PCA Diary

PCA Diary

Share

এই ডায়েরির খোলা পাতা, পথ চলতে ভালোবাসা মানুষজনের গল্প ধরে রাখে, যেখানে নটেগাছ কখনও মুড়োয় না।
ডায়েরি 👉 খেয়া ✒️, বিমল 📸 ও পথ চলতে ভালোবাসা সব্বার

Photos from PCA Diary's post 03/12/2025

2500 টাকায় বিদেশ

ভ্রমণপ্রিয় বাঙালির জীবন মানেই সাধ আর সাধ্যের টানাপোড়েন। তার স্বপ্নে সুইজারল্যান্ডের আনাগোনার খবর নিয়ে তাই তৈরি হয় আস্ত একটা ছবি। বিদেশে বেড়াতে যাওয়ার সাধ মেটাতে ছোট্ট ছুটিতে এবার গেছিলাম পাশের বাড়ি নেপাল। খুব কম সময়ে, মাত্র একরাত দু’দিনে আর তাও মাত্র ২৫০০ টাকায়। সুইজারল্যান্ড হয়তো নয়, তবে হিমালয়ের অকৃপণ সৌন্দর্যে সে রূপসী। আমরা রেলপথে পৌঁছাই নকশালবাড়ি। সেখান থেকে মাত্র ৫ কিঃমিঃ দূরে নেপাল সীমান্ত, পানিট্যাঙ্কি। সেখান থেকে আমরা পায়ে হেঁটে পেরিয়ে গেলাম চেকপোস্ট। প্রথমে ভারতীয় তারপর নেপাল। পেরিয়ে গেলাম সীমান্তে বয়ে চলা স্বচ্ছ পাহাড়ি নদী, মেচি। সীমান্তের ওপারে কাঁকুড়ভিটা। সেখানে কিছু টাকা বদলে নিলাম নেপালি মুদ্রায়। যদিও নেপালের ঐ অংশে ভারতীয় টাকা চলে, তবু খুচরো দিতে সুবিধা হবে। কাঁকুড়ভিটা স্ট্যাণ্ড থেকে চেপে বসলাম বাসে। আধ ঘন্টা পরে নামলাম চারআলীতে। সেখান থেকে শেয়ার গাড়িতে শ্রী অন্তু। একটা সবুজ জলের পুকুরকে ঘিরে পাহাড়ি গ্রাম শ্রী অন্তু। এখান থেকে খুব সুন্দর সুর্যাস্ত আর সুর্যোদয় দেখা যায়। এই হিল স্টেশনটি অনেকটা ভারতের কাসোলের মতো লেগেছে আমাদের। নাচ, গান হুল্লোড়ে যেন এক উৎসব গ্রাম। তিন দিক খোলা থাকায় রাতে বহুদূর পর্যন্ত দেখা যায়। ঘুম, জোড়পোখরি, মিরিক সব আলোয় সেজে ওঠে। পাশের বাড়ি থেকে নিজের বাড়ি দেখতে কি যে ভালো লাগে! পরদিন গোল পাহাড়ের গায়ে চা গাছের নকশি কাঁথা দেখতে, গেলাম কন্যম। পূর্ব নেপালের রাণী বলা হয় তাকে। ফেরার পথে তিনখুট্টেতে দেখে নিলাম বুদ্ধপার্ক। তারপর পশুপতি ফটক পেরিয়ে ফিরে এলাম নিজের দেশে।
Date: 24,25 November 2025

Video link (channel name - PCA Diary): https://youtu.be/ShsTAMekHZA

03/12/2025

আজ দুপুর 12 টা -তে youtube -এ আসছি নতুন ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিয়ে। বিদেশ সফর তাও আবার জন প্রতি মাত্র ₹2500 -এ।

Photos from PCA Diary's post 04/10/2025

বন্ধুত্ব। এমন একটা শব্দ যার আকর্ষণ অমোঘ। বড়োরা বলেন আজকালকার দিনে ভালো বন্ধু কেবল ভাগ্যবানেরই জোটে। সেদিক থেকে নিজেকে ভাগ্যবানই বলব। জীবনে ভালো বন্ধু কিছু কম পাই নি। বরং মাঝে মাঝে মনে হয় এতো ভালো বন্ধু পাওয়ার যোগ্যতা আমার আছে কি?

