Nature Explorer

Nature Explorer

Share

Nature Explorer

06/06/2026
17/05/2025

শুভ সকাল ... স্নিগ্ধ সুন্দর বুদ্ধ জুঁই ফুলের শুভেচ্ছা...

17/05/2025

#মুক্তি #সামাজিকগল্প "তুই কিন্তু ভুল করছিস ঈশিতা.. তুই এখনও অবুঝ..বাস্তব অতটা সোজা নয়.."
--"না বাবা প্রভাস খুব ভালো ছেলে ..বহুদিন ধরে আমরা একে অপরকে ভালোবাসি.."
--"এত সাহস হয়েছে তোমার ! তুমি আমার সামনে ভালোবাসার কথা বলছ ! তাছাড়া সংসার করার জন্য শুধু ভালবাসা যথেষ্ট নয়..তোমার যা স্ট্যাটাস..তোমার যা কালচার সেখানে প্রভাসের মত সাধারণ পরিবারের ছেলের সঙ্গে তুমি মানিয়ে নিতে পারবে ?"
--"হ্যাঁ পারব বাবা.."
--"আবেগের বশে আমি তোমাকে ভুল করতে দিতে পারি না..বিয়েটা কোনো ছেলেখেলা নয়..সবকিছু যত সোজা মনে কর তত সোজা নয়..এই সম্পর্ক আমাদের পক্ষে মানা সম্ভব নয়.."

শহরের স্বনামধন্য ধনী পরিবারের মেয়ে ঈশিতা বাবা মায়ের অমতে ভালোবেসে বিবাহ করেছিল প্রভাসকে। ঈশিতা ও প্রভাস একসাথে কলেজে বাংলা বিষয়ে অনার্স পড়ত।ঈশিতা ভীষণ আবেগপূর্ণ ও সহজ সরলমেয়ে।দেখতে সে ভারী সুন্দরী না হলেও বেশ সুশ্রী ও মিষ্টি।প্রভাসও মেঠো ঘ্রাণে পূর্ণ সহজ সরল লাজুক ছেলে।ঈশিতাদের শহর ঘেঁষা প্রান্তীয় গ্রাম থেকে সে কলেজে পড়তে আসত।বড়লোক বাবার একমাত্র আদুরে মেয়ে ঈশিতার মন চুরি করে প্রভাসের সৃজনশীল মন।খুব ভালো কবিতা লিখত সে।কলেজে ঈশিতাই প্রথমদিন আলাপটা করে।তারপর পড়াশোনা ও কবিতা নিয়ে আলোচনা ও শেষে বন্ধুত্ব।বন্ধুত্ব যে কখন ভালোবাসায় পরিণত হয়।বুঝিনি ঈশিতা।পোস্ট গ্রাজুয়েশন শেষ করে প্রভাস স্থানীয় একটি হাইস্কুলে শিক্ষকতার চাকরি পেলেই দুজনে বিবাহ বন্ধনের সম্পর্কে আবদ্ধ হওয়ার বিষয়ে মনস্থ করে।ঈশিতা তখনও চাকরি করার বিষয়ে ভাবিনি। প্রভাসের ভালোবাসায় সে ছিল বিভোর।ভবিষ্যৎ নিয়ে একদম উদাসীন।

"পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিও তোমরা..প্রভাসকে ছাড়া আমার জীবন আমি কল্পনা করতে পারি না.."একটি চিরকুট নিজের ঘরে রেখে পালিয়ে এসেছিল ঈশিতা।তারপর বন্ধুবান্ধব সহযোগে রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে কাগজ কলমে বিয়ে। ভালোবাসায় অন্ধ হয়ে ঈশিতা সেদিন বাবা মায়ের মুখের দিকে একবারও পিছন ফিরে আর তাকায়নি।কিন্তু ভুল ভাঙতে দেরী হয়নি।

