Learn Islam
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Learn Islam, Education, Nabakalash, Wapda, Matlab Bazar.
ইসলামী দা'ওয়াহ
(কোন আন, সুন্নাহ ভিত্তিক)
তুমি বলঃ এটাই আমার (আল্লাহর) পথ; প্রতিটি মানুষকে আমি আহবান করি সজ্ঞানে, আমি এবং আমার অনুসারীগণও; আল্লাহ মহিমান্বিত এবং যারা আল্লাহর সাথে শরীক স্থাপন করে আমি তাদের অন্তভুর্ক্ত নই। সূরা ইউসুফ ১২:১০৮
17/06/2026
প্রাণ হানি ছাড়া যেসব অপরাধ এর ইসলামী ফিকাহ।
17/06/2026
প্রাণ হানি ছাড়া যেসব অপরাধ। ইসলামি ফিকাহ।
17/06/2026
ভুল বশত হত্যার ইসলামিক ফিকাহ।
یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ ضُرِبَ مَثَلٌ فَاسْتَمِعُوْا لَهٗ ؕ اِنَّ الَّذِیْنَ تَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ لَنْ یَّخْلُقُوْا ذُبَابًا وَّلَوِ اجْتَمَعُوْا لَهٗ ؕ وَاِنْ یَّسْلُبْهُمُ الذُّبَابُ شَیْـًٔا لَّا یَسْتَنْقِذُوْهُ مِنْهُ ؕ ضَعُفَ الطَّالِبُ وَالْمَطْلُوْبُ ۟
হে মানুষ, একটি উপমা পেশ করা হল, মনোযোগ দিয়ে তা শোন, তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাক তারা কখনো একটি মাছিও সৃষ্টি করতে পারবে না। যদিও তারা এ উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়। আর যদি মাছি তাদের কাছ থেকে কিছু ছিনিয়ে নেয়, তারা তার কাছ থেকে তাও উদ্ধার করতে পারবে না। অন্বেষণকারী ও যার কাছে অন্বেষণ করা হয় উভয়েই দুর্বল।
O people, here is a parable set forth to you, so listen to it carefully: All those whom you invoke besides Allah can never create (even) a fly, even though they all join hands together for that. And if a fly snatches something away from them, they cannot release it from its possession. (Equally) feeble are the invoker and the invoked.
Al-Hajj - Ayah 73
وَلَقَدْ ذَرَاْنَا لِجَهَنَّمَ كَثِیْرًا مِّنَ الْجِنِّ وَالْاِنْسِ ۖؗ لَهُمْ قُلُوْبٌ لَّا یَفْقَهُوْنَ بِهَا ؗ وَلَهُمْ اَعْیُنٌ لَّا یُبْصِرُوْنَ بِهَا ؗ وَلَهُمْ اٰذَانٌ لَّا یَسْمَعُوْنَ بِهَا ؕ اُولٰٓىِٕكَ كَالْاَنْعَامِ بَلْ هُمْ اَضَلُّ ؕ اُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْغٰفِلُوْنَ
আর অবশ্যই আমি সৃষ্টি করেছি জাহান্নামের জন্য বহু জিন ও মানুষকে। তাদের রয়েছে অন্তর, তা দ্বারা তারা বুঝে না; তাদের রয়েছে চোখ, তা দ্বারা তারা দেখে না এবং তাদের রয়েছে কান, তা দ্বারা তারা শুনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং তারা অধিক পথভ্রষ্ট। তারাই হচ্ছে গাফেল।
Surely We have created for Hell a lot of people from among Jinn and mankind. They have hearts wherewith they do not understand, eyes wherewith they do not see, and ears wherewith they do not hear. They are like cattle. Rather, they are much more astray. They are the heedless.
