JES creation
Alhamdulillah. Allah always with us.
জীবন
তোমাদের পৃথিবীর এই যান্ত্রিক জীবন আমি চাইনি। পৃথিবীর প্রতিযোগীতায় বড় হতে চাইনি। হৃদয় ভাঙার মিছিলে হেঁটে, পথ চলা শিখতে হবে এমন প্রতিযোগীতার জীবন চাইনি কখনোই।
আমি বসন্তের বাতাসে উড়ে যাওয়া শিমুল তুলার মতো কোমল থাকতে চেয়েছিলাম। একটা শামুকের মতো সরল খোলসে লুকিয়ে থাকতে চেয়েছিলাম। যান্ত্রিক কোলাহলের ভীড় ছেড়ে একটা শান্ত জীবন চেয়েছিলাম। যা হয়েছে তার কিছুই চাইনি আমি।
শুধু বেঁচে থাকার জন্যই জেনেছি, নির্ভরতার নাম করে যে লড়াই হয় সেখানে জীবনের আয়ু নিয়ে থামতে হয়। টিকে থাকার শেষ আশ্রয়ে জীবন হয় ক্ষয়।
আমার হৃদয় ভেঙে গেছে, তবুও আমি বাঁচার জন্য একটু হাসতে চাই।
জীবনের কাছে বেশি কিছু চাওয়া ছিল না, শুধু শান্তি টাই আমি সবসময় চেয়েছি। জীবন আমাকে শান্তি তো দিলই না, যতটা শান্তি চেয়েছি তার দ্বিগুণ অশান্তি দিয়েছে। জীবনটা এমন হওয়ার কথা ছিল না।
মানুষ তার প্রিয় মানুষ বা ফেলে আসা অতীত স্মৃতি যেন কোনো ভাবেই ভুলতে পারেনা। কিছু মানুষ সেই ফেলে আসা সময়, জায়গা, আর প্রিয় মানুষের রেখে যাওয়া কিছু সামান্য অস্তিত্ব নিয়ে বেচেঁ থাকে। তারা সূর্যাস্তে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করে নতুন সূর্যোদয়ের।
সবাই বলে পাশে থাকবে, কেউই থাকে না শেষ অবধি। প্রতিটা মানুষ প্রথমে আশ্বাস দেয়- 'আমি আছি', 'আমি কখনো ছেড়ে যাবো না'- কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সব প্রতিশ্রুতি হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। কেউই বুঝতে চায় না নিঃসঙ্গতা কী ভয়ানক। শত কথা, শত অনুভব, হাজারো মুহূর্ত ভাগ করে নেয়ার পরেও শেষে যখন নিঃশব্দ রাতে আমি একা হয়ে পড়ি, তখন কেউ খোঁজও রাখে না! একটা সময় ছিলো, ভেবেছিলাম আমি দুর্বল, তাই একা থাকতে কষ্ট হয়। কিন্তু সময় শিখিয়েছে, বারবার ভেঙে পড়ার চেয়ে নিঃশব্দে একা থাকা অনেক শান্তির, অনেক শক্তির। অন্তত নিজের সাথে মিথ্যে বলা লাগে না, অন্তত নিজের ছায়াটুকুও আমাকে ফেলে যায় না। এখন আমি কারো প্রত্যাশায় বাঁচি না, কারো ভালোবাসার আশায় অপেক্ষা করি না। আমি আর আমার নিঃশব্দ একাকীত্ব-এটাই আমার পৃথিবী, এটাই আমার বাস্তবতা। ভালোবাসা হারিয়ে যেতে পারে, মানুষ বদলে যেতে পারে, কিন্তু একা থাকার অভ্যেসটা একবার হলে সেটা ভাঙা যায় না। তাই এখন আর কাউকে দোষ দিই না। কষ্টগুলো নিজের ভেতর জমা রাখি, হাসি মুখে বলি- আমি ঠিক আছি। আর ভেতরে একটা ক্ষীণ আওয়াজ শুধু বলে যায়... 'শেষ পর্যন্ত তুমিই ছিলে তুমার সবচেয়ে বড় সঙ্গ...!!
আমাদের জীবনে আভিজাত্যের চেয়ে প্রয়োজনটাই বড় হয়ে দাঁড়ায়। মাসের শুরুর হাসিটা শেষের দিকে গিয়ে দীর্ঘশ্বাসে রূপ নেয়, তবুও আমরা বাইরের মানুষের কাছে হাসিমুখে থাকি। এই লড়াকু জীবন আমাদের শেখায় কীভাবে অল্পতে তুষ্ট থাকতে হয় এবং কীভাবে সীমাবদ্ধতার মাঝেও আনন্দ খুঁজে নিতে হয়। আমরা বড় কোনো প্রাসাদের স্বপ্ন দেখি না, শুধু চাই মাস শেষে আপনজনদের মুখে এক চিলতে হাসি। এই সংগ্রামই আমাদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। আজ হয়তো আপনার পকেট শূন্য, কিন্তু আপনার যে সৎ মনোবল আছে তা পৃথিবীর যেকোনো সম্পদের চেয়ে মূল্যবান। ধৈর্য ধরুন, এই দিনগুলোই আপনাকে আগামীর বড় সাফল্যের জন্য.....
