Mahmud Masud
I don’t just tell stories—I weave paths of escape, threads of wonder. Walk with me. Your adventure waits in the quiet between the lines.
Within my words lie tangled emotions: joy that blooms, sorrow that scars, and questions that echo in the soul.
10/05/2026
যোগাযোগ ওয়েবজিনে প্রকাশিত 'ইন ইয়োর ড্রিম' গল্প নিয়ে আলোচনা করেছেন কথাসাহিত্যক মোস্তফা অভি।
মাহমুদ মাসুদের 'ইন ইয়োর ড্রিম' গল্পটি বিজ্ঞান কল্পকাহিনির আবরণে মোড়ানো। কিন্তু এর ভেতরে আছে মানুষের অস্তিত্বের সংকট। গল্পটা আমাদের নিয়ে যায় এমন এক ভবিষ্যতে, যেখানে প্রযুক্তি মানুষের স্বপ্ন দেখার ক্ষমতাটুকুও কেড়ে নিয়েছে। মানুষ আর তার অবচেতন মনের গভীরে নিজের মতো করে ঘুরে বেড়াতে পারে না। স্বপ্নের প্রতিটি সাদা-কালো দৃশ্য, সব রঙিন কল্পনা এখন পণ্যে পরিণত হয়েছে। সেই মুহূর্তগুলো এখন ডিজিটাল শৃঙ্খলে বন্দী। এই বন্দিত্বই গল্পের কেন্দ্রে এক ভয়াবহ প্রতিশোধের জন্ম দেয়।
প্রযুক্তি এখানে সুবিধার হাতিয়ার হিসেবে আসে না। এটা মানুষের আত্মাকে ধীরে ধীরে নিরবে খেয়ে ফেলে। NeuroSync 4.5 নামের একটি অ্যাপের মাধ্যমে মানুষের সবচেয়ে গোপন স্মৃতি আর কল্পনাকে ডিজিটাল ডাটায় পরিণত করা হয়েছে। মস্তিষ্কের নিউরনের সংযোগ পড়ে নিয়ে অচেনা কেউ এসে বসে স্বপ্নের নির্মাতা হয়। নিজের জীবনের ছোট ছোট সুখ বা গভীর দুঃখের উপাদানগুলোও আর ব্যক্তিগত থাকে না। এই অনুপ্রবেশ মানুষের মনের ওপর চাপিয়ে দেয় এক ধরনের প্রকৃত দাসত্ব।
কথকের স্মৃতিহারানোর বিষয়টি গল্পের শোকগ্রস্ত আবহ তৈরি করে। সে তার প্রেমিকার নাম ভুলে যায়, মায়ের মুখ মনে থাকে না, এমনকি নিজের হাত চিনতেও দেরি হয়। এই বিস্মৃতি শুধু শারীরিক সমস্যা নয়। এটা নৈতিক পতনের এক বড় দাম। প্রতিটি স্মৃতি হারিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে সে নিজের মানবিকতার একটা অংশ হারায়। সে প্রতিশোধের আগুনে জ্বলতে জ্বলতে নিজের অস্তিত্বের সাথে সংযোগ হারিয়ে ফেলে। এতসব হওয়ার পরেও সে এই ক্ষতি মেনে নেয়। তার কাছে ন্যায়বিচার নিজের অস্তিত্বের চেয়েও বড়।
নীরাদির ঘটনাটি গল্পের সবচেয়ে করুণ অধ্যায়। একটি রোজার দিনে, উপবাসের পবিত্র মুহূর্তে, একটি বাচ্চাকে আইসক্রিম কেনার অপরাধে এক নিরীহ মেয়েকে পিটিয়ে মারা হয়। এই ঘটনাটা কোনো গরিবের খবরের মতো নয়, তাই কেউ খোঁজ রাখে না। এক প্রভাবশালী ব্যক্তি ধর্মের নামে, পবিত্রতার আড়ম্বরে নিজের পৈশাচিক ইচ্ছার প্রকাশ ঘটান। আইনের চোখে এই অপরাধের কোনো বিচার হয় না। ক্ষমতার জোরে তা চেপে যায়, যেমন চেপে যাওয়া যায় মাটিতে একটি পিঁপড়ার জীবন। এই অবিচার কথকের মনে বছরের পর বছর ধরে এক তিক্ত বিষ জমিয়ে তোলে।
