MD Fazle Rabbi -MFR
স্বপ্ন আর আঘাতের মাঝখানে
22/11/2025
23/08/2025
শুনলে অবাক হবেন পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাবান মানুষদের একজন, নেপোলিয়ন বোনাপার্ট, তার জীবনের সবচেয়ে তীব্র ভালোবাসার বিনিময়ে পেয়েছিলেন অবহেলা, প্রতারণা আর নির্লিপ্ত নিরবতা।
নেপোলিয়ন যে নারীকে তার সমগ্র সাম্রাজ্য পর্যন্ত দিয়ে দিতে চেয়েছিলেন, সেই জোসেফিন বোনাপার্ট কখনোই তাকে সেই মাত্রার ভালোবাসা ফিরিয়ে দেননি। নেপোলিয়ন তাকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে চিঠি লিখতেন দীর্ঘ, আবেগে ভরা চিঠি। তিনি নিজের পকেটে রাখতেন জোসেফিনের ছবি, সময় পেলেই চুমু খেতেন সেই ছবিতে। এমনকি একবার যুদ্ধের মাঝেও সেনাদের চিঠি বিলি করা বন্ধ রেখে নিজের চিঠি নিজেই হাতে লিখে পাঠিয়েছিলেন।
অথচ সেই জোসেফিন, কখনোই বড় একটা চিঠিও লেখেননি তাকে। নেপোলিয়ন একবার করুণভাবে বলেছিলেন
“আরেকটু বড় চিঠি লিখো, যেন পড়ে ফেলতে না ফেলতেই শেষ না হয়ে যায়…”
জোসেফিন লেখেননি।
তবুও নেপোলিয়ন তাকে বিয়ে করেছিলেন বয়সে বড়, বিধবা, এবং দুই সন্তানের জননী পরিবারের আপত্তি উপেক্ষা করে। তিনি জানতেন, ভালোবাসা সহজ না। কিন্তু এমন বিশ্বাসঘাতকতা? মিশরে যুদ্ধের সময়, জোসেফিন নেপোলিয়নের অনুপস্থিতিতে এক সেনাপতির সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন।
ভালোবাসার এমন নির্মম চিত্র ইতিহাসে খুব কমই দেখা যায়।
রেতে ব্র্যাডবেরির "Fahrenheit 451" বইয়ের একটি লাইন ছিলো
"It was a pleasure to burn."
যদিও বইটির প্রেক্ষাপট ভিন্ন, তবুও এই লাইনটি পড়ে যেন হৃদয়ে একটি আগুন জ্বলে ওঠে ভালোবাসার আগুন, যেটা জ্বলে কিন্তু আলো দেয় না, পুড়িয়ে খাইয়ে ফেলে।
ভালোবাসা এক অদ্ভুত ব্লাইন্ড স্পট। আপনি কাকে ভালোবাসবেন বা ভালোবাসবেন না, সেটা আপনি ঠিক করতে পারেন। কিন্তু কে আপনাকে ভালোবাসবে, সেটা আপনার হাতে থাকে না।
ভালোবাসা পৃথিবীর এমন এক ব্যবসা, যেখানে লোকসান নিশ্চিত জেনেও আমরা বিনিয়োগ করি আবারও করি।
ভালোবাসা এমন এক খেলা, যার ফলাফল আগেই জানা তবুও খেলা থামাতে মন চায় না। মাঠে পড়ে থাকতে ইচ্ছা করে, রক্তাক্ত হলেও আরেকটু এগিয়ে যেতে ইচ্ছা করে।
এক আফ্রিকান প্রবাদ বলে
“ভালোবাসা এমন এক অত্যাচারী শাসক, যার হাত থেকে কেউ রক্ষা পায় না।”
এ কথা শুনে মনে হয়, এর চেয়ে সত্যি কথা আর কিছু নেই।
ভালোবাসা একমাত্র আবেগ, যেটা আপনাকে মানুষ করে আবার একই সাথে ভেঙে চুরমার করে দেয়।
23/08/2025
গাড়িটি নিজে এতগুলো টায়ার বহন করেও তার বিপদের সময় একটি টায়ারও কাজে লাগাতে পারছে না।
ঠিক তেমনি জীবনে চলার পথে আত্মীয়-স্বজন,বন্ধু-বান্ধব অনেক থাকবে এই পিকাপ ভর্তি টায়ার এর মতো।
কিন্তু খারাপ সময়ে খুব কম মানুষকেই কাছে পাবেন,নষ্ট ছোটো পিকাপের টায়ারের মতো।যে আপনাকে আবার চলতে সাহসী করবে,সহায়তা করবে।
অন্যদিকে সুসময়ের মানুষগুলো ট্রাক ভর্তি টায়ারের মতো,আপনার অবদান কী ছিল তা মনে রাখবে না,বরং আপনি তাদের থেকে কী নিয়েছেন, সেটা বিভিন্ন ভাবে ফেরত নেয়ার চেষ্টা করবে!...
