First Poem
I always depend upon Almighty Allah! because he created me!
05/08/2025
আসসালামু আলাইকুম...!প্রিয় দেশবাসী, ৫ই আগস্ট যা ইতিহাসের পাতায় ৩৬শে জুলাই নামে স্বীকৃত।সুতরাং ২০২৪ সালের এই দিনে অসংখ্য প্রানের বিনিময়ে বাংলার ছাত্র-জনতা স্বৈরাচারীনীকে হটিয়ে এনেছিল দ্বিতীয় স্বাধীনতা।
তাই আজ ৩৬শে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস।
২০২৪ সালের জুলাই মাসের কোটা আন্দোলন থেকে গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ ও গাজী রয়েছেন তাদের স্মরণে আমার একটি কবিতা "রক্তমাখা ৩৬শেশে জুলাই" নামে প্রকাশ করা হয়েছে সকলকে দেখার আমন্ত্রণ রইল। আসসালামু আলাইকুম...! সবাই ভাল থাকবেন,আল্লাহ হাফেজ।
আমার লেখা প্রকাশিত দ্বিতীয় কবিতা-
"রক্তমাখা ৩৬শে জুলাই"
আমার কবিতা"রক্ত মাখা ৩৬শে জুলাই "
02/08/2025
"সেই জুলাই মাসে,
সত্যের মুখ চেপে ধরে—
পুলিশ অসৎকে দিয়েছিল প্রশ্রয়।
তবুও, প্রতিবাদী কণ্ঠগুলো স্তব্ধ হয়নি!
তাঁরা লড়াই করেছিল সত্যের পক্ষে—
সত্যের জয় হবেই হবে—
এই বিশ্বাসে অটল ছিল— তাদের নির্ভীক হৃদয়!"
(আমার নতুন কবিতা
"রক্তমাখা ৩৬শে জুলাই"-এর একটি স্তবক পোস্ট করলাম।)
17/07/2025
১৩ ই জুলাই যৃুমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা "নজরুল ইসলাম বাবু" স্যারের মৃত্যুবার্ষিকীতে আমি অতি সাধারণ একজন মানুষ উপস্থিত ছিলাম .....।
যাইহোক ছবিগুলো আমার পেইজে পোস্ট করতে ভুলে গিয়েছিলাম;তাই আজকে পোস্ট করে দিলাম।
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত লেখক,কবি,সঙ্গীতশিল্পী 'মুস্তাফা জামান আব্বাসী ও আসমা আব্বাসী'র স্মৃতীতর্পণ অনুষ্ঠানে আমার হতভাগার উপস্থিতি তাও আবার সাংবাদিকদের সাথে অতিথি হিসেবে.....!
সবই আল্লাহর মর্জি।আলহামদুলিল্লাহ 🤲
সবাই আমার৷ জন্য দোয়া করবেন,আমি যেন অনেক বর হতে পারি এবং দেশের জন্য অনে কিছু করতে পারি।
ধন্যবাদ!সবাই ভালো থাকবেন।
আল্লাহ হাফেজ।
"৩৬শে জুলাই"
-জি.এম.সোহাগ আল-ইসলাম
একটু একটু করে,
পূর্ণ এক বর্ষ পরে-
পুনরায় ফিরে এলো জুলাই;
সেহেতু সহসা বুকের গহীনে সারাদিন-সারারাত ক্ষণে ক্ষণে,অস্থির-অস্থির অতীতের সেই অবিস্মরণীয় বিয়োগ বেদনার অনুভূতি,
ক্রমবর্ধমান অনুভব হয়!
যেন সেই জুলাই মাসে,কোটা আন্দোলন থেকে রূপান্তরিত ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে;
বাংলা মায়ের লাল-সবুজ রাঙা আঁচল বাধা অগণিত মানুষের ললাট আর ললাট!
স্লোগানের তালে তালে,যার যার উচ্চশিরের শীর্ষে উত্তোলিত,
লাল-নীল কত রং দিয়ে,
কত কত ঢং করে,
বড় বড় অক্ষরে,বাঁকা বাঁকা সাঁরিতে,
তাড়াতাড়ি লেখা সহস্র সহস্র প্লাকার্ড।
মানুষ আর মানুষ বামেতর বাহুর তর্জনী তুলে তুলে,
শোষকের কর্কশ আচরণে উর্মীর মত ফুলে ফুলে; একটানা কতদিন মিছিলে;না খেয়ে-না খেয়ে; কাঠের মত শুকিয়ে!