প্রতিশোধের পদ্ধতিটি অত্যন্ত পরিকল্পিত আর নিষ্ঠুর। কথক স্বপ্নের ভেতরে প্রবেশ করে সেই ডিজিটাল জগতে অপরাধীকে খুঁজে বের করে। বাস্তবের ন্যায়বিচারের অভাবটুকু সে নিজে পূরণ করতে চায়। সে অপরাধীকে এমন এক দুঃস্বপ্নের ফাঁদে ফেলে যেখানে তার ক্ষমতার অহংকার চুরমান হয়ে যায়। হৃদপিণ্ড বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সে নিজের করা অত্যাচারের প্রতিফলন দেখতে থাকে। এই মৃত্যু শারীরিকভাবে প্রাকৃতিক মনে হয়। কিন্তু এটা আসলে মানসিক নির্যাতনের চূড়ান্ত পরিণতি।
গল্পের ভাষা আর বয়ানশৈলী পাঠককে প্রথম থেকেই এক অদ্ভুত পরিবেশে নিয়ে যায়। কবরের পাশে বসে মৃত ব্যক্তির সাথে কথা বলার দৃশ্যটা গল্পের গতিকে প্রাণবন্ত করে তোলে। পড়ার সময় মনে হয় আমরা সেখানে উপস্থিত আছি। শীতের মাটির ছিমছাম অনুভব করছি। প্রযুক্তির রূঢ়তা আর কবরের শীতল নিস্তব্ধতার মিশ্রণ একটা রোমহর্ষক পরিবেশ তৈরি করে। লেখক সরল ভাষায় কঠিন সত্যগুলো তুলে ধরেছেন। পড়ার সময় পাঠকের বুকের ভেতর এক অজানা চাপ সৃষ্টি হয়। গল্পটি শেষ হওয়ার পরও পাঠকের মন দীর্ঘক্ষণ এক অন্ধকার ঘোরে থেকে যায়।
মাহমুদ মাসুদ এই গল্পে আমাদের বর্তমান সময়ের প্রযুক্তিনির্ভরতার একটি ভয়াবহ ভবিষ্যৎ রূপ এঁকেছেন। মানুষ যখন নিজের মনের সবচেয়ে গোপন জগতটুকুও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তখন সে বাইরের যেকোনো শক্তির কাছে আত্মসমর্পণ করে। প্রতিশোধের আগুন যেমন কথকের সত্তাকে গ্রাস করেছে, ঠিক সেভাবে প্রযুক্তির অপব্যবহারও সমাজকে গ্রাস করতে পারে। গল্পের শেষটি হয়তো এক ব্যক্তিগত প্রতিশোধের, কিন্তু তার ইঙ্গিত সামাজিক আর সর্বজনীন।
এই গল্প আমাদের ভাবিয়ে দেয়—মানুষ কতটুকু এখনও নিজের, আর কতটুকু যন্ত্রের দখলে চলে এসেছে। আমরা প্রতিদিন সুবিধার নামে কত কিছু যে ত্যাগ করছি কিন্তু আমাদের আত্মা কি শেষ পর্যন্ত রক্ষা পাবে? এই প্রশ্নগুলো গল্পের শেষেও আমাদের সাথে থেকে যায়।
মাহমুদ মাসুদের 'ইন ইয়োর ড্রিম' গল্পের আলোচনা: মোস্তফা অভি Bengali book review blog website in Bengali language
03/05/2026
গত কয়েকমাস ধরে প্রতিদিনই এমন হয়। সরকার আর বিরোধী দলের কারণে রাস্তায় রাস্তায় গাড়িঘোড়া পোড়া হচ্ছে। তাই ভয়ে মানুষ গাড়ি নিয়েই বের হচ্ছে না। সরকার বলে বিরোধীদল জ্বালাও পোড়াও করছে, আবার বিরোধী দল বলছে সরকারই করছে এসব। যত জ্বালা হয়েছে তার মত মানুষদের যাদের প্রতিদিনই বের হতে হয়। সে প্রচন্ড বিরক্ত হয়। এই এক ছোট্ট দেশের ক্ষমতা নিয়ে কি একটা কাড়াকাড়ি। এদের কাউকেই তার ভালো লাগে না। সে বিড়বিড় করে গালি দেয় একটা, ‘সুদ্দানির ফুয়ারা’।
গল্পঃ মনঋত পাখির গান ও চতুর্ভুজের চতুর্থ কোণ
বইঃ যে সকল কারণে মাসুদ ভালো হয় না
14/04/2026
বছর দুয়েক আগে বৈশাখের জন্য একটা গল্প লিখেছিলাম কামরান ভাইয়ের কথায় তাদের শিল্পকলার ম্যাগাজিনে দেয়ার জন্য। এই গল্প লিখে খুব মন খারাপ হয়েছিল। মনে হচ্ছিলো, কেন লিখলাম?
