Exploring for Expansion
"থাকব নাকো বদ্ধ ঘরে
দেখব এবার জগৎটাকে"
--
খুঁজে দেখি জীবন ও জগতের প্রতিটি ক্ষেত্র।
বাংলা ভাষায় কথা বলে ও বাংলা ভাষাকে ভালোবাসে এমন মানুষের জন্য সুখের খবর।
ভারতে ক্লাসিকাল ল্যাঙ্গুয়েজ বা ধ্রুপদী ভাষার গুরুত্বকে রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে তুলে ধরার ও সংরক্ষণ ও চর্চা করে মজবুত করার জন্য ভারতীয় প্রাচীন ভাষাগুলোকে 'ধ্রুপদীভাষা'র মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কোন ভাষাকে 'ধ্রুপদী ভাষা'র মর্যাদা দেয়া হবে তা নির্ধারণ করা হয় যে বৈশিষ্ট্য গুলোর জন্য তার মধ্যেঃ
ভাষার প্রাচীনত্ব( ১ হাজার /দেড় হাজার বছরের পুরনো) ,উন্নত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ভাষাটির লিখিত পরম্পরা, অন্য ভাষা থেকে স্বাতন্ত্র্য প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ ।
এই পর্যন্ত ভারতে ১১ টি ভাষাকে ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
সর্বপ্রথম তামিল ভাষা ভারতীয় ক্লাসিক্যাল ভাষার মর্যাদা পায় ২০০৪ সালে। ২০০৫ সালে সংস্কৃত ভাষা এই মর্যাদা লাভ করে। যথাক্রমে ২০০৮ সালে কন্নড় ও তেলেগু , ২০১৩ সালে মালায়ালম ও ২০১৪ সালে ওড়িয়া ভাষা এই সম্মানে ভূষিত হয়।
২০২৪ সালে অসমীয়া, পালি, প্রাকৃত বাংলা ও মারাঠি এই পাঁচটি ভাষা ভারতীয় ক্লাসিক্যাল ল্যাঙ্গুয়েজের আসনে অধিষ্ঠিত হলো।
ভারত সরকারের মিনিস্ট্রি অফ কালচার( Ministry of culture) অর্থাৎ সংস্কৃতি মন্ত্রক ও Linguistic Expect Committee (লিঙ্গুইস্টিক এক্সপার্ট কমিটি) যৌথ উদ্যোগ নিয়েই কাজটি সম্পন্ন করে । লিঙ্গুইস্টিক এক্সপার্ট কমিটি ভারতের ইউনিয়ন সরকারের অধীনে কাজ করে। এই কমিটি ডক্টর রাজেন্দ্র প্রসাদের নেতৃত্বে ১৯৪৮ সালে গড়ে উঠেছিল।
যেসব ভাষা এই মর্যাদা লাভ করল ভারত সরকার সেইসব ভাষা রক্ষণাবেক্ষণ ও সেইসব ভাষা বিষয়ে গবেষণা করার জন্য অর্থ বরাদ্দ করবে। ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশন বিশেষ লক্ষ্য রাখবে এই ভাষাগুলোতে উচ্চতর বিভিন্ন শিক্ষা ও গবেষণার দিকে। এই ভাষার উন্নতিতে অবদান রাখবেন যাঁরা তাঁদের বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হবে। কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।
এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য ভারত সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার সহ যে সমস্ত রাজ্য সরকার ও যেসব সংগঠন ও মানুষের দাবি ও প্রচেষ্টা সক্রিয় অবদান রেখেছে তাঁদের প্রতি রইল অকুণ্ঠ শ্রদ্ধা।
মেইতি,মৈথিলি সহ ভারতের আরও বেশ কয়েকটি ভাষা এই মর্যাদা লাভ করার জন্য সক্রিয় আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্যঃ ভারতের একক রাষ্ট্রীয় ভাষা নেই। ভারতের সাংবিধানিক অফিসিয়াল ভাষার সংখ্যা বর্তমানে ২২ টি।
❤❤জয় মানবতা❤❤
কলমে - Asit Bar
সাধারণত মানব শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগে মাতৃগর্ভে থাকে ৪০ সপ্তাহ ২৮০ দিন বা ৯ মাস ১০ দিন। এটাই গর্ভধারণের সাধারণ গড় সময়সীমা।
চীনের কম্যুনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির মুখপত্র Cheng Zeben(সেঙ জেবেন) পত্রিকায় ইংরেজি সংস্করণ people's Daily তে একটি বিশেষ খবর প্রকাশিত হয় ১৭ ই আগস্ট ২০১৬ তারিখে।
