SFI Ranaghat

SFI Ranaghat

Share

To achieve the democratic rights of the student community ....

The Students' Federation of India inherits with pride the anti- imperialist, patriotic, secular, democratic, and progressive legacy of the Indian people's struggle for national liberation from the British colonial rule. It carries forward the heritage of the progressive student movement of our country which has always considered itself an inseparable part of the broader struggle for social transfo

03/09/2021

স্বাধীনতা সংগ্রামী লোকনাথ বল কে জানাই প্রয়াণ দিবসে বিনম্র শ্রদ্ধার্ঘ্য🇮🇳🇮🇳🇮🇳🇮🇳🇮🇳

লোকনাথ বল ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন মহান বিপ্লবী। জালালাবাদ যুদ্ধের নেতৃত্ব ইনিই দিয়েছিলেন। লোকনাথ বল, মহান বিপ্লবী নেতা মাস্টারদা সূর্য সেনের সশস্ত্র বিপ্লবী সদস্য ছিলেন। লোকনাথ বল মহান ঐতিহাসিক ঘটনা চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার দখলে অংশগ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি ভারতীয় কংগ্রেসে যোগ দেন। ভারতের স্বাধীনতার পর তিনি কলকাতা পৌরসংস্থায় প্রসাসনিক কর্মকর্তা হিসাবে যোগ দেন এবং আমৃত্যু সেখানে ছিলেন। এবার চলো শুনে নেওয়া যাগ লোকনাথ বলের সংক্ষিপ্ত জীবনী। লোকনাথ বল ৮ মার্চ ১৯০৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্মস্থান হলো চট্টগ্রাম জেলার ধরলা গ্রাম। তার পিতার নাম ছিল প্রাণকৃষ্ণ বল।

লোকনাথ বল দেশের স্বাধীনতার জন্য মাস্টারদা সূর্য সেন এর বিপ্লবী দলে যোগ দেন। একসময় সূর্য সেনের নেতৃত্বে ১৮ ই এপ্রিল ১৯৩০ সালে চট্টগ্রামে অবস্থিত অস্ত্রাগার লুন্ঠনে তিনি অংশগ্রহণ করেন। সেদিনের এই অভিযানের শেষে তারা জালালাবাদ পাহাড়ে গিয়ে তারা আশ্রয় নেন। সেখানে তারা দু-তিনদিন কাটার পর ২২ শে এপ্রিল ১৯৩০ সালে আরো একটি যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। এই যুদ্ধে মোট ১১ জন স্বাধীনতা সংগ্রামী শহীদ হন, তাদের মধ্যে লোকনাথ বলের ছোট ভাই হরিগোপাল বল ( টেগরাও ) শহীদ হন। লোকনাথ সেখান থেকে পালাতে সক্ষম হয়।

লোকনাথ বল জালালাবাদ পাহাড় থেকে পালিয়ে ফরাসীদের এলাকা চন্দননগর পৌঁছান। সেখানে ১ লা সেপ্টেম্বর ১৯৩০ সালে তিনি ও গনেশ ঘোষ ব্রিটিশ পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের পর গ্রেপ্তার হন এসময় তার সহযোগী জীবন ঘোষাল মারা যান। ১৯৩২ সালে তাকে নির্বাসনে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জর পোর্ট ব্লেয়ারে অবস্থিত সেলুলার জেলে পাঠানো হয়। ১৯৪৬ সালে মুক্তির পরে তিনি মানবেন্দ্রনাথ রায় প্রতিষ্ঠিত র‌্যাডিক্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টিতে যোগ দেন। পরে তিনি ভারতীয় কংগ্রেসে যোগ দেন।

লোকনাথ বল স্বাধীনতার পর ১ই মে ১৯৫২ থেকে ১৯ শে জুলাই ১৯৬২ সাল পর্যন্ত কলকাতা পৌরসংস্থায় দ্বিতীয় উপকমিশনার ছিলেন। ২০ শে জুলাই ১৯৬২ সালে তিনি ১ম উপ কমিশনারে পদোন্নতি পান। শেষে লোকনাথ বল ৪ ঠা সেপ্টেম্বর ১৯৬৪ সালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

(তথ্যসূত্র সংগৃহীত)

01/09/2021

স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং বিপ্লবী
শহীদ অনাথবন্ধু পাঁজা (জন্মঃ- ২৯ অক্টোবর, ১৯১১ - মৃত্যুঃ- ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৩) এর অাত্মবলিদান দিবসে তাঁকে জানাই শ্রদ্ধার্ঘ্য ও শত শত বৈপ্লবিক অভিনন্দন🇮🇳🇮🇳🇮🇳🇮🇳🇮🇳🇮🇳🇮🇳

অনাথবন্ধু ছিলেন বিপ্লবী দল বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্সের সক্রিয় সদস্য। পেডি ও ডগলাস নিহত হবার পর বার্জ নামে এক চরম অত্যাচারী ইংরেজ মেদিনীপুরের ম্যাজিস্ট্রেট হয়ে আসেন। ১৯৩৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর শ্বেতাঙ্গ ম্যাজিস্ট্রেট বার্জ মেদিনীপুর কলেজ মাঠে মোহামেডান স্পোর্টিং-এর বিরুদ্ধে মেদিনীপুর ক্লাবের হয়ে ফুটবল খেলতে নামেন। খেলা প্র্যাকটিসের ছল করে বল নিয়ে মাঠে নামেন অনাথবন্ধু ও মৃগেন্দ্রনাথ দত্ত। মাঠেই দুই বন্ধু বার্জকে আক্রমণ করলে তিনি মারা যান। জোন্স নামে একজন আহত হন। পুলিস প্রহরী দুজনের উপর পাল্টা গুলি চালায়। এতে অনাথবন্ধু ঘটনাস্থলেই এবং মৃগেন্দ্রনাথ পরদিন মারা যান এবং অপর সঙ্গীরা পলায়ন করতে সক্ষম হন। এই ঘটনার পর ব্রজকিশোর চক্রবর্তী, রামকৃষ্ণ রায়, নির্মলজীবন ঘোষ, নন্দদুলাল সিং, কামাখ্যা ঘোষ, সুকুমার সেন, সনাতন রায়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের মামলা হয়। বিচারে ব্রজকিশোর, রামকৃষ্ণ ও নির্মলজীবনের ফাঁসি হয় মেদিনীপুর সেন্ট্রাল জেলে। নন্দদুলাল, কামাখ্যা ঘোষ, সুকুমার সেন এবং সনাতন রায়-এর যাবজ্জীবন দ্বীপান্তর দণ্ড হয়।