এখানে আপনাদের পড়ার জন্য দিলাম। ধরে নিন এটা নববর্ষের উপহার।
সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা। আলো আসুক।
১
মাত্র এক কেজি ওজনের ইলিশ সতের’শ পঞ্চাশ টাকা দিয়ে কিনে বাড়ি ফেরার জন্য রিকশা নিলেন জামান সাহেব। তার খুব অস্বস্তি হয়। তবে দাম বেশি এই জন্য না। আবার এটাও মনে হওয়া স্বাভাবিক যে এই অস্বস্তির মূল কারণ প্রচন্ড দাবদাহ। কিন্তু গরমের অস্বস্তির ভাবভঙ্গি অন্য রকম যা তার মধ্যে দেখা যাচ্ছে না। অস্বস্তির মূল কারণ আসলে ব্যাগের ভেতরের এক কেজি ওজনের পদ্মার এই রূপালী ইলিশ। বার বার ব্যাগের দিকে তাকাচ্ছেন আর মনে হচ্ছে তার ফুসফুসের বাতাস সব বের হয়ে যাচ্ছে ঠিকই কিন্তু আর ঢুকছে না। অস্বস্তি , বাজারের ব্যাগ আর অস্থির ফুসফুস নিয়ে বাড়ির গেইটের সামনে রিকশা থেকে নামেন তিনি।
২
পহেলা বৈশাখের দিন। সবাই মিলে খেতে বসেছে। পান্তা ভাত, শাক, বিভিন্ন রকম ভর্তা, বেগুন ভাজা, পাঁচমিশালী সবজি আর কিনে আনা সেই ইলিশ মাছ বড় বড় পিস করে ভাজা। মাছ নিয়ে জামান সাহেবের বড় নাতি তুতুন খুব উচ্ছ্বসিত। মূলত তার বায়না রাখতেই এই ইলিশ মাছ কিনে আনা। খাওয়া শুরু হতেই তুতুন দেখলো তার দাদুভাইয়ের পাতে মাছ নেই। বললো, দাদুভাইয়ের পাতে মাছ নেই কেন? কেউ কিছু বললো না। সবাই জানে যে জামান সাহেব ইলিশ খেতে একদম পছন্দ করেন না। কিন্তু তুতুন জানে না। সে এক টুকরো মাছ নিয়ে তার দাদুর পাতে দেয়। মুহুর্তেই যেন খাবার টেবিলে কালবৈশাখীর মেঘ জমে। কিছুক্ষণ চুপ থেকে কিছু না বলে, কোন দিকে না তাকিয়ে নিজের রুমে চলে যান জামান সাহেব। কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে পড়েন বাড়ি থেকে।
৩
বাড়ি থেকে বেরিয়ে সোজা চলে আসেন নদীর পাড়ে। অনেক অনেক দিন পর নদীর পাড়ে আসা। এখানে এলেই তার নির্মলের কথা মনে পড়ে। তার সাথে প্রাইমারি স্কুলে পড়তো। বেশীদিন পড়তে পারে নি। ক্লাস ফোর পর্যন্তই, এরপর আর পড়ার দরকারই পড়েনি। তার আরও মনে পড়ে যায় এমনই এক পহেলা বৈশাখের কথা। তখন ছিল ১৯৭১ সাল। সেসময় পহেলা বৈশাখ হতো ১৫ই এপ্রিল। তার আগের দিন ক্লাস ফোরে পড়া ছোট্ট জামান বায়না ধরে ইলিশ আর পান্তা খেতে। কিন্তু যুদ্ধের এই দিনে কোথা থেকে আসবে ইলিশ মাছ যেখানে মানুষ বেঁচে আছে রাজ্যের সব ভয় আর উৎকণ্ঠা নিয়ে। বড়রা বলাবলি