Rat & Rik
366 days continuous travel across India. Dekho Bharatvarsh with Rat and Rik.
366 days ~ 366 shorts
14/11/2024
৩৬৬ দিনের ভারত ভ্রমণ জার্নি আমাদের জীবনের অন্যতম সুন্দর মুহূর্ত গুলো উপহার দিয়েছে, যা আমাদের সারা জীবনের পাথেয় হয়ে থাকবে। এই পুরস্কারটি পেয়ে আমরা অশেষ কৃতজ্ঞ। আমাদের সফলতার পথে যারা আমাদের সহায়তা করেছেন, তাদের প্রতি রইল অন্তর থেকে ধন্যবাদ। এই সম্মান আমাদের একক প্রচেষ্টার ফল নয়, বরং আমাদের আশপাশের মানুষের ভালোবাসা, সহযোগিতা ও প্রেরণার ফলস্বরূপ। ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করতে চেষ্টা করব।
12/11/2024
৩৬৬ দিনের ভারত ভ্রমণ গপ্পোকথা পর্ব ১১
ছোটবেলার বই এর পাতা থেকে চোখের সামনে নিজের দেশ কে দেখার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম তা প্রতিদিন আমাদের সুন্দর মুহূর্ত উপহার দিয়ে যাচ্ছে। গুয়াহাটি আগেও এসেছি কিন্তু একদিন ও মনে হচ্ছে না কেন এলাম। সব জায়গায় দিন দিন চেঞ্জ হয়ে যাচ্ছে। আর জানার শেষ এক জন্মে হবে না।
চলুন বেরিয়ে পড়ি আবার শহর ঘুরতে। আগের এক পর্বে আপনাদের ropeway চরিয়েছিলাম তখন ই পাখির চোখে দেখেছিলাম ছোট্ট একটা দ্বীপ নদীর উপর। নাম উমানন্দ দ্বীপ অথবা peacock island. আমাদের দেশের সব থেকে ছোট নদী দ্বীপ। নৌকো করে যাবার পরিকল্পনা নিয়েই বেড়িয়েছি। বাস এ করে পৌঁছে গেলাম ফেরি ঘাট, ওখান থেকেই নৌকো করে যাবো। কিন্তু পৌঁছে জানলাম নদীর জল বিপদসীমা ছাড়িয়েছে তাই আমাদের সীমা সীমিত হয়ে গেছে। মোটামুটি প্রতি বছর ই সব পরিষেবা বন্ধ থাকে বর্ষাকালে। ভ্রমনের এসব ছোট ছোট তথ্য গুগল দাদু তো আর দিতে পারছে না, তাই অগত্যা মুখ ভার করে ফেরার রাস্তা ধরলাম। কিন্তু ভ্রমণ এমন একটা জিনিস মুখ ভার করে রাখতেই দেয়না। চলে গেলাম ফ্যান্সি বাজারে। মন ভালো করা জিনিস পাওয়া যায়। ঘুরে বাড়ির পথ ধরার পরিকল্পনা থাকলে এখানে যাওয়া টা খুবই জরুরি তবে আমাদের মতো যাযাবর হলে চোখ ভরাতে পারলেও মন ভরানোর রাস্তা বন্ধ। বেশ কিছুদিন এই শহর টাতে থাকলেও ডাক পড়েছে পরবর্তী গন্তব্যের। আমার দেশের কোনো কর্নার নিরাশ করার মতো নয়। নতুন জায়গায় যাওয়ার আনন্দ র পুরোনো জায়গা কে ছাড়ার দুঃখ নিজেদের মধ্যেই দ্বন্দ্ব করে চলছে।
এইবারের মতো গুয়াহাটি তে শেষ দিন হলেও এবারের গুয়াহাটি তে দেখা হওয়া কিছু মানুষ জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত থেকে যাবে। এগুলোই ভ্রমনের আসল জীবন।
Travellers হওয়া এত ইসি তো কোনোদিন ই নয়। এই ব্যাগ এর বোঝা, তার উপর ৩-৪ দিনের বেশি কোনো জায়গা তেই না থাকা, হেলথ ইস্যু, এই ১০-১২ দিনেই তা ভালো করে বুঝিয়ে দিয়েছে।
