Sinha Legal Associate

Sinha Legal  Associate

Share

We love travel

20/03/2026

অনলাইনে পণ্য কিনে প্রতারিত হলে করণীয়
শুভ্র সিনহা রায়

হমিদা আক্তার বৃষ্টি। ঈদ উপলক্ষে প্রতি বছরই পোশাক কেনেন। আর এই পোশাক কিনতে গিয়ে তাঁকে রাস্তায় অসহ্য জ্যাম আর ভিড়ের কবলে পড়তে হয়। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। এ কারণে সময় নিয়ে কাপড় বাছাই করতে পারেন না। শেষ মুহূর্তে এসে হাতের কাছে যাই পান তাই নিতে হয়। তবে এবারে বিভিন্ন অনলাইনের মাধ্যমে পোশাক কেনার পরিকল্পনা করেন তিনি।

পছন্দ হওয়ায় একটি ফেসবুক পেজ থেকে বৃষ্টি একটি থ্রি-পিস অর্ডার দেন। সময়মতো বাসায় ডেলিভারি পান। কিন্তু পণ্য হাতে পাওয়ার পর তাঁর মন খুব খারাপ হয়ে যায়। কারণ, কাঙ্ক্ষিত মানের পণ্য পাননি তিনি। তাঁর মনে হয়েছে, তিনি প্রতারিত হয়েছেন। অভিযোগ জানিয়ে অনলাইন মাধ্যমে যোগাযোগ করলে তাঁরা পণ্য পরিবর্তন বা ফেরত নিতে অস্বীকার করে।

এখন ফাহমিদা আক্তার বৃষ্টি এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন। এ নিয়ে তিনি একজন আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করেন। আইনজীবীর সেই পরামর্শ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

আইনজীবী : আপনি যদি অনলাইনে পণ্য কিনে প্রতারিত হন তাহলে দেশের প্রচলিত আইন অনুসারে ব্যবস্থা নিতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ চেয়েও দেওয়ানি আদালতে এবং প্রতারণার অভিযোগে ফৌজদারি আদালতে মামলা করতে পারবেন। এ ছাড়া ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ করা যাবে। সেক্ষেত্রে আপনি যদি অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেন তাহলে ওই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হবে। আপনি সেই জরিমানার ২৫ শতাংশ অর্থ অধিদপ্তর থেকে ফেরত পাবেন।

দেওয়ানি বা ফৌজদারি আদালতে মামলা :

প্রথমেই অনলাইনে প্রতারণার শিকার হলে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সাইট এবং কী ধরনের প্রতারণার শিকার হলেন তা সুনির্দিষ্টভাবে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করতে হবে। পরবর্তী সময়ে পণ্য কেনা বা হাতে পাওয়ার পর সেটার রশিদ বা ক্যাশমেমো দিয়ে জেলা জজ আদালতে অথবা মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে মামলা করতে পারবেন। আদালত আপনার অভিযোগ যাচাই-বাচাই করবেন। এবং অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ দিবেন। যদি আদালতে আপনার অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয় তাহলে আদালত অর্থদণ্ড বা কারাদণ্ড দিতে পারেন অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানকে ।

ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ :

অনলাইনে পণ্য ক্রয়ের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ করতে হবে। অনলাইনে প্রতারিত হওয়ার পর ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ করাটা সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ। সেক্ষেত্রে আপনি ভোক্তা অধিকারের কার্যালয়ে গিয়ে অথবা ওয়েবসাইটে দেওয়া মেইলের মাধ্যমে অভিযোগ করতে পারবেন। সেই অভিযোগের পরে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর অনলাইন প্রতিষ্ঠান ও অভিযোগকারীর কাছে পোস্টাল রশিদের মাধ্যমে চিঠি পাঠাবেন।

দুই পক্ষ থেকে শুনানি শেষে অধিদপ্তর ঘটনার সত্যতার প্রমাণ পেলে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা প্রদানের আদেশ দেবে। এ ক্ষেত্রে জরিমানা হিসেবে যে টাকা আদায় করা হবে তার ২৫ শতাংশ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত ভোক্তাকে দেওয়া হবে।

লেখক : আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
কর আইনজীবী, ঢাকা ট্যাক্স বার
চেম্বার : সফুরা কমপ্লেক্স, ২৬ কোর্ট হাউজস্ট্রীট, রুম-ই৯, ৫ম তলা, কোতায়ালী,ঢাকা-১১০০।

18/03/2026

গর্ভপাত করালে শাস্তি কী?
শুভ্র সিনহা রায়
বিয়ের ছয় মাস পরেই আমি গর্ভবতী হয়ে পড়ি। কিন্তু আমার স্বামী দুই বছরের আগে সন্তান চান না। হঠাৎ করেই যখন আমি জানতে পারি, আমি এক মাসের অন্তঃসত্ত্বা, তখন স্বামী আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে একটি ক্লিনিকে নিয়ে গর্ভপাত করান। আমি কীভাবে আইনগত সহায়তা পেতে পারি? নাবিলা( ছদ্দনাম), দিনাজপুর।

