Rakhal Raha

Rakhal Raha

Share

Rakhal Raha: Human Being, Bengali, Writer, Believer, Religion-less (মানুষ, বাঙালী, লেখক, বিশ্বাসী, নিধর্মী)

23/02/2025

সমাজে মতপ্রকাশ কি, চিন্তার প্রকাশ কি এবং মহৎ বিষয় আকড়ে ধরে ভণ্ডামী করলে সেই ভণ্ডের চিত্রায়ণ কবি-লেখক শিল্পীরা করতে পারবেন কিনা, পারলে কিভাবে পারবেন—এটার প্রতি আমরা সুস্থভাবে চিন্তা করে উত্তর দিতে কতখানি সক্ষম তা বুঝতে কবিতার মতো ৪টা লাইন এর আগে পোষ্ট দিয়েছিলাম। দিয়ে অনুরোধ করেছিলাম যুক্তিহীন বা এলোমেলো মতামত না রাখতে।

মুষ্টিমেয় কিছু ধর্মপ্রাণ মানুষ সুন্দর জবাব দিলেন। তাদের মত হলো: সমাজের ভণ্ডামীকে চিত্রিত করা যাবে, তবে তা করতে হবে এমনভাবে যেন তা ভণ্ডরা যেসব মহৎ বিষয়কে আশ্রয় করে ভণ্ডামী করছে, সেই মহৎ বিষয়ের প্রতি কোনো ধরণের নেতিবাচক বা অবমাননাকার শব্দ প্রয়োগ করে যেন তা করা না হয়। এটা করলে ক্ষতি হবে।

কিন্তু অসংখ্য মানুষ যুক্তিহীন ও এলোমেলো কমেন্ট করলেন। অসংখ্য মানুষ এটাকে ব্যক্তিগত বিষয় হিসাবে চিহ্নিত করে কথা বললেন।

কয়েকজন ধর্মপ্রাণ মানুষ ফোন করলেন। আমার একজন প্রিয় মুফতী বললেন, ধরে নেন মানুষ অবুঝ, কিন্তু সেই অবুঝের মনোস্তত্ত্ব যদি আপনি জেনে থাকেন তবে এ নিয়ে কেন তাদের পরীক্ষার মধ্যে ফেলছেন? কারণ এটা তো একদিনে তৈরী হয়নি! এটা করা তো উচিত নয়। সুতরাং আপনি সম্পাদনা নিয়ে, শিক্ষা নিয়ে সমাজের জন্য যে কাজগুলো করছেন সেগুলো করাই তো আগে দরকার।

আমি তার এই যুক্তিতে একমত। যে মনস্তত্ব একদিনে তৈরী হয়নি, যার দায়ও তাদের একার না, অথচ রাষ্ট্রের শাসন-প্রশাসন-বিচারের গুণগত মানের একবিন্দু পরিবর্তন না এনে তাদেরকে প্রতিনিয়ত পরীক্ষার সম্মুখীন করা কতটা যৌক্তিক, এই প্রশ্নটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আমি পোষ্টটা সরিয়ে নিলাম। ক্ষমা করুন অধমকে। বাংলাদেশ একটা সহনশীল ও পরমতসহিষ্ণু রাষ্ট্র হোক। সৃষ্টিকর্তা আমাদের মধ্যে বোধ জাগ্রত করুন। সবার কল্যাণ কামনা।
রাখাল রাহা, ১৭ই ফেব্রুয়ারী ২০২৫

23/02/2025

চট্টগ্রাম বিশ্ব‌বিদ‌্যাল‌য়ের মে‌য়ে‌দের উপর হা‌সিনার প্রক্টর-প্রশাস‌নের ম‌তো আচরণ করা হ‌য়ে‌ছে। ত‌াদের বিশ্ব‌বিদ‌্যালয় থে‌কে ব‌হিষ্কার করা হ‌য়ে‌ছে, শিক্ষাজীব‌নের ক্ষ‌তি করা হ‌য়ে‌ছে। এর জবাব‌ দি‌তে হ‌বে প্রশাসন‌কে। বাংলা‌দেশ নতুন ক‌রে কা‌রো বা‌পের দেশ হ‌বে না।

23/02/2025

সিএনজি মিটারে জরিমানা ৫০ হাজার টাকা! শিক্ষকদের নিয়োগপত্র দিয়েও কেড়ে নেওয়া! মানে আগামাথা নেই! সব রক্ত-ত্যাগ ব্যর্থ করবে আমলাতন্ত্র।

23/02/2025

পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জনার চ্যালেঞ্জ–২
আইসিটি বিষয় বাদ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে—এই বলে সারাদেশে আইসিটি বিষয়ের শিক্ষক ও কোচিং সেন্টারগুলোর হইচই শুরু হলো।

গত সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজে একটা শিক্ষা সেমিনারে আমি এবং প্রফেসর কামরুল হাসান মামুন গিয়েছিলাম। এক পর্যায়ে শ্রোতাদের কথার সুযোগ দেওয়া হলে দেখা গেল আর কোনো কথা নেই, প্রায় সবাই দল বেঁধে আইসিটি কত গুরুত্বপূর্ণ, এটা কেন একেবারে শিশু শ্রেণী থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিষয় হিসাবে থাকা প্রয়োজন, এটা যেন বাদ দেওয়া না হয়, অনেকটা এ ধরণের দাবী জানাতে লাগলেন।

প্রফেসর মামুন বিজ্ঞানের ফাণ্ডামেণ্টাল বিষয়ের গুরুত্ব কমিয়ে প্রযুক্তিকে প্রাধান্য দিলে যে আমরা শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তির ভোক্তাশ্রেণীতে পরিণত হবো, সে-বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে খুব স্পষ্ট মতামত ব্যক্ত করে আসছিলেন। আমরা বুঝতে পারলাম, তারা সঙ্ঘবদ্ধভাবে এসেছেন কথা বলার জন্য।

আমি অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্নের জবাবে বললাম, আমরা কোনো বিষয় বাদ দেওয়া বা অন্তর্ভুক্ত করার কর্তৃপক্ষ না। মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে আমরা পরিমার্জনার কাজ করছি এবং প্রয়োজনীয় মতামত দিচ্ছি। কিন্তু একজন নাগরিক ও অভিভাবক হিসাবে আমরা আমাদের পছন্দের কথা বলতেই পারি। কিন্তু সেটা সিদ্ধান্ত না। অন্তর্বতীকালীন সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় সবকিছু বিবেচনা করে নিশ্চয় সিদ্ধান্ত নেবেন। যতদূর জানি, আইসিটি বিষয় বাদ দেওয়ার কোনো ভাবনা তাদের নেই, আর এটা অপশনাল করা হবে এমন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়নি। তবে বিষয়টা কিভাবে শিক্ষার্থীদের কাছে আরোও সহজ করে উপস্থাপন করা যায় এবং এটা যেন তাদের কাজে লাগে সে-সম্পর্কে নানা আলোচনা হয়েছে।

