রব হিসেবে গ্রহণ করব না। অতঃপর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহলে বলো—তোমরা সাক্ষী থাকো যে, আমরা মুসলিম।”
↓↓
মূল ঘটনা ও ইতিহাস:
👉 রোম স'ম্রাট হিরাক্লিয়াস একবার রসূল (সা.)-এর চিঠি পান। তাকে ইসলামের দাওয়াত দেন নবীজি (ﷺ)।
কিন্তু হিরাক্লিয়াস ক্ষ''মতার মোহে ইসলাম গ্রহণ করলেন না। তবে নবীজির চিঠির প্রতি চ'রম সম্মান প্রদ'র্শন করলেন।
তারপর বহু শতাব্দী কেটে যায়। একদিন স্পেনের এক খ্রি'ষ্টান রাজার দরবারে এক মুসলিম দূত যান। রাজা তাকে একটি সোনার কৌটা দেখান, যার ভেতরে রেশমি কাপড়ে মোড়ানো একটি চিঠি ছিল।
রাজা মুসলিম দূতকে বললেন, "এটি তোমাদের নবীর সেই চিঠি, যা তিনি আমার পূর্বপুরুষ হিরাক্লিয়াসকে পাঠিয়েছিলেন। আমরা বংশপরম্পরায় এটি সয'ত্নে রক্ষা করে আসছি। মাশাআল্লাহ
আমাদের পূর্বপুরুষদের অসিয়ত ছিল, "যতদিন এই চিঠি আমাদের কাছে সয'ত্নে সংরক্ষিত থাকবে, ততদিন আমাদের রাজ'ত্বও টিকে থাকবে।"
বিখ্যাত মুহাদ্দিস হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) তাঁর 'ফাতহুল বারি' গ্রন্থে এই চমৎকার ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন।
এটারও প্রায় হাজার বছর পর, সময়টা ১৮৫০ সালের দিককার কথা। মিশরের আখমিম (Akhmim) অঞ্চল। সেখানকার একটি প্রাচীন কপটিক মঠের লাইব্রেরিতে পুরোনো নথিপত্র ঘাঁটছিলেন এক ফরাসি গবেষক।
ধুলোপড়া, জরাজীর্ণ অসংখ্য পাণ্ডুলিপির ভিড়ে হঠাৎ তার চোখে পড়ে একটি পুরোনো পার্চমেন্ট বা চামড়ার টুকরো।
চামড়ার টুকরোটি হাতে নিতেই তার মনে হলো, এটি সাধারণ কোনো পাণ্ডুলিপি নয়। বিবর্ণ হয়ে যাওয়া কালির অক্ষরগুলো যেন কোনো এক হা'রানো ইতি'হাসের কথা বলতে চাইছে।
গভীর কৌতূহল নিয়ে শুরু হলো প'রীক্ষা-নি'রীক্ষা। আর সেই দীর্ঘ গবেষণার পর যে সত্য বেরিয়ে এলো, তাতে পুরো বিশ্ব রীতিমতো স্ত'ব্ধ হয়ে গেল!
জানা গেল, ধুলোয় পড়ে থাকা এই পার্চমেন্টটি অন্য কিছু নয়, এটি স্বয়ং রসূল (সা.)-এর সেই মূল চিঠি, যা তিনি মিশরের তৎকালীন শাসক মুকাউকিসকে পাঠিয়েছিলেন!
