MH Rafin Talukder
This is official page of "MH Rafin Talukder "
04/04/2025
জুম্মা মোবারক!
10/04/2024
আসসালামু-আলাইকুম সবাইকে জানাই ঈদের অগ্রিম শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন, সবার প্রতি রইলো দোয়া ও ভালবাসা।
29/11/2023
আসসালামু আলাইকুম! ওয়ারাহমাতুল্লাহ। সবাই কেমন আছেন।
__ যে ২৩ গুরুতর অপরাধে মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করবে না
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
নিম্নে এমন ২৩টি বিশেষ গুনাহ ও অপরাধের কথা উল্লেখ করা হল, যেগুলোর ব্যাপারে হাদিসে বলা হয়েছে যে, এ সকল গুনাহের কারণে মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করবে না বা জান্নাতের ঘ্রাণ পাবে না অথবা বলা হয়েছে, জাহান্নামে প্রবেশ করবে। যথা:
১. ঈমান না আনা
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
لا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ إِلا مُؤْمِنٌ
“ঈমানদার ব্যতীত কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” (বুখারী ও মুসলিম)
তিনি আরও বলেন,
لا تَدْخُلُوا نَ الْجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا
“তোমরা ঈমান না আনা পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেন না।” (সহীহ্ মুসলিম, হা/৫৪)
২. প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়া:
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
لا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ لا يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَائِقَهُ
“যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ থাকে না সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” (সহীহ মুসলিম/৪৬)
৩. অহংকার করা:
রসূল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
لا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ كِبْرٍ
“যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার রয়েছে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না ।” (মুসলিম, হা/৯১)
৪. চোগলখোরি ও পরনিন্দা করা:
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
لا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ نَمَّامٌ
“চুগলখোর বা পর নিন্দাকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না ।” (সহীহ মুসলিম, হা/১০৫)
তিনি আরও বলেছেন,
تَجِدُ مِنْ شَرِّ النَّاسِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عِنْدَ اللَّهِ ذَا الْوَجْهَيْنِ الَّذِي يَأْتِي هَؤُلَاءِ بِوَجْهٍ وَهَؤُلَاءِ بِوَجْهٍ
“কিয়ামতের দিন সবচেয়ে খারাপ লোকদের দলভুক্ত হিসেবে ঐ ব্যক্তিকে দেখতে পাবে যে, যে ছিল দুমুখো- যে এক জনের কাছে এক কথা আরেক জনের কাছে আরেক কথা নিয়ে হাজির হত।” (সহীহ মুসলিম, হা/২৫২৬)
৫. আত্মহত্যা করা:
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
مَنْ تَرَدَّى مِنْ جَبَلٍ فَقَتَلَ نَفْسَهُ ، فَهْوَ فِى نَارِ جَهَنَّمَ ، يَتَرَدَّى فِيهِ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا ، وَمَنْ تَحَسَّى سَمًّا فَقَتَلَ نَفْسَهُ ، فَسَمُّهُ فِى يَدِهِ ، يَتَحَسَّاهُ فِى نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا ، وَمَنْ قَتَلَ نَفْسَهُ بِحَدِيدَةٍ ، فَحَدِيدَتُهُ فِى يَدِهِ ، يَجَأُ بِهَا فِى بَطْنِهِ فِى نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا
“যে ব্যক্তি নিজেকে পাহাড়ের ওপর থেকে নিক্ষেপ করে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামে যাবে। সেখানে সর্বদা সে ওইভাবে নিজেকে নিক্ষেপ করতে থাকবে অনন্তকাল ধরে। যে ব্যক্তি বিষপান করে আত্মহত্যা করবে, সে তার বিষ তার হাতে থাকবে। জাহান্নামে সর্বদা সে ওইভাবে নিজেকে বিষ খাইয়ে মারতে থাকবে অনন্তকাল ধরে। যে কোনো ধারালো অস্ত্র দ্বারা আত্মহত্যা করেছে তার কাছে জাহান্নামে সে ধারালো অস্ত্র থাকবে যার দ্বারা সে সর্বদা নিজের পেটকে ফুঁড়তে থাকবে। [সহীহ বুখারী : ৫৪৪২; মুসলিম : ১০৯]
৬. আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
لا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَاطِعُ رَحِمٍ
"আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।" (সহীহ মুসলিম, হা/২৫৫৬)
৭. হারাম খাওয়া:
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ لَحْمٌ نَبَتَ مِنْ سُحْتٍ
"হারাম অর্থের মাধ্যমে (যে শরীরে) মাংস বৃদ্ধি পেয়েছে তা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। অর্থাৎ যে ব্যক্তি হারাম অর্থ ও অবৈধ উপার্জন দ্বারা দেহ গঠন করেছে জাহান্নামের আগুনই তার প্রাপ্য।" (তাখরীজ মিশকাতুল মাসাবীহ,সহীহ, আলবানী, হাদীস নং ২৭০৩)
৮. উপকার করে খোটা দেয়া
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
لا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنَّانٌ
“সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না যে উপকার করে খোটা দেয়।” সুনান নাসাঈ, হা/ ৫৬৮৮, সহীহ, আলবানী)
৯. তক্দীর (ভাগ্যের লিখন) অস্বীকার করা
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
لا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ عَاقٌّ ، وَلا مُدْمِنُ خَمْرٍ ، وَلا مُكَذِّبٌ بِقَدَرٍ
“পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, মদ্যপায়ী এবং তকদীর অস্বীকার কারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” (সিলসিলা সহীহা, হাসান, ৬৭৫)
১০. যাদুতে বিশ্বাস করা
১১. মদ, গাঁজা ও নেশা দ্রব্য গ্রহণ করা
১২. গণক
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
" لا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ خَمْسٌ ، مُدْمِنُ خَمْرٍ ، وَلا مُؤْمِنٌ بِسِحْرٍ ، وَلا قَاطِعُ رَحِمٍ ، وَلا مَنَّانٌ ، وَلا كَاهِنٌ "
“পাঁচ শ্রেণীর মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (তারা হল,) মদ্যপায়ী, যাদুর বৈধতায় বিশ্বাসী, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী, চোগলখোর এবং গণক।” (মুসনাদে আহমদ, হাসান, আলবানী)
১৩. ঋণ পরিশোধ না করা
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট কোন ঋণগ্রস্ত মৃতের লাশ (জানাযার জন্য) নিয়ে আসা হলে জিজ্ঞেস করতেন, “সে ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করেছে কি না?” যদি বলা হত করেছে, তবে জানাযা পড়তেন। অন্যথায় (সাহাবীদেরকে) বলতেন,
صَلُّوا عَلَى صَاحِبِكُمْ
“তোমরা তোমাদের সাথীর জানাযা পড়ে নাও (কিন্তু তিনি নিজে তাতে অংশ গ্রহণ করতেন না)। (সহীহ মুসলিম, হা/১৬১৯)
অন্য হাদীসে রয়েছে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
يُغْفَرُ لِلشَّهِيدِ كُلُّ ذَنْبٍ إِلَّا الدَّيْنَ
“শহীদের ঋণ ছাড়া সব গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।” (সহীহ মুসলিম, হা/১৮৮৬)
১৪. পুরুষ বেশধারী নারী
১৫. দাইয়ুস
আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন:
