Finix
তোমাদের জন্য এক গভীর, আবেগঘন, আর অন্ধকারে মোড়ানো যাত্রা।
পড়তে থাকো… কারণ তুমি জানো না, পরবর্তী রূপ কতটা বিপজ্জনক!
Jeddah Express ❤️
ওস্তাদের ভালোবাসা 🥰
সেন্টমার্টিন এর বাউলি 💫
পরিবহন জগতের সম্রাট হানিফ 🔥
**রূপকের সাত রূপ**
পর্ব ১: অদ্ভুত শুরু
চট্টগ্রামের এক ব্যস্ত বিকেলে, হালকা বৃষ্টি পড়ছে। চারপাশে শহরের যানজট আর মানুষের হুড়োহুড়ি। শহরের প্রাণকেন্দ্রে একটা ছোট্ট কিন্তু সাজানো কফিশপ—"ক্যাফে ইনফিনিটি"। জানালার পাশে বসে আছে রূপক। গাঢ় নীল শার্ট, চোখে হালকা অবসন্নতা, মুখে স্থিরতা। মনে হচ্ছে সে এখানেই নেই—যেন তার মন আটকে আছে অন্য কোথাও, অন্য সময়ে।
রূপকের সামনে একটি কফির কাপ, ধোঁয়া ওঠা সেই কাপে সে চোখ রাখে, কিন্তু দৃষ্টি যেন বহু দূরে। হঠাৎ মোবাইলে টিং করে একটা মেসেজ আসে। স্ক্রিনে ভেসে ওঠে অচেনা একটি অ্যাপ থেকে অদ্ভুত একটি বার্তা:
“তুমি জানো না, কিন্তু তোমার ভিতরে কেউ একজন আমাকে চিনে ফেলেছে। পালাও, যতক্ষণ সময় আছে।”
রূপক কেঁপে ওঠে। চারপাশে তাকায়। ক্যাফের মানুষজন স্বাভাবিক। কিন্তু তার হৃদয়ের ভিতর শুরু হয়েছে এক অদ্ভুত কম্পন। তার হাতে কাপ কাঁপছে, কফির বাষ্পে যেন লুকানো কোনো মুখ, অজানা ভয়।
এই অ্যাপটা সে কখনো ব্যবহার করেনি। নামও জানা নেই। তার ভিতরে এক শীতল ভাব নেমে আসে। বুকের গভীর থেকে কেউ যেন ফিসফিস করে বলে উঠলো:
"তোর ভিতরে আমি জেগে উঠছি। আর সময় নেই।"
ঠিক তখনই ক্যাফের দরজাটা খোলে।
বৃষ্টিতে ভেজা চুল, চোখে হালকা কাজল, লাল সোয়েটার পড়া এক মেয়ে ঢুকে পড়ে। মোহিনী। রূপকের ভালোবাসা। সে এক মুহূর্তে বদলে যায়। চেহারায় কোমলতা, চোখে মায়া, ঠোঁটে লাজুক হাসি। এটা তার 'Baby Face'। যেন সে এক ভিন্ন মানুষ। কিছুক্ষণ আগের থ্রিল ও রহস্য যেন হাওয়ায় মিলিয়ে যায়।
মোহিনী এসে বসে তার সামনে।
"এই রেইনলি দিনে তুমি একা একা কফি খাচ্ছো? আমি না আসলে কি বৃষ্টি পছন্দ করতে?"
রূপক একটু হেসে বলে,
"তোমার হাসিটা দেখলেই সব ঠিক হয়ে যায়। এমনকি এই অচেনা মেসেজও যেন খেলনা মনে হয়।"
তারা অনেকক্ষণ গল্প করে। কলেজ লাইফ, মোভি প্ল্যান, একসাথে ঘোরা, ছোট ছোট স্বপ্ন—সব কিছু নিয়ে। মুহূর্তটা যেন স্থির, অথচ তাদের চারপাশে গল্প জমা হতে শুরু করে।
কিন্তু রূপক জানে, সবকিছু ঠিক নেই।
রাত ১১টা। রূপক তার ঘরে। একটা পুরোনো ডায়েরি খুলে বসেছে। পাতার ভাঁজে লুকিয়ে আছে তার অনেক পুরোনো মুখাবয়ব, তার নিজের কিছু চিত্র, কিছু লেখা, কিছু অদ্ভুত রেখাচিত্র।
ডায়েরির একটি পাতায় লেখা:
"তিনটা জীবন... তিনটা মুখ... আমি একা? নাকি আমি নিজেই তিনজন?”
একটি ছবিতে মোহিনী, কিন্তু মুখ অদ্ভুত বিকৃত। চোখে আঁকা কালো দাগ। নিচে লেখা:
"তাকে ভালোবাসা মানেই ধ্বংস... কিন্তু তাকে না ভালোবেসে থাকা অসম্ভব।"
রূপক ডায়েরি বন্ধ করে। মনের মধ্যে গুঞ্জন:
"আজ শুরু... এটাই শুরু। আমি জানি, আর আগের মতো কিছু থাকবে না।"
বাইরে তখন আকাশ কালো, বৃষ্টির সাথে বাজ পড়ছে। রূপকের চোখে আলো জ্বলে। তার ভিতরের রূপগুলো একে একে জেগে উঠতে শুরু করেছে...
