Civil Engineering

Civil Engineering

Share

Civil Engineering is the Bridge Between Science and Practice. Beyond technical expertise, I also cultivated strong communication and teamwork skills.

As a fresh diploma Civil engineer, I bring a blend of theoretical knowledge and practical skills to the table. My educational background has equipped me with a solid understanding of structural design, construction materials, surveying techniques, and project management principles. During my studies, I actively engaged in hands-on projects, where I learned to apply engineering principles to real-w

04/06/2024

09. Tiles:
===========================
(চুল্লিতে পোড়ানো কম পুরুত্বের কাদার তৈরি স্ল্যাবকে টালি বলা হয়।) টালি সাধারণত চালাঘরের ছাউনিতে (Roofing), মেঝোর আচ্ছাদনে (Flooring), দেয়াল আবৃতকরণে (Walling), ড্রেন নির্মাণে এবং অলংকারমূলক কাজে ব্যবহার করা হয়) ইটের কাদার মতো কাদা দিয়েই টালি তৈরি করা হয়। তবে টালি তৈরিকালে অধিক সতর্কতার দরকার হয়। কেননা এগুলোর পুরুত্ব ইটের চেয়ে কম বিধায় এগুলো শুকানো ও পোড়ানো কালে সংকুচিত হয়ে দুমড়িয়ে যেতে পারে।

# কাদার তৈরি ভালো টালির নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো থাকবেঃ
• আকার-আকৃতিঃ এগুলো ঈন্সিত আকার-আকৃতির হবে।
• ত্রুটিমুক্তঃ এগুলো বাঁকানো, দোমড়ানো, তোবড়ানো, মোচড়ানো হবে না এবং বক্রতা, ছিদ্র ও ফাটলমুক্ত হবে।
• বর্ণের সাম্যতাঃ এগুলোর বর্ণ সাম্য বর্ণের হবে।
• পোড়ানোঃ এগুলো উত্তমরূপে পোড়ানো হবে।
• মজবুতিঃ এগুলো দৃঢ়, শক্ত ও শক্তিশালী হবে।
• পানি অভেদ্যতাঃ এগুলো পানি অভেদ্য (impermeable) হবে।
• শোষ্যতাঃ এগুলো স্বীয় ওজনের 20% এর অধিক পানি শোষণ করবে না।
• পৃষ্ঠ মসৃণতাঃ এগুলোর প্রদর্শনীয় পৃষ্ঠ মসৃণ হবে এবং অপর পৃষ্ঠ স্থাপনের উপযোগী অমসৃণ হবে।
• শব্দ : এগুলোকে আঘাত করলে বাজনার শব্দ হবে।

কাজের স্থায়িত্ব, সৌন্দর্য, ভোক্তার রুচি, কার্যক্ষেত্রের পরিবেশ ও চাহিদা, আর্থিক সঙ্গতি, কাঁচামালের সহজলভ্যতা ইত্যাদি বিবেচনায় কাদার টালি, প্লাস্টিক টালি, মার্বেল টালি, মোজাইক টালি ইত্যাদি তৈরি ও ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

# টালি তৈরিতে ব্যবহৃত সামগ্রী অনুযায়ীকে টালিকে প্রধানত নিম্নোক্ত ভাগে ভাগ করা যেতে পারে :
1. কাদার টালি (Clay tiles)
2. কংক্রিটের টালি (Concrete tiles)
3. প্লাস্টিক টালি (Plastic tiles)
4. মোজাইক টালি (Mosaic tiles)
5. মার্বেল টালি (Marble tiles)
6. গ্লেইজড্ টালি (Glazed tiles)।

1. কাদার টালি (Clay tiles) : ইটের কাদার মতো মন্থনকৃত মিহি কাদা দিয়ে তৈরি কম পুরুত্বের উদ্দেশ্যমাফিক আকার- আকৃতির স্ল্যাবই কাদার টালি। ক্লে প্রোডাক্ট (Clay product) হিসেবে গণ্য সকল ধরনের টালিই কাদার টালি।

# কাদার টালিকে ব্যবহারের স্থান অনুযায়ী প্রধানত পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়, যথা—
a. ক্লে রুফিং টালি (Clay roofing tiles)
b. ক্লে ফ্লোরিং টালি (Clay flooring tiles)
c. গ্লেইজড্ আর্থেনওয়্যার টালি (Glazed earthenware tiles)
d. ক্লে ফ্ল্যাট টেরাসিং টালি (Clay flat terracing tiles)
e. ড্রেন টালি (Drain tiles)।

A. ক্লে রুফিং টালি (Clay roofing tiles) : ক্লে রুফিং টালি সাধারণত চালাঘরের ছাউনির কাজে ব্যবহৃত হয়।
ছাউনির কাজে ব্যবহৃত কাদার টালির মধ্যে-
1. প্লেইন টালি (Plain tiles),
2. পট টালি (Pot tiles),
3. প্যান টালি (Pan tiles),
4. ফ্ল্যাট টালি (Flat tiles) ও
5. ভ্যালি, হিপ ও রিজ টালি (Valley, hip & ridge tiles)
6. করুগেটেড টালি (Corrugated tiles) সচরাচর ব্যবহৃত হয়।

(a) প্লেইন টালি (Plain tiles): এ জাতীয় টালি হাতে তৈরি এবং গ্লেজ করা। এ জাতীয় টালি ছাউনিতে ব্যবহার কালে বা
সাথে আটকানোর সুবিধার্থে এগুলোর উপরের প্রান্তের নিচের তলায় দুটি বর্ধিত অংশ রাখা হয়।

(b) পট টালি (Pot tiles) : পট টালি কুমারের চাকার উপর হাতে তৈরি করা হয়। এগুলো ফাঁপা অর্ধ-সিলিন্ডার আকৃতির, তার দুপ্রান্তের ব্যাসের মধ্যে পার্থক্য থাকে। দৈর্ঘ্য 25 হতে 30 সেন্টিমিটার, ব্যাস 10 হতে 12 সেন্টিমিটার ও 15 হতে 18 সেন্টিমিটার প্রথমে সিলিন্ডার আকৃতিতে এদেরকে তৈরি করা হয় এবং কাঁচা অবস্থায়ই কাটা চিহ্ন দেয়া থাকে যেন শুকানোর পর নির্বিঘ্নে বিভক্ত করা যায়।

(c) প্যান টালি (Pan tiles) : এগুলো পট টালির প্রায় অনুরূপ তবে দৈর্ঘ্যে কিছুটা খাটো, ওজনে ভারী এবং উভয় প্রান্তের হয় সমান। প্রথমে এগুলোকে সমতল প্ল্যাবের ন্যায় তৈরি করা হয় এবং কাঁচা অবস্থায়ই পৃষ্ঠ কিঞ্চিৎ বক্র করে দেয়া হয় এবং ছাউনিতে ব্যবহারকালে সুবিধার জন্য এদের উপরের প্রান্তের নিচের তলায় বর্ধিত অংশ রাখা হয় যেন সহজে অনুভূমিক বাতার সাথে আটকানো যায়।

(d) ফ্ল্যাট টালি (Flat tiles) : এ জাতীয় টালি সমতল। এদের আকার is x 15 x 1.25 হতে 20 x 20 x 1.25 সেমি এগুলোকে মেঝের আচ্ছাদনের কাজে এবং টেরেস ছাদের নিচে ব্যবহার করা হয়।

(e) ভ্যালি, হিপ ও রিজ টালি (Valley, hip & ridge tiles): এ জাতীয় টালি চালাঘরের ভ্যালি (Valley), হিপ (Hip), দু'চালার ঊর্ধ্ব সংযোগস্থল রিজ-এ পানি নিষ্কাশনে ব্যবহার করা হয়।

(f) করুগেটেড টালি (Corrugated tiles) : করুগেটেড টালি মিহি কাদামৃত্তিকা দিয়ে যান্ত্রিক চাপে টেউটিনের মতো করে তৈরি করে চুড়িতে সতর্কতার সাথে পুড়িয়ে নেয়া হয়। ছাউনিতে স্থাপন কালে প্রতি পাশে একটি বা দুটি ঢেউ ওভারল্যাপ দেয়া হয়। এগুলো দেখতে ঢেউটিনের ছাউনির মতো মনে হয়।

B. ক্লে ফ্লোরিং টালি (Clay flooring tiles) : মিহি কাদামৃত্তিকা দিয়ে যান্ত্রিক চাপ প্রয়োগে সমতল স্ল্যাবের ন্যায় ক্লে ফ্লোরিং টালি তৈরি করে চুল্লিতে পোড়ানো হয়। এগুলো তৈরিকৃত ভিত্তির (prepared base) উপর সহজেই সমতলভাবে স্থাপন করা যায়। এগুলো পাথরখণ্ড, চুনখণ্ড ও খালি চোখে দেখার মতো সব ধরনের অপদ্রব্যমুক্ত। এগুলোকে আঘাত করলে বাজনার মতো শব্দ হয় এবং এগুলো ভাঙলে ভগ্ন পৃষ্ঠ পরিষ্কার, দৃঢ় (dense) দেখায় এবং ধারগুলো তীক্ষ্ণ হয়।

C. গ্লেইজড আর্থেনওয়্যার টালি (Glazed earthenware tiles) : গ্রেইজড আরর্থেনওয়্যার টালি দেয়াল ও মেঝের পৃষ্ঠ আবৃতকরণে ব্যবহৃত হয়। এগুলোর সৃষ্ট পৃষ্ঠ সমতল, মসৃণ, পরিষ্কার, পানি অশোষ্য। এগুলোর প্রদর্শনীয় পৃষ্ঠ গ্লেইজড করা এবং বিপরীত পৃষ্ঠ (নিচের পিঠ) ও ধারগুলো সম্পূর্ণরূপে গ্লেইজডমুক্ত। এতে এগুলোকে সহজেই মেঝে ও দেয়ালে স্থাপন করা যায় এবং এগুলো স্থাপিত পৃষ্ঠকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে। এগুলো ভাঙলে সূক্ষ্ম বা মিহি দানায় গঠন, দৃঢ় (dense) ও সমসত্ত্ব দেখায়। এগুলোর নির্মাণত্রুটি সৌন্দর্যে বিঘ্ন ঘটায়, তাই এগুলোতে নির্মাণত্রুটি থাকলে এগুলো ব্যবহার উপযোগী থাকে না।

D. ক্লে ফ্ল্যাট টেরাসিং টালি (Clay flat terracing tiles) : উত্তম মন্থনকৃত মিহি কাদা দিয়ে হাতে বা যন্ত্রের চাপে কম পুরুত্বের সমতল স্ল্যাবের ন্যায় তৈরি করে চুল্লিতে পুড়িয়ে ক্লে ফ্ল্যাট টেরাসিং টালি তৈরি করা হয়। তৈরিকৃত ভিত্তির উপর এগুলোর এক বা একাধিক স্তর এমনভাবে স্থাপন করা হয় যেন এগুলোর উপর সন্তোষজনকভাবে ফ্লোর বা রুফ ফিনিশ (floor or roof finish) স্থাপন করা যায়। এগুলো সব ধরনের নির্মাণত্রুটি, বক্রতা, দোমড়ানো, ফাটল ইত্যাদি মুক্ত হওয়া আবশ্যক।

E. ড্রেন টালি (Drain tiles) : পানি নিষ্কাশনের নালা নির্মাণের জন্য এ টালিগুলো অর্ধবৃত্তকারে ইংরেজি বা V এর ন্যায় 0.75 হতে 1.25 মিটার দৈর্ঘ্যে তৈরি করা হয়।

2. কংক্রিটের টালি (Concrete tiles) : 1:3 অনুপাতের সিমেন্ট মসলার সাথে ঈন্সিত বর্ণের উপাদান (পাউডার আকারের) মিশিয়ে ঈন্সিত আকার-আকৃতিতে তৈরি করা হয়। এ জাতীয় টালি সাধারণত পাতলা পুরুত্বের ঈন্সিত আকারে পূর্বে ঢালাই (Precast) করা এবং প্রয়োজনানুসারে কার্য ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।