চিনের ( চীনা ভাষায় চীনের উচ্চারণ চোংখুয়া)হুনান প্রদেশে বসবাসরত ওয়াংশি নামের একজন ভদ্রমহিলা ১৭ মাস গর্ভবতী থেকে গিনিস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড( Guinness World Record) গড়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন ব্যতিক্রমী কিছু ক্ষেত্রে ১৩ মাস পর্যন্ত গর্ভাবস্থার কথা তাঁদের অভিজ্ঞতায় আছে। কিন্তু ১৭ মাস পর্যন্ত গর্ভাবস্থা সত্যিই আশ্চর্যজনক। 18 তম মাসে সার্জিক্যাল ডেলিভারি (C-Section) করে শিশুকে জগতের আলো দেখায় ডাক্তাররা। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সুস্পষ্ট নয়।
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু ও হরিচাঁদ ঠাকুরের ক্ষেত্রে ১৩ মাস গর্ভের কথা কথিত আছে। বিচিত্র ভারতীয় পৌরাণিক গল্পগুলোতে বহু মাস এবং বহু বছরের গর্ভাবস্থার কথার উল্লেখ আছে। ব্যাসদেবের পুত্র শুকদেবের জন্ম কাহিনী নিয়ে পরস্পর বিরোধী নানা রকমের গল্প আছে বিভিন্ন ভারতীয় সংস্কৃত পুরাণে। একটি গল্পে শুকদেবের ১২ বছর মাতৃগর্ভে থাকার কথা আছে। এছাড়া হনুমান, দুর্যোধন প্রমূখ পৌরাণিক চরিত্রের গর্ভবাসের কথা এ প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য।
যাঁরা বাঁকুড়ার লোককবি পীতাম্বর দাসের বিখ্যাত গান 'একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি'র পঞ্চম তথা শেষ কলিতে "দশ মাস ১০ দিন পরে" জন্ম নেওয়ার প্রসঙ্গে গানটিতে মেডিকেল সাইন্সের জ্ঞানের সঙ্গে যে অসংগতির কথা চোখে পড়ে জিজ্ঞাসা প্রশমনের জন্য লিখলাম।
'মাসির ঘরে' জন্ম নেওয়ার যে ভবিষ্যৎ বাণী তথা জন্মান্তরবাদের ইঙ্গিত তা নিয়ে ভবিষ্যতে বিস্তারিত লিখব।
দুর্গা পূজা উপলক্ষে শারদ উৎসবের বোনাসঃ গানটির চতুর্থ কলিতে আছে-
" বারো লক্ষ তেত্রিশ কোটি রইল মা তোর ব্যাটা বেটি তাদের নিয়ে ঘর করিস মা বৌদের করিস দাসী"
এখানে জনসংখ্যার পরিসংখ্যানগত ভুল আছে। গানটি ক্ষুদিরামের বয়ানে (প্রথম পুরুষে) প্রকাশিত হয়েছে।
কিন্তু ক্ষুদিরামের ফাঁসির সময়ে ভারতের জনসংখ্যা ছিল গানে উল্লেখিত সংখ্যার চেয়ে অনেক কম। ১৯১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী ভারতের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ২৫ কোটি ২০ লক্ষ। ১৯২১ সালের জনগণনা অনুযায়ী ভারতের লোক সংখ্যা ছিল ২৫ কোটি ১৩ লক্ষ! ১৯৩১ সালে জনসংখ্যা ছিল 35 কোটি। এবং ব্রিটিশ ভারতে শেষ আদমশুমারি অনুযায়ী অর্থাৎ ১৯৪১ সালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী মোট ভারতীয় ছিল ৩৮ কোটি।
বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী লতা মঙ্গেশকরের কন্ঠে গানটি ব্যবহৃত হয়েছে ১৯৬৬ সালে প্রকাশিত বাংলা 'সুভাষচন্দ্র' মুভিতে। গানটা গাইছে এক অন্ধ বাউল কন্যা বাবার হাত ধরে পথ চলার সময় । ক্ষুদিরামের ফাঁসি হয় ১৯০৮ সালে ১১ আগস্ট। তৎকালীন বাংলা প্রদেশের মোজাফফরপুর জেলে( বর্তমানে বিহার রাজ্যে অবস্থিত)। ক্ষুদিরামের ফাঁসির সময় নেতাজির বয়স ছিল প্রায় ১২ বছর।
❤❤জয় মানবতা❤❤
কলমে - Asit Bar
27/09/2024
।।বিশুদ্ধ জ্ঞান চর্চা বনাম বহুমুখী ক্ষমতার সাধনা ।।
তুমি ক্ষমতাশালী হতে চাও নাকি জ্ঞানী?
