Situation Analysis

Situation Analysis

Share

অন্যকে সাহায্য করার মাধ্যমে একসাথে এগিয়ে যেতে হবে।

20/06/2026

গত তিন-চার সপ্তাহ ধরে ভারতে থাকা বাংলাভাষী ভারতীয়দেরকে “বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী” তকমা দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পুশ-ইন করার চেষ্টা চালাচ্ছে ভারত। বাংলাদেশের বর্ডার গার্ড বিজিবির জিজ্ঞাসাবাদে যাদের বাংলাদেশী পরিচয় মিলছে, বাংলাদেশী কর্তৃপক্ষ তাদেরকে বিনা বাক্যব্যয়ে গ্রহণ করে নিচ্ছে। কিন্তু বাংলাভাষী অথচ বাংলাদেশে যাদের পূর্বের কোন অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে না, তারা মূলত ভারতেরই নাগরিক। তাদেরকে বিজিবি বাংলাদেশে ঢুকতে দিচ্ছে না।

অমানবিকতার বিষয় হলো, ভারতীয় বর্ডার গার্ড বিএসএফ এই বাংলাভাষী ভারতীয়দেরকে ভারতেও ফিরতে দিচ্ছেনা। এই অবস্থায় অনেককে নো-ম্যান্স-ল্যান্ডে বেশ কয়েকদিন ধরে খাবার-পানি এসবের অভাবে খোলা আকাশের নিচে আটকে পড়ে থাকতে হচ্ছে। বাংলাদেশী তকমা পাওয়া কয়েকশো মানুষকে ভারতের ডিটেনশন ক্যাম্পেও আটকে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। এমনকি এটাও বলেছে যে, পরে তাদেরকে আবারো পুশ-ইন তথা জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠানো হবে।

এই প্রসঙ্গে Shubhajit Gayen নামের এক ভারতীয় তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছে, "আমার কাছে একটা আইডিয়া আছে।... এই যে সব বাংলাদেশিগুলোকে ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হচ্ছে, তাদের বিনি পয়সায় খাওয়া পরা দেওয়া বন্ধ হোক। ওদের মধ্যে যারা প্রাপ্তবয়স্ক তাদেরকে ক্রীতদাস হিসেবে চিহ্নিত করে সরকার টেন্ডার করুক। যে কোম্পানি সবচেয়ে বেশি টাকা দিয়ে টেন্ডার নেবে, তাদের প্রজেক্টে ওই ক্রীতদাসদের আনস্কিলড লেবার হিসেবে কাজে পাঠানো হোক। ডিটেনশন ক্যাম্পে ওদের এবং ওদের পরিবারের ভরণ পোষণের খরচ ওদের থেকেই উসুল করা হোক। আমরা যারা ট্যাক্সপেয়ার তারা কেন ওই প্যারসাইটদের খরচ বহন করব? এমনিতেই লেবার ক্রাইসিসে বিভিন্ন প্রজেক্ট ডিলে হচ্ছে। এতে কিছুটা হলেও এই সমস্যার সমাধান হতে পারে।"

উপরের ফেসবুক পোস্টের নিচে Ruma Koley নামের আর এক ভারতীয় মহিলা তার কমেন্টে লিখেছে, "ঠিক। এত মেডিকেল কলেজে কত্ত ছেলেমেয়ে ভালো স্কেলিটন কিনতে পারে না পয়সার অভাবে। দু এক জনকে ধরে যদি..."

অর্থাৎ, এই বাঙালী হিন্দু মহিলা চায় যে, ডিটেনশান সেন্টারে আটকে রাখা সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীদেরকে হত্যা করে, তাদের পঁচে যাওয়া শরীর থেকে কঙ্কাল বের করে মেডিকেল কলেজের ছাত্রছাত্রীদেরকে ব্যবহারের জন্য দেয়া হোক।

ভারতে হিন্দুত্ববাদীদের উত্থান ও বিজেপির বিস্তারের সাথে সাথে অনেক ভারতীয় হিন্দু নিজেদের মনুষ্যত্ব বিসর্জন দিয়ে কীভাবে দানবে পরিণত হয়েছে তার দুটো ছোট্ট উদাহরণ এই ফেসবুক পোস্ট ও কমেন্ট।

ভারতীয় ও বাংলাদেশী মুসলমানদেরকে টার্গেট করে ভারতের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের এই ধরণের ঘৃণাভরা কমেন্ট বা পোস্টে সোস্যাল মিডিয়া সয়লাব বেশ কয়েক বছর ধরেই। তারা মুসলিমবিহীন হিন্দু রাষ্ট্র গড়তে চায়, তাই মুসলমানদেরকে লক্ষ্য করে যে ভাবেই পারে আক্রমণ শানায়। গতমাসে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা দখলের পর, মুসলমানদেরকে লক্ষ্য করে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুত্ববাদীদের এমন খোলাখুলি আক্রমণ বেড়েছে কয়েকগুণ। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতারাও মুসলমানদেরকে আক্রমণ করে অনেক বক্তব্য দিয়েছে, যেগুলো আমরা শুনেছি গত কয়েকমাসে।

ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা মুসলমানদেরকে পিটিয়ে হত্যা করছে ছোটোখাটো কারণে বা কোনো কারণ ছাড়াই। নিরীহ বয়স্ক মুসলমানদেরকেও "জয় শ্রীরাম" বলতে বাধ্য করছে। বলতে না চাইলে, হিন্দুত্ববাদীরা তাদেরকে জনসম্মুখে পেটাচ্ছে, লাঞ্ছিত করছে। পুলিশ এই হিন্দুত্ববাদীদের বিরুদ্ধে কোনো অ্যাকশন নেয়না বললেই চলে। ভারতের হিন্দী বেল্টের ও পূর্ব ভারতের হিন্দুদের বেশীর ভাগ মানুষই হিন্দুত্ববাদীদের এমন ঘৃণ্য মুসলিমবিদ্বেষী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেনা বা প্রচ্ছন্নভাবে সমর্থন করে।

বাংলাদেশ যেহেতু মুসলিম প্রধান দেশ, এই হিন্দুত্ববাদের সমর্থক ভারতীয়রা প্রায় সবাই বাংলাদেশকে ঘৃণা করে বা সব ইস্যুতে বাংলাদেশের বিরোধীতা করে। ভারতের ক্ষমতাশালী রাজনৈতিক নেতারা বা সরকার কখনো মুসলমানদের উপর হিন্দুত্ববাদীদের আক্রমণকে বন্ধ করার চেষ্টা করে না। বিজেপি জানে, হিন্দুপ্রধান দেশে অ্যান্টি-মুসলিম বা অ্যান্টি-বাংলাদেশী হাওয়া যত বাড়বে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ তত তীব্র হবে। একইসাথে এই হিন্দুত্ববাদী পার্টির ভোটও বাড়বে। এই অবস্থায় নিশ্চিত করে বলা যায় যে, মুসলমান বা বাংলাদেশীদেরকে টার্গেট করে হিন্দুত্ববাদীদের ঘৃণা ও আক্রমণ ভারতে তথা পশ্চিমবঙ্গে এখন থেকে চলমান থাকবে।