জন্ম শিক্ষাজীবন
অনাথবন্ধু পাঁজার জন্ম মেদিনীপুরের জেলার জলবিন্দুতে। তাঁর পিতার নাম সুরেন্দ্রনাথ পাঁজা। অনাথবন্ধু মেদিনীপুর টাউন স্কুলের ছাত্র ছিলেন। মেদিনীপুর গোপন বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স দলে যুক্ত হয়ে রিভলভার চালনা শেখার জন্য তিনি এবং মৃগেন্দ্রনাথ, নির্মলজীবন ঘোষ, ব্রজকিশোর চক্রবর্তী, ও রামকৃষ্ণ রায় কলকাতায় যান। শিক্ষাশেষে পাঁচটি রিভলভারসহ তাঁরা মেদিনীপুরে ফিরে আসেন। এই সময়ে মেদিনীপুরের ম্যাজিস্ট্রেট বার্জ বিপ্লবীদের প্রতি অকথ্য নির্যাতন শুরু করলে উক্ত পাঁচজন যুবকের উপর বার্জ হত্যার দায়িত্ব অর্পিত হয়।...............
তথ্য সংগৃহীত - প্রতাপ সাহা

31/08/2021

স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং বিপ্লবী
শহীদ জীবন ঘোষাল (জন্মঃ- ২৬ জুন, ১৯১২ - মৃত্যুঃ- ১ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০) এর অাত্মবলিদান দিবসে তাঁকে জানাই শ্রদ্ধার্ঘ্য ও ভালোবাসা🇮🇳🇮🇳🇮🇳🇮🇳🇮🇳
ছাত্রাবস্থায় চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার দখলের কার্যক্রমে তিনি অংশগ্রহণ করেন। সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক সূর্যসেনের নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী আইরিশ বিপ্লবীদের 'ইস্টার বিদ্রোহের' স্মৃতি বিজড়িত 'গুডফ্রাইডের' দিনে, ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল রাত দশটায়, চট্টগ্রামে বিপ্লবীদের অত্যন্ত সুপরিকল্পিত অভিযান শুরু করার বিষয়ে বিপ্লবীদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পূর্ব-পরিকল্পনা অনুসারে প্রয়োজনীয় অস্ত্র সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল চট্টগ্রামের বিভিন্ন অস্ত্রাগার দখলের কর্মসূচি গ্রহণ করেন বিপ্লবীরা। রাতে বিপ্লবীরা সশস্ত্র অভ্যুত্থানের মাধ্যমে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার দখল করেন। বিপ্লবীরা একের পর এক অতর্কিত আক্রমণ করে সরকারি অস্ত্রাগার, টেলিফোন কেন্দ্র, টেলিগ্রাফ ভবনসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে নেন, যা ছিল দেড়শত বছরের ইতিহাসে ইংরেজদের জন্য খুবই অপমানজনক ঘটনা। এটি ছিল সরাসরি ইংরেজ বাহিনীর প্রথম পরাজয়।
চারদিন পরে ২২ এপ্রিল বিকেল বেলা বিপ্লবীদের সাথে জালালাবাদের যুদ্ধে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ৮০ জন সেনা মারা যান। এদিকে বিপ্লবীরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন, কিন্তু জীবন ঘোষাল আর বিপ্লবীদের সাথে সাক্ষাতের সময় পাননি। পরে তৎকালীন নোয়াখালী জেলার ফেনী রেল স্টেশনে জীবন ঘোষাল ধরা পড়েন কিন্তু পুলিস হাজত থেকে পালিয়ে গিয়ে আত্মগোপন করেন। কলকাতার পুলিস কমিশনার চার্লস টেগার্ট সাহেব পরিচালিত পুলিশবাহিনীর সংগে চন্দননগরে এক সশস্ত্র সংঘর্ষে আহত হয়ে মারা যান।
জীবন ঘোষালের জন্ম চট্টগ্রামের সদরঘাটে। তাঁর পিতার নাম যশোদা ঘোষাল। তাঁর প্রকৃত নাম মাখনলাল। পড়াশোনায় ছিলেন জীবন ঘোষাল প্রথম শ্রেণীর ছাত্র। ইন্টারমিডিয়েটের প্রথম বার্ষিক শ্রেণীতে পড়তেন, তখন তিনি বিপ্লবী দলে যোগদান করেছিলেন।...................
তথ্য সংগ্রাহক - প্রতাপ সাহা.........

30/08/2021

প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি, ভারতরত্ন প্রণব মুখোপাধ্যায় কে প্রথম প্রয়াণদিবসে জানাই শ্রদ্ধার্ঘ্য🙏

30/08/2021

✊✊✊✊✊৩১ আগস্ট ১৯৫৯
ঐতিহাসিক খাদ্য আন্দোলন।
মনুমেন্টের পাদদেশে প্রায় ৩ লক্ষ মানুষের সমাবেশ।
কলকাতার সমস্ত রাজপথ শহরের মধ্যবিত্ত এবং গ্রামের নিরন্ন কৃষকদের দখলে চলে যায়। জ্যোতি বসু সহ বাম নেতৃবৃন্দ কারারুদ্ধ হন। মুখ্যমন্ত্রী ডঃ বিধানচন্দ্র রায়ের নির্দেশে চারিদিকের পথ বন্ধ করে পুলিশ বেপরোয়া লাঠি চালানো শুরু করে। ফলে কলকাতার পথঘাট সম্পর্কে অনবহিত ৮০ জন দরিদ্র নিরন্ন গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়, ১০০ জন নিখোঁজ, কয়েক হাজার আহত ও প্রায় ২০০০ জন গ্রেপ্তার হন। পরের দিন, ১ সেপ্টেম্বর বিধান রায়ের বাড়ির সামনে ছাত্রদের মিছিল ও অবরোধের ওপর পুলিশের নির্মম হামলা হলে সারা বাংলায় ২ সেপ্টেম্বর ছাত্র ধর্মঘট হয়। ৩ সেপ্টেম্বর পশ্চিম বঙ্গ জুড়ে সর্বাত্মক সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়।
প্রতি বছর ৩১ আগস্ট খাদ্য আন্দোলনের শহিদদের স্মৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন করা হয়।

29/08/2021

বিপ্লবী কানাইলাল দত্ত ছিলেন সেই বাঙালি দেশপ্রেমিক যিনি ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, 'আমার মুখ কালো করবেন না'। দাবি মতো, তাঁর মুখ ঢাকা হয়নি কালো কাপড়ে। নিজের ফাঁসির দড়ি নিজেই ঠিকঠাক করে গলায় বসিয়েছিলেন। মৃত্যুর চোখে চোখ রেখে দাঁড়িয়েছিলেন শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত। আজ সেই বাঙালির শুভ জন্মদিন।ভুলে যাওয়া এই বাঙালি বিপ্লবীকে নতুন করে অাজ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সহিত স্মরণ করে নেওয়া যাক🇮🇳🇮🇳🇮🇳🇮🇳🇮🇳🇮🇳

