IQ Check
Check your IQ by solving the problems here. Do you want to storm your brain? Give work to your brain
08/08/2026
গণঅভ্যুত্থানের মাখন : মঞ্জুর থেকে পার্থ
=======================
পঁচাত্তর, নব্বই, চব্বিশ — তিনটি ভিন্নধর্মী গণঅভ্যুত্থান। তিনটির মধ্যে সবচেয়ে বিস্মৃত, অবহেলিত এবং লাঞ্ছিত অভ্যুত্থান সম্ভবত নব্বই। কেউ মনে রাখেনি। কেউ মনে রাখতে চায়নি। এবং বিস্ময়করভাবে প্রতিটি অভ্যুত্থানের পরেই ক্ষমতাসীন হয়েছে বিএনপি এবং আজকের চব্বিশের সাথে তাদের যে আচরণ একই আচরণ তারা করেছে বাকি দুই অভ্যুত্থানের সাথেও। প্রতিটা অভ্যুত্থানের মাখনটুকু খেয়েছে বিএনপি আর সাথে সাথে খেয়েছে অভ্যুত্থানের স্পিরিটকেও। জিয়া বাকশালীদের বিচার করেনি। খালেদা জিয়া এরশাদ ও তার সহযোগীদের বিচার করেনি। এবং এবারও সে পথেই হাঁটছে। পঁচাত্তরের নায়করা রক্ষা পায়নি। নব্বইকে এমনভাবে মুছে ফেলা হয়েছে যেন নব্বই কোনোকালে ঘটেইনি। তার কোনো শহীদ নেই। গাজী নেই। নব্বইয়ের অধিকাংশ খলনায়ককেই বিএনপি সসম্মানে পুনর্বাসিত করেছে। কোনো হত্যার, কোনো দূর্নীতির বিচার হয়নি। চব্বিশ তো সামনেই।
রুহুল আমিনের সাথে আমার পরিচয় নেই। থাকলে আমি তাকে অনুরোধ করতাম চব্বিশের ইতিহাস সংকলন করতে। কারণ তার বইটা আমার কাছে নব্বইয়ের সবচেয়ে সুশৃঙ্খল দলিল মনে হয়েছে। দলের প্রতি একটা টান তো থাকবেই কিন্তু সেই টান দলিলের ঘাটতিতে পর্যবসিত হয়নি। পঁচাত্তর নিয়ে এমন কোনো বই নেই। প্রচুর আছে কিন্তু এমন গোছানো না। এই বই পড়ে আপনি শুধু নব্বইয়ের দিনগুলিতেই ভ্রমণ করবেন না, আপনি অবাক বিস্ময় এবং গভীর বেদনার সাথে চব্বিশ পরবর্তী আমাদের স্বপ্নভঙ্গের যাতনাগুলিও উপলব্ধি করবেন। সেই একই প্যাটার্ন। একই দলের প্রত্যাবর্তন। একই গাদ্দারী। একই পুনর্বাসন। একইভাবে শহীদের রক্ত মাড়িয়ে ক্ষমতায় আরোহন করে শহীদদের ভুলে যাওয়া। কিছু কিছু শব্দে পর্যন্ত মওদুদের সাথে শিলং-এর আশ্চর্য মিল। হাহাহা ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য নামে একজন কলাম লিখেছেন "The Second Liberation" শিরোনামে। বুঝলাম এই যে আমরা দ্বিতীয় স্বাধীনতার গপ্পো ফাঁদছি চব্বিশে, সেই গপ্পো নব্বইতেও ফাঁদা হয়েছিল। এই স্বাধীনতার গপ্পো দিয়েই আসলে এই ক্ষমতার মাখন খাওয়া চক্রটা আমাদের বারবার প্রতারিত করে। যার জান তার নয়, শামা ওবায়েদ মারে দই।
মুনির উদ্দীনের 'বাংলাদেশ: বাহাত্তর থেকে পঁচাত্তর', অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের 'Bangladesh: A Legacy of Blood' কিংবা মওদুদের 'Era of Sheikh Mujibur Rahman' কোনোটাই এককভাবে একটা অভ্যুত্থানের পটভূমি ফুটিয়ে তোলেনা। একে অপরের পরিপূরক হিসেবেই ভালো কাজে আসে। আর চব্বিশ নিয়ে তো কোনো আশাই আমি দেখিনা। একাত্তর যদি হয় একটা দলের মিথ্যাচারে কলঙ্কিত তেমনি চব্বিশ হবে অসংখ্য ব্যক্তির মিথ্যাচারে ক্লেদাক্ত। সে প্রসঙ্গে আশাবাদ না রাখাই ভালো।
এই জাতির আরেকটা দূর্ভাগ্য দেখবেন, পক্ষ-প্রতিপক্ষ যে-ই হোক জান যায় সাধারণের আর ক্ষমতার মধু খায় ঘুরেফিরে সেই শ তিনেক কিংবা তারও কম পরিবার। তাদের খুনের বিচার হয়না। তাদের দূর্নীতির বিচার হয়না। তাদের সেই লুটপাটের টাকায় তাদের সন্তানরাই আবারও ফিরে আসে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে।