ثَلاثٌ لا يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ : الْعَاقُّ لِوَالِدَيْهِ ، وَالدَّيُّوثُ ، وَرَجُلَةُ النِّسَاءِ
“তিন শ্রেণীর লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে না। তারা হল, পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, দাইয়ূস এবং পুরুষ বেশধারী নারী।” (সহীহুল জামে, আলবানী, হা/৩৬৩)
দাইয়ূস: রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
الدَّيُّوثُ الَّذِي يُقِرُّ فِي أَهْلِهِ الْخَبَثَ
“ঐ ব্যক্তিকে দাইয়ূস বলা হয় যে তার পরিবারের অশ্লীলতা ও কুকর্মকে মেনে নেয়।” (মুসনাদ আহমদ, নাসাঈ)
১৬. বৃদ্ধ ব্যভিচারী
১৭. মিথ্যাবাদী শাসক
১৮. অহংকারী দরিদ্র
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
ثَلاثَةٌ لا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ : شَيْخٌ زَانٍ ، وَمَلِكٌ كَذَّابٌ ، وَعَائِلٌ مُسْتَكْبِرٌ
“কিয়ামতের আল্লাহ দিন তিন শ্রেণীর লোকের সাথে কথা বলবেন না, তাদেরকে গুনাহ থেকে পবিত্র করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে পীড়া দায়ক শাস্তি। তারা হল, বৃদ্ধ ব্যভিচারী, মিথ্যাবাদী শাসক, অহংকারী দরিদ্র। (মুসলিম, হা/১০৭)
১৯. কঠোর প্রকৃতি ও কটুভাষী লোক এবং যে ব্যক্তি মানুষের কাছে এমন বিষয় নিয়ে গর্ব-অহংকার প্রকাশ করে বেড়ায় প্রকৃতপক্ষে যা তার নিকট নেই
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ الْجَوَّاظُ ، وَلَا الْجَعْظَرِيُّ
“কঠোর প্রকৃতি ও কটুভাষী লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং ঐ লোকও নয় যে এমন সব বিষয়ে মানুষের নিকট গর্ব-অহংকার প্রকাশ করে বেড়ায় প্রকৃতপক্ষে যা তার কাছে নাই।” (আবু দাঊদ, হা/৪৮০১, সহীহ, আলবানী)
২০. মুসলিম সরকারের সাথে চুক্তিবদ্ধ ভাবে বসবাসকারী অমুসলিমকে হত্যা করা
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
مَنْ قَتَلَ مُعَاهَدًا لَمْ يَرِحْ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ ، وَإِنَّ رِيحَهَا تُوجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ أَرْبَعِينَ عَامًا
“যে ব্যক্তি কোন মুয়াহিদ তথা মুসলিম সরকারের সাথে চুক্তিবদ্ধ ভাবে বসবাসকারী কোন অমুসলিমকে হত্যা করবে সে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না। অথচ চল্লিশ বছরের পথের দূরত্ব থেকে জান্নাতের সুঘ্রাণ পাওয়া যায়।” (সহীহ বুখারী হা/৩১৬৬)
২১. বিশ্বাসঘাতক শাসক
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
مَا مِنْ عَبْدٍ يَسْتَرْعِيهِ اللَّهُ رَعِيَّةً ، يَمُوتُ يَوْمَ يَمُوتُ وَهُوَ غَاشٌّ لِرَعِيَّتِهِ إِلا حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ
"যাকে আল্লাহ তায়ালা জনসাধারণের শাসনকর্তা হিসেবে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, কিন্তু সে জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং বিশ্বাসঘাতক অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেছে তাহলে আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিবেন।" (সহীহ মুসলিম, হা/১৪২)
২২. মানুষকে প্রহার করা
২৩. মহিলাদের পর্দা হীনতা
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
