Life Hacks
লাইফ হ্যাকসে আমরা আছি জীবনটা একটু সহজ, একটু দ্রুত আর মজাদার করে তোলার মিশনে।
এভাবে কথা বলেও এখনো গ্রেফতার হচ্ছে না কেন?
আইনের লোক হয়ে বেআইনি কাজ করবেন না। ম্যাজিস্ট্রেটকে বললেন ব্যবসায়ী।
পাতি নেতা তেলাপোকার মত উড়ে গেল 🤔
16/03/2026
আমার স্বামী আজ অফিস থেকে ঈদের বেতন বোনাস পেয়েছে। হাতে টাকা পেয়েই উনি আমাকে দুপুরে এসে বললো, "ঈদ তো চলে এসেছে ঐশী। চলো আজ মার্কেটে যাই, সবার জন্য কেনাকাটা সেড়ে ফেলি।"
আমি বললাম, এখন বাহিরে প্রচন্ড রকমের রোদ। রোজা রেখে এতো গরমের মধ্যে বাইরে যেতে ইচ্ছে করছে না আমার। তুমি একাই যাও না।"
"তুৃমি না গেলে হবে না-কি? তুমি দেখেশুনে সবার জন্য কিনবে।"
অগত্যা বরের কথায় যেতেই হলো। মার্কেটে এসে শ্বাশুড়ির জন্য ঈদের শাড়ী কিনতে এসে আমার চোখ আঁটকে যায় তার পাশের খয়েরী রঙের শাড়ীটার উপর। এই রঙটা আমার মায়ের খুব পছন্দের। কিন্তু মুখ ফুটে বরকে বলার সাহস হলো না। আমি শাড়ীটা হাতে নিয়ে বারবার নড়াচড়া করছি। এরিমধ্যে শ্বাশুড়ির জন্য নিদিষ্ট একটা শাড়ী কিনলো বর। সেটাও আমার পছন্দ অনুযায়ীই হলো। উনি দোকানী'কে টাকা দিয়ে অন্য দোকানে যাবে বাকি কেনাকাটা করতে।
কিন্তু আমি এখনো শাড়ীটা হাতে নিয়ে বসে আছি। মায়ের জন্য এই শাড়ী কিনতে মন চাচ্ছে খুব। শাড়ীটা রেখে চলে যেতে ইচ্ছে করছে না আমার। যা দেখে উনি আমাকে জিজ্ঞেস করলো, "তুমি কি ওই শাড়ীটা নিবে ঐশী? তোমার পছন্দ হয়েছে?"
আমি আমতা আমতা করে বললাম, "এই রঙটা আমার মা খুব পছন্দ করে। মায়ের গায়ে এই শাড়ীটা বেশ মানাবে।"
আমার মায়ের কথা বলতেই বর মুখ বিকৃত করে ফেললো। এরপর আমাকে তাড়া দিয়ে বললো, "ওটা রেখে দেও এখন। আমাদের এখনো অনেক কেনাকাটা বাকি। চলো অন্য দোকানে যাই। রুমকি (ননদ) বলেছে তার পাকিস্তানি ড্রেস চা'ই চাই। নয়তো তার নাকি ঈদই হবে না।"
উনার কথা শুনে মনেমনে ভীষণ কষ্ট অনুভব হলো আমার। মায়ের জন্য অতী পছন্দের শাড়ীটা রেখেই উঠতো হলো আমাকে৷ উনি উনার মা-বোন সবার কথা ভাবলো। আমার বাড়িতেও বৃদ্ধ মা-বাবা আর ছোট একটা বোন রয়েছে। ওদের কথা একবার মনেও করলো না। উনার কতো তাড়া নিজের ফ্যামিলির জন্য। আসলেই যার যার তার তার। আজ খুব টাকার অভাব বোধ করছি আমি।
মেয়েদের পুরোপুরি স্বামীর উপর নির্ভরশীল হওয়ার চাইতে নিজের উপার্জনের উপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত। আজ আমিও যদি কিছুটা ইনকাম করতে পারতাম, হয়তো শখের জিনিস গুলো আমিও আমার মা-বাবা, বোনকে দিতে পারতাম। আমি মেয়ে তা-ও ঈদ আসলে আমার বাবা-মা বোনকে কিছু দিতে ইচ্ছে করে। ভালো-মন্দ খাওয়াতে ইচ্ছে করে। কিন্তু আমার স্বাদ আছে কিন্তু স্বাধ্য নাই।