করে, যে কোনোদিন মিলিটারি এসে যাবে। ছোট্ট জামানেরতো আর এসব যুদ্ধ, মিলিটারি বুঝে কাজ নেই। তাই সে সকাল থেকেই কেঁদে যায়। বিরক্ত হয়ে বাবা- মা দুজনেই বকা দেয়। সেই এক বয়স যখন সামান্য কিছুতেই অভিমান হতো। এই অভিমান নিয়ে সে চলে আসে নদীর পাড়ে। আগে থেকেই নির্মল বসেছিলো। তাকে কাঁদতে দেখে কান্নার কারণ জানতে চায় নির্মল। কিন্তু সে কিছুতেই বলে না। কিন্তু বন্ধুর এই কান্না ভালো লাগে না নির্মলের কাছে। এই সেই করে সে ঠিকই জেনে নেয় আর খিলখিল করে হাসতে থাকে। বলে, ওরে বোকা , এর জন্য কাঁদতে আছে? নির্মলের হাসিতে জামানের কান্না আরও বাড়ে। কোনো রকমে তার কান্না থামায় নির্মল। তারপর তারা অনেকক্ষণ এটা সেটা খেলে। সন্ধ্যার আগেই বাড়ি চলে যায় দুজনে।
৪
পরদিন সকালে মন খারাপ নিয়ে ঘুম থেকে উঠে জামান। তার পান্তা-ইলিশ খাওয়া হলো না। বাড়ির সামনে রাস্তায় যায় সে । কিন্তু পহেলা বৈশাখের চিহ্ন কোথাও নেই। আশেপাশ কেমন জনশূন্য। একজন বয়স্ক লোক তাকে দেখে বলে, এই তুমি বাড়ি যাও, মিলিটারি আসছে, মিলিটারি। এই বলে ব্যস্ত হয়ে দৌড় দেয়। জামান কিছু বুঝতে পারে না। সে বাড়ির দিকে যাবে এই সময় শুনে দূর থেকে কে যেন তাকে ডাকছে। কাছে গিয়ে দেখে নির্মল হাতে একটা ব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে। কাছে যেতেই মুচকি হাসি দিয়ে ব্যাগটা বাড়িয়ে দেয়। জামান জিজ্ঞেস করে, কি এটাতে? নির্মল যেন একটা নির্মল হাসি দেয় আর বলে, বাড়িত গিয়া দেখিস। ব্যাগ নেয়ার আগেই একটা সবুজ গাড়ি এসে দাঁড়ায় তাদের সামনে। তার ভেতরে অনেকগুলো খাকি মানুষ। দুইজন নেমে আসে আর তাদের জিজ্ঞেস করে, তুমলোগ কউন হ্যায়? তারা কি বলবে বুঝতে পারে না। এবার জিজ্ঞেস করে, তুমলোগ ক্যায়া হিন্দু হ্যায়, অউর মুসলিম? এই প্রশ্ন বুঝতে পারে। জামান কিছু বলার আগেই নির্মল বলে, ও মুসলিম, আমি হিন্দু, ও এখানে থাকে আর আমি থাকি ওই জেলেপাড়ায়। সাথে সাথেই কান ফাটানো দুম দুম শব্দ। জামান দেখতে পায় নির্মলের ছোট্ট শরীরটা পড়ে গিয়েছে। তার শরীর থেকে বেরুচ্ছে লাল লাল রক্ত। পাশেই ব্যাগ। ব্যাগ থেকে বেরিয়ে এসেছে একটা রুপালী ইলিশ। সেই রুপালী ইলিশ আর রুপালী থাকছে না। আস্তে আস্তে লাল হয়ে যাচ্ছে।
৫