"বৌমা তুমি কি কিছুই জানো না..সংসারের কোনো কাজ জানো না..সামান্য রান্নাটুকুও ঠিকমত পারো না..দিনরাত মোবাইল নিয়ে বসে থাকলেই চলবে..."
--"মা তুমিএকটু দেখিয়ে দিও আমি ধীরে ধীরে ঠিক শিখে নেব.."
মুখে একরাশ বিরক্তি নিয়ে প্রভাসের মা সবিতা বলেছিল,"সবই যদি আমি শিখিয়ে দিই তবে তুমি পরের ঘরে এসেছ কেন..জানতে না শ্বশুরবাড়ি সংসারের কাজ করতে হয়..শুধু ভালোবাসা দিয়ে সংসার চলে না..সবই আমার কপালের দোষ..অমন চাকরি করা ছেলে আমার সে কিনা শ্বশুরবাড়ি মান পেলো না..তোমাকে তো আমরা মেনে নিয়েছি.."
অভিমানে ঈশিতার দুচোখ ফেটে জল আসে। সামলে নেয়।দোষ তার।স্বার্থপর সে।বাবা মায়ের কথা শোনেনি।কোনো কিছু তলিয়ে ভাবিনি।শুধু আবেগের বশে জীবনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।বিবাহের কিছুদিনের মধ্যে ঈশিতার ভুল ভাঙে।সে উপলব্ধি করে তার পারিবারিক শিক্ষা চিন্তাধারা আচার বিচার ও তার শ্বশুরবাড়ির পরিবেশের সঙ্গে বিস্তর ফারাক।তাদের সন্তান ভুল করেছে।সেই ভুল তারা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে।তা নাহলে ভালোবাসার বিয়ে !
তাদের বিবাহের পরদিন থেকেই ছোটো খাটো সাধারণ বিষয়ে ঈশিতার খুঁত ধরে প্রভাসের পরিবারের সকলে তার প্রতিটি পদক্ষেপ বেঁধে দিয়েছিল।একপ্রকার বন্দীজীবন।তার উপর উপরি পাওনা উঠতে বসতে সবিতার অপমানজনক কথা "বাবার বাড়ি থেকে কিছুই নিয়ে আসনি।আহামরি রূপও নেই।মাঝখান থেকে আমার ছেলেটা শ্বশুরবাড়ি থেকে ঠকে গেল..সবদিক থেকে ঠকে গেল..".প্রভাসের মুখের দিকে চেয়ে সবটাই মেনে ও মানিয়ে নেয় ঈশিতা।

ভালোবাসার মানুষটাকে একসময় সহ্য করতে না পেরে বোঝাতে গিয়েছিল ঈশিতা। প্রভাস বলেছিল,
--"দেখো ঈশিতা আমার মা বাবা সাধারণ ছাপোষা মানুষ..তাদেরও ইচ্ছা ছিল তাদের সন্তান শ্বশুরবাড়ি সম্মান পাবে..গ্রামের আর পাঁচটা বউয়ের বাবার বাড়ির মত তারা আদর সম্মান পাবে..কিন্তু কিছুই তো হল না..আমাকে তোমার মা বাবা জামাই হিসেবে মানলেন না..আমি তোমাকে কিছু বলি ?তুমি মা বাবাকে নিয়ে এত ভেবো না.." প্রভাসের কথায় গভীরভাবে আহত হয় ঈশিতা।যে লাজুক সহজ সরল মেঠো ঘ্রাণে পূর্ণ প্রভাস ও তার সৃজনশীল মন তাকে আকর্ষণ করেছিল।আজ সে এত অসংবেদনশীল কি করে হতে পারে ! তাদের ভলোবাসার সেই উষ্ণতা কোথায় !
"রোজ রোজ অশান্তি ভালো লাগে না ঈশিতা..মায়ের সঙ্গে সঙ্গে সংসারের কাজ করতে পারো না..সারাদিন তো বাড়িতে বসেই থাকো..স্কুল থেকে এসে দুদন্ড শান্তি নেই..মায়ের কাছে তোমার নামে এত নালিশ শুনতে হয়!" ঈশিতা বরাবরের মতো চুপ থাকে।সে অনুভব করে সময়ের সাথে তাদের সম্পর্কে ফাটল ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।প্রেমিক পুরুষ রূপে প্রভাস ও স্বামী রূপে প্রভাসকে সে মেলাতে পারে না।ওকে নিয়ে দেখা রঙীন স্বপ্নময় জীবন ও বাস্তব জীবনের মধ্যে সীমাহীন পার্থক্য..যাকে পাওয়ার জন্য সে মা বাবার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।মায়ের আঁচলে বাঁধা সেই প্রভাস কীভাবে ঈশিতার মন কাড়ল।

"এভাবে বোধহয় আমাদের একসাথে এক ছাদের নীচে থাকা সম্ভব নয় প্রভাস.."

