As-Suffah
"As-Suffah" a non political versatile service organization.
الصفة منظمة خدمية غير سياسية متعددة الأغراض
আস-সুফ্ফাহ্ গ্রুপ ! একটি অরাজনৈতিক বহুমুখি সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান।
ইসলামিক ডিজিটাল সেবা সমূহ একি প্লাটফর্ম থেকে সকলের দ্বারপ্রান্তে পৌছে লক্ষেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেস্টা।
আপনাদের প্রয়োজনে আমাদের যত আয়োজন!
আস-সুফ্ফাহ্ ইন্সটিটিউট
আস-সুফ্ফাহ্ ডিজাইন
আস-সুফ্ফাহ্ স্টোর
আস-সুফ্ফাহ্ ইন্সটিটিউট, হচ্ছে ! আগ্রহী দ্বীনি ভাই ও বোনদের জন্য পবিত্র কোরআন ও জরুরী মাসাইল শিক্ষার একটি আদর্শ প্লাটফর্ম।
আরো
14/02/2025
ليلة من نصف شعبان
This is my page, I want to start anew all its service activities, so I want your support and cooperation, please follow me.
*সদকাতুল ফিতর আদায় করার মাসায়েল:*
---------------------------------------------------
সদকাতুল ফিতর যাকে আমরা সাধারণত রমযানের ফিতরা হিসেবে জানি তা দ্বিতীয় হিজরীর শা’বান মাসে ফরজ হয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলা রাসূলুল্লাহ্ *(সাল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়া সাল্লাম)* এর মাধ্যমে সাদাকাতুল ফিতরকে ওয়াজিব করার মহান লক্ষ ও উদ্দেশ্য হল অভাবীদের অভাব দূর করা। অসহায় নিঃস্ব ব্যক্তিদের জরুরত পূরণ করা। বিশেষত রোজা রাখতে গিয়ে মানুষের ভুল-ত্রুটি মুক্ত করা। যেমন: হযরত ইবনে আব্বাস (রাযিআল্লাহু তা'আলা আ'নহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন----
*অর্থ:-* রাসূলুল্লাহ্ *(সাল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়া সাল্লাম)* ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব করেছেন রোযাদারকে বে-ফায়দা ও অশ্লীল কর্মকান্ড, অপবিত্রতা হতে পবিত্র করার জন্য এবং ফকির-মিসকিনদের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শনের জন্য। *[আবু দাঊদ শরীফ]*
*📚সদকায়ে ফিতর কার উপর ওয়াজিব:⬇⬇*
যে ব্যক্তির উপর কুরবানি ওয়াজিব, অর্থাৎ সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা বা তার সমপরিমাণ টাকা থাকে, তাহলে তার উপর ঈদুল ফিতরের দিন সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। চাই তা ব্যবসার সম্পদ হোক বা না হোক, বৎসর অতিবাহিত হোক বা না হোক, পুরুষ হোক বা মহিলা হোক কোন পার্থক্য নেই। *[হেদায়া, খ-১, পৃ. ১৯০]*
*📚ছেলে-মেয়েদের পক্ষ থেকে সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব:⬇⬇*
যে ব্যক্তির উপর সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হবে। তার উপর তার অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়েদের পক্ষ থেকেও সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। *[হেদায়া, রহমানিয়া খ:১ পৃ:১৯০]*
*📚মহিলাদের শুধু নিজের উপর সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব:⬇⬇*
যেই মহিলার নিকট প্রয়োজনাতিরিক্ত সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা বা তার সমপরিমাণ টাকার সম্পদ থাকবে, তার উপর শুধু নিজের সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব।তার উপর নিজ ছেলে-মেয়ে, মাতা-পিতা, ভাই-বোন এমনকি গরীব স্বামীর পক্ষ থেকে সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব নয়। *[আহকামে রমযান পৃ .১৭৫]*
*📚সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব কখন:*
সদকায়ে ফিতর ঈদুল ফিতরের দিন সূর্য উদয়ের সময় আদায় করা ওয়াজিব হয়, তবে এর পূর্বেও সদকায়ে ফিতর আদায় করা জায়েয আছে। সুতরাং যে ব্যক্তি উক্ত সময়ের পূর্বে ইন্তেকাল করবে বা ফকির হয়ে যাবে, তার উপর সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব নয়।
*নবজাতক সন্তানের সদকায়ে ফিতর:*
যদি সুবহে সাদিকের পূর্বে বা সুবহে সাদিকের সময় নবজাতক সন্তান জন্ম গ্রহণ করে, তাহলে সম্পদশালী পিতা তার নবজাতক সন্তানের পক্ষ থেকে ‘ফিতরা’ আদায় করা তার উপর ওয়াজিব। আর যদি সুবহে সাদিকের পর জন্ম গ্রহণ করে, তাহলে তার পক্ষ থেকে ‘ফিতরা’আদায় করা ওয়াজিব নয়। *(হিন্দিয়া)*
*📚নতুন মুসলমানের ফিতরা:⬇⬇*
যদি কোন কাফির বা ফকির ঈদুল ফিতরের দিন সূর্য উদয়ের পূর্বে বা সূর্য উদয়ের সময় মুসলমান এবং সম্পদশালী হয়ে যায়, তাহলে তার উপর সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। আর যদি সূর্য উদিত হওয়ার পর মুসলমান হয় সম্পদশালী হয়, তাহলে তার উপর সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব নয়। *[হিন্দিয়া রশিদিয়া, খ-১, পৃ. ১৯২]*
*📚দেরীতে ফিতরা আদায় করা মাকরূহ:⬇⬇*
ঈদুল ফিতরের দিন ঈদের নামাজের পূর্বে সদকায়ে ফিতর আদায় করতে হবে। ঈদের নামাজের পূর্বে সদকায়ে ফিতর আদায় না করে পরে আদায় করা সুন্নত পরিপন্থী ও মাকরূহ হবে। তা সত্তেও দেরীতে আদায় করলেও আদায় হয়ে যাবে। *[দুররে মুখতার, খ-২, পৃ. ৩৬৭]*
*📚বিবাহিত মেয়ের সদকায়ে ফিতর কার উপর ওয়াজিব:⬇⬇*
যদি বিবাহিতা মেয়ে পিতার বাড়িতে অবস্থান করে থাকে, তখন দেখার বিষয় হচ্ছে সে সম্পদশালী কিনা? যদি সে সম্পদশালী হয়, তাহলে সে প্রাপ্ত বয়স্কা হোক বা না হোক, তার সম্পদ থেকে নিজ ‘সদকায়ে ফিতর’ আদায় করা ওয়াজিব। কিন্তু মেয়ে যদি প্রাপ্ত বয়স্কা বটে, কিন্তু সম্পদশালী নয়, তাহলে তার সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব নয়। আর যদি মেয়ে অপ্রাপ্ত বয়স্ক হয় এবং স্বামীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া না হয় অথবা সম্পদশালীও না হয়, তাহলে পিতার উপর তার ‘সদকায়ে ফিতর’ আদায় করা ওয়াজিব। *[ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া]*
*📚রোযা না রাখলেও সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব:⬇⬇*
যদি সম্পদশালী ব্যক্তি কোনো কারণবশত রমযানের রোযা রাখতে না পারে, এরপরেও তার ‘সদকায়ে ফিতর’ আদায় করা ওয়াজিব। নচেৎ, সে গুনাহগার হবে। *[ফতোয়ায়ে শামি, খ-১, পৃ. ১৬৩]*
*📚সদকায়ে ফিতর এর পরিমাণ:⬇*
সদকায়ে ফিতর হচ্ছে খেজুর, যব, গম, আটা বা এগুলোর নগদ মূল্য টাকা পয়সা দ্বারা ‘সদকায়ে ফিতর’ আদায় করা যাবে। *[হিন্দিয়া, খ-১, পৃ. ১৯৩]*
*মাসআলা:-০১)* যদি সদকায়ে ফিতর গম বা আটা দ্বারা আদায় করতে চায়, তাহলে এক ছা’ অর্থাৎ আনুমানিক সাড়ে তিন সের ভালো মানের খেজুর বা তার মূল্য আদায় করতে হবে। *[রশিদিয়া খ-১, পৃ. ১৯১]*
*মাসআলা:-০২)* যদি সদকায়ে ফিতর খেজুর দ্বারা আদায় করতে চায়, তাহলে পৌনে দুই সের *(তথা- ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম)* ভালো মানের গম বা আটা সদকা করতে হবে। আর যদি মূল্য আদায় করতে চায়, তাহলে উক্ত গম বা আটা পরিমাণ মূল্য সদকা করে দিবে। *[দুররে মুখতার, খ-১, পৃ. ৩৪৬]*
*📚সদকায়ে ফিতর কাকে দিবে:⬇*
যে সমস্ত লোকদেরকে যাকাত দেওয়া যায়, তাদেরকে সদকায়ে ফিতরও দেওয়া যায়। আর যে সমস্ত লোকদেরকে যাকাত দেওয়া জায়েয নাই, তাদেরকে সদকায়ে ফিতর দেওয়াও জায়েয নাই। *[ফতোয়ায়ে শামি, খ-২, পৃ. ৩৪৪]*
*📚সদকায়ে ফিতরের টাকা দিয়ে মসজিদ-মাদ্রাসা নির্মাণ:⬇⬇*
সদকায়ে ফিতরের টাকা দিয়ে মসজিদ, মাদ্রাসা, রাস্তা, হাসপাতাল নির্মাণসহ জনকল্যাণ মূলক কাজ করা জায়েয হবে না; বরং উক্ত টাকা গরীব-মিসকিন তথা যাকাতের উপযোগীদেরকে বন্টন করে দিতে হবে।
*📚মাদ্রাসার গরীব ছাত্রদেরকে ফিতরা দেওয়া উত্তম:⬇⬇*
মাদ্রাসার গরীব ছাত্রদেরকে সদকায়ে ফিতর দেওয়া অধিক উত্তম। কেননা, এতে ‘সদকায়ে ফিতর’ আদায়ের সাথে সাথে ‘সদকায়ে জারিয়াহ’ এর সওয়াবও অর্জন হয়।
একজনকে একাধিক সদকায়ে ফিতর দেওয়া: একটি সদকায়ে ফিতর একজন ফকির মিসকিন বা একাধিক ফকির মিসকিনকেও প্রদান করা জায়েয। এমনিভাবে একজনকে একাধিক সদকায়ে ফিতর দেওয়াও জায়েয ও বৈধ হবে। *[ফতোয়ায়ে শামি, খ-২, পৃ. ৩৬৪]*
*📚ঋণের পরিবর্তে ফিতরার টাকা কর্তন করা:⬇⬇*
কোনো ধনী ব্যক্তি কোনো অসহায় ব্যক্তির নিকট ঋণ পাওনা থাকে, এমতাবস্থায় যদি ধনী ব্যক্তি ঋণের পরিবর্তে গরীব থেকে সদকায়ে ফিতরের টাকা কর্তন করে, তাহলে তার সদকায়ে ফিতর আদায় হবে না।
