Vedic Theory

Vedic Theory

Share

"Sanatan Vedic Theory" Vedic Sanatan Hinduism is Best Popular Hindu Religious Website of Bangladesh. Stay with Us. "নিজে জেগে অপরকে জাগাও "-Swami vivekananda

28/03/2026

#শ্রীরাম নবমী কেন পালন করা হয়?

আজ এই শ্রীরাম নবমী সনাতন ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। এই দিনটি পালন করা হয় কারণ এই দিনে ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের জন্ম হয়েছিল বলে আমরা বিশ্বাস করি।

আমাদের কাছে কেন এই দিনটি গুরুত্বপূর্ণ?

এটি ভগবান রামের জন্মতিথি (চৈত্র মাসের শুক্ল পক্ষের নবমী তিথি) শ্রীরামকে ধরা হয় ধর্ম, সত্য, ন্যায় ও আদর্শের প্রতীক তাঁর জীবন কাহিনী মূলত রামায়ণ বর্ণিত হয়েছে।

কীভাবে এই এটি পালন করা হয়?

উপবাস রেখে রামায়ণ পাঠ ও কীর্তন, মন্দিরে পূজা ও শোভাযাত্রা এবং রাম ভক্তরা “জয় শ্রী রাম” ধ্বনি দেওয়া।

শ্রীরাম নবমী আমাদের কি শেখায়?

সত্য ও ন্যায়ের পথে চলা, কর্তব্যপরায়ণ হওয়া, পরিবার ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল থাকা, সংক্ষেপে, শ্রীরাম নবমী শুধু একটি জন্মোৎসব নয়; এটি আমাদের আদর্শ জীবনযাপনের অনুপ্রেরণা।

শ্রী রামের অস্ত্রের নাম কী?

শ্রী রামচন্দ্রের প্রধান ও বিখ্যাত ধনুকের নাম কোদণ্ড। তবে লঙ্কায় রাবণের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তিনি বিশ্বামিত্র মুনির কাছ থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন দিব্য অস্ত্র এবং ভগবান বিষ্ণুর শারঙ্গ ধনুক ব্যবহার করেছিলেন। এছাড়া রাবণ বধের জন্য তিনি পরম শক্তিশালী ব্রহ্মাস্ত্র ব্যবহার করেছিলেন।

রামের ব্যবহৃত প্রধান অস্ত্র ও ধনুকের তালিকাঃ-

১) কোদণ্ড: রাম যে ধনুকটি ব্যবহার করতেন, তাই কোদণ্ড নামে পরিচিত।
২) শারঙ্গ ধনুক: পরশুরামের কাছ থেকে পাওয়া বিষ্ণুর ঐশ্বরিক ধনুক।
৩) ব্রহ্মাস্ত্র: রাবণ বধের জন্য ব্যবহৃত ব্রহ্মাস্ত্র।
৪) অন্যান্য দিব্য অস্ত্র: ঋষি অগস্ত্য কর্তৃক প্রদত্ত বিভিন্ন দিব্য অস্ত্র।

রামচন্দ্র কোদণ্ড ধারণ করতেন বলে তাঁকে অনেক সময় 'কোদণ্ডধারী রাম' বলেও সম্বোধন করা হয়।

শ্রীরাম কোন অস্ত্র দ্বারা রাবনকে বধ করেছিলেন?

লঙ্কার প্রাঙ্গণে শুরু হলো ভয়ঙ্কর যুদ্ধ। রাবণ দশমস্তক, বিশ বাহু নিয়ে মহাকায় রথে বসে আক্রমণ করছিলেন। আকাশ অন্ধকারে ঢেকে গিয়েছিল তাঁর তীরবর্ষণে শ্রীরাম তখনো শান্ত, ধনুক হাতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। শেষ মুহূর্তে ঋষি অগস্ত্য মুনি শেখান আদিত্য হৃদয় স্তোত্র এবং তাঁর দেওয়া ইন্দ্রধনু পেয়ে শ্রী রাম সূর্যদেবকে প্রণাম করেন এবং নতুন শক্তি পান।

ধনুকের বর্ণনা কি?