একজন মানুষকে 'ক্রীতদাস' আর 'কঙ্কাল' হিসেবে বিক্রির প্রস্তাব দিতে যে মানসিকতা লাগে, সেটা একদিনে তৈরি হয়নি, অনেক বছর লেগেছে। বহু বছর ধরে চলা হিন্দুত্ববাদী আন্দোলন অনেক বাঙালী হিন্দুর মনুষ্যত্ব হরণ করতে সমর্থ হয়েছে।

18/06/2026

আমেরিকা-ইরান ৬০ দিনের শান্তুি সমঝোতা স্মারক প্রস্তুত
-
আমেরিকা-ইরান চুক্তি এখনও হয়নি, যেটা প্রস্তুত হয়েছে সেটা ৬০ দিনের একটা সমঝোতা স্মারক বা মেমোরেন্ডাম অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং (এমওইউ )। যেটা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর হবে শুক্রবার যেটার বিস্তারিত এখনও সরকারীভাবে প্রকাশ করা হয়নি। এই এমওইউ অনুসারে মূল চুক্তির আলোচনা চলবে। নানা সূত্রমতে এর সারাংশ নিম্নরূপ। খেয়াল করতে হবে আমেরিকা ও ইরান এই দুই দেশের বর্ণনায় কিছু বিভেদ রয়েছে।

২০২৬ সালের জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ১৪-পয়েন্ট মেমোরেন্ডাম অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং (এমওইউ) প্রস্তুত হয়েছে। এটি পূর্ণ শান্তি চুক্তি নয়, বরং যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলা, নিষেধাজ্ঞা সহজীকরণ এবং ভবিষ্যতে নিউক্লিয়ার আলোচনার জন্য একটি অস্থায়ী ফ্রেমওয়ার্ক। এটি ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে এবং আরও বিস্তারিত আলোচনার পথ প্রশস্ত করে।

ইরানি মিডিয়া (যেমন মেহর নিউজ) প্রথমে একটি ১৪-পয়েন্ট ড্রাফট প্রকাশ করে, যাতে ইরানের দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র পরে এর একটি সংস্করণ পড়ে শুনিয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে। উভয় পক্ষের সংস্করণে কিছু মিল রয়েছে, তবে কিছু পার্থক্যও আছে (যেমন অর্থের পরিমাণ বা নির্দিষ্ট শর্ত)।

ইরানি মিডিয়ায় প্রকাশিত সংস্করণে নিম্নলিখিত মূল বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত:

১. সকল ফ্রন্টে (লেবাননসহ) যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী যুদ্ধ সমাপ্তি।
২. যুক্তরাষ্ট্রের নৌব্লকেড প্রত্যাহার।
৩. হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলা এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ করা।
৪. ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পুনর্গঠন তহবিল (যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের সহায়তায়)।
৫. নিষেধাজ্ঞা সহজীকরণ (তেল ও আর্থিক) এবং জমা অর্থ ($২৪-২৫ বিলিয়ন) মুক্তি।
৬. ইরান নিউক্লিয়ার অস্ত্র তৈরি করবে না (এনপিটি অনুসারে)।
৭. ভবিষ্যতে নিউক্লিয়ার ও নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত আলোচনা (৬০ দিন)।
৮. লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষা।
৯. যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি হ্রাস।
১০. ইরানের আঞ্চলিক মিত্রদের সাথে সম্পর্ক অটুট রাখা (কিছু সীমাবদ্ধতা)।
১১. মিসাইল প্রোগ্রাম নিয়ে আলোচনা বাদ।
১২. অর্থনৈতিক সহযোগিতা।
১৩. যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা।
১৪. চূড়ান্ত চুক্তির জন্য ইউএন সমর্থন।

যুক্তরাষ্ট্রের পড়া ১৪ পয়েন্ট (সিনিয়র অফিসিয়ালদের বিবৃতি অনুসারে)
সামান্য ভিন্ন, তবে মূলত ফোকাস একই। একজন সিনিয়র অফিসিয়াল এটি পড়ে শুনিয়েছেন:

১. যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও মিত্ররা সকল ফ্রন্টে (লেবাননসহ) সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করে।
২. উভয় পক্ষ একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা সম্মান করবে।
৩. ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির জন্য আলোচনা।
৪. যুক্তরাষ্ট্র নৌব্লকেড প্রত্যাহার শুরু করবে (৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণ)।
৫. ইরান হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করবে।
৬. $৩০০ বিলিয়ন পুনর্গঠন পরিকল্পনা।
৭. নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দিকে কাজ।
৮. জমা অর্থ মুক্তি।
৯. ইরান নিউক্লিয়ার অস্ত্র তৈরি করবে না।
১০. নিউক্লিয়ার স্টকপাইল নিয়ে আলোচনা।
১১. আঞ্চলিক উত্তেজনা হ্রাস।
১২. ইরান নিউক্লিয়ার সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করবে।
১৩. লেবানন ও অন্যান্য এলাকায় শান্তি।
১৪. চূড়ান্ত চুক্তির জন্য ইউএন রেজোলিউশন।

উভয়ের মধ্যে মূল পার্থক্য হল ইরানি সংস্করণে যুদ্ধ ক্ষতিপূরণ ও সার্বভৌমত্বের উপর বেশি জোর, আর যুক্তরাষ্ট্রের সংস্করণে নিউক্লিয়ার নিয়ন্ত্রণ ও পুনর্গঠন তহবিলের উপর। এমওইউটি এখনও সম্পূর্ণ প্রকাশিত নয় এবং ভবিষ্যতে আরও আলোচনা হবে যদি আবার যুদ্ধ না লেগে যায়।

তবে ইসরাইল এটা মানে না বলেছে এবং তারা হয়ত লেবানেন আক্রমণ চালিয়ে যাবে, অপরদিকে ইরানও হয়ত ইসরাইলে প্রতি হামলা করে যাবে। তবে পশ্চিমা বিশ্ব আবার হরমুজ বন্ধ হবার ঝুঁকি নেবে বলে মনে হয় না।

18/06/2026

কি, দারুন না? কার কার লাগবে?