আইনজীবীর উত্তর : আপনার ইচ্ছার বিরুদ্ধে যেহেতু আপনার স্বামী গর্ভপাত করানোর চেষ্টা করছেন, তাই আপনার স্বামী দণ্ডবিধির ৩১৩ ধারা অনুসারে অপরাধ করেছেন। দণ্ডবিধির ৩১৩ ধারায় বলা আছে, নারীর সম্মতি ছাড়া গর্ভপাত করানো একটি গুরুতর অপরাধ। এর জন্য যাবজ্জীবন বা ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান আছে।

আইনের আশ্রয় কীভাবে নেবেন

অবৈধ গর্ভপাত বা অস্বাভাবিক অপরাধের শিকার হলে আদালতে বা থানায় দুভাবে মামলা করা যায়।

আদালতে মামলা দায়ের

আদালতে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে প্রথমে একজন আইনজীবীর কাছে যেতে হবে। আইনজীবীকে সব কাগজপত্র দেখানোর পর তাঁর সঙ্গে মামলার খরচের বিষয়ে আলাপ করে নিতে হবে। খরচ আপনার মনমতো হলে সেই আইনজীবীর মাধ্যমে মামলা দায়ের করতে হবে।

আইনজীবী বাদীর সব কাগজপত্র পর্যালোচনা করে একটি নালিশি দরখাস্ত তৈরি করবেন। তারপর নিকটস্থ মুখ্য বিচারিক হাকিম বা মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে সিআর বা পিটিশন আকারে মামলা দায়ের করবেন।

আদালতের হাকিম বাদীর ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারা অনুযায়ী জবানবন্দি নিয়ে আসামির কাছে সরাসরি সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করবেন। এ ছাড়া কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিচারক মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিতে পারেন। তদন্ত প্রতিবেদনে সত্যতা পাওয়া গেলে তখন আবার আদালত সরাসরি সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করবেন।

থানায় মামলা দায়ের

অবৈধ গর্ভপাতের ঘটনায় আপনি চাইলে নিকটস্থ থানায় এজাহার হিসেবেও মামলা করতে পারবেন। থানায় মামলাটি গ্রহণ করলে একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করে দেবেন থানার ডিউটি অফিসার। সে তদন্ত কর্মকর্তা আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করতে পারবেন।

এ ছাড়া আপনি পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইনের মাধ্যমেও প্রতিকার চাইতে পারেন। এ আইনে সুরক্ষা এবং ক্ষতিপূরণ উভয়ের জন্যই নিকটস্থ হাকিম (ম্যাজিস্ট্রেট) আদালতে আবেদন করতে হবে। সেখানে শুনানির ওপর ভিত্তি করে আদালত পারিবারিক সুরক্ষা এবং ক্ষতিপূরণের আদেশ দিতে পারেন। বিবাদী যদি আদালতের সুরক্ষা আদেশ লঙ্ঘন করেন, তাহলে আপনি আদালতে এ আইনের ৩০ ধারায় পৃথক আবেদন করতে পারেন। আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে সুরক্ষা আদেশ লঙ্ঘনকারীদের ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দিতে পারেন।

লেখক : আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্ট
ট্যাক্স আইনজীবী, ঢাকা ট্যাক্স বার
চেম্বার: সফুরা কমপ্লেক্স. ২৬ কোর্ট হাউজস্ট্রীট, রুম-ই ৯, ৫ম তলা. কোতায়ালী, ঢাকা।
মোবাইল-০১৭৫৫২৩৫৩০৬

18/03/2026

কীভাবে পাবেন বিনামূল্যে আইনি সহায়তা?
শুভ্র সিনহা রায়

আইনের দৃষ্টিতে দেশের সব নাগরিকই সমান। প্রত্যেকেই ন্যায় বিচার পাওয়ার অধিকারী। বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ নং অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিককে এ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশের দরিদ্র বিচারপ্রার্থীরা অনেক সময় টাকা-পয়সার অভাবে মামলা পরিচালনা করতে পারে না। এতে তারা নিজেদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। বাংলাদেশ সরকার ২০০০ সালে কানাডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির সহযোগিতায় দরিদ্র বিচারপ্রার্থীদের ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন ২০০০’ পাস করে। সারা দেশের বেশিরভাগ মানুষের এ বিষয়ে এখনো পুরোপুরি ধারণা না থাকায় তারা বিনামূল্যে আইনি সহায়তা নিতে পারছেন না। নিচে এ বিষয়ে পাঠকদের উদ্দেশ্যে আলোচনা করা হলো।