3. প্লাস্টিক টালি (Plastic tiles) : প্লাস্টিক টালির মধ্যে অ্যাজবেস্টস আঠার টালি ও ক্যানলাইট টালিই প্রধান। এ জাতীয় টালি উৎপাদনে কৃত্রিম পলিভিনাইল ক্লোরাইড এবং কুমারণ (Coumerone) আঠা অথবা শুধুমাত্র কুমারণ আঠার সাথে কিছু তিসির তৈল ব্যবহার করা হয়। এ টালি বিভিন্ন বর্ণের হতে পারে। ঈন্সিত বর্ণের জন্য মূল উপাদানের সাথে নির্দিষ্ট বর্ণের রঞ্জক মিশ্রণ করা হয়। অ্যাজবেস্টস আঠার টালি বাসগৃহ, সরকারি ভবন ও উপাসনালয়ের মেঝে নির্মাণে ব্যবহার করা হয়। খনিজ তেলের সংস্পর্শে আসতে পারে এমন জায়গা এবং গোসলখানায় এ টালি ব্যবহার করা উচিত নয়। ক্যান টালি কেনল এনডিহাইট আঠা হতে উৎপাদন করা হয়। বিভিন্ন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন পুরুত্বের, আকারের বর্ণেরও ডিজাইনের প্লাস্টিক টালি বাজারজাত করে থাকে। প্রচলিত বাজারে প্রাপ্ত এ জাতীয় টালিগুলোর আকার 25 x 25 সেমি, 30 x 30 সেমি, 40 X 40 সেমি, 60 x 60 সেমি হয়ে থাকে। তবে ডিজাইনগত পার্থক্যের জন্য এগুলোর আকার কমবেশি হতে দেখা যায়। এ টালি উচ্চ অ্যাসিড প্রতিরোধ গুণসম্পন্ন। এগুলো 24 ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখলে 0.02 হতে 0.05 ভাগ পানি শোষণ করে। ল্যাবরেটরি, গোসলখানা, ঝরনা, পায়খানা, প্রবেশপথ ও সিঁড়িতে এ টালি ব্যবহার করা হয়। এ টালি অ্যাসফল্ট মসলা বা ফেনল ফরমালডিহাইড মসলার মাধ্যমে সংস্থাপন করা হয়।

4. মোজাইক টালি (Mosaic tiles) : ছোট ছোট মার্বেল পাথরের দানা, মার্বেল পাউডার ও সাদা সিমেন্ট 2:1:1 অনুপাতে মিশিয়ে মসলা তৈরি করা হয় এবং নির্দিষ্ট আকারের ফর্মায় ঢালাই করে অথবা যান্ত্রিক চাপে কম পুরুত্বের স্ল্যাব তৈরি করা হয়। এ স্ল্যাবগুলোই মোজাইক টালি। এ জাতীয় টালি সাধারণত পূর্ব ঢালাইকৃত হয়ে থাকে। সিমেন্টের মসলা দিয়ে মেঝে, দেয়ালে এ টালি সংস্থাপন করা হয়। সাধারণত মোজাইক টালির আকার 15 × 15 সেমি হয়ে থাকে। বিভিন্ন বর্ণ ও আকারের মোজাইক টালি সৌন্দর্যবর্ধক ও অলংকারমূলক কাজে ব্যবহার করা হয়।

5. মার্বেল টালি (Marble tiles) : বিভিন্ন বর্ণের মার্বেল পাথর কেটে । সেমি থেকে 1.5 সেমি পুরুত্বের মার্বেল টালি তৈরি করা হয়। মার্বেল পাথরের বর্ণের উপর এ ধরনের টালির বর্ণ নির্ভর করে । এগুলো শোভাবর্ধক, সুন্দর, বেশ টেকসই ও মজবুত। এগুলো মেঝের শোভাবর্ধক আচ্ছাদন ও বিভিন্ন অলংকারমূলক কাজে ব্যবহৃত হয়।

6. গ্লেইজড টালি (Glazed tiles) : গ্লেইজড টালি হলো কাদাজাত টালি। কাদার তৈরি টালি শুকানোর পর দু'ধাপে পুড়িয়ে গ্রেইজড টালি তৈরি করা হয়। প্রথম পর্যায়ে প্রায় 1200° ফা. তাপমাত্রায় এ টালিগুলো পোড়ানো হয় এবং ঠান্ডা করা হয়। এ পর্যায়কে বিস্কুট পর্যায় বলা হয়। এরপর এগুলোকে ঈন্সিত বর্ণ ও গ্রেইজের জন্য গ্রেইজিং দ্রবণে ডুবিয়ে নেয়া হয় এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে চুলিতে দিয়ে প্রায় 2200° ফা, তাপমাত্রায় পোড়ানো হয়। পোড়ানোর মাত্রার উপর ভিত্তি করে এগুলোকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। কম পোড়া টালিকে পুনঃচুল্লিতে পুড়িয়ে নেয়া হয়। এ জাতীয় টালি দেওয়াল, মেঝে ইত্যাদি অলংকার ও সৌন্দর্যবর্ধক আচ্ছাদনে ব্যবহার করা হয়।

7. হোমোজিনিয়াস টানি (Homogeneous tiles) : পোর্সেলিন টালিই সাধারণভাবে হোমোজিনিয়াস টালি হিসাবে পরিচিত এগুলো গ্লেজ ও আনগ্লেজ উভয় ধরনেরই হতে পারে। এগুলোতে কোনোরূপ কর্দম দাগ বা সূক্ষ্ম ফাটল গ্রহণীয় নয় । এগুলো প্রায়শই সস্তা চীনামৃত্তিকা দিয়ে তৈরি। এগুলো বিভিন্ন বর্ণ ও ডিজাইনে তৈরি করা হয়ে থাকে। এগুলো গ্রানাইট-এর মতো টাফ (tough) | এগুলো সাধারণত 0.5% এর অধিক (স্বীয় ওজনের) পানি শোষণ করে না। এগুলো সিরামিক টালি হতে শক্তিশালী এবং চলাচল এলাকা যেমন- আবাস কক্ষ, ভোজন কক্ষ, বৈঠক কক্ষ ইত্যাদির জন্য সিরামিক টালির তুলনায় অধিক উপযোগী ও টেকসই। তর ব্যবহারের কয়েক বছর পর এগুলোতে বক্রতার প্রবণতা দেখা বিধায় এগুলো স্থাপনকালে জোড়ায় 1.5 মিমি হতে 2 মিমি ফাক রেখে স্থাপন করা উত্তম। রঙিন হোমোজিনিয়াস টালির দাম সাধারণ টালির তুলনায় কিছুটা বেশি। এগুলো সাধারণত 80x80cm, 60x60cm, 40x40cm, 60x40cm ইত্যাদি আকারের হয়ে থাকে।

8. উডেন টালি (Wooden tiles) : চিত্তাকর্ষক ফিগার ও গ্রেইনের টালি আকৃতির উৎকৃষ্ট মানের কাঠের উভয় পিঠ লেমিনেটিং করে উডেন টালি তৈরি করা হয়। ফ্লোরিং-এ ব্যবহারকালে ফাঁকহীন সংযোগ দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংযোগের ব্যবস্থা (ট্যাংগ, ফর ইত্যাদি) থাকে । এগুলোর পৃষ্ঠদেশ অন্যান্য টালির মতো মসৃণ নয় বরং খসখসে। তাই এগুলো পিচ্ছিল হয় না। এগুলো বিভিন্ন বর্ণের হতে পারে এবং অলংকারমূলক ফ্লোরিং-এ ব্যবহার করা যায়। এগুলোর লেমিনেটিং ক্ষতিগ্রস্ত হলে আর্দ্রতায় আক্রান্ত হয় এবং ফ্লোরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পানির সংস্পর্শে এগুলো ব্যবহার না করাই উত্তম ।

# বিভিন্ন ধরনের টালির ব্যবহার (Uses of different kinds of tiles) :
নিম্নের ছকে বিভিন্ন ধরনের টালির ব্যবহারক্ষেত্র উল্লেখ করা হলো :
প্লেইন টালি - ঢালু চালাঘরের ছাউনিতে।
পট টালি - ঢালু চালাঘরের ছাউনিতে।
প্যান টালি - ঢালু চালাঘরের ছাউনিতে।
ফ্ল্যাট টালি - টেরেসড্ ছাদের নিচে এবং মেঝের আচ্ছাদনের কাজে।
রিজ টালি - ঢালু চালাঘরের দু'চালের ঊর্ধ্ব সংযোগস্থলে ছাউনিতে।
হিপ টালি - চালাঘরের হিপ-এ ছাউনির কাজে।
ভ্যালি টালি - চালাঘরের ভ্যালিতে পানি নিষ্কাশনে।
করুগেটড টালি - চালাঘরের ছাউনিতে।
ড্রেন টালি নিষ্কাশন ড্রেন নির্মাণে ।
প্লাস্টিক টালি - মেঝে, দেওয়ালের আচ্ছাদনে।
মোজাইক টালি - মেঝে, দেওয়াল, সিঁড়ির আচ্ছাদন ইত্যাদিতে।
মার্বেল টালি - মেঝে, দেওয়ালের আচ্ছাদন, সৌন্দর্যবর্ধক ও অলংকারমূলক কাজে।
গ্লেইজড্ টালি - মেঝে, দেওয়াল, সুইমিং পুল ইত্যাদিতে।
কংক্রিট টালি - ফুটপাথ, ড্রেনের উপরে স্ল্যাব, দেওয়াল ও মেঝে ইত্যাদিতে।
হোমোজিনিয়াস টালি - অধিক চলাচলের এলাকাতে (আবাস কক্ষ, বৈঠক ঘর, ভোজন কক্ষ ইত্যাদিতে)।
উডেন টালি - অলংকারমূলক ফ্লোরিং-এর কাজে।

# বিভিন্ন সাইজের টাইলস বাজারে পাওয়া যাই ফ্লোর
• 12"x12, 16"x16", 20"x20"
• 24"x24",32"x32",24"x48" ইত্যাদি
• ওয়াল 8"x12", 10"x13", 10"x16", 12"x18",
• 12"x20", 12"x24", 12"x48"
এছাড়া চায়না অনেকপ্রকার ওয়াল টাইলস পাওয়া যায়।

# ফ্লোর ফিনিশিং হিসেবে টাইলস আমাদের দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় , টাইলস ছাড়াও অন্যান্য ফ্লোর ফিনিশিংগুলো হচ্ছে;
• Cement Sand Plaster Flooring [Neat Finishing],
• Mosic Flooring
• Vinyl Flooring
• Quartzite
• Slate
• Terrazzo
• Sandstone/ Kotta Stone Flooring।
এ ছাড়া বর্তমানে Epoxy Paint Flooring এর চাহিদা দিন দিন বেড়ে চলছে, বিশেষ করে হাসপাতালগুলোতে।

আর টাইলস হিসেবে সবার প্রথম পছন্দ Homogeneous/ Porcelain Tiles, তবে Marble কিংবা Granite ও ব্যবহৃত হয়ে থাকে যা খুব ব্যয়বহুল। Ceramic Tiles সাধারনত ব্যবহৃত হয় Wall Tiles হিসেবে ব্যবহার হয়, এ ছাড়াও গ্রাউন্ড ফ্লোরে Parking Tiles ও রাস্তায় Paving Tiles ব্যবহৃত হয়ে থাকে