চা'পা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ততক্ষণাৎ শাড়ীটা রেখে লজ্জিত মুখে উঠে দাঁড়ালাম আমি।
বর আগে আগে হাঁটছে। আমার এই গোপন ব্যথা উপলব্ধি করতে পারলো না মানুষটা আর না চেষ্টা করছে। ব্যথিতো মুখ নিয়ে আমিও উনার পিছনে পিছনে হাঁটছি। ননদের জন্য ড্রেস কিনতে এসে আমারও ইচ্ছে হলো, ছোট বোনটার জন্য কিছু একটা কিনতে। কিন্তু এবার আর সেই একই ভুল করলাম না। প্রকাশ করলাম না কিচ্ছুটি। যদি কখনো সম্ভব হয়, নিজের টাকা দিয়ে আমি ওদের জন্য মন ভরে কিনবো। সেদিন আর কারো কাছে হাত পাততে হবে না।
বর বেশ দাম দিয়ে তার বোনের জন্য একটা ড্রেস কিনলো। এরপর একে একে তার ফ্যামিলির সবার জন্য কেনাকাটা শেষ করলো। এরমধ্যে একটিবার আমার পরিবারের কথা মনেও করলো না লোকটা। লজ্জায় দ্বিধায় আমিও আর ওদের প্রসঙ্গ তুললাম না।
সবার শেষে এবার আসলো আমার পালা। উনি আমাকে জিজ্ঞেস করলো,
"তুমি কি কিনবে ঐশী? তোমার পছন্দ মতো যা ইচ্ছে একটা কিছু কেনো।"
আমি ততক্ষণাৎ বললাম, "আমার কিছু লাগবে না। অনেকটা বেলা হয়ে গিয়েছে, চলো এবার বাসায় যাই আমরা। আমার বড্ড ক্লান্ত লাগছে।"
"তা হয় না-কি। সবার জন্য এতো কিনলাম, আর তুমি কিনবে না? কিছু তো একটা নেও।"
"আমি না হয় পরে কিনবো। আমার বড়ো মাথা ধরেছে। চলো এবার বাসায় যাই।"
আসলে এটা ছিলো আমার একটা অযুহাত মাত্র। যে শাড়ী আমি আমার মায়ের জন্য কিনতে পারলাম না, টাকার জন্য। ওদের রেখে নিজের জন্য নতুন পোশাক কেনার মতো উচচ্ছাস আমার ভিতরে কাজ করছে না। এরপর বরও আর জোড়াজুড়ি করলো না আমায়।
বাসায় এসে সবার শপিং বুঝিয়ে দিলাম। শ্বাশুড়ি মা একে-একে সব দেখলো। নিজের শাড়ীটা হাতে নিয়ে উলটো-পালটা করে দেখছে। তার ছেলে উনাকে জিজ্ঞেস করলো,
"মা, তোমার শাড়ী পছন্দ হয়েছে?"
"হ্যাঁ, শাড়ীটা ভীষণ সুন্দর।"
এরা মা-ছেলে শপিং নিয়ে কথা বলছে। এক ফাঁকে আমার শ্বাশুড়ি তার ছেলেকে জিজ্ঞেস করলো,
"আমাদের সবার জন্য তো আনলি, তোর শ্বশুর-শ্বাশুড়ির জন্য কিছু আনছিস?"
"না উনাদের জন্য কিছু আনিনি, মা। উনাদের তো গতবছর ঈদেও দিয়েছি। এবার হাতে টাকা-পয়সা বেশি একটা নেই।"
আমার বাবা-মা'কে নিয়ে স্বামীর এরকম অনীহা মূলক মন্তব্য শুনে চোখ ভিজে উঠলো আমার। কান্না লুকাতে দ্রুত ওখান থেকে নিজের রুমে চলে গেলাম আমি। রুমে আসতেই ছোট বোনের কল। বোন উসখুস মুখে আমায় জিজ্ঞেস করলো,
"আপু তোরা না-কি শপিং গিয়েছিলি আজ?"