আজ থেকে ষোল বছর আগের কথা। বিয়ের পর সেটা ছিল আমাদের দ্বিতীয় বেড়াতে যাওয়া। যাচ্ছিলাম বিশাখাপত্তনম থেকে জগদলপুর। সেই বিখ্যাত কিরন্ডুল প্যাসেঞ্জার ট্রেনে। অনেকগুলো টানেল পেরিয়ে আরাকু ভ্যালি ছুঁয়ে সে বিকেলে পৌঁছবে জগদলপুর। প্যাসেঞ্জার ট্রেন হওয়ায় ভীষণ ভীড়। আমরা গেছিলাম ট্র্যাভেল এজেন্সির মাধ্যমে। তারা স্টেশনে পৌঁছে জানিয়ে দিল সীট জোগাড় করতে হবে নিজের দায়িত্বে। ট্রেনে সাংঘাতিক ভীড়। এমনকি লাগেজ রাখার জায়গাতেও ঠেলাঠেলি করে বসে সবাই। যাই হোক কোনোমতে দুটো সীট পেলাম। ট্রেন যেন মুড়ির টিনের মতো। ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যে কি করে যেন সব খাপে খাপে বসে গেলাম। তারপর দেখি, আমাদের মুখোমুখি বসে আছে আমাদেরই মতো এক নতুন দম্পতি। প্রথমে কিছুক্ষণ তাকানো, হাসি পেরিয়ে আলাপ হলো মনিকার সঙ্গে। হিন্দি আর ইংরেজি মিশিয়ে। সে যাচ্ছে তার বাপের বাড়ি। জগদলপুরে। শ্বশুরবাড়ি বিশাখাপত্তনম থেকে রেলপথে ঘন্টা দুয়েক দূরে বোব্বিলি। ওর বর অর্জুন। উনি তেলেগুতেই বেশি স্বচ্ছন্দ। তবে তাতেও কিছু যায় আসে না। ওনার কিছু বলার থাকলে উনি বলছেন তেলেগুতে। আর মনিকা সেটা অনুবাদ করছে হিন্দি বা ইংরাজিতে। তারপর যেমন হয়। একসাথে গল্প করতে করতে কেটে গেল বারোটা ঘন্টা। অসংখ্য টানেল পেরিয়ে একটা রোমাঞ্চকর ট্রেন সফর শেষে আমরা পৌঁছে গেলাম জগদলপুর। সেদিন সন্ধ্যায় কোন সিডিউল ছিল না। মনিকা বাড়ির গাড়ি নিয়ে এলো। সারা সন্ধ্যে ওদের সাথে ঘুরলাম জগদলপুর শহর। পরদিন আমাদের প্যাকড প্রোগ্রাম। ফিরতে রাত হল। মনিকার সঙ্গে আর দেখা হলো না। আমরা পরদিন সকাল সকাল রওনা হলাম আরাকু ভ্যালির পথে। এবার গাড়ীতে।
আর দেখা হয় নি আমাদের। মাঝে পেরিয়ে গেছে অনেকগুলো বছর। ওর ভাইয়ের বিয়েতে নেমন্তন্ন হয়েছে আমাদের। আমার মেয়ের অন্নপ্রাশনে ওদের। কিন্তু কোন না কোন কারণে আসা বা যাওয়া হয়ে ওঠে নি। ফোনও যে নিয়মিত হয় তা নয়। প্রথম প্রথম আমরা চিঠি লিখতাম। সেই সব লম্বা লম্বা চিঠি আমাদের এনে দেয় অনেক কাছাকাছি। তারপর পোস্ট অফিস বাদ সাধলো। আমাদের চিঠি আর পৌঁছয় না। কিন্তু ততোদিনে বন্ধুত্বের ভিতটা শক্ত হয়ে গেছে। মাঝের বছরগুলোতে আমাদের জীবনে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। মনিকা হারিয়েছে ওর মা বাবা এমনকি অনাগত সন্তানকেও। আমার মা ও ছেড়ে চলে গেছে আমাকে। সেই সব হাহাকারের মুহূর্তে আমরা পাশে থেকেছি দুজন দুজনের।
এবছর পঞ্চমীর দিন কোলকাতা এসে কয়েক ঘণ্টার জন্য আমার বাড়ি এসেছিল আমার বন্ধু। আর আজ আমি আবার একবার কিরন্ডলু প্যাসেঞ্জারে। ট্রেনটা অনেক বদলে গেছে। আগের সেই লড়াই করে সীট জোগাড় পেরিয়ে আমরা চেপে বসেছি ঝকঝকে ভিস্টাডোমে। সহযাত্রীরা নানান ভাষাভাষী। আগের বারের মতোই। তফাৎ একটাই। সবাই মোবাইলে ব্যস্ত। মুহুর্তকে মুঠো বন্দী করার নেশায়। বন্ধুত্বের সুযোগ এখন আর নেই।