# একজন প্রকৌশলীকে টাইলসের কাজ করার আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হয়
নিচে ধাপ গুলো দেয়া হল।

# ওয়াল টাইলস
===========================
• টাইলস ওয়ালের হলে সর্ব প্রথম টাইলস গুলো পানিতে ভেজান 12 ঘন্টা কারন ইটের মত এগুলো ও পানি শোষন করে ।
• ওয়াল ভেজান প্রয়োজন মত যেন ওয়াল টাইলসের মসলার পানি শোষন করতে না পারে
• দেয়ালের বাড়তি ইট গুলো ভেংগে নিন আর রাফ হিসাব করে দেখেন পূর্ন টাইলস কোথায় পড়বে আর শর্ট পিস কোথায় পড়বে
• শর্ট পিস সব সময় দরজার পিছনে দেবেন যাতে দরজা খুললে ঢাকা পড়ে যায়
• স্যনিটারি লাইন পানি দিয়ে চেক করুন লিকেজ আছে কিনা বা প্রেসার কেমন না হলে পরে টাইলস ভাংগা লাগবে।
• মসলা তৈরী করতে হবে 1:4 ক্ষেত্র বিশেষে 1:3 ও করা হয় এর পর দেয়ালে পায়া বা লেভেল করুন আর টাইলস লাগানো শুরু রুন।
• খেয়াল রাখবেন সব টাইলস যেন সমান হয় আর 2 টাইলস এর মাঝে 1 সুতা ফাকা থাকে
• টাইলস এর নীচে মসলা ঠিক মত মানে পুরো টাইলসএই যেন মসলা লাগানো হয় অন্যথা শুকালে আওয়াজ করবে আর অল্প আঘাতেই ওই অংশ ভেঙ্গে পড়বে।
• টাইলস সময়ই মার্কিন কাপড় দিয়ে অবশ্যই পরিস্কার করে নেবেন সাথে সাথে না হলে করার পরে উঠবেনা বা অতিরিক্ত ঘষাঘষিতে টাইলস ডিসকালার বা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
• শর্টপিস করার সময় টাইলস কার্টার দিয়ে খুব সাবধানে কাটতে হবে অন্যথা টাইলসের নিকেল উঠে যাবে।
• মসলার থিকনেস 1/2" থেকে ক্ষেত্র বিশেষে 1" পর্যন্ত এলাও তবে সব নির্ভর করবে ওয়ালের লেভেলের উপর।
• টাইলস করার 12 ঘন্টা পর থেকে কিউরিং করবেন।
• 5/7 দিন পর টাইলস ধুয়ে শুকিয়ে ফাঁকা জায়গাগুলোতে ফুটিং করবেন এর পূর্বে করলে মসলার ভেতরকার গ্যাস বের হতে নানা পারলে টাইলস ফেটে যাবে।
• ওয়াল টাইলস সব সময় উপর থেকে নীচের দিকে করে আসলে টেকনিক্যলি সুবিধা পাওয়া যায়।
• টাইলস নির্বাচনের সময় অবশ্যই সমান মাপের টাইলস নির্বাচন করবেন এবং একই রকমের টাইলস একবারে কিনে ফেলবেন।

# ফ্লোর টাইলস
===========================
• ফ্লোর টাইলস অনেকটা সহজ আবার কঠীন ও প্রথমে ফ্লোর চিপিং কর এবং ধুয়ে পরিস্কার করে পাতলা সিমেন্ট গ্রাউটিং করতে হবে পুরোনো ফ্লোর হলে।
• যদি হোমোজিনিয়াস টাইলস হয় তবে টাইলস ভেজানোর দরকার নেই
• শুকনা মশলা 1:3 রেশিওতে বানাতে হয় কারন ফ্লোরে অনেক কিছুর লোড পড়ে ও ব্যবহার হয় বেশী ।
• যথারিতি স্যনিটারী লাইন যদি নীচ দিয়ে যায় তবে লিকেজ ও প্রেসার চেক কর এর পর লেভেল পায়া কর।
• দরজার নীচে যেন 1/2" ক্লিয়ার থাকে সে মত পায়া হবে এর পর শুকনা মশলা ফ্লোরে ছড়িয়ে দিয়ে এর উপর টাইলস বসিয়ে লেভেল কর প্রয়োজন মত উঠানো, নামানো, সরানো যা প্রয়োজন করবে এর পর লেভেল ওকে হলে টাইলস সরিয়ে সিমেন্ট পানি মিশ্রিত গ্রাউটিং শুকনা মসলার উপর দিয়ে ঢেলে ভেজা বানাইয়ে নিয়ে মাঝে মাঝে কর্নি দিয়ে উক্ত মসলা কেটে কেটে রাফ করে দিবে এর পর টাইলস বসাতে হবে, প্রয়োজন মত রাবার হেমার দিয়ে হালকা হিট কর এবং লেভেল ফাইনাল কর ঠিক আগের নিয়মে ফাকা, পরিস্কার, কিউরিংকরতে হবে।
• সব টাইলস যেন এক লাইনে থাকে শর্টপিস যেন দৃষ্টি কটু না লাগে এরুপ ব্যবহার করবে আর বাথরুম হলে স্লোপ দিতে হবে খুব ক্লোজ করে ধর 5 ' এ 1"।
• ফ্লোর টাইলস এর মসলার পুরুত্ব ফ্লোর লেভেলের উপর নির্ভর করবে তাই ছাদ ঢালাইয়ের সময় ই ছাদের টপ লেভেল সমান রাখতে হবে নতুবা টাইলস করার সময় মসলার পুরুত্ব বেড়ে যাবে এতে লোড ও নির্মান ব্যয় বেড়ে যাবে
• 1 থেকে 1.5" পুরুত্ব ফ্লোরের ক্ষেত্রে এলাওবেল।
• বাথরুম কিচেনের বেলায় কমোডের অংশ,ওয়েষ্ট ওয়াটার পাইপের জায়গা,ফিটিংসের,ও হাউস, বার্নার স্ল্যাব এর জায়গায় টাইলস লাগাতে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে আর কোনার টাইলস জয়েন্টে দুটো টাইলস আর সাইড গুলো V শেইপে কেটে নেবে একে মুখোমুখি মিলে যাবে একে টাইলসের চোজ করা বলে।

# Tiles কাজের পূর্বে করনীয়:-
===========================
# Checking:-
প্রথমেই চেক করে নিতে হবে Sanitary, Electric, Gas line Wearing, TV/ Internet Line, Door Frame ইত্যাদির কাজ শেষ হয়েছে কিনা কিংবা কোন সমস্যা রয়েছে কিনা?

# Cleaning:-
এরপর বাসুলা [Axe] দিয়ে চিপিং করে ফ্লোর থেকে সকল আগলা/ লুজ ময়লা তুলে ফেলে Wire Brush ও ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে। বিশেষ করে স্কার্টিং/ ওয়াল টাইল লাগানোর পূর্বে দেওয়াল থেকে শ্যাওলা বা লুজ মর্টার ফেলে দিয়ে পানি সহকারে তারের ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে।

Spraying:-
টাইলের কাজ শুরুর একদিন পূর্বে ফ্লোর কিংবা ওয়ালকে পর্যাপ্ত #ভিজিয়ে নিতে হবে যেন তা মর্টারের পানিকে শুষে নিতে না পারে। তবে Wall কে হালকা কিছুটা শুষ্ক রাখতে হবে, না হলে লাগানোর সময় টাইলস ধরে রাখা কষ্টকর হবে।
-----------------------------------------------------------------------------

# কার্যপদ্ধতি:-
===========================
# Leveling:-
• √Stair/ Lift এর ফ্লোর থেকে লেভেল পাইপ/ লেভেল মেশিনের সাহায্যে Unit/ Flat এর রুমগুলোতে লেভেল মার্ক করে নিতে হবে, তারপর কোন রুমে কতটুকু মর্টার লাগবে তা চেক করে নিয়ে সব রুমের জন্য একটা টপ লেভেল ফিক্সড করে নিতে হবে যেন ঐ নির্দিষ্ট লেভেল থেকে সব জায়গাতে টাইলসের টপ পর্যন্ত একই মাপ পাওয়া যায়।
• √ Wall Tiles এর ক্ষেত্রে ওয়াল এর টপ থেকে মেপে নিয়ে লেভেলিং এবং উলম্ব শল করে নিচ থেকে কাজ শুরু করতে হবে, শর্টপিচ লাগলে তা নিচেই দিতে হবে।
• √Door Seal দিয়ে থাকলে Individual Flat wise লেভেল নিতে পারেন, তবে Toilet এর লেভেল রুম থেকে আলাদা হবে, দরজার পাল্লার নিচে যেন কমপক্ষে 1/2” ফাঁকা থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

# Mortar:-
Tiles তিন ভাবে লাগানো যায়;
• √Tiles Adhesive: বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির রেডিমেইড এ্যাডহেসিভ পাওয়া যায়, বাহিরের কান্ট্রিগুলোতে সাধারনত এই এ্যাডহেসিভ দিয়েই টাইলস লাগানো হয়।
• √ Cement Concrete: আমাদের দেশে সাধারনত এই পদ্ধতিতে টাইল লাগানো হয়না, এই পদ্ধতিতে বিদ্যমান ফ্লোরের উপর হালকা পূরুত্বের সিমেন্ট কংক্রিটের মসলার [ড্রাই টাইপের] উপর টাইলস বসানো হয়।
• √Cement Sand Mortar: যা আমরা সবচেয়ে বেশি করে থাকি, মসলা মূলত হওয়া দরকার প্লাস্টারের মত, তবে আমাদের দেশের মিস্ত্রিরা নরম মর্টার দিয় কাজ করতে অভ্যস্ত না বিধায় মসলাকে কিছুটা ড্রাই রাখে [দোরসা টাইপ]। Wall Tiles এর জন্য অবশ্য মসলা পেষ্ট হওয়া বাধ্যতামূলক [প্লাস্টারের মত]।

# Mixing Ratio:-
• √ Floor Tiles 1:4 থেকে 1:3
• √ Wall Tiles 1:3/ থেকে 1:2

# Mortar Laying:-
• মর্টার যেভাবেই বানানো হোকনা কেন, খেয়াল রাখতে হবে ড্রাই সিমেন্ট স্যান্ড মর্টারের সব জায়গাতে যেন পানি পৌঁছাতে পারে। মসলা লেইং এর পূ্র্বে ফ্লোরের উপর এবং লেভেল অনুযায়ী মসলা ড্রেসিং এর পর মসলার উপর সিমেন্টের তরল গ্রাউটিং ঢেলে দিতে হবে [যতটুকু এরিয়াতে মর্টার ফেলা হবে], তার উপর টাইলস বসাতে হবে।
• ওয়াল টাইলসের জন্য মসলাকে প্লাস্টারের প্রস্তুত করে টাইলসের পিছনে লেপে দিয়ে ওয়ালের সাথে আটকাতে হবে, বিশেষ বিশেষ ভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে টাইলসের পিছনে যেন ফাঁকা না থাকে। ফাঁকা আছে কিনা বুঝার জন্য টাইলসের উপর হালকা #আঘাত করুন, ভয়েড থাকলে বুঝতে পারবেন।
• মর্টারের থিকনেস সাধারণত 3/4” থেকে 1” হয়ে থাকে, তবে লেভেল/স্লোপ কিংবা বড় আকারের টাইলসের জন্য সেটা 1.5” ও হতে পারে, তবে ফ্লোরে বেশি পুরুত্বের ক্ষেত্রে প্যাটেন্ট স্টোন কাস্টিং করে নেওয়াই উত্তম।