স্বরভাঙ্গা গলায় বারবার চেঁচিয়ে;সেকি বুকফাটা চিৎকার-
"স্বৈরাচার স্বৈরাচার চাইতে গেলাম অধিকার,
হয়ে গেলাম রাজাকার!"
সে যেন বিদ্রোহী কবি,কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতার মুক্তক ছন্দের গন্ধ মাখা,
সেই সুরে সুর করা বিদ্রোহী চিৎকার!
সে কি জ্বালাময়ী চিৎকার-
যেন বাংলার বাঘ,শেরে বাংলা এ.কে.ফজলুল হকের সেই বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর!
আরো কত রক্ত মাখা স্মৃতি;
পহেলা জুলাই থেকে শেষ অবধি,
অলি অলিতে-গলিতে লোকে লোকে লোকারণ্য; বাহন শূন্য প্রত্যেক রাজপথে।
এমনকি স্বৈরাচারিনী পালিয়ে যাওয়ার পরে,
যে ছয় ঘন্টা গণহত্যা চালিয়েছিল সাভারে।
সবকিছু এক লহমায় মনে পড়ে গেল;
শুধু বাংলাদেশে নয়!
কী কী হয়েছিল,বিশ্বের কোথায় কোথায়!
অতঃপর সেই অদম্য স্মৃতিগুলো "চল্ চল্ চল্" রণ সঙ্গীতের তালে তালে;
দলে দলে মিছিলে-সব দল এক হয়ে!
হৃদয়ের ভেতর থেকে তৎক্ষণাৎ বেরিয়ে; একসাথে জড়ো হল মম দুই দুটি লোচনের তাঁরায় তাঁরায়!!!
সে কি স্মৃতির ভিড়;
যা আমি বোঝাতে পারবো না কোন ভাষায়,
কোন অভিনব অঙ্গভঙ্গিতে,কিংবা নতুন কোন ইশারায়!
শুধু সেই স্মৃতিগুলো যেন ৭১এর পঁচিশে মার্চ, কালো রাতে-সাইমন ড্রিং এর ক্যামেরায় ধারণকৃত সাদাকালো দৃশ্যের মত হয়ে;
একটু পর-পর ভেসে ওঠে,
আমার লাগাতার, অপলক দৃষ্টির-
বিষাদ ভরা এক একটি স্পষ্ট কল্পনায়।
কিন্তু এই জুলাই কি সেই জুলাই?
যে জুলাই বাংলার ইতিহাসের নতুন পাতায়;
৭১এ নয় মাস যুদ্ধ করে অর্জিত-
বিজয় কেতনের লাল বৃত্তের মত;
ছাত্র জনতার গতরের লাল-লাল রক্ত দিয়ে লেখা;
৫২এর একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনে রফিক,জব্বার,বরকত,সালাম,শফিউর আরো অনেকের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হওয়ার মতো আরেকটি রক্তাক্ত অধ্যায়!
এই জুলাই কি,সেই জুলাই?
যে জুলাই মাসে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে, বেরোবি'র ইংরেজি বিভাগের ১২ তম ব্যাচের মেধাবী ছাত্র আবু সাঈদ,
দুই হাত দুই দিকে ছড়িয়ে,
এক হাতে লাঠি ছিল তাই নিয়ে;
সশস্ত্র পুলিশের সম্মুখে-বক্ষ উঁচু করে;
বেরোবি'র প্রধান ফটকের সামনে অটল হয়ে দাঁড়ায়।
সে ভেবেছিল বোধ হয়,তাঁর ঐ দেশ প্রেম ভরা বুকে পুলিশ কখনো গুলি করবে না।
হেতু পুলিশতো আমাদের পুলিশ;
পুলিশ আমাদের অহংকার!
তাঁরা তো সর্বদা নিয়োজিত আমাদের সেবায়।
অথচ সেই পুলিশ একের পর এক গুলি করে, ছিদ্র করে দিয়েছিল তার উন্নত বুক!
তাৎক্ষণিক তার বুকের ভেতর থেকে গর গর করে বেরিয়ে পড়েছিল;গরম গরম রক্ত!
সে কী রক্তের স্রোত!
