Karukotha
Life is full of surprises ✨🔥
live your life 🎉
& stay with us to make your life colourful 💖🎉
Alhamdulillah for everything 💝
05/01/2026
বিখ্যাত তাবেয়ী হযরত হাসান বসরি (রহ.)-এর হাতে 'আব্বাস' নামের এক যুবক তওবা করেছিল। কিন্তু সে ছিল দুর্বলচিত্তের। সে তওবা করত, আবার গুনাহে লিপ্ত হতো। এভাবে সে সত্তর বারের অধিক তওবা করেছে এবং প্রতিবারই তা ভঙ্গ করেছে।
জীবনের শেষ মুহূর্তে যখন তার মৃত্যু ঘনিয়ে এল, সে তার মাকে বলল,
"মা! দয়া করে হযরত হাসান বসরি রহ. এর কাছে যাও। তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো, যাতে আমি শেষবারের মতো তার হাতে তওবা করতে পারি। হয়তো আল্লাহ আমাকে মাফ করবেন।"
বৃদ্ধা মা হাসান বসরি রহ. এর কাছে গেলেন এবং সালাম দিয়ে বললেন, "আমি আব্বাসের মা। আমার ছেলে মুমূর্ষু অবস্থায় আছে। সে আপনার হাতে তওবা নবায়ন করতে চায়।"
হযরত হাসান বসরি (রহ.) ভাবলেন, বারবার তওবা ভাঙলে মানুষের মনে পাপের প্রতি ভয় কমে যায়। তাই তিনি তাকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য এবং তার মনে সত্যিকার অনুশোচনা জাগানোর জন্য কঠোরতা দেখালেন। তিনি বললেন: "যাও, এমন লোকের আমার কোনো প্রয়োজন নেই, যে বারবার তওবা করে আর তা ভাঙে।"
মা কাঁদতে কাঁদতে ফিরে এসে ছেলেকে জানালেন: "বাবা! তোমার খারাপ কাজের কারণে শায়খ আসতে রাজি হননি।"
এ কথা শুনে আব্বাস আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করল,
"হে আমার ইলাহ! হে আমার মাওলা! শায়খ ( হযরত হাসান বসরি রহ.) আমাকে তাড়িয়ে দিয়েছেন, কিন্তু তুমি আমাকে তাড়িয়ে দিও না। তুমি আমার আশা ভেঙো না।"
সে মাকে বলল: "মা! আমি মারা গেলে তুমি আমার কপালে পা রেখো এবং আমার গলায় রশি বেঁধে আমাকে বাজারের রাস্তায় টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যেও। আর বলবে, 'যে আল্লাহর অবাধ্য হয়, তার শাস্তি এটাই।' হয়তো আল্লাহ আমার এই অপমান দেখে দয়া করবেন।" এ কথা বলেই আব্বাস ইন্তেকাল করল।
মা যখন তার কপালে পা রাখতে উদ্যত হলেন, তখন তিনি যেন একটি আওয়াজ শুনতে পেলেন,
"থামো! সিজদার জায়গায় (কপালে) পা রেখো না। জেনে রেখো, আল্লাহ তা’আলা তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়েছেন।" মা খুশি হয়ে তাকে গোসল দিয়ে দাফন করলেন।
সেদিন রাতে হযরত হাসান বসরি (রহ.) এক আশ্চর্য স্বপ্ন দেখলেন। কেউ তাঁকে বলছেন,
"হে হাসান! তোমাকে কিসে বাধ্য করল আমার বান্দাকে আমার রহমত থেকে নিরাশ করতে? আমিই তো তাকে সৃষ্টি করেছি এবং আমার রহমত সব কিছুকে ঘিরে আছে। আমার ইজ্জতের কসম! ভবিষ্যতে আর কখনো এমন করলে তোমাকেও ছাড় দেয়া হবে না ।"
আল্লাহর রহমত মানুষের ধারণার চেয়েও বিশাল। কোনো পাপী বারবার তওবা ভাঙলেও তাকে নিরাশ করা উচিত নয়। আল্লাহ আমাদের সকলের গুনাহ ক্ষমা করে দিন। আমিন
[সূত্র: আয যাহরুল ফাতিহ- ইবনুল জাওযি রহ.]
#পাঠক
18/12/2025
✨বাংলাদেশে নষ্ট রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের বেড়াজালের কারণে রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের আগমন কখনোই হবে না !!!
হতে দিবে না ۔۔۔۔۔۔۔۔۔
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন
06/12/2025
ইরাকের বিখ্যাত আলেম মালেক বিন দিনার।
একবার এক বিশাল মাহফিলে বক্তব্য দিতে দাড়াতেই
এক শ্রোতা বলে উঠলেন, আপনার বক্তব্য শুরু করার আগে একটা প্রশ্নের উত্তর দিন। মালেক বিন দিনার প্রশ্ন করার অনুমতি দিলেন। বয়স্ক শ্রোতা বললেন, আজ থেকে দশ বছর আগে আপনাকে মাতাল অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছি, আপনি সে অবস্থা থেকে কিভাবে ফিরে এলেন? এবং ওয়াজ করার জন্য এখানে এলেন?