# Tiles Laying:-
• প্রথমে রুমের চার কর্নারে চারটি পায়া [Temporary Pier] করে নিতে হবে, এবার পায়াগুলোর লেভেলের সাথে মিল রেখে যে কোন এক সাইড থেকে টাইস লাগিয়ে আসতে হবে, শর্টপিচ লাগলে সেটা প্রান্তের দিকে লাগাতে হবে। সবচেয়ে ভাল হবে যদি রুমের তিনদিকেই এক সারি টাইল বসিয়ে সে অনুযায়ী মাঝের টাইলগুলো বসানো যায়। খেয়াল রাখতে হবে প্রতি টাইলসের মাঝে যেন 2/3 মিলির বেশি গ্যাপ না থাকে এবং টাইলের কর্নারগুলো একই লেভেলে থাকে।
• Wall Tiles এর বেলায় প্রথমে উলম্বভাবে শল ও লেভেলিং করে নিচে এক লাইন টাইলস বসিয়ে নিতে হবে, এবার পায়ার সাথে মিল রেখে ধীরে ধীরে উপরের দিকে উঠতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে টাইসগুলো যেন Horizontal ভাবে লেভেলে থাকে, কর্নারের টাইলকে ভি-কাটিং [চোস] করে লাগাতে হবে। কাজ শেষে টাইলসগুলোকে পরিষ্কার করে মুছে ফেলতে হবে।
• সিরামিক টাইলসকে অবশ্যই কাজের পূর্বে পর্যাপ্ত ভিজিয়ে নিতে হবে।

# Curing:-
কিউরিং এর ক্ষেত্রে ভাল হবে যদি ফ্লোরকে পানিতে ডুবিয়ে কিউরিং করা যায়, কারণ টাইলস পানি অপ্রবেশ্য বিধায় সহজে শোষন করে না, সে ক্ষেত্রে জয়েন্টগুলোতে এমনভাবে পানি মারতে হবে যেন তা ভিতরে পৌঁছে।

# Pudding:-
কিউরিং পিরিয়ড শেষ হলে তা শুকানোর পর জয়েন্টগুলো ভালভাবে পরিষ্কার করে টাইলসের কালারের সাথে মিল রেখে পুডিং করে দিতে হবে এবং পুডিং করার পর তাও কিউরিং করতে হবে। পুডিং কে ভালভাবে চেপে লাগাতে হবে যেন ভিতরে ঢুকতে পারে।

# Cleaning:-
সব শেষে রুমের রং এর কাজ শেষ হলে Flat এ উঠার দুই এক দিন পুর্বে Hessian Cloth, Vixol দিয়ে ফ্লোরকে ধুয়ে পরিষ্কার করে তালা মেরে দিতে হবে, এবার আপনার কাজ শেষ।

# কিছু সতর্কতা:-
===========================
# গ্রাউটিং:-
যদি আপনি ড্রাই মর্টার ব্যবহার করেন তবে খেয়াল রাখবেন মসলাকে ড্রেসিং করার পর এর উপর যে তরল #গ্রাউটিং দেওয়া হয় তা যেন মর্টারের সর্বত্র প্রবেশ করতে পারে। মসলার উপরের গ্রাউটিং নিচে পৌঁছানোর জন্য ড্রাই মর্টারগুলোকে কিছুটা গর্ত/ কেটে দিন, তবে লক্ষ্য রাখবেন ভিতরে যেন #ভয়েড না থাকে।

# টাইলস সারফেস লেভেলিং:-
===============
# টাইলের উচুনিচু চেক করার জন্য চার টাইলসের জয়েন্টে হাত দিয়ে বুঝার চেষ্টা করুন কোন টাইলস উচু কিংবা নিচু রয়েছে কিনা?

# জয়েন্টে Up/Down বুঝার জন্য একটি টাইলসকে যে কোন জয়েন্টে খাড়াভাবে ধরুন, দেখুন তা দুই পাশ্বের দুটো টাইলের সাথে মিলে যাচ্ছে কিনা, কিংবা একটির সাথে মিললে অন্যটি থেকে ফাঁকা থাকে কিনা?
√টাইলেস লেভেল আপনি স্প্রিরিট লেভেল দিয়েও চেক করতে পারেন, বড় স্পিরিট লেভেল হলে একাধিক টাইলের লেভেল এক সাথে চেক করতে পারেন।

# যদি আপনি বৃহৎ এরিয়ার লেভেল চেক করতে চান তবে গজ [থাই এ্যালুমিনিয়াম সেকশন] বা সূতা দিয়ে চেক করতে পারেন। 7 ফিটের একটি স্ট্রেট গজ নিন, তাকে ফ্লোরের সাথে চেপে ধরুন, ফ্লোর যদি লেভেলে থাকে তবে গজের নিচে কোথাও ফাঁকা থাকবেনা, যদি ফাঁকা থাকে তবে বুঝবেন টাইল ঠিকভাবে বসানো হয় নি।

# সূতা দিয়ে চেক করতে চাইলে 10 ফুট দূরুত্বের দুটো টাইলস নির্ধারন করুন, এবার সেই দুই টাইলস থেকে সূতাটিকে 5 মিলি উপরে তুলে টেনে ধরে রাখুন, নিজেই দেখতে পাবেন কোনটা উচু আর কোনটা উচু।

# স্লোপ:-
রুমের ভিতরে স্লোপের প্রয়োজন নেই, তবে বারান্দা এবং টয়লেটে কমপক্ষে 1/2” স্লোপ রাখুন যাতে খুব সহজেই পানি চলে যেতে পারে, সর্বপরি এগুলো যেন সবসময় শুষ্ক থাকে।

# অপচয়:- টাইলের কাজে ওয়েস্টেজ একটু বেশিই হয়, তবে সেটাকে 8% এর মধ্যে রাখতে চেষ্টা করবেন।

# কাজ চলাকালীন সময়ে টাইলসের উপর দিয়ে হাটা যাবে না, টাইলসকে #রাবারের হ্যামার ছাড়া আঘাত করতে দিবেন না। ওয়াল টাইসের ক্ষেত্রে লেভেল চেক করুন যেন, চারদিকের টাইলস একই লেভেলে থাকে, সর্বপরি টপে 1/2” বেশি গ্যাপ এভয়েড করুন।

#কালারে ভিন্নতা থাকলে তা আলাদা করুন, কাটিং এর জন্য Tiles Cutter মেশিন ব্যবহার করুন।

25/03/2024

08. Mud and Clay:
===========================
মৃত্তিকা, দোআঁশ, পলি বা জলের সাথে কাদামৃত্তিকার মিশ্রণ হিসাবে কাদাকে সংজ্ঞায়িত করা হয়। এটি সাধারণত নদী বা জলের উৎসের কাছাকাছি বৃষ্টিপাতের পরে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হয়। কিছুক্ষণ পর কাদা শক্ত হয়ে কাদাপাথর তৈরি করে।

একটি বিল্ডিং উপাদান হিসাবে কাদা একটি আধা-তরল উপাদান যা আবরণ, সীল, এবং উপকরণ মেনে ব্যবহার করা যেতে পারে। কাদাকে এর বিভিন্ন উপাদান যেমন স্লারি, মর্টার, প্লাস্টার, স্টুকো এবং কংক্রিট দ্বারা বিভিন্ন নামে উল্লেখ করা হয়।

সাধারণত, পাথর, নুড়ি, খড়, চুন এবং বিটুমিনের সংযোজন সহ মৃত্তিকা ও জলের মিশ্রণ সাধারণত দেয়াল, মেঝে এবং এমনকি ছাদ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। অতীতে, কাদা সাধারণত ভবনের দেয়াল প্লাস্টার করতে, ভবনের দেয়াল তৈরি করতে এবং মৃত্তিকার ইট তৈরিতে ব্যবহার করা হতো।

বিটুমিন বা সিমেন্টের মতো কিছু বাইন্ডারের সাথে কাদার মিশ্রণকে স্থিতিশীল কাদা বলে। এটি কাদা তৈরি, কংক্রিট এবং মৃত্তিকা সিমেন্ট নামেও পরিচিত।

# কাদা মৃত্তিকার ব্যবহার:
• মৃত্তিকার ইট
• কাদা প্লাস্টার
• কাদা মর্টার
• কাদা কংক্রিট

# কাদামৃত্তিকার ইট এবং বিল্ডিং উপকরণের প্রকারের ব্লক (Clay Bricks and Blocks Types of Building Materials) :
মৃত্তিকার ইটগুলো মৃত্তিকার ইট নামে পরিচিত। এটিকে অ্যাডোবও বলা হয়। কাদা বা কাদামৃত্তিকা হল জলের মিশ্রণ এবং ছাঁচে রাখা এবং তারপরে খোলা বাতাসে শুকানোর অনুমতি দেয়। যেহেতু বাইন্ডারের খড় কখনও কখনও ইটের মধ্যে থাকে। এটি তাদের একটি সংমিশ্রণে পরিণত করে, যদি খড় ব্যবহার না করে তবে ইট ভাঙ্গা সহজ, খড়ের কারণে ইটগুলি পুরো ইট জুড়ে শক্তি পুনরায় বিতরণ করেছে এবং ভাঙার সম্ভাবনা হ্রাস করেছে। যে বিল্ডিংটিতে এই ধরনের ইট ব্যবহার করা হয়েছে তা সাধারণত ভূগর্ভস্থ পানি থেকে সুরক্ষিত থাকে।

● কাদা বা মৃত্তিকার ইট সাধারণত বাড়ি বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাঠামো তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

24/03/2024

07. Stone: (Part 02)
===========================
# সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যাটেরিয়ালস এর পাথরের নাম ও ব্যবহার
1) গ্রানাইট: কারুকার্য, ইমারত, ব্রিজ, পিলার, রেলপথের ব্যালাস্ট, রাস্তার খোয়া।
2) ট্রাপ ও ব্যাসাল্ট: ভিত্তি নির্মাণ, কংক্রিটের খোঁয়া, কৃত্রিম পাথর তৈরি, পেভিং।
3) বেলে পাথর: ইমারত নির্মাণ, রাস্তার খোয়া, যাঁতা ও শানপাথর।
4) চুনাপাথর: চুন ও সিমেন্ট তৈরি, রাস্তার খোয়া, রেলপথের ব্যালাস্ট, ইমারত।
5) শেল: খেলনা, সিরামিক।
6) নিস ও সিস্ট: পেভিং এর কাজ, গাঁথুনির কাজ।
7) ল্যাটারাইট: রাস্তার খোয়া, ছোট খাটো নির্মাণ।
8) কোয়ার্টজাইট: ঠেস দেয়াল, এপ্রোন, রিভিটমেন্ট, খোয়া।
9) স্লেট: ছাউনির কাজ, টালি, পেভিং ব্লক, শেলফ, রাস্তার খোয়া, বৈদ্যুতিক সুইচবোর্ড ইত্যাদি ।
10) মার্বেল: অলঙ্কারমূলক কাজ, বৈদ্যুতিক সুইচবোর্ড, শেলফ, মেঝে, কৃত্রিম পাথর তৈরি ইত্যাদি।

নির্মাণকাজের জন্য ভূপৃষ্ঠের উপযোগী শিলা হতে পাথর সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। যে সকল শিলা (Rocks) হতে উত্তম নির্মাণ পাথর (Stone) পাওয়া যায় এবং পাথর উত্তোলন, সংগ্রহ, স্তূপীকৃতকরণ, পরিবহন ইত্যাদি সার্বিক ব্যবস্থাদিসহ এ সকল শিলা প্রাপ্তির স্থানকে কোয়ারি (Quarry) বা পাথর উত্তোলন কেন্দ্র বলা হয়। শিলা হতে পাথর প্রাপ্তির জন্য প্রয়োগকৃত প্রক্রিয়াকে কোয়ারিং বা পাথর উত্তোলন প্রক্রিয়া (Quarrying) বলা হয়।

# পাথর উত্তোলন বা কোয়ারিং-এর কাজ সাধারণত চারটি পদ্ধতিতে করা হয়ে থাকে, যথা-
(i) খনন পদ্ধতি (By digging),
(ii) তাপ পদ্ধতি (By heating),
(iii) ওয়েজিং পদ্ধতি (By wedging)
(iv) বিস্ফোরণ পদ্ধতি (By blasting) ।

