NGO Samrat
24 Years NGO Activist & Registration Consultant - NGO । Trust । Club। Society | Audit । Taxation । NGO Educator & Growth Promoter .
21/02/2026
একটি আদর্শ এনজিও ভাউচারে কী কী থাকা বাধ্যতামূলক?
আগের পর্বে আমরা জেনেছি ভাউচার কী এবং কেন এটি জরুরি। কিন্তু যেকোনো কাগজে লিখে দিলেই কি তা অডিটে গ্রহণযোগ্য হবে? একদমই নয়। ইনকাম ট্যাক্স বা অডিটরের কাছে আপনার ভাউচারটিকে গ্রহণযোগ্য করতে হলে তাতে নিচের ৬টি মূল বিষয় অবশ্যই থাকতে হবে।
📋 একটি বৈধ ভাউচারের চেকলিস্ট:
১. এনজিও-র নাম ও ঠিকানা (NGO Identity):
ভাউচারটি অবশ্যই আপনার সংস্থার নামে হতে হবে। ভাউচারের একদম ওপরে সংস্থার নাম, রেজিস্টার্ড ঠিকানা এবং সম্ভব হলে রেজিস্ট্রেশন নম্বর ছাপানো বা স্ট্যাম্প মারা থাকতে হবে।
২. তারিখ এবং ক্রমিক সংখ্যা (Date & Voucher No.):
তারিখ ছাড়া ভাউচার মূল্যহীন। আর প্রতিটি ভাউচারে একটি ইউনিক সিরিয়াল নম্বর থাকতে হবে (যেমন: V/23-24/001)। এটি অডিটের সময় ট্র্যাকিং সহজ করে।
৩. লেজার হেড বা খাতের নাম (Head of Account):
খরচটি কোন খাতের? যেমন: 'Salary', 'Office Rent', 'Travelling' নাকি 'Relief Material Distribution'। খাতের নাম স্পষ্ট না থাকলে অডিট রিপোর্ট তৈরিতে সমস্যা হয়।
৪. অংকে ও কথায় টাকার পরিমাণ (Amount in Figures & Words):
টাকার পরিমাণ অংকে লেখার পাশাপাশি কথায় (In words) লিখতে ভুলবেন না। এটি কাটাকাটি বা জালিয়াতি রোধ করতে সাহায্য করে। যদি কোনো কারণে কাটাকাটি হয়, তবে সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির ছোট সই (Initial) থাকতে হবে।
৫. তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাক্ষর (The Triple Sign Rule):
একটি স্বচ্ছ ভাউচারে সাধারণত ৩ জনের সই থাকা উচিত:
Prepared by: যিনি হিসাবটি নথিভুক্ত করছেন (অ্যাকাউন্ট্যান্ট)।
Passed/Authorized by: সংস্থার সম্পাদক বা কোষাধ্যক্ষ (যিনি খরচটি অনুমোদন করছেন)।
Receiver's Sign: যিনি টাকাটি হাতে পেলেন।
৬. মূল বিল বা সাপোর্টিং ডকুমেন্ট (Supporting Bills):
ভাউচারের পেছনে সবসময় বিক্রেতার অরিজিনাল বিল বা ক্যাশ মেমো পিন দিয়ে আটকে রাখুন। মেমো না থাকলে সাদা কাগজে খরচের বিবরণ দিয়ে 'Self-Voucher' তৈরি করলেও তার পেছনে নির্দিষ্ট কারণ বা অনুমোদনের কপি থাকতে হবে।
মনে রাখবেন,২০০০ টাকার বেশি ক্যাশ পেমেন্ট হলে ভাউচারে Revenue Stamp এবং তার ওপর প্রাপকের সই নেওয়া বাধ্যতামূলক। এটি পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতের সকল এনজিও-র জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি নিয়ম। সম্রাট চট্টোপাধ্যায়।
15/02/2026
এনজিও-র ভাউচার ম্যানেজমেন্ট: ভাউচার কী এবং কেন এটি আপনার সংস্থার জন্য জরুরি?