পরবর্তী গন্তব্য হলো এমন একটি রাজ্য যার নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে তার পরিচয়। মেঘালয় স্টেট ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন এর বাস এ ২ টো সিট বুক করলাম রেডবাস এপ থেকে জনপ্রতি ভাড়া ২০০ টাকা । পরবর্তী গন্তব্য মেঘালয়। বাস আছে সকাল ৭ টায়। সকালে হোস্টেল এর বন্ধুদের টাটা জানিয়ে আমরা বেরিয়ে পড়লাম paltan bazar এর উদ্দেশ্যে। বাস ছাড়বে ASTC Paltan bazar স্টপ থেকেই। সকাল ৭ টায় ছাড়িবে, পৌঁছবে ১০ টায়। মাত্র ৩ ঘন্টার ই জার্নি। তবে এই বর্ষাকালে মেঘলায়া নিজের চোখে দেখা টাও একটা ভাগ্যের বেপার। তবে সব থেকে কম খরচে এই সুন্দর রাজ্য তা কিভাবে ঘোরা যাবে প্রত্যেক টা ইনফরমেশন থাকবে আগামী প্রত্যেক টা পর্বে। ২ দিন আগেই আমরা এই সিট বুক করেছি কারণ কোনো বড়ো বাস এই রুট এ চলে না, যা চলে তা মেইনলি ট্রাভেলার গাড়ি। উঠে পড়লাম গাড়িতে। দেখা হবে পরবর্তী পর্বে নতুন রাজ্যের সাথে।
07/11/2024
৩৬৬ দিনের ভারত ভ্রমণ গপ্পোকথা পরবো ১০
আগের দিন সন্ধ্যের মধ্যে ফিরে পড়েছিলাম কারণ জানতাম আজকে খুব তাড়াতাড়ি আমাদের বেরোতে হবে। গুয়াহাটির অন্যতম একটি আকর্ষিত জায়গা এটি। পাঁচ বছর আগে বাবা মার সাথে আমরা দুজনই এই জায়গাটায় এসেছিলাম। আজকে আমাদের গন্তব্য গুয়াহাটির মা কামাখ্যা মন্দির। আমাদের হিন্দু ধর্মের একান্ন সতী পিঠের চার নম্বর স্থানে রয়েছে এই মন্দিরটি।
গুয়াহাটির নীলাচল পর্বতের ওপরে অবস্থিত এই মন্দির।
হোস্টেল থেকে একদম সকালে আমরা বেরিয়ে পড়লাম ফ্রেশ হয়ে, প্রথমেই একটা uber cab বুক করে নিলাম। তবে ক্যাবে ওঠার পর জানতে পারলাম ড্রাইভার দাদা বলছে যে নীলাচল পর্বতের নিচেই আমাদেরকে নেমে যেতে হবে এই ক্যাপ সার্ভিস ওপর পর্যন্ত অ্যালাউ নেই। সময় লাগলো আমাদের মোটামুটি কুড়ি মিনিট থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে আমরা নেমে গেলাম সেই স্টপেজেই, তবে এই আমাদের হোস্টেল থেকে এই পর্যন্ত যাওয়ার জন্য বাসের সার্ভিসও আছে তবে আমাদের একটু তাড়া থাকার কারণে আমরা ক্যাব বুক করেছিলাম। ক্যাব থেকে নেমেই দেখলাম যে সামনেই দাঁড়িয়ে আছে শেয়ার মারুতি গাড়ি। যেটা করে যেতে হবে আমাদের মন্দিরের সামনে, ভাড়া জনপ্রতি কুড়ি টাকা। আমরাও কুড়ি টাকা করে দিয়ে পৌঁছে গেলাম কামাখ্যা মন্দিরের ওপরে। মোটামুটি আমরা মন্দিরে পৌঁছেছিলাম সকাল নটা নাগাদ আর দিনটা ছিল শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার।
গাড়ি থেকে নেমেই আমরা আমাদের জুতো আর ব্যাক সাবমিট করলাম এক দোকানে এবং সেখান থেকে একটি পুজোর ডালাও নিয়ে নিলাম। আমাদের দুজনেরই দৃষ্টিভঙ্গিতে যে কোন ভক্তির জায়গা আমরা জেনারেল লাইনে লাইন দিয়েই দেখতে বেশি পছন্দ করি। চলে গেলাম জেনারেল লাইনে লাইন দিতে, ঢোকার মুখেই আমাদের এন্ট্রি টিকিট করা হলো, না কোনো রকম চার্জ লাগবে না তবে এখানে নতুন সিস্টেম তৈরি হয়েছে আপনার ফটো সমেত একটা চিরকুট কম্পিউটার থেকে বেরিয়ে আসবে, সেই চিরকুটে