যেন তার ঐ উন্নত বুক রক্তে রক্তে পরিণত হয়েছিল রক্ত গঙ্গায়।
তারপর স্বীয় অবস্থান থেকে সরে সড়কের বিভাজক পার হয়ে মাটিতে হাত রেখে বসে পড়েছিল বিপরীত রাস্তায়।
এরপর সে বোধ হয় ওই রক্ত ভেজা বুকে আবারো রুখে দাঁড়াতে চেয়েছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে।
পড়ন্ত উঠে দাঁড়াতেই মাত্র হাটতে শিখেছে এমন শিশুর মত শারীরিক ভারসাম্য হারিয়ে,
ঢলে পড়েছিল উপর্যুক্ত সড়কের পাশে- ক্ষত-বিক্ষত বুকের তীব্র যন্ত্রণায়!
তখন মৃত্যু তাকে খুব আদর করে,
একটু একটু করে সবটুকু যন্ত্রণা দিয়ে-
ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছিল চিরতরে;
হাসপাতালে নেয়ার পরে,
দায়িত্ব রত চিকিৎসক দুঃখিত চিত্তে-
আমতা আমতা স্বরে জানায়,
"সি ইজ নো লংগার উইথ আচ !"
তিনি আর ফিরবে না কখনো,
আমাদের প্রাণের দাবি নিয়ে-বাংলার রাজপথে;
তিনি আর ফিরবে না কখনো বিরোধ ভরা কমলালেবুর মতো গোলাকার এই দৃষ্টিনন্দন বিশাল বসুন্ধরায়!!!
এই জুলাই কি সেই জুলাই?
যে জুলাই মাসে চার বছরের ছোট্ট আহাদ,
বাসার বারান্দায় পিতা মাতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে; বড্ড ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল নিজস্ব কিছু কৌতূহলী পরিকল্পনায়!
আকস্মিক বাতায়নের বাইরে থেকে একটি সোচালো গুলি শহরের অবাধ্য ধুলির মত উড়ে এসে প্রবেশ করেছিল তারা বামেতর চোখের কোনায়!
সাথে সাথে কাউকে কোন কিছু না বলে,
প্রাণহীন পুতুলের মত লুটিয়ে পড়েছিল বাবার হাত ঘেষে সেখানেই সেই বারান্দার তলায়!
যার বাবার বুকেই অনেক ভালো লাগে;
যে বাবার বুকেই থাকতে চেয়েছিল সর্বসময়!!
এই জুলাই কি সেই জুলাই?
যে জুলাই মাসে ১৩ বৎসরের কিশোর মোবারক,
আন্দোলন দেখতে গিয়ে ধরণীর পৃষ্ঠ থেকে চিরতরে নিয়েছিল চিরবিদায়।
যে তার পিতার সাথে কখনো মাঠে কৃষি কাজ করত,
আবার কখনো দুধ বিক্রি করতে বাসায় বাসায়।
সে বড্ড পারদর্শী ছিল খেলাধুলায়।
মাকে বলেছে মা আমার নেমপ্লেট আসবে।
কত স্বপ্ন ছিল তার দুই দুটি চোখে।
হয়ত আগামীতে আরো অনেক ভালো করতো;
খেলাধুলার মাধ্যমেই হয়ত নিজেকে একদিন তুলে ধরত বিশ্বময়।
এই জুলাই কি সেই জুলাই
যে জুলাই মাসে-
আন্দোলনকারী নাফিসের রক্ত ভেজা দেহ পড়েছিল উপুর হয়ে যেন সে তন্ময় হয়ে পড়েছিল স্রষ্টার অদৃশ্য পদে গভীর প্রার্থনায়।
একজন মানবিক রিক্সাওয়ালা বিবেকের তাড়নায়
সেই রক্ত ভেজা দেহ তুলেছিল রিক্সায় তাকেও গুলি করার জন্য এক নির্লজ্জ পুলিশ আরেক নির্লজ্জ পুলিশকে অনুমতি দেয়।
এক সাংবাদিক উক্ত দৃশ্যের চিত্র ক্যামেরায় ধারণ করতে গেলে তার প্রাণের প্রিয় জননীকে তুলে অসভ্য পুলিশ অশ্লীল ভাষায় গালাগাল দেয়।
এই জুলাই কি সেই জুলাই?