১) এর দুই প্রান্তে সূর্য ও চন্দ্র জ্বলজ্বল করছিল।
২) এর দেহ গঠিত ছিল মহাকাশ থেকে, আর খাদটি তৈরি ছিল ইথার দিয়ে।
৩) এর ওজন ছিল মেরু ও মন্দার পর্বতের সমান।
৪) সোনায় সজ্জিত সেই ধনুকে ছিল সমস্ত উপাদানের শক্তি, সূর্যের তেজ, আর বজ্রসম দৃঢ়তা।
৫) এতে গরুড়-সহ নানা পাখির পালকযুক্ত অগণিত তীর ছিল।

এই অসাধারণ ধনুককে প্রজ্বলিত করেছিলেন স্বয়ং পরমেশ্বর আদিধনুরধর। রাম বিশেষ মন্ত্রে একে আরও শক্তিশালী করে তুলেছিলেন। শেষ মুহূর্তে তিনি হাতে নিলেন এক জ্বলন্ত তীর—যা সাপের মতো ফোঁস ফোঁস করছিল। আর সেই তীরেই শ্রী রাম বিদ্ধ করলেন রাবণকে।

শ্রী বাবলু মালাকার,
সনাতন ধর্মের বেদবেদান্ত প্রচারক,
সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, বাংলাদেশ।

জয় শ্রীরাম,
হর হর মহাদেব।

09/07/2024

বাংলাদেশ #প্রশাসন থেকে আর কি আশা করা যায়?

08/07/2024

#বর্জন_করা_হোক_স্টিল_লোহার_রথ!

পৃথিবীর প্রথম এবং সর্বপ্রাচীন শ্রীজগন্নাথদেবের রথযাত্রা হলো ভারতের উড়িষ্যার প্রদেশের পুরী নগরের রথযাত্রা। পুরীর সেই রথসহ ভারতবর্ষের সকল প্রাচীন রথ কাঠের দ্বারা তৈরি হতো এবং আজও সেই সুপ্রাচীন পরম্পরা অনুসৃত হয়ে কাঠের দ্বারাই তৈরি করা হচ্ছে। কাঠের রথের বৈদ্যুতিক তারে স্পৃষ্ট হয়ে দুর্ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। কিন্তু বর্তমানের রথগুলো অধিকাংশই লোহা বা স্টিলের বডিতে তৈরি করা হচ্ছে, তাই প্রতিবছরই কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনা ঘটছে। গতবছর ঘটেছে ভারতের ত্রিপুরা প্রদেশের কুমারঘাটে, এবছর ঘটেছে বাংলাদেশের বগুড়ায়। রথযাত্রা আয়োজন কমিটির অসতর্কতা এবং অব্যবস্থাপনায় একই প্রকারের দুর্ঘটনা রথযাত্রা মহোৎসবে ঘটেই চলছে।

তাই রথের আয়োজকদের বলছি, আপনারা ধাতব রথ পরিহার করে পুরীর শ্রীজগন্নাথদেবের রথের ন্যায় কাঠের রথ ব্যবহার করুন। এতে শাস্ত্র এবং পরম্পরায়ও রক্ষা যেমন হবে, তেমনি রথযাত্রায় অংশগ্রহণকারী ভক্তদেরও জীবন রক্ষা পাবে। কারণ ভক্তদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার কোনো অধিকার আয়োজক কমিটির নেই। আপনারা দৈবের উপরে দোষ চাপিয়ে আপনাদের অসতর্কতা এবং অব্যবস্থাপনাকে জাস্টিফাই করবেন, তা কখনই হতে দেয়া যাবে না।

14/03/2024

এটা বলা উচিত 👉

08/03/2024

পবিত্র বেদে শিব মাহাত্ম্য ও শুক্ল যজুর্বেদীয় মহারুদ্র সম্পর্কে আলোচনা
❄ॐ নমঃ শিবায় ❄

পবিত্র বেদের সর্বত্রই ভগবান শিবের মাহাত্ম্য বর্ণনা আছে এবং শিবকে এক-অদ্বিতীয় ও সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা বলে বর্ণনা করা হয়েছে।