কিন্তু অনুষ্ঠান শেষে তারা আমাদের ঘিরে ধরলেন। কেন আপনারা এটা করছেন? সারাদেশের আইসিটি টিচারদের কি হবে? এতো এতো আইসিটি ট্রেইনিং সেন্টার ও কোচিং প্রতিষ্ঠান হয়েছে তাদের কি হবে? এইসব বেকাররা কোথায় যাবে? আপনারা কি বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে চান না? ইত্যাদি।

আমি বললাম, আইসিটি নবম শ্রেণীতে অপশনাল হলে সমস্যা কোথায়?

তারা বললেন, এটা হলে কেউ আইসিটি পড়বে না।

আমি বললাম, কেন? এতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পড়বে না কেন? দু-বছর আগেও তো বিজ্ঞান শাখার উচ্চতর গণিত, বায়োলজী, পরিসংখ্যান ইত্যাদি বিষয় অপশনাল ছিল। অন্য শাখায়ও অপশনাল অনেকগুলো বিষয় ছিল, এতে তো কোনো সমস্যা হচ্ছিল না?

তারা উত্তর খুঁজে না পেয়ে বললেন, না স্যার, আইসিটি ওরা নিবে না। আর না নিলে আমরা বিপদে পড়বো।

আমি বললাম, তাহলে ধরে-বেঁধে শিক্ষার্থীদের আইসিটি নেওয়াতে হবে? হাসিনা সরকার যে নতুন কারিকুলাম করে একাউন্টিং, ব্যাংকিং, অর্থনীতি, ভূগোল, উচ্চতর গণিত এসব বিষয় বাদ দিয়ে সকল শিক্ষার্থীকে ধরে-বেঁধে ১০টা বিষয় পড়তে বাধ্য করছিল, তখন এসব বিষয়ের শিক্ষক ও কোচিং সেণ্টারগুলো কি করছিল? তাদের অসুবিধা হয়নি তখন? আর আইসিটি কি বেকারত্ব ঘোচাতে, নাকি শেখ জয়ের লুটপাটের প্রকল্প হিসাবে ব্যবহার করা চলছিল? কতগুলো স্কুলে আইসিটি ল্যাব আছে, কতগুলো ল্যাব ব্যবহার হয়, কতজন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের ল্যাবে সত্যিকার অর্থে আইসিটি শেখে, আর কতজন মুখস্থ করে আইসিটি ভীতি নিয়ে বড়ো হয়? এখন পর্যন্ত সারাদেশের কত শতাংশ স্কুল ও কলেজে দক্ষ আইসিটি শিক্ষক আছে? এগুলো তো আপনারা জানেন।

তারা বললেন, তবু স্যার আপনারা আমাদের দিকে তাকান এবং এটা যেন না হয়।

আমি বললাম, আইসিটি ক্লাস থ্রি থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত বিজ্ঞান বইয়ের মধ্যে ক্রস-কাটিং হিসাবে আছে। সেটা তো থাকছেই। এখন আপনার বাচ্চা ইংলিশ মিডিয়ামে পড়লে নবম শ্রেণীতে গিয়ে তার পছন্দ মতো যা-খুশী বিষয় বেছে নিতে পারবে, আর আমার বাচ্চা সাধারণ স্কুলে গিয়ে বাধ্যতামূলকভাবে আইসিটি পড়বে, এই দাবী আপনি কেন করছেন? আমি গরীব বলে? আমার বাচ্চা গরীবের ঘরে জন্মেছে বলে? নাকি ওর অযোগ্যতা? ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, আইসিটি যেভাবে ভয়ের বিষয় হয়ে আছে সেভাবে নয়, সত্যিকার অর্থে যাতে এটা আমাদের বাচ্চাদের কর্মদক্ষতা বাড়াতে পারে সেভাবে রাখার কথা ভাবা উচিত। আর ইংলিশ মিডিয়ামের মতোই নবম শ্রেণীতে গিয়ে কম্পিউটার সায়েন্স হিসাবে অপশনাল করা উচিত। কারিগরী শিক্ষাধারায় এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ট্রেড কোর্স হিসাবে থাকা উচিত। কিন্তু এগুলো আমার মত, কোনো কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত না।

যাহোক, ফিরে আসার সপ্তাহখানেক পর একজন কম্পিউটার প্রকৌশলী, যিনি বুয়েট থেকে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন, আইটি সেক্টরে কাজ করেন এবং ইতিপূর্বে এনসিটিবির সাথে কাজ করেছেন, তিনি আমার সাথে দেখা করতে এলেন। তিনি বললেন, সারাদেশে আইসিটি শিক্ষকদের যে গ্রুপ আছে সেখানে অনেক হৈচৈ হচ্ছে, বলা হচ্ছে যে আইসিটি বাদ দিয়ে দেওয়া দিচ্ছে, অপশনাল করা হচ্ছে ইত্যাদি। এবং এটা প্রতিরোধে তারা কঠোর কর্মসূচী দিতে যাচ্ছে। তারা ঢাকায় এসে এনসিটিবি বা মন্ত্রণালয় ঘেরাও করবে। আমি তাদের বলেছি যে আমি একটু কথা বলে বিষয়টা ভালোভাবে জেনে আসি, তারপর কর্মসূচী দিন।

আমি তাকে বিস্তারিত বললাম যে, প্রথমে মন্ত্রণালয়ের ভাবনা ছিল ইংলিশ মিডিয়ামের মতো করে নবম-দশম শ্রেণীতে বিভাগ না রেখে কিছু বিষয় বাধ্যতামূলক রেখে বাকী বিষয়গুলো অপশনাল করে দেওয়া। কিন্তু এতো অল্প সময়ে এটা করা সম্ভব না, বা উচিত না বুঝে তা বাদ দেওয়া হয়েছে। সে-সময়েই ভাবা হয়েছিল যে, উচ্চ-মাধ্যমিকে তবে আইসিটি নয়, কম্পিউটার সাইন্স দুই পেপার করা উচিত, যেভাবে অন্যান্য বিষয় দুই পেপার করে আছে। আর নবম-দশম শ্রেণীর আইসিটি বইটাও সেভাবে পরিমার্জনা করা উচিত। সেই ভাবনা থেকেই বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের কম্পিউটার সাইন্স বিভাগের শিক্ষক এবং একজন আইটি এক্সপার্টকে নিয়ে প্রথম পরিমার্জনা টিমটি গঠন করা হয়। তারা দুদিন এনসিটিবিতে এসে তাদের পরিকল্পনা প্রণয়ন করে কিছু কাজ করেছিলেন। এরপর বুয়েটের কম্পিউটার সাইন্স বিভাগের চেয়ারম্যান ও কিছু শিক্ষকের সাথে মিটিং করা হয়েছিল। তারাও সময় নিয়ে একটা পরিকল্পনা জানাতে চেয়েছিলেন।