Al-A'raaf - Ayah 179
Tafsir IBN Kathir
একবার রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর কোন এক আনসারীর ছেলের জানাযায় হাযির হওয়ার সুযোগ ঘটে। হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ “আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে জিজ্ঞেস করি, হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! এ ছেলেটি তো জান্নাতের একটি পাখী! সে কোন খারাপ কাজও করেনি এবং জাহান্নাম তার ঠিকানাও নয়।” তিনি তখন বলেনঃ “হে আয়েশা (রাঃ)! তা হলে শুননা। আল্লাহ্ তা'আলা জান্নাত সৃষ্টি করেছেন এবং যারা জান্নাতবাসী হবে তাদেরকেও সৃষ্টি করেছেন। আর এই জান্নাতবাসীদের জান্নাতের অধিকারী হওয়ার ফায়সালা ঐ দিনই করা হয়েছে যেই দিন তারা আদম (আঃ)-এর পৃষ্ঠে ছিল। আবার তিনি জাহান্নাম ও জাহান্নামবাসীকে সৃষ্টি করেছেন যখন তারা আদম (আঃ)-এর পৃষ্ঠেই ছিল।” হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, আল্লাহ তা'আলা মায়ের গর্ভাশয়ে একজন ফেরেশতা পাঠিয়ে থাকেন যিনি ঐ গর্ভাশয়ের সন্তান সম্পর্কে চারটি বিষয় লিপিবদ্ধ করে নেন। (১) জীবিকা, (২) বয়স, (৩) ভাল আমল এবং (৪) মন্দ আমল। আর এ কথা তো পূর্বেই বর্ণিত হয়েছে যে, আদম (আঃ)-এর পৃষ্ঠদেশ থেকে আল্লাহ তা'আলা যখন তাঁর সন্তানদেরকে বের করেন। তখন তাদেরকে ডানদিক বিশিষ্ট এবং বামদিক বিশিষ্ট এই দু’টি দলে বিভক্ত করেন। একদল জান্নাতবাসী এবং অন্য দল জাহান্নামবাসী। তিনি বলেনঃ আমি কোনই পরওয়া করি না যে, কে নিজেকে জান্নাতবাসী রূপে গড়ে তুলছে এবং আমি এরও কোন পরওয়া করি না যে, কে নিজেকে জাহান্নামবাসী রূপে গড়ে তুলছে। এ ব্যাপারে বহু হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আর তাকদীরের মাসআলাটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা। এখানে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়ার তেমন কোন সুযোগ নেই।
ইরশাদ হচ্ছে- তাদের অন্তর তো রয়েছে কিন্তু তারা অনুধাবন করে না । চক্ষু রয়েছে কিন্তু দেখে না। কান রয়েছে কিন্তু শ্রবণ করে না। এ জিনিসগুলোকে হিদায়াত লাভ করার জন্যে কারণ বানানো হয়েছিল। কিন্তু ওগুলো দ্বারা তারা মোটেই উপকৃত হয়নি। যেমন আল্লাহ তাআলা অন্য জায়গায় বলেনঃ “তাদেরকে কর্ণ, চক্ষু ও অস্তকরণ দেয়া হয়েছে, কিন্তু ওগুলো দ্বারা তাদের কোনই উপকার করেনি। কেননা, তারা ওগুলো দ্বারা কাজ নেয়নি এবং আল্লাহর আয়াতগুলোকে অস্বীকার করে বসে। মুনাফিকদের ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ “তারা বধির, মূক এবং অন্ধ। সুতরাং তারা ফিরবে না।” আর কাফিরদের ব্যাপারে বলা হয়েছেঃ “তারা বধির, মূক ও অন্ধ। সুতরাং তারা বুঝবে না।”
আল্লাহ পাক ঘোষণা করছেনঃ “যদি আল্লাহ মন্দ লোকদের মধ্যে কোন মঙ্গল জানতেন তবে অবশ্যই তাদেরকে শুনবার যোগ্য বানাতেন। তখন তারা নিশ্চিতরূপে হিদায়াত লাভ করতো।” অন্য জায়গায় তিনি বলেনঃ “চক্ষুগুলো অন্ধ নয়, বরং বক্ষের মধ্যস্থিত অন্তকরণগুলোই অন্ধ।” আরও বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি রহমানের (আল্লাহর) যি হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়, শয়তান তার উপর আধিপত্য বিস্তার করে থাকে এবং সব সময় তার সঙ্গী হয়ে থাকে। এই লোকগুলো লোকদেরকে আল্লাহর পথ হতে সরিয়ে রাখে এবং ধারণা করে যে, তারা ঠিক পথেই রয়েছে।”