# কৃত্রিম পাথরঃ দেশের সর্বত্র সুলভে শক্ত ও শক্তিশালী টেকসই প্রাকৃতিক পাথর পাওয়া যায় না। তাই কৃত্রিম উপায়ে তৈ পাথরের সাহায্যে এ অভাব পূরণ করা হয়। বিভিন্ন নির্মাণ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিভিন্ন আকার আকৃতি বিশিষ্ট বিভিন্ন রং ও ডিজাইনের কৃষ্ণি পাথর বাজারজাত করছে। কিন্তু এ সকল কৃত্রিম পাথরের মূল্য অধিক। 1 ভাগ 1.25 সেমি হতে 2.5 সেমি আকারের প্রাকৃতির পাছা কণার সাথে, 1.25 সেমি নিম্ন আকারের 1 ভাগ পাথর দানা মিশিয়ে এর সাথে ঈন্সিত রঙের সিমেন্টের সংমিশ্রণে কৃত্রিম পাথর তৈরি করা হয়। সাধারণত 3 ভাগ মিশ্রিত পাথর কণার সাথে । ভাগ সিমেন্ট মিশানো হয়। মিশ্রণকে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রে বা হাতে টঈদিয় আকারের কাঠ বা লোহার ফর্মায় ঢালাই করে কৃত্রিম পাথর তৈরি করা হয় । নিচে কয়েকটি কৃত্রিম পাথরের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেয়া হলো-

1. র‍্যানসামের পাথর (Ransome's stone) : সামান্য পরিমাণ চক বা গুঁড়া পাথরের সঙ্গে সিলিকেট অব সোডাসহ কিছু শুকনা বালি মিশিয়ে এ পাথর তৈরি করা হয়। উপরোক্ত উপাদানসমূহ একত্রিত করে এক সঙ্গে মসলার কলে (Mortar mill) ভালোভাবে মন্থন করে ঈন্সিত আকারের ফর্মায় সজোরে নিক্ষেপ করে (যেন ফর্মার কোনো অংশে ফাঁকা না থাকে) ফর্মার উপরিতল সুন্দরভাবে সমান করে দেয়া হয় । ফর্মা হতে বের করে ব্লককে ঠান্ডা ক্যালসিয়াম ক্লোরাইডের দ্রবণে ভিজিয়ে পরে ফুটন্ত ক্যালসিয়াম ক্লোরাইডের দ্রবণে ডুবিয়ে রাখা হয়। ফলে এগুলো শক্ত হয় এবং অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম ক্লোরাইডের দ্রবণ ধৌত করে ফেলা হয়। নতুবা বুঝে শ্যাওলাবরণ পড়তে পারে। রেনসামের পাথর শক্ত ও টেকসই। তবে বর্তমানে এগুলোর ব্যবহার তেমন একটা দেখা যায় না ।

2. ভিক্টোরিয়া পাথর (Victoria stone) : গ্রানাইট বা গ্রানাইট জাতীয় পাথরের মিহি গুঁড়া ও সিমেন্ট (1 : 4) সহযোগে এ পাথর তৈরি করা হয়। ফর্মায় তৈরি ব্লকগুলো সোডিয়াম সিলিকেটের দ্রবণে কয়েক সপ্তাহ ভিজিয়ে রাখলে শক্ত হয়ে যায়। এ পাথর বেশ মজবুত ও টেকসই। লিন্টেল, পেন্ডিং ব্লক ইত্যাদি নির্মাণের জন্য এগুলো বেশ উপযোগী ।

3. চালের পাথর (Chance's stone) : ব্যাসাল্ট জাতীয় পাথর বিগলিত করে ঈন্সিত আকারের ফর্মায় ঢালাই করে এ পাথর তৈরি করা হয়। এ পাথর স্বচ্ছ ও ক্ষণভঙ্গুর।
4. গার্লিক পাথর বা ভারতীয় পেটেন্ট পাথরঃ সিমেন্ট ও লৌহমল একটি নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশিয়ে এ পাথর স্বত্বাধিকারী তার নিয়মে তৈরি করে । এগুলো কাস্ট-ইন-সিটু (যথাস্থানে ঢালাই), ড্রেন বা টালি পাথররূপে প্রাগ ঢালাই করা হয়।
5. তারাজু এবং মোজাইক পাথর (Terrazzo and Mosaic stone) : 3-6 মিমি আকারের এক অংশ মার্বেল পাথরের ছোট ছোট দানার সাথে এক অংশ মার্বেল পাউডার ও সাদা বা রঙিন সিমেন্ট অর্থাৎ পাথর দানা, পাউডার ও সিমেন্ট 28181 অনুপাতে মিশিয়ে পূর্ব-প্রস্তুতকৃত 19 মিমি পুরু সিমেন্ট কংক্রিট মেঝের উপর ঢালাই করে দেয়া হয়। এগুলোই তারাজু। আর যদি প্রাগ ঢালাইকৃত টালি বা স্ল্যাব আকারে তৈরি ব্লকের ব্যবহার করা হয়, তখন এদেরকে মোজাইক বলা হয়। উভয় ক্ষেত্রেই মেঝে শক্ত হওয়ার পর শান পাথর দিয়ে ঘষে পলিশ করা হয়।

# কৃত্রিম পাথরের সুবিধাঃ
a. এগুলোকে ঈন্সিত আকার আকৃতিতে রং ও ডিজাইনে তৈরি করা যায় ।
b. প্রয়োজনীয় শক্তি ও স্থায়িত্বশীলতার জন্য অনুপাত নিয়ন্ত্রণ ও রিইনফোর্সমেন্টের ব্যবহার করা যায় ।
c. এগুলোকে সহজেই অলংকারমূলক ফর্মায় ঢালাই করা যায়।
d. এগুলোতে যে-কোনো ফিটিং লাগান সহজ। কেননা ঢালাইকালে অথবা পূর্ণ জমাটবদ্ধ হবার পূর্বে এগুলোকে কাটা, ছিগ্র করা সহজ।

# কৃত্রিম পাথরের সীমাবদ্ধতা :
a. এগুলোর তৈরি খরচ অধিক।
b. দক্ষ কারিগরের দরকার।
c. বিভিন্ন উপাদানের সংগ্রহ, সংমিশ্রণ, ঢালাই, জমাটবাঁধা ইত্যাদিতে সময় অধিক লাগে ।
d. বাজারজাত কৃত্রিম পাথর স্থানান্তরে ভেঙে যেতে পারে।

# কৃত্রিম পাথরের ব্যবহারঃ ঘরের মেঝে; দরজা জানালার সিলে; আলমারী, টেবিল, ইত্যাদির সম্মুখ পৃষ্ঠে; লিন্টেলে; পেডিং ব্লকে টালি হিসেবে; গোসলখানার মেঝে বা দেওয়ালে, সিঁড়িতে ও রেলিং এ কৃত্রিম পাথর ব্যবহার করা হয়।

# উত্তম নির্মাণ পাথরের বৈশিষ্ট্যসমূহ (Characteristics of good stones for construction) : নির্মাণকাজে ব্যবহারোপযোগী উত্তম পাথরের গড়ন ও গঠনশৈলী নিখুঁত হবে। এর পর্যাপ্ত কাঠিন্য, ঘাতসহনীয়তা, শক্তি, ক্ষয়রোধ ক্ষমতা, আগুন-বিদ্যুৎ- তাপরোধক ক্ষমতা ও কার্য সুবিধা থাকবে এবং তরল শোষণের ক্ষমতা খুবই নগণ্য হবে। এগুলোতে ছিদ্র খুবই কম থাকবে এবং অত্যধিক ভারী হবে না। এগুলো আকর্ষণীয় বর্ণের ও সৌন্দর্যবর্ধক হবে।

# নির্মাণকার্যে ব্যবহৃত উত্তম পাথরের বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে দেয়া হলো-
===========================
1. পাথরের গঠনশৈলী (Structure of stones): পাথরের উৎপত্তিতে যে প্রক্রিয়ায় পাথরের কণাগুলো সন্নিবেশিত হয়, ঐ প্রক্রিয়ার উপর পাথরের গঠনশৈলী নির্ভর করে। পাথরে তিন ধরনের গঠনশৈলী পরিলক্ষিত হয়, যথা-
a) অন্তরিত (Unstratified)
b) স্তরিত (Stratified)
c) ভাঁজকৃত বা বলিত (Foliated)।

গলিত লাভা ঠান্ডা হয়ে আগ্নেয় পাথরের সৃষ্টি করে। এ জাতীয় পাথরে কোনো স্তর থাকে না। তাই এগুলো নির্মাণকার্যের জন্য সর্বাধিক উপযোগী। পাললিক পাথর স্তরে স্তরে জমা হয়ে সৃষ্টি হয় বিধায় এগুলোর গঠনশৈলী স্তরিত। এদেরকে ফাটল তল বরাবর (Planes of cleavage) পরতে পরতে (Lamina) বিভক্ত করা সহজসাধ্য। রূপান্তরিত পাথরের গঠনশৈলী বলিত বা ভাঁজকৃত। যদিও রূপান্তরিত পাথরে স্তর দেখা যায়, কিন্তু এ ওর সর্বত্র সমান নয়। পাললিক পাথর শক্ত এবং স্থায়িত্বশীল নয়। তবে রূপান্তরিত পাথর আগ্নেয় পাথরের ন্যায় শক্ত এবং স্থায়িত্বশীল।

2. পাথরের গ্রন্থন বা গ্রন্থনশৈলী (Texture of stone) : পাথরের উপাদানসমূহের আকার-আকৃতি ও সন্নিবেশকে পাথরের গ্রথন (texture) বলা হয়। পাথরের গ্রখনের উপর এর শক্ততা (Hardness) নির্ভর করে। ঠাসা দানায় সুসংবদ্ধ গ্রন্থনের সমসত্ত্ব পাথরে আবহাওয়ার প্রতিকূলতা ক্ষতিসাধন করতে পারে না। সূক্ষ্মদানায় দৃঢ়ভাবে গঠিত পাথর বেশ স্থায়িত্বশীল এবং নির্মাণের জন্য উপযোগী। পাথরের ভগ্নপৃষ্ঠ দেখে পাথরের গ্রথন বুঝা যায়। দানাদার পাথরের ভগ্নতল সমান এবং অদানাদার পাথরের ভগ্নতল অসমান। দানাদার প্রথনের পাথর ইমারতের জন্য এবং অদানাদার এথনের পাথর রাস্তা নির্মাণের জন্য উপযোগী।

3. সচ্ছিদ্রতা ও শোষ্যতা (Porosity and absorption) : কোনো পাথরের আয়তনের সাথে এর অভ্যন্তরস্থ ছিদ্রের আয়তনের অনুপাতের শতকরা হারকে সচ্ছিদ্রতা বা পরোসিটি বলা হয়। ছিদ্রময় পাথর দুর্বল। বহিঃপৃষ্ঠের দেওয়ালে ছিদ্রময় পাথর ব্যবহার করলে বৃষ্টির পানি রাসায়নিকভাবে সক্রিয় হয়ে পাথরে বিযোজন ও বিভাজন ঘটায়। যখন পাথর পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয় তখন ছিদ্রময় পাথর অধিক পানি শোষণ করে। মার্বেলের ন্যায় শক্ত ও শক্তিশালী পাথরও প্রায় 1% পানি শোষণ করে। অপরপক্ষে, বেলেপাথর প্রায় 20% পানি শোষণ করে। তাই সহজেই বলা যায়, বেলেপাথর দুর্বল পাথর। শীতপ্রধান অঞ্চলে পাথরের ছিদ্রে জমা পানি বরফ হয়ে আয়তনে বৃদ্ধি পায়। ফলে অভ্যন্তরস্থ চাপে পাথর বিভাজিত হয়ে ফাটল সৃষ্টি করে। হাইড্রোলিক স্ট্রাকচার-এর ক্ষেত্রে ছিদ্রময় পাথর ব্যবহার করা অনুচিত।