কতকিছুর স্বপ্ন দেখি। এটা করবো, ওটা করবো। কাছের মানুষদের গর্ব হবো। পরিবারের মুখে হাসির কারণ হবো। নিন্দুকদের সামনে উচ্চস্বরে বলবো হ্যা আমি করে দেখিয়েছি।
এদিকে ক্যালেন্ডারের দিকে তাকাতেই দেখি বেলা ফুরিয়ে যাচ্ছে। সুত্র সাপেক্ষে জানা হয়ে গেলো পৃথিবীর নিয়ম অনিয়ম।
শুধু বদলাতে পারিনি রোজ দেখে আসা সেই পৃষ্ঠা; যে পৃষ্ঠা একবার বদলাতে পারলেই, পরের পৃষ্ঠায় লেখা আছে "দূরবীন থেকে চোখ সরাও সুদিন তোমার পাশেই।
হুমায়ূন আহমেদ বলেছেন: "একটা সময় সব কিছু মেনে নিতে হবে, যা মেনে নেওয়ার কথা ছিল না কোনো কালেই।"
একসময় আমরা যা কিছু মানতে চাইনি, প্রত্যাখ্যান করেছিলাম-জীবন তাকেই আমাদের সামনে এনে দাঁড় করায়।
সময়ের সাথে সাথে বুঝতে হয়, লড়াই থামিয়ে শান্তভাবে সেই কঠিন সত্যগুলোকেও গ্রহণ করাই শেষ কথা। এটাই মুক্তি, এটাই শান্তি
মানুষ অদ্ভুতভাবে নিজেকে সান্ত্বনা দিতে জানে। হাজারো ব্যর্থতা, অপূর্ণতা, ক্লান্তি আর দুঃখের ভিড়েও মনকে বোঝায়-"একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে।"
এই বাক্যটা যেন অন্ধকার ঘরে রাখা ক্ষুদ্র প্রদীপ, যা আলো দেয় না, তবুও নিভে যেতে দেয় না। দিন কেটে যায়, মাস গড়ায়, বছর ঘুরে আসে। আমরা অপেক্ষা করি, ভেবে নেই কোনো এক সকালের আলোয় হঠাৎ সব বদলে যাবে।
কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন- সমস্যা মুছে যায় না, ক্ষত শুকিয়ে যায় না, বরং আমরা শিখে যাই সে ব্যথার সঙ্গে বাঁচার কৌশল। "সব ঠিক হয়ে যাবে" আসলে হয় না।
বরং সময় শেখায় কিভাবে ঠিক না থাকা নিয়েই মানুষ বাঁচতে শিখে, মানিয়ে নিতে শিখে। আমরা শক্ত হই, কঠিন হই, অভ্যস্ত হয়ে যাই অস্বস্তির সঙ্গেও। এই অভ্যস্ততাকেই আমরা ভুল করে 'সব ঠিক হয়ে গেছে' ভেবে নিই।
এটাই জীবনের কঠিন পাঠ-সবকিছু একদিন ভালো হয় না, শুধু মানুষ অভ্যস্ত হয়ে যায়, অপূর্ণতার সঙ্গেই বেঁচে থাকতে।
যেদিন পৃথিবীর সকল নদী শুকিয়ে যাবে; আর কোনো বৃক্ষ থাকবেনা; থাকবেনা কোনো বিদ্যুৎ। পৃথিবী হয়ে উঠবে মহাকাশের মত শূন্য; সেদিন ধরে নিও তোমাকে ভুলে গেছি।
তোমাকে ভোলার সম্ভাবনা ততটুকুই সুস্পষ্ট, যতটুকু সম্ভাবনা দেখলে ধারণা করা যাবে অচিরেই পৃথিবীর আয়ুর অবসান ঘটবে। ক্ষীণ এই স্বল্প আয়ুতে তোমাকে ভোলা কিভাবে সম্ভব?
বেদনার নিরানব্বই পৃষ্ঠা ভুলে যাওয়া মূখ্য কোনো বিষয় না; শততম পৃষ্ঠায় যদি তুমি থাকো তবে এই একটি পৃষ্ঠা ভোলা, মহাবিশ্বের সকল আলো নিভে যাওয়ার মত অসম্ভব।
In words - Ashraf Ahmed
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
HABIGANJ