--"সিদ্ধান্ত সেদিনও তোমার ছিল..আজও তুমি নেবে..এ নিয়ে আমার কোনো মতামত নেই.."

--"তুমি আমাকে মন থেকে কোনোদিনই ভালোবাসনি প্রভাস !"

--"ভালোবেসেছি..কিন্তু মা - বাবাকে কিছু বলতে অপারগ আমি.."
--"আমি তো তোমাকে তাদের কিছু বলতে বলিনি প্রভাস...আমিও তো মা বাবাকে ছেড়ে এসেছি!"

--"সেটা তোমার সিদ্ধান্ত ছিল.."
কথা বাড়ায়নি ঈশিতা.. নিজেকে বড় হীন মনে হয়েছিল।ঈশিতার আত্মসম্মানবোধে লেগেছিল চরমতম আঘাত ।


"তুই আরেকবার ভেবে দেখ ঈশিতা..প্রভাসকে এত ভালোবাসিস.."
--"ভালোবাসা আর একছাদের নীচে একসাথে থাকা এক নয় কৌশিকী..তুই আমার ও প্রভাসের কমন বন্ধু..তোর আমাদের দুজনের জন্যই খারাপ লাগাটা স্বাভাবিক.."
--"সেটা বিষয় নয়..আসলে আমরা মনে মনে কেউই চাই না কোনো সম্পর্ক ভাঙুক.."
--"বিয়ের আগের প্রভাস ও বিয়ের পরের প্রভাস সম্পূর্ণ আলাদা ..আজকাল একদম মেলাতে পারি না..নিজের অসম্মানটা আর মানতে পারছি না.."
ঈশিতা সংসার ছেড়ে প্রিয় বান্ধবী কৌশিকিদের বাড়ি আশ্রয় নেয়।এরপর ঈশিতার মা বাবা সমস্ত বিষয়ে জানতে পেরে ঈশিতাকে ক্ষমা করে দিয়ে তাকে নিতে আসে,
"ফিরে চল মা আমরা বেঁচে থাকতে তুই কৌশিকির কাছে কতদিন থাকবি ? ভালো দেখায় না ..পুরোনো সব ভুলে যা.. " ঈশিতা বাবা বলে হাউমাউ করে কেঁদে জড়িয়ে ধরে বাবাকে...ঈশিতার মা এসে মাথায় হাত রাখে।

কিছুদিন বাদের ঘটনা ঈশিতা তার বাবার কাছে গিয়ে বলে,"বাবা তোমার সঙ্গে কিছু কথা আছে.."
--"বল কি কথা..আমি প্রভাসের সঙ্গে ডিভোর্স সম্পন্ন করে নতুন করে পড়াশোনাটা শুরু করতে চাই.. চাকরি করতে চাই.."
--"তুই যেটা বলবি মা..সেটাই হবে..কোনো জোর
করব না..দ্বিতীয়বার আর আমাদের প্রিয় মেয়েকে হারাতে চাই না.." ঈশিতার প্রিয় পোষ্য টিয়া মিঠু খাঁচার মধ্যে থেকে বলে "তাই হোক তাই হোক.." মিঠুর কথা শুনে ঈশিতা খাঁচার কাছে এগিয়ে গিয়ে বলে "এই মিঠু এভাবে তোর বন্দী থাকতে ভালো লাগে !"

অবশেষে ঈশিতা ও প্রভাসের ডিভোর্সটা হয়ে যায় ।প্রভাসেরও বেশ তাড়া ছিল।বোধহয় মা বাবার পছন্দ করা মেয়েকে স্ত্রী করে আনবে !মুক্তি পেয়ে তারাও বাঁচল। ঈশিতা বাড়িতে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে ঈশিতার পোষা প্রিয় তোতা পাখী বলে ওঠে 'মুক্তি পেলি..মুক্তি পেলি..' ঈশিতা খাঁচার সামনে এগিয়ে যায়.." যা যা যাচ্ছিস না কেন যা.." খাঁচার মুখ খুলে দেওয়া সত্ত্বেও ঈশিতা দেখল তার মিঠু উড়ে যাচ্ছে না..সে খাঁচা খুলে বাইরে উড়িয়ে দিয়ে বলে "আজ আমি মুক্ত..যা মুক্তি দিলাম তোকেও.." সে শুনতে পেল দূরে কোথাও রবীন্দ্রসংগীত বাজছে 'আমার মুক্তি আলোয় আলোয় এই আকাশে..' ঈশিতার দুচোখ ঝাপসা হয়ে আসছে।(পূর্ব প্রকাশিত)©®রাখী দে (দত্ত)