কালের পরিক্রমায় চিঠিটি হয়তো হাতবদল হতে হতে সেই মঠের নির্জন পাঠাগারে আশ্রয় নিয়েছিল। শত শত বছর পার হওয়ার পরও চিঠির নিচে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল সেই পবিত্র সিলমোহর, যেখানে লেখা— ‘মুহাম্মাদ রসূলুল্লাহ’।
(ﷺ)
এই অভাবনীয় আবি'ষ্কারের পর চিঠিটি আর সাধারণ কোনো সংগ্রহশালায় রাখা হয়নি। পরম শ্র'দ্ধায় এটিকে উসমানীয় সুলতান আব্দুল মজিদের কাছে হস্তা'ন্তর করা হয়।
বর্তমানে এই পবিত্র চিঠিটি তুর'স্কের ইস্তা'ম্বুলে অবস্থিত বিখ্যাত 'তোপকাপি প্যালেস মিউজিয়াম'-এ অত্যন্ত সুরক্ষিত অবস্থায় সংরক্ষিত আছে। মাশাআল্লাহ্
শুধু মুকাউকিসের কাছে পাঠানো চিঠিটিই নয়, নবীজির আমলে লেখা এমন আরও বেশ কয়েকটি অমূল্য চিঠি কালের গণ্ডি পেরিয়ে আজ বিশ্বের বিভিন্ন মিউজিয়ামে সযত্নে সংরক্ষিত রয়েছে। মাশাআল্লাহ
(আল্ল-হু আকবার)
(ﷺ)(ﷺ)(ﷺ)(ﷺ)(ﷺ)(ﷺ)
#রোমসম্রাটহিরাক্লিয়াস
23/08/2026
☞ সকলের জানার সুবিধার্থে, প্রথমে হরকত সহ আরবিতে এরপর সম্পূর্ণ বাংলা তে তুলে ধরেছি।
–মুখস্ত করে রাখুন!
أَصْحَابُ الْكُتُبِ السِّتَّةِ:
الْبُخَارِيُّ: أَبُو عَبْدِ اللهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيُّ
مِنْ بُخَارَى — أُوزْبَكِسْتَانُ.
مُسْلِمٌ: أَبُو الْحُسَيْنِ مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ بْنِ مُسْلِمِ بْنِ وَرْدٍ بْنِ كَوْشَاذَ الْقُشَيْرِيُّ.
مِنْ نَيْسَابُورَ — إِيرَانُ.
التِّرْمِذِيُّ: مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى بْنِ سَوْرَةَ بْنِ مُوسَى بْنِ الضَّحَّاكِ، السُّلَمِيُّ التِّرْمِذِيُّ، أَبُو عِيسَى.
مِنْ تِرْمِذَ — أُوزْبَكِسْتَانُ.
أَبُو دَاوُدَ: سُلَيْمَانُ بْنُ الْأَشْعَثِ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ بَشِيرٍ الْأَزْدِيُّ السِّجِسْتَانِيُّ.
مِنْ سِجِسْتَانَ — شَرْقُ إِيرَانَ.
النَّسَائِيُّ: أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَحْمَدُ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ سِنَانَ بْنِ بَحْرٍ بْنِ دِينَارٍ.
مِنْ نَسَا — تُرْكْمَانِسْتَانُ.
ابْنُ مَاجَهْ: أَبُو عَبْدِ اللهِ مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ بْنِ مَاجَهْ الرَّبْعِيُّ الْقَزْوِينِيُّ.
مِنْ قَزْوِينَ — إِيرَانُ.
☜ أَصْحَابُ الْكُتُبِ السِّتَّةِ، وَلَا فِيهِمْ عَرَبِيٌّ، وَكَانُوا حُفَّاظًا لِأَحَادِيثِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
বাংলায়:
ছয়টি প্রসিদ্ধ হাদিস গ্রন্থের ইমামগণ:
১. ইমাম বুখারী:
আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনু ইসমাঈল আল-বুখারী।
তিনি বুখারা, উজবেকিস্তান থেকে।
২. ইমাম মুসলিম:
আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ ইবনু মুসলিম ইবনু ওয়ারদ ইবনু কাওশায আল-কুশায়রী।
তিনি নিশাপুর, ইরান থেকে।
