Studio Sorowar
Inspiration to young generation. Motivational speaker
career consultant
Like & Follow
রাব্বিশ রাহলি সাদরি, ওয়া ইয়াসসিরলি আমরি, ওয়াহলুল উকদাতাম মিল্লিসানি, ইয়াফকাহু ক্বাওলি
অর্থ: "হে আমার প্রতিপালক! আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দাও এবং আমার কাজ সহজ করে দাও। আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দাও যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে"
এটি কুরআনের সূরা ত্বাহা (২০:২৫–২৮)-এর এক
অসাধারণ দোয়া, যা করেছিলেন মহান নবী মূসা (আলাইহিস সালাম), যখন আল্লাহ তাঁকে অত্যাচারী শাসক ফিরাউন-এর সামনে সত্যের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার কঠিন দায়িত্ব দেন। নিজের সীমাবদ্ধতা ও মিশনের কঠোরতা বুঝেই তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন—হে আমার রব! আমার অন্তর প্রশস্ত করে দিন, আমার কাজ সহজ করে দিন, আর আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দিন, যাতে মানুষ আমার কথা বুঝতে পারে। এই দোয়ার মধ্যে লুকিয়ে আছে আত্মবিশ্বাস, তাওয়াক্কুল এবং সফল যোগাযোগের মূল চাবিকাঠি। আজকের জীবনেও এই দোয়া সমানভাবে প্রাসঙ্গিক—যে কোনো বড় চ্যালেঞ্জ, প্রেজেন্টেশন, পরীক্ষা বা দায়িত্বের আগে এটি পাঠ করলে আল্লাহ তায়ালা অন্তরে সাহস, কাজে সহজতা এবং কথায় প্রভাব দান করেন। এটি আমাদের শেখায়, সফলতা শুধু নিজের দক্ষতায় নয়, বরং আল্লাহর সাহায্যের উপর নির্ভরশীল—আর সেই সাহায্য চাইবার সবচেয়ে সুন্দর ভাষাগুলোর একটি হচ্ছে এই দোয়া। সরোয়ার ১৯.০৪.২৬
জ্বালানি ষড়যন্ত্র :
বাংলাদেশে Saudi Aramco-এর বিনিয়োগ না হওয়ার মূল কারণ ছিল দেশের নীতিগত দুর্বলতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং সময়মতো সিদ্ধান্ত না নেওয়া, যার ফলে একটি বড় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বাস্তবায়ন হয়নি। অথচ আরামকো একাধিকবার বাংলাদেশে এসে আগ্রহ দেখালেও যথাযথ সাড়া না পাওয়ায় তারা পিছিয়ে যায়। এর ফলে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি খাতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে—দেশ এখনো আমদানিনির্ভর, বছরে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে, জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে এবং আঞ্চলিক এনার্জি হাব হওয়ার একটি বড় সুযোগ হারিয়েছে। সামগ্রিকভাবে এটি শুধু একটি বিনিয়োগ হারানো নয়, বরং দেশের অর্থনীতি ও কৌশলগত সক্ষমতার জন্য একটি বড় “missed national opportunity” হিসেবে বিবেচিত হয়।
তবে ক্ষতির হিসাবটা বাস্তব এবং গুরুতর যা একটু হিসেব করে দেখা যাক। যদি আরামকোর মতো কোম্পানি বড় আকারের রিফাইনারি স্থাপন করত, তাহলে বাংলাদেশ প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে পারত। বর্তমানে বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ পরিশোধিত জ্বালানি (ডিজেল, পেট্রোল, ফার্নেস অয়েল) আমদানি করে—যেখানে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েল ও রিফাইন্ড ফুয়েলের দামের ব্যবধান, পরিবহন খরচ ও প্রিমিয়াম মিলিয়ে গড়ে