14/06/2026

বেনজির কট, পরবর্তী কে?

11/06/2026

৩ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করার খেসারত ২৪ দিনে ৩ বার বদলি!! স্বয়ং ভূমিমন্ত্রীর নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে এই সিন্ডিকেট! লেখাটা পড়লেই বুঝতে পারবেন - কি ভয়াবহ দুর্নীতি চলে.........

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করে স্বস্তিতে নেই নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহমুদা বেগম। সরকারি টাকা লুটপাটের ক্ষেত্র বন্ধ করে এখন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের টার্গেট হয়েছেন তিনি। ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ফোন করে তাকে সরিয়ে দেওয়ার আদেশ স্থগিত করেন।

কিন্তু এরপর তাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে বদলির আদেশ জারি করা হয়েছে। প্রভাবশালী একটি চক্র তাকে সরিয়ে দিয়ে ভূমি অধিগ্রহণের এই খাত থেকে বড় অঙ্কের টাকা লুটপাটের পরিকল্পনা করে। তাদের পরিকল্পিত কমিশন লুটপাটের মিশনে বাধা দেওয়ায় এডিসিকে সরিয়ে দেওয়ার মিশনে নেমেছে প্রভাবশালী চক্রটি।

এদিকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বুধবার রাতে

ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেন, এই সাহসী অফিসারকে প্রটেকশন দেওয়ার জন্য তিনি ইতোমধ্যে কিছু নির্দেশনা দিয়ে রেখেছিলেন। এছাড়া বিষয়টি জানার পর খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তাকে প্রয়োজনীয় সাপোর্ট দেওয়াসহ মনিটরিং করছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ভূমি মন্ত্রণালয় তদন্ত করছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার বাজেট পেশ হবে। এজন্য ব্যস্ত থাকবেন। রোববার তিনি এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

জানা যায়, গত ২৫ দিনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় মাহমুদা বেগমকে ৩ বার বদলি করেছে। বারবার তাকে বদলির পেছনে ইন্ধন দিচ্ছেন উপসচিব মো. মোস্তফা মনোয়ার।

তিনি বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগে কর্মরত। ৩০ বিসিএসের এই কর্মকর্তা ২০২৪ সালের ২১ মার্চ থেকে ৯ জুন পর্যন্ত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হিসাবে নরসিংদীতে দায়িত্ব পালন করেন। এডিসি হিসাবে আড়াই মাস দায়িত্বে থেকে এই কর্মকর্তা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণে ৩৫৯ কোটি টাকার চেক হস্তান্তর করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কমিশন নিয়ে গেছেন। এ সংক্রান্ত কিছু অডিও-ভিডিও যুগান্তরের কাছে সংরক্ষিত।

গুরুত্বপূর্ণ ৩টি এলএ কেসের অ্যাওয়ার্ড বই (ক্ষতিপূরণ নির্ধারণী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত) মো. মোস্তফা মনোয়ার প্রস্তুত করেন। এরমধ্যে ১৫নং এলএ কেসের ২৪০ কোটি, ১৪নং এলএ কেসের ৪৮ কোটি এবং ১০নং এলএ কেসে ৭১ কোটিসহ মোট ৩৫৯ কোটি টাকার চেক হস্তান্তর করেন। এসব এলএ কেসে জমি অধিগ্রহণ আইন ও নিয়মনীতি কোনোটাই অনুসরণ করা হয়নি। ত্রুটিপূর্ণ সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রের শত শত কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে তদন্ত করছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

এ অবস্থায় অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ অধিগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র (ফিল্ডবই ও জমির আগের অবস্থানসংক্রান্ত ভিডিও) সরিয়ে ফেলতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে উপসচিব মো. মোস্তফা মনোয়ার যুগান্তরকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ সঠিক নয়। সব সময় নিয়ম মেনে কাজ করেছি। কেউ কোনো প্রমাণ দেখাতে পারবে না।’ অধিগ্রহণের বিল পরিশোধের বিপরীতে কমিশন নেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ যুগান্তরের কাছে রয়েছে-এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এগুলো তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।’

প্রসঙ্গত, গত ২৮ এপ্রিল ‘জমি অধিগ্রহণে ডিসির নেতৃত্বে বিস্ময়কর কাণ্ড, স্ট্যাম্পে চুক্তি করে ঘুস ভাগাভাগি শিরোনামে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ একটি দপ্তরের পলিটিক্যাল প্রভাবশালী একজন কর্মকর্তা বিতর্কিত জমি অধিগ্রহণের বিল পরিশোধের জোরালো তদবির করেন। তার তদবিরটি ছিল নীতিমালাবহির্ভূত। নিয়ম লঙ্ঘন করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলে আরও দিতে হবে বিবেচনায় নিয়ে ওই কর্মকর্তাকে সরাসরি ‘না’ বলে দেন মাহমুদা বেগম। এরপর প্রভাবশালী ওই ব্যক্তি তাকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ‘আপনার ক্ষমতা বেশি না আমার ক্ষমতা বেশি দেখতে পাবেন।’

পরদিন ২৭ এপ্রিল তাকে পরিকল্পনা বিভাগে সিনিয়র সহকারী প্রধান হিসাবে বদলি করা হয়। ২৮ এপ্রিল যুগান্তরে প্রতিবেদন দেখে ওইদিনই ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ফোন করে এডিসি মাহমুদার বদলি স্থগিত করতে বলেন। একই সঙ্গে মাহমুদা বেগমকে ফোন করে সরকারের অন্তত ৩ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করায় ধন্যবাদ জানান এবং নির্ভয়ে কাজ করতে উৎসাহ দেন।

এর ১৫ দিনের মাথায় ১৩ মে তাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব পদে বদলি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এর আগে ১৯ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে বদলি করা হয় মাহমুদাকে।

নরসিংদী জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর মাহমুদা বেগম নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পদে যোগ দেন। এই পদে যোগ দিতে অন্য সহকর্মীদের রীতিমতো প্রতিযোগিতা ছিল। কারণ চলমান জমি অধিগ্রহণের দালাল সিন্ডিকেট পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ এই টেবিল থেকেই করা হয়। তৎকালীন জেলা প্রশাসক রাশেদ হোসেন চৌধুরী নরসিংদীতে তার শেষ কর্মদিবসের দিন মাহমুদা বেগমকে এডিসি (রাজস্ব) পদে নিয়োজিত করে যান।

এরপর চলমান জমি অধিগ্রহণে দালাল সিন্ডিকেটের দুর্গ ভেঙে নীতিমালার বাইরে কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না বলে তিনি ঘোষণা দেন। এরপর একে একে বিভিন্ন এলএ কেসের শুনানি নিয়ে অন্তত ৩ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করেন। এছাড়া নীতিবহির্ভূত আবেদন বাতিল করে দেন। জেলার সাবেক ডিসি-এডিসি এবং অধিগ্রহণ কর্মকর্তারা আইন-নীতিমালা লঙ্ঘন করে ক্ষতিপূরণের তালিকা করে রেখেছিলেন।
লেখা: যুগান্তর।

বাংলাদেশে অনেক অনেক ভাল কর্মকর্তা রয়েছে। সিন্ডিকেটটা বাংলাদেশটাকে সিঙ্গাপুর বানাতে দিচ্ছে না।

11/06/2026

Scholarship apply করতে চান, কিন্তু জানেন না আসলে কিভাবে শুরু করবেন?