একো হি রুদ্রো ন দ্বিতীয়ায় তস্থূঃ য ইমান্ লোকান্ ঈশত ঈশনীভিঃ।
প্রত্যক্ জনান্ তিষ্ঠতে সঞ্চুকোপান্তকালে সংসৃজ্য বিশ্বাঃ ভুবনানি গোপাঃ।। (শ্বেতাশ্বতর, ৩/২)

অনুবাদঃ— এক সেই পরমেশ্বর কে, যাঁর দ্বিতীয় কেউ নেই ? তিনি হলেন রুদ্র। প্রতি জীব-হৃদয়ে তাঁর অবস্থান– তাই পরমাত্মা। তিনিই তাঁর সেই ঐশ্বরিক শক্তি-বুদ্ধি দিয়ে জগৎকে শাসন করছেন। সেই শক্তির কোন ব্যাখ্যা চলে না। ব্রহ্মাণ্ডকে সৃষ্টি করে প্রতিটি মানুষের অন্তরে তিনি অবস্থান করছেন, আবার গোপা অর্থাৎ রক্ষাও করছেন। আবার অন্তিমকালে এলে সংহার-মূর্তিতে তিনিই সব সংহার করছেন।

যো দেবানাং প্রভবশ্চোদ্ভবশ্চ বিশ্বাধিপো রুদ্র মহর্ষি।
হিরণ্যগর্ভং জনয়ামাস পূর্ব্বং স নো বুদ্ধ্যা শুভয়া সংযুনক্তু।।
(শ্বেতাশ্বতর, ৩/৪)

অনুবাদঃ— যিনি দেবতাদিগের জন্ম ও শক্তিহেতু, যে বিশ্বাধিপ সর্বজ্ঞ রুদ্র প্রথমে হিরণ্যগর্ভকে উৎপাদন করেছিলেন, তিনি আমাদেরকে শুভবুদ্ধি প্রদান করুন।

এখন কেউ এখানে দ্বিমত পোষণ করেন যে রুদ্র বলতে কি শিবকেই বোঝানো হচ্ছে??
🌛 হ্যা অবশ্যই এই রুদ্র বলতে শিবকেই বোঝানো হচ্ছে। তা আমরা পরের মন্ত্রেই সুষ্পস্ট ভাবে উল্লেখ্য পাই—

সর্বাননশিরোগ্রীবঃ সর্বভূতগুহাশয়ঃ।
সর্বব্যাপী স ভগবান্ তস্মাৎ সর্বগতঃ শিবঃ।।
(শ্বেতাশ্বতর, ৩/১১)

অনুবাদঃ— তিনি সর্বানন– জগতের সব মুখই তাঁর মুখ। জগতের প্রাণীমাত্রেরই মাথা, গলা– তাঁরই শির-গ্রীবা। প্রাণীর ভেতরে সেই গুহা, যার নাম বুদ্ধি, তিনি আছেন সেই গুহায়। সর্বব্যাপী এবং সর্বগত শিবস্বরূপ মঙ্গলময় তিনি ভগবান।

আর শুক্লযজুর্বেদের শতরুদ্রীয় অধ্যায়ে ভগবান শিবেরই মাহাত্ম্য প্রকাশ করা হয়েছে, তার প্রমাণ আমরা মহাভারতেও সুষ্পষ্ট পাই—

বেদে চাস্য বিদুর্বিপ্রাঃ শতরুদ্রীয়মুত্তমম্।
ব্যাসেনোক্তঞ্চ যচ্চাপি উপস্থানং মহাত্মনঃ।।
(মহাভারত অনুশাসনপর্ব, ১৩৯/২২)

অনুবাদঃ— বেদেও মহাদেবের মাহাত্ম্য প্রকাশক উত্তম শতরুদ্রীয় অধ্যায় আছে, ইহা ব্রাহ্মণেরা জানেন এবং বেদব্যাস সেই মাহাত্ম্য উপাসনার উপযোগী যাহা বলিয়াছেন, তাহাও ব্রাহ্মণেরা অবগত আছেন।

বেদে চাস্য সমান্নাতং শতরুদ্রিয়মুত্তমম্।
(মহাভারত দ্রোণপর্ব, ১৭০/৯৯)