4. আপেক্ষিক গুরুত্ব ও ঘনত্ব (Specific gravity & Density) : পাথরের মোট ওজনকে তার মোট আয়তন দিয়ে ভাগ করলে ঘনত্ব পাওয়া যায়। অধিক ঘনত্বের পাথরের আপেক্ষিক গুরুত্বও অধিক হয় এবং শক্তিও অধিক হয়। অপেক্ষাকৃত অধিক ঘনত্বের দৃঢ় ও সুসংবদ্ধ পাথরের আপেক্ষিক গুরুত্ব 2.7 হতে 2.8 এবং অসংবদ্ধ ঢিলা পাথরের আপেক্ষিক গুরুত্ব 2.4 এর মতো। ভারী পাথর ভিত, বাঁধ, ঠেস দেওয়াল, জেটি, ডকইয়ার্ড ইত্যাদির কাজে এবং হালকা পাথর খিলান ও অলঙ্কারমূলক কাজে ব্যবহার
করা হয়।

5. পাথরের কাঠিন্য, ঘাতসহন ক্ষমতা ও শক্তি (Hardness, Toughness & Strength of stone) : যে পাথর দ্বারা অন্য পাথরের উপর আঁচড় বা দাগকাটা যায়, তার কাঠিন্য অধিক। যেমন- জিপসাম পাথর দিয়ে ট্যাঙ্ক পাথরে আঁচড় কাটা যায়, তাই জিপসামের কাঠিন্য ট্যাঙ্ক-এর চেয়ে বেশি। যে সকল পাথর খুব ঠাসা স্ফটিক দানায় গঠিত সে সকল পাথর অপেক্ষাকৃত অধিক কাঠিন্যসম্পন্ন। মোহস্-এর কাঠিন্য স্কেলে (Moh's scale of hardness) কাঠিন্য পরিমাপ করা যেতে পারে (মূল-10 স্কেলে)। কাঠিন্যের নিম্ন হতে ঊর্ধ্বমুখী মানে বিভিন্ন পাথরের নাম (1) ট্যাঙ্ক, (2) জিপসাম, (3) ক্যালসাইট, (4) ফ্লোরাইট, (5) এপেটাইট, (6) ফেলসপার, (7) কোয়ার্টজ, (8) টেপাজ, (9) কোরানডাম, (10) হীরক। মোহস্-এর কাঠিন্য স্কেল 15 অনুসারে (1) ট্যাঙ্ক (2) জিপসাম (3) ক্যালসাইট (4) ফ্লোরাইট (5) এপেটাইট (6) ফেলস্পার (অর্থক্লেস) (7) ভেট্রিয়াস সিলিকা (8) কোয়ার্টজ (9) টেপাজ (10) গারনেট (11) ফিউজড্ জারকোনিয়া (12) ফিউজড্ অ্যালুমিনা (13) সিলিকন কার্বাইড (14) বোরন কার্বাইড (15) ডায়মন্ড। ট্যাঙ্ক এতই নরম যে, ট্যালকম পাউডার তৈরি করা যায় এবং হীরক এতই শক্ত যে, কাচ কাটা যায় । পাথরের ঘাতসহন ক্ষমতা এর কাঠিন্যের উপর নির্ভর করে না। যেমন- কোয়ার্টজ যদিও উচ্চ কাঠিন্যসম্পন্ন কিন্তু ঘাতসহলে খুবই অপারগ। যে পাথরের সাংঘর্ষিক বল (impact) প্রতিরোধক ক্ষমতা অধিক, তার ঘাতসহন ক্ষমতাও অধিক। অধিক ঘাতসহনীয় ক্ষমতাসম্পন্ন পাথরই উত্তম পাথর। কাঠামোতে ব্যবহৃত পাথরে প্রচুর চাপা বল কাজ করে। পাথরের গ্রথন, আপেক্ষিক গুরুত্ব, ঘনত্ব, সচ্ছিদ্রতা ইত্যাদির উপর পাথরের শক্তি নির্ভর করে । উত্তম গ্রথন, উচ্চমানের আপেক্ষিক গুরুত্ব ও নিম্নমানের ছিদ্রময়তা শক্তিশালী পাথরের বৈশিষ্ট্য।
# নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর উপর পাথরের কাঠিন্য, ঘাতসহন ক্ষমতা ও শক্তি নির্ভর করে—
• পাথরের উপাদানসমূহের দৃঢ়তা ও অনমনীয়তা বৈশিষ্ট্যের উপর ।
• উপাদানসমূহের আকার-আকৃতির উপর
• উপাদানসমূহে বিন্যস্ততার উপর (সমসত্ত্ব বিন্যাস, এলোমেলো বিন্যাস ইত্যাদি)।
• উপাদানসমূহের সংযুক্তির মাত্রার উপর ।
• জোড়ক উপাদানের গুণাগুণ ও পরিমাত্রার উপর।

6. পাথরের ক্ষয়রোধ ক্ষমতা (Abrasion resistance of stone) : যে পাথর ঘর্ষণে কম ক্ষয়প্রাপ্ত হয় তা রাস্তা তৈরির সামগ্রী হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ঘর্ষণের ফলে ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ার প্রবণতা রোধের গুণকে ক্ষয়রোধ ক্ষমতা নামে আখ্যায়িত করা হয়।

7. বাহ্যিক অবয়ব ও বর্ণ (Appearance and colour) : সাম্য বর্ণের পাথর সাধারণত শক্তিশালী ও স্থায়িত্বশীল। কারুকার্য, অলঙ্কারমূলক কাজ ও স্মৃতিসৌধ নির্মাণে পাথরের এ জাতীয় গুণ থাকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। পাথরের গায়ে লাল ও বাদামি বর্ণের ছাপ পাথরে অপদ্রব্যের উপস্থিতি নির্দেশ করে। এ অপদ্রব্যের মধ্যে আয়রন অক্সাইড ও ঢিলা-মৃত্তিকা কণাই প্রধান । পাথর অতিরিক্ত আয়রন অক্সাইডযুক্ত হলে, এগুলো বায়ুমণ্ডল হতে জলীয় অংশ বা অক্সিজেন গ্রহণ করে মরিচার সৃষ্টি করে এবং নির্মাণপৃষ্ঠ কুৎসিত ও কদাকার রূপ ধারণ করে।

8. তরলের প্রবেশ্যতা (Permeability) : পাথরের ভিতর দিয়ে তরল পদার্থের প্রবাহ দুর্বল পাথর নির্দেশ করে অর্থাৎ রন্ধ্রযুক্ত পাথরের ভিতর দিয়ে তরল পদার্থ প্রবাহিত হতে পারে। উত্তম পাথর তরল অপ্রবেশ্য হবে।

9. পাথরের তাপসহন ক্ষমতা (Fire resistance of stone) : পাথর তাপ কুপরিবাহী। তাপের প্রভাবে পাথর ও পাথর নির্মিত ইমারত বিযোজন ও বিভাজিত হতে পারে। 600° সে. হতে 800° সে. তাপমাত্রায় মার্বেল ও চুনাপাথর দগ্ধীভূত হয় এবং ক্যালসাইটে রূপ নেয়। ব্যাসাল্ট ও ট্রাপ উত্তম অগ্নিরোধক ক্ষমতাসম্পন্ন। কিন্তু গ্রানাইট তাপে খুব তাড়াতাড়ি বিযোজিত হয়। তাপ সহনের ক্ষেত্রে বেলেপাথর সর্বোত্তম ।

10. পাথরের তড়িৎ বহন ক্ষমতা (Electrical conductivity) : পাথরের তড়িৎ বহন ক্ষমতা খুবই কম কিন্তু ভিজা অবস্থায় অধিক মাত্রায় তড়িৎ বহন করতে পারে। ঠাসা গঠনের পাথরের পানি শোষ্যতার মাত্রা নগণ্য বিধায় এগুলো বিদ্যুৎ কুপরিবাহী। তাই বৈদ্যুতিক সুইচবোর্ড স্থাপনের স্থানে মার্বেল বা স্লেট পাথর ব্যবহার করা হয়।

11. পাথরের শোধন গুণ (Seasoning qualities) : পাথর খাদ (Quarry) হতে সদ্য আহরিত পাথরে জলীয়কণা থাকে। এটাকে পাথরের খনি রস বা খনি অম্বু (Quarry sap) বলা হয়। এ জলীয়কণা থাকা অবস্থায় পাথর অপেক্ষাকৃত কম শক্ত থাকে এবং কাটা বা সজ্জিতকরণ (Dressing) সহজ হয়। তাই পাথর খাদ হতে পাথর আহরণের সাথে সাথে প্রাথমিক সজ্জিতকরণের কাজ সমাপ্ত করতে হয় এবং চূড়ান্ত সজ্জিতকরণের কাজ ও পলিশকরণের (Polishing) কাজ ব্যবহার কালে করা যায়। তবে পাথর নির্মাণকাজে ব্যবহারের পূর্বে অবশ্যই শোধন বা রসমুক্ত করে নিতে হবে। এ কাজের জন্য পাথরকে উন্মুক্তভাবে ছয় মাস কাল রেখে দিলেই চলবে।

12. কাৰ্য সুবিধা (Working facility) : পাথর সজ্জিতকরণ একটি ব্যয়বহুল কাজ। শক্ত পাথর সজ্জিতকরণ খুবই কষ্টকর এবং এর খরচও পড়ে অধিক, অপরপক্ষে অপেক্ষাকৃত কম শক্ত পাথর সজ্জিতকরণে খরচের পরিমাণ কম।

13. পাথরের প্রাকৃতিক শয্যা (Natural bed of stone) : পাথর উৎপত্তিকালে যেভাবে অবস্থান করে সেরূপ অবস্থানকে পাথরের প্রাকৃতিক শয্যা বলা হয়। আগ্নেয় পাথরের প্রাকৃতিক বা স্বাভাবিক শয্যা চিহ্নিত করা কষ্টসাধ্য। পাললিক পাথরের স্তর দেখেই এগুলোর প্রাকৃতিক শয্যা বুঝা যায়। পাথর প্রাকৃতিক শয্যায় অবস্থানকালে সর্বাধিক চাপ সহ্য করতে পারে। তাই নির্মাণে পাথর স্থাপনকালে পাথরের প্রাকৃতিক শয্যার উপর বিশেষ নজর দেয়া আবশ্যক। প্রাকৃতিক শয্যার বিপরীতে চাপ প্রয়োগ করলে বা নির্মাণের চাপ পতিত হলে পাথর সহজেই ভেঙে যায়। তাই অবশ্যই লক্ষ রাখতে হবে, পাথরের উপর পতিত চাপ যেন প্রাকৃতিক শয্যার উপর লম্বভাবে পতিত হয়।

# পাথর সজ্জিতকরণ (Dressing of stones) : প্রাকৃতিক শিলাস্তর হতে আহরিত পাথর বিভিন্ন আকার-আকৃতির এবড়োথেবড়ো অবস্থায় পাওয়া যায়। এগুলো সরাসরি নির্মাণে ব্যবহার করা যায় না। তাই আহরণের সাথে সাথেই 'কোয়ারি স্যাপ' থাকা অবস্থায় চাহিদানুরূপ আকার-আকৃতিতে সজ্জিত (Dressing) করে নেয়া হয় এবং পৃষ্ঠদেশ ব্যবহার উপযোগী মসৃণতায় আনয়ন করা হয়। একে পাথর সজ্জিতকরণ (Dressing of stone) বলা হয়।

# নিম্নোক্ত উদ্দেশ্যে পাথর সজ্জিতকরণ বা ড্রেসিং করা হয়ে থাকে-
a. পাথরকে নির্মাণে ব্যবহার উপযোগী করার জন্য ।
b. নির্মাণে পাথরকে আকর্ষণীয় সুন্দর মনোরম দেখানোর জন্য ।
c. গাঁথুনিতে খাড়া জোড়া (Vertical joint) পরিহার করার জন্য।
d. নির্মাণের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য।
e. নির্মাণে ব্যবহারকালে সহজে নাড়াচাড়া ও যথাযথ স্থানে যথাযথভাবে স্থাপন করার জন্য ।
f. সুনির্দিষ্ট কাজে- কর্নিশ, স্ট্রিংকোর্স, সিল ইত্যাদি ব্যবহার করার জন্য।