সেই তাদেরই একজন নাজিউর রহমান মঞ্জুর। এরশাদের খাস তল্পিবাহক, আপাদমস্তক এক দূর্নীতিবাজ। রাষ্ট্রের সম্পদ লুন্ঠনকারী। তার কিছুই হয়নি। তার লুটের ভাগ হয়তো পেয়েছে পরবর্তী ক্ষমতাসীনরা। আর আজ তার পুত্র আন্দালিব রহমান পার্থ সেই লুটের টাকায় মৌজ মাস্তি করে বেড়াচ্ছে। চোরের পোলার গলা আজ অনেক অনেক উঁচা।
মিছিল হবে এই রকম। লাঠির আগায় পতাকা।
05/08/2026
সেনাপ্রধান আসলেই আর্মি ইসলামাইজেশন করতে চায় কি না— এই প্রশ্নের উত্তর পাইতে হইলে আমাদের ফিরে যেতে হবে ৪৯ বছর আগের এক রাতে।
৩ নভেম্বর ১৯৭৫।
জলপাই রঙের এক আর্মি জিপ দিলকুশা মাজার হয়ে শো শো আওয়াজে বঙ্গভবনে ঢুকবে। তারপর সদ্য ঘোষিত বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল খালেদ মোশাররফ নামবে সেই জিপ থেকে। যিনি বঙ্গবন্ধু খুন হওয়ার পর মোশতাক সরকারের বিরুদ্ধে প্রথম সেনা অভ্যুত্থানের নায়ক।
তারপর দেখব বঙ্গভবনের দরবার হলে রাতভর চলবে দরকষাকষি। কার হাতে কতটুকু ক্ষমতা— খালেদ তখন এই হিসাব কষছেন নৌ আর বিমানবাহিনী প্রধানের সাথে।
একই রাতে নারায়ণগঞ্জ থেকে একটা সাদা জিপ আসবে। ঢাকার দিকে। ধীরে ধীরে ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে ঢুকবে। তারপর ক্রাচে ভর দিয়ে একজন কর্নেল বের হবে। যার নাম— কর্নেল তাহের। সেই সময়ের জাসদ নেতা।
তারপর মাত্র চার দিন।
৭ নভেম্বর, ১৯৭৫ সালের এক রাতে আমরা দেখব— সেনাপ্রধান খালেদ মোশাররফ খুন হয়ে যাবে। নিজের সৈনিক আর জুনিয়র অফিসারদের হাতে। মাত্র চার দিনের সেনাপ্রধান।
৭ নভেম্বর নিয়ে ইতিহাসে তিনটা বয়ান আছে।
বিএনপি এটাকে বলে— সিপাহি বিপ্লব। আওয়ামী লীগ বলে— সেনা অফিসার হত্যা দিবস। আর জাসদ বলে— সিপাহি-জনতা বিপ্লব।
বয়ান যেটাই হোক। খালেদ মোশাররফ খুন হওয়ার পেছনে একটা শব্দ ছিল: ভারত।
এই জায়গাটা খেয়াল করুন।
১৯৭১ সাল থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে দুইটা ধারা। একটা সেকুলার, ভারতপন্থী বলে অভিযুক্ত। আরেকটা প্রো-ইসলামিস্ট, পাকিস্তানপন্থী বলে অভিযুক্ত।
খালেদ মোশাররফ সেনাপ্রধান হওয়ার পর গুজব ছড়ায়। লিফলেট বাইর হয়। বলা হয়— খালেদ আবার দেশকে মুজিবের মতো ভারতের হাতে তুলে দিবে। ইতিহাসের নির্মম পরিহাস— ঠিক সেই সময় খালেদ মোশাররফের মা আর ভাই একটা মিছিল বাইর করে। মুজিব হত্যার বিচার চেয়ে। খালেদের অজান্তেই।
তাহের আর জাসদ এই দৃশ্যটাকে ক্যাশ করে। সৈনিকদের বুঝায়— দেখো, খালেদ মুজিবের লোক। ভারতের লোক।
সেই রাতে সিপাহি বিদ্রোহ হয়। খালেদ মোশাররফ নিহত হয়। মেজর জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে ক্যান্টনমেন্ট শান্ত করেন।
বাকিটা ইতিহাস।
এবার আসি ৫ আগস্ট, ২০২৪-এ। ৪৯ বছর পর আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতাচ্যুত হইল। রেখে গেল এক সেনাপ্রধানকে— জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। যিনি শেখ হাসিনার দূর সম্পর্কের আত্মীয়। তার শাশুড়ি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর চাচাতো বোন। যিনি শেখ হাসিনাকে সেফ এক্সিট দিয়ে ভারতে পাঠায় দিছে।
৫ আগস্টের পর ছবিটা চেনা লাগতেছে?