একটি এনজিও যখন সমাজসেবামূলক কাজ করে, তখন প্রতিটি টাকা খরচের স্বচ্ছতা থাকা আবশ্যিক। আর সেই স্বচ্ছতার প্রথম ধাপ হলো 'ভাউচার'। আজ থেকে আমরা এনজিও-র ভাউচার ম্যানেজমেন্ট নিয়ে একটি বিশেষ ধারাবাহিক আলোচনা শুরু করছি।
🔍 ভাউচার কী?
সহজ কথায়, ভাউচার হলো একটি অভ্যন্তরীণ হিসাব সংক্রান্ত দলিল (Document), যা আপনার সংস্থার কোনো একটি নির্দিষ্ট লেনদেনের (Transaction) সত্যতা প্রমাণ করে। আপনি যখন কাউকে টাকা দিচ্ছেন বা কোনো কেনাকাটা করছেন, তার সপক্ষে যে লিখিত প্রমাণটি আপনি ফাইলে রাখছেন, সেটিই ভাউচার। এটি শুধু একটি কাগজের টুকরো নয়, এটি আপনার খরচের আইনি স্বীকৃতি।
❓ কেন ভাউচার রাখা জরুরি?
১. অডিটের মেরুদণ্ড: বছরের শেষে যখন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (CA) আপনার সংস্থার অডিট করবেন, তখন তিনি প্রতিটি খরচের সপক্ষে ভাউচার খুঁজবেন। ভাউচার ছাড়া অডিট রিপোর্ট অসম্পূর্ণ এবং এটি 'Audit Objection'-এর কারণ হতে পারে।
২. আইনি সুরক্ষা ও কমপ্লায়েন্স: ইনকাম ট্যাক্স ডিপার্টমেন্ট (যেমন ১২এ বা ৮০জি) বা ফরেন কন্ট্রিবিউশন (FCRA) সংক্রান্ত স্ক্রুটিনিতে ভাউচারই হলো আপনার প্রধান প্রতিরক্ষা। এটি প্রমাণ করে যে সংস্থার টাকা নয়ছয় হয়নি।
৩. ডোনারদের বিশ্বাসযোগ্যতা: কোনো সরকারি দপ্তর বা বড় কর্পোরেট হাউস যখন আপনার এনজিও-কে ফান্ড দেয়, তখন তারা ফান্ডের 'Utilization Report' চায়। সঠিক ভাউচার থাকলে ডোনারদের কাছে আপনার সংস্থার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয় এবং ভবিষ্যতে বড় ফান্ড পাওয়ার পথ সুগম হয়।
৪. আর্থিক শৃঙ্খলা: ভাউচার থাকলে সংস্থার অভ্যন্তরে চুরির ভয় থাকে না এবং সম্পাদক বা কোষাধ্যক্ষ খুব সহজেই হিসাব মেলাতে পারেন।
📌 মনে রাখবেন: "কাজ ভালো করলেই হয় না, তার সঠিক ডকুমেন্টেশন বা প্রমাণও থাকতে হয়।" 🤝 সম্রাট চট্টোপাধ্যায়।
রক্তদান আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সমাজসেবীদের জন্য.....