*📚করাবদ্ধ ব্যক্তিকে ফিতরা দেওয়া:*
যদি কোনো কারাবদ্ধ গরীব এবং যাকাতের উপযোগী হয়, তাহলে তাকে বা তার পরিবারকে যাকাত ও সদকায়ে ফিতরের টাকা দিতে পারবে।
*যাকাত আদায় করার গুরুত্ব, ফাযায়েল ও মাসায়েল:*
----------------- *[পর্ব :-০২]* ----------------
*📚যাদের উপর যাকাত ফরয হয়:*
*১)* আগেই বলা হয়েছে যে, যাকাত ইসলামের একটি অপরিহার্য ইবাদত। এজন্য শুধু মুসলিমগণই যাকাত আদায়ের জন্য সম্বোধিত হন। সুস্থমস্তিষ্ক, আযাদ, বালেগ মুসলমান নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে যাকাত আদায় করা তার ওপর ফরয হয়ে যায়। *[আদ্দুররুল মুখতার ২/২৫৯ বাদায়েউস সানায়ে ২/৭৯,৮২]*
কাফির যেহেতু ইবাদতের যোগ্যতা রাখে না তাই তাদের ওপর যাকাত আসে না।এছাড়া অসুস্থমস্তিষ্ক মুসলিমের ওপর এবং নাবালেগ শিশু-কিশোরের ওপরও যাকাত ফরয নয়। *[মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৪৬১-৪৬২; রদ্দুল মুহতার ২/২৫৯ রদ্দুল মুহতার ২/২৫৮]*
*📚যেসব জিনিসের উপর যাকাত ফরয হয়:⬇⬇*
*২)* সব ধরনের সম্পদ ও সামগ্রীর ওপর যাকাত ফরয হয় না। শুধু সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা, পালিত পশু (নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী) এবং ব্যবসার পণ্যে যাকাত ফরয হয়।
*৩)* সোনা-রুপার অলংকার সর্বদা বা কালেভদ্রে ব্যবহৃত হোক কিংবা একেবারেই ব্যবহার না করা হোক সর্বাবস্থাতেই তার যাকাত দিতে হবে। *[সুনানে আবু দাউদ ১/২৫৫; সুনানে নাসায়ী হাদীস ২২৫৮; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৭০৫৪-৭০৬১,৭০৬৩-৭০৬৫; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ৯৯৭৪;৬/৪৬৯-৪৭১]*
*৪)* অলংকার ছাড়া সোনা-রুপার অন্যান্য সামগ্রীর ওপরও যাকাত ফরয হয়। *[মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ৭০৬১; ৭০৬৬; ৭১০২]*
*৫)* জামা-কাপড় কিংবা অন্য কোনো সামগ্রীতে সোনা-রুপার কারুকাজ করা থাকলে তা-ও যাকাতের হিসাবের অন্তর্ভুক্ত হবে এবং যে পরিমাণ সোনা-রুপা কারুকাজে লেগেছে অন্যান্য যাকাতযোগ্য সম্পদের সঙ্গে তারও যাকাত দিতে হবে। *[মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০৬৬; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ১০৬৪৮,১০৬৪৯,১০৬৫১]*
সোনা-রুপা ছাড়া অন্য কোনো ধাতুর অলংকার ইত্যাদির উপর যাকাত ফরয নয়। তদ্রূপ হিরা, মণি-মুক্তা ইত্যাদি মূল্যবান পাথর ব্যবসাপণ্য না হলে সেগুলোতেও যাকাত ফরয নয়। *[কিতাবুল আছার মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৭০৬১-৭০৬৪; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৪৪৭-৪৪৮]*
*৬)* মৌলিক প্রয়োজন থেকে উদ্ধৃত্ত টাকা-পয়সা নিসাব পরিমাণ হলে এবং এক বছর স্থায়ী হলে বছর শেষে তার যাকাত আদায় করা ফরয হয়। *[মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৭০৯১,৭০৯২]*
তদ্রূপ ব্যাংক ব্যালেন্স, ফিক্সড ডিপোজিট, বন্ড, সার্টিফিকেট ইত্যাদিও নগদ টাকা-পয়সার মতোই। এসবের ওপরও যাকাত ফরয হয়।
*৭)* টাকা-পয়সা ব্যবসায় না খাটিয়ে এমনি রেখে দিলেও তাতে যাকাত ফরয হয়। *[আদ্দুররুল মুখতার ২/২৬৭; রদ্দুল মুহতার ২/২৬২,৩০০]*
*৮)* হজ্বের উদ্দেশ্যে কিংবা ঘর-বাড়ি নির্মাণ, ছেলে-মেয়ের বিয়ে-শাদি ইত্যাদি প্রয়োজনের জন্য যে অর্থ সঞ্চয় করা হচ্ছে তা-ও এর ব্যতিক্রম নয়। সঞ্চিত অর্থ পৃথকভাবে কিংবা অন্যান্য যাকাতযোগ্য সম্পদের সাথে যুক্ত হয়ে নিসাব পরিমাণ হলে এবং নিসাবের ওপর এক বছর অতিবাহিত হলে যাকাত ফরয হবে। বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তা যদি খরচ হয়ে যায় তাহলে যাকাত ফরয হবে না। *[মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০৩২; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ১০৩২৫]*
*৯)* দোকান-পাটে যা কিছু বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে রাখা থাকে তা বাণিজ্য-দ্রব্য। এর মূল্য নিসাব পরিমাণ হলে যাকাত আদায় করা ফরয। *[সুনানে আবু দাউদ ১/২১৮; সুনানে কুবরা বায়হাকী ৪/১৫৭; মুয়াত্তা ইমাম মালেক পৃ ১০৮; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক হাদীস ৭১০৩,৭১০৪; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ১০৫৫৭, ১০৫৬০, ১০৫৬৩]*
*১০)* ব্যবসার নিয়তে কোনো কিছু ক্রয় করলে তা স্থাবর সম্পত্তি হোক যেমন জমি-জমা, ফ্ল্যাট কিংবা অস্থাবর যেমন মুদী সামগ্রী, কাপড়-চোপড়, অলংকার, নির্মাণ সামগ্রী, গাড়ি, ফার্নিচার, ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী, হার্ডওয়ার সামগ্রী, বইপুস্তক ইত্যাদি, তা বাণিজ্য-দ্রব্য বলে গণ্য হবে এবং মূল্য নিসাব পরিমাণ হলে যাকাত দেওয়া ফরয হবে। *[মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭১০৩,৭১০৪]*
*📚নিসাবের বিবরণ:⬇⬇*
*১১)* স্বর্ণের ক্ষেত্রে যাকাতের নিসাব হল বিশ মিসকাল। *[সুনানে আবু দাউদ ১/২২১; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০৭৭, ৭০৮২]* আধুনিক হিসাবে সাড়ে সাত ভরি।
*১২)* রুপার ক্ষেত্রে নিসাব হল দু’শ দিরহাম। *[সহীহ বুখারী, হাদীস ১৪৪৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৯৭৯]* আধুনিক হিসাবে সাড়ে বায়ান্ন তোলা। এ পরিমাণ সোনা-রুপা থাকলে যাকাত দিতে হবে।
*যাকাত আদয় করার গুরুত্ব, ফাযায়েল ও মাসায়েল:*
----------------- *[পার্ব :-০১]* ----------------
যাকাত ইসলামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রোকন। ঈমানের পর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য ইবাদত হল সালাত ও যাকাত। কুরআন মজীদে বহু স্থানে সালাত-যাকাতের আদেশ করা হয়েছে এবং আল্লাহর অনুগত বান্দাদের জন্য অশেষ ছওয়াব, রহমত ও মাগফিরাতের পাশাপাশি আত্মশুদ্ধিরও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এক আয়াতে ইরশাদ হয়েছে-
*وَ اَقِیْمُوا الصَّلٰوةَ وَ اٰتُوا الزَّكٰوةَ ؕ وَ مَا تُقَدِّمُوْا لِاَنْفُسِكُمْ مِّنْ خَیْرٍ تَجِدُوْهُ عِنْدَ اللّٰهِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ بِمَا تَعْمَلُوْنَ بَصِیْرٌ۱۱۰*
*অর্থ:-* ‘তোমরা সালাত আদায় কর এবং যাকাত প্রদান কর। তোমরা যে উত্তম কাজ নিজেদের জন্য অগ্রে প্রেরণ করবে তা আল্লাহর নিকটে পাবে। নিশ্চয়ই তোমরা যা কর আল্লাহ তা দেখছেন। *[সূরা বাকারা : ১১০]*
অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে-
*وَ اَقِیْمُوا الصَّلٰوةَ وَ اٰتُوا الزَّكٰوةَ وَ اَطِیْعُوا الرَّسُوْلَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُوْنَ۵۶*
*অর্থ:-* ‘তোমরা সালাত আদায় কর, যাকাত দাও এবং রাসূলের আনুগত্য কর যাতে তোমরা অনুগ্রহভাজন হতে পার।’ *[সূরা নূর : ৫৬]*
সূরা নিসার ১৬২ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের জন্য ‘আজরুন আযীম’-এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে-
*وَ الْمُقِیْمِیْنَ الصَّلٰوةَ وَ الْمُؤْتُوْنَ الزَّكٰوةَ وَ الْمُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ وَ الْیَوْمِ الْاٰخِرِ ؕ اُولٰٓىِٕكَ سَنُؤْتِیْهِمْ اَجْرًا عَظِیْمًا۠۱۶۲*
*অর্থ:-* ‘এবং যারা সালাত আদায় করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও পরকালে ঈমান রাখে আমি তাদেরকে মহাপুরস্কার দিব।’
অন্য আয়াতে যাকাতের গুরুত্বপূর্ণ সুফল বর্ণনা করে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন-
*خُذْ مِنْ اَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَ تُزَكِّیْهِمْ بِهَا وَصَلِّ عَلَیْهِمْ ؕ اِنَّ صَلٰوتَكَ سَكَنٌ لَّهُمْ ؕ وَ اللّٰهُ سَمِیْعٌ عَلِیْمٌ۱۰۳*
*অর্থ:-* ‘তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করুন, যার দ্বারা আপনি তাদেরকে পবিত্র করবেন এবং পরিশোধিত করবেন এবং আপনি তাদের জন্য দুআ করবেন। আপনার দুআ তো তাদের জন্য চিত্ত স্বস্তিকর। আল্লাহ্ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’ *[সূরা তাওবা : ১০৩]*