স্কলারশিপ এপ্লাই করবেন এটা মানসিকভাবে সিদ্ধান্ত নেবার পরে প্রথমেই যে ধাক্কা লাগে সেটা হলো আমি এখন কি করব?আমি কোন কাজ আগে করবো?

আসলে IELTS প্রিপারেশনসহ একটা strong application তৈরি করতে কমপক্ষে ৬ থেকে ১২ মাস লাগে ।

আজকে June ২০২৬। আগে সামনের বড় scholarship windows কখন open হবে সেটা আগে জানুন। তারপর কখন কী করতে হবে সেটা বলছি।

সামনের Scholarship Windows, 2026/27:

1. Chevening 2027/28, UK, August থেকে September 2026 এ open, deadline October 2026, chevening.org

2. DAAD 2027, Germany, July থেকে August 2026 এ open, daad.de/en

3. Korea GKS 2027, September 2026 এ open, studyinkorea.go.kr

4. Erasmus Mundus 2027, October 2026 এ open, erasmus-plus.ec.europa.eu

5. Australia Awards 2028, February 2027 এ open, deadline April 2027, australiaawardsbangladesh.org

এখন June। Chevening এর জন্য হাতে মাত্র ২ মাস। বাকিগুলোর জন্য ৬ থেকে ৯ মাস। এই সময়টা কীভাবে কাজে লাগাবেন সেটাই আসল কথা।

➡️ Month by Month Plan:

June থেকে July 2026, Foundation তৈরি করুন

1. কোন scholarship apply করবেন সেটা fix করুন। Background, work experience, field of study এর সাথে কোনটা aligned সেটা research করুন।

2. Target university আর course research করুন। topuniversities.com, timeshighereducation.com।

3. IELTS score না থাকলে এখনই exam book করুন। britishcouncil.org.bd।

4. ২ জন referee ঠিক করুন এবং আগে থেকে জানান।

➡️ August থেকে September 2026, Documents আর Writing

1. SOP বা Personal Statement এর first draft লিখুন। তারপর revise করুন। তারপর আবার revise করুন। Successful applicants এর বেশিরভাগ application open হওয়ার ৩ থেকে ৬ মাস আগে থেকে prepare করা শুরু করেন।

2. DILP বা Development Plan লিখুন। Specific problem, specific plan, measurable outcome থাকতে হবে।

3. Referee দের brief করুন। কোন achievements highlight করতে হবে, scholarship এর goals এর সাথে আপনর qualities কীভাবে connected সেটা বলুন।

➡️ October থেকে November 2026, Final Review

1. পুরো application একজন trusted person কে দেখান। Fresh eyes দিয়ে পড়লে ভুল ধরা পড়ে।

2. Documents check করুন। সব attested, সব updated, passport এর নামের সাথে application এ নাম match করছে কিনা।

3. Chevening apply করুন। Deadline October 2026। chevening.org।

➡️ December 2026 থেকে January 2027, Next preparation

1. Chevening result আসবে June 2027 এ। এই সময়ে বসে থাকবেন না।

2. AAS 2028 cycle এর জন্য prepare করুন। February 2027 এ open হবে।

3. Interview preparation শুরু করুন। Shortlisted হলে interview আসবে।

একটা কথা, Scholarship application একটা marathon, sprint না। যারা last minute এ শুরু করেন তারা প্রায় সবসময় weak application দেন। যারা ৬ থেকে ১২ মাস আগে থেকে prepare করেন তারাই competitive থাকেন।

আজকে June। এখনই শুরু না করলে আরেকট বছর অপেক্ষা করতে হবে। তাই সিদ্ধান্ত আপনার 🌿
✍️Ismat Shuchi

05/06/2026

২০২৪ এর জুলাই আগস্ট দিনলিপি

৫ জুন
-- মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে রায় প্রদান করে হাইকোর্ট।
-- প্রতিবাদে ক্ষিপ্ত হয় ছাত্ররা। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্দোলন দানা বাঁধে। ছাত্ররা পরদিন বিক্ষোভের কর্মসূচি দেয়।

৬ জুন
-- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ-এর ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে ঢাবি ছাত্ররা

৯ জুন
-- কোটাব্যবস্থা পুনর্বহালের প্রতিবাদে আবারও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা
-- দাবি মানতে সরকারকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন ঢাবি ছাত্ররা।
-- বিক্ষোভ শেষে আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদল সুপ্রিম কোর্টে অ্যাটর্নি জেনারেল বরাবর স্মারকলিপি দেয়।
-- কোটা বাতিল-সংক্রান্ত হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য ৪ জুলাই দিন নির্ধারণ করা হয়

১ জুলাই
-- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে কোটা বাতিলের দাবিতে ছাত্রসমাবেশ ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয় ঢাবিসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে
-- ৪ জুলাইয়ের মধ্যে দাবির বিষয়ে চূড়ান্ত সুরাহার আহ্বান জানানো হয়
-- আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে তিন দিনের কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়

২ জুলাই
-- ঢাবির ছাত্ররা মিছিল নিয়ে শাহবাগ অবরোধ করে এক ঘন্টা
-- জাবির ছাত্ররা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ২০ মিনিটের জন্য অবরোধ করেন।

৩ জুলাই
-- ঢাবির ছাত্ররা শাহবাগ মোড় দেড় ঘণ্টার মতো অবরোধ করে রাখেন।
-- ময়মনসিংহে রেললাইনে ট্রেন অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা
-- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন।
-- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক অবরোধ করেন।
-- বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন
-- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার মোড়ে সড়ক অবরোধ করেন।

৪ জুলাই
-- প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বিভাগ 'নট টুডে' বলে আদেশ দেন। পরের সপ্তাহে এ বিষয়ে শুনানি হতে পারে বলে ওই দিন অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় থেকে জানানো হয়।
-- ছাত্ররা ঢাকার শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাখে ৫ ঘণ্টা