আপনার ঢোকার টাইমটা মেনশন থাকবে এবং এক্সপেক্টেড কোন সময় আপনি দর্শন করতে পারবেন সেটাও সেখানে মেনশন থাকবে। আমরা এই চিরকুট টা পেলাম সকাল সাড়ে নটা নাগাদ আর আমাদের এক্সপেক্টেড দর্শনের সময় লেখা ছিল দুপুর আড়াইটা নাগাদ। এই মন্দির সকাল সাড়ে পাঁচটা থেকে দুপুর একটা এবং তারপর দুপুর আড়াইটা থেকে বিকাল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত খোলা থাকে রেগুলার।
সকাল ০৯:৩০ টা নাগাদ আমরা লাইন দিলাম দেখে কিন্তু একদমই মনে হচ্ছে না যে আড়াইটেও আমাদের বাজতে পারে, আর একটা কথা এই লাইনের মাঝে খুব সুন্দর বসার জায়গা এবং ফ্যানের সুব্যবস্থা রয়েছে, পানীয় জলও খুব সহজ ভাবে উপলব্ধ। লাইনে বসে এই আমরা অনেক গল্প করতে শুরু করলাম পাঁচ বছর আগে সেই সব স্মৃতি আমরা উন্মোচন করলাম এবং এই ভাবেই কিছুটা সময় আমাদের তো কেটে গেল তখন ওই ঘড়ির কাঁটায় ধরুন একটা বাজে, লাইনের অগ্রগতি কিন্তু একদমই কিছু নেই, সকাল সাড়ে নটা থেকে তখন দুপুর 1. হয়তো আমরা ১০০ থেকে ১৫০ মিটার সবে এসে পৌঁছেছি। তখন একটু চিন্তার ভাঁজ কপালে এসেই গেছে যে আদৌ কি আড়াইটার মধ্যে হবে ব্যাপারটা? যাইহোক এসব ভাবতে ভাবতেই এটা তো ঠিকই যে আমরা যখন এসেছি দর্শন তো করেই আমরা ফিরব। তবে আগের বারে এসে এত কিন্তু বেগ পেতে হয়নি এখন বর্তমানে কোভিড পরবর্তী সময়ে মানুষ অনেক বেশি ভ্রমণ পিপাসু হয়ে উঠেছে বিশেষ করে বাঙালিরা অনেক বেশি ভ্রমণ পিপাসু হয়ে উঠেছে। এবং তার সাথে শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার হওয়ার কারণে ভিড়ের মাত্রা অত্যাধিক বেশি। দুপুর একটা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত এই মন্দিরের দরজা বন্ধ থাকে তাই আড়াইটে ও বেজে গেল আমরা ওয়েট করছি কিন্তু আড়াইটার সময়ও আমাদের দর্শন কিন্তু হলো না। লাইন দিয়ে এগোতে এগোতে ফাইনালি বিকাল সাড়ে চারটের সময় আমরা দর্শন করলাম মা কামাখ্যা দেবীর। এই মন্দির ঘিরে সবথেকে বড় উৎসব হয় অম্বুবাচী মেলা। প্রত্যেক বছর এর একটি সময় প্রত্যেক দেবীর মেন্সট্রায়েশন ঘিরে এই উৎসব পালন করা হয়। প্রত্যেক বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ এই সময়ে এই মন্দিরে দর্শনে আসেন। এই মন্দিরের গর্ভ গৃহে কোনরকম আলোর ব্যবস্থা নেই শুধুমাত্র প্রদীপের শিখায় জ্বলছে, জায়গাটা দেখে একটু দম বন্ধ মনে হতেই পারে কিন্তু ভগবানের দর্শন যেখানে হবে সেখানে এটুকু তো সহ্য করাই যায়। গর্ভ গৃহে গিয়ে ঢুকে আমরা দর্শন করলাম মা কামাখ্যা দেবী এবং সাথে পুজোও দিয়ে দিলাম। গর্ভগৃহ থেকে বেরিয়ে এসে একটি জায়গা করা আছে যেখানে আপনি ধূপ এবং প্রদীপ জ্বালাতে পারবেন, আমরাও যথারীতি সেখানে আমাদের ধুপ এবং প্রদীপ জ্বালালাম। শেষ পর্যন্ত বিকাল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ আমাদের শেষ হলো দর্শন বেরিয়ে গেলাম আমরা মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে। মন্দির প্রাঙ্গণের বাইরে আপনি অনেক রকম এই ডালার দোকান এবং কিছু ভেজ খাবার দাবারের দোকান পাবেন যে ধরনের কচুরি রাধাবল্লবি বা লুচি আপনি এই ধরনের খাবার সারাদিন সেখানে পেয়ে যাবেন। সকাল থেকে আমরা পুরোটাই না খেয়েই এই পুজো দিলাম এবং তারপরে আমরা গেলাম একটি দোকানে যেখানে আমরা আমাদের লাঞ্চ অথবা বলুন ব্রেকফাস্ট সব সেরে নিলাম তখন বাজে ওই ঘড়ির কাঁটায় ছটা। যতই দেরি হোক না কেন যতই কষ্ট হোক না কেন দর্শনটা হয়ে গেলে সবকিছু যেন মিলিয়ে যায়। আমাদের এই ৩৬৬ দিনের ভারত ভ্রমণের প্রথম মন্দির দর্শন আমরা শেষ করলাম।
এরপরে পুনরায় আমরা ফোন জুতো এবং আমাদের ব্যাগ নিয়ে কুড়ি টাকার জন প্রতি নিচে নেমে গেলাম, তবে এবারে আমরা হোস্টেলে ফিরব উবার কেবে নয় বাসে করেই। দেখা হচ্ছে পরবর্তী পর্বে। ভালো থাকুন।
27/09/2024
৩৬৬ দিনের ভারত ভ্রমণ গপ্পোকথা ৯
আগের দিন রাত্রে গুয়াহাটি পৌঁছে রিটায়ারিং রুমে চেক ইন করলাম। রুম টা বেশ বড়ো, AC খুব ভালো কাজ করছে, ২ টি বেড আছে, একটা ওয়ারড্রবও আছে। বেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ঘরটা। এরপরেই জমেটো থেকে খাবার অর্ডার করলাম এবং তা দিয়ে আমাদের রাতের খাবার শেষ হল। তবে গৌহাটি স্টেশনের বাইরে ও আইআরসিটিসির ফুড কাউন্টার আছে, সেখান থেকেও আপনারা খাবার খেতে পারেন। আমাদের রিটায়ারি রুম বুক ছিল রাত্রি আটটা থেকে পরের দিন সকাল ৮ টা পর্যন্ত, ১২ ঘন্টায় টোটাল ভাড়া হয়েছিল ৬৫০ টাকা।
এর পর পরের দিনের প্ল্যান নিয়ে বসলাম। কোথায় থাকা যায় সেই নিয়ে বিস্তর আলোচনার পর ঠিক করলাম হোস্টেলে থাকবো। অনলাইন বিভিন্ন প্লাটফর্মে একটি হোস্টেল বারবার ই চোখের সামনে আসছিলো। গুগলে সার্চ করে নম্বর টা নিয়ে ডিরেক্ট ফোন করলাম। বুক করলাম ২ টো AC বেড। ৩৫০/- টাকা করে প্রতি বেড প্রতি দিনের খরচ। অফলাইন এ বুক করে নিলাম।
পরের দিন সকালে uber বুক করে বেরিয়ে গেলাম স্টেশন থেকে।
গুয়াহাটি তে উবার ক্যাপ সার্ভিস কিন্তু খুবই ভালো। আমরাও তাই উবার বুক করে পৌঁছে গেলাম আমাদের আমাদের এই জার্নির প্রথম ট্রাভেলার হোস্টেল স্টে তে। হোস্টেলটির নাম ছিল gibbon backpackers hostel. হোস্টেলের মালিক এই হোস্টেলের থাকেন না, একজন কেয়ারটেকার আছে যিনি সব ব্যবস্থা করে দেন, নাম মহব্বত। আমরাও যাবার পর চেকিং করলাম এবং আমাদের নির্দিষ্ট বেডে পৌঁছে গেলাম। মাঝবেশী থেকে অল্পবয়সী ছেলে থেকে মেয়ে সবারই এখানে থাকার ব্যবস্থা আছে, তবে ছেলে মেয়ের আলাদা রুমের ব্যবস্থা নেই। চারিদিকটা খুব সুন্দরভাবে সাজানো, একটা যাযাবর যাযাবর ফিলিংস আছে। Solo ট্রাভেল কাপেল ট্রাভেল অথবা বন্ধুদের গ্রুপ থাকার জন্য এই হোস্টেল এখনকার দিনে খুবই উপযোগী একটা ব্যবস্থা। ট্রাভেলর দের দুনিয়ায় এই হোস্টেল একটা আলাদাই মাহাত্ম্য