এরপর ঢাকার প্রায় ১০-১২টা স্কুল-কলেজের আইসিটি শিক্ষক ও প্রিন্সিপালদের সাথে মিটিং করা হলো তাদের মতামত জানার জন্য। সেখানে বিচিত্র মতামত পাওয়া গেল। এমনকি কেউ কেউ বললেন, আইসিটি অপশনাল হলে প্রায় সকল শিক্ষার্থী খুশী হবে, কারণ ওটা কেউ নিবে না। এর কারণ হচ্ছে বইটা খুবই খারাপ, যা কিছু হাতেকলমে করার তা মুখস্থ করতে হয়। আর অধিকাংশ স্কুলে ল্যাব নেই বা খোলা হয় না, শিক্ষকের মানও ভালো না। শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা ফেল করে তাদের বড়ো অংশ আইসিটিতে।

সেই মিটিংয়ের পর ভাবা হলো এভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না এবং ফলে বিষয়টা ঝুলে গেল। অন্যান্য বিষয়ের কাজ এগিয়ে গেলেও আইসিটি বিষয়ের কাজ একরকম থেমে গেল। কিন্তু এখন যেটা ভাবা হচ্ছে দ্রুত পরিমার্জনা করে ছেড়ে দিতে হবে।

তিনি সব শুনে বললেন, বুঝতে পারছি। অথচ আমাকে আপনাদের সম্পর্কে অনেক বাজে ধারণা দেওয়া হয়েছে। আমি গিয়ে আমাদের গ্রুপে জানাবো। আশা করি আমার কথা তারা বুঝবে এবং এ নিয়ে আর অগ্রসর হবে না। এখন আমি কিভাবে হেল্প করতে পারি? আমি বললাম, আমি কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে জানাবো।

এরপর আর আইসিটি শিক্ষক-ট্রেইনারদের কোনো ঘেরাও বা অন্য কর্মসূচী দেখলাম না।

তাঁর সম্পর্কে সবাই ভালো ধারণা দিলেন। এবং আমি তাঁকে ফোন করে বললাম, আইসিটি বিষয়ে আগের টিম কিছু পরিকল্পনা ও কাজ করেছেন, সেগুলো দেখে কাজটা শেষ করা দরকার। কিন্তু আগের টিমের মধ্যে তিনজন খুবই ব্যস্ত শিক্ষক। আর যে পরিকল্পনা থেকে তাদের ভাবা হয়েছিল, এখন তো তা করা যাবে না। তবে তাঁদের একজনকে আপনি পেতে পারেন। এখন নতুন করে টিম গঠন করে কাজটা শেষ করতে হবে।

তিনি রাজী হলেন এবং আমি আগের টিমের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের সাথে কথা বলে তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই আইআইটি-র একজন অধ্যাপকের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি রাজী হলেন। এরপর তাঁরা তিন জন মিলে কাজটা শেষ করলেন। তাঁদের সাথে এনসিটিবিতে কর্মরত দুজন বিশেষজ্ঞ অনেক সহযোগিতা করলেন এবং এভাবেই কাজটা শেষ হলো।

প্রকৃতপক্ষে আইসিটি বইয়ের ভাষা ও যোগাযোগগত সংকট ভয়ানক। কিন্তু এটা নিরসন করার মতো কোনো সময় আমাদের হাতে ছিল না। তবে যে এলোমেলো অপ্রয়োজনীয় টপিকের বোঝা শিক্ষার্থীদের উপর ছিল, কোচিং অপরিহার্য করে তোলার যে প্রচেষ্টা ছিল, তা অনেকখানি কমানো গেছে এবং কিছু প্রয়োজনীয় বিষয়ও সংযোজন করা গেছে বলে আমার ধারণা। বাকীটা আমাদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ বলতে পারবেন।
নোট : সব কাজ একা করা যায় না। সব কাজ একা কেউ করেছে বললেও তা সত্য হয় না। সব কাজ একইভাবে, একই পদ্ধতিতে শেষ হয় এমনও না। তবে অনেক মানুষ নিয়ে করা বড়ো কাজের ক্ষেত্রে সমন্বয় খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
[রাখাল রাহা, ১৫ই ফেব্রুয়ারী ২০২৫]

23/02/2025

পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জনার চ্যালেঞ্জ–১
ধর্ম বই থেকে হাদীস সব ফেলে দেওয়া হচ্ছে, এর প্রতিবাদে এনসিটিবি ঘেরাও হবে এবং এনসিটিবির ইট খুলে নেওয়া হবে—এরকম একটি প্রোগ্রামের কথা একদিন আমরা জানতে পারলাম।

গত অক্টোবর মাসে হবে সম্ভবত। যেহেতু এমন কোনো কাণ্ড আমরা করছিলাম না, বা তা করার কথাও না, তাই সেই চরম ব্যস্ততার মধ্যে এসব বিষয়ে আমাদের মনোযোগ দেওয়ার সময় ছিল না।

সময় ঘনিয়ে এলে একদিন সেই ঘেরাও প্রোগ্রামের সাথে যুক্ত আমার এক পরিচিত জন ফোন করে দেখা করতে চাইলেন। তিনি ইসলামী পণ্ডিত এবং মুফতী। আমি তাঁকে আসতে বললাম। তিনি আমার অফিসে এলেন এবং বললেন, গত রাতে এই আন্দোলনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ মিলে তাঁরা গভীর রাত পর্যন্ত মিটিং করেছেন, এবং তিনি এসেছেন শেষ মুহূর্তে এ বিষয়ে আমাকে জানাতে।

আমি তাঁকে নিয়ে এনসিটিবিতে গেলাম। যাওয়ার পথেই ফোন করে ইসলাম শিক্ষা বইয়ের পরিমার্জনা কাজের সাথে যুক্ত দুজন বিশেষজ্ঞকে এনসিটিবিতে আসতে অনুরোধ করলাম। তাঁরাও এসে গেলেন। আমরা টেবিলে বসলাম বিষয়টা নিয়ে আলোচনার জন্য। আমাদের সাথে চেয়ারম্যান সাহেবও যোগ দিলেন।

আমি ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম ও ৯ম শ্রেণীর ইসলাম শিক্ষা বইয়ের পরিমার্জিত পাণ্ডুলিপি দিয়ে বললাম, দেখুন তো কোথায় এখানে হাদীস ফেলে দেওয়া হয়েছে?