24/09/2025

Riverside cafe, Charmana, Gaitanpur beside Damodar River

22/09/2025

বর্ধমানে দামোদর নদ ও কাশফুল

15/09/2025

আজ ভীষণ মেঘ করুক। মন ভেজানো মেঘ। আমরা দুজন বেড়িয়ে পরি পাকদন্ডী পথে। না মেঘকে ভয় পাই না আমরা। মেঘ দেখলে এখন আর উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজ নিই না নীচে নামার সব রাস্তা ঠিক আছে কিনা। ধস নামেনি তো কোথাও! এতো দিনে জানা হয়ে গেছে আমাকে কাছে রাখতে তুমি কি কি করতে পারো! তাই মেঘ দেখলে আমি রামধনু রঙের ছাতাটা নিয়ে নেমে পরি পথে। তারপর তোমাকে খুঁজতে বেড়িয়ে পরি। পথ চলতে চলতে কোন এক বাঁকে গাছের ফাঁকে হারিয়ে যাওয়া সেই শ্যাওলা রঙা পথটা ঠিক খুঁজে নিই। যেখানে অপেক্ষায় আছো তুমি। তারপর পাইন বনে নেমে আসা মেঘেদের সঙ্গে হারিয়ে যাই।

14/09/2025

কোথায় যেন পড়েছিলাম বিরহেই প্রেমের পরিণতি। আজ আর মনে নেই। জানি না আমরা যা-ই পড়ি, তা-ই সত্যি কিনা। তবে যখন বিরহের একপ্রান্তে থাকে কুয়াশার চাদর ঘেরা পাহাড়, দু’হাত বাড়িয়ে যে অপেক্ষায় আছে শুধু তোমার জন্য আর অন্য প্রান্তে নিষ্ঠুর জীবনযুদ্ধ, তখন মনে হয় সব কিছু ছেড়ে ছুড়ে পালিয়ে যাই তার কাছে। শুধু তার কাছে। তার জন্য নিজেকে সাজাই। তার মতো করে। যদি বলো,পাহাড়ে যারা থাকে তাদের কি জীবনযুদ্ধে লড়তে হয় না? আমি বলব এখানেই তফাৎ বৌ আর প্রেমিকার।

13/09/2025

তারপর চলতে চলতে এক নদীর সঙ্গে দেখা। নদী তাকে জিজ্ঞেস করে না কিছু। সেও কোন প্রশ্ন করে না। শুধু নদীর জলে ভাসিয়ে দেয় তার পূরণ না হওয়া যতো স্বপ্ন। ছোটবেলায় যেমন ভাসাতো রঙিন কাগজের নৌকো। নদী তার স্বপ্নগুলোকে আগলে রাখে বুকের মধ্যে। তারপর এগিয়ে চলে। পথে যেতে যেতে যদি হঠাৎ দেখা পায় সেই কিশোরীর, যে তার পাশে এমনি এসে বসে; বড়ো বড়ো চোখ মেলে তাকিয়ে থাকে। তার হাতে সাবধানে তুলে দিতে হবে না-পূরণ হওয়া স্বপ্নগুলো। এভাবেই বয়ে চলে জীবন।

12/09/2025

সবুজ পাহাড় না। লাস্যময়ী সমুদ্র না। জঙ্গল অনেক হয়েছে। চলো একবার যাই মরুভূমি। সে অন্তত কোন মিথ্যা স্বপ্ন দেখায় না। সে আমাদের নিয়ে যায় বাস্তবের রুক্ষ মাটিতে। যে মাটি নরম সবুজ গালিচায় মোড়া নয়, সেখানে পায়ের পাতা ছোঁয় উষ্ণ বালি। বালি আর বালিয়াড়ির এই প্রেম বাস্তবের ঘামে ভেজা। এখানে প্রতি পদক্ষেপে লড়াই। যা আমাদের অনুপ্রেরণা দেয় লড়ে জিতে নিতে। সাফল্যের লাল বলটা জিততে গেলে কোন শর্টকাট নেই। আর তাই চলো একবার অন্তত যাই মরুভূমি। শিখে আসি লড়ে বাঁচার মন্ত্র। বেড়াতে গিয়ে হুডখোলা জীপে ভরপুর আনন্দ সফর শেষে ফিরতি পথে সূর্যাস্তের লাল রঙ যখন এক স্বর্গীয় আবীর ছড়িয়ে দেয়, তখন সারা দিন জ্বালানি কাঠকুটো কুড়িয়ে ফেরা মেয়ের দল গাড়ির পিছনে ছোটে এক বোতল জলের আশায়। তাদের কাছে সূর্যাস্ত মানে একটা লড়াইয়ের দিন শেষ ছাড়া আর কিছুই নয়।

Want your business to be the top-listed Media Company in Burdwan?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Website

Address

Bardhaman
Burdwan
713101