জন্মাষ্টমীর রাতে জন্ম, আদর করে তাই দত্ত পরিবার ছেলের নাম রেখেছিল কানাইলাল। ১৮৮৮ সালের ৩০ শে অাগস্ট অর্থাৎ অাজকের দিনে‚ সাবেক চন্দরনগরে (চন্দননগর)। তখনও সেখানে ফরাসি আধিপত্য। বাবা চুনীলাল দত্ত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী। শৈশবে বম্বে চলে যেতে হয় কানাইলালকে, সেখানে কর্মরত ছিলেন তাঁর বাবা। ষোল বছর বয়সে ফিরে আসেন জন্মস্থানে। ভর্তি হন দুপ্লে কলেজে। বিএ পরীক্ষা দেন হুগলি মহসিন কলেজ থেকে। তখন এই কলেজ ছিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে।

কলেজে পড়ার সময় প্রখ্যাত বিপ্লবী চারুচন্দ্র রায়ের সান্নিধ্যে আসেন কানাইলাল। পেয়েছিলেন বিপ্লববাদে দীক্ষিত অধ্যাপক জ্যোতিষ চন্দ্র ঘোষকে। স্বাধীনতার যুদ্ধে শরিক হতে কলকাতায় চলে আসেন কানাইলাল। যোগ দেন অনুশীলন সমিতিতে।

১৯০৮ সালে কিংসফোর্ড হত্যার জেরে গ্রেফতার করা হয় বহু বিপ্লবীকে। বন্দিদের মধ্যে ছিলেন কানাইলাল দত্তও আলিপুর জেলে । সারা দেশ তখন উত্তাল স্বাধীনতা আন্দোলনে । সংবাদের শিরোনামে আলিপুর বোমা মামলা, বন্দি স্বয়ং বিপ্লবী অরবিন্দ ঘোষ এবং আরও অনেকে । মামলায় রাজসাক্ষী হয়েছিলেন নরেন গোঁসাই বা নরেন্দ্রনাথ গোস্বামী,শ্রীরামপুর জমিদারবাড়ির ছেলে সহ্য করতে পারেনি নির্যাতন। কিন্তু তিনি সাক্ষ্য দিলে তো সমূহ বিপদ! তাঁকে সরানোর ভার পড়ল কানাইলাল দত্ত এবং সত্যেন্দ্রনাথ বোসের উপর, দুজনেই বন্দি আলিপুর জেলে । সম্পর্কে সত্যেন্দ্রনাথ মামা হন অরবিন্দ ঘোষের যদিও তিনি ভাগ্নের থেকে বয়সে ছোট ।

জেলের মধ্যেই সন্তর্পণে কানাইলাল-সত্যেন্দ্রনাথের হাতে পিস্তল পৌঁছে দিলেন মতিলাল রায় | হাঁপানি রোগী সত্যেন্দ্রনাথ ভর্তি ছিলেন জেল হাসপাতালে | পেটে অসহ্য ব্যথা করছে বলে ভর্তি হয়ে গেলেন কানাইলালও | হাঁপানির কষ্ট ভুগতে ভুগতে সত্যেন্দ্রনাথের ‘মনে হল‘ তিনিও রাজসাক্ষী হবেন | দেখা করতে চাইলেন নরেন গোসাঁইয়ের সঙ্গে, কিছু গোপন কথা আছে । কাজ হল এতে, টোপ গিললেন নরেন। বিশ্বাস করল ব্রিটিশ সরকার । ১৯০৮-এর ৩১ অগাস্ট .…..জেল হাসপাতালের সিঁড়ি দিয়ে উঠছেন নরেন গোস্বামী , পাহারা ঢিলেঢালা দুই অসুস্থ বন্দি কী আর করবে !

সিঁড়ির বাঁক ঘুরলেন নরেন গোসাঁই ......
এক‚ দুই‚ তিন …
গর্জে উঠল দুটি পিস্তল, বুলেট ফুঁড়ে দিল বিশ্বাসঘাতক সহযোদ্ধার পিঠ। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পালাতে গিয়ে পড়ে গেলেন নর্দমায় ।‌ ঘটনার আকস্মিকতায় বেঞ্চের নিচে লুকিয়ে পড়েছিল ব্রিটিশ পুলিশ৷

লুকোলেন না কানাই বা সত্যেন্, কর্তব্য সমাধা করে স্বস্তির শ্বাস ফেলেছিলেন দুজনে। ঘটনাচক্রে দিনটা ছিল কানাইলালের জন্মদিনের ঠিক পরের দিন।

নরেন ঘাতক দুই বিপ্লবীকে ফাঁসির শাস্তি শোনাতে ব্রিটিশ সরকার সময় নিয়েছিল আড়াই মাস | কিন্তু এতটাই প্রত্যয়ী ছিলেন কানাইলাল‚ কোনও আইনি সাহায্য নেননি | পরিশীলিত ইংরেজিতে স্পষ্ট নিষেধ করেছিলেন উচ্চতর আবেদনেও ...... লিখেছিলেন “There shall be no appeal” | শুনে আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র বলেছিলেন, Shall আর will এর ব্যাবহার টা কানাই আমাদের ভালো করে বুঝিয়ে দিয়ে গেল হে !

শেষ কদিন একমাত্র ভাই ছাড়া কারও সঙ্গে দেখা করেননি । তাঁকেই বলে গিয়েছিলেন শেষকৃত্যে যেন কোনও পুরোহিত আচার অনুষ্ঠান না করে |

শিবনাথ শাস্ত্রী মশাই কে ব্রাহ্ম সমাজের আচার্য হিসেবে ব্রাহ্ম ধর্মী সত্যেন বসুর সাথে জেলের কন্ডেম সেলে যাবার অনুমতি দেয়া হয় । তিনি যাতে তাকে শেষ আশির্বাদ করতে পারেন । সাক্ষাৎকার অন্তে জেলের বাইরে এলে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল কানাইকেও তিনি আশির্বাদ করে এলেন কিনা ?

উত্তরে বলেছিলেন সে যেন পিঞ্জরাবদ্ধ সিংহ । বহু তপস্যা করলে তবে যদি কেউ তাকে আশির্বাদ করার যোগ্যতা লাভ করতে পারে !