অনুবাদঃ— যজুর্বেদে মহাদেবের উত্তম শতরুদ্রিয় প্রকরণ বলা হইয়াছে।

তাই সবাই আসুন আমরা সকলেই পরমেশ্বর শিবের শরণাগত হই ও নমস্কার করি 🙏

নমো হিরণ্যবাহবে সেনান্যে।
দিশাং চ পতয়ে নমো।
নমো বৃক্ষেভ্যো হরিকেশেভ্যঃ।
পশুনাং পতয়ে নমো।
নমো শষ্পিঞ্জরায় ত্বিষীমতে পতয়ে নমো।
নমো হরিকেশায়োপবীতিনে।
পুষ্টানাং পতয়ে নমো।
(যজুর্বেদ, ১৬/১৭)

অনুবাদঃ— হিরণ্যবাহু সেনানী রুদ্রকে নমস্কার, দিক সকলের পালক রুদ্রকে নমস্কার, হরিতবর্ণ পত্রযুক্ত বুক্ষরুপে রুদ্রকে নমস্কার, জীবগণের পালক রুদ্রকে নমস্কার, পীতরক্তবর্ণ কান্তিযুক্ত রুদ্রকে নমস্কার, পথের পালক রুদ্রকে নমস্কার, নীলবর্ণ কেশযুক্ত যজ্ঞোপবীতধারী রুদ্রকে নমস্কার, মনুষ্যগণের পালক রুদ্রকে নমস্কার।

নমঃ শম্ভবায় চ ময়োভবায় চ।
নমঃ শঙ্করায় চ ময়ষ্করায় চ।
নমঃ শিবায় চ শিবতরায় চ।।
(শুক্ল যজুর্বেদ ১৬/৪১, কৃষ্ণ যজুর্বেদ, ৪/৫/৮)

অনুবাদঃ— মুক্তি এবং সংসারসুখদাতা ভগবান শিবকে নমস্কার, লৌকিক ও মোক্ষসুখের কারক শিবকে নমস্কার ; যিনি কল্যাণরূপ হয়ে ভক্তজনের কল্যাণ-বিধান করেন সেই ভগবান রুদ্রকে নমস্কার।"

অর্থাৎ— শম্ভুকে নমস্কার, সুখভবকে নমস্কার। শঙ্করকে নমস্কার, সুখকরকে নমস্কার। শিবকে নমস্কার, শিবতরকে নমস্কার।

নমো হিরণ্যবাহবে হিরণ্যবর্ণায় হিরণ্যরূপায়
হিরণ্যপতয়ে অম্বিকাপতয় উমাপতয়ে
পশুপতয়ে নমো নমঃ।।

"অম্বিকাপতি,উমাপতি, পশুপতি, হিরণ্যাদি সর্বনিধির পালক,তেজোময়, হিরণ্যবাহু, হিরণ্যবর্ণ, হিরণ্যরূপ পরমেশ্বর শিবের উদ্দেশে নমস্কার। "

শুধুমাত্র বেদেই নয়, মহাভারতের অসংখ্য স্থানে শিবমহিমা এবং স্তোত্র আছে। এর মধ্যে অনুশাসন পর্বের ১৭ তম অধ্যায়ে বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণ কর্তৃক বলা ভগবান শ্রীশিবের সহস্র নামস্তোত্র অন্যতম, এ পবিত্র স্তোত্র সনাতন ধর্মাবলম্বী আমাদের নিত্যপাঠ্য। সেই স্তোত্রের শুরুতেই ভগবান শিবের মহিমা সম্পর্কে ঋষি তণ্ডী শ্রীকৃষ্ণকে যা বলছেন, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ—

