MITU
love to travel
reading books
life is very short so enjoy
14/04/2026
শুভ নববর্ষ ১৪৩৩
সবাইকে বৈশাখের শুভেচ্ছা
স্বাধীনতা তুমি
বাগানের ঘর,কোকিলের গান,
বয়সী বটের ঝিলিমিলি পাতা,
যেমন ইচ্ছে লেখার আমার কবিতার খাতা।
- শামসুর রাহমান।
সবাইকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা।
স্বাধীনতা দিবস ২০২৬।
সবাইকে পলাশের আগুনঝরা বসন্তের শুভেচ্ছা।
শুভ বসন্ত ❤️
26/01/2026
বাইকে করে ভারত ভ্রমণ (দিন ৭)
এই দিন ছিল আমাদের ঘুরে বেড়ানোর দিন।সকাল শুরু করলাম দেরি করে।আগের দিনের লম্বা সফরের জন্য ভালো করে ঘুমালাম রাতে।আসলে দিনের পর দিন যখন আপনাকে রাস্তায় থাকতে হবে তখন ঘুমই আপনার সবচেয়ে কাছের বন্ধু।একটা ভালো ঘুম সারাদিনের জন্য কি যে জরুরি। তো আস্তে ধীরে উঠে রেডি হয়ে গেলাম।হোটেলের আসে পাশে ছোট খাটো ধাবা খুজে নিয়ে নাস্তা করলাম।তারপর শহ্রে ঘুরতে বেড়িয়ে পরলাম।
এত এত যায়গা ঘুরার মত,কোথায় যাব কোথায় যাব না ঠিক করে উঠতে পারছিলাম না।আসলে লখনউ শহ্রটা ঘুরে দেখতে হলে তিন থেকে চার দিন দরকার।এত এত বাগান এই শহরে আর ঐতিহাসিক স্থাপনা। নবাবদের শহর বলে কথা।প্রথমেই গেলাম বড়া ইমামবাড়া দেখতে।অনেক সুন্দর।ভেতরে একটা ভুলভুলাইয়া আছে যা দেখার জন্য গাইড নিতে হয়।অনেক সুন্দর মসজিদ আছে কিন্তু ভেতরে ঢুকার সুযোগ নেই।পাশেই রুমি দারওয়াজা।অনেক সুন্দর এর স্থাপত্যশৈলী। এরপর আছে ছোটা ইমামবাড়া। পাশেই আছে ক্লক টাওয়ার,পিকচার গ্যালারি। ক্লক টাওয়ার এর পাশেই খুব সুন্দর একটা পুকুর। এসব যায়গা ঘুরতে ঘুরতে দুপুর গরিয়ে যাচ্ছিল। তাই চলে গেলাম পেট পুজা করতে।নবাবদের শহরে এসে নবাবী খানা খাব না তাই হয়।এক ভাই বলে দিয়েছিল মুবিনসে যেতে। খুঁজে খুঁজে ওখানেই গেলাম।আমি বিরিয়ানি খেলাম আর আমার সাহেব পায়া আর কুলচা।মজার খাবার।কিন্তু এইসব নামকরা খাবারের দোকান গুলোতে এত ভিড়।বাপরে বাপ রীতিমতো লাইন ধরে দারিয়ে থাকতে হয় বাইরে। খাওয়ার জন্য জায়গাই পাওয়া যায় না।অনেক সময় দাড়িয়ে থেকে তবেই জায়গা পেলাম।একে তো পুরানা লখনউ রাস্তায় অনেক জ্যাম,সাথে পার্কিং এর জায়গা নাই। তাই অনেক সময় বের হয়ে গেল হাতে থেকে।
তাই বিকেল বেলা আর কোথাও ঘুরতে গেলাম না। গেলাম লখনউ এর বিখ্যাত বাজার আমিনাবাদে শাড়ি কিনতে।ভাই কিছুই চিনি না কই যাব।কত মানুষকে জিগেস করি শাড়ির দোকান কই, এক এক জন ওক এক রকম ইনফরমেশন দেয়। তারপর হতাশ হয়ে গুগল মামার হেল্প নিয়ে চলে গেলাম একজায়গায়।তারপর আর বেশি ঘুরতে হয়নি। আমার বাজেট আর পছন্দমত শাড়ি পেয়ে গেলাম।কিন্তু রাত হয়ে গেছে।আর ঘুড়ার ইচ্ছা এনার্জি কোনটাই নেই।তাই বিখ্যাত টুন্ডে কাবাবে চলে গেলাম।ওখানে গিলাওয়াটি কাবাব পাওয়া যায়। একই অবস্থা অনেক ভিড়।কিন্তু খাবার মজার।
এরপর আর কোথাও যাই নি। সোজা নিজেদের ডেরায়।শরীরে অনেক ক্লান্ত।রেস্ট নিতে হবে,পরের দিন আবার সফরে বের হয়ে যেতে হবে।
চলবে......