"হ্যাঁ গিয়েছি তাতে তোর কি?"
বোনকে বেশ শক্ত কণ্ঠে বললাম কথাটা আমি। আমার কথা সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে বোন বললো,
"আমার জন্য কিছু আনছিস আপু?"
বোনের কথায় কোনো জবাব দিতে পারলাম না আমি। আমার চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে কেবল নিরব অশ্রু। এক আকাশ সমান চাপা ব্যথা নিয়ে ততক্ষণাৎ ফোন কেটে দিলাম আমি। আমার এই গোপন ব্যথা, নিরব অশ্রুর য'ন্ত্র'ণা আঁটকে থাকলো চার দেয়ালের মাঝে।
(সমাপ্ত)
#নিরব_অশ্রু
লেখনীতেঃ #সুমাইয়া_আফরিন_ঐশী
16/03/2026
হঠাৎ করেই স্ত্রী পা থেকে জুতো খুলে ফেললেন।
কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি সবার সামনে স্বামীর গায়ে জুতোর বাড়ি দিতে শুরু করলেন। প্রতিটি আঘাতের সাথে তিনি বলতে লাগলেন, “এই নে তোর চার হাজার টাকার ড্রেস! এই নে তোর বাজেট!”
ভিডিওটা দেখে সত্যিই স্তব্ধ হয়ে গেলাম। ঈদের বাজারে এমন দৃশ্য দেখার জন্য কেউ প্রস্তুত থাকে না। চারদিকে আলোকসজ্জা, নতুন কাপড়ের ঘ্রাণ, মানুষের হাসিমুখ। উৎসবের সেই উচ্ছ্বাসের মাঝেই হঠাৎ করে এক কোণে জমে উঠল তীব্র অস্বস্তি আর অপমানের এক দৃশ্য।
দোকানের ভেতরটা তখন ঈদের সাজে ঝলমল করছিল। থরে থরে সাজানো নতুন পোশাক। সেই ভিড়ের মাঝেই দাঁড়িয়ে ছিলেন এক দম্পতি। স্ত্রী একটি উজ্জ্বল রঙের থ্রিপিস হাতে তুলে নিলেন। কাপড়টা সামনে মেলে ধরে তিনি স্বামীর দিকে তাকালেন। চোখে ছিল স্পষ্ট এক ধরনের আকাঙ্ক্ষা, যেন এই পোশাকটাই তার ঈদের আনন্দ।
কিন্তু দামটা শুনেই স্বামীর কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ল।
তিনি একটু নিচু স্বরে, প্রায় মিনতির সুরে বললেন,
“দেখো, চার হাজার টাকা তো এই মুহূর্তে একটু বেশি হয়ে যায়। অন্য কিছু দেখবে?” এই কথাটা যেন আগুনে ঘি ঢেলে দিল।
স্ত্রীর মেজাজ মুহূর্তেই সপ্তমে চড়ে গেল। তিনি চড়া গলায় বলে উঠলেন, “বাজেট দিয়ে আমি কী করব? আমার এটাই পছন্দ হয়েছে। তুমি কি আমায় এটা কিনে দেবে না?”
চারপাশে তখন অনেক মানুষ। স্বামী স্পষ্টই অস্বস্তিতে পড়ে গেলেন। তিনি ধীরে ধীরে বললেন, “আরে শোনো, সবার সামনে এভাবে চেঁচামেচি করো না। মানসম্মান বলে তো কিছু আছে।”
কিন্তু তখন আর পরিস্থিতি থামার জায়গায় নেই।
স্ত্রী আরও জোরে বলতে লাগলেন, “সবাই সবার স্ত্রীকে কত দামী দামী গিফট দিচ্ছে, আর তুমি একটা থ্রিপিসের জন্য এত নাটক করছ? তোমার সামর্থ্য না থাকলে বাজারে নিয়ে আসো কেন?”