তিনি আগের বইগুলো চাইলেন এবং সেগুলো দেওয়ার পর তেমনকিছু না পেয়ে বললেন, তাহলে হাদীস অস্বীকারকারীকে পরিমার্জনার কাজে নিয়েছেন কেন?

বললাম, তিনজন বিশেষজ্ঞ একসাথে বসে কাজ করেছেন। দুইজন একমত হয়ে পরিমার্জনার সুপারিশ করেছেন এবং একজন আলাদাভাবে মতামত দিয়েছেন। এনসিটিবি-র নিজস্ব বিশেষজ্ঞ এবং সমন্বয় কাজের সাথে যারা আমরা যুক্ত, তারা আলাদা মতকে গ্রহণ করিনি। তাই তিনি বুঝেছেন যে, এটা গ্রহণ করা হচ্ছে না এবং মেনে নিয়ে চলে গেছেন।

মুফতী সাহেব বললেন, কিন্তু তাকে নিলেন কেন, তিনি তো আগে থেকেই হাদীস অস্বীকার করেন?

বললাম, এখানে তিনটা শিক্ষাধারা থেকে তিনজন ইসলামী বিশেষজ্ঞ আছেন। একজন আলীয়ার, একজন কওমীর এবং একজন সাধারণ ধারার। তাঁদের মধ্যে একজন মানুষের একটা মত থাকতে পারে এবং তিনি এখানে কাজের মাধ্যমে দেখলেন যে, তা গ্রহণযোগ্য হবে না, এবং তিনি এটা বুঝে চলে গেলেন। এটা ভালো, নাকি বাইরে থেকে তিনি সমাজে তর্কবিতর্ক করে চলবেন, এটা ভালো?

তিনি বললেন, তবু আপনি অনেক ঝুঁকি নিয়েছেন, এ সময়ে এতো ঝুঁকি নেওয়া ঠিক হয় নাই। আপনি জানেন না, এটা কয়েক কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে। কিন্তু ট্রান্সজেণ্ডার আবার ঢোকানো হচ্ছে কেন?

আমি বললাম, কাজ করতে হলে কিছু ঝুঁকি নিতেই হয়, কিন্তু ট্রান্সজেণ্ডার কেন ঢোকাবো আমরা? এটা ছিল নতুন কারিকুলামে এবং সেই কারিকুলাম তো সরকার শুরুতেই বাতিল করেছে। আমরা তো ২০১২ সালের কারিকুলামের বই পরিমার্জনার কাজ করছি, ওখানে তো ট্রান্সজেণ্ডার নেই।

তিনি বললেন, তাহলে সারা দেশে এতো কিছু হচ্ছে কেন? আপনারা জানাচ্ছেন না কেন সবাইকে?

আমি বললাম, আমরা তো শুরু থেকেই বলছি যে, আমরা কি করছি। এখন আমি বললে শুনতে পায় একশো জন মানুষ, আর আপনি বললে শুনতে পায় এক কোটি মানুষ। তাহলে কি আমার কথা আপনার কাছে পৌঁছাবে? তো আমার কি করার আছে বলেন? আপনি তো এসে আমাকে জিজ্ঞেস করতে পারতেন যে ভাই কি হচ্ছে এগুলো। এখানে ঢুকতে তো সচিবালয়ের মতো পাশ লাগে না। এনসিটিবি কি আপনার প্রতিষ্ঠান না? তাহলে আপনি কাকে ঘেরাও করতে আসছেন, আর ইট খুলে নিতে চাইছেন? ৫ই আগষ্টের পরেও যদি আমাদের ৫ই আগষ্টের আগের মতোই চলতে হয়, তবে আর এতো রক্ত দিলাম কেন?

তিনি বুঝতে পারলেন এবং বললেন, আমার মনে হয় আমাদের মধ্যে ইনফরমেশন গ্যাপ হয়েছে, এ কারণে এমনটা ঘটেছে।

আমি বললাম, এই গ্যাপের কি কোনো দরকার ছিল? আপনারা কয়েকজন এসে চেয়ারম্যান সাহেবকে বললেই কি হচ্ছে বুঝতে পারতেন। এখন কি হলো? সারা দেশের মানুষের কাছে একটা ভুল মেসেজ গেল না? এতো শক্তি ক্ষয় করার কি দরকার ছিল?

তিনি বললেন, আসলেই এর কোনো দরকার ছিল না। আমি সবাইকে বিষয়টা বুঝিয়ে বলবো এবং আশা করি আর কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু বইয়ের নামটা “ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা” পাল্টায়ে যদি শুধু “ইসলাম শিক্ষা” করে দেন, এতে অনেক দোয়া পাবেন, সবাই খুব খুশী হবে।

আমি বললাম, বিষয়টা শিক্ষাসংক্রান্ত ও আনুষ্ঠানিক বিষয়, হুট করে করা তো যাবে না, এবারই এটা করা যাবে কিনা এনসিটিবি কর্তৃপক্ষ ভেবে জানাতে পারবে।

চেয়ারম্যান সাহেব বললেন, এটা করা যাবে আশা করি। কারণ পরিমার্জন কাজগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় অনুমোদন করা হবে।

মুফতী সাহেব আবারও বললেন, এটা যদি করা যায় সারা দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের অনেক দোয়া আপনারা পাবেন।

এরপর তাঁর সাথে অনেক হৃদ্যতাপূর্ণভাবে আমাদের সেদিনের মিটিংটা শেষ হলো এবং ঘেরাও কর্মসূচীও থেমে গেল এবং এভাবেই “ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা” বইয়ের নাম “ইসলাম শিক্ষা” হলো।
শিক্ষা : সর্ব পরিস্থিতিতেই কোথাও কিছু শুনে বা পড়ে বিশ্বাস না করুন, কারো সম্পর্কে বা কোনো কিছু সম্পর্কে আগেই সন্দেহ না করুন, ভালোভাবে জানার ও বোঝার চেষ্টা করুন, এবং সবসময় কাণ্ডজ্ঞান জাগ্রত রাখুন।
[জগতে ভালবাসা এবং আরও ভালবাসার সুযোগ সৃষ্টি করে যাওয়াই মানুষের একমাত্র কাজ।—রাখাল রাহা, ১লা ফাল্গুন ১৪৩১]