এখন এখানে ইরশাদ হচ্ছে—তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত। তারা সত্য কথা শুনেও না এবং সত্যের পথে সাহায্যও করে না। তারা হিদায়াতও লাভ করে না। পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের দ্বারা তারা কোন উপকার লাভ করে না। শুধুমাত্র পার্থিব জীবনে এর দ্বারা উপকার লভি করে থাকে। যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ “কাফিরদের দৃষ্টান্ত ঐ জন্তুর মত যে রাখালের ডাক ও শব্দ শুনে থাকে মাত্র, কিন্তু কিছুই বুঝে না।” তদ্রুপ এই লোকগুলোকেও ঈমানের দিকে ডাকা হলে তারা এর উপকারিতা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে, শুধু শব্দই শুনে থাকে। এ জন্যেই আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “এই লোকগুলো জন্তুর চাইতেও অধিক পথভ্রষ্ট। কেননা, জন্তু রাখালের কথা না বুঝলেও কমপক্ষে তার দিকে মুখ তো করে। তাছাড়া ঐ জন্তুগুলো দ্বারা অনুধাবন করতে না পারার যে কাজ প্রকাশ পায় তা হচ্ছে তাদের প্রকৃতিগত ও সৃষ্টিগত ব্যাপার। পক্ষান্তরে কাফিরদেরকে তো কোন অংশী স্থাপন করা ছাড়াই আল্লাহর ইবাদতের জন্যে সৃষ্টি করা হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা কুফরী ও শির্ক করে বসেছে। আর এ জন্যেই তো যারা আল্লাহর আনুগত্য স্বীকার করেছে তারা কিয়ামতের দিন ফেতোদের চাইতেও শ্রেষ্ঠ বলে গণ্য হবে। কিন্তু যারা কুফরী করেছে তারা পশুর মত তার চেয়েও নিকৃষ্ট বলে গণ্য হবে।
Al-A'raaf - Ayah 179
وَلَقَدْ ذَرَاْنَا لِجَهَنَّمَ كَثِیْرًا مِّنَ الْجِنِّ وَالْاِنْسِ ۖؗ لَهُمْ قُلُوْبٌ لَّا یَفْقَهُوْنَ بِهَا ؗ وَلَهُمْ اَعْیُنٌ لَّا یُبْصِرُوْنَ بِهَا ؗ وَلَهُمْ اٰذَانٌ لَّا یَسْمَعُوْنَ بِهَا ؕ اُولٰٓىِٕكَ كَالْاَنْعَامِ بَلْ هُمْ اَضَلُّ ؕ اُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْغٰفِلُوْنَ
আর অবশ্যই আমি সৃষ্টি করেছি জাহান্নামের জন্য বহু জিন ও মানুষকে। তাদের রয়েছে অন্তর, তা দ্বারা তারা বুঝে না; তাদের রয়েছে চোখ, তা দ্বারা তারা দেখে না এবং তাদের রয়েছে কান, তা দ্বারা তারা শুনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং তারা অধিক পথভ্রষ্ট। তারাই হচ্ছে গাফেল।
M***i Taqi Usmani
Surely We have created for Hell a lot of people from among Jinn and mankind. They have hearts wherewith they do not understand, eyes wherewith they do not see, and ears wherewith they do not hear. They are like cattle. Rather, they are much more astray. They are the heedless.
Al-A'raaf - Ayah 179
Tafsir Fathul Mazid
১৭৮-১৭৯ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা‘আলা যাকে হিদায়াত দান করেন সে-ই হিদায়াত প্রাপ্ত আর যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার কোন হিদায়াতকারী নেই। পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্ত। অতএব আল্লাহ তা‘আলা যদি হিদায়াত না দেন তাহলে কোন পীর ওলী আওলীয়া, মুরশিদ, গাউস, কুতুব, বাবা ইত্যাদি হিদায়াত দিতে পারে না। স্বয়ং রাসূলই পারেন না আর কোথায় এসব ব্যক্তিরা! আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
( إِنَّكَ لَا تَهْدِيْ مَنْ أَحْبَبْتَ وَلٰكِنَّ اللّٰهَ يَهْدِيْ مَنْ يَّشَا۬ءُ ج وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِيْنَ )
“তুমি যাকে ভালবাস, ইচ্ছা করলেই তাকে সৎ পথে আনতে পারবে না। তবে আল্লাহ তা‘আলাই যাকে ইচ্ছা সৎ পথে আনয়ন করেন এবং তিনিই ভাল জানেন সৎ পথ অনুসারীদের সম্পর্কে।” (সূরা কাসাস ২৮:৫৬)
আল্লাহ তা‘আলা অনেক জিন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছেন জাহান্নামের জন্য। এর অর্থ এই নয় যে, তিনি বাধ্য করে তাদেরকে জাহান্নামে দেবেন।
তাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা যখন সৃষ্টি করেন তখনই তিনি জানেন এরা দুনিয়াতে জাহান্নামের আমল করবে। এটাই আল্লাহ তা‘আলা পঞ্চাশ হাজার পূর্বে তাকদীরের খাতায় লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: আল্লাহ তা‘আলা আকাশমণ্ডলী ও জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বে সৃষ্টি জীবের তাকদীর নির্ধারণ করে রেখেছেন। তখন তাঁর আরশ পানির ওপর ছিল। (অর্থাৎ সাত আকাশের ওপর যে সাগর রয়েছে তার ওপর আল্লাহ তা‘আলার আরশ)। (আবূ দাঊদ হা: ২১১৮, নাসাঈ হা: ১৪০২, ইবনু মাযাহ হা: ১৮৮২, সহীহ) لَهُمْ قُلُوْبٌ لَّا يَفْقَهُوْنَ بِهَا
‘তাদের হৃদয় আছে কিন্তু তারা তা দ্বারা উপলব্ধি করে না’ অর্থাৎ এসব অঙ্গ-প্রতঙ্গ থাকা সত্ত্বেও তারা তার দ্বারা উপকৃত হতে পারে না। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
( وَلَقَدْ مَکَّنّٰھُمْ فِیْمَآ اِنْ مَّکَّنّٰکُمْ فِیْھِ وَجَعَلْنَا لَھُمْ سَمْعًا وَّاَبْصَارًا وَّاَفْئِدَةًت فَمَآ اَغْنٰی عَنْھُمْ سَمْعُھُمْ وَلَآ اَبْصَارُھُمْ وَلَآ اَفْئِدَتُھُمْ مِّنْ شَیْءٍ اِذْ کَانُوْا یَجْحَدُوْنَذ بِاٰیٰتِ اللہِ وَحَاقَ بِھِمْ مَّا کَانُوْا بِھ۪ یَسْتَھْزِءُوْنَﭩج )
“আমি তাদেরকে এমন সব কিছু দিয়েছিলাম, যা তোমাদেরকে দিইনি। আমি তাদেরকে কান, চোখ ও হৃদয় দিয়েছিলাম; কিন্তু তাদের কান, চোখ ও হৃদয় তাদের কোনো কাজে আসল না। কারণ, তারা আল্লাহ তা‘আলার আয়াতগুলোকে অস্বীকার করেছিল। যা নিয়ে তারা ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করত তা-ই তাদেরকে ঘিরে ফেলল।” (সূরা আহকাফ ৪৬:২৬)
তারা কেবল হিদায়াতের ক্ষেত্রে বধির, অন্ধ ও বোবা। তারা দেখে না বা শুনে না তা। নয় যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
( أَفَلَمْ يَسِيْرُوْا فِي الْأَرْضِ فَتَكُوْنَ لَهُمْ قُلُوْبٌ يَّعْقِلُوْنَ بِهَآ أَوْ اٰذَانٌ يَّسْمَعُوْنَ بِهَا ج فَإِنَّهَا لَا تَعْمَي الْأَبْصَارُ وَلٰكِنْ تَعْمَي الْقُلُوْبُ الَّتِيْ فِي الصُّدُوْرِ )
“তারা কি দেশ ভ্রমণ করেনি? তাহলে তারা জ্ঞান-বুদ্ধিসম্পন্ন হৃদয় ও শ্র“তিশক্তিসম্পন্ন শ্রবণের অধিকারী হতে পারত। বস্তুত চক্ষু তো অন্ধ নয়, বরং অন্ধ হচ্ছে বক্ষস্থিত হৃদয়।” (সূরা হজ্জ ২২:৪৬) أُولٰ۬ئِكَ كَالْأَنْعَامِ
‘তারাই পশুর ন্যায়’ অর্থাৎ এসকল পথভ্রষ্ট কাফিররা চতুষ্পদ জন্তু বরং তার চেয়ে বেশি পথভ্রষ্ট। কেননা চতুষ্পদ জন্তু তার জন্য কোনটা কল্যাণ আর কোন্টা ক্ষতিকর সব দেখতে পায় এবং রাখালের অনুসরণ করে চলে আর এসব কাফিররা এ সকল চতুষ্পদ জন্তুর বিপরীত। ভাল-মন্দ কিছুই বুঝার চেষ্টা করে না এবং কুরআনের গাইড লাইন অনুসরণ করে না।
তাই সকল মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত নয়। কেবল মু’মিন মুসলিমরাই আশরাফুল মাখলুকাত। কারণ যারা কাফির তাদেরকে স্বয়ং আল্লাহ তা‘আলা চতুষ্পদ জন্তু বলছেন।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. হিদায়াতের মালিক একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা।
২. জাহান্নামের হকদাররাই জাহান্নামে যাবে।
৩. তাকদীরের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা আবশ্যক।
৪. কাফিররা চতুষ্পদ জন্তুর মত কাণ্ডজ্ঞানহীন।
Al-A'raaf - Ayah 179