দোকানের ভেতরের মানুষজন তখন পুরো ঘটনাটা দেখছে। কেউ বিস্মিত, কেউ অস্বস্তিতে, কেউ আবার ফিসফিস করে কথা বলছে। দোকানের কর্মচারীরাও যেন কী করবে বুঝে উঠতে পারছিল না।
এরপর ঘটল এমন কিছু, যা হয়তো সেই মানুষটার জীবনে অনেকদিন পর্যন্ত দগদগে দাগ হয়ে থাকবে। হঠাৎ করেই স্ত্রী পা থেকে জুতো খুলে ফেললেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি সবার সামনে স্বামীর গায়ে জুতোর বাড়ি দিতে শুরু করলেন। প্রতিটি আঘাতের সাথে তিনি বলতে লাগলেন,
“এই নে তোর চার হাজার টাকার ড্রেস! এই নে তোর বাজেট!”
মুহূর্তের মধ্যে দোকানের ভেতরটা যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
স্বামী শুধু দাঁড়িয়ে রইলেন। কোনো প্রতিরোধ নেই, কোনো চিৎকার নেই। শুধু মাথা নিচু করে সেই অপমান সহ্য করে যাচ্ছেন। তার চোখের কোণে জমে উঠেছিল পানি, কিন্তু সেই পানির ভেতরেও ছিল এক অদ্ভুত অসহায়ত্ব।
ঈদের আলোকসজ্জায় ঝলমলে সেই দোকানটা তখন আর উৎসবের জায়গা মনে হচ্ছিল না। যেন সেটি পরিণত হয়েছিল এক মানুষের অপমানের নীরব সাক্ষীতে। কিছুক্ষণ পর স্ত্রী রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে দোকান থেকে বেরিয়ে গেলেন। আর পেছনে ফেলে রেখে গেলেন শত মানুষের সামনে ভেঙে পড়া এক মানুষের আত্মসম্মান।
শেষে এসে প্রশ্নটা থেকেই যায়।
সম্পর্কের বাঁধন কি সত্যিই চার হাজার টাকার একটি থ্রিপিসের চেয়েও সস্তা? আর এই ঘটনায় আপনাকে বেশি ভাবাচ্ছে কোনটা, স্বামীর অসহায় নীরবতা, নাকি স্ত্রীর এই প্রকাশ্য আচরণ? এই স্বামীর জায়গায় আপনি থাকলে কি করতেন?👇👇
- Collected
দিনেদুপুরে ভবনের চারতলায় উঠে গ্রিল কেটে ঢুকতে চিয়েছিল চোর। এরপর লোকজন বাইরে থেকে দেখে ফেলে। ঢাকার মালিবাগে এই ঘটনা ঘটেছে।
কল করুন।
অল্পের জন্য রক্ষা পেলো বাইকার।
17/01/2026
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে। দিনের বেলা এটাকে ইউরোপের কোনো রাস্তা মনে হতে পারে কিন্তু রাত দুইটার পর এই রাস্তা তার আসল রূপ ধারণ করে। দুই পাশে বিশাল জলাভূমি, ধুধু আড়িয়াল বিলের একাংশ, আর মাঝখানে সোডিয়াম লাইটের হলুদ আভা। এই আলোতে সবকিছুই কেমন যেন অসুস্থ আর ফ্যাকাশে দেখায়।
ঘটনাটি ঘটেছিল গত বছর নভেম্বরের শেষ দিকে। আমি আর আমার বন্ধু সোহেল যাচ্ছিলাম পটুয়াখালীর দিকে। আমাদের কাজ ছিল কুয়াকাটায় একটি শুটিংয়ের। কিন্তু ব্যক্তিগত ঝামেলার কারণে আমাদের দেরি হয়ে যায়। ঢাকার পোস্তগোলা পার হতে হতে রাত দেড়টা বেজে গেল। আমাদের সাথে ছিল একটা পুরনো করোলা গাড়ি। ড্রাইভ করছিল সোহেল।
যাত্রাবাড়ী পার হওয়ার পর থেকেই রাস্তাটা একদম ফাঁকা। শীতের আমেজ শুরু হয়েছে, হালকা কুয়াশা উড়ছে বাতাসের সাথে। হঠাৎ খেয়াল করলাম, আমাদের গাড়ির হেডলাইটের আলো যতদূর যাচ্ছে, তার বাইরে চারপাশটা অস্বাভাবিক কালো। যেন অন্ধকারটা তরল হয়ে রাস্তার ওপর চুইয়ে পড়ছে।
রাত তখন ২টা ১০ মিনিট। ধলেশ্বরী ব্রিজ পার হওয়ার পর গাড়িটা যখন ফুল স্পিডে ঠিক তখনই ঘটনাটার শুরু। সোহেল হঠাৎ করে চিৎকার দিয়ে হার্ড ব্রেক কষল। চাকা ঘষার বিকট শব্দে রাতের নিস্তব্ধতা ছিঁড়ে গেল। আমি ড্যাশবোর্ডে মাথা ঠুকে ফেললাম প্রায়।
সোহেলের চেহারা তখন চুন হয়ে গেছে। ও স্টিয়ারিং শক্ত করে ধরে ঘামছে। আমি বললাম, "কী হইছে? ব্রেক করলি কেন?"