নিয়ে এসেছে। ব্যাগ পত্র রেখে বেরিয়ে গেলাম লাঞ্চ করতে। হোস্টেল থেকে পায়ে হাটা দূরত্বেই আছে বেশ কিছু ভাতের হোটেল যেখানে আমরা পেয়ে গেলাম আসামিস ভাতের থালি। আসামের মানুষদের খাবারদাবারের সাথে বাঙ্গালীদের খাবারদাবারের অনেকাংশেই মিল দেখা যায় এবং তা খুব অল্প দামেই পাওয়া যায়। মাত্র ১৪০ টাকার পরিবর্তে আমরা নিয়ে নিলাম দুপ্লেট চিকেন থালি। খাবারের স্বাদ অসাধারণ।
লাঞ্চ করেই আমরা বেরিয়ে পড়লাম গুয়াহাটির প্রথম স্পট ঘুরে দেখার জন্য, পৌছে গেলাম পান বাজারে এরিয়া। প্রথম দিনের প্রথম গন্তব্য হতে চলেছেন নর্থ গুয়াহাটি। নর্থ গুয়াহাটি পৌঁছানোর জন্য আমাদের যেতে হবে ropeway করে যা ছাড়ে পানবাজার এরিয়ায় নেহেরু পার্কের অপজিট সাইট থেকে। প্রধানত এই রোপওয়ে কভার করে ব্রহ্মপুত্র নদের একপাড় থেকে আরেক পাড়ে যাওয়া। এই রোপোয়েতে বোথ ওয়াইজের ভাড়া পড়ে ২০০ টাকা জন প্রতি। মূলত এই নেহেরু পার্ক এরিয়াকে বলা হয় লোয়ার টার্মিনাল এবং ropeway যে পর্যন্ত যায় তাকে বলা হয় আপার টার্মিনাল। ঠিক নেহেরু পার্কের অপজিটেই আছে এর উপরের স্টার্টিং পয়েন্ট যেখান থেকে আপনারা টিকিট সংগ্রহ করে রোপওয়ে চড়তে পারবেন, আর গিয়ে পৌঁছাবেন রাজুর দ্বারা (Rajadwar) ভিলেজ অথবা ডোল গোবিন্দ মন্দিরের কাছে। আমরা গিয়েছিলাম বর্ষাকালে তাই ব্রহ্ম পুত্রের যে রূপ তা ছিল খুবই ভয়ঙ্কর যেটা আমরা রোপইয়ের উপর থেকে ভালোভাবে বুঝতে পারছিলাম। এই রোপোয় থেকে ব্রহ্মপুত্র এর একটা প্যানারমিক ভিউ আপনারা এনজয় করতে পারবেন তাছাড়াও আপনারা দেখতে পাবেন উমানন্দ আইল্যান্ড অথবা পিকক আইল্যান্ড। টোটাল ১.৮ কিলোমিটার রাস্তা কভার করে এই ropeway. মোটামুটি সাত থেকে দশ মিনিটের সময় লাগে ব্রহ্মপুত্রের এক পাড় থেকে অপর পাড়ে যেতে। এর ওপরে খোলা থাকে সকাল সাড়ে আটটা থেকে বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত মাঝখানে দুপুর ১:০০ থেকে ১:৪৫ পর্যন্ত থাকে লাঞ্চ ব্রেক। তবে আপনারা যদি দুপুর তিনটে নাগাদ এই ropeway avail করেন তাহলে সেটাই হবে সবথেকে বেস্ট টাইম। আপার টারমিনালে পৌঁছানোর পর আপনারা হেঁটেও ঘুরতে পারেন অথবা সেখানে বাইকের ব্যবস্থা আছে আপনারা বাইকে করেও ঘুরতে পারেন আশেপাশের যে গ্রাম আছে অথবা ডোল গোবিন্দ মন্দির ও আপনারা সেই ভাবেই যেতে পারেন। বাইকের ভাড়া আলাদা, ropeway এর চার্জেসের সাথে এর কোনো সম্বন্ধ নেই। আমরা হাঁটা পথে আশপাশটা ঘুরে আবার রোপোয়ে করে ব্যাক করলাম লোয়ার টার্মিনালে। আমাদের হোস্টেল থেকে শহরের মোটামুটি সব জায়গায় বাসধারা কানেক্টেড তাই আমরা এসেছিলামও বাসে আর যাব আমরা এখান থেকে বাসে।