Rakhi Dey Dutta
*** ছবি AI দ্বারা নির্মিত

17/05/2025

#টেবিলফ্যান #গল্প ভরদুপুরবেলা।বাইরে প্রচণ্ড উত্তাপ।টিনের ছাউনি ও জানালার ফাঁক বেয়ে আসা সেই উত্তাপ ঘরে বসে অনুভব করছে সুপর্ণা।সুমন ফেরির কাজে বেরিয়েছে।গরমে একসময় থাকতে না পেরে সুপর্ণা সুমনের ঘর থেকে সদ্য কেনা টেবিলফ্যানটা নিজের ঘরে নিয়ে আসে।দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলে সুমন তেতে-পুড়ে বাড়ি ফিরে আসে।ঘরে গিয়ে টেবিলফ্যানটা দেখতে না পেয়ে সুপর্ণার ঘরে পা বাড়ায়।সেখানে টেবিল ফ্যান দেখে চিৎকার করে বলে "হাওয়া খাওয়ার এত শখ!একটা টেবিলফ্যান কিনতে পারিস না!এই গরমে বেরোতে হয় না তো !"অপমানে সুপর্ণার দুই চোখ ফেটে জল আসে।নিজেকে সামলে নিয়ে বলে "আমার ভুল হয়ে গেছে ভাই।আমি এখনি তোর ঘরে দিয়ে আসছি।"সুমনের ঘরে টেবিলফ্যান রেখে নিজের ঘরে ফিরে আসে সুপর্ণা।সেইমুহূর্তে সুপর্ণার মা ঘরে ঢুকে দুঃখ করে বলে "সুমনকে আমরা বোধহয় ঠিকমতো মানুষ করতে পারলাম না রে!তোর বাবা বেঁচে থাকলে !" সুপর্ণা উদাসীনভাবে বলে "এবার যেভাবেই হোক আমার একটা কাজের ব্যবস্থা করতে হবে মা।অভাবের সংসারে বিধবা দিদিকে কোন ভাই ভালোবাসে !" ( পূর্ব প্রকাশিত )©® রাখী দে দত্ত

***ছবি AI অ্যাপ দ্বারা নির্মিত


Rakhi Dey Dutta

17/05/2025

শুভ সকাল...নদীর বুকে ভেসে চলার কতরকম গল্প...

চুপির চর,পূর্ব বর্ধমান...

17/05/2025

আমাদের জীবনের অধিকাংশ সময় তীর্থের কাকের মত অপেক্ষা করতে করতে দিন কাটে ।মনে হয় এই বুঝি আগামীদিনে ভালো সময় আসছে তারপর সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে কিন্তু বাস্তবে অনুভব করি যত দিন যায় তত যেন ফেলে আসা আমাদের সাধারণ দিনগুলি কোন জাদুবলে যেন ভালোমন্দ স্মৃতি হয়ে ওঠে। আসলে আমরা জীবনে যা চাই কিংবা যেভাবে চাই ঠিক সেভাবে পাই না বরং যা পাই বা যতটুকু পাই তা অন্যভাবে অমূল্য স্মৃতি হিসেবে রয়ে যায়। তবে জীবনের এই অমোঘ সত্যটা অনুধাবন করতে আমরা বেশ দেরী করে ফেলি।© রাখী দে দত্ত