সোহেল আঙুল তুলে সামনের দিকে ইশারা করল। ওর গলা কাঁপছিল। "দেখ... সামনে দেখ!"
আমি সামনের উইন্ডশিল্ড দিয়ে তাকালাম। আমার রক্ত হিম হয়ে গেল। আমাদের গাড়ির ঠিক দশ ফুট সামনে বিশাল একটা খড়ের ট্রাক আড়াআড়িভাবে রাস্তা বন্ধ করে দাঁড়িয়ে আছে। এমনভাবে দাঁড়িয়ে আছে যে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই।
আমরা দুজনেই পাথর হয়ে বসে আছি। পাঁচ মিনিট কাটল। ট্রাক থেকে কেউ নামছে না, কোনো শব্দ নেই। সোহেল হেডলাইট আপ-ডাউন করল। কোনো সাড়া নেই। আমি বিরক্ত আর ভয় মিশিয়ে বললাম, "নামি চল, দেখি কী হইছে।"
গাড়ি থেকে নামার জন্য দরজা খুলতেই একঝলক বরফ শীতল বাতাস ভেতরে ঢুকল। আমি আর সোহেল রাস্তায় নামলাম। কিন্তু এক পা এগোতেই আমার শিরদাঁড়া দিয়ে ঠান্ডা স্রোত নেমে গেল।
রাস্তা ফাঁকা। একদম ফাঁকা।
কোথায় সেই বিশাল ট্রাক? কোথায় সেই খড়? আমাদের সামনে মাইলের পর মাইল পিচঢালা রাস্তা সোডিয়াম লাইটের নিচে চকচক করছে। কোনো ট্রাক নেই, কোনো চিহ্ন নেই।
সোহেল বিড়বিড় করে বলল, "আমি স্পষ্ট দেখলাম... বিশাল একটা ট্রাক আমাদের রাস্তা আটকে দিল।"
আমি কিছু বললাম না। কারণ আমি নিজেও সেটা দেখেছি। ওই মুহূর্তে আমাদের মনে হলো, আমরা একা নই। রাস্তার পাশের অন্ধকার থেকে কেউ আমাদের দেখছে। দ্রুত গাড়িতে উঠে সোহেল এক্সিলারেটরে পা দিল। গাড়ি তখন ৮০-১০০ স্পিডে ছুটছে। আমরা শুধু চাচ্ছিলাম এই এলাকাটা পার হতে।
গাড়ি যখন নিমতলী এলাকা পার হচ্ছে, তখন গাড়ির ভেতরে একটা অদ্ভুত গন্ধ নাকে এল। পচা চামড়া আর ভেজা মাটির একটা ভ্যাপসা গন্ধ। সোহেল এসি বন্ধ করে দিল। কিন্তু গন্ধটা কমছে না।
ঠিক তখনই শব্দটা শুরু হলো।
প্রথমে খুব হালকা, যেন দূর থেকে কেউ ফিসফিস করছে। তারপর শব্দটা স্পষ্ট হলো। আমাদের গাড়ির পেছনের সিট থেকে কেউ একজন ডুকরে কেঁদে উঠছে। কোনো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের কান্না না, মনে হচ্ছে ছোট কোনো শিশু বা কিশোরী অসহায়ভাবে কাঁদছে।
আমি পেছনে তাকাতে সাহস পাচ্ছিলাম না। সোহেল ড্রাইভ করছে, কিন্তু ওর হাত কাঁপছে। ও লুকিং গ্লাসে তাকিয়ে ছিল। হঠাৎ ও ব্রেক ছেড়ে দিয়ে স্টিয়ারিং ছেড়ে দিতে চাইল।
আমি চিৎকার করে উঠলাম, "সোহেল! কী করছিস?"