Photos from Rakhal Raha's post 23/02/2025

আমে‌রিকা থে‌কে বইয়ের জগ‌তের সম্পাদক ও প্রবন্ধকার আহমাদ মাযহার ভাইয়ের আগমন এবং আজ বাসায় দুজ‌নের শ‌বেবরা‌তের হালুয়ারু‌টি ভক্ষণ। তি‌নি আসা মা‌নেই আমার ছে‌লে‌মে‌য়ের পছ‌ন্দের বই কলম ইত‌্যা‌দির আগমন। প‌রে সবাই মিলে বইমেলা ও ফাল্গুনের উৎস‌বে গমন।

23/02/2025

– মোল্লাদের দেখে আপনার ভয় লাগে না?
– না।

– কেন?
– কারণ হাসিনা ও তার কালচারাল কসাইদের চেয়ে জগতে আর ভয়ঙ্কর কিছু নেই।

– ওদের তো তাও কালচার ছিল, এদের কি আছে?
– এদের যা ছিল, তাকে কালচারাল কসাইরা শেষ করেছে, আলো এলে আবার জাগবে।

– এরা তো অন্ধ, কোনো আলোতেই জাগবে না।
– এদের অন্ধত্বও ওদের দান, আর এরা অন্ধ তবে ভণ্ড কম—প্রিমিটিভ প্রাণ, জাগবেই।

– আশ্রয়ই যাদের অন্ধত্বে, তারা জেগে উঠে আরো অন্ধকারই ছড়াবে।
– ওদের আলোক আশ্রয়ের ভয়াবহ প্রতারণাই এদের আঁধার আকড়ে ধরার ভিত্তি।

– যা আঁধার তাকে আকড়ে ধরে এরা কিভাবে আলোতে পৌঁছাবে?
– প্রতারক আলোর শক্তি মোকাবেলায় অন্ধত্ব ছাড়া সহজ বিকল্প কি? সারভাইবাল।

– সারভাইবালের জন্য অন্ধত্ব, অন্ধত্ব ধরে আলো? অদ্ভুত প্যারাডক্স!
– প্যারাডক্স ঘুচবে আলো এলে—সুশাসন, সুবিচার, সাম্যের আলো।

– আসবে না, আপনি শেষ পর্যন্ত মরবেন।
– এদের হিস্রতায়ও ওদের পাপ মেশানো আছে, যদি হয়, জানবো তারই ফল।

– ধন্যবাদ আপনাকে।
– আপনাকেও।
[রাখাল রাহা, ১৩ই ফেব্রুয়ারী ২০২৫]

23/02/2025

বিপ্ল‌বের পর একমাত্র কাজ বিপ্ল‌বের সুফল দ্রুততম সম‌য়ে মানু‌ষের ঘ‌রে পৌঁছা‌নো, এবং ত‌ার জন‌্যই প্রয়োজন হয় শত্রু‌দের বিচারের। এটা ভু‌লে গে‌লে শত্রু-শত্রু আর বিচার-‌বিচার খেলা দি‌য়ে আরেক শাপলা-শাহবা‌গে পৌঁছা‌নো যা‌বে, আর মানু‌ষের জীবন সেই তি‌মি‌রেই র‌য়ে যা‌বে।

23/02/2025

জুলাই-আগষ্ট হত্যাকাণ্ড বিষয়ে আজ জাতিসংঘ তার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, হত্যাকাণ্ডের যাবতীয় পরিকল্পনা ও নির্দেশ পরিচালিত হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ের মাধ্যমে। এই কাজে সরাসরি সহযোগিতা করেছে ডিজিএফআই, র‌্যাব, এনটিএমসি (টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার), এনএসআই, এসবি, ডিবি এবং সিটিটিসি (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যাণ্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম)-এর শীর্ষ কর্মকর্তারা। তারা র‌্যাব এবং এনটিএমসি বিলুপ্ত করতে বলেছে।

প্রকৃতপক্ষে শুধু র‌্যাব বা এনটিএমসি বিলুপ্ত করা নয়, ডিজিএফআই-সহ সকল গোয়েন্দা সংস্থার কাঠামোগত সংস্কার করা প্রয়োজন। একটা সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা কেন স্থানীয় রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করবে? কেন তাদের দিয়ে নাগরিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করানো হবে?

২০১৯ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতিগ্রস্ত ভিসির বিরুদ্ধে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে ঢাকায় এক প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজন করায় আমাকে এবং রাষ্ট্রচিন্তার প্রয়াত সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমানকে একাধিকবার ক্যান্টনমেন্টে ডিজিএফআই অফিসে ডেকে নেওয়া হয় এবং মানসিক নির্যাতন করা হয়। কারণ পরে জেনেছি, ভিসি ছিলেন খুনী হাসিনার পেয়ারের লোক।

একটা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের প্রধান যদি রাষ্ট্রের নির্বাহীপ্রধানের পেয়ারের লোক হয় এবং তার দুর্নীতির প্রতিবাদ করলেই যদি ডিজিএ্ফআই ডাকা হয়, তবে সরাসরি নির্বাহীর কর্তৃত্বে চলা প্রতিষ্ঠান-প্রধানের দুর্নীতির প্রতিবাদ করলে কাকে ডাকা হবে? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি নিয়ে অভিভাবক কথা বললেই যদি ডিজিএফআই দিয়ে হুমকি দেওয়া লাগে, তবে নির্বাহীপ্রধানের ক্ষমতা ঝুঁকিপূর্ণ হলে তারা কতটা ভয়ানক হতে পারে? দেশের ভিতরের পরিস্থিতিই যদি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাকে দেখতে হয়, তবে আন্তঃরাষ্ট্রীয় পরিস্থিতি তারা কিভাবে পর্যবেক্ষণ করবে? কিভাবে তারা বহিঃর্শক্তির গোয়েন্দা তৎপরতা মোকাবেলা করে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংহত করবে?
[রাখাল রাহা, ১২ই ফেব্রুয়ারী ২০২৫]

