Modelling pappu
I'm a little normal
Love to be cheerful
Some people
I love a lot Like my parents And my friends my life is very nice
24/04/2024
ল্যাম্পি রোগের কারণ ও প্রতিকার :
লাম্পি স্কিন রোগ যে কোনো বয়সের গরুর ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ যার ফলে চামড়ার ওপর গুটি দেখা যায়। ভাইরাসটি Poxviridae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত Capripoxvirus গণের ভাইরাস। ভেড়া ও ছাগলের পক্স ভাইরাসের সাথে এই ভাইরাসের খুবই সাদৃশ্য পাওয়া যায়। এই ভাইরাস গরু ছাড়া মহিষেও রোগ ছড়াতে পারে। ছাগল ও ভেড়ায় প্রতিলিপি তৈরি করলেও এরা লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয় না। এছাড়াও এই ভাইরাস মানুষকে আক্রমণ করে না।
প্রথম লাম্পি স্কিন রোগের লক্ষণ পাওয়া গিয়েছিল জাম্বিয়ায় ১৯২৯ সালে। এরপর রোগটি দক্ষিণ ও পশ্চিম আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়ে। রোগটি কখনও কখনও মহামারী আকারে দেখা দেয় আবার কখনও কখনও বিক্ষিপ্তভাবে ছড়ায়। বাংলাদেশে এ বছরের ২১ জুলাই২০১৯ চট্টগ্রামে প্রথম এই রোগাক্রান্ত গরুর সন্ধান পাওয়া যায়। বর্তমানে প্রায় সারাদেশেই রোগটি কমবেশি পাওয়া যাচ্ছে।
লাম্পি স্কিন রোগ বাংলাদেশের পর ভারতে পাওয়া যায় ২৫ আগস্ট। এর পর দিন অর্থাৎ ২৬ আগস্ট রোগটি পাওয়া যায় চীনে। সুতরাং সহজেই অনুমেয় রোগটি কত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
সাধারণত মশা, মাছি ও আঁটালির (Tick) মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়। তবে কোন ধরনের মশা, মাছি বা আঁটালি তার বিষয়ে এখনও পরিষ্কার জানা যায়নি। পরীক্ষামূলকভাবে আফ্রিকায় তিন ধরনের আঁটালির কথা জানা যায় যেগুলো এই ভাইরাস বহন করে অন্যত্র নিয়ে যায়।
ভাইরাস আক্রান্ত প্রাণীর লালা, খাদ্য ও পানি, আক্রান্ত প্রাণীর সাথে সুস্থ প্রাণীর সহাবস্থান এবং একই সুঁই বিভিন্ন প্রাণীতে ব্যবহারের মাধ্যমে রোগটি ছড়াতে পারে। সাধারণত গ্রাম্য হাতুড়ে চিকিৎসকরা স্থায়ী সুঁই ও সিরিঞ্জ ব্যবহার করেন। যার ফলে তাদের মাধ্যমেও অজান্তেই রোগটি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও আক্রান্ত প্রাণী বিভিন্ন স্থানে পরিবহনের মাধ্যমেও রোগটি বিস্তার লাভ করতে পারে। বাইরে থেকে কেনিয়ায় মহিষ পরিবহনের ফলে সেখানে রোগটি ধরা পড়েছিল বলে দাবি করা হয়।
এ রোগে শতকরা ৫ থেকে ৫০ ভাগ গরু আক্রান্ত হয়। আক্রান্ত গরুর চামড়ার ব্যাপক ক্ষতি হয়। চোখ দিয়ে পানি পড়ে, লালা ঝরে, নাসারন্ধ্রে প্রদাহ হয়। পরিশেষে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে।
গরু দুর্বল হয়ে পড়ে এবং জ্বর হয়। ক্ষুধামন্দা দেখা দেয় ফলে খাবার খেতে চায় না। শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুটি দেখা যায়। এই গুটি অনেক সময় খসে পড়ে। ফলে চামড়ায় ক্ষত সৃষ্টি হয়। যেখানে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে ও রোগের তীব্রতা বেড়ে যায়। শরীরের নিচের দিকে পানি জমতে থাকে। এ রোগে শতকরা ৪০ ভাগ পর্যন্ত গরুর মৃত্যু হতে পারে। তবে সাধারণত শতকরা ১ থেকে ৩ ভাগ গরু মারা যায়। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