সোহেল গোঙানির মতো গলায় বলল, "পেছনের আয়নায় দেখ... কে বসে আছে দেখ..."
আমি সাহস সঞ্চয় করে লুকিং গ্লাসের দিকে তাকালাম। আয়নায় পেছনের সিটটা অন্ধকার। কিন্তু সেই অন্ধকারে একটা সাদা ছায়ার মতো অবয়ব বসে আছে। তার মুখটা দেখা যাচ্ছে না, চুলগুলো লম্বা আর ভেজা। সেই অবয়বটা মাথা নিচু করে কাঁদছে। কান্নার শব্দটা এখন গাড়ির ইঞ্জিনের শব্দকেও ছাপিয়ে যাচ্ছে।
আমার মনে হলো আমার কানের পর্দা ফেটে যাবে। "হায় আল্লাহ, আমাদের বাঁচাও!" বলে আমি জোরে জোরে আয়াতুল কুরসি পড়তে শুরু করলাম।
আশ্চর্যজনকভাবে, আমি যখনই দোয়া পড়া শুরু করলাম, কান্নার শব্দটা বদলে একটা বিকট হিসহিস শব্দে রূপ নিল। যেন কেউ রেগে যাচ্ছে। পেছনের সিটের সেই ছায়াটা এবার নড়ে উঠল। আয়নায় দেখলাম, সেই ছায়াটা ধীরে ধীরে সোহেলের ঘাড়ের দিকে হাত বাড়াচ্ছে। ওর হাতটা মানুষের মতো না অস্বাভাবিক লম্বা আর নখগুলো কালো।
আমি চিৎকার করে সোহেলকে বললাম, "গাড়ি থামাবি না! এক চুলও থামাবি না! মাওয়া ঘাটের আগে থামাবি না!"
সোহেল তখন ঘোরের মধ্যে। ওর চোখ একদম লাল হয়ে গেছে। ও বারবার বলছে, "পেছনের লোকটা নামতে চায়... ও বলছে ওর খুব কষ্ট হচ্ছে..."
আমি সোহেলকে একটা থাপ্পড় মারলাম। "বেহুঁশ হস না সোহেল! পেছনে কেউ নেই! সব মিথ্যে!"
ঠিক এই সময় গাড়ির ড্যাশবোর্ডে থাকা মিউজিক সিস্টেমটা নিজে নিজেই অন হয়ে গেল। কোনো গান বাজছে না, শুধু খড়খড় শব্দ। আর সেই শব্দের মাঝখান থেকে একটা ফ্যাসফ্যাসে নারী কণ্ঠ শোনা গেল, "তোরা যাবি না... তোদের আমি যেতে দেব না।"
একই সাথে গাড়ির পেছনের কাঁচটা কেউ বাইরে থেকে ধুমধাম করে পিটতে শুরু করল। মনে হচ্ছিল বিশাল কোনো হাত দিয়ে কেউ কাঁচটা ভেঙে ফেলতে চাইছে। অথচ গাড়ি তখন ১০০ স্পিডে চলছে! বাইরের চাকার নিচে কোনো মানুষের থাকার কথা না।
হঠাৎ সোহেল ব্রেকে পা দিল। এবার আর অদৃশ্য কিছু না, এবার সত্যি সত্যি গাড়ির সামনে একটা কুয়াশার দেয়াল তৈরি হয়েছে। কিছুই দেখা যাচ্ছে না। সোহেল বলল, "আমি আর পারছি না, আমি থামলাম।"
গাড়িটা যখন একদম মাঝরাস্তায় থামল, তখন চারপাশ একদম নিঝুম। কান্নার শব্দ নেই, থাপ্পড় মারার শব্দ নেই। শুধু আমাদের দুজনের ভারী নিঃশ্বাসের শব্দ।