৩. ইমাম তিরমিযী:
মুহাম্মদ ইবনু ঈসা ইবনু সাওরাহ ইবনু মূসা ইবনুদ দাহহাক, আস-সুলামী আত-তিরমিযী, আবু ঈসা।
তিনি তিরমিয, উজবেকিস্তান থেকে।
৪. ইমাম আবু দাউদ:
সুলাইমান ইবনুল আশআস ইবনু ইসহাক ইবনু বাশীর আল-আযদী আস-সিজিস্তানী।
তিনি সিজিস্তান, পূর্ব ইরান থেকে।
৫. ইমাম নাসাঈ:
আবু আবদুর রহমান আহমদ ইবনু শু‘আইব ইবনু আলী ইবনু সিনান ইবনু বাহর ইবনু দীনার।
তিনি নাসা, তুর্কমেনিস্তান থেকে।
৬. ইমাম ইবনু মাজাহ:
আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনু ইয়াযীদ ইবনু মাজাহ আর-রাব‘ঈ আল-কাযভীনী।
তিনি কাযভীন, ইরান থেকে।
☞নোটঃ
ছয়টি প্রসিদ্ধ হাদিস গ্রন্থের ইমামদের মধ্যে কেউই আরব ছিলেন না। অথচ তাঁরা নবী ﷺ-এর হাদিসের মহান হাফিজ ও সংরক্ষণকারী ছিলেন।
#الحديث #الكتب #الستة
ইলম, আমলের চেয়ে উত্তম
রাসূলে আকরাম صلى الله عَلَيْهِ وَآلِهِ وسلم ইরশাদ করেন: নিশ্চয়ই তোমরা এমন এক যুগে আছো যার মধ্যে আলিমদের সংখ্যা বেশি, ক্বারী এবং খতিবদের (বক্তাদের) সংখ্যা কম। দানকারী বেশি এবং সাহায্য প্রার্থনাকারী কম। শীঘ্রই মানুষের উপর এমন এক সময়ও আসবে যখন আলিমদের সংখ্যা কম এবং খতিবদের (বক্তাদের) সংখ্যা বেশি হবে। দানকারী কম এবং ভিক্ষুকের সংখ্যা বেশি হবে। সেই যুগে আমলের চেয়ে ইলম (জ্ঞান অর্জন করা) উত্তম হবে। (মু'জামু কবীর, ৩/১৯৭, হাদিস: ৩১১১। এহইয়াউ উলূমিদ্দীন, ১/৪৮)
14/08/2026
নস থেকে মানশায়ে ইলাহী অনুসন্ধানের প্রাথমিক ও নির্ভরযোগ্য সোপান— "মাবাদিউল উসূল"।
تأليف: العلامة الشيخ سعيد أحمد البالَنْبُورِي رحمه الله
عناية وتحقيق: الشيخ عبد المجيد التُّرْكُماني حفظه الله
আমরা আগের আলোচনাগুলো থেকে জানতে পেরেছি যে, “উসূলুল ফিকহ এমন এক মহান শাস্ত্র, যার মাধ্যমে একজন তালিবে ইলম কেবল ফিকহী মাসআলা অর্জন করেন না; বরং নুসূসের ফাহম, দালালাতের ইদরাক, ইস্তিদলালের মানহাজ এবং ইস্তিম্বাতের উসূল ও যাওয়াবিত সম্পর্কে একটি সুসংহত দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করেন”।
❇️ কিন্তু এই মহান শাস্ত্রে একজন প্রাথমিক তালিবে ইলমের প্রবেশ অনেক সময় সহজ হয় না। বিশেষত «أصول الشاشي» নিঃসন্দেহে একটি উপকারী ও সমৃদ্ধ কিতাব হলেও এর প্রাচীন রচনাশৈলী, বিচ্ছিন্নভাবে বিন্যস্ত মাবাহিস এবং বিভিন্ন ধরনের উদাহরণের কারণে একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ের ছাত্রের জন্য এর পাঠ কিছুটা দুরূহ হয়ে ওঠে। আবার আমাদের নেসাবে তালীমে এর আগে এই শাস্ত্রের প্রাথমিক কোনো কিতাবও পরিলক্ষিত হয় না।
সেই শূন্যতা পূরণে দারুল উলূম দেওবন্দের শায়খুল হাদীস ও সদরুল মুদাররিসীন, আল্লামা সাঈদ আহমদ পালনপুরী (রহ.) রচনা করেছেন এক অনন্য কিতাব, "মাবাদিউল উসূল”
তিনি কিতাবের ভূমিকায় বলেন—
««فكان من الواجب أن يُدَرَّس قبله كتابٌ يُسهِّل طريقه، ويقرِّب محتواه، ويمهِّد لمعناه، فوضعتُ هذا الكتاب رجاء أن يملأ الفراغ.»»