৫ জুলাই
-- এই দিন শুক্রবারেও চট্টগ্রাম, খুলনা ও গোপালগঞ্জে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনকারী ছাত্ররা।

৬ জুলাই
-- দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আগের দিনের মতোই বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়।
-- আন্দোলনকারীরা সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন, ছাত্র ধর্মঘট এবং সারা দেশে সড়ক-মহাসড়ক অবরোধের ডাক দেন। এর নাম দেওয়া হয় ‘বাংলা ব্লকেড’।

৭ জুলাই
-- বাংলা ব্লকেডে স্থবির রাজধানী। অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা।

৮ জুলাই
-- ঢাকার ১১টি স্থানে অবরোধ, ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ, ৩টি স্থানে রেলপথ অবরোধ এবং ৬টি মহাসড়ক অবরোধ।
-- সারাদেশের ছাত্রদের নিয়ে 'বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন' নামে ৬৫ সদস্যের সমন্বয়ক টিম গঠন করা হয়।

৯ জুলাই
-- হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে দুই শিক্ষার্থীর আবেদন করে।
-- ঢাকার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৪ ঘন্টা অবরোধ কর্মসূচি 'বাংলা ব্লকেড' পালন করা হয়।
-- পরদিন সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা 'বাংলা ব্লকেড'-এর ঘোষণা দেওয়া হয়।

১০ জুলাই
-- কোটার বিষয়ে পক্ষগুলোকে চার সপ্তাহের জন্য স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে নির্দেশ আপিল বিভাগের। প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। শুনানির জন্য আগামী ৭ আগস্ট দিন রাখা হয়।

-- ছাত্ররা ভুল করেছে মর্মে বক্তব্য রাখেন প্রধান বিচারপতি। তিনি আরো বলেন, রাস্তায় স্লোগান দিয়ে রায় পরিবর্তন করা যায় না। এটি সঠিক পদক্ষেপ না।

১১ জুলাই
-- পুলিশের বাধার মুখেই দেশের বিভিন্ন স্থানে অবরোধ পালন করেন আন্দোলনকারীরা
-- ওবায়দুল কাদের বলেন, কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীরা সর্বোচ্চ আদালতের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শন করছেন। এটি অনভিপ্রেত ও সম্পূর্ণ বেআইনি।
-- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, শিক্ষার্থীরা 'লিমিট ক্রস' করে যাচ্ছেন।

১২ জুলাই
-- শুক্রবার ছুটির দিনেও দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ চলে
-- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন।
-- রেলপথ অবরোধ করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

১৩ জুলাই
-- আরাফাত বলেন, বিচারাধীন বিষয়ে সরকারের এখন কিছু করার নেই।

১৪ জুলাই
-- রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি দিয়ে আন্দোলনকারীরা সংসদে জরুরি অধিবেশন ডেকে কোটার যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে সরকারকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেন ছাত্ররা।
-- শেখ হাসিনা চীন সফর শেষে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে আন্দোলনকারী ছাত্রদের রাজাকারের নাতি-পুতি বলেছে।
-- এর প্রতিবাদে রাত নয়টার দিকে ঢাবির বিভিন্ন হলে শ্লোগান ওঠে
তুমি কে? আমি কে?
রাজাকার! রাজাকার!!
-- এই শ্লোগান এতোই জনপ্রিয় হয় যে, মুহূর্তেই দেশের সকল পাবলিক ভার্সিটিতে ছোঁয়া লাগে। সকল ভার্সিটিতেই এই শ্লোগান চলে রাতভর।
-- রাতে চবিতে ছাত্রদের মিছিলে ছাত্রলীগ হামলা চালায়।

১৫ জুলাই
-- ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলে, আন্দোলনকারীদের 'রাজাকার' স্লোগানের জবাব ছাত্রলীগই দেবে।
-- ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম মন্তব্য করে, যাঁরা ‘আমি রাজাকার’ স্লোগান দিচ্ছেন, তাঁদের শেষ দেখিয়ে ছাড়বো।
-- কাদের ও সাদ্দামের মন্তব্যের পর ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হানাদার বাহিনী ঢাবির আন্দোলনকারী ছাত্রদের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ করে। ছাত্রদের ওপর ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা গুলি করে।
-- ভয়াবহ আক্রমণে ২৯৭ জন ছাত্র আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নেন।
-- হামলার প্রতিবাদে আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগ উভয়ে সমাবেশ করার ঘোষণা দেয়।

১৬ জুলাই
-- পুলিশের গুলিতে রংপুরে আবু সাঈদ, চট্টগ্রামে ওয়াসিম, শান্ত, ফারুক ও ঢাকায় সবুজ আলী ও শাহজাহান শাহদাতবরণ করেন।
-- সাদ্দাম আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে বলে, আমরা দেখে নেব, কত ধানে কত চাল।

১৭ জুলাই
-- ঢাবিসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বিতাড়ন করে 'রাজনীতিমুক্ত' ঘোষণা করে সাধারণ ছাত্ররা।
-- পুলিশের কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের মুখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কফিন মিছিল পণ্ড হয়ে যায়
-- সারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছাত্র বিক্ষোভ, সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ, গায়েবানা জানাজা, কফিন মিছিল এবং দফায় দফায় সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা।
-- রাত সাড়ে সাতটায় জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ। ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ।
-- বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হল বন্ধের ঘোষণা ও পুলিশের তৎপরতার মুখে অনেক শিক্ষার্থী সন্ধ্যা নাগাদ ক্যাম্পাস ছেড়ে যান। তবে হল বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে রাতেও অনেক ছাত্রছাত্রী হল ও ক্যাম্পাসে অবস্থান করছিলেন।
-- মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয় সরকার।

১৮ জুলাই
-- ছাত্রদের ঘোষণা অনুসারে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি শুরু হয়।
-- সারাদেশের প্রায় সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ মিছিলে হানাদার আওয়ামী পুলিশ বাহিনীর হামলা।
-- প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির ছাত্ররা এদিন আন্দোলনের মূল হাল ধরে
-- মুগ্ধসহ মোট ৪০ জন শাহদাতবরণ করেন।
-- সংঘর্ষ বেশি হয় ঢাকায়।
-- সারাদেশে বিজিবি মোতায়েন।