এছাড়া কুরআন মজীদের বিভিন্ন আয়াত থেকে পরিষ্কার জানা যায় যে, সালাত ও যাকাতের পাবন্দী ছাড়া আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের প্রশ্নই অবান্তর। কুরআন মজীদের বিভিন্ন আয়াতে, যেখানে খাঁটি মু’মিনের গুণ ও বৈশিষ্ট্য উল্লেখিত হয়েছে সেখানে সালাত-যাকাতের কথা এসেছে অপরিহার্যভাবে।
কুরআনের দৃষ্টিতে প্রকৃত পুণ্যশীলদের পরিচয় যেখানে দেওয়া হয়েছে সেখানে সালাত-যাকাতের উল্লেখ এসেছে। *[সূরা বাকারা ১৭৭]*
মুমিনের বন্ধু কারা-এই প্রশ্নের উত্তরেও সালাত-যাকাতের প্রসঙ্গ শামিল রয়েছে। *[সূরা মায়েদা : ৫৫]*
‘সৎকর্মপরায়ণদের বৈশিষ্ট্য ও কর্মের তালিকায় সালাত-যাকাতের প্রসঙ্গ অনিবার্য। *[সূরা লুকমান : ৪]*
মসজিদ আবাদকারীদের পরিচয় জানতে চাইলেও সালাত-যাকাত তাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। *[সূরা তাওবা : ১৮]*
কুরআন মজীদ কাদের জন্য হেদায়েত ও শুভসংবাদ দাতা-এর উত্তর পেতে চাইলেও সালাত-যাকাত অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। *[সূরা নামল : ৩]*
ভূপৃষ্ঠে ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব লাভের পরও মুমিনদের অবস্থা কী তা জানতে চাইলে সালাত-যাকাতই অগ্রগণ্য। *[সূরা হজ্জ্ব : ৪১]*
বিধর্মী কখন মুসলিম ভ্রাতৃত্বে শামিল হয়- এ প্রশ্নের উত্তরে তাওবার সঙ্গে সালাত-যাকাতও উল্লেখিত। *[সূরা তাওবা : ১১]*
দ্বীনের মৌলিক পরিচয় পেতে চাইলে সালাত-যাকাত ছাড়া পরিচয় দান অসম্ভব। *[সূরা বাইয়েনা : ৫]*
*মোটকথা:-* এত অধিক গুরুত্বের সঙ্গে সালাত-যাকাত প্রসঙ্গে কুরআন মজীদে এসেছে যে, এটা ছাড়া দ্বীন ও ঈমানের অস্তিত্বই কল্পনা করা যায় না। মুমিনের অন্তরের ঈমান সালাত-যাকাতের বিশ্বাসের ওপর এবং তার কর্মের ঈমান সালাত-যাকাতের কর্মগত বাস্তবায়নের ওপর নির্ভরশীল। ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী রাহ.-এর ভাষায়-
*والزكاة أمر مقطوع به في الشرع يستغني عن تكلف الاحتجاج له، وإنما وقع الاختلاف في بعض فروعه، وأما أصل فرضية الزكاة فمن جحدها كفر.*
*অর্থ:-* ‘যাকাত শরীয়তের এমন এক অকাট্য বিধান, যে সম্পর্কে দলীল-প্রমাণের আলোচনা নিষ্প্রয়োজন। যাকাত সংক্রান্ত কিছু কিছু মাসআলায় ইমামদের মধ্যে মতভিন্নতা থাকলেও মূল বিষয়ে অর্থাৎ যাকাত ফরয হওয়া সম্পর্কে কোনো মতভেদ নেই। যাকাতের ফরযিয়তকে যে অস্বীকার করে সে ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যায়।’ *[ফাতহুল বারী ৩/৩০৯]*
উপরের আলোচনা থেকে যাকাতের গুরুত্ব ও অপরিহার্যতা এবং এর সুফল ও উপকারিতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেল। এখান থেকে এ বিষয়টাও অনুমান করা যায় যে, ফরয হওয়া সত্ত্বেও যারা যাকাত আদায় করে না তারা কত বড় ক্ষতিগ্রস্ত-তার শিকার! যাকাতের সকল সুফল থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আল্লাহর আদেশ অমান্য করার কারণে তাদেরকে যে মর্মন্তুদ শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে তা-ও কুরআন মজীদে বলে দেওয়া হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে-
*وَ لَا یَحْسَبَنَّ الَّذِیْنَ یَبْخَلُوْنَ بِمَاۤ اٰتٰىهُمُ اللّٰهُ مِنْ فَضْلِهٖ هُوَ خَیْرًا لَّهُمْ ؕ بَلْ هُوَ شَرٌّ لَّهُمْ ؕ سَیُطَوَّقُوْنَ مَا بَخِلُوْا بِهٖ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ ؕ وَ لِلّٰهِ مِیْرَ اثُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ؕ وَ اللّٰهُ بِمَا تَعْمَلُوْنَ خَبِیْرٌ۠۱۸۰*
*অর্থ:-* আর আল্লাহ্ নিজ অনুগ্রহে যা তোমাদেরকে দিয়েছেন তাতে যারা কৃপণতা করে তারা যেন কিছুতেই মনে না করে যে, এটা তাদের জন্য মঙ্গল। না, এটা তাদের জন্য অমঙ্গল। যে সম্পদে তারা কৃপণতা করেছে কিয়ামতের দিন তা-ই তাদের গলায় বেড়ি হবে। আসমান ও যমীনের স্বত্ত্বাধিকার একমাত্র আল্লাহরই। তোমরা যা কর আল্লাহ তা বিশেষভাবে অবগত। *[সূরা আলইমরান : ১৮০]*
হাদীস শরীফে এসেছে- ‘যাকে আল্লাহ্ তা'আ সম্পদ দিয়েছেন, কিন্তু সে তাঁর যাকাত দেয়নি কিয়ামতের দিন তা বিষধর স্বর্পরূপে উপস্থিত হবে এবং তা তার গলায় পেঁচিয়ে দেওয়া হবে। সাপটি তার উভয় অধরপ্রান্তে দংশন করবে এবং বলবে, আমিই তোমার ঐ ধন, আমিই তোমরা পুঞ্জিভূত সম্পদ।’ *[সহীহ বুখারী]*
সে কখনই চিন্তিতও হয় না ব্যথিতও হয় না, যে দৃড়তার সাথে সত্য বলে তার উপর অটল থাকে।
আর জবান পিছলে যাওয়া মুমিনের জন্য অনেক বড় এক মহামারী।
মৃত ব্যক্তির নামে খানার আয়োজন করার হুকুম কি?
কেউ মারা গেলে মৃতের বাড়িতে প্রথা পালন করে তিনদিনের দিন বা সাতদিনের দিন অথবা চল্লিশ দিনের দিন দাওয়াতের আয়োজন করা--যাকে যথাক্রমে তিনদিনা, সাতদিনা ও চল্লিশা বলে, শরীয়তের দৃষ্টিতে এ প্রথা পালন করা নাজায়েজ ও বিদ‘আত। এসব পালন করার কোন অবকাশ নেই। এ কাজে মহানবী (সাঃ) এবং তা পরে তাঁর সাহাবাগণ, তাবেঈনগণও করেননি।
আর আল্লাহ্র রাসুল (সঃ) বলেন, “যে ব্যক্তি আমাদের এ দ্বীন বিষয়ে অভিনব কিছু রচনা করবে, যা এর অন্তর্ভুক্ত নয় তা প্রত্যাখ্যাত।” -[ বুখারী ২৬৯৭, মুসলিম ১৭১৮ নং]
মুসলিম শরীফের এক বর্ণনায় তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি এমন কোন কর্ম করে, যাতে আমাদের কোন নির্দেশ নেই তা প্রত্যাখ্যাত।” -[ মুসলিম ১৭১৮ নং]
সাহাবায়ে কিরাম (রা.)-এর যুগে একে নিষিদ্ধ ও মন্দ কাজ গণ্য করা হত। এ সম্পর্কে হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে;
হযরত জাবির বিন আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, “আমরা মৃতের দাফন কার্য শেষ হওয়ার পর তার বাড়িতে একত্রিত হওয়া এবং (দাফনে শরীক লোকজন ও আত্মীয়-স্বজনদের জন্য) খাবারের আয়োজন করাকে নিয়াহা (নিষিদ্ধ পন্থায় শোক পালন)-এর অন্তর্ভুক্ত গণ্য করতাম।”
[মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৬৯০৫]
বস্তুত দাওয়াতের আয়োজন তো করা হয় কোনো আনন্দ-উৎসবের সময়; কোনো বেদনা বা শোকের মুহূর্তে নয়। তাছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নত হল, মৃতের পরিবার-পরিজনদের জন্য প্রতিবেশীর পক্ষ থেকে খাবারের ব্যবস্থা করা, যেন তাদেরকে মৃতের জন্য ব্যস্ততা ও শোকাহত থাকার কারণে অনাহারে থাকতে না হয়। অথচ উল্লিখিত কাজটি এর সম্পূর্ণ উল্টো ও বিপরীত। তাই এর থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।
এছাড়া একটি কথা প্রচলিত আছে, যা হাদিস হিসেবে বলে ভুল করে থাকেন।
এটা আসলে হাদীস নয় : طعام الميت يميت القلوب
অর্থাৎ "মৃতদেরকে কেন্দ্র করে যে খানা খাওয়ানো হয় তা অন্তরকে মৃত বানিয়ে দেয়।"
এটা একটা উক্তি,
যার অর্থ হচ্ছে, মৃতদের ঈসালে ছওয়াবের উদ্দেশ্যে খতমে কুরআন বা খতমে তাহলীল করা হয় এবং উপস্থিত লোকদের জন্য খাবার-দাবারের আয়োজন করা হয় যেহেতু ঈসালে ছওয়াবের উদ্দেশ্যে কোনো আমল করে তার বিনিময়ে খানা খাওয়া বা খাওয়ানো জায়েয নয় এজন্য এই খাবারের দিকে আগ্রহ লোভ-লালসার পরিচায়ক, যা অন্তরকে প্রাণহীন করে দিতে পারে। একই কথা কারো মৃত্যুর সময় জিয়াফতের খাবার প্রসঙ্গেও। জিয়াফত আনন্দের সময় করা হয়ে থাকে, দুঃখ-মুসীবতের সময় নয়। এই সময় জিয়াফতের কোনো বৈধতা শরীয়তে নেই। এজন্য এ ধরনের খানা নূরহীন ও বরকতহীন হয়ে থাকে। বলাবাহুল্য, এ ধরনের খাবার অন্তরকে ক্লেদাক্ত করা খুবই স্বাভাবিক। এজন্য বুযুর্গরা বলেছেন, "মৃতের খাবার অন্তরকে মৃত বানিয়ে দেয়।"
এটা বুযুর্গদের উক্তি, হাদীস নয়। কেউ কেউ একে হাদীস মনে করে থাকেন। তাদের ধারণা ঠিক নয়। [ফাতাওয়া আযীযিয়্যাহ, শাহ আবদুল আযীয দেহলভী পৃ. ২০২]
উল্লেখ্য, গরীব-মিসকীনকে আহার করানো অনেক বড় ছওয়াবের কাজ এবং তা ঈসালে ছওয়াবের উদ্দেশ্যেও হতে পারে। আর যদি মৃত ব্যক্তির জন্য ছাওয়াব রেসানী হিসেবে খাওয়ানো হয়, তাহলে তিনদিন বা সাতদিন কিংবা চল্লিশ দিনের নিয়ম করা যাবে না, অর্থাৎ প্রচলিত তারিখগুলো (তৃতীয়, দশম, চল্লিশতম দিনে, শবে বরাত ইত্যাদিতে) ব্যতীত হতে হবে। বরং ঈসালে ছাওয়াবের জন্য সেভাবে প্রথাগত নির্দিষ্ট দিনের নিয়ম পালন না করে যে কোন দিন তা করা যায়। আর যেহেতু তখন তা মৃত ব্যক্তির রুহে ছাওয়াবের পৌঁছানোর জন্য সদকার হুকুমে হবে, তবে শর্ত এই যে, হালাল পয়সায় হতে হবে, নিজের সম্পদ দ্বারা হতে হবে, অবন্টিত মীরাছের সম্পদ থেকে হলে হবে না।