১০ই নভেম্বর ১৯০৮.....
নো নো, ডোন্ট ব্ল্যাকেন মাই ফেস, প্লীজ!

ফাঁসির মঞ্চে উঠে আসতে আসতে মাথা থেকে গলা পর্যন্ত ঢাকবার কালো কাপড় হাতে ধরে রাখা লোকটির দিকে চেয়ে অনুরোধের সঙ্গে একটা ভুবনভোলানো হাসি ছুঁড়ে দেয় কানাইলাল দত্ত। সদ্য স্নান সেরে এসে তাকে আরও নির্মল, আরও উজ্জ্বল দেখাচ্ছে কি?

মঞ্চের পিছনে দাঁড়িয়ে এ-হেন শেষ অনুরোধ শুনে কিছুটা বিব্রতই হয় ইংরেজ জেলার ইথান প্রাইস। নাতিদীর্ঘ কর্মজীবনে এর আগে যে ফাঁসি দেখেনি সে, তেমনটা নয়। তবে এবারকার সবকিছুই যেন নতুন ঠেকছে, তার একটা প্রমাণ সে অনুভব করছে নিজের স্নায়ুতে। কমিশনার হ্যালিডে ইঙ্গিত করেন, আসামীর ইচ্ছাকে মান্যতা দেওয়ার।

ফাঁসুড়ে তার হাতের দড়িটা মুখ-না-ঢাকা কানাইলালের গলায় দিতে এগিয়ে আসে।

ইট ডাজন্ট ফীল রাইট!
হ্যালিডে চমকে তাকান। ম্যানিলা রজ্জুটা কেমন করে যেন মাথা দিয়ে ঠিকঠাক গলানো হয়নি। সহাস্য আসামী ডান হাতের দুই আঙুলে সেটাকেই ঠিক করে নিজের গলায় পরে নিচ্ছে এবার!

মিস্টার প্রাইস, য়ু দেয়ার?

পরিচিত হাসির সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্নটা ভেসে আসতে মাথা আর সোজা রাখতে পারে না ইথান।

য়ু ওয়ন্টেড টু সী মি, রাইট? হাউ ডু আই লুক নাউ?

লিভার টানার চেনা শব্দটা ফুরিয়ে যাওয়া পর্যন্ত ইথান প্রাইস এক মনে ভাববার চেষ্টা করছিল, ওই কালো কাপড়টা দিয়ে তারই মাথা-মুখ ঢেকে দেওয়া হল না কেন!
কুয়ো থেকে বের করা দেহটার দিকে না তাকিয়েই হাঁটা দিলেন জেল অফিসের দিকে......

আর তারপর........
জেলগেট দিয়ে দাদা আশুতোষ দত্ত ভাইয়ের মৃতদেহ নিয়ে বাইরে এসে দেখেন অত সকালেও সেখানে বহু মানুষ হাজির । দেহ তারাই কাঁধে তুলে নিল । শবযাত্রা যত এগোতে লাগলো তত বাড়তে লাগলো ভীড় ।

সে দিন তাঁর শবদেহ নিয়ে কলকাতা শহরের বুকে এক জনপ্লাবনের সাক্ষী থেকেছে পুলিশ ও প্রশাসন। লক্ষ লক্ষ মানুষ.....তারা একে অপরকে ধাক্কা দিয়ে এক বারের জন্য হলেও শববাহী খাটটি ছুঁতে চায়। সর্বত্র ‘জয় কানাই’ ধ্বনিতে আন্দোলিত। শহীদের শেষ যাত্রায় এতো জনসমাগম আগে কোনদিন দেখেনি কলকাতা । কেওড়াতলা শ্মশানে দাহকার্যের পর কানাইলালের ‘চিতাভস্ম’ কেনার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু হয়। আধ ছটাক চিতাভস্মের জন্য কোনও কোনও অত্যুৎসাহী সেই আমলে পাঁচ টাকা পর্যন্ত দিয়েছিলেন !

কলকাতা পুলিশের এক পদস্থ কর্মচারী এফ সি ড্যালি পরে বলেছিলেন “কানাইলাল দত্তের চিতাভস্ম বলে শহরে ঐদিন যা বিক্রি হয়েছিল, অনুমান করা হচ্ছে তা চিতাভস্মের প্রকৃত পরিমাণের চেয়ে অন্তত পঞ্চাশ গুণ বেশি!" কিন্তু মরণ যে কেড়ে নিতে পারেনি তাদের আপামর বাঙালির হৃদয় থেকে। তাঁরা যে অমর... তাঁরা অমৃতের সন্তান..

28/08/2021

অন্তিম দিনগুলোতে বিদ্রোহী কবি...... প্রয়াণ দিবসে জানাই বিনম্র বৈপ্লবিক শ্রদ্ধার্ঘ্য🇮🇳🇮🇳🇮🇳