১৯ জুলাই
-- শিক্ষার্থীদের 'কমপ্লিট শাটডাউন' বা সর্বাত্মক অবরোধের কর্মসূচি ঘিরে রাজধানী ঢাকায় ব্যাপক সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর, গুলি, অগ্নিসংযোগ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
-- দেশের বিভিন্ন জেলাতেও ব্যাপক বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও সহিংসতা হয়।
-- পুলিশ ও বিজিবির নৃশংস গুলিতে ১১৯ জন শাহদাতবরণ করেন। এদিন আন্দোলন গণআন্দোলনে রূপ নেয়। এদিন রাস্তায় ছাত্রদের চাইতেও বেশি ছিল নানান শ্রেণি পেশার মানুষ। বলাবাহুল্য সারাদেশের চেয়ে রাজধানী ঢাকা ছিল বেশি অগ্নিগর্ভ।
-- ঢাকার যাত্রাবাড়ী, উত্তরা, রামপুরা-বাড্ডা, সায়েন্সল্যাব, মিরপুর ১ ও ১০, মহাখালী, মোহাম্মদপুর, সাভার ছিল আন্দোলনের মূল হটস্পট।
-- রাতে সারা দেশে কারফিউ জারি, সেনাবাহিনী মোতায়েন।
-- সকল ইন্টারনেট সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে তথ্য অন্ধকারে নিমজ্জিত হয় সারাদেশ।

২০ জুলাই
-- দেশজুড়ে কারফিউ, সেনা মোতায়েন। সাধারণ ছুটি ঘোষণা।
-- রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, ধাওয়া ও গুলি। উল্লেখযোগ্য স্থান হচ্ছে, যাত্রাবাড়ী, উত্তরা, বাড্ডা, মিরপুর ও মোহাম্মদপুর।
-- পুলিশ ও বিজিবির গুলিতে মোট ৭১ জন শাহদাতবরণ করেন।
-- প্রধান সমন্বয়ক নাহিদকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ
-- আন্দোলনের তিন সমন্বয়ক তিন মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আট দফা দাবি পেশ।
-- সমন্বয়কদের আরেকটি অংশ ৯ দফা দাবি পেশ করে।

২১ জুলাই
-- কোটা সংস্কার করে ৭% কোটা রেখে রায় প্রদান করে আদালত।
-- এদিনও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন অব্যাহত থাকে।
-- হানাদার পুলিশ ও বিজিবির নির্মম গুলিতে ৩১ জন শাহদাতবরণ করেন।
-- চার দফা দাবি পূরণের জন্য বৈষম্যবারোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কেরা ৪৮ ঘন্টা সময় বেঁধে দিলেন। চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, ইন্টারনেট সংযোগ চালু করা, শিক্ষার্থীদের আসার ব্যবস্থা করে দিয়ে হল খুলে দেওয়া, আন্দোলনের সমন্বয়কদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কারফিউ তুলে দেওয়া। এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন চারজন সমন্বয়ক।
-- নাহিদকে ব্যাপক নির্যাতন করে রাস্তায় ফেলে রেখে যায় পুলিশ।

২২ জুলাই
-- কোটা সংস্কার করে প্রকাশিত রায়ের প্রজ্ঞাপনের প্রস্তুতি চলে
-- প্রতিদিন মানুষ হত্যার প্রতিবাদে সাধারণ ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে। তবে আন্দোলন স্তিমিত হতে থাকে।
-- এদিনও ১০ জন শাহদাতবরণ করেন। এর মধ্যে কয়েকজন ছিলেন আগের আহত হওয়া।

২৩ জুলাই
-- কোটাপ্রথা সংস্কার করে প্রজ্ঞাপন জারি।
-- সরকার কয়েক হাজার মামলা দিয়ে গণগ্রেপ্তার শুরু করে।

২৪ জুলাই
-- কোটা আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ, আবু বাকের মজুমদার ও রিফাত রশীদের খোঁজ পাওয়া গেছে।
-- নিখোঁজ থাকার পাঁচ দিন পর আসিফ ও বাকেরকে চোখ বাঁধা অবস্থায় ফেলে যাওয়া হয়েছে বলে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে দুজনই জানিয়েছেন।
-- আর রিফাত আত্মগোপনে আছেন।
-- ব্লক রেইড দিয়ে গণগ্রেপ্তার চলছেই।

২৫ জুলাই
-- আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও অন্য অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই কোটা সংস্কারের যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, সেটিকে তাঁরা চূড়ান্ত সমাধান মনে করছেন না। যথাযথ সংলাপের পরিবেশ তৈরি করে নীতিনির্ধারণী জায়গায় সব পক্ষের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে প্রজ্ঞাপন দিতে হবে।
-ছাত্রদের বিবৃতি
-- শেখ হাসিনা মেট্রোরেলের ভাঙ্গা অংশ দেখে চোখের পানি ফেলতে শুরু করেছেন।

২৬ জুলাই
-- এলাকা ভাগ করে চলছে 'ব্লক রেইড'। সারা দেশে অভিযান। সারা দেশে অন্তত ৫৫৫টি মামলা। গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৬ হাজার ২৬৪।
-- সাদা পোষাকে ডিবি হারুনের সন্ত্রাসীরা হাসপাতাল থেকে ছাত্রনেতাদের তুলে নিয়ে যায়।

২৭ জুলাই
-- ১১ দিনে গ্রেপ্তার ৯ হাজার ১২১ জন। আতঙ্কে মানুষ ঘরছাড়া।
-- ছাত্রনেতাদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করতে থাকে ডিবি হারুন

২৮ জুলাই
-- মোবাইল ইন্টারনেট ১০ দিন পর সচল।
-- কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নুসরাত তাবাসসুমকে হেফাজতে নিয়েছে ডিবি হারুন।
-- ডিবি হারুন জোর করে গান পয়েন্টে ছাত্রনেতাদের দিয়ে আন্দোলন প্রত্যাহারের বিবৃতি আদায় করে।
-- আন্দোলনের তিন সমন্বয়ক মাহিন সরকার, আব্দুল কাদের ও আব্দুল হান্নান মাসুদ অজ্ঞাত স্থান থেকে আগের বিবৃতি প্রত্যাহার ও ৯ দফা দাবী নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়।

২৯ জুলাই
-- ছাত্র আন্দোলনে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালনের জন্য খুনী হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলের মিটিং-এ জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত হয়।
-- একইসাথে ছাত্রআন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে খুনসহ অন্যান্য মামলা দিয়ে কঠোর শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় গণহত্যাকারী ১৪ দল।
-- ডিবি হারুন কর্তৃক জোর করে বিবৃতি আদায়ের ঘটনায় ছাত্ররা আবার বিভিন্ন ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
-- চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, জাবি ও রাবিতে পুলিশ ছাত্রদের ওপর হামলা করে।
-- অনেক ক্যাম্পাসে ছাত্রদের সাথে শিক্ষকরাও বিক্ষোভ করে