صِنْفَانِ مِنْ أَهْلِ النَّارِ ، لَمْ أَرَهُمَا قَوْمٌ مَعَهُمْ سِيَاطٌ كَأَذْنَابِ الْبَقَرِ يَضْرِبُونَ بِهَا النَّاسَ ، وَنِسَاءٌ كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ مُمِيلَاتٌ مَائِلَاتٌ ، رُءُوسُهُنَّ كَأَسْنِمَةِ الْبُخْتِ الْمَائِلَةِ ، لَا يَدْخُلْنَ الْجَنَّةَ وَلَا يَجِدْنَ رِيحَهَا ، وَإِنَّ رِيحَهَا لَيُوجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ كَذَا وَكَذَا
“দু শ্রেণীর মানুষ জাহান্নামে যাবে- যাদের আমি এখনো দেখি নি। (অর্থাৎ নবী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে তাদের আত্মপ্রকাশ হয় নি)
ক) এমন কিছু লোক যাদের হাতে থাকবে গরুর লেজের মত লাঠি। এরা তা দিয়ে জনগণকে প্রহার করবে।
খ) এবং ঐ সকল উলঙ্গ-অর্ধ উলঙ্গ নারী যারা (নিজেদের চলাফেরা ও বেশ-ভূষায়) মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করবে এবং নিজেরাও অন্য মানুষের প্রতি আকৃষ্ট হবে। তাদের মাথায় উটের মত উঁচু এবং একপাশে ঝুঁকে থাকা চূড়ার মতো কেশ রাশি শোভা পাবে। এসমস্ত নারী জান্নাতে তো যাবেই না বরং জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না অথচ এত এত দূর থেকে জান্নাতের সুঘ্রাণ পাওয়া যায়।” (সহীহ মুসলিম, হা/২১২৮)
এমন গুনাহ আরও আছে কিন্তু ব্যাপক প্রচলিত কিছু বিষয় এখানে তুলে ধরা হল।
আল্লাহর নিকট দুআ করি, তিনি যেন আমাদেরকে যে সব গুনাহ আমাদের জন্য জান্নাতের পথে বাধা সৃষ্টি করে এবং জাহান্নামের দিকে টেনে নিয়ে যায় সে সব গুনাহ থেকে হেফাজত করেন। আমিন।
-------------------
গুরুত্বপূর্ণ টিকা:
উপরোক্ত কাজগুলো কবীরা গুনাহের অন্তর্ভূক্ত। কবীরা গুনাাহে লিপ্ত ব্যক্তিরা যদি তওবা করার পূর্বেই মৃত্যু বরণ করে এবং আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা না করেন তবে তাদের পরিণতি জাহান্নাম। তবে আল্লাহ তায়ালা নিজ দয়া ও ইনসাফের ভিত্তিতে এদের মধ্যে যাকে খুশি ক্ষমা করে দিবেন যদি সে শিরক থেকে দূরে থাকে। কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেন:
إِنَّ اللَّـهَ لَا يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَاءُ
“নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে লোক তাঁর সাথে শরীক করে। তিনি ক্ষমা করেন এর নিম্ন পর্যায়ের পাপ, যার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন।" (সূরা নিসা: ৪৮)
তাছাড়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
( من مات وهو يعلم أنه لا إله إلا الله دخل الجنة (رواه مسلم
“যে ব্যক্তি এমন অবস্থায় মারা গেল যে, (জীবিত অবস্থায়) সে ভালো করে জানত, ‘আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন সত্য ও সত্যিকার মা‘বুদ নেই, সে ব্যক্তি অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (সহীহ মুসলিম)
আর যাদেরকে তিনি ক্ষমা করবেন না তাদেরকে তিনি জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করবেন। পাপের শাস্তি ভোগ করার পর আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। অর্থাৎ তাওহীদপন্থী কবীরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তিরা প্রথম পর্যায়ে জান্নাতে প্রবেশকারীদের সাথে জান্নাতে প্রবেশ করবে না বরং জাহান্নামে গিয়ে শাস্তি ভোগ করার পর পরিশেষে জান্নাতে প্রবেশ করবে। কোন তওহীদপন্থীই অন্যান্য কাফেরদের মত চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামে অবস্থান করবে না। এটাই হল, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আকীদাহ। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
▬▬▬ ◈◉◈ সংগৃহীত পোষ্ট
14/08/2020
[জঘন্য অতীতের অধিকারী অনেকেই তৈরি করেন সবচেয়ে সুন্দর ভবিষ্যৎ]
আবু সুফইয়ান....!