প্রতি ব্যারেলে অতিরিক্ত ৮–১৫ ডলার বেশি দিতে হয়। দেশের বার্ষিক জ্বালানি আমদানি (প্রায় ৬০–৭০ মিলিয়ন ব্যারেল সমমান) ধরে হিসাব করলে, বছরে আনুমানিক ৫০০ মিলিয়ন থেকে ১ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৫,৫০০ থেকে ১১,০০০ কোটি টাকা) অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। দীর্ঘ ১০ বছরে এই ক্ষতি দাঁড়াতে পারে ৫–১০ বিলিয়ন ডলার বা তারও বেশি—যা একটি বড় অবকাঠামো প্রকল্পের সমান।
শুধু টাকা নয়—কৌশলগত ক্ষতিটাও বড়। নিজস্ব আধুনিক রিফাইনারি থাকলে বৈশ্বিক সংকটের সময় সরবরাহ ঝুঁকি অনেক কম থাকত, মজুত ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী হতো, এবং আজকের জ্বালানি সংকট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যেত। তবে এটাও ঠিক—একটি রিফাইনারি থাকলেই পুরো সংকট “নিশ্চিন্তে” সামলে ফেলা যেত—এটা পুরোপুরি বাস্তবসম্মত নয়, কারণ বাংলাদেশ এখনও প্রায় পুরোপুরি আমদানিনির্ভর জ্বালানি অর্থনীতি।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এটা কোনো ছোট ভুল ছিল না—বরং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় একটি নীতিগত ব্যর্থতা, যার আর্থিক ও কৌশলগত মূল্য এখনো দেশকে দিতে হচ্ছে। সরোয়ার ১৮.০৪.২৬
14/04/2026
ক্রুড অয়েলের অভাবে অবশেষে বন্ধ হয়ে গেছে ইস্টার্ন রিফাইনারি। দেশের একমাত্র রিফাইনারিটি বছরে ১৫ লাখ টন এরাবিয়ান লাইট ক্রুড রিফাইন করতে পারে। দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার ২০% মেটায় এই স্থাপনা।
শুনলে আশ্চর্যজনক হলেও দেশের একমাত্র রিফাইনারিটি সেই পাকিস্তান আমলে ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত। স্বাধীনতার ৫০ বছর উদজাপন করা দেশে উন্নয়নের জোয়ার বয়েছে বিভিন্ন আমলে কিন্তু দুর্ভাগ্য ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট তৈরি করা সম্ভব হয় নাই।
২০০৮ সালে প্রথম ইস্টার্ন রিফাইনারি ইউনিট-২ এর আলাপ আলোচনা শুরু হয়। ২০১২ সালে ৭৫০০ কোটি টাকা বাজেটের উন্নয়ন প্রকল্প তৈরি হয়। এর পরে সময়ের সাথে সাথে শুধু প্রকল্প রিভাইস হয়েছে ব্যয় বেড়েছে কিন্তু কাজ আর শুরু হয় নাই। ফ্রান্সের প্রতিষ্ঠান ‘টেকনিপ’ ২০১৭ সালে চুড়ায় ডিজাইন দিলেও অজানা কারণে সময় ক্ষেপণ হয়েছে। অবশেষে ইন্টেরিম গভমেন্ট ২০২৬ সালে ৩১ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। বর্তমান সরকার কাজ এগিয়ে নিলে আশা করা যায় ২০৩০ সাল নাগাদ ইস্টার্ন রিফাইনারির ইউনিট-২ উতপাদনে আসবে।
অথচ ২০১৯ সালে কাজে নেমে ভারত আসামে রুমালিগড় রিফাইনারির ক্ষমতা ৩ গুন বৃদ্ধির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। বর্তমান ঐ রিফাইনারি থেকে বাংলাদেশ মৈত্রি পাইপ লাইনের মধ্যমে বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টিন ডিজেল আমদানি করে।
আমাদের এক যুগ পরে কাজে নেমে ভারত আমাদের মাথার উপর আসামে ৩ মিলিয়ন টন রিফাইনারির ক্ষমতা ৯ মিলিয়ন টন করে ফেরতে পারে। কিন্তু আমরা এখনো ইট গাথাই শুরু করতে পারি নাই। পেপার ওয়ার্ক করেই আমাদের দেড় যুগ পার হয়ে গেল। অবস্থা দেখে বলতেই হয় কী অভুতপূর্ব উন্নয়ণ রে বাবা !!