যে জুলাই মাসে বিরিয়ানির লোভে কতগুলো মানুষরূপী ক্ষুধার্ত পশুরা,
ঝাপিয়ে পড়েছিল সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর উত্তপ্ত করিতেছ তুলেছিল আমাদের স্বপ্নের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
ওরা পাক- বাহিনীর চেয়েও জঘন্য
হেতু ওরা আঘাত করেছিল নারী শিক্ষার্থীদের নরম শরীরে
তাই ওরা বাহ্যিক দৃষ্টিতে মানুষের মত হলেও;
ওরা প্রকৃত অর্থে কোন মানুষ নয়।
এই জুলাই কি সেই জুলাই?
যে জুলাই মাসে - রামপুরা রাজপথে ;
পুলিশের গুলি আসে লেগেছিল রিক্সাওয়ালা ইসমাইলের মাথায়
সাথে সাথে মস্তকের ভেতর থেকে রক্তমাখা মগজ গড়গড় করে বেরিয়ে পড়েছিল রাস্তার ফুটপাতে।
তারপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ডেল্টা হেলথ কেয়ার হাসপাতালে।
এগিয়ে আসেনি কোন চিকিৎসক।
পাহাড়ি ঝর্ণার মত শরীর থেকে সিড়িতে গড়িয়ে পড়ছিল তাজা তাজা রক্ত ।
যেন সেই রক্তের গন্ধ এখনো মিশে আছে ডেলটা হেলথ কেয়ার হাসপাতালের সোপানের থরে থরে প্রতিটি ধাপের কোনায় কোনায়।
এই জুলাই কি সেই জুলাই?
যে জুলাই মাসে - ঢাকা যাত্রাবাড়ীর কাজলায়; পুলিশের ছেলে তাইম পুলিশের গুলিতে রক্ত ভেজা শরীরে বসে বসে ঘুমন্ত অতন্দ্র প্রহরীর মত মতো লুটিয়ে পড়েছিল মাতৃভূমির আদর মাখা ধুলোয়।
বাঁচাতে এসেছিল যে তার নাম রাহাত।
সেও এড়াতে পারেনি তৎকালীন পুলিশের নিষ্ঠুর আচরণ থেকে।
তাকেও গুলি করেছিল নির্দয় পুলিশ তার ঠিক বাম পায়।
এই জুলাই কি সেই জুলাই?
যে জুলাই মাসে বাংলাদেশী ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনাল এর ছাত্র মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ। পানি পানি, কারো পানি লাগবে,পানি এমন একটি সুন্দর সাবলীল প্রশ্ন;
উচ্চস্বরে বারবার ছুরি দিয়েছিল শহরের এলোমেলো ধুলো মাখা হাওয়ায়।
যে যেখানেই থাকুক,
যার পিপাসা লাগুক,
যেন তার এই এই প্রশ্নবোধক আহ্বান বজ্র ধ্বনির মতো তাদের কানে পৌঁছে যায়।
যার প্রয়োজন শুধু সাড়া দেবে
তার কাছে বারির বোতল নিয়ে পাখির মত ছুটে যাবে সে।
সে কী উল্লেখযোগ্য মানবতা
সে কী সুন্দর শিক্ষনীয় বিষয়
উচ্চারণ ছিল কত স্পষ্ট।
কি যেন এসে লেগেছিল নয়নের কোনায় এক চোখ বুঝে বুঝে আবারো সেই একই প্রশ্ন ছুড়েছিল প্রতি প্রতিকূল আবহাওয়ায়!
কারো পানি লাগবে পানি ধরে পড়েছিল রাজপথের মাঝখানে চলে যায় কিন্তু তারে রেখে যাওয়া এমন অকৃত্রিম মানবতা আমাদের নতুন কিছু শেখায়
এই জুলাই কি সেই জুলাই?
যে জুলাই মাসে-মিলিটারি অব সাইন্স এন্ড টেকনোলজির বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র শায়ক আসহাবুল ইয়ামিনেকে পুলিশ গুলি করে আহত করে!
তারপর তার জীবন্ত দেহ সাঁজোয়া যান থেকে আবর্জনার পূ মত ছুড়ে ফেলে দেয় বেশ ঢালাই আবার এক পুলিশ ট্রেনে হয়েছে কিছু দূরে রেখে দেয় পরে আবার থেকে সড়কের মধ্যবর্তী বেষ্টনীর উপর দিয়ে টেনে হেঁচড়ে ছুঁড়ে ফেলে দেয় অপর পাশের সংলগ্ন রাস্তায়!
এই জুলাই কি সেই জুলাই?