"যিনি তেজেরও তেজ, তপস্যারও তপস্যা, শান্তদিগের মধ্যে অতিশান্ত, সকল প্রভারও প্রভা, জিতেন্দ্রিয়দের মধ্যে যিনি জিতেন্দ্রিয়, জ্ঞানীদের মধ্যে যিনি শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী, দেবতাদেরও যিনি দেবতা,ঋষিদের ঋষি, যজ্ঞসমূহের যজ্ঞ, মঙ্গলকারীদের মঙ্গলকারী, রুদ্রগণের রুদ্র, প্রভাবশালীদের প্রভাব, যোগীদের যোগী, সকল কারণের কারণ এবং যাঁর থেকে সমস্তলোক উৎপন্ন হয় আবার যাঁর মধ্যে লয় পায়, সেই সর্বভূতাত্মা, সংহর্তা, অমিততেজা ভগবান মহাদেবের অষ্টোত্তর সহস্রনাম আমার নিকট শুনুন ; হে মনুষ্যশ্রেষ্ঠ শ্রীকৃষ্ণ, এ মহাপবিত্র স্তোত্র শ্রবনেই আপনি সকল অভীষ্ট লাভ করবেন।
(শিবসহস্রনামস্তোত্রম, ২৬-৩০)

একাক্ষরায় রুদ্রায় ওঁঙ্কারাতাত্মরূপিণে ।
ওকারায়াদিদেবায় বিশ্বদেবায় বৈ নমঃ ।।
তৃতীয়ায় মকারায় শিবায় পরমাত্মনে ।
সূর্য্যাগ্নিসোমবর্নায় যজমানায় বৈ নমঃ ।।
অগ্নৈয় রুদ্ররুপায় রুদ্রাণা পতয়ে নমঃ ।
( লিঙ্গ পুরাণ, পূর্বভাগ, অষ্টাদশ অধ্যায়, ১-৩)

অর্থাৎ- হে রুদ্র ! একাক্ষররূপী তোমাকে নমস্কার ; হে আত্মরূপিন্‌ ! আকাররূপী তোমাকে নমস্কার । হে আদিদেব , বিশ্বদেব উকাররূপী তোমাকে নমস্কার । হে শিব! তুমি পরমাত্মা ও মকার ; তুমি সূর্য তুমি সোমবর্ণ ; তুমি যজমান । হে রুদ্র ! তুমি অগ্নি ও রুদ্রাধিপতি তোমাকে নমস্কার ।

পবিত্র বেদের শুক্ল যজুর্বেদীয় মহারুদ্র

শুক্ল যজুর্বেদীয় রুদ্রীপাঠ রুদ্রাষ্টাধ্যায়ী মহারুদ্রের আরাধনা, শিবলিঙ্গের উপর দুধ, দই, ঘি, মধু, সর্করা, গঙ্গাজল প্রদান করা হয়ে থাকে শ্রীঙ্গীর দ্বারা শিবলিঙ্গের উপরে অভিষেক হতে থাকে আর এই বেদমন্ত্র পাঠ চলতে থাকে তা ব্রাহ্মণ দিয়ে করানো হয় এই রুদ্রাভিষেক শিব পূজা। এই রুদ্র শিব পূজা করাতে পারলে মানুষের জীবনের সর্বচ প্রাপ্তি হয়ে থাকে সফলতা, রোগমুক্ত, দীর্ঘাযু, অকাল মৃত্যুবরণের হাত থেকে রক্ষা করেন মহারুদ্র মৃত্যুঞ্জয় মহাদেব।

মনঃ শিব-সঙ্কল্পমস্তু।
(শুক্ল যজুর্বেদ, ৩৪)

আমার মন শুভ কল্যাণকর সঙ্কল্পযুক্ত হোক।

এই শুক্ল যজুর্বেদীয় রুদ্রাধ্যায়ী সম্পর্কে একটি ধারণা বেদের মধ্যে ভগবান শিব কে আমরা রুদ্র নামে জানি। পূর্বকালে হইতে শ্রদ্ধালু বেদধ্যায়ী মানুষ গন অাত্মকল্যাণের শুক্লযজুর্বেদ থেকে আট উপযোগী অধ্যায় কে চরণ করে "রুদ্রাষ্টাধ্যায়ী" নামক গ্রন্থ হয়।