01/01/2026
সবাইকে ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা
২০২৬
25/12/2025
লৌখনৌ এর বিখ্যাত টুন্ডে কাবাব।এর এত নাম ডাক কি আর বলব।না খেয়ে কি পারা যায়, তাই ট্রাই করতে চলে গেলাম।এত ভীড় এখানে, এমনিতেই ওল্ড টাউনে হওয়াতে রাস্তায় অনেক জ্যাম। সেই জ্যাম ঠেলে যাওয়ার পর দেখি রেস্টুরেন্টেও অনেক ভীড়। পার্কিং পাইতে অনেক টাইম লাগলো। এই রেস্টুরেন্টের গ্রাউন্ড ফ্লোরতো আছেই সাথে উপরে আরও তিনতলা পর্যন্ত বসার যায়গা। তারপরও মানুষ দাঁড়িয়ে আছে টেবিল খালি হওয়ার অপেক্ষায়। আমরা খুঁজে খুঁজে বসে পরলাম এক জায়গায়।আমি তো টুন্ডে কাবাবই খাব কিন্তু জামাই কয় সে খাবে না তার এসব ভালো লাগে না।তাই তার জন্য শিক কাবাব দিলাম অরডার।টুন্ডে কাবাবটা হল আসলে গিলাওটি কাবাব,মুখে দিলেই গলে যায়।কিন্তু এখানে এটাকে টুন্ডে কাবাবই বলে সবাই।এখানে বীফ পাওয়া যায় না। আমি বাফেলোটা নিলাম।আমি আগে এমন কাবাব খাইনি। আমার কাছে ভালই লেগেছে।বাট আমার জামাই শিক কাবাব মজা করে খাইছে।দুপুরে এত ভারি খাবার খাওয়ায় আসলে অত বেশি খাওয়ার ইচ্ছাও ছিল না।আমরা আসলে আমাদের সফরে চেষ্টা করতাম ভারি তেল মসলা আর মাংস কম খেতে। পেট আর শরীর দুইটাই ভালো রাখার জন্য কিন্তু এখানে এসে সেতা পারা গেল না।অনেক খাওয়া হয়ে গিয়েছিল। ইচ্ছা করেই তাই আরও বিখ্যাত খাবার ছিল যেগুলা ট্রাই করি নাই।নবাবদের শহরে এসে নবাবী খাবার চেখে দেখবো না তা কি হয়❤️
লৌখনৌর ওল্ড টাউনের মবিনস এর পায়া,যা খাইয়া আমার জামাই ফিদা হয়ে গিয়েছিল।এদের খাবার আসলেই অনেক মজার
22/12/2025
বাইকে করে ভারত ভ্রমণ ( দিন ৬)
আমাদের আজকের গন্তব্য লৌখনো।এর জন্য পারি দিতে হবে প্রায় ৬০০ কি.মি. রাস্তা।অনেক লম্বা রাইড তাই সকাল ৬টার মধ্যেই বের হয়ে গেলাম।ভেবেছিলাম যে এত সকালে রাস্তা একদম ফাঁকা পাব।কিন্তু বিহারের মানুষ আমাদের সেই ধারণা ভুল করে দিল।সকাল সকালই দেখি রাস্তার পাশের চা নাস্তার দোকান গুলো সব খুলে গেছে। লোকজন কাজে বেরিয়ে পরেছে।রাস্তাতেও গাড়ির চাপ ভালই।যেমনই হোক সিচুয়েশন চলা তো আর থামানো যাবে না সো চলতেই থাকলাম।