আমরা জাস্ট রোপয় থেকে নেমে বাইরের দিকে যখনই বেরিয়েছি দেখলাম একটা ভুট্টার দোকান তো খেতে খুব ইচ্ছে হলো তো গেলাম, ভুট্টা নিয়ে আমরা খেতে খেতেই আলোচনা করছিলাম যে কোথায় যাওয়া যায়, হঠাৎ করে কাকু টা বলে উঠল যে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ক্রুজ সার্ভিস চলে এবং আপনার সুন্দর সানসেট দেখতে পাবেন। জায়গাটা উনি মেনশন করলেন এমজি রোড। আমরাও মোটামুটি রেডি হয়ে ওখান থেকে চলে গেলাম যে আজকে ক্রুশে চড়বো। মোটামুটি দু'রকমের প্যাকেজ অ্যাভেলেবল একটা হল সানসেট ক্রুষ যেটা পাঁচটা থেকে সাড়ে ছটা চলে আরেকটি হল সান ডাউন ক্রস যেটা সাতটা থেকে আটটার মতো চলে। সানসেট ক্রুজের ভাড়া মোটামুটি ৭০০ আশেপাশে জনপ্রতি আর সান ডাউন ক্রসের ভাড়া মোটামুটি ৪০০ টাকার জনপ্রতি, এর সাথে ইভিনিং স্নাক্স ইনক্লুডিং থাকে। এসব information আমরা ওখানে গিয়ে জানতে পারলেও আমরা এই ক্রুজ রাইড করতে পারিনি, কারণ আমরা আগেই বলেছি যে আমরা এই গুয়াহাটি গিয়েছিলাম বর্ষাকালে, এই বর্ষাকালে ব্রহ্মপুত্রের জল বিপদসীমার ওপরে চলে গেলে এই ক্রুজ রাইড অথবা যেকোনো ধরনের যাত্রীবাহী যান বন্ধ থাকে ব্রহ্মপুত্র এ। তাই এবারের মত ক্রুজ রাইড অধরাই থেকে গেল আমাদের কাছে। বাস ধরে ফিরে এলাম আমাদের হোস্টেলে। আজ ভারত ভ্রমণের গল্প এতোটুকুই দেখা হবে পরবর্তী পর্বে ভালো থাকুন।
23/09/2024
অনেক স্মৃতিতে ভরা এক জায়গা। মাঝে মাঝে এই সত্যি ঘটনা গুলো গল্প মনে হয়। নিজের চোখে দেখার পর সত্যি টা বিশ্বাস করতে একটু বেগ পেতে হয়। আমাদের দেশে এরকমই অনেক জায়গার মধ্যে এটি একটি।
18/09/2024
কুলধারা।
জয়সালমির এর খুব কাছে এক অদ্ভুত গ্রাম কুলধারা। এই পুরো জার্নির মধ্যে এক অন্য রকম ইচ্ছা পূরণ।
14/09/2024
বার বার আমরা হাম্পি যেতে চাই। এ শহর আমাদের কল্পনার শহর। প্রত্যেক ভারতীয়র উচিত একবার হাম্পি আসার। ইতিহাস বই এর পাতায় এই শহরের নাম খুব একটা আসে না। তবে এ শহর আমাদের দেশের রত্ন।
12/09/2024
কিছুদিন আগে Banzaras × Decathlon এর ইভেন্টের কিছু মুহূর্ত। খুবই সুন্দর একটা অভিজ্ঞতা আমাদের ঝুলিতে আবারো। অনেক ধন্যবাদ আমাদের ইনভাইট করার জন্য।
11/09/2024
৩৬৬ দিনের ভারত ভ্রমনের চতুর্থ রাজ্য ছিল মেঘালয়।
এই ভয়ানক সময়ে লেখা লেখি একদম বন্ধ করে ফেলেছি, তবে ভাবছি লেখা লেখি শুরু করবো আবার।
ছবিটি তুলেছিলাম নোকালিকায় ফলস থেকে হোমস্টে তে ফেরার পথে। সবুজে মোরা, বৃষ্টির মাঝে নাম না জানা কোনো জায়গায়।
13/08/2024
Thank you so much for the invitation! Banzaras. We are thrilled to be a part of this event. Looking forward to connecting with everyone and making some great memories. See you there!
Registration link
https://play.decathlon.in/event-details/Offbeat-Trekking-Workshop-with-Banzaras/1268bcc0-52dd-11ef-ae83-ab3b608f0d92?utm_source=sharebutton&utm_medium=decathlon_play_partner_app&utm_campaign=externalshare
11/08/2024
পাহাড়ে না গেলে পাহাড়-প্রমান স্বপ্ন টা দেখতাম কি করে?