৩০ জুলাই
-- হত্যার বিচার চেয়ে মুখে লাল কাপড় বেঁধে মিছিল করে ছাত্র ও শিক্ষকরা
-- জাতিসংঘ মহাসচিবের বিবৃতি, স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান।
-- ফেসবুকের প্রোফাইল লাল রঙের ফ্রেমে রাঙিয়েছেন সারাদেশের মানুষ। গণহত্যাকারীরা কালো ফ্রেম দিয়েছে। তবে সেটা নিতান্তই নগণ্য।
-- নাটক ও সিনেমা সংশ্লিষ্ট মানুষরা খুনী হাসিনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শণ করেন।

৩১ জুলাই
-- ছাত্ররা 'রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোস' কর্মসূচি পালন করে।
-- ৯ দফার পক্ষে জনমত গঠন করতে থাকে ছাত্ররা।
-- সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের তোপের মুখে পড়েন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের
-- ঢাবির শিক্ষকরা সমন্বয়কদের ছাড়াতে ডিবি অফিসে গেলে পুলিশ তাদের হেনস্তা করে। পরিবারের সাথেও দেখা করতে দেওয়া হয়নি।

১ আগস্ট
-- ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ভূমিকার জন্য জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।
-- ছয় সমন্বয়ককে ছেড়ে দিয়েছে ডিবি

২ আগস্ট
-- ৯ দফা আদায়ের দাবিতে সারাদেশে গণমিছিল করে ছাত্র জনতা।
-- রাজধানীসহ বিভিন স্থানে পুলিশের সাথে ছাত্র জনতার সংঘর্ষ হয়।
-- পুলিশের গুলিতে ৩ জন শাহদাতবরণ করেন। পরিস্থিতি আবারো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
-- ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে ১৫ হাজার মানুষ।

৩ আগস্ট
-- ৯ দফা না মেনে গণগ্রেপ্তার ও গণহত্যা চালু রাখার প্রতিবাদে শহীদ মিনারে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ করে ছাত্র জনতা।
-- সেনাপ্রধান তার সেনা কমান্ডার নিয়ে মিটিং করেন। সেখানে তিনি এই বার্তা পান যে, সেনাবাহিনী আর গুলি করতে প্রস্তুত নয়।
-- কয়েক লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে নয় দফা বাদ দিয়ে ১ দফার (খুনী হাসিনার পদত্যাগ) ঘোষণা দেয় ছাত্রনেতারা।
-- হাসিনা ছাত্রদের আলোচনা করার প্রস্তাব দেয়। প্রয়োজনে মন্ত্রীদের কয়েকজন পদত্যাগ করার ঘোষণাও দেন। ছাত্ররা সব আলোচনা নাকচ করে দেন।
-- আবারো ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয় সরকার।
-- শহীদ আবু সাইদের খুনী দুইজন পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত ও প্রেপ্তার করে পুলিশ।
-- ছাত্রজনতাকে রাস্তায় প্রতিহত করতে কড়া নির্দেশ দেয় খুনী হাসিনা।

৪ আগস্ট
-- ৩ তারিখের ঘোষণা অনুযায়ী 'সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি' পালন করে বাংলাদেশের জনগণ। সব ধরণের ট্যাক্স ও সব সরকারি- বেসরকারি অফিস বন্ধ করে দেয় জনতা।
-- রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ছাত্রজনতার বিক্ষোভ মিছিলে হামলা চালায় আওয়ামী সন্ত্রাসী। এদিন পুলিশের সাথে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ছাত্রদের গুলি করে। কিন্তু হাজার হাজার ছাত্র ইট পাটকেল দিয়ে সন্ত্রাসী ও হানাদার পুলিশ বিজিবিকে প্রতিরোধ করে।
-- কয়েকটি স্থানে সেনাবাহিনীও গুলি করে।
-- সারাদেশে ১৩০ জন খুন হন। এর মধ্যে ছাত্রলীগ, পুলিশ ও যুবলীগেরও কিছু সদস্য রয়েছে। লাখো ছাত্ররা এদিন সন্ত্রাসীদের অনেককে ভালোভাবে উত্তম-মাধ্যম দেয়।
-- ব্যাপক প্রাণহানি ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলার প্রতিবাদে ৬ তারিখের লংমার্চ একদিন এগিয়ে ৫ আগস্ট ঢাকামুখী লং-মার্চের কর্মসূচি দেয় ছাত্র জনতা।
-- অনেক আওয়ামী সন্ত্রাসীদের অফিস ও বাড়িতে আগুন দেয় প্রতিশোধ পরায়ন ছাত্র-জনতা।

৫ আগস্ট
-- পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ঢাকামুখী লংমার্চ পালন করে ছাত্রজনতা। যাত্রাবাড়ী ও উত্তরা পয়েন্টে লাখ লাখ জনতা শাহবাগ অভিমুখে লংমার্চ শুরু করে।
-- সকাল থেকেই ব্যাপক মারমুখী অবস্থান নেয় পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনী।
-- সারা ঢাকা শহরে খন্ড খন্ড যুদ্ধ শুরু হয় ছাত্র জনতার সাথে।
-- সকাল সাড়ে দশটার পর সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে হাসিনা পালিয়ে যায়।
-- কর্মরত পুলিশরা এই খবর না জানায় তারা জনতার সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যায়। অনেক মানুষকে তারা খুন করতে থাকে।
-- ৫ আগস্ট বিজয়ের দিনেও ১১৩ জন ছাত্রজনতা শাহদাতবরণ করেন।
-- সেনাবাহিনী প্রধান দুইটায় ভাষণ দিবেন বলে ঘোষণা দেন।
-- ১২ টায় শাহবাগের পুলিশ ও সেনাবাহিনী রাস্তা ছেড়ে দেয়।
-- ১ টায় মানুষ জেনে যায়, হাসিনা পালিয়ে গেছে।
-- সারাদেশের বিশেষভাবে ঢাকার মানুষ সব রাস্তায় নেমে নেচে গেয়ে উদযাপন করতে থাকে।
-- গলিতে গলিতে মিস্টি বিতরণ ও ঈদ মোবারক বলে কোলাকুলি করতে থাকে মানুষ।
-- রাস্তায় রাস্তায় মানুষ সিজদা দিয়ে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করতে থাকে।
-- দেশে বিভিন্ন মোড়ে থাকা স্বৈরাচার মুজিবের সকল মুর্তি ভেঙ্গে দেয় আন্দোলনকারী ছাত্রজনতা
-- পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায় ও আত্মগোপন করে। অনেকেই ছাত্রজনতার কোপানলে পড়ে খুন হয়।
-- রাজধানীর মানুষদের একটা বড় অংশ গণভবনে গিয়ে হাসিনার ওপর রাগ ক্ষোভ গণভবনের ওপর ঝাড়ে।