মালেক বিন দিনার কিছুক্ষণ মাথা নিচু করে রইলেন। তারপর বললেন- ঠিক বলেছেন, আমিই সেই ব্যক্তি। শুনুন তাহলে আমার কাহিনী: এক কদরের রাতে মদের দোকান বন্ধ ছিল দোকানীকে অনেক অনুরোধ করে এক বোতল মদ কিনলাম বাসায় গিয়ে খাবো এই শর্তে। বাসায় ঢুকলাম।ঢুকেই দেখি আমার স্ত্রী নামাজ পড়ছে। আমি আমার ঘরে চলে গেলাম এবং বোতলটা টেবিলে রাখলাম।
আমার তিন বছরের শিশু মেয়েটা দৌড়ে এলো, টেবিলের সাথে ধাক্কা খেয়ে মদের বোতল মাটিতে পরে ভেঙ্গে গেল। অবুজ মেয়েটি খিলখিল করে হাসতে লাগল। ভাঙ্গা বোতল ফেলে দিয়ে আমি ঘুমিয়ে গেলাম। সে রাতে আর মদ খাওয়া হলোনা আমার। পরের বছর আবার লাইলাতুল কদর এলো। আমি আবার মদ নিয়ে বাড়ি ফিরে এলাম। বোতলটা টেবিলে রাখলাম। হঠাৎ বোতলটার দিকে তাকাতেই কান্নায় বুক ফেটে গেল। তিন মাস হলো আমার শিশু কন্যাটি মারা গেল। বোতলটা বাইরে ফেলে দিয়ে ঘুমিয়ে পরলাম। স্বপ্নে দেখছি এক বিরাট সাপ আমায় তাড়া করছে। এতো বড় সাপ আমি জীবনেও দেখিনি। আমি ভয়ে দৌড়াচ্ছি। এমন সময় এক দুর্বল বৃদ্ধকে দেখলাম। বৃদ্ধ আমাকে বলল, আমি খুব দূর্বল এবং ক্ষুধার্ত। এই সাপের সাথে আমি পারবনা। তুমি এই পাহাড়ের ডানে উঠে যাও। পাহাড়ে গিয়ে দেখি দাউদাউ আগুন জ্বলছে।আর পিছনে এগিয়ে আসছে সেই সাপ। বৃদ্ধের কথা মতো ডানে ছুটলাম। দেখলাম সুন্দর একটা বাগান। বাচ্চারা খেলছে। গেইটে দারোয়ান।
দারোয়ান বলল: বাচ্চারা দেখতো এই লোকটিকে? একে সাপটা খেয়ে ফেলবে নয়তো আগুনে ফেলে দিবে। দারোয়ানের কথায় বাচ্চারা ছুটে এলো। তার মাঝে আমার মেয়েটাও আছে।
মেয়েটা আমার ডান হাত জড়িয়ে ধরে বাম হাতে থাপ্পর দিয়ে সাপটিকে দূরে ফেলে দিলো। অমনেই সাপ চলে গেল। আমি অবাক হয়ে বললাম: মা তুমি এতো ছোট! আর এতো বড় সাপ তোমায় ভয় পায়?
মেয়ে বলল: আমি জান্নাতি মেয়ে। জাহান্নামের সাপ আমায় ভয় পায়। বাবা! ঐ সাপকে তুমি চিনতে পেরেছো?
আমি বললাম: না মা। আমার মেয়ে বলল: বাবা! এতো তোমার নফস। নফসকে তুমি এতো বেশি খাবার দিয়েছ যে সে আজ এতো বড় এতো শক্তিশালী হয়েছে। সে তোমাকে আজ জাহান্নাম পর্যন্ত তারিয়ে নিয়ে এসেছে।
মেয়েকে বললাম: পথে এক দূর্বল বৃদ্ধ আমাকে এখানে আসার পথ বলে দিয়েছে সে কে?
মেয়ে বলল: তাকেও চিননি? সে তোমার রুহ। তাকে তো কোন দিনও খেতে দাওনি তুমি। সে না খেয়ে এতোই দূর্বল হয়ে পরেছে যে, কোন রকম বেচে আছে।
আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল। সেই দিন থেকে আমি আমার রুহকে খাদ্য দিয়ে যাচ্ছি আর নফসের খাদ্য একেবারেই বন্ধ করে দিয়েছি। চোখ বন্ধ করলেই সেই ভয়াল রুপটি দেখতে পাই আর দেখি রুহকে। আহা! কতো দূর্বল হাটতে পারেনা। ঝরঝর করে কেঁদে ফেললেন মালিক বিন দীনার।
তাই আসুন, নিজের নফসকে হেফাজত করি। নয়তো চিরস্থায়ী হবে জাহান্নাম। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে বুঝার তওফিক দান করুক।
সংগৃহীত
14/11/2025