10/08/2024
৩৬৬ দিনের ভারত ভ্রমণ গপ্পোকথা ৮
জীবন এর অনেক অনেক বড়ো শিক্ষা আমরা ট্রাভেল থেকে পাই। আগের দিনের এপিসোড এ আমরা সেটা আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি। আমরাও শিখতেই বেড়িয়েছি। আমাদের মধ্যেও প্রেসেন্স র প্রবলেম তো ছিল কিন্তু এই ধরণের ঘটনা প্রত্যেক বার আমাদের ক অনেক কিছু শিখিয়ে দেয়। বেঁচে থাকার লড়াই তেতো এগুলো ও সামিল হয়।
বদরপুর জায়গা টা সম্পর্কে খুবই বেশি আইডিয়া তো ছিল না, যে কোনো নতুন জায়গায় গেলেই আমাদের প্রাইমারি টার্গেট হয় তাড়াতাড়ি কাজ সেরে বেরিয়ে পরবো। যেমন চিন্তা তেমন কাজ তাড়াতাড়ি কাজ সেরে বেরিয়ে গেলাম, স্টেশন এর সামনের দোকানের কাকু টাকেই জিজ্ঞাসা করলাম মেইন মার্কেট এরিয়া টা কোথায়? রাস্তা দেখিয়ে দিলেন, টোটো ও আছে তবে অল্প রাস্তা আমরা হাঁটা পথে যেতেই পছন্দ করি। হাঁটতে শুরু করলাম তখনও দিনের আলো কিছুটা আছে। বেশ কিছুটা হেঁটে পৌঁছলাম জায়গা টাতে, ছোট্ট একটা জায়গা, দৈনন্দিন জীবনে লাগবে এরকম বেশ কিছু দোকান র সাথে বেশ কয়েকটা ছোট ছোট রেস্টুরেন্ট আছে।
বাঙ্গালীর জীবনে চা এর গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন করাটা সময় নষ্ট বলেই আমার মনে হয়। মাটির ভাড়ে চা এ চুমুক দিতে দিতে কাকার থেকে জেনে নিলাম ট্রেন ছাড়া র কি ভাবে এই জায়গা বাকি জায়গার সাথে কানেক্টেড। সঙ্গে সঙ্গে পেয়ে গেলাম উত্তর, আসাম এর বহু জায়গা এবং নর্থ ইস্ট এর আরো রাজ্যের সাথে এই জায়গা বিভিন্ন বেসরকারি বাস দারা যুক্ত। চা শেষ করে সামনে এগোতেই তা ভালো ভাবেই বুঝতে পারলাম, প্রচুর বাস বুকিং কাউন্টার র প্রচুর মানুষের সমাবেশ।
আমরা কাল যাবো আসাম এর সব থেকে বড়ো শহর গুয়াহাটি তে, তাই গুয়াহাটি র বাস সম্পর্কে ও জেনে নিলাম। বাস তো আছে কিন্তু বেশিরভাগ বাস রাত্রের দিকে, দূরত্ত অনুযায়ী ওই ধরুন সময় লাগবে ১২ ঘন্টা। নম্বর টা নিয়ে নিলাম, কারণ আমাদের এখনো ঠিক করা হয়নি আমরা যাবো কিভাবে? এসব মিটিয়ে সোজা পৌঁছে গেলাম একটা রেস্টুরেন্ট এ, দুজনেই আমরা খাদ্য প্রেমী মানুষ। নানান রকমের খাবার আমাদের মন কে আনন্দ দেয়। সকাল থেকে হেক্টিক দিন গেছে তাই আজকের মেনু একটু আধুনিক হতেই হবে। রুটি, চিল্লি চিকেন। মন ভালো না থাকলে ডিসিশন নেওয়া আবার দুস্কর হয়ে পরে।
খাবার প্যাক করে নিয়ে হাঁটতে শুরু করলাম স্টেশন এর দিকে, বেশ অন্ধকার রাস্তা, লোকজন ও খুবই কম। স্টেশন এর পরিমাপ ও ছোট হবার কারণে লোকজন খুবই কম রাত্রে র দিকে। রুম এ ফিরে প্রথম কাজ হলো কালকের প্ল্যান টা ঠিক করে ফেলা। ঝটপট IRCTC বুকিং এপ খুলে ফেললাম। বাস এর থেকে ট্রেন জার্নিতে আমাদের অলওয়েজ ভোট আগে, দেখলাম শিলচর গুয়াহাটি এক্সপ্রেস এ পরের দিন সকালে AC 3 TIER e ticket ফাঁকা আছে। এ তো সোনায় সোহাগা, যদিও আমাদের প্ল্যান অনুযায়ী দিনের বেলার জার্নি SL e আর রাত্রের জার্নি AC তে করার কথা কিন্তু এই মুহূর্তে কিছু করার নেই। সঙ্গে সঙ্গে টিকিট কাটলাম ওই ৬২০ টাকা জন প্রতি পড়লো। সিট এবারে SL & SU.