এতব্যতীত মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পদ যাতে কোন নাবালগ শরীক আছে বা ওয়ারিসদের সবার অনুমতি নেয়া হয়নি সেখান থেকে খরচ করা যাবে না। বরং তার আত্মীয়গণ নিজেদের অর্থ-সম্পদ দ্বারা তার জন্য গরীব-মিসকীনদের খাওয়ানো বা দান করার মাধ্যম ঈসালে ছাওয়াব করা যাবে ।
সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বিষয় এই যে, কাউকে খানা খাওয়ালে ওই সময় খতম পড়াবে না, আর যদি খতম পড়ানো হয় তাহলে খানা খাওয়াবে না এবং কোনো হাদিয়াও দিবে না। এরপর অন্যের মাধ্যমেই ঈসালে ছওয়াব করাতে হবে।
এরই বা কী অপরিহার্যতা? প্রত্যেকে নিজেই ঈসালে ছওয়াব করতে পারে। কিছু দান-সদকা করা হল, নফল নামায পড়া হল, সূরা ইখলাস তিনবার পড়া হল, আল্লাহর দরবারে তাদের ক্ষমার জন্য দুআ করা হল- এই সবগুলোই ঈসালে ছওয়াব হিসেবে গণ্য হতে পারে।
#তথ্যসূত্র ;
১. সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৬১২;
২. ফাতহুল কাদীর, ২য় খণ্ড, ১০২ পৃষ্ঠা;
৩. রদ্দুল মুহতার, ২য় খণ্ড, ২৪০ পৃষ্ঠা/ ইলাউস সুনান, ৮ম খণ্ড, ৩২৯ পৃষ্ঠা
*জুমআ'র দিনের আমল:*--
*[মুফতি মোহাম্মদ আলী কাসেমী]*
----------------------------------------------
যে ব্যক্তি জুমআ'র দিনে ছয়টি কাজ করবে, সে জুমআ'র নামাযের যাওয়ার পথে প্রতি কদমে (পা ফেলায়) এক বছরের নফল নামায ও এক বছরের নফল রোযার সওয়াব পাবে।
*📚ছয়টি কাজ হলো এই:⤵*
*১)* জুমআ'র নামাযের উদ্দেশ্যে ভালভাবে গোসল করা।
*২)* ওয়াক্ত হওয়ার সাথে সাথে (আযানের অপেক্ষা না করে) মসজিদে যাওয়া।
*৩)* পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়া।
*৪)* ইমাম সাহেবের নিকটে বসা। অর্থাৎ, যতদূর সম্ভব সামনের কাতারে বসা।
*৫)* মনোযোগ সহকারে খুৎবা শুনা।
*৬)* খুৎবার সময় কোন কথা না বলা ও কোন কাজ না করা। *[সহীহ ইবনে খুযাইমাহ, হাদীস নং- ১৭৫৮/ নাসায়ী, হাদীস নং- ১৩৮৪, তিরমিযী, হাদীস নং- ৪৯৬/ আবু দাউদ, হাদীস নং- ৩৪৫[*
*[বি:দ্র:-* কোন সহীহ হাদীসে বর্ণিত আমল ছাড়া অন্য কোন নফল আমলের ব্যাপারে এত বেশি ফযীলতের কথা পাওয়া যায় না।
*📚জুম‘আর দিনের অন্যান্য আমল:⤵*
*১)* সূরা কাহাফ পড়া। কমপক্ষে ১০ আয়াত তিলাওয়াত করা। *[মুসলিম হাদীস নং ৮০৯; তাফসীরে ইবনে কাসীর-৩/৭৯]*
*ফায়দা:-* দাজ্জালের ফিতনা হতে রক্ষা পাওয়া যায়।
*২)* সালাতুত তাসবীহ নামায পড়া। *[আবু দাঊদ হাদীস নং ১২৯৭]*
*রাকাত:-* এক সাথে ৪ রাকাত অথবা, ২, ২ রাকাত করে পড়া।
*ফায়দা:-* সকল প্রকার গুনাহ্ থেকে মাফ পাওয়া যায়।
*৩)* উত্তম পোশাক ও খুশবু লাগিয়ে নামাযে আসা। *[বুখারী হাদীস নং ৮৮৩, ৮৮৬]*
খুশবু ব্যবহারে নিম্নোক্ত নিয়্যত করবে:এটা হুজুর *(সাল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়া সাল্লাম)* এর সুন্নাত।আমাদের শরীরের ঘামের গন্ধ হতে যাতে অন্যদের কষ্ট না হয়।মুসলমান ভাইদের অন্তর খুশি করা।হুজুর *(সাল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়া সাল্লাম)* বলেছেন, “যারা গরীব, খুশবু কেনার টাকা নেই, তাদের জন্য গোসল হচ্ছে খুশবু।]
*৪)* দুই খুৎবার মাঝে যখন ঈমাম সাহেব বসে তখন অন্তরে দোয়া করা, মুখে নয়। *[তিরমিযী হাদীস নং ৫২৮]*
*ফায়দা:-* এ সময় দোয়া কবুল হওয়ার ওয়াদা রয়েছে।
*৫)* আছরের পর ৮০ বার এই দুরুদ শরীফ পড়া। *[আদদুররু মানযুদ ফিন সালাতি ওয়াস সালামি আলা সাহিবিল মাকামিল মাহমুদ-পৃষ্ঠা ১৬০]*
*اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدَن النَّبِيِّ الأمِّيِّ وَعَلَى الِه وَسَلِّمْ تَسْلِيْمًا*
*বাংলা উচ্চারণ:-* আল্লাহুম্মা সাল্লি আ'লা মুহাম্মাদিনীন নাবিয়্যিলি উম্ম্যিয়্যি ওয়া ‘আলা আলিহি ওয়া সাল্লিম তাসলিমা)
*ফায়দা:-* আল্লাহ্ পাক ৮০ বৎসরের গুনাহ মাফ করে দিবেন। যদি গুনাহ্ না থাকে তবে জান্নাতে তার মর্তবা বৃদ্ধি করবেন এবং তার আমল নামায় ৮০ বৎসরের ইবাদতের সাওয়াব লিখে দিবেন।
*৬)* বেলা ডোবার আগে (মাগরিবের) ১০/১৫ মিনিট আগে মসজিদে এসে দু‘আয় মশগুল হওয়া। *[আবু দাউদ-হাদীস নং ১০৪৮]*
*ফায়দা:-* এ সময়ও দোয়া কবুল হওয়ার ওয়াদা রয়েছে।
*৭)* এ দিনে অন্য দিনের তুলনায় বেশী দুরূদ পড়া। *[আবু দাউদ হাদীস নং ১০৪৭]*
আল্লাহ্ তাআ'লা আমাদেরকে উল্লেখিত আমল গুলো বেশী বেশী করার তাওফীক দান করুন।আমীন..!
সবাইকে আরবী নববর্ষের শুভেচ্ছা ( ১৪৪১ হিজরি)
আরবি মাস গণনা করা ফরজ
إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِندَ اللّهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِي كِتَابِ اللّهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَاوَات وَالأَرْضَ
নিশ্চয় আল্লাহর বিধান ও গননায় মাস বারটি, আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে।
সূরা তাওবাঃ ৩৬ (প্রথমাংশ)
১. মুহাররম (ﻣﺤﺮﻡ)
২. সফর(ﺻﻔﺮ)
৩. রবিউল আউয়াল(ﺭﺑﻴﻊ ﺍﻷﻭﻝ)
৪. রবিউস সানি(ﺭﺑﻴﻊ ﺍﻟﺜﺎﻧﻲ)
৫. জমাদিউল আউয়াল(ﺟﻤﺎﺩﻱ ﺍﻷﻭﻝ)
৬. জমাদিউস সানি(ﺟﻤﺎﺩﻱ ﺍﻟﺜﺎﻧﻲ)
৭. রজব(ﺭﺟﺐ)
৮. শা'বান(ﺷﻌﺒﺎﻥ)
৯. রমজান(رﻣﻀﺎﻥ)
১০. শাওয়াল (ﺷﻮﺍﻝ)
১১. জ্বিলকদ ( ﺫﻭ ﺍﻟﻘﻌﺪﺓ)
১২. জ্বিলহজ ( ﺫﻭ ﺍﻟﺤﺠﺔ)
হিজরি ১২ মাসের নামকরণ করার কারণ
আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীর কোন কিছু অযথা সৃষ্টি করেন নি। বরং প্রতিটি সৃষ্টির মধ্যে রহস্য বিদ্যমান। এসব রহস্যের অনেক কিছুই মানুষ জানে।
এছাড়া মানুষও কোন কিছু অনর্থক করে না। প্রতিটি কাজের পেছনে থাকে সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য।
সংক্ষিপ্ত ইতিহাস : হিজরি সন মুসলিম উম্মাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ গণনার সাল। মহানবী (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের সময় থেকে এ হিজরি সাল গণনার শুরু হয়।
হজরত ওমর (রা.) আনুষ্ঠানিকভাবে হিজরি সনের প্রবর্তন করেন। বৈজ্ঞানিক ও ঐতিহাসিক আলবিরুনি কর্তৃক বিধৃত একটি বিবরণী থেকে জানা যায়, আবু মুসা আল আশাআরি (রা.) হজরত ওমর (রা.)-এর কাছে লিখিত এক পত্রে অভিযোগ করেন, আপনি আমাদের কাছে চিঠি পাঠাচ্ছেন; কিন্তু সেগুলোতে কোনো তারিখ উল্লেখ নেই। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে হজরত ওমর (রা.) একটি সুনির্দিষ্ট সন তৈরিতে সচেষ্ট হন।
আল্লামা শিবলি (রহ.) উল্লেখ করেন, হজরত ওমর (রা.)-এর শাসনামলেই ১৬ হিজরি সনে খলিফা ওমরের কাছে একটি দাপ্তরিক পত্রের খসড়া পেশ করা হয়। তাতে শাবান মাসের উল্লেখ ছিল। এটি কোনো সনের ইঙ্গিত বহন করছিল না। তীক্ষ্ন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন হজরত ওমর ফারুক (রা.) জিজ্ঞেস করেন, পরবর্তী কোনো সময়ে তা কিভাবে বোঝা যাবে, সেটি কোন সনে তাঁর সামনে পেশ করা হয়েছিল? কোনো সদুত্তর না পেয়ে খলিফা হজরত ওমর (রা.) সাহাবায়ে কেরাম ও অন্য শীর্ষ পর্যায়ের জ্ঞানী-গুণী মুসলমানদের নিয়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেন। আলোচনাকালে অধিকাংশ ব্যক্তিই অভিমত প্রকাশ করেন, সন গণনার ক্ষেত্রে পারসিকদের পদ্ধতি গ্রহণ করাই শ্রেয়।
খোজিস্থানের বাদশাহ হরমুজান (যিনি তখন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মদিনায় বসবাস করছিলেন) প্রস্তাব রাখেন যে তাঁর দেশে প্রচলিত 'মাহরুজ' প্রথাই সন গণনার ক্ষেত্রে অনুসরণ করা উচিত।
কারণ, মাহরুজ পদ্ধতিতে তারিখ ও মাস সুষ্ঠুভাবে প্রতিফলিত হয়ে থাকে। কেউ কেউ মত প্রকাশ করেন, মহানবী (সা.)-এর ঐতিহাসিক হিজরতের দিন থেকে ইসলামী সন গণনার শুভ সূচনা করাই শ্রেয়। কারণ ঐতিহাসিক তাৎপর্যমণ্ডিত এই মহান দিবসেই ইসলামের ইতিহাসে এক নব দিগন্ত উন্মোচিত হয়। মহান রাব্বুল আলামিনের নির্দেশে সম্পাদিত অতীব গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যমণ্ডিত হিজরতকে ইসলামী বর্ষপঞ্জির জন্য সর্বাপেক্ষা উপযোগী বিবেচনা করে হজরত আলী (রা.)-এর প্রস্তাবই সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে খলিফা হজরত ওমর ফারুক (রা.) হিজরতের বছর থেকেই ইসলামী দিনপঞ্জি গণনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় হিজরতের ১৬ বছর পর ১০ জুমাদাল উলা ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে। আলোচনা সভায় সে সময় আরবে অনুসৃত প্রথানুযায়ী পবিত্র মহররম মাস থেকে ইসলামী বর্ষ শুরু (হিজরি সনের শুরু) করার ও জিলহজ মাসকে সর্বশেষ মাস হিসেবে চিহ্নিত করার পরামর্শ দান করেন হজরত ওসমান গনি (রা.)।