যে জুলাই মাসে-
ছয় বছরের রিয়া বাড়ির ছাদে খেলছিলএমন অবস্থায় গুলির আওয়াজ পেয়ে তার বাবা তাকে কোলে তুলে নেয়।
সহসা উড়োজাহাজ থেকে একটি গুলি উড়ে এসে বিধে যায় তার ছোট্ট মাথায়।
ডানা ভাঙ্গা পাখির মত ছটফট করছিল-আরো কিছুদিন সে থাকতে চেয়েছিল এই বসুধায়।
কিন্তু সে থাকতে চাইলেও তার জীবনের অবসান এভাবেই লেখা ছিল তাঁর নিয়তির খাতায়।
এই জুলাই কি সেই জুলাই যে জুলাই মাসে সন্ধ্যা আইন জারি করে বন্ধ করে দিয়েছিল সমস্ত পথঘাট।
মেহেনতি মানুষের সবধরনের আয়।
তাই অসংখ্য মানুষ ঘর ভাড়া আর ক্ষুধার জ্বালায় বাধ্য হয়ে।
বন্দী হয়েছিল চড়া সুদের ঋণের খাঁচায়।
এই জুলাই কি সেই জুলাই?
যে জুলাই মাসে
অন্তর্জাল বন্ধ করে অন্ধ করে দিয়েছিল গোটা দেশ।
যেন কেউ কিছু জানতে না পারে;
সবকিছু রাখতে চেয়েছিল মিথ্যের চাদরে মুরিয়ে সারা বিশ্বের অজানায়।
বলেছিল কৃত্রিম উপগ্রহে অভ্যন্তরে নাকি বৃষ্টির পানি ঢুকেছে।
কত বড় মেকি দিয়ে ঢেকেছিল যত সব অনিয়ম অন্যায়।
তৎকালীন সরকার কতটা নির্বোধ ভেবেছিল জাতিকে।
অদ্য তা ভাবতেও আমাদের ভীষণ লজ্জা হয়!
এই জুলাই কি সেই জুলাই?
যে জুলাই মাসে আন্দোলন কর্মসূচি বানচাল করার নিমিত্তে ডিবি হেফাজতের নাম করে সমন্বয়কদের তুলে নিয়ে ইচ্ছে মতো নির্যাতন করে কর্মসূচি প্রত্যাহারের বিবৃতি নিয়ে সেই দৃশ্য বাংলার মুক্তি কামি জনতাকে বিভ্রান্ত করার লক্ষ্যে একযোগে প্রচার করেছিল বিভিন্ন মুদ্রিত মাধ্যম ও দুর দর্শণের পর্দায়।
সেদিন সমন্বয়করা সাংকেতিক ভাষার মাধ্যমে
বোঝাতে সক্ষম হয়েছিল যে এই তুচ্ছ বিবৃতি জোর করে দেওয়ানো হচ্ছে এই হেন বিবৃতি তাদের হৃদয়ের কথা নয়।
বরং তোমরা সংগঠিত হও আন্দোলন চলমান থাকবে
সত্যিই সেদিন তারা হাতের অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে জাতির সম্মুখে তুলে ধরেছিল তাদের সুপ্ত মেধার পরিচয়!
এই জুলাই কি সেই জুলাই যে জুলাই মাসে ঢাবি সহ প্রায় সকল সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়।
তারপর গোটা দেশের সকল শিক্ষার্থীরা দাবানলের মতো জ্বলে ওঠে এবং নতুন করে আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় যা পরবর্তীতে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে রূপরূপান্তরিত হয়।
এই জুলাই কি সেই জুলাই
যে জুলাই মাসে তৎকালীন সরকারের গোপন নির্দেশে ইউজিসি বন্ধ করে দিয়েছিল সকল সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো।
শিক্ষাঙ্গন থেকে জোর করে বের করে দেয়া হয়েছিল।
কেটে দিয়েছিল ওয়াইফাই সংযোগ
বন্ধ করে দিয়ছিল পানির লাইন।
শিক্ষার্থীরা সেদিন কোথায় যাবে,কোথায় থাকবে।
পথশিশুর মত হয়ে পড়েছিল নিস্ব- নিরুপায়।
এই জুলাই কি সেই জুলাই?