তাঁর জীবনের শেষ চৌত্রিশটা বছর ছিল বড় মর্মান্তিক। কবির অসুস্থ হয়ে পড়ার দিন নিয়েও সঠিক তথ্য জানা যায় না। কেউ বলেন রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুদিবসে (৭ই অগস্ট ১৯৪১) কলকাতা রেডিওতে ‘রবিহারা’ কবিতাটি ঐদিনই লিখে আবৃত্তি করার সময় কবির কন্ঠস্বর জড়িয়ে আসে, কবি অসুস্থ হয়ে পড়েন। হতে পারে একটা প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিয়েছিল ঐদিন থেকে। এর আগে ১৯৪০ সালে কবি পত্নী প্রমীলা ইসলাম নিদারুণ পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হন। স্ত্রীর নিরাময়তার জন্য তিনি অজস্র অর্থ ব্যয় করেন। কিস্তিতে কেনা মোটরগাড়ি, বালিগঞ্জের ভক্তের দান করা জমি, গ্রন্থাবলির কপিরাইট, রেকর্ড করা গানের রয়ালটির টাকা সবই স্ত্রীর চিকিৎসায় খরচ করলেন। কিন্তু কোনও চেষ্টাই সফল হয়নি। এদিকে অসুখের জন্য কবির কথা বলার ও লেখার শক্তি আস্তে আস্তে সম্পূর্ণ চলে যায়। একবছর পর ১০ই জুলাই নজরুল জুলফিকার হায়দারকে একটি চিঠি লিখেছিলেন “তুমি এখনি চলে এসো … আমি কাল থেকে অসুস্থ”। কবি তখন আক্ষরিক ভাবেই কপর্দকহীন। সংসারে দুই শিশু পুত্র, পক্ষাঘাতগ্রস্ত স্ত্রী প্রমীলা, সর্বক্ষণের অভিভাবক শাশুড়ি গিরিবালা। ১৭০০ গানের রেকর্ডে লক্ষলক্ষ টাকা মুনাফার সন্ধান দেওয়া গ্রামফোন কোম্পানী কোন রয়ালটি, প্রাপ্য পারিশ্রমিক দিচ্ছে না, তাঁর লেখার প্রকাশকরা ফিরেও তাকাচ্ছে না। ১৭ই জুলাই ১৯৪২, শারীরিক যন্ত্রণাউপেক্ষা করে এক বন্ধুকে পত্র লেখেন কবি। লিখেছিলেন- “আমি blood pressure এ শয্যাগত, অতিকষ্টে চিঠি লিখছি। আমার বাড়িতে অসুখ, ঋণ, পাওনাদারদের তাগাদা, প্রভৃতি worries, সকাল থেকে রাত্রি পর্যন্ত খাটুনি। তারপর নবযুগের worries ৩/৪মাস পর্যন্ত। এইসব কারণে আমার nerves shattered হয়ে গেছে। … কথা বন্ধ হয়ে গিয়ে অতি কষ্টে দু’একটা কথা বলতেপারি,বললে যন্ত্রণা হয় সর্ব শরীরে”।
তথাপি যতদিন কবিপত্নী প্রমীলা জীবিত ছিলেন কবির প্রতি যত্নআত্তি ভক্তি ভালোবাসার কোনও ত্রুটি ছিল না। পক্ষাঘাতাক্রান্ত অবস্থায় শুয়ে শুয়ে সংসার চালানো ছাড়াও কবির সেবা-শুশ্রুষা করে গেছেন জীবনের শেষদিন পর্যন্ত। কবির যত্নের ব্যাপারে প্রমীলা সম্বন্ধে কবির পুত্রবধূ কল্যাণী কাজী বলেছেন:‘যতদিন বেঁচে ছিলেন, প্রমিলা বেশিরভাগ দিন-ই তিনি নিজের হাতে বাবাকে খাইয়ে দিতেন। খাওয়া শেষ হলে তাঁর হাতমুখ ধুইয়ে সযত্নে তোয়ালে দিয়ে মুছিয়ে দিতেন। তিনি খাবার পরিবেশন না করলে, বা তার সামনে বসে না খেলে আমাদের তৃপ্তি হোত না। বাবার সম্বন্ধে তাঁর দায়িত্বজ্ঞান ও কর্তব্যবোধ ছিল অসাধারণ, গভীর রাত্রে সবাই যখন সুপ্তির কোলে নিমগ্ন তখন তিনি একা খেলে চলেছেন হয় লুডো, নয় তাস, নয়ত বা চাইনীজ চেকার। উদ্দেশ্য, বাবাকে অতন্দ্র প্রহরীর মতো পাহারা দেয়া। কারণ, বাবা ঠিক এক নাগাড়ে ঘুমোতেন না। তাই মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে মাঝে মাঝে শুনতে পেতাম, ঠক্ ঠক্ করে ঘুটির আওয়াজ হচ্ছে আর থেকে থেকে একটি কণ্ঠস্বর বলে উঠছেন এসো, বাইরে যেয়ো না। শোনো, শুয়ে পড়ো।’
সে সময়ের লেখক মোহাম্মদ কাশেম তাঁর স্মৃতিকথায় জানিয়েছেন সেই দুর্ঘটনার কথা ।
কবি তখন নবপর্যায়ে ‘নবযুগ’ পত্রিকার সম্পাদক। ভারতবর্ষ বিভাগের প্রাক আয়োজন চলছে। সমস্ত ক্ষমতা কোলকাতার শিক্ষিত শ্রেণীর হাতে। তরুণ মুসলিম লীগ নেতা বদরুদ্দোজা, আলম হোসেন, জুলফিকার হায়দার তখন পাকিস্তান আন্দোলন করছেন। এই উচ্ছ্বাস আন্দোলনে বাঁধ সাধলেন নজরুল। তিনি বললেন এটি মেকি, ভুয়া আন্দোলন; পূর্ববাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ নিরক্ষর মুসলমানদের মুখের গ্রাস কেড়ে এরাঁ নেতা বনতে চান।
‘নবযুগ’ পত্রিকায় কবি তখন স্বাক্ষরযুক্ত সম্পাদকীয় লেখেন। এক সংখ্যায় লিখলেন ‘পাকিস্তান না ফাঁকিস্থান?’ আর যায় কোথায়, ভীমরুলের চাকে ঢিল ছোঁড়া ছাড়া আর কী? তরুণ এই পাকিস্তান আন্দোলনকারীরা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলেন। কবি পত্রিকা অফিসের কাজ সেরে অনেক রাতে ফেরেন, সুযোগ মতো পেতে হবে; ছ’ফিট লম্বা এই কবিকে সামনাসামনি ধরাশয়ী করা যাবে না। কবিকে পেছন থেকে আক্রমণ। যারা কবির স্নেহ নিয়ে কোলকাতায় দাপটের সাথে চলতেন, তারাই কবির জীবনের জন্য হুমকী হয়ে দাঁড়ালেন।
আক্রমণের পর ১৯৪২ সালের মাঝামাঝি কবি বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন। তার পিঠে সেই আঘাতের চিহ্ন মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত কবি বহন করছিলেন। বাংলাদেশে কবির ব্যক্তিগত সহকারী শফি চাকলাদার সেকথা অকপটে স্বীকার করেছেন। ছবি তুলে রেখেছেন, কিন্তু কাউকে দেননি। তাঁর চিকিৎসার সুব্যবস্থা করার জন্য সমিতি হলো, ‘নজরুল রোগ নিরাময় সমিতি’। সেখানেও ঢুকে গেল দু’একজন পাকিস্তানপন্থী। তারাই নিয়ন্ত্রণ করত তার চিকিৎসা, দেখাশোনা, অর্থ সংরক্ষণ। তাদের দীর্ঘসূত্রিতায় রোগ ধীরে ধীরে নিরাময়ের অযোগ্য হয়ে উঠলো। জুলফিকার লুম্বিনী হাসপাতালে শেকল দিয়ে বেঁধে, লোক-আড়ালে কবিকে নিঃশেষ করে দেয়া হলো ।
পঞ্চাশের প্রথম দিকে ডাক্তার বিধান চন্দ্র রায় কবির চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেন। রবীউদ্দীনকে সাথে দিয়ে কবিকে ভিয়েনায় পাঠানো হলো। কিন্তু ততদিনে নিভেছে দেউটি। কবি আর ভাল হলেন না. পেছনের যে নার্ভটি ঘাড়ে গিয়ে পৌঁছায়, সেটি শুকিয়ে মরে গেছে।
শোনা যায় নির্বাক কবি যখন বাংলাদেশে (১৯৭২), তখন নাকি তাঁর চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ড, কবির ঘাড়ে পুরাতন কঠিন আঘাতের চিহ্নটি সনাক্ত করেছিলেন।