অর্থাৎ—«উসূলে শাশী» অধ্যয়নের পূর্বে এমন একটি কিতাব থাকা প্রয়োজন, যা তার পথে প্রবেশকে সহজ করবে, বিষয়বস্তুকে নিকটবর্তী করবে এবং তার মর্ম অনুধাবনের জন্য ভূমি প্রস্তুত করবে। এই শূন্যতা পূরণের আশাতেই আমি এই কিতাবটি রচনা করেছি।
অতএব, «مبادئ الأصول» তিনি এই কিতাবটিকে উসূলুশ শাশীর একটি সুগম ও আধুনিক "মাবাদিউ" বা ভূমিকা হিসেবে সংকলন করেছেন
📖 কিতাবটির রচনাভঙ্গি ও ইলমী ভিত্তি হলো:-
«أصول الشاشي»
«تسهيل أصول الشاشي»
«نور الأنوار»
«كشف الأسرار» شرح المصنف على المنار
وغير ذلك من الكتب الأصولية المعتمدة
🖋️ তবে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল কেবল পূর্ববর্তী কিতাবগুলোর পুনরাবৃত্তি করা নয়; বরং একজন مبتدئ طالب العلم-এর জন্য উসূলী মাবহিসের এমন একটি প্রাথমিক কাঠামো তৈরি করা, যার মাধ্যমে সে ধীরে ধীরে উসূলের পরিভাষা, কাওয়ায়েদ ও মানহাজের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে।
অর্থাৎ—
المصطلح ← التصور ← الفهم ← التطبيق ← التدرج في الاستنباط
পরিভাষা থেকে সঠিক তাসাওউর, তাসাওউর থেকে ফাহম, ফাহম থেকে তাতবীক এবং ধীরে ধীরে ইস্তিম্বাতের দিকে অগ্রসর হওয়াই যেন কিতাবটির শিক্ষণ-পদ্ধতির অন্তর্নিহিত লক্ষ্য।
✨ তাহকীক ও ইলমী ই‘তিনা
— الشيخ عبد المجيد التُّرْكُماني
কিতাবটির প্রতি আমার বিশেষ আগ্রহের অন্যতম কারণ হলো, শায়খ আব্দুল মাজিদ তুরকুমানী হাফিযাহুল্লাহর তাহকীক ও ইলমী সংযোজন।
তিনি কেবল মূল নসকে সম্পাদনা করে মুদ্রণযোগ্য করেননি; বরং একজন তালিবে ইলমের ফাহম, কিরাআত ও দিরাসাতের প্রয়োজন সামনে রেখে কিতাবটির সঙ্গে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ সংযোজন করেছেন।
তাঁর নিজের বক্তব্য অনুযায়ী তিনি—
🔹 এই ইলমের প্রয়োজনীয় مبادئ নিয়ে একটি ভূমিকা সংযোজন করেছেন।
🔹 প্রয়োজনীয় স্থানে عناوين جانبية ও নম্বরায়ন করেছেন, যাতে মাবহিসের কাঠামো স্পষ্ট হয়।
🔹 শব্দ ও উসূলী ইসতিলাহগুলোতে ব্যাপকভাবে ضبط بالشكل করেছেন—যাতে তালিবে ইলমের মধ্যে সঠিক উচ্চারণ ও কিরাআতের অভ্যাস তৈরি হয়।
🔹 বিভিন্ন ইসতিলাহের লুগাবী তা‘রীফ ও ব্যাখ্যা সংযোজন করেছেন।
🔹 মূল বক্তব্যের পরিপূরক تعليقات وفوائد যুক্ত করেছেন এবং বক্তব্যগুলোকে সংশ্লিষ্ট মাসাদির ও মারাজি‘-এর দিকে ই‘যাও করেছেন।
🔹 তবে অপ্রয়োজনীয় ইতনাব থেকে বেঁচে, মূলত যা একজন তালিবে ইলমের জন্য জানা জরুরি—সেটুকুকেই সামনে রেখেছেন।
এই সংযোজনগুলোর কারণে কিতাবটি শুধু একটি সংক্ষিপ্ত কিতাব হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং প্রাথমিক স্তরের তালিবে ইলমের জন্য একটি অধিক কার্যকর দিরাসী নুসখা হয়ে উঠেছে।
📝 প্রাথমিক তালিবে ইলমের জন্য কেন বিশেষভাবে উপকারী?