Post from Personal Finance101
13/04/2026
উনারা কখনই বলবে না!!!
তোমরা বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ হবা,
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফ্যাশন ব্র্যান্ডের মালিক হবা,
বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানী হবা,
চেতনা বাদ দিয়া দুর্নীতির গলা টিপা ধরবা,
তোমরা একদিন সৎ ও সফল প্রধানমন্ত্রী হবা,
না তারা কখনই এগুলো বলবে না।
কারন তারা চায় তোমরা আজীবন গোলামি করবা।
এটা খুবই দু:খজনক এবং জাতি হিসেবে আমরা কলংকিত।
“আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল জান্নাহ”—একটি ছোট দোয়া, কিন্তু এর ভেতরে লুকিয়ে আছে একজন মুমিনের জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন, সবচেয়ে গভীর আকাঙ্ক্ষা। অর্থ— “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জান্নাত চাই।” এই দোয়ার ব্যাকগ্রাউন্ড আমাদেরকে শিখিয়ে দেয়, আল্লাহর কাছে চাওয়ার জন্য বড় বড় শব্দ বা জটিল ভাষা দরকার নেই; দরকার শুধু আন্তরিকতা আর এক টুকরো সত্যিকারের হৃদয়। সুনান আবু দাউদ-এর একটি হাদিসে বর্ণিত আছে, এক সাহাবি (রাঃ) দীর্ঘ দোয়া করতে পারতেন না। তিনি সহজভাবে বলতেন: “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জান্নাত চাই এবং জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাই।” তখন মুহাম্মদ (সা.) তাকে শুনে বলেছিলেন— “আমিও এই দোয়ার আশপাশেই ঘুরপাক খাই।” (হাদিস: ৭৯২)।
ভাবুন, যে দোয়ার চারপাশে রাসূল (সা.) নিজেই ঘুরতেন, সেই দোয়া আমাদের জন্য কতটা মূল্যবান! দুনিয়ার হাজারো ব্যস্ততা, দুঃখ, চাওয়া-পাওয়ার ভিড়ে আমরা কত কিছুই না চাই—কিন্তু আসল চাওয়া কি ভুলে যাই না? এই ছোট দোয়াটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, জীবনের আসল লক্ষ্য দুনিয়ার সাময়িক সফলতা নয়; বরং চিরস্থায়ী শান্তির ঠিকানা—জান্নাত।
যখন আপনি ক্লান্ত, যখন মনে হয় কেউ আপনার কষ্ট বুঝছে না, তখন শুধু বলুন— “আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল জান্নাহ।” বিশ্বাস রাখুন, এই একটি বাক্য আপনার হৃদয়কে আকাশের সাথে যুক্ত করে দেয়। এটা শুধু একটি দোয়া নয়, এটা একটি আশা… একটি প্রতিশ্রুতি… যে, আপনি হারিয়ে যাননি—আপনি এখনও জান্নাতের পথেই। সরোয়ার ১৩.০৪.২৬
13/04/2026
Suvarnabhumi Airport, Bangkok–এর ভেতরে এমন সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও সুপরিকল্পিত নামাজের ব্যবস্থা সত্যিই হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতো। ব্যস্ত আন্তর্জাতিক এই বিমানবন্দরে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার যাত্রী আসা-যাওয়া করলেও মুসলিম যাত্রীদের ইবাদতের কথা বিবেচনা করে আলাদা প্রার্থনা কক্ষ রাখা হয়েছে—যেখানে পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রয়েছে। নামাজের জায়গাগুলো কার্পেট বিছানো, কিবলামুখী নির্দেশনা স্পষ্টভাবে দেয়া, এমনকি দেয়ালে বিভিন্ন দেশের সময় অনুযায়ী নামাজের সময়সূচিও প্রদর্শিত—যা একজন মুসল্লির জন্য অত্যন্ত সহায়ক। পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন ওজুর সুব্যবস্থা থাকায় ইবাদতের পূর্ব প্রস্তুতিও সহজ হয়ে যায়।