বিস্ময়ে হতবাক হতে হয় – কি নিদারুণ অব্যবস্থা হয়েছিল তাঁর অসুস্থতা প্রকট হওয়ার পর। প্রথম সাতদিন চিকিৎসা করেন হোমিওপ্যাথিক মতে, নজরুলেরই বাড়িওয়ালা ডাক্তার ডি এল সরকার। অথচ মাত্র তিনদিন চিকিৎসার পর অতি উৎসাহী হয়ে নজরুলের সেই বন্ধু জুলফিকার হায়দার খবরের কাগজে কবির অসুস্থতার সংবাদ পাঠিয়ে প্রচার করে দেন নজরুল ‘উন্মাদ’ হয়ে গেছেন বলে। বাইশ বছর পরে লেখা তাঁর গ্রন্থে (‘নজরুল জীবনের শেষ অধ্যায় – ১৯৬৪) জুলফিকার হায়দার এই মিথ্যা সংবাদ প্রচারের সাফাই দিয়েছিলেন যে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল ‘হয়তো অসুখের সংবাদ পেয়ে কাজীদার অনেক বন্ধুবান্ধব এবং ভক্ত অনুরক্তদের মধ্যে একটা সাড়া পড়ে যাবে, দেখতে আসবে’। অথচ জুলফিকার হায়দার প্রচারিত কবির‘মস্তিষ্ক বিকৃতি’র মিথ্যা সংবাদ প্রচারের দুইবছর পরেও ১৯৪৪এর ২৭শে ফেব্রুয়ারি নুরুল ইসলামকে একটা কাগজে লিখিয়ে নজরুল জানিয়েছিলেন – “শ্রীমান মোহম্মদ নুরুল ইসলাম, তুমি চিরঞ্জীবি হয়ে থেকো। আমায় ও আমার ছেলে দুটিরে চিরদিন মনে রেখো”।
‘কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতিকথা’ গ্রন্থে শ্রদ্ধেয় মুজফ্ফর আহমেদ লিখেছেন: ‘১৯৪২ সালে জুলাই মাসে তার রোগ যখন সকলের চোখে প্রকাশ পেল তখন চিকিৎসা হয়েছিল বটে কিন্তু প্রাথমিক চিকিৎসা অত্যন্ত অপরিমিত ও অসম্পূর্ণ হয়েছে। তখন অবশ্য কোন কোন ডাক্তার বলেছিলেন যে বড় দেরি হয়ে গেছে, তখন যদি কবিকে ইউরোপে পাঠানো যেত তাহলে তার মস্তিষ্কে অপারেশন অন্তত হতে পারতো...কিন্তু নজরুল নিরাময় সমিতি গঠিত হয়েছিল বড় দেরিতেÑ ১৯৫২ সালের জুন মাসে।’
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আর্থিক সহায়তায় কবিকে স্বাস্থ্য উদ্ধারের জন্য মধুপুর পাঠানো হল ১৯৪২এর ১৯শে জুলাই, কিন্তু অর্থ শেষ হয়ে যাবার পর কলকাতায় ফিরিয়ে আনা হয় ২১শে সেপ্টেম্বর। ১৯৪৪এর ২৪শে মে আনন্দবাজার পত্রিকায় ‘কবি নজরুল পীড়িত’ শিরোনামে একটি আবেদন প্রচারিত হয়। আবেদনে বলা হয়েছিল‘বাংলার বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম বহুদিন যাবত পক্ষাঘাতে শয্যাগত। অসক্ত হইয়া পড়ায় তিনি এখন নিঃস্ব ও কপর্দকহীন। তাঁহার স্ত্রীও পক্ষাঘাতে শয্যাশায়িনী। চিকিৎসা দূরের কথা, এমন সঙ্গতি নাই যে শিশু পুত্রদ্বয়, রুগণা পত্নী ও নিজের আহার্যটুকু জোটে। বাংলার জাতীয় কবির প্রাণরক্ষায় সহৃদয় সর্বসাধারণের অকুন্ঠ সাহায্য একান্ত আবশ্যক’। ভাবা যায়, নজরুলের মত মানুষের খাওয়া পরার জন্য সাহায্যের আবেদন করতে হয়েছিল!
এরপর কয়েকটি সাহায্য সমিতি গঠিত হয়। কলকাতার সুখ্যাত চিকিৎসকেরা কবিকে দেখেন একাধিকবার, কিন্তু নিরাময়ের কোন লক্ষণ দেখা যায় না। কবি কাজী আবদুল ওদুদের উদ্যগে গঠিত‘নজরুল নিরাময় সমিতি’র উদ্যোগে কবিকে রাঁচির মানসিক চিকিৎসালয়ে পাঠানো হয় ১৯৫২র ২৫শে জুলাই। কিন্তু চার মাস চিকিৎসাধীন থেকেও কোন উন্নতি না হওয়ায় ফিরিয়ে আনা হয় কলকাতায়।
কবি এবং তাঁর পত্নীকে পাঠানো হল লন্ডনে ১৯৫৩ সালে। ডা. উইলিয়ম স্যারগ্যান্ট, ই এ বেটন, রাসেল ব্রেন নজরুলকে পরীক্ষা করেন। কিন্তু চিকিৎসার ব্যাপারে তাঁরা একমত হতে না পারায় কবি ও তাঁর স্ত্রীকে পাঠানো হয় ভিয়েনাতে। ৯ ডিসেম্বর নজরুলের উপর সেরিব্র্যাল অ্যানজিওগ্রাফি পরীক্ষা করা হয়। ফলস্বরূপ প্রখ্যাত স্নায়ু বিশেষজ্ঞ ডা. হ্যান্স হক বলেন যে, নজরুল ‘পিকসডিজিজ’ নামক এক প্রকার মস্তিষ্কের রোগে ভুগছেন যা নিরাময়ের বাইরে। এই রোগে রোগী শিশুর মতো ব্যবহার করেন এবং মস্তিষ্কের সামনের ও পাশের অংশগুলো সংকুচিত হয়ে যায়। এরপরেও পূর্ব জার্মানীর বন বিশ্বিবিদ্যালয়ের ছাত্ররা এক রুশ ডাক্তারকে দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে ছিলেন। তাঁর অভিমত ছিল যে অনেক দেরি করে রোগীকে আনা হয়েছে। সাতমাস বিদেশে বৃথা চেষ্টার পর কবিকে ফিরিয়ে আনা হয় কলকাতায় ১৯৫৩’র ১৪ই ডিসেম্বর। ১৯৭৫ সালে চলে গেলেন কবির কনিষ্ঠ পুত্র ‘নিনি’ অর্থাৎ কাজী অনিরুদ্ধ ইসলাম। স্তব্ধবাক কবি কিছুই বুঝলেন না, কিছুই জানলেন না।
১৯৭১ সালে জন্ম হল স্বাধীন বাংলাদেশের। ১৯৭২ সালের ২৪ মে রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে কবিকে নিয়ে আসা হল ঢাকায়। জীবনের শেষ চার বৎসর কবি এখানেই ছিলেন। নজরুল সংগীত গুরু প্রয়াত ধীরেন বসু কবি সম্বন্ধে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এক জায়গায় বলেছিলেন, ঢাকায় কবির ৭৩তম জন্মবার্ষিকীতে আমন্ত্রিত শিল্পী হিসেবে কাজী সব্যসাচী, মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়, কল্যাণী কাজী, ধীরেন বসু সকলেই কবিকে মাল্যদান করতে গেছেন কিন্তু কবি কিছুতেই মাথা তুলছেন না। এমতাবস্থায় কাজী সব্যসাচী ধীরেন বসুকে বললেন, ‘ধীরেন তোমার গাওয়া সেই গানটি ধরো।’ হারমোনিয়াম টেনে নিয়ে ধীরেন বসু গাইলেন, ‘ফুলের জলসায় নীরব কেন কবি।’ গান শেষ হলো, কবি মাথা তুলে সকলকে দেখলেন, মাল্যদানের পালা শেষ হলো।
অভাবের তাড়না, মানসিক কষ্ট, নিঃসঙ্গতা, পরিচিত বন্ধুদের দূরে চলে যাওয়া, অবহেলা এসবই ছিল কবির শেষ জীবনের সঙ্গী। পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক বিনা ভাড়ায় থাকার জন্য ফ্ল্যাটের বন্দোবস্ত ও দুইবাংলা থেকেই লিটারারি পেনশনের ব্যবস্থা হওয়ার পর কিছুটা স্বস্তি এসেছিল। ১৯৬২র ২৩শে জুন দীর্ঘ ২৩বছর ধরে পক্ষাঘাতে শয্যাগত স্ত্রী প্রমীলার দেহাবসান হ’ল, কবি আরো নিঃসঙ্গ হয়ে গেলেন। কবির আশা ছিল মৃত্যুর পর তাঁকেও যেন প্রমীলার পাশেই সমাহিত করা হয়। কবির সেই চাওয়া পুরন হয়নি।............
লেখক মোহাম্মদ কাশেম তাঁর স্মৃতিকথায় লিখেছেন -
ভারত ভাগের আয়োজন চলছে। তরুণ মুসলিম লীগ নেতারা তখন পাকিস্তান আন্দোলন করছেন। বাঁধ সাধলেন নজরুল। তিনি বললেন ‘পাকিস্তান না ফাঁকিস্থান?’ এটি মেকি, ভুয়া আন্দোলন; নিরক্ষর মুসলমানদের মুখের গ্রাস কেড়ে এরাঁ নেতা বনতে চান। কবি অনেক রাতে ফেরেন। ফাঁকিস্থান আন্দোলনকারীরা মওকা মতো কবিকে পেছন থেকে আক্রমণ করল। ঘাড়ে ও মাথায় কঠিন আঘাত পেয়ে জ্ঞান হারালেন কবি। সঠিক চিকিৎসা না হওয়ায় কবির সুষুম্নাকাণ্ড ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পরে। ১৯৪২-এ বাকরুদ্ধ হয়ে যান।...................
তথ্য সংগৃহীত - প্রতাপ সাহা
ধন্যবাদ।।