বর্তমান যুগে দাঁড়িয়ে অধিকাংশ মানুষই বলবে সে ক্ষমতাশালী হতে চায়, কেননা আমাদের চারপাশে জ্ঞানের চেয়ে ক্ষমতার কদরই বেশি।বর্তমান সমাজে তারাই একমাত্র প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছেন কারণ ক্ষমতার পাশাপাশি তারা আর্থিক দিক থেকেও সচ্ছল।
প্রশ্নানুসারে এবার প্রশ্ন আসে প্রশ্নে বলা হয়েছিল ক্ষমতাশালী নাকি জ্ঞানী তাহলে কি এটা ধরা হবে যে ক্ষমতাশালী তার কাছে জ্ঞান নেই অপরদিকে যে জ্ঞানী তার কাছে ক্ষমতা নেই!?
হ্যাঁ অনেকটা ঠিক তাই অর্থাৎ সরাসরি বলতে গেলে বলতে হয় বর্তমানে জ্ঞানের কদর কমছে তুমি জ্ঞানী মানেই কিন্তু তুমি ক্ষমতাশালী হয়ে উঠতে পারবে না অপরদিকে কেউ জ্ঞানী না অথচ সে ক্ষমতাশালী হয়ে উঠতে পারছে। আর এই হয়ে ওঠার পাল্লাটা ক্রমশই একদিকে ভারী হয়ে উঠছে।
সমাজে বহু সংখ্যক মানুষ বাস করে যদি তাদের গড় হিসাব করা হয় তাহলে দেখা যাবে জ্ঞানী মানুষের গড়ই বেশি অথচ সমাজে দাপটের সঙ্গে রাজত্ব করছে যারা এই গড়ের মধ্যে পড়ে না তাহলে আমরা ধরেনি তারা জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত নয় কিন্তু তাদের মধ্যে এমন কিছু বিশেষ ক্ষমতা আছে যা জ্ঞানীদেরকে পিছনে ফেলে দিতে পারছে। আর এইভাবেই ধীরে ধীরে গোটা দেশে আজকে রাজত্ব তাদেরই।
আর এই দেশেই কেউ যদি সর্ব জ্ঞানীও হতে চায় তাহলে তাদের জ্ঞান বিকাশের সীমানাটাও বাধা পড়ছে এই ক্ষমতাশালী মানুষদের হাতেই।
তুমি জ্ঞানী হতে চাও!কিন্তু
তোমার জ্ঞানের আলোয় তুমি কাউকে প্রভাবিত করতে চাও না অর্থাৎ তুমি কোন রকম ঝামেলায় নিজেকে জড়াতে চাওনা অথচ তোমার বসবাস ঝামেলামুক্ত সমাজে নয়। তোমার উদ্দেশ্য জ্ঞানী হওয়া এবং সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে সুন্দর একটা জীবন যাপন করা(সুন্দর যাপনটা কিন্তু সেই নিন্দনীয় সমাজেই)।
তুমি জ্ঞান অর্জন করেছ কেবলই নিজের স্বার্থে।কিন্তু দেখা যায় সমাজে নিন্দনীয় কিছু ঘটলে নিন্দাটা তুমিও বেশ গুছিয়েই কর!