দারুন সুখবর। টিকিট কেটেই ল্যাপটপ র পাশের উইন্ডো তেই খুললাম রিটায়ারিং রুম বুকিং র ওয়েবসাইট টা, আগের দিন ই আপনাদের বললাম এবার থেকে সব স্টেশন এর প্রায়োরিটি হবে রিটায়ারিং রুম। PNR নাম্বার টা টুক করে কপি করে ঝট করে পেস্ট করে দিলাম দেন সার্চ, ব্যাস আবার একটা ম্যাজিক হয়ে গেল। পেয়ে গেলাম গুয়াহাটি স্টেশন এর AC ROOM ১২ ঘন্টার জন্য, ভাড়া পড়লো ৬৫০ মতো। এই আনন্দে রুটি চিল্লি চিকেন খেয়ে রাত্রি যাপনে গেলাম।অ্যালার্ম বাজবে সকাল ৭ টায়।
মোটামুটি ২৫ বছরে এত জোশ নিয়ে এত সকালে কোনোদিন ই উঠিনি, যতটা জোশ নিয়েই লাস্ট ৮ দিন উঠছি, এটাই হয়তো নিজের পছন্দের জিনিস করার সাথে বাকি জিনিসের পার্থক্য। সকাল ৭ টায় উঠে ফ্রেশ হয়ে আমাদের সাথী দের কাঁধে তুলে বেরিয়ে পড়লাম আর এক ঠিকানার উদ্যেশে, এই ৭ দিনেই যেনো কতটা মানিয়ে নিয়েছি। ট্রেন এলো যথারীতি উঠে পড়লাম। কিছুক্ষন পর TTE এসে ব্যাগের উপর লাগানো বোর্ড টা পরে প্রশ্ন করলো ৩৬৬ দিনের ভারত ভ্রমণ? এত উৎসাহ দেখে আমরাও বেশ আনন্দ পেলাম, মৃদু হেসে উত্তর দিলাম হ্যাঁ। বাকি co passenger রাও আমাদের দিকে তাকালো। হটাৎ প্রশ্ন ভেসে এলো কতদিন হলো, আনন্দের সহিত আবারো সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিলাম এইতো ৭ দিন। বাকিদের উত্তেজনা কেদারনাথ এর চূড়া থেকে ১ সেকেন্ডে হরিদ্বার এ এসে পরে গেল, ঝটপট টিকিট চেক করে TTE ও চলে গেলো। বসে রইলাম দুজনেই একটু চুপ করে, তারপর দুজনেই আলোচনা করতে লাগলাম শেষ তো করতেই হবে এই জার্নি। মাঝে মাঝে আমরা কষ্ট পেলে একে ওপরের থেকে লুকানোর ই চেষ্টা করি যাতে পাশের মানুষ টা বুঝতে না পেরে।
আচ্ছা ট্রেন টায় চেপেছি সকাল ওই ৮ টা নাগাদ পৌঁছনোর কথা সন্ধে ৮ টা নাগাদ। ১২ ঘন্টার কাছাকাছি জার্নি। গুয়াহাটি পৌঁছতে পৌঁছতে কয়েকটা কথা বলি, লং ডিসটেন্স ট্রেনের যখন টিকিট কাটবেন কয়েক ধরণের কোটা হয়, General, senior citizen, ladies, tatkal, premium tatkal, person with disability. আগে সিনিয়র সিটিজেন কোটা তে fare এর কিছু কন্সেশন থাকলেও এখন তা আর নেই, তবে এক্সট্রা সিট আছে। তাই জেনারেল এ সিট না থাকলে বাকি কোটা গুলো ক্ষেত্র বিশেষে একবার করে চেক করে নেবেন। সিনিয়র সিটিজেন রা চেষ্টা করবেন জেনারেল এ খালি থাকলেও সিনিয়র সিটিজেন কোটা থেকে টিকিট তা বুক করতে তাহলে আপনি অবশ্যই লোয়ার সিট টা পাবেন। যায় হোক পৌঁছে গেলাম আমাদের পরবর্তী গন্তব্য গুয়াহাটি। রিটায়ারিং রুম খুঁজে চেক ইন করলাম, ব্যবস্থা বেশ ভালো, মানে খুবই ভালো। আজকে আবার কালকের দিনের ব্যবস্থা করতে হবে, ততক্ষন ওয়েট করো তোমরা। আর আমরাও ব্যবস্থা করার চেষ্টায় লেগে পরি।
দেখা হচ্ছে কাল, ভালো থেকো।
Click here to claim your Sponsored Listing.