26/08/2021

#কেউ_মনে_রাখেনি...........‌জন্মদিনে একবার নাহয় আজ স্মরণ করা যাক মহান এই বিপ্লবী তরুণ কে!

দক্ষিণ কলকাতায় আলিপুরে ভবানী ভবন দেখেছেন নিশ্চয়ই ? না দেখলেও কাগজে পড়েছেন। মাঝে মাঝেই শোনা যায় কোন VIP কে ডেকে পাঠানো হয়েছে ওই বাড়িতে যা কিনা এখন রাজ্য গোয়েন্দা পুলিশের সদর দফতর । কিন্তু কে এই ভবানী যার নামে বাড়িটির নামকরণ ?

সন ১৯৩২..... বাঙালি বিপ্লবীদের কাছে একরকম নাকানিচুবানি খেয়ে ব্রিটিশ সরকার গভর্নর করে নিয়ে এলো স্যার জন অ্যান্ডারসনকে। এই সেই স্কটিশ সাহেব যিনি বিভাজনের নীতি অবলম্বন করে আয়ারল্যান্ডের সিনফিন আন্দোলন দমন করতে পেরেছিলেন।
শাসকরূপে অ্যান্ডারসনকে কাছে পেয়ে বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্স, ইউরোপিয়ান অ্যাসোসিয়েশন, স্টেটসম্যান, ইংলিশম্যান সহ সরকারের ধামাধরা কাগজ ও সংস্থা গুলোর সে কী আস্ফালন!
সরকারি তথ্য বলছে, ওই ইংরেজ শাসকের নামে আলিপুরে অ্যান্ডারসন হাউস গড়ে তুলেছিল ব্রিটিশেরা, পরবর্তী কালে যা পরিণত হয় রাজ্য পুলিশের সদর দপ্তরে।

ফিরে যাই সেই সময়ে....গভর্নর সাহেব প্রথমেই গাঁয়ে গাঁয়ে তৈরি করলেন ‘ভিলেজ গার্ড বাহিনী’। অর্থাৎ এখন থেকে তারাই হলো গাঁয়ের মাতব্বর। এদের কাজ বিপ্লবীদের দিকে একটু ভালো করে নজর রাখা। সন্দেহজনক কিছু দেখলেই ধরিয়ে দেওয়া আর সরকার বাহাদুরের কাছ থেকে পুরস্কার নেওয়া।