সেনাবাহিনীর ভেতরের প্রো-ইসলামিস্ট ধারা সংশয়ে পড়ে। গুঞ্জন ওঠে— ওয়াকার আবার আওয়ামী লীগকে ফিরায় আনবে। এই গুঞ্জন সিভিল সোসাইটি থেকেও আসে। পিনাকীর মতো ইউটিউবারদের কাছ থেকে।
২০২৫-এ মিডিয়ায় দাবি ওঠে— এক প্রো-ইসলামিস্ট অফিসার, লে. জেনারেল ফয়জুর রহমান, নাকি ওয়াকারকে সরিয়ে দেওয়ার তৎপরতা চালাচ্ছে। গুঞ্জন থামে না বরং বাড়ত্বেই থাক। সেনাবাহিনীর ভেতরে দুই ধারার টানাপোড়েন চলতে থাকে। পরিস্থিতি সেই ৪৯ বছর আগের রাতের দিকে যাচ্ছিল। ভারত-ট্যাগ। ভেতরের সংশয়। জুনিয়রদের অসন্তোষ। একই প্যাটার্ন।
তারপর কী হইলো?
বর্তমান সেনাপ্রধান ৪৯ বছর আগের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিলেন।
আমরা দেখলাম—
তিনি হজে গেলেন। মে ২০২৬। দাড়ি রাখলেন। জুন ২০২৬-এ নতুন ব্যাটালিয়ন উঠল— ২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন। এর চারটা কোম্পানির নাম রাখা হ্চইল চার খলিফার নামে— হযরত আবু বকর, উমর, উসমান, আলী (রা:)। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইতিহাসে এইটা প্রথম।
তারপর ৩ আগস্ট ২০২৬-এ উদ্বোধন করলেন Army International Islamic Institute। কয়েকটা ভাষণে বললেন— সেনাবাহিনীকে ইসলামি মূল্যবোধ ধারণ করতে হবে। সর্বশেষ ভাষণে বললেন, বাংলাদেশকে বেদায়াতমুক্ত করতে হবে।
এবার দুইটা ডট মিলাই।
১৯৭৫ সালে যে সেনাপ্রধানকে "ভারতের লোক" ট্যাগ খেয়ে জীবন দিতে হয়েছিল—
২০২৬ সালে সেই একই ট্যাগের সামনে দাঁড়ানো আরেক সেনাপ্রধান দাড়ি রাখছেন। খলিফাদের নামে কোম্পানি করছেন। বাংলাদেশকে বেদায়াতমুক্ত করার ঘোষণা দিচ্ছেন।
এইটা কি কাকতালীয়?
একজন আইনজীবী এবং লেখক হিসেবে আমি বলব— ইতিহাসের প্যাটার্ন কাকতালীয় হয় না। ইতিহাসের এই দুই ডট মিলাইলে বোঝা যায়— বর্তমান সেনাপ্রধান যতটা না মন থেকে আর্মি ইসলামাইজেশন করতেছেন, তার চেয়ে বেশি করতেছেন নিজের জান বাঁচাতে। ভেতরের অভ্যুত্থান ঠেকাতে।
খালেদ মোশাররফ ভারত-ট্যাগ সামলাইতে পারেন নাই। ওয়াকার সেই ভুল করতে চান না। আর্মি ইসলামাইজেশন এখানে বিশ্বাস না। এটা সারভাইভাল স্ট্র্যাটেজি।
-----------------------------------------------------------------------
— ফেরদৌস হোসেন
আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।
বিজনেস, ডেটা প্রাইভেসি, ও এআই ল'য়ার।
#ওয়াকারউজ্জামান #বাংলাদেশসেনাবাহিনী েম্বর #ফেরদৌসহোসেন
-----------------------------------------------------------------------
যারা ফিকশন পড়তে ভালোবাসেন, তাদের জন্য কমেন্টে বাংলা সাহিত্যের প্রথম লিগাল থ্রিলার “অসমাপ্ত জেরা”-র ১ম পর্বের লিংক দেওয়া হইল।
01/08/2026
রইলো বাবু
আলিফের চোখ নষ্ট করে দেয়া দুর্বৃত্তের নাম নাজমুল হোসেন অনি। সে হবিগঞ্জ সদর থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব।
ফৌজদারি অপরাধ কখনো তামাদি হয়না। তোরে এটেম্পট টু মার্ডারের অপরাধে কাঠগড়ায় তোলা হবে। আজ হোক আর কাল হোক।
দেশ থিকা পলাইলেও লাভ নাই। ধইর্যা আনা হবে।
সবাই আমাকে বাঁচান!
স্বাগতম
মুক্তির মাস আগষ্ট
Category
Contact the school
Telephone
Website
Address
Tangail
1940