# সাধারণত পাথর সজ্জিতকরণের মাধ্যমে নিম্নোক্ত রূপদান করা হয়ে থাকে-
=========================
a. হেডার (Header) : এগুলো মোটামুটি দীর্ঘ এবং আয়তাকার। এগুলো দেওয়ালের প্রস্থ বরাবরে সঠিক বন্ডে স্থাপন করা যায়।

b. রাবল (Rubble) : এগুলো সচরাচর কোনো নির্দিষ্ট আকৃতির হয় না। এগুলো দেওয়ালের অভ্যন্তর ও পশ্চাৎভাগে ব্যবহার করা হয়৷ ছোট ও চেপ্টা আকৃতির রাবলকে চিপস (Chips) বলা হয়ে থাকে।

c. খন্দকি (Khandki) : এগুলোর সম্মুখদিক আয়তাকার এবং ফেস স্টোন (Face stone) হিসাবে দেওয়ালে ব্যবহৃত হয়। এগুলোকে স্ট্রেচার (Stretcher)-ও বলা হয়।

d. কয়েন (Quion) : এগুলো দেয়ালে কোনায় ব্যবহার করা হয়। এগুলো দেয়ালের কোণে ব্যবহার উপযোগী করার জন্য সন্নিহিত দু'টি তলই সমকোণে মসৃণ করে নেয়া হয় ।

e. ব্লক পাথর (Block stone) : এগুলো আয়তাকার পাথর। এগুলো গাঁথুনি ও কারুকার্যে বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়।

f. ফ্ল্যাগ পাথর (Flagstone) : এগুলো কম পুরুত্বের স্ল্যাবের মতো। এগুলো রাস্তা ও মেঝে বাঁধাইয়ে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এগুলোকে টালি পাথরও বলা হয়ে থাকে।

g. স্টোন মেটাল (Stone metal): এগুলো টুকরা আকারের পাথর। এগুলো রেলপথে ব্যালাস্ট, কংক্রিটের অ্যাগ্রিগেট ও সড়কের খোয়া হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

# সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কর্মকাণ্ডে পাথরের ব্যবহার (Uses of stones in civil engineering fields) :
নির্মাণ প্রকৌশলীগণ নির্মাণের বিভিন্ন দিক চিন্তা করে পাথরকে নির্মাণে বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে থাকেন। সাধারণত পাথর নিম্নে বর্ণিত কার্যসমূহে ব্যবহৃত হয়—

A. সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কর্মকাণ্ডে সরাসরি ব্যবহারঃ
1. দেওয়াল, ভিত্তি, সুপার স্ট্রাকচার, কলাম ও পেডেস্টালে ।
2. ইমারতের অংশবিশেষে যেমন- লিন্টেল, আর্চ, কার্নিশ, কুপিং, বেড ব্লক, সিল, গ্রানাইট ও মার্বেলের স্ল্যাব হিসেবে।
3. চারুকার্য, শিল্পকর্মের সম্মুখ পৃষ্ঠে, অলঙ্কারমূলক কাজে ।
4. পেভিং-এর কাজে (ইমারত, রাস্তা ও ফুটপাত)।
5. ভারী নির্মাণে (ড্যাম, ব্রিজ, টাওয়ার, ঠেস দেওয়াল, গাইওয়াল ইত্যাদি)।
6. রোড মেটাল হিসেবে (ম্যাকাডাম রোড, বিটুমিনাস রোড ইত্যাদি)।
7. আর্দ্রতারোধী সামগ্রী হিসেবে (ডিপিসি তৈরি, রূফিং কাজ)।
8. কক্রিট তৈরিতে (সাধারণ ও আরসিসি কংক্রিটের খোয়া হিসেবে)।
9. ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাথরকণা বালির বিকল্প হিসেবে।
10. কৃত্রিম পাথর তৈরিতে (ফাঁকা বা সলিড ব্লক তৈরির ক্ষেত্রে)।
11. রেলওয়ের ব্যালাস্ট হিসেবে।

# সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কর্মকাণ্ডে পাথরের ব্যবহার:
নির্মাণ প্রকৌশলীগণ নির্মাণের বিভিন্ন দিক চিন্তা করে পাথরকে নির্মাণে বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে থাকেন।

(a) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কর্মকাণ্ডে সরাসরি পাথরের ব্যবহার:-
1. দেওয়াল, ভিত্তি, সুপার স্ট্রাকচার, কলাম ও পেডেস্টালে।
2. ইমারতের অংশবিশেষে যেমন-লিন্টেল, আর্চ, কার্নিশ, কুপিং, গ্রানাইট ও মার্বেলের স্লাব হিসাবে।
3. চারুকার্য, শিল্পকর্মের সন্মুখ পৃষ্ঠে ইত্যাদি।
4. পেভিং এর কাজে ইমারত, রাস্তা ও ফুটপাত।
5. ভারী নির্মাণে ড্যাম, ব্রিজ, টাওয়ার, ঠেস দেওয়াল ইত্যাদি।
6. রোড মেটাল হিসেবে ম্যাকাডাম রোড, বিটুমিনাস রোড।
7. ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাথরকণা বালির বিকল্প হিসেবে।
8. কৃত্রিম পাথর তৈরিতে ফাঁকা বা সলিড ব্লক তৈরির ক্ষেত্রে।
9. রেলওয়ের ব্যালাস্ট হিসেবে।

(b) শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার:-
1. সিমেন্ট উৎপাদন।
2. চুন উৎপাদন।
3. কাদাজাত সামগ্রী উৎপাদনে।
4. টেক্সটাইল ও গ্লাস শিল্পে।
5. লোহা প্রস্তুতকরণে।
6. ধাতর সামগ্রীর কারখানা ও সার কারখানায়।

# নিম্নের তালিকায় বিভিন্ন নির্মাণকাজের জন্য ব্যবহার উপযোগী পাথরের নাম এবং ব্যবহারের প্রধান কারণগুলো দেয়া হলো—
কাজের নাম ব্যবহারযোগ্য পাথরের নাম মন্তব্য
সাধারণ ইমারত, ভিত্তি, সুপার স্ট্রাকচার বেলেপাথর শক্ত, সুন্দর, ঈপ্সিত আকার-আকৃতিতে নেয়া সহজ বিধায়
টেবিল, কলাম, স্থাপত্য সৌন্দর্যমূলক কাজ, মার্বেল, বেলেপাথর (দৃঢ়াবদ্ধ) খোদাই কাজ ও অলঙ্কারমূলক কাজ মার্বেল, বেলেপাথর (দৃঢ়াবদ্ধ) শক্ত ও স্থায়িত্বশীল বিধায়
কলের চূর্ণকারী পাথর/শানের কাজ বেলেপাথর (মোটা দানা) অ্যাব্রেসিভ গুণসম্পন্ন বিধায় ছাউনির কাজ স্লেট অশোষ্য, বিদ্যুৎ অপরিবাহী পলিশ গ্রহণ করে, সুন্দর বিধায় রাবল ম্যাসনরি ট্রাপ, ব্যাসাল্ট, গ্রানাইট, বেলেপাথর আবহাওয়ার প্রতিক্রিয়ারোধী বিধায় ইমারত, ব্রিজ ইত্যাদির খিলানের কাজ মার্বেল, গ্রানাইট, বেলেপাথর স্থায়িত্বশীল, ওজন অপেক্ষাকৃত কম বিধায় বাঁধের কাজ, পোতাশ্রয়, ব্রিজ পিয়ার, উইয়ার ইত্যাদি স্লেট, গ্রানাইট, কোয়ার্টজাইট, নিস পানির ধাক্কা প্রতিরোধে সক্ষম, অত্যধিক শক্তিশালী বিধায় মেঝের কাজ মার্বেল, বেলেপাথর, গ্রানাইট সুন্দর, পলিশ গ্রহণ করে বিধায় ভিত্তির কংক্রিটের কাজ গ্রানাইট, ব্যাসাল্ট, ট্রাপ, কোয়ার্টজাইট শক্ত, স্থায়িত্বশীল, শক্তিশালী বিধায়
সুপারস্ট্রাকচারের কাজ শক্ত, স্থায়িত্বশীল বিধায়
রাস্তার কংক্রিটের কাজ নিস, ট্রাপ, স্লেট, গ্রানাইট ওয়্যার ও টিয়ার প্রতিরোধী, টাফ ও শক্ত বিধায়
রেলওয়ে ব্যালাস্ট, রোড মেটাল, কংক্রিটের কোয়ার্টজাইট, কোর্স অ্যাগ্রিগেট কোয়ার্টজাইট, গ্রানাইট, ল্যাটারাইট,
ট্রাপ শক্ত, টাফ, ওয়্যার ও টিয়ার-রোধী গুণসম্পন্ন বিধায়
ব্রিজের কাজ ব্যাসাল্ট ও স্লেট স্থায়িত্বশীল, শক্ত ও শক্তিশালী বিধায়
অগ্নিরোধী ইমারতে বেলেপাথর উচ্চমাত্রায় অগ্নিরোধী গুণ থাকায়
সমুদ্র পাড়স্থ দেওয়াল ও টাওয়ার গ্রানাইট ও ট্রাপ
শক্ত, শক্তিশালী, বড় ব্লক পাওয়া যায়, পানি ধাক্কা প্রতিহতে সক্ষম বিধায়
লিন্টেল ও ড্যাম্পপ্রুফ কোর্স গ্রানাইট, স্লেট, বেলেপাথর আর্দ্রতারোধক, অশোষ্য বিধায়
শিল্পকারখানার ইমারত গ্রানাইট, বেলেপাথর (দৃঢ়াবদ্ধ) অগ্নি ও অ্যাসিডরোধী গুণের জন্য
অন্তরক হিসাবে স্লেট, মার্বেল অশোষ্য, দৃঢ়াবদ্ধ, বিদ্যুৎ অপরিবাহী, উত্তম পলিশ গ্রহণ করে বিধায়।

# পাথরের পরীক্ষণ (Testing of stones) :
নির্মাণকার্যের জন্য পাথর চূড়ান্তভাবে নির্বাচনের পূর্বে পাথর সম্পর্কে সম্যক ধারণা নেয়া দরকার। তাই পাথরের গুণাবলি ও আবহাওয়ায় পাথরের উপর প্রতিক্রিয়া জানার জন্য পাথরের পরীক্ষণ আবশ্যক।

# এ পরীক্ষণ প্রক্রিয়াকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়, যথা-
a. মাঠে পরীক্ষা (Field test)
b. গবেষণাগারে পরীক্ষা (Laboratory test)।

A. মাঠে পরীক্ষা (Field test) : পাথরের মাঠে পরীক্ষাকার্য নিম্নলিখিত উপায়ে করা হয়-
=========================
1. ওজন পরীক্ষাঃ সম-আকারের ভিন্ন শ্রেণির দু'টি পাথরের টুকরা হাতে নিলে, যেটি অধিকতর ভারী অনূভূত হবে ঐ পাথরটিই ভালো, কেননা ভারী পাথরের গঠন দৃঢ় এবং ছিদ্রের পরিমাণ কম, ফলে ওজন বেশি।

2. পাথর ভেঙেঃ বিভিন্ন শ্রেণির পাথর ভাঙলে যেটি ভাঙতে অধিক শক্ত অনুভূত হবে, সেটিই ভাল। কেননা দৃঢ় গঠনের টেকসই পাথর ভাঙ্গার কাজ হালকা ফাঁপা পাথর ভাঙ্গার কাজ অপেক্ষা অধিক কষ্টসাধ্য।