১২ মাসের নামকরণের কারণ
১. মুহাররম
মুহাররম কে মুহাররমুল হারাম বলা হয়। এই নাম রাখা হয়েছিল জাহেলিয়াতের যুগে। মূলত সেই সময় এই মাসে সকল প্রকার যুদ্ধ-বিগ্রহ ও রক্তপাত করা হারাম তথা অবৈধ ছিল। আর এই কারণে একে মুহাররমুল হারাম রাখা হয়।
২. সফর
সফর আরবি দ্বিতীয় মাস। ‘সিফর’ ধাতু থেকে সফর শব্দটি উৎপন্ন। সিফর শব্দের অর্থ শূন্য হওয়া। পূর্বে বলা হয়েছে জাহেলিয়াতের যুগে মুহাররম মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ হারাম ছিল। কিন্তু সফর মাসে আবার তারা চির চিনা রূপে ফিরে আসতো তথা
যুদ্ধ বিগ্রহ করা শুরু করতো। যেহেতু সফর মাসে যুদ্ধের জন্য বের হয়ে যেত এবং তাদের বাড়ী গুলো শূন্য হয়ে পড়ে থাকত। তাই এই মাসকে সফর নামকরণ করা হয়।
আরেকটি মত হলো, সফর শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে সুফর ধাতু হতে। সুফর অর্থ হলো হলদে বর্ণ। মানুষ যখন এই মাসের নামকরণ করার উদ্যোগ নেয়, তখন দেখা যায় এই সময় গাছের পাতা ঝরার ঋতু চলে আসে। আর পাতা ঝরার পূর্বে পাতার রং হলদে রং ধারণ করতো। তাই তখন এই মাসের নাম সফর রেখে দেয়া হয়।
৩. রবিউল আওয়াল
সফর মাসে যেহেতু পাতা ঝরার ঋতু ছিল আর পাতা ঝরার ঋতুর পর আসে বসন্ত। রবিউল আওয়াল মাসের নাম রাখার উদ্যোগ যখন নেয়া হয় তখন হিসাব অনুযায়ী এই মাস ফসলে রবি অর্থাৎ বসন্তকালের শুরুতে পড়ে যায় তাই এই মাসের নামকরণ করা হয় ’রবিউল আওয়াল’। রবিউল আওয়ালকে প্রথম বসন্ত বলা যায়।
৪. রবিউস সানি
রবিউস সানি কে রবিউল আখিরও বলা হয়। এই মাসের নামকরণ করার সময় দেখা গেল এটি বসন্ত কালের শেষ সময় তাই এর নাম রবিউল সানি রাখা হয়। রবিউস সানির অর্থ দ্বিতীয় বসন্ত।
৫. জমাদিউল আউয়াল
জমাদিউল আউয়াল শব্দের অর্থ প্রথম শুকনো ভূমিখণ্ড। জমাদিউল আউয়ালকে জুমাদাল উলাও বলা হয়। জুমাদা শব্দটির উৎপত্তি জুমুদ ধাতু থেকে যার অর্থ হলো জমে যাওয়া, স্থবির হওয়া ইত্যাদি। আর উলা শব্দের অর্থ প্রথম। এই মাসের নামকরণের সময় শীত কাল থাকে আর শীত কালে সব কিছু স্থবির বা জমে যায় তাই একে জমাদিউল আউয়াল বলা হয়।
৬. জমাদিউস সানি
জমাদিউস সানি শব্দের অর্থ দ্বিতীয় শুকনো ভূমিখণ্ড। এটা আরবের গ্রীষ্মকালের শুরু বলা যেতে পারে এবং শীতের শেষ। আর শীতের সময় পানি যেমন একদম জমে যায় অপর দিকে গ্রীষ্মে যেমন পানি শুকিয়ে যায় আর তাই এই মাসকে জমাদিউস সানি বলা হয়।
৭. রজব
রজব শব্দটি তারজীব হতে উৎপত্তি। তারজীব শব্দের অর্থ সম্মান, শ্রদ্ধা করা। আরববাসীরা এই মাসকে আল্লাহর মাস বলত এবং এর সম্মান করত তাই এই মাসের নাম রজব রাখা হয়।
রজব শব্দের অন্য আরেকটি অর্থ সরিয়ে রাখা। এই মাসে আরবে যুদ্ধ নিষিদ্ধ ছিল ফলে তারা বর্শার মাথা সরিয়ে রাখতো তাই এই মাসকে রজব মাস বলা হয়।
৮. শাবান
শাবান শব্দের উৎপত্তি শাব হতে। এর অর্থ বিক্ষিপ্ত, বের হওয়া, প্রকাশ হওয়া, বিদীর্ণ হওয়া। এই মাসে বিপুল কল্যাণ প্রকাশিত ও প্রসারিত হয়, মানুষের রিজিক বণ্টন হয় এবং তকদীরই ফয়সালা বণ্টন করা হয় তাই এর নাম শাবান রাখা হয়েছে।
এছাড়া আর একটি মত হলো, আরবের লোকেরা এই মাসে পানির সন্ধানে আরবের চারদিকে ছড়িয়ে যেতো। যার ফলে এর নাম শাবান রাখা হয়।
৯. রমজান
রমজান শব্দের অর্থ দহন, জ্বালানো, পুড়ানো। এই মাসে মুমিনের গুনাহ সমূহ জ্বালিয়ে পুড়িয়ে শেষ করে দেয়, তাই এর নাম রাখা হয়েছে রমজান। এছাড়া রমজান মাসে নফসের কষ্ট ও জ্বলনের কারণ হয়, তাই এর নাম রাখা হয় রমজান। রমজান মাসে মুসলমান গন রোজা রাখার দ্বারা দুনিয়াবি লোভ লালসা থেকে দূরে থাকে। এই মাসে কুরআন নাজিল হয়েছিল।
১০. শাওয়াল
শাওয়াল শব্দের অর্থ উত্থিত। শাওয়াল শব্দটি শাওল ধাতু হতে নির্গত। শাওল অর্থ বাহিরে গমন করা। আরবের লোকেরা এই মাসে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বাড়ি ছেড়ে বের হতো। তাই এই মাসের নাম রাখা হয় শাওয়াল।
আবার অনেকের মতে এই সময়ে স্ত্রী উট লেজ উত্থিত করে বাচ্চা প্রসব করতো যার কারণে এই মাসের নাম শাওয়াল রাখা হয়।
১১. জ্বিলকদ
জ্বিলকদ শব্দের অর্থ সাময়িক যুদ্ধ বিরতির মাস। জি অর্থ ওয়ালা আর কাদাহ অর্থ বসা। মাসটি আশহুরে হুরমের অর্থাৎ যে মাসগুলোকে বিশেষ সম্মান করা হয় সেই মাসগুলোর অন্তর্ভুক্ত তাই আহলে আরবগন এই মাসে যুদ্ধ বন্ধ করে বাড়িতে বসে থাকতো। এই কারণেই এই মাসের নাম জ্বিলকদ রাখা হয়।
তবে এই মাসে আরবদের যুদ্ধ করা নিষিদ্ধ হলেও আত্মরক্ষার জন্য যুদ্ধ করার নিয়ম ছিল।
১২. জ্বিলহজ্জ
জ্বিলহজ্জ শব্দের অর্থ হজ্জের মাস। হাজ্জাহ হতে জ্বিলহজ্জ শব্দটি নেয়া। হাজ্জাহ অর্থ একবার হজ্জ করা। আবার এর মূল হিজ্জ হতেও নেয়া হতে পারে। কেননা হিজ্জ অর্থ বছর। যেহেতু এই মাস বছরের একদম শেষে আসে এবং এর মাধ্যমে বছরের সমাপ্তি হয় তাই এই মাসের নামকরণ করা হয়েছে জ্বিলহজ্জ।[১]
আরবদের নিয়ম অনুযায়ী এই মাসেও যুদ্ধ নিষিদ্ধ ছিল। এছাড়া মুসলমানদের জন্য এই মাস গুরুত্বপূর্ণ এই মাসে হজ্জ করা হয় এবং ঈদুল আযহা পালন করা হয়।
শেষ কথা
আরবি মাস চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল। তাই আরবি মাসে শুরু বা সমাপ্তি হয় সূর্যাস্তের সাথে সাথে। অর্থাৎ চাঁদ দেখার সাথে সাথে। নতুন মাসের চাঁদ দেখা না গেলে ৩০ দিন পূর্ণ করতে হয়।
🔸.. গুরুত্বপূর্ণ মাসাইল...🚩
(বিষেশ করে তাদের জন্য যারা বলে পুরুষ ও মহিলার নামাজের মাঝে কোন পার্থক্য নেই)
পুরুষ ও মহিলাদের নামাজের মাঝে পার্থক্য !
ভূমিকা,
নারী পুরুষের শারীরিক গঠন, সক্ষমতা, নিরাপত্তা ইত্যাদী নানা বিষয়ে যেমন পার্থক্য রয়েছে, তেমনি পার্থক্য রয়েছে ইবাদতসহ শরীয়তের অনেক বিষয়ে। যেমন-
১-পুরুষ ও মহিলা উভয়ের উপরই হজ্ব ফরয। কিন্তু মহিলাদের জন্য পথ খরচ ছাড়াও হজ্বের সফরে স্বামী বা মাহরাম পুরুষের উপস্থিতি শর্ত।
২-ইহরাম অবস্থায় পুরুষের জন্য মাথা ঢাকা নিষেধ। অথচ মহিলাদের জন্য ইহরাম অবস্থায় মাথা ঢেকে রাখা ফরয।
৩-ইহরাম খোলার সময় পুরুষ মাথা মুন্ডায়। কিন্তু মহিলাদের মাথা মুন্ডানো নিষেধ।
৪-হজ্ব পালনকালে পুরুষ উচ্চ আওয়াজে তালবীয়া পাঠ করে, পক্ষান্তরে মহিলাদের জন্য নিম্ন আওয়াজে পড়া জরুরী।
৫-পুরুষের উপর জুমআ পড়া ফরয, মহিলাদের উপর নয়।
৬-নামাযে সতর্ক করার মত কোন ঘটনা ঘটলে সতর্ক করার জন্য পুরুষের তাসবীহ পড়ার হুকুম করা হয়েছে। কিন্তু মহিলাদের তাসফীক করা তথা হাতে শব্দ করার বিধান।
৭-ইমাম ও খতীব শুধু পুরুষই হতে পারে, কোন নারী হতে পারেনা।
৮-আজান শুধু পুরুষই দিবে, কোন নারীকে মুয়াজ্জিন বানানো জায়েজ নয়।
৯-পুরুষের জন্য মসজিদে গিয়ে জামাআতে নামায পড়া সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। আর মহিলাদের ঘরে নামায পড়াই উত্তম বলা হয়েছে।
১০-সতর। পুরুষের সতর হল নাভি থেকে হাটু পর্যন্ত। আর পরপুরুষের সামনে নারীদের সতর হল প্রায় পুরো শারীরই ঢেকে রাখা ফরয।
নারী-পুরুষের মাঝে এরকম পার্থক্যসম্বলিত ইবাদত সমূহের অন্যতম হল নামায। তাকবীরে তাহরীমার জন্য হাত উঠানো, হাত বাঁধা, রুকু, সেজদা, প্রথম ও শেষ বৈঠক ইত্যাদী ক্ষেত্রগুলোতে পুরুষের সাথে নারীর পার্থক্য রয়েছে। তাদের সতরের পরিমাণ যেহেতো বেশি তাই যেভাবে তাদের সতর বেশী রক্ষা হয় সেদিকটিও বিবেচনা করা হয়েছে ক্ষেত্রগুলিতে। মুসলিম উম্মাহর প্রায় দেড় হাজার বছরের অবিচ্ছন্ন আমলের ধারা তাই প্রমাণ করে। বিষয়টি প্রমাণিত রাসূলে কারীম সাঃ এর হাদিস, সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীগণের ফতোয়া ও আছারের মাধ্যমে।
প্রথমে আমরা সহীহ হাদিস, তারপর পর্যায়ক্রমে সাহাবায়ে কিরাম ও তাবেয়ীদের ফতোয়া ও আছার উল্লেখ করছি।
হাদিস
১.