আর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হলো,,
অনেকে আপনার বিপদ জেনেও জানবে না।দেখেও দেখবে না!...
তাই স্বনির্ভর হোন,আত্মীয় আর বন্ধু বিষয় না,,কে আপনাকে ভালোবাসে তাকে গুরুত্ব দিন।।
ধন্যবাদ,
(রিকুয়েষ্ট দিয়ে সংযুক্ত থাকতে পারেন)❤️
তেমনি পৃথিবীতে মানুষ চিনতে পারা অনেক কঠিন।
জীবন নাটকের চেয়ে নাটকীয়,
22/08/2025
পথ এখনো অনেক বাকি......
🥹🥹“ঘরে ঘরে এমন অজস্র আবু জাহেল আছে!”🥹
ছেলে ইমুতে মেসেজ পাঠিয়েছে-
“বাবা আপনার নামে ২০ হাজার টাকা ছেড়েছি, এ টাকা দিয়ে আপনি ডাক্তার দেখাবেন, ফল কিনে খাবেন। গোপন নাম্বারে পাঠিয়েছি, আপনি আইডি কার্ড নিয়ে জনতা ব্যাংকে গেলেই টাকা পেয়ে যাবেন”।
(গোপনীয়তার স্বার্থে পিন নাম্বারটি দিলাম না)।
ছেলের কথা মতো বাবা আজ জনতা ব্যাংক গৌরীপুর শাখায় এসেছেন টাকা তোলার জন্য। বেশ অসুস্থ শরীর তাঁর। কোনমতে লাঠিতে ভর করে চলাফেরা করেন। বললাম- এই শরীর নিয়ে একা একা আসা ঠিক হয়নি আপনার।
তিনি জানালেন- সাথে আসার মতো কাউকে পাননি বলে কষ্ট করে একাই এসেছেন। টাকা তুলে ডাক্তার দেখিয়ে তারপর বাড়ি ফিরবেন।
মুরুব্বিকে আমার রুমে বসিয়ে সহকর্মীকে বললাম ওনার টাকাটা পে-আউট করে দেয়ার জন্য। কিছুক্ষণ পর আমার সহকর্মী জানালো, এই টাকার বেনিফিসিয়ারী তিনি নন, অন্য আরেকজন। পরবর্তীতে গোপন পিন নাম্বারটি আমি নিজে কয়েক বার মিলিয়ে দেখলাম, সহকর্মীর কথাই সত্যি। পরে ভদ্রলোকের কাছে জানতে চাইলাম উল্লেখিত ব্যাক্তিকে আপনি চিনেন কিনা। নাম শোনতেই তাঁর দু’চোখে জলের তান্ডব দেখলাম!
অভাগা বাবা কাঁদতে কাঁদতে লাঠিতে ভর দিয়ে চলে গেলেন।
তখন নায়ক রাজ্জাকের “বাবা কেনো চাকর” সিনেমাটির কথা মনে পড়ে গেল। হৃদয়ে বাজতে লাগলো- আমার মতো এমন সুখী নেইতো কারো জীবন…..
বুঝতে পারলাম, ছেলে তার শ্বশুরকে পাঠানো মেসেজটি ভুলক্রমে বাবার মোবাইলে পাঠিয়ে দিয়েছেন। ঘন্টা দেড়েক পর একজন তড়তাজা ভদ্রলোক এসে সে টাকা উঠিয়ে নিয়ে গেলেন। তারঁ সাথেও কথা হল। জানতে চাইলাম কে টাকা পাঠিয়েছেন।
মাঝ বয়োসী ভদ্রলোক জানালো - “আমার জামাই, নবীর দেশে থাকে। খুব ভালো ছেলে, কয়েক মাস পর পর শরীর চেকআপের জন্য টাকা পাঠায়। পাগল একটা জামাই!, দোয়া করবেন স্যার।
আমি কিছুক্ষণের জন্য স্তব্দ হয়ে গেলাম। ভাবলাম বাবা ছেলেকে বড় করে নবীর দেশে পাঠিয়েছিলেন ঠিকই, এখন সে আবু জাহেলের দেশে বাস করে……!
লেখাটি লিখেছেন -
মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন
ব্যবস্থাপক, জনতা ব্যাংক পিএলসি,
গৌরীপুর শাখা।
ও মেয়ে
__শতাব্দী রায়
ও মেয়ে তোর বয়স কত?