জামান সাহেব বাসায় ফিরতে সন্ধ্যা হয়। নামাজ পড়ে বারান্দায় গিয়ে বসেন। কে যেন উঁকি দেয়। জামান সাহেব বুঝতে পারেন এ তুতুন। কাছে ডাকেন। ভয়ে ভয়ে আসে। তুমি কি আমার উপর মন খারাপ করে আছো দাদুভাই? তুতুন এদিক ওদিক মাথা নাড়ে। আমার লক্ষী ভাই, বলে তুতুনকে জড়িয়ে ধরে হুহু করে কেঁদে উঠেন। তুমি কাঁদছো কেন দাদুভাই, জানতে চায় তুতুন। একটু থেমে থেমে বলেন, তোমার মতো আমার আরেকটা ভাই ছিলো দাদু, তার জন্য কাঁদি। দাদুর দুঃখ বুঝতে পেরেই যেন আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে তুতুন।
গল্পঃ রূপালী ইলিশ
02/02/2026
মেইন রোড থেকে বাসার রাস্তা ধরে সামনে যেই না একটু এগুলাম মাথার মধ্যে কেমন জানি চক্করের মত দিলো। বুঝতে পারছিলাম যে পড়ে যাচ্ছি। হাত বাড়ায়ে কিছু একটা ধরতে গিয়েও বাতাস ছাড়া আর কিছু না পেয়ে তাই ধরলাম শক্ত করে। কিন্তু বাতাস আমাকে আর ধরে রাখতে পারে না। এই জীবনে এরকম করে আরও দুইবার পড়েছিলাম। প্রথমবার স্কুলে থাকতে পিটি ক্লাসে। মাথার উপরে ঝা ঝা রোদ সহ্য হয়নি। দ্বিতীয়বার পড়ছিলাম রেলস্টেশনে, জ্বরের ঘোরে। দুইবারই সাথে সাথে উঠে গিয়েছিলাম। এইবারও সাথে সাথে উঠে গেলাম। কিন্তু উঠে দেখি আমি আর রাস্তার উপর নাই। শান্তি রোডের শেষ মাথায় তিন বছর ধরে যে বিল্ডিংটা উঠতেছে তার নিচে ইট, কাঠ, শক্ত হয়ে যাওয়া সিমেন্টের দলা, এসবের ভেতর আমি বসে আছি। এই বাড়ির নিচে সবসময় সন্ধ্যার পরে ষাট পাওয়ারের একটা হলুদ লাইট জ্বলে। সেই হলুদ লাইটের আলোয় দেখলাম আতুল আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। সাথে আরও অনেকগুলা কুকুর।
গল্পঃ শান্তি রোডের সারমেয় সমাজ
01/02/2026
যেদিন সময় আসে সেদিন প্রচন্ড শীত। মাঝরাতে আতুলেরা এসে আমায় ডাকতে থাকে। আমরা সবাই মিলে, মানে এই শান্তি রোডের সারমেয় সমাজ, হযরত আলীর বাসার দিকে যাই। যাওয়ার পথে কোথা থেকে যেন আরও অনেক অনেক কুকুর আমাদের দলে যোগ দিতে থাকে। এদের কাউকেই এর আগে দেখিনি। কয়েকটাতো দশাসই সাইজ আর ভয়ংকর দেখতে। কিছুটা ভয় পেয়ে গেলেও কিছু বললাম না। একটা সময় হযরত আলীর বাড়ির সামনে গিয়ে সবাই দাঁড়ালাম।
গল্পঃ শান্তি রোডের সারমেয় সমাজ
31/01/2026