তিনি ছিলেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চাচাতো ভাই। তাঁর বাবা হারিস এবং রাসুলের পিতা আব্দুল্লাহ, দুজনেই ছিলেন আব্দুল মুত্তালিবের সন্তান। বয়েসের দিক থেকে আবু সুফইয়ান রাসুল সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমবয়সী ছিলেন এবং দুজনই একই সময়ে হালিমাহ আস-সা'দিয়াহ (রা) এর দুধ পান করেছিলেন।
রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুয়তের লাভ করার আগ পর্যন্ত ছিলেন আবু সুফইয়ানের সবচেয়ে কাছের মানুষ। সমবয়সী দুজন, একই দাদার নাতী তারা, একই সাথে বেড়ে ওঠা, এসব কারনে দুজনের মধ্যে তৈরি হয়েছিল গাঢ় বন্ধুত্ব। আর তাই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নবুওত লাভ করলেন, সবারই ধারণা ছিল, আবু সুফইয়ান হবেন সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহনকারী। রাসুলের ডাকে সাড়া দানকারীদের মধ্যে সবচেয়ে অগ্রসরদের একজন হবেন তিনি।
কিন্তু ঘটলো এর বিপরীত। সবার ধারনাকে ভুল প্রমাণ করে দিয়ে রাসুলের সবচেয়ে বিদ্বেষীদের একজন হয়ে উঠলেন আবু সুফইয়ান। এমন কোন পন্থা তিনি বাদ রাখলেন না, যার দ্বারা মুসলিমদের কষ্ট দেয়া যায়। তাদের বিপদে ফেলতে সব ধরণের চক্রান্তই তিনি করেছেন।
অবশেষে একদিন!
যেদিন তিনি শুনলেন মক্কা বিজয়ের জন্য রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা থেকে রওয়ানা দিয়েছেন, সেদিন তিনি প্রথমবারের মত অনুভব করলেন, তিনি হেরে গিয়েছেন। রাসুলের সাথে শত্রুতা করে আর কোন লাভ নেই। মক্কা বিজয়ের পর যাদেরকে হত্যা করা হবে, তাদের মধ্যে সবার আগে থাকবে তাঁর নাম।
পালিয়ে যাওয়ার চিন্তা করলেন। পরিবার নিয়ে অনেক দূরে চলে যাবেন। কিন্তু এই পরিবারই এবার তাঁকে বাধা দিল -
“এখনও কি হক কবুল করে নেয়ার সময় হয় নি। এখনো কি আপনার মনে হয় না, আপনার ভাই সত্যের উপর আছেন? কেন তাঁর কাছে যেয়ে ইসলাম গ্রহন করছেন না”? - আল্লাহ তা’আলা তাঁর অন্তরকে খুলে দিলেন। দিক পরিবর্তন করে রওয়ানা দিলেন আবওয়ার দিকে। যেখানে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাত্রা বিরতি করেছিলেন।
তাঁর ধারনা ছিল, তিনি ইসলাম গ্রহন করলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনেক খুশি হবেন। সাহাবিরাও তাঁকে কাছে টেনে নিবেন। কিন্তু এমনটি হল না। দীর্ঘ সময় ধরে মুসলিমরা অপরিসীম এবং বর্ণনাতীত যে কষ্ট ভোগ করেছিলেন, তা যে মানুষটির কারনে হয়েছিল, তিনি ছিলেন এই আবু সুফইয়ান। রাসুল তাই তাঁর সাথে চোখে চোখ মেলাতে পারতেন না। তাঁর সাথে প্রয়োজনের বেশি কথাও বলতেন না।
আবু সুফইয়ানও বুঝতেন রাসুলের এই কষ্ট পাওয়ার যৌক্তিক কারণ আছে। আজ তিনি মুসলিম, পরিপূর্ণভাবেই ইসলাম তাঁর ভেতর জায়গা করে নিয়েছে। আর তাই তিনি সবসময়ই এই চিন্তায় চিন্তিত থাকতেন, কিভাবে রাসুলকে খুশী করবেন। মাঝে মাঝে তাঁর ঘরের দরজায় যেয়ে বসে থাকতেন। হয়তো রাসুল তাঁকে দেখতে পেয়ে ঘরে ডেকে নিবেন। মাঝে মাঝে ইচ্ছে করেই এমন জায়গায় যেয়ে দাঁড়াতেন, যেখানে দাঁড়ালে তাঁর প্রতি রাসুলের দৃষ্টি পড়বে। কিন্তু কিছুতেই যেন কিছু হচ্ছিল না। কোনভাবেই তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মন জয় করতে পারছিলেন না।
অবশেষে এলো সেই সুযোগ.........