সোহেল স্টিয়ারিংয়ে মাথা রেখে হাঁপাচ্ছে। আমি বাইরে তাকালাম। কুয়াশা ভেদ করে দেখলাম, রাস্তার পাশের রেলিঙের ওপর সারিবদ্ধভাবে কয়েকটা ছায়া বসে আছে। তারা সবাই আমাদের দিকে তাকিয়ে। তাদের চোখগুলো নেই, শুধু গর্ত।
আমি যখন একদম নিশ্চিত যে আজ আমাদের শেষ রাত, ঠিক তখনই পেছন থেকে একটা বিশাল ট্রাকের হর্ন শোনা গেল। একটা মালবাহী ট্রাক তীব্র গতিতে আমাদের পাশ কাটিয়ে চলে গেল। ওই ট্রাকের জোরালো আলো আর শব্দে কুয়াশাটা এক মুহূর্তের জন্য কেটে গেল।
আমি চিৎকার করে বললাম, "সোহেল, এখন! ট্রাকটার পিছু নে!"
সোহেল যেন প্রাণ ফিরে পেল। ও গাড়ি স্টার্ট দিয়ে ওই ট্রাকটার একদম পেছনে পেছনে চলতে শুরু করল। যতক্ষণ না আমরা মাওয়া ঘাটের ফেরি পার হলাম, ততক্ষণ আমরা কেউ একটি কথাও বলিনি।
ভোরবেলা যখন আমরা ঘাটে পৌঁছলাম, তখন আমাদের চেহারা চেনা যাচ্ছিল না। সোহেলের গলায় চারটা আঙুলের কালচে দাগ পড়ে আছে। যেন কেউ ওকে শ্বাসরোধ করে মারতে চেয়েছিল।
আমরা যখন গাড়ি থেকে নামলাম, তখন ফেরির এক পুরনো লস্কর আমাদের দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে বলল, "ওস্তাদ, আপনাদের পেছনের সিটটা ভিজে কেন?"
আমি পেছনে তাকালাম। পেছনের সিটটা একদম ভিজে চপচপে হয়ে আছে, যেন কেউ নদী থেকে উঠে সরাসরি ওখানে এসে বসেছিল।
মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের এই রহস্যটা আজও আমাদের তাড়া করে বেড়ায়। ওই রাতে সেই অদৃশ্য ট্রাকটা আমাদের কেন থামিয়েছিল? পেছনের ওই যাত্রীটা কে ছিল? আর যদি সে চলেই গিয়ে থাকে, তবে সোহেলের গলার দাগ আর সিটের ওই পানি কোত্থেকে এল?
এসবের উত্তর আজও মেলেনি। তবে সেই থেকে একটা কথা প্রচলিত আছে রাত ৩টার পর এক্সপ্রেসওয়ের কিছু অংশ মানুষের জন্য থাকে না। সেখানে যা ঘটে, তার সাক্ষী কেবল ওই সোডিয়াম বাতিগুলোই।
এরপর থেকে আমি আর কখনো রাতে ওই রাস্তায় ড্রাইভ করি না। কারণ আমি জানি, আপনি যতই জোরে গাড়ি চালান না কেন, কিছু জিনিস আপনার গাড়ির গতির চেয়েও দ্রুত ছুটতে পারে। তারা শুধু একটা সুযোগের অপেক্ষায় থাকে আপনার মনোযোগ যখন একটু সরবে, তখনই তারা পেছনের সিটে এসে নিঃশব্দে বসে পড়বে।
#এক্সপ্রেসওয়ের_অভিশপ্ত_সিট
#মাওয়াএক্সপ্রেসওয়ে #রাত৩টাররহস্য
#ভৌতিকবাংলা #হররস্টোরিবাংলা
#অজানাঅভিজ্ঞতা
মানুষ কি এদের অত্যাচার থেকে মুক্তি পাবে না?
বাচ্চাটার কি অবস্থা কে জানে!
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
1217