ভোর বেলাতেই চলা শুরু তাই খিদে পেয়ে গেল আগে ভাগেই।কিন্তু ড্রাইভার সাহেবের দুইঘন্টা গাড়ি না চালালে থামতে ইচ্ছা করে না😃।তাই আমি তাগাদা দিলাম যে চল নাস্তা করি।রস্তার আসে পাশে খুঁজে এক ধাবাতে দাড়ালাম।ভাত আছে কিনা জিগেস করতেই বলল...চাউল হে না,আ যাও।আমার জামাইয়ের ভাত পাইলে আর কোন কথা নাই তার উপর ধাবাটা বেশ সুন্দর গোছানো। খাটিয়া পাতা আবার টেবিল চেয়ারের ব্যবস্থাও আছে।ভাতের সাথে খাওয়ার জন্য কি কি আছে ওরা আমাদের হাড়ির ঢাকনা খুলে দেখালো কারণ হিন্দি সব্জির নাম আমার জামাই বুঝতেছিল না। দায়িত্ব পরল আমার ঘারে সব্জি চিনে নেয়ার।তবে একটা জিনিস বলতেই হবে ওদের রান্না খুব ভালো আর রান্নাঘর খুবই পরিস্কার আর গোছানো। দুজনে একটু আরাম করেই খেলাম। খাওয়া শেষে রওনা দিব এই সময় ওখানেই হাইওয়ে পুলিশ ছিল আর সরকারি বড় কোন অফিসার, আমাদের গাড়ির নাম্বার দেখে থামতে বলল।আমাদের গাড়ি র নাম্বার বাংগালীরা ছাড়া কেউ পরতে পারে না😃।ভারতের সব গাড়ির নাম্বার ইংরেজিতে লেখা থাকে।যাই হোক তারা জেগেস করল আমরা কোথায় থাকি, কই যাব।বাংলাদেশ থেকে গিয়েছি শুনে তো চোখ ছানাভরা...তার উপর এই বাইক নিয়ে সারা ভারত ঘুরব শুনে তো আরও অবাক।তারা অনেক গল্প করল।বাংলাদেশ নিয়ে আমাদের নিয়া অনেক প্রশ্ন তাদের। বেশ অনেক সময় আমরা গল্প করলাম, বিদায়ের সময় তারা আমাদের বেস্ট অফ লাক জানালো।
আবার পথ চলা শুরু। যায়গায় যায়গায় থেমে চা ব্রেক চলল।অনেক গরম তাই চেষ্টা করতাম গাছের ছায়া আছে এমন কোন চায়ের দোকানে দাড়াতে।যতই লৌখনোর দিকে আগাচ্ছি গরম ততই বাড়ছিল। অনেক বেশি গরম আমাদের দেশে এত গরম পরে না।এই জন্য রাস্তার পাসে আখের রস কমলার রস যা পেতাম খেয়ে নিতাম সাথে প্রচুর পানি। এত গরমে পানি ছাড়া কোন ভাবেই শরীর ঠিক রাখা সম্ভব না।এত দীর্ঘ সফর করে আমাদের পৌছাতে রাত হয়ে গেল।শহরে ঢুকতেই ঢুকতেই টের পেলাম এই শহর ইতিহাসের ঐতিহ্যের শহর। আলো ঝলমলে সুন্দর গোছানো একটা শহর।রাস্তার দুইপাশে গাছপালা ফুটপাত নানা রকম ইমারতে সৌন্দর্য আর ঐতিহ্যের ছোয়া। নবাবদের এই শহর আমাদের আন্তরিকতার সাথে ওয়েলকাম জানালো।
চলবে........