23/02/2025

আল্লার দোহাই, আপনারা থামুন। যা কিছু ক্ষতি না ক’রে অগোচরে চুপচাপ পড়ে থাকে তাকে হৈ হৈ করে টেনে টেনে সামনে না আনুন। কারণ এতে শেষ পর্যন্ত আপনারই ক্ষতি। সব দেশে, সব সমাজেই এমন কিছু থাকে, এমন কিছু ঘটে। আর ২০১৩-১৪-১৫ সালের কথা মনে করুন। এখন আবার কোন দেশ, কোন গোয়েন্দা সংস্থা পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছে তা আমরা জানি না। কবি-লেখক এবং একটি সরকারী কলেজের বাংলার অধ্যাপক সোহেল হাসান গালিব একটা ব্যঙ্গাত্মক ছড়া লিখেছেন, যেখানে নবীভক্তির নামে ভণ্ডামীকে চিত্রায়িত করা হয়েছে, সেখানে নবীকে গালাগালি করা হয়নি। আপনারা শুধু কোরান-হাদীস নয়, বেশী করে জ্ঞান-বিজ্ঞান আর শিল্প-সাহিত্যের বই পড়ুন। বোধের ব্যাপ্তি বাড়ান। হাসিনার ফ্যাসিবাদ নেই, নতুন ফ্যাসিবাদ পয়দা না করুন।
[নোট: আমি অন্তত তিনবার বুঝে পুরো কোরান শরীফ পড়ার চেষ্টা করেছি। আপনি করুন, দেখবেন শান্ত হতে পারবেন। এবং আমি নিশ্চিত, আপনারা অধিকাংশই এটা করেননি।]

23/02/2025

আমার মুসলিম বন্ধুদের প্রতি:

আপনি যদি উস্কানিতে নাচেন, আর আমি যদি সেই নাচনা দুনিয়া জুড়ে দেখিয়ে আপনাকে বেকায়দায় ফেলে লাভ হাসিল করতে পারি, তবে তো আমি সারাজীবনই আপনাকে উস্কাবো। এখন আপনি সারাজীবন নাচবেন কিনা তা আপনার ব্যাপার।
উপসংহার:

আপনিও কৌশলী হন, বিদ্যা-বুদ্ধি দিয়ে আমাকে পরাজিত করুন। তারপর উস্কানিমুক্ত, সহনশীল ও শান্তির সমাজ গড়ে তুলুন।
নোট: আর কিছু না পারলে হা-হা বা গালাগালি দিয়ে যান, কারণ এটাই সহজ!
[রাখাল রাহা, ১১ই ফেব্রুয়ারী ২০২৫]