তোমার উদ্দেশ্যের মধ্যে কিন্তু এটা ছিল না। অথচ এটা তোমার অজান্তেই এসে যাচ্ছে। কারণ কোনটা ঠিক কোনটা ঠিক না এই বোধ তোমার মধ্যে আছে। অথচ সে সমাজের কোন দায়িত্বই তুমি নিতে চাওনি। তুমি কেবল জ্ঞানী হতেই চেয়েছ আর সেটাই তুমি হয়েছো। তাই সমাজে ভালো দায়িত্ব যেমন তুমি নিতে চাওনি খারাপের সময়ও নিন্দার ভারটা নাই বা নিলে(শাসন করা তো তারই সাজে আদর করে যে)।
প্রকৃত জ্ঞানী কি এদেরকেই বলে যারা চাইলেই হয়তো সমাজটাকে একটু হলেও পরিবর্তন করতে পারে তাদের দ্বারা কিছুটা হলেও উন্নত হওয়া সম্ভব সমাজের অথচ তারা করে না। কিন্তু অপরদিকে দেখা যায় নিন্দাটাও তারা সুন্দরভাবে গুছিয়ে করে সে সুযোগটাও ছাড়ে না!তারা জ্ঞানী বটে কিন্তু তারা সাহসী নয় ভীতু।আর সমাজে মানুষ ভীতুদের জায়গা দিতে পছন্দ করে না।কারণ সমাজে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য প্রথমত চাই সাহস।তাই যারা জ্ঞানী নয় তারাই আজ রাজত্ব করছে।
সামাজে জ্ঞানীদের গুরুত্ব শুধু তাদের বৃত্তটুকুই কেন হয়ে উঠছে?
যার ফলে ক্ষমতাশালীদের গুরুত্ব সর্বত্র দেখা যাচ্ছে।
এবার তুমিই বলো তুমি কি হতে চাও সর্বজ্ঞানী ভীতু নাকি জ্ঞানী হয়ে সুন্দর সমাজ গঠনের অংশীদার!?
অন্ধকারটাকে যখন সম্পূর্ণ এড়িয়ে যেতেই পারছ না তাহলে অন্ধকারটাকে একটু আলোয় পরিণত করার চেষ্টা করেই দেখা যাক না!?
আমরাও সমাজের অংশ তাই সমাজে খারাপ কিছু হলে আমরা তার দায় থেকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে যেতে চাই কিন্তু পারি না কারণ আমরা দায়িত্ব নিতে ভয় পাই।
রাতারাতি কোন কিছুই পরিবর্তন করা সম্ভব না। তবে ইচ্ছাশক্তি এবং সকলের একাগ্রতা থাকলে বোধহয় অনেক কিছুই সম্ভব।
সমাজচিন্তন ও লেখনীতে🖊️
-সোনালী সাহা
ফটো - Google
26/09/2024
আজ বাঙালি তথা আধুনিক ভারতীয় মনিষীদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ কর্মযোগী ঈশ্বরচন্দ্রের জন্মবার্ষিকী। তিনি ১৮৪১ সালে 'বিদ্যাসাগর' ডিগ্রী লাভ করেন( হিন্দু আইন কমিটির অধ্যাপকগণ শংসাপত্রে এই উপাধির উল্লেখ করেন)।
বিদ্যাসাগরের জন্ম ১৮২০ সালে ও তাঁর মৃত্যু ঘটে ১৮৯১ সালে। ৭০ বছরের জীবনে তিনি তাঁর মহৎ কর্ম গুলোর দ্বারা বাঙালি তথা ভারতীয়দের চির ঋণী করে গেছেন।
বাংলা লিপি সংস্কার, বাংলা ভাষার গদ্যের বিকাশ, অভিধান ও ব্যাকরণ রচনা, সংস্কৃত, ইংরেজি, হিন্দি সাহিত্য থেকে বাংলা ভাষায় অনুবাদের মাধ্যমে বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করেছেন। বাল্মিকী, ব্যাস,কালিদাস, ভবভূতি, বানভট্ট, শেক্সপিয়ার, চেম্বার্স,ইশপ্স, লল্লুলাল প্রমুখ সাহিত্যিকের রচনার স্বাদ তিনি বাংলায় পরিবেশন করেছেন ।জেশুয়া মার্শম্যানের 'হিস্ট্রি অফ বেঙ্গল'( history of Bengal)বইয়ের বাংলা অনুবাদ করে ১৮৪৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম বাংলার ইতিহাস রচনা করেন।