একটি ভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে থেকেও এই ধরনের সংবেদনশীল ও সম্মানজনক উদ্যোগ সত্যিই উচ্চমানের প্রফেশনালিজম এবং আন্তঃধর্মীয় সহনশীলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এটি প্রমাণ করে, আধুনিক বিশ্বে প্রকৃত উন্নত মানসিকতা কেবল অবকাঠামো বা প্রযুক্তিতে নয়, বরং মানুষের বিশ্বাস ও প্রয়োজনকে সম্মান করার মধ্যেই নিহিত। এমন পরিবেশে নামাজ আদায় করার সুযোগ পাওয়া নিঃসন্দেহে এক ধরনের সৌভাগ্য—যেখানে ব্যস্ত ভ্রমণের মাঝেও মন কিছুটা থেমে যায়, হৃদয়ে নেমে আসে প্রশান্তি, আর আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা আরও গভীরভাবে অনুভূত হয়।
সূরা Al-Kafirun (কাফিরুন)-এর নাজিলের প্রেক্ষাপট, কারণ, উদ্দেশ্য ও প্রভাব
সূরা কাফিরুন মক্কী যুগে নাজিল হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সূরা, যা ইসলামের আকীদার স্বচ্ছতা ও আপসহীন অবস্থানকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। সে সময় Mecca-তে Islam প্রচারের কারণে Prophet Muhammad (সা.) ও মুসলমানরা কঠিন বিরোধিতার সম্মুখীন হচ্ছিলেন। কুরাইশ নেতারা চেয়েছিলো এমন একটি সমঝোতা করতে, যেখানে এক বছর তারা আল্লাহর ইবাদত করবে, আরেক বছর নবী (সা.) তাদের মূর্তিপূজায় অংশ নেবেন—অর্থাৎ সত্য ও মিথ্যার মধ্যে একটি আপোষমূলক অবস্থান তৈরি করা। এই প্রস্তাবের মাধ্যমে তারা ইসলামের মূল ভিত্তি তাওহীদকে দুর্বল করতে চেয়েছিল।
এই প্রেক্ষাপটে সূরা কাফিরুন নাজিল হয়, যা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করে—“তোমাদের ধর্ম তোমাদের জন্য, আর আমার ধর্ম আমার জন্য।” এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা জানিয়ে দেন, ঈমান ও কুফরের মধ্যে কোনো আপোষ নেই; সত্য কখনো মিথ্যার সাথে মিলিত হতে পারে না। সূরাটি মূলত বিশ্বাসের স্বাধীনতা ও ধর্মীয় সীমারেখা নির্ধারণ করে দেয়, যেখানে মুসলমানদেরকে বলা হয় নিজেদের আকীদায় দৃঢ় থাকতে, যদিও সমাজ বা শক্তিশালী গোষ্ঠী থেকে চাপ আসুক না কেন।
এই সূরার উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানদের মানসিকভাবে শক্ত করা এবং তাদেরকে বুঝানো যে, দাওয়াহ বা প্রচারের ক্ষেত্রে নমনীয়তা থাকতে পারে, কিন্তু আকীদার ক্ষেত্রে কোনো আপোষ গ্রহণযোগ্য নয়। এটি একইসাথে অমুসলিমদের জন্যও একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়—ইসলাম কাউকে জোর করে না, বরং নিজ নিজ বিশ্বাসে থাকার স্বাধীনতা দেয়, তবে সত্য ও মিথ্যার মিশ্রণকে অনুমোদন করে না।
সূরা কাফিরুন নাজিল হওয়ার পর মক্কার সমাজে একটি সুস্পষ্ট বিভাজন তৈরি হয়। মুসলমানরা তাদের অবস্থানে আরও দৃঢ় হয় এবং কুরাইশদের সাথে আপোষের সব পথ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে একদিকে মুসলমানদের উপর নির্যাতন বাড়লেও, অন্যদিকে তাদের ঈমান আরও পরিপক্ক ও দৃঢ় হয়। এই সূরা ইসলামের ইতিহাসে একটি টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করে, যেখানে আপোষহীন তাওহীদের ঘোষণা স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং মুসলিম উম্মাহর আদর্শিক ভিত্তি মজবুত হয়। সরোয়ার ১২.০৪.২৬