---
**ভিতরের ছায়া**
রাত গভীর। রূপক জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। চট্টগ্রামের আকাশের নিচে তার ভাবনাগুলো ঘূর্ণির মতো ঘুরছে।
সে ধীরে ধীরে কম্পিউটারের দিকে এগিয়ে যায়। সেখানে একটি ফোল্ডার, যার নাম "R-Level: Classified"। একটি পাসওয়ার্ড ইনপুট বক্স আসে। রূপক চোখ বন্ধ করে ফিসফিস করে একটি শব্দ:
"RAIHAN_313"
ফোল্ডার খুলে যায়। ভিতরে অসংখ্য ভিডিও, নথি, অডিও ক্লিপিংস, অদ্ভুত প্রতীক আর রহস্যময় ডকুমেন্ট।
একটি ভিডিও খুলে—অন্ধকার রুমে এক লোক রূপকের ছোটবেলার একটি ভিডিওর পাশে বসে বলছে:
"তুই আলাদা। তোর মাথায় এমন কিছু আছে, যেটা দুনিয়া সহ্য করতে পারবে না। তুই ভুল করলি, তো পুরো শহর পুড়ে যাবে।"
রূপক চমকে ওঠে। এটা তার ছোটবেলার কথা, কিন্তু তার কোনো স্মৃতি নেই এইসব ঘটনার। মাথা ধরে আসে। হঠাৎ তার চেহারা পাল্টে যায়। ঠোঁটে এক ঠাণ্ডা হাসি। চোখে ভয়ঙ্কর নির্ভরতা। এই রূপকের নাম 'Thriller Face'।
রূপক ব্লেড হাতে ঘোরাতে ঘোরাতে বলে:
"তোরা ভাবিস আমি ভুলে গেছি? আমি সব মনে রেখেছি। তোরা ভুলে গেছিস আমি কে ছিলাম... এবার মনে করিয়ে দেবো।"
ঠিক তখনই দরজায় টকটক শব্দ। বন্ধুরা এসেছে—তুহিন আর শোভন।
তুহিন: “ভাই, এতদিন পরে দেখা। কোথায় থাকিস তুই? ফোন অফ, মেসেজে রিপ্লাই নাই!”
রূপক মুখে হাসি ফোটায়। তার মুখ এখন আবার বদলে গেছে। চেহারায় আনন্দ, বন্ধুত্বের উষ্ণতা। সে 'Friend Mode'।
তারা একসাথে বসে, পিজ্জা খায়, পুরোনো কলেজ লাইফের গল্প করে। তুহিন বরাবরই কমেডি করে, আর শোভন সিরিয়াস টাইপ।
তুহিন: “মনে আছে ভাই, টেস্ট এক্সামে তুই রোল নাম্বার ৭২-এ বসে ছয়টা ভুল নাম লিখে দিয়েছিলি?"
রূপক হেসে ওঠে। কিন্তু তার ভিতরের চোখে ঝলকে যায় সেই নাম্বার—৭২।
রাত গভীর হয়। বন্ধুরা চলে যায়। রূপক বিছানায় শুয়ে পড়ে। মাথায় ঘুরছে শব্দ:
"৭২... সাতাশি... তিনজন... ছায়া..."
ডায়েরির এক পেছনের পাতায় হঠাৎ একটি নতুন বাক্য দেখা যায়—যেটা আগে ছিল না:
“আমি যদি আর মানুষ না থাকি... তবে তুমি কি আমাকে ভালোবাসবে, মোহিনী?”
"রূপকের সাত রূপ" – এক অদ্ভুত প্রেম, এক ভয়ংকর রহস্য!
সে কখনো শিশুর মতো কোমল, আবার কখনো আগুনের মতো ধ্বংসাত্মক।
মোহিনী জানতো রূপককে, ভালোবাসতোও খুব।
কিন্তু রূপকের ভিতরে ছিল আরও অনেক রূপ…
একেকটা অধ্যায়ে বদলায় রূপকের মুখ, বদলায় গল্পের গতি।
তাদের প্রেম যেন এক বিষাক্ত মধু—মিষ্টিও, আবার প্রাণঘাতীও।
বন্ধুত্ব, প্রেম, বিশ্বাসঘাতকতা, খুন, পাগলামি আর হাজারো প্রশ্ন...
সব মিলিয়ে "রূপকের রাজপথে" হল এক শহুরে প্রেম-থ্রিলার,
যেখানে প্রতিটি অধ্যায় নতুন এক ধাক্কা।
ভালোবাসা শুরু হলেও শেষটা নাও হতে পারে শুধু প্রেমে…
কারণ, কেউ একজন… খুন হয়ে যাবে।
---