Inner Peace
ওঁ কৃষ্ণায় বাসুদেবায় হরয়ে পরমাত্মনে।
প্রণত ক্লেশনাশায় গোবিন্দায় নমো নমঃ।।
03/03/2026
কুরুক্ষেত্রের পাখি ও ভগবান কৃষ্ণ
রথের চাকা ঘুরছে—
ধূলির সমূদ্রের ভিতর যেন সূর্যও ডুবে যাবে,
শঙ্খের শব্দে আকাশ কেঁপে ওঠবে
ফেটে যাবে আজ মেঘের বুক
দ্রৌপদীর শাড়ীর আঁচলের পতনে
কুরুক্ষেত্র কাঁপছে আজ ক্রোধ ও অহংকারে।
সেই মাটির কোণে—
একটি ক্ষুদ্র পাখির বাসা,
ছিলো চারটি ডিম,
অনিশ্চতা ও ভয়ের ভিতর কাঁপছিলো তাদের ভবিষ্যৎ।
শ্রীকৃষ্ণ,
দাঁড়িয়ে ছিলো দুই সেনা দলের মাঝখানে—
তার চোখে ঝলক দিচ্ছে অনন্তের নীল,
কিন্তু কানে পৌঁছে যায় এক ভীত ছোট্ট পাখির আর্তনাদ।
একটি পাখি উড়ে এসে
বুক ভরা আশা নিয়ে বলে-
শোন যোগেশ্বর,
মানুষের এই অধর্ম ও ধর্মযুদ্ধের আগুনে
পাখি,পাখির ছানা ও পাখির ডিমের কী অপরাধ!
শ্রী কৃষ্ণ মৃদু হাসেন—
প্রতিউত্তরে শোনান আমি কালচক্রে হস্তক্ষেপ করি না
তবে তুমি খাদ্য সংগ্রহ করে রেখো,
যেন উপনিষদের রহস্যজনক বাণী
পাখিটি তা বুঝে ফেলে ছিলো।
ব্রহ্ম যেমন ঘোষনা করেন
'অহং জীবস্য জীবঃ।'
কৃষ্ণ ভগবান!
যুদ্ধের কোন এক সময়ে
তুলে নেন সোনালি একটি ভাঙা রথের ঘণ্টা,
ডিমগুলো ঢেকে দেন সবার অগোচরে
যেন করুণা নিজেই
ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো ধ্বংসের বিপরীতে সৃষ্টির রক্ষক হয়ে।
আঠারো হ্যাঁ, আঠারো দিন—
আগুন, রক্ত, পতনের গর্জন—শেষে ধর্ম ও অধর্মের মীমাংসা
ইতিহাসে লিখিত হয় কাব্যে, মহাকাব্যে৷
যুদ্ধ শেষে
নিস্তব্ধতা নামে মৃত গোধূলীর মতো।
কৃষ্ণ ফিরে আসেন—
মনে আছে তাঁর ক্ষুদ্র প্রাণের বৃহৎ প্রার্থনা।
অর্জুনকে বলেন ঘন্টা সরাও,
ঘণ্টা সরাতেই
পাখির ডাক
উড়ে যায় ছোট্ট ছোট্ট পাখি
অর্জুনের মনে পরে যায়
যুদ্ধের শুরুতেই
একটি ভীত সন্ত্রস্থ পাখি দম্পতি
তাদের ডিম ও বাচ্চা সমর্পন করেছিলো কৃষ্ণের পদযুগলে।
কুরুক্ষেত্রের মাঝে
যেখানে লক্ষ প্রাণ ঝরে গলে আঠারো দিনে
সেখানে জন্ম নেয় চারটি পাখি—
যা ছিলো গীতার অদৃশ্য শ্লোকের একটি স্ফুলিঙ্গ।
ধ্বংসের মধ্যেও
ব্রহ্ম রক্ষা করে প্রাণ,
কারণ ধর্ম কেবল যুদ্ধ নয়— করুনা মায়াও ধর্ম হতে পারে।
আর কৃষ্ণ— তিনি তো শুধু রথী নন,
সারথী নন কেবল অর্জুনের
তিনি অভিভাবক সকলের,
ক্ষুদ্র পাখি, তাদের ডিমেরও রক্ষক তিনি
যেখানে ভবিষ্যৎ নিঃশব্দে ফুটে ওঠে শ্লোকের ভিতরে
অলেখা শ্লোক,
পরাশর ঋষি ও সত্যবতী দম্পতি পুত্র বেদব্যাসের রচনায়।
যমুনার দ্বীপে জন্ম নেয়া
দ্বৈপায়ন মহাভারত রচনায় ভুলে যায়নি পাখিদের কথাও।
Click here to claim your Sponsored Listing.