12/04/2026
গোড়াতেই গলদ থাকলে দেশ আগাবে কি করে।
দুর্নীতি আর দলীয়করণ এর ফসল এ জাতি যুগ যুগ ধরে বয়ে বেড়াচ্ছে।
মুক্তির সিদ্ধান্ত এ জাতিকেই নিতে হবে।
নাহলে এই মরিচা ধরা জীবন বয়ে বেড়াতে হবে জেনারেশন থেকে জেনারেশন, অসম্মান আর বঞ্চনা নিয়ে।
পশ্চিমাদের বস্তুবাদী জীবনধারা আমাদের চিন্তা-চেতনার উপর এমন এক অদৃশ্য প্রভাব বিস্তার করেছে, যার ফলে আমরা ধীরে ধীরে নিজের স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলছি। কুরআন আমাদের সতর্ক করে দিয়েছে— “আর তুমি তাদের অনুসরণ করো না যারা আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল, যারা তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে” (সুরা আল-কাহফ ১৮:২৮)। আজ বাস্তবতা হলো, আমরা ভালো-মন্দের মানদণ্ড নির্ধারণ করছি সেই সমাজের আলোকে, যারা আল্লাহর বিধানের তোয়াক্কা করে না। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “তোমরা অবশ্যই পূর্ববর্তী জাতিদের পথ অনুসরণ করবে, হাতের এক বিঘত পরিমাণও বাকি রাখবে না…” (সহিহ বুখারি: ৭৩২০, সহিহ মুসলিম: ২৬৬৯)। এই হাদিস আমাদের বর্তমান অবস্থার স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি। দাড়ি, টুপি, আরবি ভাষা বা ইসলামি সংস্কৃতির বাহ্যিক প্রতীকগুলোকে অবজ্ঞা করা আসলে অন্তরের দুর্বলতার প্রকাশ, যা মুনাফিকির দিকে নিয়ে যেতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেন: “নিশ্চয়ই মুনাফিকরা আগুনের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে” (সুরা আন-নিসা ৪:১৪৫)। তাই আমাদের উচিত রাসূল ﷺ-এর জীবনাদর্শে ফিরে আসা, নিজের সংস্কৃতি ও আকীদাকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করা এবং আল্লাহর বিধানকে জীবনের একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করা—এটাই মুক্তির একমাত্র পথ। সরোয়ার ১০.০৪.২৬
প্রতিদিন বেশি বেশি দরূদ শরীফ পাঠ করার ফজিলত সম্পর্কে সহীহ হাদীসে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে আলোচনা এসেছে।
আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর উপর দরূদ পাঠ করেন; হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর উপর দরূদ ও সালাম প্রেরণ কর” (সূরা আহযাব ৩৩:৫৬)।
এই আয়াতের আলোকে রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজেও উম্মতকে বেশি বেশি দরূদ পড়তে উৎসাহ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পাঠ করে, আল্লাহ তার উপর দশটি রহমত নাযিল করেন” (সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ৪০৮)।
অন্য বর্ণনায় এসেছে, “একবার দরূদ পাঠ করলে তার দশটি গুনাহ মাফ করা হয় এবং দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়” (সুনান আন-নাসাঈ, হাদিস নং ১২৯৭; মুসনাদ আহমাদেও বর্ণিত)।