09/02/2026
First-time CSR Proposal শক্তিশালী হয় ভাষা দিয়ে নয়, Structure দিয়ে।
CSR proposal বানানোর সময় নতুন NGO-রা যেগুলো ভুল করে—
▪ Problem statement clear করে না
▪ Budget justification দেয় না
▪ Activity–Outcome–Impact আলাদা করে দেখায় না
▪ Legal eligibility upfront mention করে না
Strong CSR proposal মানে👇
✔ Specific problem, specific solution
✔ Clear timeline & measurable output
✔ CSR Schedule VII aligned activity
✔ NGO legal readiness clearly stated
📌 CSR fund নতুন NGO-কে দেয়,
কিন্তু confused proposal-কে নয়। - সম্রাট চট্টোপাধ্যায়।
05/02/2026
সমাজ গঠনে ও উন্নয়নে এনজিওদের ভূমিকা : পর্ব – ৫ : টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ সমাজ গঠনে পশ্চিমবঙ্গের এনজিওদের ভূমিকা
সমাজ উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় আজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল—এই উন্নয়ন কতটা টেকসই এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কতটা নিরাপদ। পশ্চিমবঙ্গের এনজিওগুলি এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে কেবল তাৎক্ষণিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়নের পথে কাজ করছে। পরিবেশ সংরক্ষণ, বিকল্প জীবিকা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং স্থানীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহার—এই সব বিষয়কে কেন্দ্র করেই তাদের কর্মকাণ্ড বিস্তৃত হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের বহু এলাকায় পরিবেশগত অবক্ষয় ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্ট। নদীভাঙন, খরা, বন উজাড় ও মাটির উর্বরতা হ্রাস—এই সমস্যাগুলির মোকাবিলায় এনজিওগুলি সচেতনতা ও কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে। বৃক্ষরোপণ, জল সংরক্ষণ, জৈব চাষ ও পরিবেশবান্ধব জীবিকা উন্নয়নের মাধ্যমে তারা প্রকৃতি ও মানুষের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে।
বিশেষ করে জঙ্গলমহল ও আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় এনজিওগুলির ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এখানকার মানুষদের জন্য টেকসই বিকল্প জীবিকার উৎস খুঁজে বের করা, পতিত জমিতে অল্প সেচে ফলের বাগান, এগ্রো-ফরেস্ট্রি ও বনভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে তোলার মাধ্যমে তারা শুধু আয় বৃদ্ধি নয়, সামাজিক নিরাপত্তাও নিশ্চিত করছে। এর ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনে স্থায়িত্ব ও আত্মবিশ্বাস তৈরি হচ্ছে।
শহর ও শহরতলির এলাকাতেও এনজিওগুলি টেকসই উন্নয়নের ধারণাকে সামনে রেখে কাজ করছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানীয় জল ও স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যবিধি এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তারা একটি সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক সমাজ গড়ে তুলতে সহায়তা করছে। সরকারি উদ্যোগ ও কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) প্রকল্পের সঙ্গে সমন্বয় রেখে এই কাজগুলি আরও বিস্তৃত আকার নিচ্ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, পশ্চিমবঙ্গের এনজিওগুলি আজ কেবল সমাজসেবী প্রতিষ্ঠান নয়, বরং ভবিষ্যৎ সমাজ গঠনের অন্যতম অংশীদার। মানুষের ক্ষমতায়ন, প্রকৃতির সংরক্ষণ এবং টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে তারা একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ নির্মাণের পথে কাজ করে চলেছে। এই ধারাবাহিক প্রবন্ধের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের এনজিও আন্দোলনের যে বহুমাত্রিক চিত্র উঠে এল, তা নিঃসন্দেহে আগামী দিনের সমাজ ভাবনায় আমাদের নতুন করে ভাবতে সাহায্য করবে।
পুনশ্চ.
১. পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (SHG) সংখ্যা প্রায় ১১ লক্ষ। এর একটি বড় অংশই প্রাথমিকভাবে এনজিওদের উদ্যোগে গঠিত ও সংগঠিত হয়েছিল, যা পরবর্তীতে রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতির মেরুদণ্ডে পরিণত হয়েছে।
২. নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে এনজিওগুলি কার্যত “চেঞ্জ এজেন্ট” হিসেবে কাজ করছে। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘদিনের অদৃশ্য শ্রমশক্তি—নারীশক্তি—আজ আত্মবিশ্বাস ও উদ্দীপনার সঙ্গে বলতে পারছে, “We Can” / “আমরা পারি”।
৩. পশ্চিমবঙ্গের বহু এনজিও অনগ্রসর অঞ্চল ও জঙ্গলমহলে টেকসই আদিবাসী উন্নয়নের মাধ্যমে আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য এক ধরনের “নিরাপত্তা জাল” তৈরি করেছে। বিকল্প জীবিকার উৎস হিসেবে পতিত জমিতে প্রায় বিনা সেচে ফলের বাগান, এগ্রো-ফরেস্ট্রি ইত্যাদি উদ্যোগে তারা সক্রিয় সহায়তা করছে।
৪. পশ্চিমবঙ্গের অনেক এনজিও CSR প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষা, স্কিল ট্রেনিং, ওয়াটার ও স্যানিটেশন, মহিলাদের ঋতুকালীন স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সচেতনতা, স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরি ও বিপণন ব্যবস্থাপনা এবং জীবিকা-বর্ধক কর্মসূচি সফলভাবে রূপায়ণ করছে।
৫. পশ্চিমবঙ্গে এনজিওদের মাধ্যমে কৃষক উৎপাদক গোষ্ঠী (FPO) গঠনের কাজ শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের বাধ্যতামূলক কম দামে বিক্রির সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের কৃষি উন্নয়ন দপ্তরের অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তায়। উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহল এলাকায় এনজিওদের সহায়তায় মহিলা FPO গঠিত হয়েছে, যারা জৈব চাষ ও দেশি ধান সংরক্ষণে উল্লেখযোগ্য কাজ করছে।
৬. অনেক এনজিও নারীদের জমির অধিকার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির কাজ করছে এবং এই ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ফলাফল আসতে চলেছে। যেহেতু ২০২৬ সালকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ “মহিলা কৃষকদের আন্তর্জাতিক বছর” হিসেবে ঘোষণা করেছে, তাই মহিলা কৃষকদের ক্ষমতায়নে এনজিওগুলির আরও সক্রিয় উদ্যোগ গ্রহণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
02/02/2026
NGO পরিচালনায় খেয়াল রাখুন—
✔ Governing Body Meeting Minutes ঠিকভাবে লেখা আছে কি?
✔ Resolution-এ উদ্দেশ্য ও সিদ্ধান্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে কি?
✔ Bank Account Operation Resolution আপডেটেড কি না?
✔ Amendment হলে Registrar-কে জানানো হয়েছে কি?
📌 এই ছোট টেকনিক্যাল বিষয়গুলোই ভবিষ্যতে
Audit Objection, Notice কিংবা Registration Cancellation থেকে রক্ষা করে।- সম্রাট চট্টোপাধ্যায়।
30/01/2026
এনজিও ম্যানেজমেন্টে 'Compliance' কেন আপনার শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ?
পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ এনজিওর ক্ষেত্রে দেখা যায়, মাঠ পর্যায়ের কাজ শক্তিশালী হলেও প্রশাসনিক নথিপত্র এবং কমপ্লায়েন্সের অভাবে বড় বড় ডোনেশন বা সিএসআর (CSR) ফান্ড হাতছাড়া হয়। সমাজসেবা আবেগে শুরু হলেও, তা টিকিয়ে রাখতে হয় আইনি স্বচ্ছতা দিয়ে।
একজন কনসালটেন্ট হিসেবে আমি লক্ষ্য করেছি, ফান্ডের অভাবের চেয়েও বড় সমস্যা হলো 'Audit Readiness'-এর অভাব। আপনার সংস্থার নিচের বিষয়গুলো কি বর্তমানে আপ-টু-ডেট?
Re-validation of 12A & 80G: প্রোভিশনাল থেকে ফাইনাল রেজিস্ট্রেশনে রূপান্তরের সময় আপনার কাজের ইমপ্যাক্ট ডাটা সঠিকভাবে সংরক্ষিত আছে তো?
Form 10BD Filing: ডোনারদের ট্যাক্স বেনিফিট নিশ্চিত করতে সময়মতো এই ফর্ম ফিলাপ করা বাধ্যতামূলক, অন্যথায় পেনাল্টির ঝুঁকি থাকে।
Operational Transparency: অডিট রিপোর্ট কি কেবল সংখ্যার হিসাব দিচ্ছে, নাকি আপনার প্রজেক্টের লিগ্যাল ভ্যালিডিটি প্রমাণ করছে?