সচেতন হওয়া জরুরি। কারণ রেজিস্ট্রার্ড প্রাণী চিকিৎসকের অপর্যাপ্ততার সুযোগে এক শ্রেণির হাতুড়ে চিকিৎসক না বুঝেই ভুল চিকিৎসা দিয়ে খামারীদের ক্ষতি করছে। এছাড়াও যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবে কিছু কিছু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নিয়মনীতির পাশ কাটিয়ে অসচেতন খামারীদের কাছে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ বিক্রি করছে। অথচ লাম্পি স্কিন রোগের চিকিৎসায় যথাযথভাবে রোগ শনাক্তকরণ জরুরি। যার জন্য একজন রেজিস্ট্রার্ড ভেটেরিনারিয়ান বা প্রাণী চিকিৎসকেরই প্রয়োজন।
অবশ্যই কোনো রোগের চিকিৎসায় রোগটি যথাযথভাবে শনাক্ত করতে হবে। কারণ একই ধরনের উপসর্গ একাধিক রোগে দেখা যায়। লাম্পি স্কিন রোগের উপসর্গ সিউডো লাম্পি স্কিন ডিজিজ, ডার্মাটোফিলাস কঙ্গোলেনসিস, বোভাইন প্যাপিলোস্টমাটাইটিস, সিউডো কাউপক্স, গোবসন্ত, কিউটেনিয়াস টিউবারকুলোসিস, ডেমোডিকোসিস, পতঙ্গের কামড়, আর্টিকারিয়া, আলোক সংবেদনশীলতা, রিন্ডারপেস্ট, ডার্মাটোফিলোসিস, বেসনয়টিওসিস ইত্যাদির সাথে মিলে যেতে পারে।
রোগ প্রতিরোধে চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক টিকা প্রদান করতে হয়। এছাড়াও আক্রান্ত প্রাণীকে অন্যত্র পরিবহন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রাণী আমদানি করলে সেগুলোকে আলাদা রেখে কিছুদিন পরিচর্যা করতে হবে। এছাড়াও সরকারিভাবে ইউনিয়ন পর্যায়েও ভেটেরিনারি সার্জন বা প্রাণী চিকিৎসক নিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে।
লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হলে ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়। কারণ এতে প্রাণী মারাত্মকভাবে শুকিয়ে যায়, দুধ উৎপাদন হ্রাস পায়, গাভীর বাছুর নষ্ট হয়, উর্বরাশক্তি কমে যায়। এছাড়াও খোঁড়া হলে হালচাষ করা যায় না। তবে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হবে চামড়া শিল্পের জন্য। কারণ গরু সুস্থ হলেও চামড়া মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
যাই হোক, যেহেতু লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গরুর মৃত্যুহার কম এবং যথাযথ পরামর্শের মাধ্যমে রোগটি থেকে গরুকে বাঁচানো যায়। এছাড়াও মানুষকে আক্রমণ করে না। তাই ভীত না হয়ে প্রয়োজন খামারির সচেতনতা। কারণ তাদের অসচেতনতার কারণেও অনেক আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।
প্রতিকার :প্রত্যেক বছর এপ্রিল- মে মাসে ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ এর টিকা প্রয়োগ করে গরুকে এই রোগের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব । প্রত্যেকটা গরুকে আলাদা আলাদা সুই দিয়ে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা উচিত এতে করে রোগের প্রাদুর্ভাব কমানো সম্ভব।
Click here to claim your Sponsored Listing.