যে জুলাই মাসে সড়কের মোড়ে মোড়ে,
গলির মুখে মুখে, হাতে বড় বড় লাঠি আর ধারালো রামদা নিয়ে চেয়ার পেতে বসেছিল আওয়ামী দাদারা।
চোখের কালো কালো চশমা সে কি ভয়ংকর চেহারা
যেন তারা মানুষ নয় সুদূর আফ্রিকার জঙ্গল থেকে আগত এক একটা জানোয়ার।
বোধহয় মাঝে মাঝে এদেরকেই ডিসকভারি চ্যানেলে দেখা যায়।
এই জুলাই কি সেই জুলাই?
এই জুলাই সেই জুলাই নয়।
সেই জুলাই তো এক অভূতপূর্ব দুঃসময়!
যা এখনো স্মরণে আসলে-
আমাদের অনেকের শরীর সাথে সাথে-
বরফের সদৃশ হিম হয়ে যায়!...........
------------------------------------------------------------
------------------------------------------------------------
-----------------------------------------------------------
সেই জুলাই শুধু জুলাই ছিল না;
সেই জুলাই আদি থেকে অন্ত-
ছিল শুধু ভয় আর ভয়!!
কোন সচেতন,স্বাভাবিক,মানবিক মানুষ-
মনে হয়,নিশিথে ঠিকমতো একটু ঘুমোতে পারেনি প্রতিটি মুহূর্ত কেটেছে কখনো দুঃসপ্ন আবার
কখনো দুশ্চিন্তায়!
সেই জুলাই শুধু জুলাই ছিল না!
সেই জুলাই মাসে ক্ষমতাসীন অশুভ শক্তি; উল্লাসে মেতে উঠেছিল রক্তের হোলি খেলায়!
তখন যারা রাজপথে আন্দোলনে ছিল তারা কেউ কখনো ভাবেনি অন্তত একজনও ফিরে যাবে তাঁদের আপন ঠিকানায়!
তারা শুধু এটাই ভেবেছিল,
মৃত্যু যদি হয় বীরের মতো হোক;
হয় বিজয় অন্যথায় পরাজয়!
তবুও কাপুরুষের মত হার মানবে না।
প্রয়োজনে শরীরে সঞ্চিত সবটুকু রক্ত ঢেলে দেবে স্বদেশের নিমিত্বে!
তবুও দাসের মত কখনো মস্তক অবনত করবে না কোন শোষকের পায়।
তাঁরা ছিল সিদ্ধান্তে গিরির মত অটল;
স্ব-স্ব অবস্থান থেকে এক চুলো নড়বেনা।
ঐ কান্ডজ্ঞানহীন নিষ্ঠুর শাসকের কর্কশ কথায়!
আর এই জুলাই তো এই জুলাই।
এই জুলাই সেই জুলাই নামে নামে হুবহু।
সেহেতু সেই জুলাই-সেই স্মৃতি বার বার মনে পড়ে যায়।
তাই এই জুলাই সেই জুলাইয়ের ধারক, স্মারক তাই বলে তুলনায় সমান কিন্তু নয়!
তাছাড়াও এই জুলাই সেই;
জুলাই পরিস্থিতির দিক থেকে,
এবং সংখ্যাবাচক বিশেষণে-যে ব্যবধান বিদ্যমান
তা খালি চোখে স্পষ্ট দেখা যায়।
যেমন,এই জুলাই তো খুব স্বাভাবিক জুলাই;
এই জুলাই মাসে তো সেই জুলাই মাসের মতো তেমন কোন রক্তাক্ত বিগ্রহ নাই।
এবং এই জুলাই সংখ্যাবাচক বিশেষণেও ভিন্ন হেতু এই জুলাই ৩১ শে জুলাই।
আর সেই জুলাইতো ছিল বর্বরতায় নরকের মতো উত্তপ্ত,
সংখ্যাবাচক বিশেষণেও অন্যরকম,অনন্য।
অনন্য উপমায় উপমেয়, যার কোন তুলনা নাই। সেই জুলাই মানে সেই জুলাই
সেই জুলাই আমাদের ছাত্র জনতার লাল লাল রক্তমাখা ৩৬শে জুলাই!
(সংক্ষেপিত)
Shout out to my newest followers! Excited to have you onboard! Kathad Ashok, Tano Tano
আমি এলোকেশ ঝড় অকাল বৈশাখীর;
আমি বিদ্রোহী আমি বিদ্রোহী সুত-বিশ্ব বিধাতৃর☝️
Click here to claim your Sponsored Listing.