মনে রাখবেন, ডোনাররা আপনার সংস্থায় ইনভেস্ট করার আগে আপনার 'Institutional Integrity' যাচাই করে। কমপ্লায়েন্স কোনো বোঝা নয়, এটি আপনার সংস্থার গ্রোথ ইঞ্জিন।
প্রফেশনাল গাইডেন্স এবং টেকনিক্যাল সাপোর্টের জন্য আপনার এনজিওর কমপ্লায়েন্স অডিট আজই করিয়ে নিন। - সম্রাট চট্টোপাধ্যায়।
27/01/2026
সমাজ গঠনে ও উন্নয়নে এনজিওদের ভূমিকা : পর্ব – ৪ : পশ্চিমবঙ্গে নারী ক্ষমতায়ন ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠায় এনজিওদের ভূমিকা
সমাজের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন নারী ও পুরুষ উভয়ের সমান অংশগ্রহণ এবং অধিকার নিশ্চিত হয়। পশ্চিমবঙ্গে নারী সমাজ দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক বৈষম্য, আর্থিক নির্ভরতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সীমাবদ্ধতার শিকার হয়েছে। এই বাস্তবতায় পশ্চিমবঙ্গের এনজিওগুলি নারী ক্ষমতায়ন ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এক শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে চলেছে।
নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে এনজিওগুলির প্রথম ও প্রধান উদ্যোগ হল আর্থিক স্বাবলম্বিতা। গ্রামীণ ও শহরতলির মহিলাদের নিয়ে স্বনির্ভর গোষ্ঠী গঠন করে তারা সঞ্চয় ও ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা করেছে। এই গোষ্ঠীগুলির মাধ্যমে মহিলারা ছোট ব্যবসা, হস্তশিল্প, সেলাই, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ ও মৎস্যচাষের সঙ্গে যুক্ত হতে পারছেন। ফলে পরিবারের আয়ে তাঁদের অবদান বাড়ছে এবং আত্মবিশ্বাসও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
শুধু আর্থিক উন্নয়ন নয়, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতেও এনজিওগুলির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাল্যবিবাহ, পণপ্রথা, গার্হস্থ্য হিংসা ও নারী নির্যাতনের মতো সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে তারা নিয়মিত প্রচার ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। আইনগত অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করে এনজিওগুলি মহিলাদের নিজেদের অধিকার রক্ষায় সাহসী করে তুলছে।
পশ্চিমবঙ্গের বহু এনজিও নারী ও কন্যাশিশু শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে। মেয়েদের স্কুলে ধরে রাখা, উচ্চশিক্ষায় উৎসাহ প্রদান এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের পথ খুলে দেওয়া—এই সব উদ্যোগ নারীর সামাজিক অবস্থানকে দৃঢ় করছে। শিক্ষিত নারী যে শুধু পরিবার নয়, পুরো সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে—এই ধারণা ধীরে ধীরে বাস্তব রূপ পাচ্ছে।
সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এনজিওগুলি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়িয়েছে। তফসিলি জাতি ও উপজাতি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং সমাজের অন্যান্য পিছিয়ে পড়া অংশের জন্য তারা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবিকা উন্নয়নের বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর ফলে সমাজের মূল স্রোতে তাঁদের অন্তর্ভুক্তি সহজ হচ্ছে।
নারী নেতৃত্ব গড়ে তোলাও পশ্চিমবঙ্গের এনজিও আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। গ্রাম পঞ্চায়েত, স্থানীয় কমিটি ও সামাজিক সংগঠনে নারীদের নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে নারীরা শুধু উপকারভোগী নয়, বরং সমাজ পরিবর্তনের নেতৃত্বদানকারী হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করছেন।
সব মিলিয়ে বলা যায়, নারী ক্ষমতায়ন ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠায় পশ্চিমবঙ্গের এনজিওগুলি সমাজকে আরও মানবিক, সমতাভিত্তিক ও সচেতন করে তুলছে। পরবর্তী ও শেষ পর্বে আমরা টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ সমাজ গঠনে পশ্চিমবঙ্গের এনজিওদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করব।
প্রথম , দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্বের লিংক কমেন্ট বক্সে।
26/01/2026
সকল সমাজ কর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের জানাই ৭৭ তম সাধারণতন্ত্র দিবস ২০২৬ এর প্রীতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
প্রশ্নোত্তর এনজিও - পর্ব ১০। পূর্ণাঙ্গ ভিডিও দেখুন। সঙ্গে থাকুন আমাদের।
23/01/2026
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিনে তাঁর আদর্শ ও ত্যাগকে শ্রদ্ধা জানাই। দেশ ও সমাজের সেবায় তাঁর পথেই এগিয়ে চলার অঙ্গীকার আমাদের ।
Click here to claim your Sponsored Listing.