কাশ্মীর '২০২৪
Rakhi Dey Dutta

17/05/2025

#আন্তর্জাতিকপরিবারদিবস শুভ সকাল।আজ ১৫ ই মে।আন্তর্জাতিক পরিবার দিবস ।এই বছরের আন্তর্জাতিক পরিবার দিবসের থিম " টেকসই উন্নয়নের জন্য পরিবার-ভিত্তিক নীতি: সামাজিক উন্নয়নের জন্য দ্বিতীয় বিশ্ব শীর্ষ সম্মেলনের দিকে.."এই দিনটি মূলতঃ পরিবার সম্পর্কিত বিষয়গুলি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবারগুলিকে প্রভাবিত করে এমন সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং জনসংখ্যাগত প্রক্রিয়া সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধির সুযোগ প্রদান করে। আজকের দিনে সকলের জন্য শুভকামনা জানাই।সকলে পরিবারসহ ভালো থাকুন ও সর্বদা পরিবারের পাশে থাকুন।

সিলেরিগাঁও '২০২৪ ...







Rakhi Dey Dutta

13/05/2025

শুভ সকাল...ওরা আছে বলে সবুজ এত হাসে.. ওরা আছে বলে চারপাশ এত রঙিন..ওরা আছে বলে প্রকৃতি এত সুন্দর !
মায়াপুর, নদীয়া....








13/05/2025

#ডাকবাক্স #গল্প বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে পাড়ার মোড়ের পাড়ার পোস্ট অফিসের বাইরে এক কোণে পড়ে থাকা পুরাতন ডাকবাক্সটা হঠাৎ চোখে পড়ে মৃদুলের।একদম ভেঙে দুমড়ে জরাজীর্ণ অবস্থা!অথচ একসময় ওই ডাকবাক্সটা তার জীবনের অনেকটা অংশ জুড়ে ছিল! এই ডাকবক্সেই ফেলত তার ভালোবাসার মানুষটির জন্য চিঠি।
পাড়ার মেয়ে রেবতীকে ভালোবেসেছিল কলেজ পড়ুয়া মৃদুল।যখন প্রেমপর্ব শুরু হয় রেবতী তখন ক্লাস ইলেভেনে পড়ত।রেবতীর বাবার ছিল বদলির চাকরি।সেইসময় তারা চলে যায় কোচবিহার জেলায়। মৃদুল থেকে যায় কলকাতায়।দূরত্ব অনেক! ভালোবাসা হার মানেনি!সেই ভালোবাসা বাঁচিয়ে রেখেছিল পাড়ার এই ডাকবাক্স।তখন না ছিল টেলিফোন না ছিল সহজলভ্য এ যুগের মোবাইল।কোচবিহার যাওয়ার আগে রেবতী বলেছিল,"চিঠি পাঠিও নিয়মিত।চিঠি আমাদের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে এনে আমাদের দুটি মন এক করে রাখবে।" মৃদুল তার মনের যত কথা লিখে পাঠাতো গোপন খামে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তার কাছেও এসে পৌঁছাত রেবতীর ভালোবাসায় লেখা চিঠি।সেই রেবতী তার স্ত্রী।এতদিন পর চলার পথে এই বৃদ্ধ বয়সে ডাকবাক্সটি চোখে পড়তেই পুরনো ভালোবাসার নস্টালজিয়ায় ভোগে মৃদুল।তার মনে হয় যে কোনো জিনিস সহজলভ্য হলে হয়ত তার টান থাকেনা। যেমন এখনকার ছেলেমেয়েদের মধ্যে ভালোবাসা! দেখনদারি ষোলো আনা অথচ গভীরতা কিংবা আনুগত্য কোনোটাই সেভাবে নেই।তখনকার সময় রেবতীকে চোখের সামনে দেখতে না পেলেও তার লেখা চিঠির গন্ধে হৃদয় আবেগ মথিত হয়ে উঠত।রেবতীর মুখ ভেসে উঠত চিঠি পড়ার মাঝে।আজকাল ভালোবাসায় সেই আবেগ কোথায় ! শুধু চাওয়া পাওয়ার হিসেব ! সম্পর্ক গড়া অপেক্ষা ভাঙার খেলা অধিক !দীর্ঘশ্বাস পড়ে মৃদুলের। ডাকবাক্সর করুণ অবস্থা এড়িয়ে সে ধীরে ধীরে বাড়ির পানে পা বাড়ায়।( প্রকাশিত)©® রাখী দে দত্ত

Want your business to be the top-listed Media Company in Krishnagar?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Website

Address

Krishnagar