এছাড়াও রাসূল ﷺ বলেছেন, “কিয়ামতের দিন আমার নিকটতম ব্যক্তি হবে সে, যে আমার উপর সবচেয়ে বেশি দরূদ পাঠ করেছে” (সুনান আত-তিরমিযী, হাদিস নং ৪৮৪)।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ হাদীসে হযরত উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, “দোয়া আসমান ও জমিনের মাঝখানে ঝুলে থাকে, যতক্ষণ না নবীর উপর দরূদ পাঠ করা হয়” (সুনান আত-তিরমিযী, হাদিস নং ৪৮৬)।
একইভাবে উবাই ইবন কাব (রা.) যখন বেশি দরূদ পাঠ করার কথা বলেন, তখন রাসূল ﷺ তাকে বলেন, “তাহলে তোমার দুশ্চিন্তা দূর হবে এবং তোমার গুনাহ ক্ষমা করা হবে” (সুনান আত-তিরমিযী, হাদিস নং ২৪৫৭)।
এইসব সহীহ ও গ্রহণযোগ্য হাদীস থেকে স্পষ্ট হয় যে, দরূদ শরীফ যত বেশি পড়া যায় ততই কল্যাণকর। যদিও নির্দিষ্টভাবে “প্রতিদিন ১০০০ বার” পড়ার জন্য কোনো সহীহ হাদীসে বাধ্যতামূলক সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়নি, তবে অধিক পরিমাণে দরূদ পাঠ করলে উল্লিখিত ফজিলতগুলো অধিক হারে লাভের আশা করা যায়। তাই প্রতিদিন ১০০০ বার দরূদ পড়া একটি উত্তম নফল আমল, যা মানুষের গুনাহ মাফ, দুশ্চিন্তা দূর, রহমত লাভ এবং কিয়ামতের দিন রাসূল ﷺ–এর নৈকট্য অর্জনের শক্তিশালী মাধ্যম হতে পারে, ইনশাআল্লাহ। সরোয়ার ১০.০৪.২৬
08/04/2026
মিনার জামারাতে নিরাপদ হজ: এক বাংলাদেশি প্রকৌশলীর অনন্য অবদান
হজের সময় মিনায় জামারাতে পাথর নিক্ষেপের (রামী আল-জামারাত) সময় অতীতে বহুবার ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে, বিশেষ করে অতিরিক্ত ভিড় ও একমুখী চলাচলের অভাবে পদদলিত হয়ে মানুষ মারা যাওয়ার ঘটনা দেখা গেছে। এই সমস্যার সমাধানে আধুনিক প্রকৌশলভিত্তিক একটি নিরাপদ নকশা বাস্তবায়ন করা হয়, যেখানে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন খ্যাতিমান প্রকৌশলী ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ পাওয়া যায়। তিনি ভিড় ব্যবস্থাপনা, কাঠামোগত নিরাপত্তা ও চলাচলের সুষ্ঠু প্রবাহ নিশ্চিত করার ধারণা দেন, যা পরে সৌদি কর্তৃপক্ষ বৃহৎ পরিসরে বাস্তবায়ন করে।
এই নকশার মূল বৈশিষ্ট্য ছিল বহু-তল বিশিষ্ট জামারাত ব্রিজ নির্মাণ, যেটি বর্তমানে জামারাত ব্রিজ নামে পরিচিত। আগে যেখানে এক স্তরে লাখো হাজি একসাথে পাথর মারতেন, এখন সেখানে একাধিক তলায় বিভক্ত করা হয়েছে, ফলে ভিড় ছড়িয়ে যায় এবং চাপ কমে। প্রতিটি তলায় আলাদা প্রবেশ ও বাহির হওয়ার পথ রাখা হয়েছে, যাতে মানুষ একই পথে ঢোকা-বেড়োনো না করে—এটি ভিড়ের সংঘর্ষ কমাতে বড় ভূমিকা রাখে। এছাড়া ব্রিজের পিলার বা স্তম্ভগুলোকে আগের গোলাকার ছোট আকৃতির বদলে বড়, লম্বাটে দেয়াল আকৃতিতে তৈরি করা হয়েছে, যাতে বেশি সংখ্যক মানুষ সহজে পাথর নিক্ষেপ করতে পারে এবং কোথাও জমাট বাঁধা না লাগে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—পুরো এলাকা একমুখী (one-way) চলাচল ব্যবস্থা অনুযায়ী ডিজাইন করা হয়েছে। হাজিরা নির্দিষ্ট রুট ধরে প্রবেশ করেন এবং অন্য রুট দিয়ে বের হন, ফলে বিপরীতমুখী মানুষের চাপ তৈরি হয় না। তাছাড়া উন্নত সিসিটিভি মনিটরিং, কন্ট্রোল রুম থেকে রিয়েল-টাইম ভিড় বিশ্লেষণ, এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত লোক সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এই ডিজাইনের ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