30/11/2025
বাইকে করে ভারত ভ্রমণ (দিন ৫)
আমাদের আজকের গন্তব্য মুজাফফরপুর,বিহার।শিলিগুড়ি থেকে বেশ সকাল রওনা দিলাম। আমাদের প্রতিদিনই টার্গেট থাকে যতটা সম্ভব ভোরে রাইড শুরু করা।এতে করে সময় পাওয়া যায় হাতে বেশ।রাস্তায় আয়েস করে ব্রেক নেয়া যায়,দিনে দিনে রাইডটা শেষ করা যায়।এতে দিন শেষে আমাদের ক্লান্তি কম থাকে।কারন রাইড শেষ করে সবচেয়ে প্যারার কাজ হল হোটেল ঠিক করা।মনমত আর বাজেটের মধ্যে হোটেল পেয়ে গেলেই টেনশন শেষ, তখন সন্ধ্যাটা আরামে কাটে।
তো সকাল সকাল শহর থেকে বেরিয়েই দেখা পেলাম শিলিগুড়ির চা বাগানের।এই জিনিস কেম্নে মিস করি বলেন আপনারা। এত সুন্দর চা বাগান তার উপর যে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছি সেটা বেশ চওড়া। আর পায় কে আমাদের রাস্তার পাশে বাইকটা দার করিয়ে জামাইয়ের অনেক ছবি তুলে দিলাম।আমারও ছবি তোলা হয়েছে কিন্তু জামাই আমাকে ছবিগুলো দেয়নি। কেন দেয়নি যানি না।বেডার পেট ভরা হিংসা নাইলে আমার ছবি আমকে কেন দেয় না বলেন 🙂।
তো মেপ অন করে আমাদের আবার যাত্রা শুরু। জামাই একটানা দুইঘন্টা বাইক চালাইলো।এদিকে খিদায় পেট মোচড় মারে।রাস্তার পাশের এক খাবারের হোটেল পেলাম।চা বাগানের লোকজনরাই খাচ্ছে।গরম গরম রুটি সবজি দিয়ে ভরপেট নাস্তা, সাথে চা।এইরকম খাবার দোকান গুলো যারা চালায় তারা দেখলাম বেশ আন্তরিক। অনেক গল্প করে।খাবারটাও খুব যত্ন করে খাওয়ায়।
আবার শুরু হল পথ চলা।একসময় পশ্চিমবংগের রাস্তা শেষ করে বিহারের রাস্তায় ঢুকে পরলাম।আর সাথেই সাহেই যেন হুট করে চারিপাশটাও বদলে যেতে লাগল।গরমটাও খুব বাড়তে লাগল।বিহারের হাইওয়ের দুইপাশেই প্রচুর কাশফুল দেখেছি আমরা।একদম মাইলের পর মাইল ছেয়ে আছে কাশ ফুলে।নদীর ধারে, রাস্তার পাশে, খোলা যায়গায়। এদিকের বাড়িঘর গাছপালা সবই কেমন রুক্ষ, দরিদ্রতার ছোয়া চারিপাশে।তবে পথের পাশে অনেক মহিলা দেখেছি তারা অনেক কালারফুল শাড়ি পরে আর মাথায় একদম এখাত লম্বা ঘোমটা।দেখে মনে হয় লাল কমলা রং ওদের প্রিয়।
বিহার অনেক বড় রাজ্য আর জনসংখ্যাও অনেক। ঐতিহাসিক আর ধরমীয় দিক দিয়ে এই রাজ্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু খুবই আফসোস যে এইবারের সফরে আমরা বিহারের কিছুই ঘুরে দেখার সুযোগ আমাদের ছিল না।কারন আমাদের উদ্দেশ্য আর গন্তব্য দুইটাই আলাদা আর হাতে সময় কম যার কারনে অনেক কিছুই মিস করে গেলাম এবার।যা বাকি রইল তা ভবিষ্যতের জন্য তুলে রাখলাম।