وَلَقَدْ ذَرَاْنَا لِجَهَنَّمَ كَثِیْرًا مِّنَ الْجِنِّ وَالْاِنْسِ ۖؗ لَهُمْ قُلُوْبٌ لَّا یَفْقَهُوْنَ بِهَا ؗ وَلَهُمْ اَعْیُنٌ لَّا یُبْصِرُوْنَ بِهَا ؗ وَلَهُمْ اٰذَانٌ لَّا یَسْمَعُوْنَ بِهَا ؕ اُولٰٓىِٕكَ كَالْاَنْعَامِ بَلْ هُمْ اَضَلُّ ؕ اُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْغٰفِلُوْنَ
আর অবশ্যই আমি সৃষ্টি করেছি জাহান্নামের জন্য বহু জিন ও মানুষকে। তাদের রয়েছে অন্তর, তা দ্বারা তারা বুঝে না; তাদের রয়েছে চোখ, তা দ্বারা তারা দেখে না এবং তাদের রয়েছে কান, তা দ্বারা তারা শুনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং তারা অধিক পথভ্রষ্ট। তারাই হচ্ছে গাফেল।
Surely We have created for Hell a lot of people from among Jinn and mankind. They have hearts wherewith they do not understand, eyes wherewith they do not see, and ears wherewith they do not hear. They are like cattle. Rather, they are much more astray. They are the heedless.
Al-A'raaf - Ayah 179
Tafsir Ahsanul Bayaan
[১] এর সম্পর্ক তকদীরের সাথে। অর্থাৎ, প্রত্যেক মানুষ ও জ্বিনের ব্যাপারে আল্লাহর জানা ছিল যে, পৃথিবীতে গিয়ে তারা ভাল করবে না মন্দ করবে, সেই মত তিনি লিখে দিয়েছেন। এখানে ঐ সকল দোযখবাসীদের কথা উল্লিখিত হয়েছে, যারা আল্লাহর পূর্বজ্ঞান অনুযায়ী দোযখবাসী হওয়ারই কাজ করবে। পরবর্তীতে তাদের আরো কিছু গুণের কথা বলা হয়েছে যে, যাদের মধ্যে এ সকল জিনিস এভাবে পাওয়া যাবে, যার বর্ণনা এখানে দেওয়া হয়েছে, জানতে হবে তাদের পরিণাম হবে মন্দ।
[২] অর্থাৎ, অন্তর, চোখ, কান এগুলি মহান আল্লাহ এই জন্য দান করেছেন, যাতে মানুষ তার দ্বারা উপকৃত হয়ে নিজ প্রভুকে চিনতে পারে, তার নিদর্শনসমূহ লক্ষ্য করে এবং সত্যের বাণী মন দিয়ে শোনে। কিন্তু যে ব্যক্তি ঐ সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা উপকার নেয় না, যেন উপকার না নেওয়ার কারণে সে পশুর মত; বরং তার থেকেও অধম। কারণ পশুরা নিজের লাভ- নোকসান কিছুটা বুঝে। উপকারী জিনিস হতে উপকার নেয় এবং ক্ষতিকারক জিনিস হতে দূরে থাকে। কিন্তু আল্লাহর হিদায়াত হতে বিমুখতা প্রকাশকারী ব্যক্তির মধ্যে এই পার্থক্য করার শক্তিই শেষ হয়ে যায় যে, কোনটি তার জন্য লাভদায়ক, আর কোনটি ক্ষতিকারক। আর সেই কারণেই পরবর্তী বাক্যে তাদেরকে গাফিল বা উদাসীন বলা হয়েছে।
Al-A'raaf - Ayah 179
16/06/2026
আল কোর আন মাজিদ এর তাজবিদ শিক্ষা।
وَهُوَ الَّذِیْ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ فِیْ سِتَّةِ اَیَّامٍ وَّكَانَ عَرْشُهٗ عَلَی الْمَآءِ لِیَبْلُوَكُمْ اَیُّكُمْ اَحْسَنُ عَمَلًا ؕ وَلَىِٕنْ قُلْتَ اِنَّكُمْ مَّبْعُوْثُوْنَ مِنْ بَعْدِ الْمَوْتِ لَیَقُوْلَنَّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْۤا اِنْ هٰذَاۤ اِلَّا سِحْرٌ مُّبِیْنٌ ۟
আর তিনিই আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন ছয় দিনে, আর তাঁর আরশ ছিল পানির উপর, যাতে তিনি পরীক্ষা করেন, কে তোমাদের মধ্যে আমলে সর্বোত্তম। আর তুমি যদি বল, ‘মৃত্যুর পর নিশ্চয় তোমাদেরকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে’, তবে কাফিররা অবশ্যই বলবে, ‘এতো শুধুই স্পষ্ট যাদু’।
M***i Taqi Usmani
He is the One who created the heavens and the earth in six days, while His throne was on water, so that He might test you as to who among you is better in deed. And if you say, “You shall be raised after death,” the disbelievers will surely say, “This is nothing but sheer magic.”