সারসংক্ষেপে বলা যায়, আধুনিক প্রকৌশল, ভিড় ব্যবস্থাপনা এবং সুপরিকল্পিত অবকাঠামোর সমন্বয়ে জামারাত এলাকায় নিরাপত্তা অনেকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে বাংলাদেশি প্রকৌশলীর ধারণাও একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবে বিবেচিত হয়। সরোয়ার ০৮.০৪.২৬
08/04/2026
হজের সময় বিশেষ করে মিনায়, আরাফা এবং মুজদালিফা-তে মোবাইল ফোন ম্যানেজমেন্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মিনায় সাধারণত বিদ্যুৎ সুবিধা থাকলেও প্রচণ্ড ভিড়, নেটওয়ার্ক চাপ এবং চার্জিং পয়েন্টের স্বল্পতার কারণে ফোন হঠাৎ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এখানে চার্জিং সকেটগুলো অনেক সময় সীমিত এবং সাধারণত ২-পিন (Type G বা কখনও ইউনিভার্সাল) হয়ে থাকে, তবে একসাথে অনেক মানুষ ব্যবহার করায় ফাঁকা পাওয়া কঠিন হয়। তাই নিজের জন্য মাল্টিপ্লাগ (multi-plug) বা একাধিক USB পোর্টযুক্ত চার্জার নিয়ে যাওয়া খুবই বুদ্ধিমানের কাজ। এতে একটি সকেট পেলে একসাথে কয়েকটি ডিভাইস চার্জ করা যায়, এমনকি অন্য হাজিদের সাথেও শেয়ার করা সম্ভব হয়। এছাড়া লম্বা (২–৩ মিটার) চার্জিং ক্যাবল রাখলে দূরের সকেট থেকেও চার্জ নিতে সুবিধা হয়। অবশ্যই ভালো মানের পাওয়ার ব্যাংক সাথে রাখা জরুরি, যা আগে থেকেই সম্পূর্ণ চার্জ করে নিতে হবে। ফোনের ব্যাটারি সেভ করার জন্য অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বন্ধ রাখা, লোকেশন ও ব্লুটুথ বন্ধ রাখা এবং ‘Battery Saver Mode’ চালু রাখা উচিত।
অন্যদিকে, আরাফা ও মুজদালিফায় সাধারণত স্থায়ী বিদ্যুৎ ব্যবস্থা থাকে না, বিশেষ করে হজ-এর মূল দিনগুলোতে। তাই এখানে চার্জিং সকেটের উপর নির্ভর করার সুযোগ নেই বললেই চলে। যাত্রার আগে কমপক্ষে ২০,০০০–৩০,০০০ mAh ক্ষমতার পাওয়ার ব্যাংক সম্পূর্ণ চার্জ করে নিতে হবে এবং সম্ভব হলে দুটি পাওয়ার ব্যাংক রাখা ভালো। ফোন ব্যবহারে সংযমী হতে হবে—অপ্রয়োজনীয় ছবি তোলা, ভিডিও করা বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার কমিয়ে দিতে হবে। প্রয়োজনে ফোনকে ‘Airplane Mode’-এ রেখে শুধু দরকারের সময় চালু করা যেতে পারে। এছাড়া গ্রুপ লিডার বা সাথীদের সাথে আগে থেকেই নির্দিষ্ট মিলনস্থল ঠিক করে রাখা উচিত, যাতে ফোন বন্ধ হয়ে গেলেও কেউ বিচ্ছিন্ন না হয়ে যায়। ছোট একটি টর্চ বা চার্জেবল লাইট রাখা উপকারী, কারণ রাতে মুজদালিফায় আলো সীমিত থাকে। সব মিলিয়ে, মাল্টিপ্লাগ, পাওয়ার ব্যাংক, এবং সচেতন ব্যবহার—এই তিনটি বিষয় ঠিকমতো মেনে চললে হজের সময় ফোন সংক্রান্ত বড় কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না। সরোয়ার ০৮.০৪.২৬
Click here to claim your Sponsored Listing.