জগতসংসারে আমার কাছে কথা বলার কেউ ছিল না। তাই এতদিন চুপচাপ থাকতাম। আতুলকে পাওয়ার পর অনেক কথা বলতে শুরু করলাম। প্রথম প্রথম অল্প স্বল্প গপ। কেমন আছি, কি খেয়েছি এসব। তারপর জীবনের বিভিন্ন কাহিনী। গানও শুনাতাম। সে খুব মনোযোগ দিয়ে শুনতো। একদিন আমার মায়ের কথা বললাম, কাঁদতে কাঁদতে। তাকেও দেখলাম কাঁদতে কাঁদতে শুনছে। চোখে একটু পানিও ছিল। আমার মন খুব হালকা হয়ে গেছিলো। আমার এসব কথা শুনতে শুনতে সে যে একেবারে কিছু বলতো না তেমন না। সেও বিভিন্ন কথা বলে বুঝাতো যে সে শুনছে মন দিয়ে। প্রথম প্রথম শুধু বলতো, ব্লেহ। এর মানে হলো, তাই নাকি। আবার বলতো অরররররররর… এর মানে হলো কথা তার পছন্দ হয়নি। আরও কিছু কিছু কথা বলতো, যেমন ধরেন- অহউ, ইয়েক, এদেইই, বিয়াইয়েম এসব । এইগুলোর মানে কি তা জানি না। একদিন বলেছিল, ধুর ব্যাটা। মানে আমি ঠিক সিউর না, তবে মনে হলো যেন বলেছে।
আসছে -
গল্প: শান্তি রোডের সারমেয় সমাজ
শুভ্র সরকার এর 'রোদের অলিভিয়া' কবিতাবইয়ের প্রথম কবিতা 'ইফতেখার হেলাল' আমার খুব পছন্দের, যেন যাপিত জীবনের ক্ষুদ্র একটা রিল।
16/10/2025
নীৎসে: আমার একান্ত বন্ধু
ফ্রিডরিখ নীৎসের জন্মদিন ছিল ১৫ অক্টোবর, মানে গতকাল। নির্ঝরদার পোস্টটা দেখে মনে পড়ল। মজার ব্যাপার হলো, আমার জীবনে এমনিতেই নীৎসে প্রায় প্রতিদিন ঘুরেফিরে আসে। তার চিন্তা, উক্তি, দর্শন সবকিছু নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই ভাবি, ঘাঁটি, নিজের ভেতরে মিলিয়ে দেখি। গুটিকয়েক দার্শনিক আছে যাদের প্রতি আমার বিশেষ টান, আর তাদের মধ্যে নীৎসে সবার উপরে। আসলে একটু বেশিই প্রিয় বলা যায়। ইউনিভার্সিটিতে তাকে প্রথম পড়েছিলাম তবে সে ছিলো শুধু পরীক্ষায় পাশ করার জন্য। কিন্তু গত দু’বছর ধরে সত্যিকারভাবে বুঝে পড়ার চেষ্টা করছি। আর এই যাত্রার শুরুটা করিয়েছিলেন নির্ঝরদা।
নির্ঝরদা প্রায়ই বলেন নীৎসে তার প্রিয় শিক্ষক। আমি অবশ্য নীৎসেকে শিক্ষক নয়, বন্ধু হিসেবেই দেখি। কারণ আমার অনেক পুরোনো ভাবনা, জীবনের প্রতি আমার দৃষ্টিভঙ্গি অদ্ভুতভাবে তার চিন্তার সঙ্গে মিলে যায়। নীৎসের গুরু ছিলেন সোপেনহাওয়ার, যাঁর ‘ইচ্ছাশক্তি’র দর্শন আমারও ভীষণ প্রিয়। নীৎসে অবশ্য তাঁর গুরুকে অনেকদূর ছাড়িয়ে গেছেন চিন্তার গভীরতা, প্রচলিত সমাজব্যবস্থাবিরোধী স্পিরিট আর স্বাধীনতার ধারণায়। তিনি ছিলেন একধরনের বিদ্রোহী আত্মা, যিনি সমাজ, ধর্ম, আর নৈতিকতার গোঁড়ামিকে ছুড়ে ফেলে দেন।