3016 – أخبرناه أبو بكر محمد بن محمد أنبأ أبو الحسين الفسوي ثنا أبو علي اللؤلؤي ثنا أبو داود ثنا سليمان بن داود أنبأ بن وهب أنبأ حيوة بن شريح عن سالم بن غيلان عن يزيد بن أبي حبيب : أن رسول الله صلى الله عليه و سلم مر على امرأتين تصليان فقال إذا سجدتما فضما بعض اللحم إلى الأرض فإن المرأة ليست في ذلك كالرجل (سنن الكبرى للبيهقى، كتاب الحيض، باب ما يستحب للمرأة من ترك التجافي في الركوع والسجود، رقم الحديث-3016)
তাবেয়ী ইয়াযীদ বিন আবী হাবীব রহ. বলেন-একবার রাসূল সা. দুই মহিলার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তাদেরকে (সংশোধনের উদ্দেশ্য) বললেন-“যখন সেজদা করবে তখন শরীর যমীনের সাথে মিলিয়ে দিবে। কেননা মহিলারা এ ক্ষেত্রে পুরুষদের মত নয়। (সুনানুল বায়হাকী, হাদিস নং-৩০১৬, কিতাবুল মারাসিল লি ইমাম আবু দাউদ-৫৫, হাদিস নং-৮০)
প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস আলেম নওয়াব সিদ্দীক হাসান খান বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ “আওনুল বারী” (১/৫২০) তে লিখেছেন-“উল্লেখিত হাদিসটি সকল ইমামদের উসুল অনুযায়ী দলীল হিসেবে পেশ করায় যোগ্য”।
মুহাদ্দিস মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আমীর ইয়ামানী “সুবুলুস সালাম” শরহু বুলুগিল মারাম” গ্রন্থে (১/৩৫১-৩৫২) এই হাদিসকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করে পুরুষ ও মহিলার সেজদার পার্থক্য করেছেন।
২.
وَالآخَرُ حَدِيثُ أَبِى مُطِيعٍ : الْحَكَمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْبَلْخِىِّ عَنْ عُمَرَ بْنِ ذَرٍّ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- :« إِذَا جَلَسْتِ الْمَرْأَةُ فِى الصَّلاَةِ وَضَعَتْ فَخِذَهَا عَلَى فَخِذِهَا الأُخْرَى ، وَإِذَا سَجَدْتْ أَلْصَقَتْ بَطْنَهَا فِى فَخِذَيْهَا كَأَسْتَرِ مَا يَكُونُ لَهَا ، وَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَنْظُرُ إِلَيْهَا وَيَقُولُ : يَا مَلاَئِكَتِى أُشْهِدُكُمْ أَنِّى قَدْ غَفَرْتُ لَهَا (السنن الكبرى، كتاب الصلاة، باب مَا يُسْتَحَبُّ لِلْمَرْأَةِ مِنْ تَرْكِ التَّجَافِى فِى الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ، رقم الحديث-3324)
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত। রাসূল সা. ইরশাদ করেছন-“মহিলা যখন নামাযের মধ্যে বসবে তখন যেন (ডান) উরু অপর উরুর উপর রাখে। আর যখন সেজদা করবে তখন যেন পেট উরুর সাথে মিলিয়ে রাখে। যা তার সতরের জন্য অধিক উপযোগী। আল্লাহ তায়ালা তাকে দেখে বলেন-ওহে আমার ফেরেস্তারা! তোমরা সাক্ষী থাক। আমি তাকে ক্ষমা করে দিলাম। (সুনানে বায়হাকী-২/২২৩, হাদিস নং-৩৩২৪)
এই হাদিসটি হাসান।
৩.
حدثنا محمد بن عبد الله الحضرمي قال حدثتني ميمونة بنت عبد الجبار بن وائل بن حجر عن أبيها عبد الجبار عن علقمة عمها عن وائل بن حجر قال : جئت النبي صلى الله عليه و سلم ………….فقال لي رسول الله صلى الله عليه و سلم : يا وائل بن حجر إذا صليت فاجعل يديك حذاء أذنيك والمرأة تجعل يديها حذاء ثدييها (المعجم الكبير، باب الواو، وائل بن حجر الحضرمي القيل، رقم الحديث-28)
হযরত ওয়াইল বিন হুজর রা. বলেন। আমি নবীজী সা. এর দরবারে হাজির হলাম। তখন তিনি আমাকে (অনেক কথার সাথে একথাও) বলেছিলেন যে, হে ওয়াইল বিন হুজর! যখন তুমি নামায শুরু করবে তখন কান বরাবর হাত উঠাবে। আর মহিলা হাত উঠাবে বুক বরাবর। (আল মুজামুল কাবীর, হাদিস নং-২৮)
এই হাদিসটিও হাসান।
উল্লেখিত হাদিসগুলি থেকে একথা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, কিছু কিছু হুকুমের ক্ষেত্রে মহিলার নামায আদায়ের পদ্ধতি পুরুষের নামায আদায়ের পদ্ধতি থেকে ভিন্ন। বিশেষত ২ নং হাদিসটি দ্বারা একথাও বুঝা গেল যে, মহিলার নামায আদায়ের শরীয়ত নির্ধারিত ভিন্ন এই পদ্ধতির মধ্যে ওই দিকটিই বিবেচনায় রাখা হয়েছে যা তার সতরও পর্দার পক্ষে সর্বাধিক উপপোযী।
উল্লেখ্য যে, এই সব হাদিসের সমর্থনে মহিলাদের নামায আদায়ের পদ্ধতির পার্থক্য ও ভিন্নতাকে নির্দেশ করে এমন আরো কিছু হাদিস আছে। পক্ষান্তরে এগুলির সাথে বিরোধপূর্ণ একটি হাদীসও কোথাও পাওয়া যাবেনা। যাতে বলা হয়েছে যে, পুরুষ ও মহিলার নামাযের পদ্ধতিতে কোন পার্থক্য নেই। বরং উভয়ের নামাযই এক ও অভিন্ন। একথার পক্ষে একটি হাদীসও নেই।
সাহাবায়ে কিরামের ফতোয়া
১.
5072 – عبد الرزاق عن إسرائيل عن أبي إسحاق عن الحارث عن علي قال إذا سجدت المرأة فلتحتفز ولتلصق فخذيها ببطنها (مصنف عبد الرزاق، كتاب الصلاة، باب تكبير المرأة بيديها وقيام المرأة و ركوعها وسجودها، رقم الحيث-5072)
হযরত আলী রা. বলেছেন-মহিলা যখন সেজদা করে তখন সে যেন খুব জড়সড় হয়ে সেজদা করে এবং উভয় উরু পেটের সাথে মিলিয়ে রাখে। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক-৩/১৩৮, হাদিস নং-৫০৭২, মুসান্নাফে ইবনে শাইবা-২/৩০৮, হাদিস নং-২৭৯৩, সুনানে কুবরা বায়হাকী-২/২২২)
২.
حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِئ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي أَيُّوبَ ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ الأَشَجِّ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ؛ أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ صَلاَةِ الْمَرْأَةِ ؟ فَقَالَ : تَجْتَمِعُ وَتَحْتَفِزُ. (مصنف ابن ابى شيبة، كتاب الصلاة، في المرأة كَيْفَ تَجْلِسُ فِي الصَّلاَةِ، رقم الحديث-2794)
হযরত ইবনে আব্বাস রা. কে জিজ্ঞেস করা হল-মহিলারা কিভাবে নামায আদায় করবে? তিনি বললেন-“খুব জড়সড় হয়ে অঙ্গের সাথে অঙ্গ মিলিয়ে নামায আদায় করবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা-১/৩০২, হাদিস নং-২৭৯৪)
উপরে মহিলাদের নামায সম্পর্কে দু’জন সাহাবীর যে মত বর্ণিত হল, আমাদের জানা মতে কোন হাদীসগন্থের কোথাও একজন সাহাবী থেকেও এর বিপরীত কিছু বিদ্যমান নেই।
রাসূল সা. থেকে সাহাবায়ে কিরাম যে, দ্বীন শিখেছেন তাদের কাছ থেকে তা শিখেছেন তাবেয়ীগণ। তাঁদের ফাতওয়া থেকেও এ কথাই প্রতীয়মান হয় যে,”মহিলাদের নামায পুরুষের নামায থেকে ভিন্ন। নিম্নে তাঁদের মধ্য থেকে প্রসিদ্ধ কয়েকজনের ফাতওয়া উল্লেখ করা হয়।
১.
2486- حدثنا هشيم ، قال : أخبرنا شيخ لنا ، قال : سمعت عطاء ؛ سئل عن المرأة كيف ترفع يديها في الصلاة ؟ قال : حذو ثدييها(مصنف ابن ابى شيبه، كتاب الصلاة، باب من كان يتم التكبير ولا ينقصه في كل رفع وخفض،)
হযরত আতা বিন আবী রাবাহ কে জিজ্ঞেস করা হল-“নামাযে মহিলা কতটুকু হাত উঠাবে?” তিনি বললেন-“বুক বরাবর”। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা,-১/২৭০, হাদিস নং-২৪৮৬)
২.
2489- حدثنا محمد بن بكر ، عن ابن جريج ، قال : قلت لعطاء : تشير المرأة بيديها بالتكبير كالرجل ؟ قال : لا ترفع بذلك يديها كالرجل ، وأشار فخفض يديه جدا ، وجمعهما إليه جدا ، وقال : إن للمرأة هيئة ليست للرجل ، وإن تركت ذلك فلا حرج.
হযরত ইবনে জুরাইজ রহ. বলেন-“আমি আতা বিন আবী রাবাহকে জিজ্ঞেস করলাম-“মহিলা তাকবীরের সময় পুরুষের সমান হাত তুলবে?” তিনি বললেন-“মহিলা পুরুষের মত হাত তুলবেনা। এরপর তিনি তার উভয় হাত (পুরুষ অপেক্ষা) অনেক নিচুতে রেখে শরীরের সাথ খুব মিলিয়ে রাখলেন এবং বললেন-মহিলাদের পদ্ধতি পুরুষ থেকে ভিন্ন। তবে এমন না করলেও অসুবিধা নেই। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা-১/২৭০, হাদিস নং-২৪৮৯, মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক,হাদিস নং-৫০৬৬,৬২৫১)
৩.
2796- حدثنا جرير ، عن ليث ، عن مجاهد ؛ أنه كان يكره أن يضع الرجل بطنه على فخذيه إذا سجد كما تصنع المرأة.