উসূলুল ফিকহের ক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা হলো, শুরুতেই যদি ছাত্রকে ভারী ইসতিলাহ, বিস্তৃত মাবহিস এবং জটিল ইবারতের মুখোমুখি করা হয়, তাহলে অনেক সময় তার মধ্যে ফাহমের পরিবর্তে ইসতিলাহের ভীতি তৈরি হয়।
«مبادئ الأصول»-এর সৌন্দর্য হলো, এটি উসূলী শাস্ত্রের গাম্ভীর্য অক্ষুণ্ণ রেখেও প্রাথমিক স্তরের তালিবে ইলমের জন্য প্রবেশপথকে তুলনামূলকভাবে সুগম করেছে।
বিশেষত যারা—
• উসূলুল ফিকহের পাঠ একেবারে শুরু করছেন;
• «أصول الشاشي» পাঠের পূর্বপ্রস্তুতি নিতে চান;
• উসূলী ইসতিলাহ ও মাবহিসের একটি মৌলিক তাসাওউর তৈরি করতে চান;
• এবং ভবিষ্যতে نور الأنوار، ইত্যাদি উচ্চতর হানাফী উসূলী কিতাব অধ্যয়নের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে চান—
তাদের জন্য এটি যথেষ্ট উপকারী একটি কিতাব হতে পারে।
📃 আমার ব্যক্তিগত পাঠ-অনুভূতি ও পরামর্শ
কিতাবটি আমার কাছে বিশেষভাবে ভালো লেগেছে এর সহজতা, সংক্ষিপ্ততা, ইলমী তারতীব এবং তাহকীকী সংযোজনের সমন্বয়ের কারণে।
বিশেষ করে শায়খ আব্দুল মাজিদ তুরকুমানী হাফিযাহুল্লাহর সংযোজিত তাশকীল, ইসতিলাহের ব্যাখ্যা, হাশিয়া, তা‘লীক, ফাওয়ায়েদ ও মারাজি, প্রাথমিক তালিবে ইলমের জন্য কিতাবটির উপযোগিতা অনেকখানি বাড়িয়ে দিয়েছে বলে আমার মনে হয়েছে।
তাই যারা উসূলুল ফিকহের পথে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করছেন, তাদেরকে কিতাবটি সংগ্রহ করে উস্তাদের তত্ত্বাবধানে অধ্যয়ন করার আন্তরিক পরামর্শ দেব।
«من أحسنَ الدخولَ في الأصول، حَسُنَ له التدرُّجُ في الفروع.»
আল্লাহ তাআলা মুসান্নিফ আল্লামা সাঈদ আহমদ পালনপুরী রহ. এবং মুহাক্কিক শায়খ আব্দুল মাজিদ তুরকুমানী হাফিযাহুল্লাহর এই ইলমী খিদমত কবুল করুন, এতে বারাকাহ দান করুন এবং আমাদেরকে উসূলী ফাহম, দিক্কাতুন নযর ও বাসীরাতের সঙ্গে ইলম অর্জনের তাওফীক দান করুন। আমীন।
✒️ রিয়াজুল হাসান বিন সাখাওয়াত উল্লাহ
মুতাখাসসিস ফি উসূলিল ফিকহি ওয়াল ইফতা
“ঢাকা মাসনা মাদ্রাসা”, খিলক্ষেত, ঢাকা।
📍 সৌজন্যে: উসূলুল ফিকহিল হানাফী
৩০/০২/১৪৪৮হি.
–সংগৃহীত
Category
Website
Address
Chattogram
4221
Alerts
Be the first to know and let us send you an email when THT Family posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.