3. বাহ্যিক দর্শনেঃ ভাঙা পাথরের ভাঙা পৃষ্ঠ দেখতে যদি সমতল হয় এবং দানাগুলো যদি স্পষ্ট দৃশ্য হয়, তবে ভালো পাথর বলে বিবেচিত হবে।

4. বর্ণের সাম্যতা পর্যবেক্ষণেঃ সাম্য বর্ণের পাথর অসাম্য বর্ণের পাথর অপেক্ষা শক্ত ও স্থায়ী ।

5. আঘাত করেঃ কোনো পাথরকে অন্য কোনো পাথর বা হাতুড়ির সাহায্যে আঘাত করলে ধাতব আঘাতের ন্যায় শব্দ হলে তা ভালো পাথর বুঝায় ।

6. ঘর্ষণ করেঃ নির্মাণকাজের কোনো পাথরকে অপর পাথর বা শক্ত কিছু দ্বারা ঘর্ষণ করলে যদি পাথরটি ক্ষয়প্রাপ্ত হয় তবে পাথরটি নির্মাণকাজের জন্য অনুপযোগী বলে বিবেচিত হবে। যে পাথর ঘর্ষণের ফলে অধিক ধুলাবালি সৃষ্টি করবে তাও নির্মাণের অনুপযোগী।

7. আঁচড় কেটেঃ কোনো পাথরে চাকু বা ছুরি দ্বারা আঁচড় দিলে যদি সহজেই দাগ পড়ে তবে তা নির্মাণের অনুপযোগী ।

8. পৃষ্ঠদেশ দর্শনেঃ যে পাথরের গায়ে ফাটল দেখা যায় ঐ পাথর নির্মাণকার্যে ব্যবহার অনুপযোগী ।

9. দীর্ঘদিনের উন্মুক্ত পাথর খাদ দর্শনে : দীর্ঘদিন উন্মুক্ত এরূপ পাথরের খাদ দেখে বুঝা যায় যে ঐ খাদের পাথরের উপর আবহাওয়ার প্রতিক্রিয়া কীরূপ ।

10. পুরাতন ইমারত দর্শনেঃ কোন শ্রেণির পাথরে নির্মিত পুরাতন ইমারত দেখেও ঐ শ্রেণির পাথর সম্পর্কে অবহিত হওয়া যায় ।

B. গবেষণাগারে পরীক্ষা (Laboratory test) : পাথরের গবেষণাগারে পরীক্ষা প্রধানত নিম্নলিখিত উপায়ে করা হয়-
========================
(a) ঘাতসহিষ্ণুতা পরীক্ষা (Attrition test) :
দু'মুখ বন্ধ একটি ইস্পাতের সিলিন্ডারে 5 সেমি হতে 7 সেমি আকারের পাথর খণ্ড ওজন নিয়ে ভর্তি করে এটাকে একটি অনুভূমিক অক্ষের সাথে 30° হেলানো অবস্থায় অক্ষদণ্ডের চতুর্দিকে 2000 বার ঘুরান হয়। ফলে পাথরের খণ্ডগুলো ঘূর্ণনের সময় পরস্পরের সাথে ঘাত-প্রতিঘাতে ক্ষয়প্রাপ্ত হতে থাকে। 2000 বার ঘুরানের পর সিলিন্ডারের পাথরগুলোকে 2 মিমি চালুনিতে চালার পর ক্ষয়প্রাপ্ত অংশের ওজন নেয়া হয়। চালুনিতে অবশিষ্ট পাথরের ওজন ও প্রথমোক্ত ওজনের পার্থক্যই ক্ষয়প্রাপ্ত অংশের ওজনের সমান। উত্তম শ্রেণির পাথরের ক্ষয়প্রাপ্ত অংশের পরিমাণ কম হবে। এ পরীক্ষা রাস্তায় ব্যবহৃত পাথরের জন্য অতীব প্রয়োজনীয় । ভালো পাথর 2% এর অধিক ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না ।

(b) শোষ্যতা পরীক্ষা (Absorption test) :
এ পরীক্ষায় একখণ্ড নমুনা পাথরের ওজন নিয়ে এটাকে 24 ঘণ্টা পানিতে ডুবিয়ে রাখার পর পুনরায় ওজন নেয়া হয়। ওজনদ্বয়ের পার্থক্যই শোষিত পানির পরিমাণ । উত্তম শ্রেণির পাথরের পানি শোষণ ক্ষমতা কম হবে।

(c) অম্ল পরীক্ষা (Acid test) :
নমুনা পাথরখণ্ড এক সপ্তাহ যাবৎ পাতলা সালফিউরিক ও হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের দ্রবণে (1% অ্যাসিড) ডুবিয়ে রেখে এর ক্ষয়িষ্ণুতার পরিমাণ দেখা হয়। ক্ষয়িষ্ণু পাথর শিল্প এলাকায় ব্যবহার অনুপযোগী।

(d) ব্রার্ডের পরীক্ষা (Brard's test) :
এ পরীক্ষার দ্বারা পাথরের কণাসমূহের সংসক্তি পরীক্ষা করা হয়। একখণ্ড নমুনা পাথরকে সোডিয়াম সালফেটের ফুটন্ত দ্রবণে ডুবিয়ে এনে কয়েকদিন মুক্ত বাতাসে ঝুলিয়ে রাখলে পাথরের অভ্যন্তরে প্রবেশিত সোডিয়াম সালফেটের দ্রবণ দানা বাঁধে এবং পাথরের আলগা স্তর সজোরে বের করে দেয়। পরীক্ষার আগে ও পরে নমুনা পাথর খণ্ডটির ওজন নেয়া হয় । পাথর দৃঢ়াবদ্ধ হলে উভয় ওজনের মধ্যে কোনো পার্থক্য হবে না।

(e) স্মিথের পরীক্ষা (Smith's test) :
এ পরীক্ষার সাহায্যে পাথরে মৃত্তিকা, কাদা বা অন্য কোনো দ্রাব্য পদার্থ আছে কি না জানা যায়। একটি পরীক্ষানলের - ভাগ পরিষ্কার পানি নিয়ে এটাকে নমুনা পাথর দিয়ে পূর্ণ করা হয় এবং এক ঘণ্টা পর প্রবলভাবে ঝাঁকানো হয়। যদি পানি পরিষ্কারই থাকে তবে বুঝা যাবে পাথর দ্রাব্য পদার্থমুক্ত।
(f) অগ্নিরোধিতা পরীক্ষা (Fire test) : মাল (Muffle) চুরিতে বিভিন্ন নমুনা পাথরের ঘনককে তাপ দিয়ে এদের তুল অগ্নিরোধী ক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়। সাধারণত কোনো পাথরই 900° সে. এর অধিক তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে না।

(g) সচ্ছিদ্রতা ও শোষাতা পরীক্ষা (Porosity & absorption test) :
একখত নমুনা পাথরকে সম্পূর্ণ শুষ্ক অবস্থায় ওজন নে হয় (ধরি W গ্রাম) । এরপর এটাকে 24 ঘণ্টা পানিতে ডুবিয়ে রাখার পর পৃষ্ঠ শুকনা অবস্থায় ওজন নেয়া হয় (ধরি W, গ্রাম)। শোষ্যতার শতকরা হার = {(W1-W)/W} x 100 (ওজন হিসেবে)। উক্ত পাথরটিকে পুনরায় পানিতে ডুবন্ত অবস্থায় ওজন নেয়া হয়। (ধরি W2 গ্রাম) উক্ত পাথর কর্তৃক অপসারিত পানির ওজন = W1-W2 গ্রাম।

শোষ্যতার পরিমাণ (%) = {(W1-W)/ (W1-W2)} x 100 (আয়তন হিসেবে)

উক্ত নমুনা পাথরকে 5 ঘণ্টাব্যাপী পানিতে সিদ্ধ করে পানিতে ঠাণ্ডা হওয়ার জন্য এক রাত্রি রাখা হয় এবং পানি হতে উঠিয়ে পূর্ব
শুষ্ক অবস্থায় ওজন নেয়া হয় (ধরি W3 গ্রাম)।
মোট পানি শোষ্যতার পরিমাণ = (W3-W) গ্রাম
এখন, সচ্ছিদ্রতার মাত্রা (%) = {(W3-W)/ (W1-W2)} x 100

আপেক্ষিক গুরুত্ব = W/(W1-W2)
এবং ঘনত্ব = W/(W1-W2) গ্রাম /সিসি

(h) ক্ষয়রোধিতা পরীক্ষা (Abrasion test) :
লস অ্যাঞ্জেলস অ্যাব্রেশন টেস্টের জন্য চিত্রানুরূপ (চিত্র ঃ 2.5) লস অ্যাঞ্জেলস অ্যাব্রেশন টেস্ট মেশিন ব্যবহৃত হয়। এ টেস্টের সাহায্যে অ্যাগ্রিগেটের ক্ষয়রোধিতার মাত্রা জানা যায়। এ যন্ত্রটি ফাঁকা সিলিন্ডারের মতো তবে এর দুই প্রান্ত বন্ধ। এর পার্শ্ব ব্যাস 70 সেমি এবং ভিতরের দৈর্ঘ্য 50 সেমি। এটা স্ট্যান্ডের উপর থেকে অনুভূমিক অক্ষের উপর ঘুরে। 4.8 সেমি (প্রায়) ব্যাসের 390 গ্রাম হতে 445 গ্রাম ওজনের কাস্ট আয়রনের বল বা শুটস্ (Ball or shots ) অ্যাব্রেশন চার্জ হিসাবে সিলিন্ডারের ভিতরে দেয়া হয়। নমুনা অ্যাগ্রিগেটের গ্রেডিং-এর উপর অ্যাব্রেশন চার্জ হিসাবে প্রদত্ত বলের সংখ্যা ও বলের ওজন নির্ভর করে। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিনির্দেশ মতো নির্দিষ্ট গ্রেডিং-এর অ্যাগ্রিগেটের জন্য নির্দিষ্ট ওজন ও ব্যাসের নির্দিষ্ট সংখ্যক বল ব্যবহার করা হয়। এ যন্ত্রটিতে সিলিন্ডারের দৈর্ঘ্য বরাবর ব্যাসার্ধীয় ভেন (Radial vane) স্থাপিত থাকে।

বিনির্দেশিত অ্যাব্রেশন চার্জসহ নির্দিষ্ট নমুনা অ্যাগ্রিগেটের 5 কেজি বা 10 কেজি (Wi) (অ্যাগ্রিগেটের গ্রেডেশনের উপর ভিত্তি করে) যন্ত্রটির সিলিন্ডারের ভিতরে দিতে হয়। অ্যাগ্রিগেটের গ্রেডিং-এর উপর ভিত্তি করে সিলিন্ডারকে প্রতি মিনিটে 30 বার হতে 33 বার হারে 500 বার থেকে 1000 বার ঘুরানো হয়। বিনির্দেশিত সংখ্যক ঘূর্ণন শেষে অ্যাগ্রিগেটগুলোকে ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড 17 মিমি চালুনিতে চেলে অতিক্রান্ত অ্যাগ্রিগেটের ওজন নেয়া হয় (W3) এবং ক্ষয়ের শতকরা হারে (বা, লস অ্যাঞ্জেলস অ্যাব্রেশন ভ্যালু) এ পরীক্ষার ফলাফল তৈরি করা হয়। আইএসআই (ISI) অনুসারে সিমেন্ট কংক্রিটের অ্যাগ্রিগেটের অ্যাব্রেশন ভ্যালু 16%, বিটুমিনাস মিক্স-এর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ 30%, বিটুমিনাস বাউন্ড ম্যাকাডাম-এর বেস কোর্স-এ 50% এর মতো হতে পারে।

# ক্ষয়ের শতকরা হার = (W1/W2) x 100

Want your school to be the top-listed School/college in Sylhet?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Telephone

Address

Sylhet City
Sylhet
3100