আজকের রাইড খুব বেশি দূরের ছিল না তাই বিকেল বিকেল মুজাফফরপুর চলে আসলাম।ইচ্ছে করেই শহরের ভিতর হোটেল না নিয়ে বাইরে নিলাম কারণ সকালে বের হতে হবে।পর দিন আবার দীর্ঘ যাত্রা।হোটেল নিতে গিয়ে মজার অভিজ্ঞতা। ওরা হিন্দি ছাড়া বুঝে না আমরা হিন্দি তে কাচা।পরে দেখা গেল তারা ইংরেজি বুঝে সো কাজ চালিয়ে নিলাম।তারপর বাংলাদেশ থেকে গেছি শুনে কত গল্প।কত কিছু জানতে চাইল।বুঝা গেল তারা বাংলাদেশ সম্পর্কে খুবই কম যানে কিন্তু তাদের আন্তরিক ব্যবহার আমাদের অনেক ভাল লেগেছে।আজকের রাতের জন্য এখানেই ডেরা বাধলাম।
চলবে........
06/11/2025
বাইকে করে ভারত ভ্রমণ ( দিন -৪)
আজকের দিনে আমাদের গন্তব্য শিলিগুড়ি। শিলং থেকে দূরত্ব ৫০০ কিলোর উপরে।অনেক লম্বা সফর। দুইজনে মিলে অনেক হিসেব নিকেশ করে খুব সকাল সকাল বের হলাম।বেশ ঠান্ডা ঠান্ডা আবহাওয়ায় আমাদের রাইড শুরু হল।ঘুমন্ত শিলং শহর দেখবো ভেবেছিলাম। অমা দেখি বেশ ভালই গাড়ি বেরিয়ে গেছে রাস্তায়।উমিয়াম লেকের রাস্তা ধরে এগুচ্ছি।রাস্তা থেকেই খুব সুন্দর ভিও পাওয়া যায় এই লেকের,পাখির চোখে দেখার মত।আগের বার যখন এসেছিলাম দুইজনে একটা পুরো দিন কাটিয়েছিলাম এই লেকে। তাই এবার আর এখানে নামলাম না।এখানে বাঁধ দিয়ে পাওয়ার প্ল্যান্ট করা হয়েছে বলেই এই লেকের জন্ম।আমরা দেখতে দেখতে এগিয়ে চললাম।
শিলিগুড়ি নামটা শুনলেই অনেক আপন আপন লাগে।ছোট বেলায় সমরেশ মজুমদারের বইতে এই শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, ডুয়ার্সের চা-বাগান, জংগল,রবীন্দ্রনাথের শেষের কবিতায় দার্জিলিং এসব নাম পরে এত আপন হয়ে গেছে না মনে হয় এসবই খুব চিনি।পথে চলতে যখন পরিচিত নাম গুলি দেখি খুব আনন্দ হয়।
সকাল থেকে একটানা চালিয়ে গৌহাটি শহর ছেড়ে রাস্তার পাশে একটা হোটেল দেখে থেমে গেলাম।ছোট খাট কোন ঝা চকচকে ভাব নেই কিন্তু পরিস্কার। বেশ ভালই লেগে গেল। নেমে খাবারের কথা জিগেস করতেই শুনলাম ভাত আছে, আর পায় কে আমাদের।খুব আয়েশ করে দুইজনে গরম ধোঁয়া ওঠা ভাতের সাথে আলু ভাজা, সবজি, ডাল, মাছ দিয়ে পেট ভরে খেলাম।দুইজন বুড়ো চাচা মিলে হোটেল চালায়, তারা খুব যত্ন করে খাওয়ালো আমাদের।একটু পর পর কিছু লাগবে কিনা,সব ভালো লাগছে কিনা জিজ্ঞেস করছিল।খাবার খুব মজার ছিল আর দাম খুবই কম সাথে তাদের ব্যবহার খুবই ভালো। দিনের শুরুটা খুব সুন্দর। আমার জামাইয়ের পেট ভরা থাকলে মন মেজাজ খুবই ভালো থাকে।