হযরত মুজাহিদ বিন জাবর রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি পুরুষের জন্য মহিলার মত উরুর সাথে পেট লাগিয়ে সেজদা করাকে অপছন্দ করতেন না । (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা-১/৩০২, হাদিস নং-২৮৯৬)
৪.
2487- حدثنا رواد بن جراح ، عن الأوزاعي ، عن الزهري ، قال : ترفع يديها حذو منكبيها.
হযরত যুহরী রহ. বলেন-“মহিলা কাঁধ পর্যন্ত হাত উঠাবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা-১/২৭০, হাদীস নং-২৪৮৭)
৫.
5068 – عبد الرزاق عن معمر عن الحسن وقتادة قالا إذا سجدت المرأة فإنها تنضم ما استطاعت ولا تتجافى لكي لا ترفع عجيزتها
হযরত হাসান বসরী ও কাতাদা রহ. বলেন-“মহিলা যখন সেজদা করবে তখন সে যথাসম্ভব জড়সড় হয়ে থাকবে। অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ফাঁকা রেখে সেজদা দিবেনা যাতে কোমড় উঁচু হয়ে না থাকে”। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক-৩/১৩৭, হাদিস নং-৫০৬৮, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা-১/৩০৩)
৬.
2795- حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِِ ، عَنْ مُغِيرَةَ ، عَنْ إبْرَاهِيمَ ، قَالَ : إذَا سَجَدَتِ الْمَرْأَةُ فَلْتَضُمَّ فَخِذَيْهَا ، وَلْتَضَعْ بَطْنَهَا عَلَيْهِمَا.(مصنف ابن ابى شيبة، كتاب الصلاة، في المرأة كَيْفَ تَجْلِسُ فِي الصَّلاَةِ، رقم الحديث-2795)
হযরত ইবরাহীম নাখয়ী রহ. বলেন-মহিলা যখন সেজদা করবে তখন যেন সে উভয় উরু মিলিয়ে রাখে এবং পেট উরুর সাথে মিলিয়ে রাখে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা-১/৩০২, হাদিস নং-২৭৯৫)
৭.
5071 – عبد الرزاق عن معمر والثوري عن منصور عن إبراهيم قال كانت تؤمر المرأة أن تضع ذراعها وبطنها على فخذيها إذا سجدت ولا تتجافى كما يتجافى الرجل لكي لا ترفع عجيزتها
হযরত ইবরাহীম নাখয়ী রহ. আরো বলেন-“মহিলাদের আদেশ করা হত তারা যেন সেজদা অবস্থায় হাত ও পেট উরুর সাথে মিলিয়ে রাখে। পুরুষের মত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ফাঁকা না রাখে। যাতে কোমড় উঁচু হয়ে না থাকে। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক-৩/১৩৭, হাদিস নং-৫০৭১)
৮.
2799- حَدَّثَنَا إسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ ، عَنْ زُرْعَةَ بْنْ إِبْرَاهِيمَ ، عَن خَالِدِ بْنِ اللَّجْلاَجِ ، قَالَ : كُنَّ النِّسَاءُ يُؤْمَرْنَ أَنْ يَتَرَبَّعْنَ إذَا جَلَسْنَ فِي الصَّلاَةِ ، وَلاَ يَجْلِسْنَ جُلُوسَ الرِّجَالِ عَلَى أَوْرَاكِهِنَّ ، يُتَّقي ذَلِكَ عَلَى الْمَرْأَةِ ، مَخَافَةَ أَنْ يَكُونَ مِنْهَا الشَّيءُ.
হযরত খালেদ বিন লাজ্জাজ রহ. বলেন-“মহিলাদেরকে আদেশ করা হত যেন নামাযে দুই পা ডান দিক দিয়ে বের করে নিতম্বের উপর বসে। পুরুষদের মত না বসে। আবরণযোগ্য কোন কিছু প্রকাশিত হয়ে যাওয়ার আশংকায় মহিলাদেরকে এমনি করতে হয়। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা-১/৩০৩, হাদিস নং-২৭৯৯)
উল্লেখিত বর্ণনাগুলি ছাড়াও আয়িম্মায়ে তাবেয়ীনের আরো কিছু বর্ণনা এমন আছে যা মহিলা-পুরুষের নামাযের পার্থক্য নির্দেশ করে। পক্ষান্তরে একজন তাবেয়ী থেকেও এর বিপরীত বক্তব্য প্রমাণিত নয়।
চার ইমামের ফিক্বহের আলোকেঃ
ফিক্বহে ইসলামীর চারটি সংকলন মুসলিম উম্মাহর মাঝে প্রচলিত। যথা-
১-ফিক্বহে হানাফী
২-ফিক্বহে শাফেয়ী
৩-ফিক্বহে মালেকী
৪-ফিক্বহে হাম্বলী
এবার দেখুন এই চার ফিক্বহের ইমামদের মতামত।
১-ফ্বিকহে হানাফী
احب الينا ان تجمع رجليها من جانب ولا تنتصب انتصاب الرجل، (كتاب الآثار-1/609)
ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর অন্যতম সাগরীদ ইমাম মুহাম্মদ রহঃ বলেন-“ আমাদের নিকট পছন্দনীয় হল, মহিলারা নামাযে উভয় পা একপাশে মিলিয়ে রাখবে। পুরুষের মত এক পা দাঁড় করিয়ে রাখবেনা। {কিতাবুল আসার, ইমাম মুহাম্মদ রহঃ-১/৬০৯}
روى امامنا الأعظم عن نافع عن ابن عمر رضى الله عنهما أنه سئل كيف كان النساء يصلين على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ قال كن يتربعن أمرن أن يحتفزن،
أخرجه أبو محمد الحارثى والأشنانى وابن خسرو من طريقه عن سفيان الثورى عنه، راجع جامع الماسانيد-1/400، وهذا أقوى واحسن ما روى فى هذا الباب، ولذا احتج به امامنا وجعله مذهبه وأخذ به،
আমাদের ইমামে আজম আবু হানীফা রঃ নাফে রহঃ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন-“হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ কে জিজ্ঞেস করা হল-“রাসূল সাঃ এর যুগে মহিলারা কিভাবে নামায পড়তেন?” তিনি বললেন-“আগে তারা চারজানু হয়ে বসতেন, পরে তাদেরকে জড়সড় হয়ে বসতে বলা হয়েছে”। {জামেউল মাসানিদ-১/৪০০}
উক্ত হাদিসটি এ বিষয়ে বর্ণিত সবকিছুর চেয়ে শক্তিশালী। এ কারণেই আমাদের ইমাম এর দ্বারা দলীল পেশ করেছেন। এ অনুযায়ী আমল করেছেন। এবং এটিকে নিজের মাযহাব বানিয়েছেন। {কিতাবুল আসার এর টিকা-১/৬০৭}
মহিলাদের ক্ষেত্রে পার্থক্যের বর্ণনা হানাফী ফিক্বহের কিতাবে দেখুন-
১-বাদায়িউস সানায়ে-১/৪৬৬
২-হেদায়া-১/১০০-১১০
৩-আল মাবসূত লিস সারাখসী-১/৪৬৬
৪-ফাতওয়ায়ে শামী-১/৫০৪
৫-ফাতওয়ায়ে আলমগীরী-১/৭৩-৭৫
২-ফিক্বহে শাফেয়ী
( قال الشافعي ) وقد أدب الله تعالى النساء بالاستتار وأدبهن بذلك رسوله صلى الله عليه وسلم وأحب للمرأة في السجود أن تضم بعضها إلى بعض وتلصق بطنها بفخذيها وتسجد كأستر ما يكون لها وهكذا أحب لها في الركوع والجلوس وجميع الصلاة أن تكون فيها كأستر ما يكون لها (كتاب الأم، باب الذكر في السجود)
ইমাম শাফেয়ী রহঃ বলেন-“আল্লাহ পাক মহিলাদেরকে পুরোপুরি আবৃত থাকার শিক্ষা দিয়েছেন। তার রাসূল সাঃ ও অনুরূপ শিক্ষা দিয়েছেন। তাই আমার নিকট পছন্দীয় হল-সেজদা অবস্থায় মহিলারা এক অঙ্গের সাথে অপর অঙ্গ মিলিয়ে রাখবে। পেট উরুর সাথে মিলিয়ে রাখবে। আর সেজদা এমনভাবে করবে যাতে সতরের চূড়ান্ত হেফাযত হয়। অনুরূপ রুকু, বৈঠক ও গোটা নামাযে এমনভাবে থাকবে যাতে সতরের পুরোপুরি হেফাযত হয়। {কিতাবুল উম্ম-১/১৩৮)
৩-ফিক্বহে মালেকী
মালেকী মাযহাবের প্রসিদ্ধ ফক্বীহ ইমাম আবুল আব্বাস আল কারাফী রঃ ইমাম মালিক রহঃ এর মত উল্লেখ করেন-
وأما مساواة النساء للرجال ففي النوادر عن مالك تضع فخذها اليمنى على اليسرى وتنضم قدر طاقتها ولا تفرج في ركوع ولا سجود ولا جلوس بخلاف الرجل
নামাযে মহিলা পুরুষের মত কিনা? এ বিষয়ে ইমাম মালিক রহঃ থেকে বর্ণিত। মহিলা ডান উরু বাম উরুর উপর রাখবে এবং যথাসম্ভব জড়সড় হয়ে বসবে। রুকু সেজদা ও বৈঠকে কোন সময়ই ফাঁক ফাঁক হয়ে বসবেনা। পক্ষান্তরে পুরুষের পদ্ধতি হল ভিন্ন। {আয যাখীরা-২/১৯৩}
৪-ফিক্বহে হাম্বলী
ইমাম আহমদ রহঃ এর ফাতওয়া উল্লেখ আছে ইমাম ইবনে কুদামা রহঃ এর আল মুগীনী কিতাবে।
فأما المرأة فذكر القاضي فيها روايتين عن أحمد إحداهما ترفع لما روى الخلال بإسناده عن أم الدرداء وحفصة بنت سيرين أنهما كانتا ترفعان أيديهما وهو قول طاوس ولأن من شرع في حقه التكبير شرع في حقه الرفع كالرجل فعلى هذا ترفع قليلا قال أحمد رفع دون الرفع والثانية لا يشرع لأنه في معنى التجافي ولا يشرع ذلك لها بل تجع نفسها في الركوع والسجود وسائر صلاتها
তাকবীরের সময় মহিলারা হাত উঠাবে কি উঠাবে না? এ বিষয়ে কাজী [আবু ইয়াজ] ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহঃ থেকে দু’টি মত উল্লেখ করেছেন। প্রথম মত হল হাত উঠাবে। কেননা খাল্লাল হযরত উম্মে দারদা এবং হযরত হাফসা বিন সীরীন থেকে সনদসহ বর্ণনা করেন যে, তারা হাত উঠাতেন। ইমাম তাউসের বক্তব্যও তাই। উপরন্তু যার ব্যাপারে তাকবীর বলার নির্দেশ রয়েছে তার ব্যাপারে হাত উঠানোরও নির্দেশ রয়েছে। যেমন পুরুষ করে থাকে। এ হিসেবে মহিলারাও হাত উঠাবে। তবে সামান্য। আহমাদ রহঃ বলেন-“তুলনামূলক কম উঠাবে”।
দ্বিতীয় মত হল-“মহিলাদের জন্য হাত উঠানোরই হুকুম নাই। কেননা হাত উঠালে কোন অঙ্গকে ফাঁক করতেই হয়, অথচ মহিলাদের জন্য এর বিধান দেওয়া হয়নি। বরং তাদের জন্য নিয়ম হল রুকু সেজদাসহ পুরো নামাযে নিজেদেরকে গুটিয়ে রাখবে। {আল মুগনী-২/১৩৯}
আলোচনার এই পর্যায়ে হাদীস, আসারে সাহাবা, তাবেয়ীন ও চার মাযহাবের ইমামদের ঐক্যমত্যের প্রমাণ পেশ করার পর আমরা দেখব আমাদের যে গায়রে মুকাল্লিদ ভাইয়েরা মহিলাদের নামাযের ভিন্ন বিষয়টিকে উপেক্ষা করেন এবং পুরুষ ও মহিলার নামাযের অভিন্ন পদ্ধতির পক্ষে কথা বলেন, তাদের আলেমগণ এ বিষয়ে কি বলেন? তারা কি ফাতওয়া দিয়েছেন?