৬ আগস্ট
-- বাংলাদেশে উদিত হয় নতুন সূর্য। আওয়ামী হানাদার মুক্ত বাংলাদেশের নতুন রক্তিম যাত্রা শুরু হয়।

02/06/2026

আমি নিয়াভ সারাই। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে (এলএলবি) ব্যাচেলর অফ 'ল নিয়ে স্টাডি করছি।

দীর্ঘ ৬ মাস ধরে আমি ঠিকমতো ঘুমাতে পারছি না। কারণ, বর্তমানের বাংলাদেশের দৃশই আমাকে ভাবায় "নিয়াভ" বর্তমান বাংলাদেশের সকল কিছুর জন্য তোমার দায়ও আছে। কারণ, আমি জুলাই প্রোটেস্টে আসল উদ্দেশ্য না বুঝেই গিয়েছিলাম। ৫'ই আগস্টে আমি অনেক খুশি ছিলাম। কারণ, আমি ভেবেছিলাম আমাদের কাছে এসে বলা সকল দাবিগুলো তারা বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু, তাঁর একটিও বাস্তবে তো দূরে থাক, এইসব নিয়ে তারা ভাবেও নাই। আমি যদি জানতাম, এই প্রোটেস্টে অংশগ্রহণ করলে পরবর্তীতে আমার দেশের অস্তিত্ব নিয়ে কথা আসবে, ৭১ নিয়ে বিতর্ক কথা আসবে। যখন জুলাইয়ে প্রোটেস্টে হচ্ছিল, তখন বঙ্গবন্ধুর নাম নিয়ে স্রোগ্রানও হয়েছিল "বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই।" আর, ৫'ই আগস্টের পর এই দৃশ্য পুরোই বিপরীত। যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়' আমাদের দেশের সম্মান। আমাদের দেশের অস্তিত্ব। সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালেই যখন লিখা থাকে "নিজামীর বাংলায় ৭১ এর ঠাই নাই" যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে লিখা থাকে " নিজামীর বাংলায় মুক্তিযোদ্ধার ঠাই নাই। সেই জুলাই আমার দরকার নাই। যে ৭১ এর জন্যই আমার দেশের নাম বাংলাদেশ। সেই ৭১ নিয়েই চেতনা করব না তো কি ২৪ নিয়ে করবো? আমি জুলাইয়ে প্রোটেস্টে করায়,বর্তমানে আমি এই স্টেটমেন্ট দিচ্ছি যে, জুলাইয়ে শুরু থেকেই যা হয়েছিল, সবকিছু মেটিকুলাস ডিজাইন। যা ড:ইউনুস, মাহফুজ সহ অনেকে সমন্বয়ক নিজের স্টেটমেন্টে প্রকাশ করেছে। এতগুলো স্টুডেন্ট, জনগণ, পুলিশ সব ধরনের মানুষ মারা গিয়েছে শুধুমাত্র এই মেটিকুলাস ডিজাইন এর জন্যই। তাদের প্রত্যেক জনের বিচার হোক,যে সকল গুপ্তরা, ৭.৬২ এমএম দিয়ে গুলি চালিয়ে রাষ্ট্রের প্রাণে হাত দিয়েছে। পরবর্তীতে সেইগুলো আমরা জানতে ও দেখেতেও পেরেছি, যারা প্রধান আন্দোলন'কারী ছিলো তারা প্রত্যেক জন্যই কোনো না কোনো ভাবে রাজনীতিক দলের সাথে যুক্ত ছিল।যা ৫'ই আগস্টের পর সম্পূর্ণ পরিষ্কার। আমার বাবা একজন (বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর) একজন মেজর। তিনি (ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশন)অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। উনি দেশের কাজে যেহেতু নিয়োজিত আছেন, আমার বাবা হিসেবেই আমি গতকালকে বাবাকে জিজ্ঞেসা করলাম?! ("বাবা যদি আমি কোনো ভুল করে থাকি। তাহলে আমার কি করা উচিত?") বাবা আমাকে বললেন: ("অবশ্যই তোমার ভুলের জন্য তোমার ক্ষমা চাওয়া উচিত"।) হ্যাঁ। আমি ঠিক সেইটিই করতে এসেছি। আমি পুরো জাতির কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আমাকে মাফ করবেন। আমি নিজে একজন নারী হয়ে বলছি, আমি শেখ হাসিনার সময়েই নিজেকে বেশি নিরাপত্তায় অনুভব করতে পারতাম। সেইটা তখন থেকে বুঝতে পেরেছি যখন থেকে শেখ হাসিনার অভাব এই দেশে প্রয়োজনে হয়েছে। আজ কিছু স্টুডেন্টদের জন্য দেশের সকল স্টুডেন্টের নাম দেশের জনগণের কাছে এক অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্টুডেন্ট নাম ও স্টুডেন্টদেরকে ব্যবহার করে মব ও সহিংসতা করে অনেকেই ব্যবহার করছে। আর এই নিয়ে খুব বেশি স্টুডেন্টের কোন প্রতিবাদ নেই। কারণ, তারা ভাবছে সে তো স্টুডেন্ট, তার বিপরীতে কিভাবে আমি যাই? সমাধান একটাই: একটি মানুষের মূল পরিচয় তার ব্যক্তিত্ব। কোনো স্টুডেন্টও যদি কোনো মব, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি করে থাকে, তাহলে তার জন্য ভিন্ন আইন আছে বলে আমার তো মনে হয় না। সবশেষে একটি কথাই, এই জাতির জন্য শেখ হাসিনার বিকল্প শেখ হাসিনা নিজেই। আমি যেহেতু জুলাইয়ে আন্দোলনে যোগদান দিয়ে রাষ্ট্রের হৃদয়ে আঘাত এনেছি, তাই যখনই দেশের মা বোনদের নিরাপত্তা ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্যে, যখনই সময় আসবে, আমি তখনি নিজের জীবন দিয়ে হলেও জঙ্গিদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াবোই। সেইদিনি আমি মনে করবো, আমার সকল অন্যায়ের বিচার আমি নিজেই করেছি। যদি বিচার না করে আমি মারা যাই তাহলে, জাতি যেনো আমাকে মাফ করে দেয়।

Want your business to be the top-listed Media Company in Pabna?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Website

Address

River View
Pabna
রাজশাহী