‘ঈশ্বর মৃত’—এই কথাটা দিয়ে নীৎসে শুধু প্রচলিত ধর্মসমূহের পতাকা নামাননি, বরং আমাদের আধুনিক জীবনের সংকটের মূল ধরতে পেরেছিলেন। আধুনিক পৃথিবীতে মানুষ তার অতীত থেকে অনেকটাই দূরে সরে অজানা এক পথে পা বাড়ানোর টাইমলাইনে অবস্থান করছে যেখানে ধর্মের ধারণা, ঈশ্বরের ধারণা অনেকটাই প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে। এই টাইমলাইনের মধ্যেই নীৎসে মানুষের মুক্তির সম্ভাবনা দেখতে পান। মূলত তার দর্শনের কেন্দ্রেই ছিল মানুষের আত্মমুক্তি , নিজেকে এমনভাবে শক্তিশালী করে তোলা যেন সীমাবদ্ধতা, দুর্বলতা, সব পেছনে ফেলে নতুন এক মানুষ হয়ে ওঠা যায়। এই ভাবনা থেকেই আসে তাঁর বিখ্যাত ধারণা 'Übermensch' বা 'সুপারম্যান'।
নীৎসের নিজের জীবন ছিল যন্ত্রণায় ভরা। স্নায়ুরোগ, একাকিত্ব, মানসিক ভাঙন এসব নিয়ে ছিল তার জীবন। তবু সেই যন্ত্রণার মধ্য দিয়েই তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন আত্মজ্ঞান আর শক্তি। তাঁর মতে, সত্যিকারের মুক্তি আসে সেই জায়গা থেকেই, যেখানে তুমি পুরোপুরি ভেঙে পড়ো, আর তারপর নতুন করে নিজেকে গড়ে তোলো।
নীৎসে বলতেন, “যা তোমাকে মারে না, তা তোমাকে আরও শক্তিশালী করে।” যতই সময় যাচ্ছে, এর অর্থ ততই যেন মূর্ত হয়ে সামনে এসে দাঁড়াচ্ছে।
জন্মদিবসে এই লিজেন্ডের জন্য শ্রদ্ধা।
ছবি: জেমিনি 😁
08/10/2025
সান্তোরিনি আইল্যান্ড প্রথম বার দেখেছিলাম লারা ক্রফট: টম্ব রেইডার ২ সিনেমায়। পর্দায় হঠাৎ যেন এক টুকরো স্বপ্ন দেখা দিলো। নীল গম্বুজ, সাদা সাদা সব বাড়ি, পাহাড়ের কোলে ঝুলে থাকা শহর আর দূরে অসীম ইজিয়ান সাগর। তখন থেকেই মনে হয়, পৃথিবীতে যেসব জায়গা থেকে সৌন্দর্যের মানে শেখা যায়, তাদের ভেতর সান্তোরিনি থাকবে।
তারপর অনেক সময় কেটে গিয়েছে, কিন্তু সেই নীল-সাদা ছবিটা এখনও রয়ে গিয়েছে মনে। নিঃশব্দতা, প্রশান্তি আর নিজের কাছেই ফিরে যাওয়ার অবসর একসাথে ডাকে আমায়। একদিন অবশ্যই সব ছেড়ে ছুঁড়ে সান্তোরিনির কোনো এক সন্ধ্যায় আঙুরলতার নিচে ওয়াইন হাতে সামনে অপরূপ ইজিয়ান সাগর নিয়ে বসে থাকবো কোনো রকম চিন্তাহীন, ভাবনাহীন।
05/10/2025
I've just reached 100 followers! Thank you for continuing support. I could never have made it without each and every one of you. 🙏🤗🎉
Click here to claim your Sponsored Listing.