23/02/2025

☘️ আমার স্বাধীনতা, উন্নয়ন ও শিক্ষার মেনিফেষ্টো ☘️
🍂 স্বাধীনতার মেনিফেষ্টো 🍂 [প্রকাশকাল: ২৫শে এপ্রিল ২০২১]
আপনি মুসলিম, এদেশে মেজোরিটি। কিন্তু এই দেশটা সকল হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টানেরও। আপনার মতো ঠিক তাদেরও এই দেশে সকল অধিকার রয়েছে। আপনি মেজোরিটির জোরে তাদের উপর অন্যায়ভাবে কিছু চাপিয়ে দিতে পারেন না, কোনো অধিকার কেড়েও নিতে পারেন না।
আপনি শাড়ী পড়েন, ধুতি পরেন, টিপ পরেন, চুড়ি পরেন, জিন্স-প্যাণ্ট-শার্ট পরেন—ভালো। কিংবা আপনি বোরকা-হিজাব-জোব্বা পরেন—ভালো। কিন্তু তাই বলে আপনি একের রুচি-পছন্দকে তাচ্ছিল্য করতে পারেন না, নিজের রুচিকে অপরের উপর চাপিয়ে দিতে পারেন না, বাধ্য করতে পারেন না।
আপনি বাঙালী, এদেশে মেজোরিটি। কিন্তু সকল চাকমা, মারমা বা সাঁওতালেরও এই দেশটা। আপনার মতো ঠিক তাদেরও এই দেশে সকল অধিকার রয়েছে। আপনি মেজোরিটির জোরে তাদের উপর অন্যায়ভাবে কিছু চাপিয়ে দিতে পারেন না, কোনো অধিকার কেড়েও নিতে পারেন না।
আপনি আওয়ামী লীগ, এদেশের সরকারী দল। কিন্তু বিএনপি-জামাত-জাতীয়পার্টি-কমিউনিষ্টপার্টি-ইসলামিকপার্টিরও এই দেশটা। আপনার মতো ঠিক তাদেরও এই দেশে রাজনীতি করার, কথা বলার অধিকার রয়েছে। আপনি সরকারী দল বলে তাদের উপর অন্যায়ভাবে কিছু চাপিয়ে দিতে পারেন না, কোনো অধিকার কেড়েও নিতে পারেন না।
আপনি সৎ, ন্যায়পরায়ণ। আপনি দেশের জন্য অনেক কিছু করেন। কিন্তু সমাজে অসৎ-অন্যায়কারী-দেশদ্রোহীও থাকবে। আপনি তাদের ন্যূনতম আইনী অধিকার না দিয়ে তার উপর জুলুম করতে পারেন না, মেরে ফেলতে পারেন না।
আপনি ধার্মিক, ধর্মকর্ম নিয়ে থাকেন। কিন্তু সমাজে অনেক অধার্মিকও থাকবে। শুধুই ধর্মকর্ম না করার জন্য আপনি তার শাস্তি চাইতে পারেন না, শাস্তি দিতে পারেন না।
আপনি বিশ্বাসী, বিশ্বাস-ভক্তি নিয়ে থাকেন। কিন্তু সমাজে অনেক অবিশ্বাসীও থাকবে। শুধুই বিশ্বাস না করার জন্য আপনি তার শাস্তি চাইতে পারেন না, শাস্তি দিতে পারেন না।
আপনি মুক্তিযুদ্ধে গেছেন বা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। কিন্তু সমাজের অধিকাংশ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে যাননি. মুক্তিযোদ্ধার সন্তান নন। শুধু এ কারণে আপনি এখন অন্যায় করতে পারেন না, অন্যদেরকে ছোট করতে বা হেয় করতে পারেন না।
আপনি স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন, আপনার সন্তানকেও পড়াচ্ছেন—ভালো। কিংবা আপনি মক্তব-মাদ্রাসায় পড়েছেন, আপনার সন্তানকেও পড়াচ্ছেন—ভালো। কিন্তু তাই বলে আপনি একের শিক্ষাকে ঘৃণা করতে পারেন না, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ধ্বংস চাইতে পারেন না, একের ধ্বংসে অপরে উল্লাস করতে পারেন না।
আপনি বাংলাদেশী, আপনি অনেক ভালো, আপনার বাংলাদেশ অনেক ভালো। কিন্তু বাংলাদেশটাই পৃথিবী নয়। বাংলাদেশ না হওয়ার জন্য ভারত বা পাকিস্তান মানেই খারাপ নয়, ভারতীয় বা পাকিস্তানী মানেই শত্রু নয়।
একটা মানবিক বাংলাদেশ, অধিকারের বাংলাদেশ গড়ার জন্য এরকম ন্যূনতম কিছু জায়গায় আমাদের একমত হতে হবে। (রাখাল রাহা. ২৫শে এপ্রিল ২০২১)
🌿 উন্নয়ন মেনিফেষ্টো 🌿 [প্রকাশকাল: ২১শে মে ২০২৩]
পাহাড়কে পাহাড়ের বৈশিষ্ট্যে রেখে, হাওড়কে হাওড়ের বৈশিষ্ট্যে রেখে, নদীকে নদীর বৈশিষ্ট্যে রেখে, বিলকে বিলের বৈশিষ্ট্যে রেখে, বনকে বনের বৈশিষ্ট্যে রেখে, বায়ুকে বায়ুর বৈশিষ্ট্যে রেখে, শস্যকে শস্যের বৈশিষ্ট্যে রেখে—সবকিছুকেই তার বৈশিষ্ট্যে রেখে এবং তার সাথে সংশ্লিষ্ট মানুষ-প্রাণ-প্রকৃতির প্রবাহ স্বাভাবিক রেখে যে-উন্নয়ন—সেটাই উন্নয়ন, আর বাকী সব ধ্বংসযজ্ঞ!
এই ধ্বংস ফেরানো যাবে না, কারণ এই বৈশিষ্ট্য আমরা বানাইনি, এগুলো সৃষ্টিকর্তার বানানো—কিংবা অবিশ্বাসী হলে বলতে পারেন প্রকৃতির বানানো। তার সৃষ্টির স্বাভাবিকতাকে, স্বাভাবিক রূপান্তরকে অস্বাভাবিক করার প্রতিফল দুনিয়া জুড়ে ভয়াবহ আকারে মিলতে শুরু করেছে! বাংলাদেশে মিলবে ভয়াবহতর ভাবে! ষ্টিফেন হকিংয়ের আরেকটা পৃথিবী খুঁজেও মানব প্রজাতির রক্ষা হবে না। (রাখাল রাহা, ২১শে মে ২০২৩)
🍂 বাংলাদেশের শিক্ষা বিষয়ক মেনিফেষ্টো 🍂 [প্রকাশকাল: ১৭ই জানুয়ারী ২০২৪]
বাংলাদেশের শিক্ষায় সাধারণ, ইংরেজী ও মাদ্রাসা ধারার যে ঐতিহাসিক পথ-পরিক্রমা তাকে সম্পূর্ণ উল্টো ঘুরিয়ে পদ্মা-ভাগিরথী-গড়াই আবার এক করে হিমালয়ের গঙ্গোত্রীতে এক ধারায় পৌঁছে দেওয়াই একমাত্র ভালো, এবং এই ভালো না করে আর কিছুই করা যাবে না—বিশ্বাসের মতো এটা যারা লালন করেন, সেই প্রগতি-বিজ্ঞানবাদীরা আসলে সমাজবিজ্ঞানের বিপরীতে, তাই অন্ধ।
বাংলাদেশের সাধারণ ধারার শিক্ষার যতো ক্ষতি, মাদ্রাসা ধারার ততো লাভ; এবং বাংলা-ইংরেজী মাধ্যম শেষ না হওয়া পর্যন্ত এদেশের মানুষের ইহজাগতিক শান্তি ও পারলৌকিক মুক্তি প্রায় অসম্ভব; এবং সেকারণেই সাধারণ ধারার যেসব ক্ষতি তা সৃষ্টিকর্তার একধরণের আশীর্বাদ এবং সেই আশীর্বাদে একদিন অনিবার্যভাবে সকল শিশু মাদ্রাসা শিক্ষায় চলে যাবে—এটাই যারা বিশ্বাস করেন, সেই বিশ্বাসীরাও সমাজবিজ্ঞানের বিপরীতে, তাই অন্ধ।
উপনিবেশ বা পাকিস্তানের কথা বাদ, স্বাধীনতার পরও এদেশের মানুষ যেহেতু তার চাওয়া রাষ্ট্রটা পায়নি, এখনো যেহেতু সে রাষ্ট্র মানে মূলত উপনিবেশিক প্রশাসন ও পুলিশকে বোঝে, তার নির্বাচিত প্রতিনিধিকে সেভাবে বোঝে না, তাই সেই সুবিধা নিয়ে এই রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক শক্তির চাওয়া অনুযায়ী শিক্ষার এই ধারাগুলোর মাঝে নানা ধরণের এক্সপেরিমেণ্ট করে। এর চরম শিকার হয় মূলত সাধারণ ধারা।