বিদ্যাসাগর ১৮৫৩ থেকে ১৮৫৮ সালের মধ্যে 'সর্ব দর্শন সংগ্রহ' বইটা সম্পাদনা করেন। শৃঙ্গেরী সারদা মঠের জগদ্গুরু মাধবাচার্য বিদ্যারণ্য গ্রন্থটি রচনা করেছিলেন। মাধবাচার্যের জন্ম ১২৬৮ সালে ও ১৩৯১ সালে মৃত্যু। ভারতীয় প্রধান দর্শন গুলোর রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে বইটাতে।
ড্রিঙ্কওয়াটার বিটনের সঙ্গে থেকে তাঁর সাহায্যে তিনি ভারতে প্রথম বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। নারী শিক্ষার প্রসারে বিদ্যাসাগরের অনস্বীকার্য অবদান রয়েছে। বহু ( ১৮৫১ থেকে ১৮৫৫ সালের মধ্যে প্রায় ৩৫ টা )বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন তিনি।
১৮৫৭ সালে 'চরিতাবলী'তে তিনি বিশ্বের বহু মহান মানুষের সংক্ষিপ্ত জীবনী বাংলায় লিখে বাঙালির সামনে আদর্শের নতুন প্রশস্ত দরজা খুলে দিয়েছিলেন ।১৮৫৮ সালে তিনি 'সোমপ্রকাশ' নামক সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করেন। ভারতীয় ভাষায় সেটিই ছিল প্রথম পত্রিকা যেখানে রাজনৈতিক আলোচনার স্থান ছিল। তাঁর লেখা প্রবন্ধগুলো চিন্তা জগতকে প্রসারিত করে। তাঁর ইংরেজি রচনাও ভারতীয় মানসকে প্রভাবিত করেছে।
ইশ্বরচন্দ্র অন্নসত্র, বস্ত্র, শিক্ষার সরঞ্জাম ,চিকিৎসা এমনকি নগদ টাকা দিয়েও বহু মানুষের উপকার করে গেছেন সারা জীবন। বাল্যবিবাহ রোধে বিদ্যাসাগরের বলিষ্ঠ প্রচেষ্টা সক্রিয় ছিল। যদিও বিদ্যাসাগরের মৃত্যুর বছরে বেহেরামজি মেরওয়ানজি মালাবারি( ১৮৫৩- ১৯১২) সহ বহু ভারতীয় ও ইউরোপীয় সংস্কারকের প্রচেষ্টায় Concent act ১৮৯১ পাস হয়েছিল। এই আইনে বিবাহিত মেয়েদের সঙ্গে পুরুষের যৌন সংসর্গেরর ন্যূনতম বয়স ১০ থেকে ১২ বছর করা হয়েছিল।
ভারতীয় উচ্চ বর্ণের কুলীন সমাজের জঘন্য ও নৃশংস প্রথার বিরুদ্ধে তিনি বিধবা বিবাহের প্রচলনের জন্য লড়াই করেছিলেন। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে লর্ড ডালহৌসের সময় খসড়া প্রস্তুত হয় এবং লর্ড ক্যানিংয়ের আমলে ১৬ জুলাই ১৮৫৬ সালে বিধবা বিবাহ আইনত বৈধতা লাভ করে।
১৮৫০ ও ১৮৫৩ সালে লেখা চিঠিতে দেখা যায় বিদ্যাসাগর সংস্কৃত কলেজের সিলেবাস নিয়ে যে সমস্ত কথা বলছেন সেখানে ইংরেজি ভাষায় গুরুত্বারোপ ,পাশ্চাত্য আধুনিক গণিত ও বিজ্ঞান শিক্ষার মাধ্যম ইংরেজি ও ভারতীয় দর্শন গুলোর সঙ্গে পাশ্চাত্যের আধুনিক দর্শনের সংযুক্তি তিনি দাবি করছেন ভারতীয় দর্শনের দুর্বলতা ও ভ্রান্তি গুলো বোঝার জন্য। ভারতীয় পুরনো শিক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তে তিনি আধুনিক ইউরোপীয় শিক্ষাব্যবস্থাকে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেছিলেন।
জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি বিদ্যাসাগর ঈশ্বরচন্দ্র (বন্দোপাধ্যায়) শর্ম্মাকে।
লেখা - অসিত বর
ছবি - google
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Howrah
711114