এই রুদ্র শিব হল অন্যতম জনপ্রিয় একটি হিন্দু মন্ত্র এবং শৈব সম্প্রদায়ের তাৎপর্যবাহী মন্ত্র। নমঃ শিবায়-এর অর্থ হল "ভগবান শিবকে নমস্কার" বা "সেই মঙ্গলময়কে প্রণাম!" করা এই মহারুদ্র শিবকে পঞ্চাক্ষর মন্ত্রও বলা হয় যার মানে "পাঁচ-অক্ষরযুক্ত" মন্ত্র (ওঁ ব্যতীত)। এটি ভগবান মহারুদ্র শিবের প্রতি সমর্পিত হওয়া। এই মন্ত্রে শ্রী রুদ্রম্ চমকম্ ও রুদ্রাষ্টাধ্যায়ীতে "ন", "মঃ", "শি", "বা" এবং "য়" রূপে প্রকাশিত। শ্রী রুদ্রম্ চমকম্, কৃষ্ণ যজুর্বেদের অংশ এবং রুদ্রাষ্টাধ্যায়ী, শুক্ল যজুর্বেদ-এর অংশ।

মহা শিবরাত্রি উপলক্ষে যজুর্বেদ এর রুদ্র স্তুতি—

ওঁ নমস্তে রুদ্র মন্যব উতো ত ইষবে নমঃ।
বাহুভ্যামুত তে নমঃ।।
(শুক্ল যজুর্বেদ, ১৬/১)

অনুবাদঃ— হে দুঃখনাশক জ্ঞানপ্রদ রুদ্র, তোমার ক্রোধের উদ্দেশ্য নমস্কার, তোমার বাণ ও বহুযুগলকে নমস্কার করি।

ওঁ যা হে রুদ্র শিবা তনূরঘোরাহপাপকাশিনী।
তয়া নস্তন্বা শম্তময়া গিরিশম্তাভি চাকশীহি।।
(শুক্ল যজুর্বেদ, ১৬/২)

অনুবাদঃ— হে রুদ্র, তোমার যে মঙ্গলময়, সৌম্য, পূণ্যপ্রদ শরীর আছে, হে গিরিশ, সে সুখতম শরীরের দ্বারা আমাদের দিকে তাকাও। হে গিরিশ, তুমি হস্তে যে বাণ ধারণ করেছ, তা কল্যাণকর কর, পুরুষ ও জগতের হিংসা করো না। জগতের সকল নীরোগ ও শোভনমনস্ক হোক। তুমি সকলের পূজ্য ও দেবগণের হিতকারী ভিষক।

ওঁ নমো ভবায় চ রুদ্রায় চ নমঃ শর্বায় চ পশুপতয়ে
চ নমো নীলগ্রীবায় চ শিতিকন্ঠায় চ।।
(শুক্ল যজুর্বেদ, ১৬/২৮)

অনুবাদঃ— ভব ও রুদ্রকে নমস্কার। পশুপতিকে নমস্কার। নীলগ্রীব ও শিতিকণ্ঠকে নমস্কার।

ওঁ নমঃ শম্ভবায় চ ময়োভবায় চ নমঃ শঙ্করায় চ ময়স্করায় চ নমঃ শিবায় চ শিবতরায় চ।।
(শুক্ল যজুর্বেদ, ১৬/৪১)

অনুবাদঃ— মুক্তি সুখ ও সাংসার সুখ দাতা রুদ্রকে নমস্কার, লৌকিক ও মোক্ষসুখের কারক রুদ্রকে নমস্কার, যিনি কল্যাণরুপ ও ভক্তজনের কল্যাণ-বিধাতা সে রুদ্রকে নমস্কার। গোসমূহে জাত ও গোষ্ঠে জাত, তীর্থে ও কূলে জাত, পাষাণে বা স্থির জলে জাত, অরণ্যপ্রদেশে ও গিরিগুহায় জাত এবং ধূলিতে ও পরাগে জাত রুদ্রকে নমস্কার। রুদ্রের দেবতার অগ্নি, বায়ু ও সূর্য দেবতাদের নমস্কার।