বস্তুত বাংলাদেশের ইতিহাস মানে এদেশের সাধারণ ধারার শিক্ষা ধ্বংসের ইতিহাস। এর ধ্বংসের ধারাবাহিকতার সাথে এদেশের আর-সব প্রতিষ্ঠানেরও তাই ধ্বংস ঘটেছে। তাই ইংরেজী বা মাদ্রাসা যে ধারারই পক্ষে হই না কেন, মনে রাখতে হবে, কোনো দেশে শিক্ষার সাধারণ ধারাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে দীর্ঘমেয়াদে কোনো ধারাই লাভবান হতে পারে না।
তাই আমাদের দাবী হওয়া উচিত : এদেশের শিশুরা স্কুল-মাদ্রাসা-কিণ্ডারগার্টেন যেখানেই পড়ছে, যে মাধ্যমেই পড়ছে, তার মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত হতে হবে; তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত হতে হবে; তার নিরাপত্তা নিশ্চিত হতে হবে। আর প্রতিটি শিশুর শিক্ষার দায় রাষ্ট্রের। কিন্তু শিক্ষার কর্তৃত্ব নিয়ে শিশুদের গিনিপিগের মতো ব্যবহার বর্বরতা। শিশুর প্রতি এই নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। (রাখাল রাহা, ১৭ই জানুয়ারী ২০২৪)
🌳 শিক্ষা বিষয়ক মেনিফেষ্টো 🌳 [প্রকাশকাল: ২০২২-২৩]
“আধুনিক শিক্ষাকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে স্পষ্ট হবে যে, কোনো শিক্ষাদর্শন বা লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নয়, একটা চরম কাঙ্ক্ষিত প্রতিপাদ্যকে প্রাণকেন্দ্রে রেখে এর সকল আয়োজন সাজানো হয়েছে। এটা হলো—মানুষ জানে এবং মানুষ পারে। আর এই জানা ও পারার বোধ জগৎ জুড়ে সকল শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে এমনভাবে চারিত করা হয়েছে, এবং যার ফলে এমন একটা বাতাবরণ শিক্ষাজগতে ছড়িয়ে আছে তা হলো, মানুষ সবই জানে বা সবই পারে।
বস্তুত শিক্ষার স্নায়ুতে ছড়ানো এই প্রাণস্পন্দন সত্য নয়। সত্য হচ্ছে মানুষ ইতিমধ্যে যতোটা জেনেছে বা পেরেছে তা দিয়েই বুঝেছে যে, জগতে যতো জানা বা পারা যায় ততোই না-জানা বা না-পারার পরিমাণটা বাড়তে থাকে। কারণ নতুন নতুন জানা বা পারার মাধ্যমে তার সামনে আরো বহুগুণ না-জানা বা না-পারার বিষয়টা উদ্ঘাটিত হতে থাকে।
কিন্তু এই বিশাল সত্যের প্রকাশ জগতের কোনো আধুনিক শিক্ষা-আয়োজনের মধ্যে এতটুকু স্পষ্ট তো নয়ই, বরং ঠিক তার উল্টো প্রাণপ্রবাহ চরমভাবে চলমান। ফলে মানুষের সকল শিক্ষা, সকল মান, সকল কলা, সকল বিজ্ঞান, সকল উদ্ভাবনের সামষ্টিক সৃজনফল শেষাবধি দানবীয় এক ঔদ্ধত্য, যার মাধ্যমে পৃথিবী নামক তার একমাত্র বাসোপযোগী গ্রহটাকে ক্রমশ ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়া।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, মানুষ শিক্ষার প্রাণে এমন প্রতিপাদ্য নির্মাণ করলো কেমন করে? সভ্যতার বর্তমান এই ভয়াবহ সংকট, বস্তুত শিক্ষারই সংকট—সে বিবেচনা থেকে প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
প্রকৃতপক্ষে মানুষ পারে—এই প্রতিপাদ্যের ঠিক বিপরীত প্রতিপাদ্য ছিল, মানুষ পারে না। বিপরীত এই প্রতিপাদ্যকে প্রাণকেন্দ্রে রেখে অতীতে (বলা যায় রেনেসাঁ-পূর্ব কাল পর্যন্ত) যে শিক্ষা-আয়োজন সাজানো ছিল তার উৎস ছিল মূলত ধর্ম, রীতি, বিশ্বাস ও সংস্কার। মানুষের সমাজকে এই শিক্ষা একটা পর্যায় পর্যন্ত এগিয়ে দিলেও শেষাবধি এর অবস্থান এমন হয়েছিল যে, মানুষের কোনো পারা বা কোনো জানাটাকেই সে সহজভাবে গ্রহণ করেনি, বরং দীর্ঘকাল ধরে তার প্রতি বর্বরতর আচরণ করেছে।
এভাবে না-পারার শিক্ষা একপর্যায়ে মানুষের জন্য এমন দানবীয় শিকলতুল্য হয়েছে যে, আর সেই শিকল মানুষকে এতো ভুগিয়েছে এতো পিছিয়েছে যে, বহু ত্যাগের বিনিময়ে সেই শিকল যখন সে ছিঁড়েছে তখন ঠিক তার বিপরীত প্রতিপাদ্যে গিয়ে হাজির হয়েছে যে—মানুষ সবই পারে, সবই জানে। মানুষের এ এক নিরন্তর ট্র্যাজেডী! এই উদ্ধত শিক্ষা-প্রতিপাদ্য এবং তার দ্বারা সৃষ্ট বোধ ও নির্মিতিই সভ্যতার সংকটের মূলে।
বস্তুত আমি কিছুই জানি না, কিছুই পারি না—এই বোধ ছিল মানবসত্তার জন্য ভয়াবহরকমভাবে অবমাননাকর। এই বোধ মানুষকে প্রকৃতপক্ষে এক ধরণের জড়বস্তুতে পরিণত করে। অন্যদিকে আমি সব পারি, সব জানি—এই বোধের মনোস্তাত্ত্বিক পরিণতি শেষাবধি ঔদ্ধত্য এবং এটা অনিবার্য। এই বোধ সত্যও নয়, সার্থকও নয়।
প্রকৃতপক্ষে আমি যতো পারি আমার না-পারার পরিমাণ ততো বাড়তে থাকে—এই সত্যবোধই আজ আমাকে সংযত করতে পারে। এটা মনোস্তত্ত্বের বিষয়, শিক্ষামনোস্তত্ত্বের বিষয়—রাজনীতি-অর্থনীতি বা পুঁজিবাদ-সাম্যবাদের বিষয় নয়। শিক্ষার প্রাণকেন্দ্রের প্রতিপাদ্য এই মনোস্তত্ত্বের ভিত্তিতে নির্মাণ আজ মানবসভ্যতা রক্ষায় অতি জরুরী।” (রাষ্ট্রচিন্তা জার্নাল ও বিভিন্ন পত্রিকায় বিভিন্ন সময়ে নানাভাবে প্রকাশিত প্রবন্ধের অংশবিশেষ)
☀ নোট:
দেশে একটা পরিবর্তনের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। আপাত বিপদ কেটে গেছে বলেও মনে হচ্ছে। শিক্ষা বিষয়ে, সম্পাদনা বিষয়ে এখন অনেক কাজ করার। তাই ফেসবুকে সময় কম দিয়ে সেগুলোতে মনযোগ দিতে চাই। সবাই কাণ্ডজ্ঞান রাখুন, সতর্ক থাকুন, আর সীমালঙ্ঘন না করুন। শুভকামনা। [১৪ই আগষ্ট ২০২৪]
দুর্ভাগা বাংলাদেশ! হাসিনা দুঃশাসন-নির্যাতন আর অশিক্ষা কুশিক্ষা দিয়ে যে বিষাক্ত মাটি-পানি-বাতাস তৈরী করে দিয়ে গেছে সেখানে আরও বিষফল ফলাতে সবাই যেন আজ মরিয়া। [১০ই ফেব্রুয়ারী ২০২৫]

Want your public figure to be the top-listed Public Figure in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Website

Address

Azimpur
Dhaka
1205