: কি জানি গো,মা থাকলে বলে দিত।
সেই যে বারে দাঙ্গা হল,শয়ে শয়ে লোক
মরল,
হিন্দুদের ঘর জ্বলল, মুসলমানের রক্ত ঝরল,
তখন নাকি মা পোয়াতি,দাঙ্গা আমার
জন্মতিথি।
ও মেয়ে তোর বাবা কোথায়?
: মা বলেছে,গরিব দের বাবা হারায়
কেউ তো বলে বাপটা আমার হারামি ছিল।
মায়ের জীবন নষ্ট করে,অন্য গাঁয়ে ঘর বাঁধল।
মা বলত, শিবের দয়াই তোকে পেলাম,
শিবকেই তাই বাপ ডাকলাম।
ও মেয়ে তোর প্রেমিক আছে?
ছেলেরা ঘোরে ধারে-কাছে?
: প্রেমিক কি গো?মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে?
স্বপ্ন দেখাই দিন দুপুরে?
চুড়ি কাজল মেলাতে কেনায়,
ঝোপের ধারে জামা খোলায়?
এসব নন্দ কাকা করেছে দুবার
প্রেমিক ওকেই বলব এবার।
ও মেয়ে তোর পদবি কি?
: বাপই নাকি দেয় শুনেছি
পদবী থাকলে ভাত পাওয়া যায়?
বাপের আদর কাঁদায় হাসায়
ওটা কি বাজারে মেলে?
কিনব তবে দু-দশে দিলে
দামী হলে চাই না আমার
থাক তবে ও বাপ-ঠাকুরদার
ও মেয়ে তুই রূপসী?
:লোকে বলে ডাগর গতর সর্বনাশী
রুপ তো নয়, চোখের ধাঁধা।
যৌবনেতে কুকুরী রাঁধা।
পুরুষ চোখের ইশারা আসে,
সুযোগ বুঝে বুকে পাছায় হাত ও ঘষে।
রুপ কি শুধুই মাংসপেশী?
তবে তো আমি খুব রূপসী।
ও মেয়ে তোর ধর্ম কি রে?
: মেয়েমানুষের ধর্ম কি গো?
সব কিছু তো শরীর ঘিরে,
সালমা বলে ধর্মই সমাজ বানায়,
সন্ধেবেলা যখন দাঁড়াই
কেউ তো বলে না,হিন্দু নাকি?
সবাই বলে,কতই যাবি?
বিছানা নাকি ধর্ম মেলায়
শরীর যখন শরীর খেলায়
তাই ভাবছি এবার থেকে ধর্ম বলব শরীর বা বিছানাকে।
আমি কি জিজ্ঞেস করতে পারি;
'আপনি কেমন আছেন?
এই ধরুন— রাতে খেয়েছেন কিনা,
বৃষ্টি এলে পায়ে হাঁটা পথে এখনো পানি জমে কিনা'!
আমার কথা বলছেন? ভালো আছি কিনা!
ডাক্তারের ভাষ্যমতে জানি না।
বহুদিন ঐ পথে হাঁটা হয় না,
তবে আমি বলি; ভালো আছি।
কারণ সেবার ফেরার পরপরই
আমি বাক্যটা মুখস্ত করে নিয়েছিলাম।
জেনেছিলাম; 'কেমন আছো' জানতে চাইলে
এর উত্তরে 'ভালো আছি' বলতে হয়।
অথচ দেখুন, ইতোপূর্বে—
আপনার 'কেমন আছো' এর উত্তরে
আমি 'ভালো বাসি' ই বলতাম।
আচ্ছা, আমাদের সম্বোধনটা ঠিক কী ছিল?
'তুই' 'তুমি' নাকি 'আপনি'?
আমি বেমালুম ভুলে গেছি!
মনে আছে—
একদিন খুব করে হেসে বলেছিলেন;
'আমাদের অনেকদিন দেখা না হোক,
আমাদের অনেকদিন কথা না হোক'।
আমি বললাম; কতদিন?
আপনি আকাশে চোখ রেখে
কবিতার মত আওড়ে গিয়ে বললেন;
'যতটা সময় পেরিয়ে গেলে সম্বোধন ভুলে যায় সম্পর্ক'।
বিশ্বাস করুন— আমি সেদিন আকাশের দিকে
আপনার অমন উদাস চাহনির ভাষা বুঝিনি।
বুঝিনি কবিতার মত আওড়ে যাওয়া কথার মানে।
আচ্ছা,
আমাদের সময়ও কি ততটাই পেরিয়ে গেছে?
যতটা পেরিয়ে গেলে সম্বোধন ভুলে যায় সম্পর্ক!🙂
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Address
Dhaka
1216