এরপর আমরা সারাদিনে ছোট ছোট কিছু ব্রেক দিয়েছি। আমার চা আর আমার জামাইয়ের পানি খাওয়ার জন্য। এইরকম ট্যুরে পানি খাওয়া খুবই জরুরী। আমরা প্রচুর পানি খেয়েছি সাথে নানা রকম জুস।কিন্তু আজকের দিনে আমাদের অনেক দূর পথ পারি দিতে হবে তাই আমরা কোথাও খুব দেরি করিনি।কিন্তু চা খাওয়ার জন্য যেখানেই নেমেছি সবাই খুব আন্তরিক ভাবে কথা বলেছে।বাইকে করে ঘুরছি, কোথায় যাব,কতদিন থাকব,তারপর যখন শোনে বাংলাদেশ থেকে এসেছি তখন আরও কত প্রশ্ন। আসামে প্রচুর বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত লোক আছে।আসলে আমাদের পাশের যত রাজ্য আছে সবগুলোতেই কম বেশি বাংলাদেশের লোক আছে।মানে যাদের দাদা পরদাদারা অইদিকে চলে গেছিল তারপর থেকে ওদিকেই বাস।অনেকের আবার বাংলাদেশে আত্তীয় আছেন,তাদের এইদেশে আসাযাওয়া আছে।আসামের অনেকের ভাষায় এদিকের আঞ্চলিকতার টান আছে।এইসব নিয়ে না চাইতেও অনেক গল্প হয়ে গেল, যেহেতু সময় কম।তবে দারুণ অভিজ্ঞতা এদের সাথে কথা বলে,যেহেতু ভাষায় মিল আছে।
এমন করেই টুক টুক করে আমরা সন্ধ্যা নাগাদ শিলিগুড়ি পৌছে গেলাম।মজার বেপার হইল সারাদিনে আমরা কোন ছবি ভিডিও করি নাই।কেন করি নাই জানি না।করি যে নাই তা টের পাইলাম আজকের পোস্ট লিখতে গিয়া। এত এত খাইছি সেগুলারও ছবি নাই।তবে আজকে লিখতে গিয়ে সারাদিনের গল্প গুলো মনে পরছে, তাদের মুখগুলো মনে পরছে সেটাই অনেক আনন্দের।
শিলিগুড়িতে আসার পর আমাদের আগের ঠিক করা ঠিকানায় উঠে পরলাম।আমাদের অঞ্জন দাদা আগেই আমাদের কষ্ট কমিয়ে রেখেছিলেন হোটেল বুক করে দিয়ে।রুমে উঠে ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে চলে গেলাম শান্তনু দাদার সাথে দেখা করতে রোড হাউজ ক্যাফেতে। দাদার সাথেও আগের বার বেশ আড্ডা দিয়েছিলাম।এবারও জম্পেশ আড্ডা সাথে চা কফি।আমাদের ট্যুর নিয়ে অনেক কথা হল।দাদা আমাদের অনেক হেল্প করেছেন, অনেক ইনফরমেশন দিয়েছেন যা জরুরী ছিল।দাদা সবসময় হাসিমুখ মানুষ। খুব ভালো সন্ধ্যা কাটিয়ে আবার কোন এক সময় দেখা হবে প্রতিশ্রুতি দিয়ে দাদার থেকে বিদায় নিলাম।তারপর রুমে ফিরে সেই ঘুম।প্রায় সারে পাচশ কিলো রাইড করে আমাদের আর শক্তি নেই জেগে থাকার। পরদিন যে আবার পথ চলা আছে।
চলবে.........
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the public figure
Website
Address
1700