Hud - Ayah 7
Tafsir Fathul Mazid
৭ নং আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়::
অত্র আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলছেন, তিনি সাত আকাশ ও জমিন ছয়দিনে সৃষ্টি করেছেন। প্রথম দিন হল শনিবার আর শেষ দিন হল শুক্রবার। যখন আকাশ-জমিন সৃষ্টি করেন তখন আল্লাহ তা‘আলার আরশ ছিল সাত আকাশের ওপর সাগরের ওপরে। হাদীসেও এসেছে; আল্লাহ তা‘আলা আকাশ জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বে মাখলুকের ভাগ্য লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। তখন তাঁর আরশ ছিল পানির ওপর। (সহীহ বুখারী হা: ২৬৫৩)
অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা আকাশ-জমিন সৃষ্টির উদ্দেশ্য বর্ণনা করে বলেন: এ আকাশ-জমিন সৃষ্টি করেছি মানুষকে পরীক্ষা করার জন্য, কে উত্তম আমল করে। তিনি এগুলোকে অনর্থক সৃষ্টি করেননি। আর যারা এরূপ ধারণা করবে তারা যেন কুফরী করল এবং তাদের জন্য জাহান্নামের শাস্তি।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন: وَمَا خَلَقْنَا السَّمَا۬ءَ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا بَاطِلًا ط ذٰلِكَ ظَنُّ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا ج فَوَيْلٌ لِّلَّذِيْنَ كَفَرُوْا مِنَ النَّارِ
“আর আমি আসমান, জমিন এবং উভয়ের মধ্যে অবস্থিত কোন কিছুই অনর্থক সৃষ্টি করিনি; এরূপ ধারণা তো তাদের যারা কাফির। সুতরাং কাফিরদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের দুর্ভোগ।” (সূরা স্বদ ৩৮:২৭)
( فِيْ سِتَّةِ أَيَّامٍ ) এ সম্পর্কে সূরা আ‘রাফের ৫৪ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।
আর আল্লাহ তা‘আলার মানুষ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্য হল কে উত্তম কাজ করে তা দেখার জন্য। তারপর আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সম্বোধন করে বলেন: তুমি যদি তাদেরকে বল যে তোমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে তখন তারা বলবে, এটা জাদু ব্যতীত অন্য কিছু নয়। জাদুর যেমন প্রকৃত সত্য বলতে কিছু নেই তেমনি পুনরুত্থানের প্রকৃত ব্যাপার বলতে কিছু নেই। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে পুনরুত্থিত করবেন, এতে কোন সন্দেহ নেই এবং এতে আল্লাহ তা‘আলা সক্ষম।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন: وَهُوَ الَّذِيْ يَبْدَؤُا الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيْدُه۫ وَهُوَ أَهْوَنُ عَلَيْهِ
“তিনি সৃষ্টির সূচনা করেন, তারপর তিনিই আবার তা পুনরাবৃত্তি করবেন এটা তাঁর জন্য খুবই সহজ।” (সূরা রূম ৩০:২৭)
সুতরাং প্রত্যেক মু’মিন ব্যক্তিকে পুনরুত্থানের প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে, অন্যথায় ঈমান থাকবে না।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১.আল্লাহ তা‘আলা আকাশ-জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন।
২. পৃথিবী ও আকাশ সৃষ্টির পূর্বে আরশ ছিল পানির ওপর।
৩. আল্লাহ মানুষকে এ পরীক্ষা করার জন্য পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন যে, কে সৎ কর্মে উত্তম।
৪. মানুষকে মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত করা হবে।
Hud - Ayah 7
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the school
Telephone
Website
Address
Matlab Bazar
3640