ঋগ্বেদীয় রুদ্র বেদি সিন্ধু মন্ত্র পড়বেন—

ওঁ শন্নো ইন্দ্রো বসুভির্দেবো অস্তু শমাদিত্যেভির্বরুণঃ সুশংসঃ।
শং নো রুদ্রো রুদ্রেভির্জলাষঃ শংনস্ত্বষ্টা গ্নাভিরিহ শৃণোতু।। (৬)
শং নঃ সোমো ভবতু ব্রহ্ম শং নঃ শং নো গ্রাবাণঃ শমু সন্তু যজ্ঞাঃ।
শং নঃ স্বরুণাং মিতয়ো ভবন্তু শং নঃ প্রস্বঃ শম্বস্তু বেদিঃ।। (৭)
শন্নঃ সূর্য্য উরুচক্ষা উদেতু শন্নশ্চতস্র প্রদিশো ভবন্তু।
শং নঃ পর্বতা ধ্রুবয়ো ভবন্তু শং নঃ সিন্ধবঃ শমু সন্ত্বাপঃ।। (৮)
(ঋগ্বেদ, ৭/৩৫/৬-৮)

অনুবাদঃ— ঐশ্বর্য্যময় প্রভু আমাদিগকে নিবাস স্থানে আমাদের কল্যাণ করুন। বরণীয় পরমাত্মা সূর্য্য কিরণ দ্বারা কল্যাণ করুন। শান্তিদাতা পরমাত্মা স্বীয় তেজ দ্বারা আমাদের মঙ্গল বিধান করুন। জগতের স্রষ্টা আমাদিগকে বাণী প্রদান করিয়া কল্যাণ করুন এবং আমাদের এই আহ্বান শ্রবণ করুন। (৬)

মেধাবর্দ্ধক ওষধি আমাদের জন্য সুখদায়ক হউক। বেদ পাঠ আমাদের মঙ্গল দান করুক, শিলা ও যজ্ঞ আমাদের জন্য শান্তিপ্রদ হউক। বেদির স্তম্ভ ওষধি এবং বেদির অন্যান্য দ্রব্য আমাদের মঙ্গল দায়ক হউক। (৭)

জ্যোতির্ময় সূর্য্য আমাদের জন্য কল্যাণকারী রুপে উদিত হউক। চারিদিক আমাদের জন্য সুখময় হউক। অচল পর্বত, সচল সিন্ধু এবং জলরাশি আমাদের সুখ দান করুক। (৮)

ওঁ এক শক্তিকেই আমরা বিভিন্ন নামে প্রকাশ পাই—

ওঁ
ব্রহ্মা + ব্রহ্মাণী + মহাসরস্বতী
বিষ্ণু + বৈষ্ণবী + মহালক্ষ্মী
শিব + শিবানী + মহাকালী
ব্রহ্ম + শক্তি
পুরুষ + প্রকৃতি

চন্দ্র ও চন্দ্রের কিরণ দুধ ও দুধের ধবলতার ন্যায় এক ও অভেদ।

শিব শব্দের অর্থ ও কল্যাণ। সেই কল্যাণ স্বরূপ ব্রহ্মই শিব। বেদে এবং উপনিষদে তাকে রুদ্র নামে অভিহিত করা হয়েছে।

শ্বেতাশ্বতরোপনিষৎ বলছে—

একো হি রুদ্রো ন দ্বিতীয়ায় তস্থূ।

রুদ্র এক এবং অদ্বিতীয়। অর্থাৎ এখানে বোঝা যাচ্ছে পরমাত্মা শিব এক এবং অদ্বিতীয়।

ঋষি মন্ত্রে বলেছেন—

যা তে রুদ্র শিবা তনূরঘোরাহ পাপকাশিনী।
তয়া নস্তনুবা শন্তময়া গিরিশন্তাভিচাকশীহি।।

হে রুদ্র, হে গিরিশন্ত, তোমার যাহা মঙ্গলময়, প্রসন্ন ও পাপবিনাশক তনু, সেই সুখতম তনুর সহিত আমাদিগের নিকট প্রকাশিত হও। পরমেশ্বর বাস্তবে নিরাকার। কিন্তু ভক্তের ভাবে তিনি সাকার। ঋষি প্রথমে পরমেশ্বরের এক এবং অদ্বিতীয় স্বরূপের কথা বর্ণনা করলেন। পরবর্তী মন্ত্রে তিনি তার দিব্য তনুর ব্যাখ্যা করলেন।