হুনাইনের যুদ্ধে অন্যান্য সাহাবীদের সাথে আবু সুফইয়ান (রা)ও অংশগ্রহণ করলেন। মনে মনে সংকল্প ছিল, আজ এমন কিছু করে দেখাবেন, যাতে করে তাঁর প্রতি রাসুলের সমস্ত কষ্ট দূর হয়ে যায়।
যুদ্ধের একটি পর্যায়ে কাফিরদের পক্ষ থেকে যখন প্রবলভাবে তীর বর্ষণ শুরু হল, সমস্ত সাহাবিরাই বিভিন্ন আড়ালে আশ্রয় নিয়ে নিলেন। এদিক সেদিক যে যেদিকে পারলেন লুকিয়ে গেলেন। কেবল রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঠায় দাঁড়িয়ে ছিলেন ময়দানে। আর তাঁর খচ্চরের পাশে ছিলেন মাত্র দুজন ব্যক্তি। আব্বাস (রা) ও আবু সুফইয়ান (রা)। নিজেদেরকে ঢাল বানিয়ে লড়াই করে চললেন দীর্ঘক্ষণ। রাসুলের গায়ে সামান্য আঁচড়ও লাগতে দিলেন না তারা।
পরিস্থিতি যখন শান্ত হল, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু সুফিয়ান (রা) এর ব্যাপারে অন্যান্যদের জিজ্ঞেস করলেন, কে ইনি? একজন জবাব দিলেন, আপনারই ভাই,আবু সুফইয়ান। ইয়া রাসুলাল্লাহ, এবার আপনি তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যান।
স্মিত হেসে রাসুল জবাব দিলেন, ইতিমধ্যে সে তা আদায় করে নিয়েছে। সে আমার সাথে যত শত্রুতা করেছিল, আল্লাহ তা’আলা তা মাফ করে দিয়েছেন। ............খুশির তীব্রতায় আবু সুফইয়ান (রা) এর সেদিন মনে হয়েছিল তিনি যেন আকাশে উড়ছেন। চোখের পানি বাঁধ মানছিল না আর।
জীবনের বাকি সময়টুকু তিনি নিজেকে রাসুলে সান্নিধ্যে উৎসর্গ করে দিয়েছিলেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লামও তাঁকে কাছে টেনে নিয়েছিলেন পরম মমতায়। কিন্তু আবু সুফইয়ান (রা) এর মনে ছিল অনুশোচনা আর আফসোস। লজ্জায় তিনি কখনও রাসুলের দিকে তাকাতে পারতেন না। অতীতের কাজগুলোর জন্য তিনি সবসময়ই থাকতেন লজ্জিত।
অধিকাংশ সময়ই তাঁর কাটতো কুরআন তিলাওয়াতে বা নফল নামাজে। মসজিদের সাথে এক গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়ে গিয়েছিল তাঁর। একদিন আয়েশা (রা) কে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছিলেন, আয়েশা! ঐ যে মসজিদ থেকে বের হচ্ছে, লোকটাকে তুমি চিনো? আয়েশা (রা) নাসূচক জবাব দেয়াতে রাসুল বললেন,
তিনি হলেন আবু সুফইয়ান। সর্বপ্রথম মসজিদে প্রবেশ করেন তিনি, সবার শেষে বের হন। তাঁর দৃষ্টি কখনও জুতার ফিতার থেকে আলাদা হয় না। (অর্থাৎ সবসময় তিনি মাথা নিচু করেই রাখতেন)
উমর (রা) এর খিলাফতের সময়কালে তাঁর ইন্তেকাল হয়।
[সুত্রঃইসলামিক গল্প]
↪ www.oneummahbd.com/?ref=796
↪ m.me/muslimclothstores
UmmahBD,
_Partner 796
জাযাকাল্লাহু খাইরান
Click here to claim your Sponsored Listing.