এনার আমলেই দার্জিলিংকে গ্রীষ্মকালীন রাজধানীতে পরিণত করা হয়। তিনি তখন সেখানে। দলের নির্দেশে তাকে শিক্ষা দিতে এগিয়ে এলেন ঢাকার বি ভি শাখার বিপ্লবীরা। ঢাকা থেকে কলকাতা হয়ে দার্জিলিং অভিমুখে রওয়ানা হলেন উজ্জ্বলা মজুমদার ও মনোরঞ্জন ব্যানার্জি। মূল দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল বিপ্লবী দীনেশ গুপ্তের হাতে তৈরি রবি ব্যানার্জি আর ভবানী ভট্টাচার্য কে। প্রথমে চেষ্টা করা হল ফ্লাওয়ার শো একজিবিশনে। কিন্তু ঠিক সুবিধে হল না, সুযোগের অপেক্ষায় রইলেন তাঁরা।

৮ই মে, ১৯৩৪ সালে লেবং-এর ঘোড়দৌড়ের মাঠ। অ্যান্ডারসন এসেছেন বিজয়ীদলকে পুরস্কার বিতরণ করতে। যথাসময়ে ভবানী ভট্টাচার্য আর রবি ব্যানার্জি দর্শকের টিকিট কেটে ঢুকলেন মাঠের ভিতরে। তাঁদের আসন গ্রহণ করতে দেখেই মনোরঞ্জন ব্যানার্জি আর উজ্জ্বলা মজুমদার ফিরে গেলেন শিলিগুড়ি স্টেশনের দিকে।

গভর্নরের আসনের ঠিক ডান পাশে দর্শকদের স্থান মাঝখানে একটু নীচু দেওয়াল। দর্শকদের মধ্যে বেশরভাগই শ্বেতাঙ্গ ও দেশীয় রাজা মহারাজার দল। আর রয়েছে অজস্র পুলিশ এবং সাদা পোশাকে গুপ্তচর।

ঘোড়াদৌড়ের পালা শেষ। এবার পুরস্কার বিতরণের পালা। লাট সাহেব উঠে দাঁড়ালেন আসন ছেড়ে। সঙ্গে সঙ্গে ভবানী ভট্টাচার্যও উঠে দাঁড়ালেন । দূরত্ব অনেকটা ছিল এবং তাঁর চারপাশে ছিল পুলিশ, গুপ্তচর, সাহেব আর মেমসাহেবের দল। এগোতে গেলেই তারা সন্দেহ করবে। সুতরাং তিনি লক্ষ্য স্থির করলেন ওইখান থেকেই। গর্জে উঠল ভবানীর রিভলভার কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট হল। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হল চিৎকার চেঁচামিচি। গভর্নরের দেহরক্ষী তখনই পরপর গুলিবর্ষণ করলো ভবানীকে লক্ষ্য করে। ঢলে পড়লেন উনি গুরুতর আহত হয়ে। সঙ্গে সঙ্গে রবির রিভলভার শুরু করল আগুন ঝরাতে। গুলিতে বিদ্ধ হয়ে পড়ে গেলেন গভর্নরের স্টেনো মিস থর্টন এবং এক শ্বেতাঙ্গ সার্জেন্ট। আচমকা রবির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল দেহরক্ষীর দল। ততক্ষণে ওর রিভলবারের গুলিও শেষ। ধরা পড়লো রবি এবং গুরুতর আহত ভবানী। অচৈতন্য ভবানীকে হাসপাতালে পাঠানো হল। হাসপাতালে জ্ঞান ফিরতে ভবানী বলে উঠলেন, ‘ইজ অ্যান্ডারসন স্টিল অ্যালাইভ?’‌💥

স্পেশাল ট্রাইবুনালে মামলা শুরু হয়। বিচারে ভবানী, মনোরঞ্জন ও রবির ফাঁসির হুকুম হয়, উজ্জ্বলার সাজা হয় বিশ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। হাইকোর্টের আপিলের রায়ে ভবানী ভট্টাচার্যের ফাঁসির হুকুম বহাল রইল। মনোরঞ্জন ব্যানার্জি ও রবি ব্যানার্জির ২০ বছর এবং উজ্জ্বলা মজুমদারের ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ হয়।

১৯৩৫ সালে ৩রা ফেব্রুয়ারি রাজশাহি সেন্ট্রাল জেল। ফাঁসির মঞ্চে জীবনের গান গেয়ে যাবার তালিকায় আরও একটি নাম যোগ হলো.......... বরিশালের ভবানী ভট্টাচার্য্য ‌। বয়স হয়েছিল মাত্র একুশ। তাঁরই সম্মানে ১৯৬৯ সালে অ্যান্ডারসন হাউসের নাম বদলে হয়েছে আজকের ভবানী ভবন।

#সংগৃহীত

26/08/2021

২০০৬ সালে আজকের দিনে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন স্বাধীনতা সংগ্রামী, কমিউনিস্ট নেতা ও কমিউনিস্ট আন্দোলনের বিশিষ্ট গবেষক সুবোধ রায় (Subodh Roy)। ১৪ বছর বয়সে তিনি বিপ্লবী নেতা সূর্য সেনের(মাস্টারদা) নির্দেশনায় ১৯৩০-৩১ সালে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার অভিযানে সর্বকনিষ্ঠ অংশগ্রহণকারী ছিলেন। এ মামলায় যাদের সাজা দেওয়া হয় সুবোধ তাদের মধ্যে প্রথমদিকের দন্ডিত হওয়া ব্যক্তি।

23/08/2021

114 তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাই মহারাষ্ট্রের অন্যতম বিপ্লবী,ভগত সিং এর কর্মজীবনের সঙ্গী,লাহোরের অত্যাচারী পুলিশ অফিসার সর্ন্ডাস এর হত্যাকারী ও দ্বিতীয় লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা (1929 A.C.)এর অন্যতম শহীদ সদস্য শিবরাম হরি রাজগুরুকে🇮🇳🇮🇳🇮🇳🇮🇳🇮🇳🇮🇳🇮🇳
#ইনকিলাব_জিন্দাবাদ

Photos from SFI Ranaghat's post 12/08/2021

সমাজতান্ত্রিক পৃথিবীর মহীরুহ......
কিউবা বিপ্লবের মহানায়ক ফিদেল কাস্ত্রো
তোমায় জন্মদিনের শুভেচ্ছা সাথে জানাই লাল সেলাম✊❤ Long Live Revolution

Photos from SFI Ranaghat's post 11/08/2021

আজ রানাঘাট কবি সুকান্ত পাঠাগারে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী অগ্নিশিশু ক্ষুদিরাম বসুর আত্ম-বলিদান দিবস পালন করা হলো SFI Unit 1এর পক্ষ থেকে।

✊❤️✊❤️

Want your organization to be the top-listed Government Service in West Bengal?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Website

Address

Ranaghat , Nadia
West Bengal
741201