পরমেশ্বরের নিরাকার স্বরূপটি, যোগীর কাছে অধিক প্রিয়। আবার সাকার স্বরূপটি ভক্তদের কাছে প্রিয়। তাহাকে জানলেই এই ভবসাগর পারাপার হয়ে যায়।
মায়ার বন্ধন থেকে মুক্তি ঘটে, অচিরেই ব্রহ্ম
জ্ঞানলাভ পূর্বক, নির্বাণ সুখ অনুভূত হয়।

বেদাহমেতং পুরুষং মহান্তমাদিত‍্যবর্ণং তমসঃ পরস্তাৎ।
তমেব বিদিত্বাহ তিমৃত‍্যুমেতি নান‍্যঃ পন্থা বিদ‍্যতেহ য়নায়।

আমি পরিপূর্ণ, সর্বাধিক, স্বয়ং প্রকাশ ও অবিদ্যার অতীত ইহাকে জানিয়াছি; তাহাকেই মাত্র জানিয়া মৃত্যুকে অতিক্রম করিয়া থাকেন; (সংসার) উত্তরণের অন্য কোন ও মার্গ নাই।

দেবাদিদেব মহাদেব সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ—
শিব শব্দটির উল্লেখ বেদে আছে তবে তা রুদ্রের বিশেষণে। পৌরাণিক শিব এবং বৈদিক রুদ্র এক অভিন্ন। শিবের আটটি বিশেষ রূপকে একত্রে অষ্টমূর্তি বলে। এঁরা হলেন—ভব (অস্তিত্ব), শর্ভ (ধনুর্ধর), রুদ্র (যিনি দুঃখ ও যন্ত্রণা প্রদান করেন), পশুপতি (পশুপালক), উগ্র (ভয়ংকর), মহান বা মহাদেব (সর্বোচ্চ আত্মা), ভীম (মহাশক্তিধর) ও ঈশান (মহাবিশ্বের দিকপতি)। মহাদেবের গাত্রবর্ণ রজতগিরিনিভ অর্থ্যাৎ রুপালী পর্বতের ন্যায় শ্রভ্রবর্ণের। বৈদিক শিব পরমাত্মাবাচক। "শিবু কল্যাণে" ধাতু থেকে শিব শব্দ নিষ্পন্ন যার অর্থ শান্ত, মঙ্গলদায়ক, কল্যাণকারক প্রভৃতি। আর রুদ্র রোদনে অর্থাৎ যিনি পাপী-তাপীকে রোদন করান তিনিই রুদ্র। আবার আমাদের মৃত্যুর সময় দশ প্রাণ ও আত্মা এই একাদশ রোদন করে বলে নাম একাদশ রুদ্র।

ওঁ শান্তি ওঁ শান্তি ওঁ শান্তি

জয় শ্রীরাম, জয় শ্রীকৃষ্ণ,
হর হর মহাদেব।

শ্রী বাবলু মালাকার
সনাতন ধর্মের সংস্কৃতি ও বেদ বেদান্তদর্শন
প্রচারক, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ।

28/02/2024

"পিতা স্বর্গ, পিতা ধর্ম, পিতা হি পরমন্তপঃ ।
পিতোরি প্রিতিমাপন্নে প্রিয়ন্তে সর্ব দেবতাঃ ।। "

"জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী।। "

সরলার্থঃ—
" স্বর্গ, ধর্ম, তপস্যা সমান পিতার সন্তুষ্টিতে সকল দেবতা সন্তুষ্ট হয় "
"মা ও মাতৃভূমি স্বর্গের চেয়েও শ্রেষ্ঠ"

26/02/2024

২৫ বছর পর্যন্ত
ধর্মান্তরিত হওয়া যাবে না আইনি ব্যবস্থা করা হোক।

24/02/2024

তালাকপ্রাপ্ত এক মুসলিম নারী শাবনা থেকে সারদা হলেন এবং সনাতন ধর্ম ধারণ করে হিন্দু ছেলেকে বিয়ে করলেন।

Want your place of worship to be the top-listed Place Of Worship in Chittagong?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Address

Chittagong