গায়রে মুকাল্লিদ আলেমগণের ফাতওয়া
মহিলাদের নামাযের পদ্ধতিতে ইতোপূর্বে যা কিছু উল্লেখ করা হল তথা হাদিস, আসারে সাহাবা, তাবেয়ীনদের ইজমা, এবং চার ইমামের ঐক্যমত্বের আলোকে যুগ যুগ ধরে অবিচ্ছন্ন সূত্র পরম্পরায় যেই পার্থক্যের আমল চলে আসছে, সেটাকে গায়রে মুকাল্লিদদের নেতৃস্থানীয় আলেমগণও স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং সেই আলোকে ফাতওয়া দিয়েছেন।
# মাওলানা মুহাম্মদ দাউদ গযনবী রঃ এর পিতা আল্লামা আব্দুল জাব্বার গযনবী রহঃ কে যখন জিজ্ঞেস করা হল-“মহিলাদের নামাযে জড়সড় হয়ে থাকা কি উচিত?” জবাবে তিনি একটি হাদিস উল্লেখ করার পর লেখেন-“এর উপরই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের চার মাযহাব ও অন্যান্যের মাঝে আমল চলে আসছে”।
এরপর তিনি চার মাযহাবের কিতাবের উদ্ধৃতি প্রদান করার পর লিখেন-“মোটকথা মহিলাদের জড়সড় হয়ে নামায পড়ার বিষয়টি হাদীস ও চার মাযহাবের ইমামগণ ও অন্যান্যের সর্বসম্মত আমলের আলোকে প্রমাণিত। এর অস্বিকারকারী হাদীসের কিতাবসমূহ ও উম্মতে মুসলিমার সর্বসম্মত আমল সম্পর্কে বেখবর ও অজ্ঞ”। (ফাতওয়ায়ে গযনবীয়্যা-২৭-২৮, ফাতওয়ায়ে ওলামায়ে আহলে হাদিস—৩/১৪৮-১৪৯, মাযমুয়ায়ে রাসায়েল-মাওলানা মুহাম্মদ আমীন সফদর-১-৩১০-৩১১)
মাওলানা আলী মুহাম্মদ সাঈদ সাহেব “ফাতওয়ায়ে ওলামায়ে আহলে হাদিস” এ এই পার্থক্যের কথা স্বীকার করেছেন। (মাজমুয়ায়ে রাসায়েল-১/৩০৫)
আলবানী সাহেবের অসার বক্তব্য
আশ্চর্যের কথা হল, উপরোল্লিখিত দলীলসমূহ এবং উম্মতের মাঝে নববী যুগ থেকে পর্যায়ক্রমে চলে আসা এই সর্বসম্মত আমলের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আলবানী সাহেব তাঁর “সিফাতুস সালাতে” ঘোষণা দিয়ে দিলেন যে, “পুরুষ ও মহিলার নামাযের পদ্ধতি এক”।
কিন্তু এই দাবির পক্ষে তিনি না কোন আয়াত পেশ করেছেন, না কোন হাদিস। আর কোন সাহাবী বা তাবেয়ীর ফাতওয়া। এহেন বক্তব্যের ভিত্তি তিনি শুধু এটাকেই বানিয়েছেন যে, পুরুষ ও মহিলার নামাযের পদ্ধতিগত পার্থক্যের ব্যাপারে কোন সহীহ হাদিস নাই। অথচ তার এই দাবি প্রমাণ করার জন্য উচিত ছিল উপরোল্লিখিত দলিল সমূহ বিশ্লেষণ করা। কিন্তু তিনি তা না করে কেবল পার্থক্য সম্বলিত একটি হাদীসকে {যা বক্ষ্যমান নিবন্ধে উল্লেখিত হয়েছে} শুধু এ কথা বলে যয়ীফ বলে আখ্যা দিয়েছেন যে, হাদীসটি ‘মুরসাল’। আর মুরসাল হওয়ায় এটি দুর্বল। এ ছাড়া অন্য কোন আলোচনাই তিনি দলীল সম্পর্কে করেননি।
কিন্তু তার এই কথাটি এক গুয়েমি ছাড়া কিছু নয়। কারণ মুহাদ্দীসীনে কিরামের নিকট হাদিস মুরসাল হলেই তা অগ্রহণীয় হয়ে যায়না। কেননা প্রথমত আয়িম্মায়ে দ্বীনের অধিকাংশের মতে বিশেষত স্বর্ণযুগের ইমামগণের নিকট যদি প্রয়োজনীয় শর্তাবলী উপস্থিত থাকে। তাহলে মুরসাল হাদিসও সহীহ হাদিসের মত গ্রহণযোগ্য।
দ্বিতীয়ত: যে ইমামগণের নিকট ‘মুরসাল” হাদীসকে সহীহ বলার ব্যাপারে দ্বিধা রয়েছে তারাও মূলত কিছু শর্তের সাথে মুরসাল হাদীসকে দলীল হিসেবে পেশ করার উপযোগী মনে করেন। প্রবন্ধের শুরুতে বর্ণিত মুরসাল বর্ণনাটিতেও সেসব শর্ত বিদ্যমান রয়েছে। যার কারণে গায়রে মুকাল্লিদদের বিখ্যাত আলেম ও মুহাদ্দিস নওয়াব সিদ্দীক হাসান খান “আউনুল বারী”-(১/৫২০ দারুর রাশীদ, হালাব সিরিয়া) তে লিখেছেন-“এই মুরসাল হাদীসটি সকল ইমামের উসূল ও মূলনীতি অনুযায়ী দলীল হওয়ার যোগ্য”। তার পূর্ণ বক্তব্যটি দেখুন আওনুল বারী-২/১৫৯,
পুরুষ মহিলার নামাযের পার্থক্য নেই প্রমাণ করতে আলবানী দ্বিতীয় যে কাজটি করেছেন তা খুবই গর্হিত। সেটা হল তিনি ইবরাহীম নাখয়ী রহঃ নাকি বলেছেন-“মহিলা পুরুষের মতই নামায আদায় করবে”। এই কথাটি নাকি মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাতে আছে। অথচ সেই কিতাবের কোথাও এই উক্তিটি নাই। আল্লাহই ভাল জানেন তিনি কি করে এই কথা বলতে পারলেন!!
অথচ ইতোপূর্বে মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবার একাধিক বর্ণনা সহীহ সনদে ইবরাহীম নাখয়ী থেকে উদ্ধৃত হয়েছে। যেখানে ইবরাহীম নাখয়ী রহঃ স্পষ্টই মহিলা পুরুষের নামাযের পার্থক্যের কথা বলেছেন
আলবানী সাহেব তার নিজের দাবী প্রমাণ করার জন্য তৃতীয় আরেকটি কাজ করেছেন। সেটা হল-ইমাম বুখারী রহঃ এর রিজালশাস্ত্রেরে একটি কিতাব “তারীখে সগীর” থেকে নিম্নোক্ত বর্ণনাটি পেশ করেছেন-
عن ام الدرداء انها كانت تجلس فى الصلاة جلسة الرجل-
“উম্মে দারদা থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি নামাযে পুরুষের মত বসতেন”।
আলবানী সাহেব খেয়াল করতে পারেননি যে, এই বর্ণনাটি দ্বারা নামাযে পুরুষ ও মহিলার বসার ভিন্নতাই প্রমাণ হয়। এক হওয়া নয়। যদি উভয় বসার পদ্ধতি এক হত, তাহলে “পুরুষের মত বসা” কথাটির কোন অর্থ থাকেনা। তাই এই কথা থেকে এটি বুঝা যায় যে, সেই যমানায় পুরুষদের মত মহিলারা বসতনা। কিন্তু তিনি যেহেতো ভিন্নভাবে বসতেন তাই এটি ইতিহাসের বর্ণনায় চলে এসেছে।
আরেকটি মজার ব্যাপার হল। উম্মে দারদা হলেন একজন তাবেয়ী। তিনি ৮০ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। তাবেয়ীর বক্তব্য দ্বারা আলবানী সাহেব দলীল পেশ করলেন। অথচ তিনিই আমাদের বর্ণিত প্রথম হাদিসটি মুরসাল বলে প্রত্যাখ্যান করলেন। আশ্চর্য ব্যাপার!!
সুতরাং যদি নামাযের পদ্ধতি বর্ণনার ক্ষেত্রে তাবেয়ীর আমল দলীল হয়ে থাকে (আসলে কথা এটাই, অর্থাৎ তাবেয়ীর কথা দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য) তাহলে ইতোপূর্বে বিখ্যাত একাধিক তাবেয়ী ইমামগণের উদ্ধৃতিতে মহিলাদের নামাযের পদ্ধতির ভিন্নতার ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা গেছে। এবং একথা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে, আয়িম্মায়ে তাবেয়ীদের তালীম ও শিক্ষা অনুযায়ী রুকু সেজদা, ও বৈঠকসহ অনেক ক্ষেত্রে মহিলাদের নামায পদ্ধতি পুরুষ থেকে ভিন্ন ছিল। এক্ষেত্রে শুধু একজন তাবেয়ী মহিলার ব্যক্তিগত আমলকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করাটা কিছুতেই যুক্তিযুক্ত হতে পারেনা। বিশেষ করে যখন ঠিক এই বর্ণনাটির মাঝেই সুষ্পষ্ট একথার ইংগিত রয়েছে যে, এ ক্ষেত্রে এ মহিলা অন্য সাহাবী ও তাবেয়ী মহিলা থেকে সম্পুর্ণ ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেছিলেন।
সুতরাং বুঝা গেল নামাযের মাঝে বিভিন্ন বিষয়ে মহিলারা পুরুষদের থেকে আলাদা এটাই দলীল দ্বারা প্রমাণিত। গায়রে মুকাল্লিদ ভাইদের বক্তব্যটির কোন দলিল নেই। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সত্যকে সত্য হিসেবে মেনে নেবার তৌফিক দান করুন। আমীন।
বিঃদ্রঃ উপরোক্ত লেখাটি বাংলাদেশের প্রখ্যাত আলেম আল্লামা আব্দুল মতীন দা.বা. এর অনবদ্য গ্রন্থ “দলীলসহ নামাযের মাসায়েল” নামক গ্রন্থ থেকে সংগ্রহকৃত।
Contact the business
Telephone
Opening Hours
| Monday | 10:00 - 20:00 |
| Wednesday | 10:00 - 20:00 |
| Thursday | 10:00 - 20:00 |
| Friday | 10:00 - 20:00 |
| Saturday | 10:00 - 20:00 |
| Sunday | 10:00 - 20:00 |