আইনগত সহায়তা কারা পাবেন

যারা বিনামূল্যে আইনি সহায়তা পাবেন-

১. কর্মক্ষম নন, আংশিক কর্মক্ষম, কর্মহীন বা বার্ষিক ৬,০০০ টাকার ঊর্ধ্বে আয় করতে অক্ষম মুক্তিযোদ্ধা

২. বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন এমন ব্যক্তি

৩. ভিজিডি কার্ডধারী দুঃস্থ মহিলা

৪. পাচারের শিকার নারী বা শিশু

৫. এসিডদগ্ধ নারী বা শিশু

৬. আদর্শ গ্রামে গৃহ বা ভূমি বরাদ্দপ্রাপ্ত যেকোনো ব্যক্তি

৭. অসচ্ছল বিধবা এবং স্বামী পরিত্যক্তা দরিদ্র নারী

৮. শারীরিক বা মানসিক সমস্যার কারণে উপার্জনে অক্ষম ব্যক্তি এবং সহায় সম্বলহীন প্রতিবন্ধী

৯. আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে আদালতে অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে অসমর্থ ব্যক্তি

১০. বিনা বিচারে আটক এমন ব্যক্তি যিনি আত্মপক্ষ সমর্থনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আর্থিকভাবে অসচ্ছল

১১. আদালত কর্তৃক বিবেচিত আর্থিকভাবে অসহায় কিংবা দরিদ্র কোনো ব্যক্তি

১২. জেল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বিবেচিত আর্থিকভাবে অসহায় কিংবা দরিদ্র কোনো ব্যক্তি

১৩. আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায় সম্বলহীন, নানাবিধ আর্থ-সামাজিক এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ কোনো ব্যক্তি যিনি আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে স্বীয় অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য মামলা পরিচালনা করতে অসমর্থ

যেখানে যোগাযোগ করতে হবে

উচ্চ আদালত এবং দেশের প্রত্যেক জেলা আদালতে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা প্রদান করতে একটি কমিটি রয়েছে। প্রত্যেক কমিটির আহ্বায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আপনি আইনি সহায়তা পেতে পারেন।

আবেদনের নিয়মাবলি

আইনি সহায়তা পেতে হলে প্রথমে আইনগত সহায়তা পাওয়ার জন্য কোনো ব্যক্তি তার নাম, পূর্ণ ঠিকানা এবং সহায়তা চাওয়ার কারণ উল্লেখ করে একটি সাদা কাগজে আবেদন বা দরখাস্ত করতে হবে ।

যে বিষয়ে আইনি সহায়তা চাওয়া হচ্ছে তা যদি হাইকোর্ট অথবা সুপ্রিম কোর্টে বিচারের বিষয় হয় তাহলে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার চেয়ারম্যান বরাবর এবং অন্যান্য আদালতের বিচারের বিষয় হলে জেলা কমিটির চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করতে হবে।

এ ছাড়া কোনো জেলা কমিটি বরাবর সহায়তা পাওয়ার জন্য আবেদনপত্র বা দরখাস্ত দাখিল করা হলে সংস্থা বা জেলা কমিটি তাতে একটি নাম্বার দিয়ে আবেদনপত্রটির ওপর সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সংস্থা বা জেলা কমিটির পরবর্তী সভায় উপস্থাপনের ব্যবস্থা করবে।

আবেদনপত্রে উল্লেখিত তথ্যের ভিত্তিতে যদি সংস্থা বা জেলা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব না হয় তবে আবেদনকারীকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত তথ্য সরবরাহের জন্য পরামর্শ দিবেন।

এরপর সংস্থা বা জেলা কমিটির সভায় আবেদনপত্রটির আলোকে আইনগত সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে তা সংস্থা বা জেলা কমিটি কর্তৃক আবেদনকারীকে জানানো হবে। যদি কোনো আবেদনকারীর আবেদন জেলা কমিটি কর্তৃক নাকচ হয় তাহলে সেটা মঞ্জুরির জন্য ও আবেদনকারী তার আবেদন নাকচ হওয়ার তারিখ হতে ৬০ দিনের মধ্যে সংস্থার কাছে আপিল পেশ করতে পারবে এবং এ ব্যাপারে সংস্থার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

লেখক : আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্ট
ট্যাক্স আইনজীবী, ঢাকা ট্যাক্স বার
চেম্বার: সফুরা কমপ্লেক্স. ২৬ কোর্ট হাউজস্ট্রীট, রুম-ই ৯, ৫ম তলা. কোতায়ালী, ঢাকা।

মোবাইল-০১৭৫৫২৩৫৩০৬

18/03/2026

আইনি জিজ্ঞাসা
মোটরযানের বিরুদ্ধে মামলা হলে করণীয়
শুভ্র সিনহা রায়

সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে ট্রাফিক আইন নিয়মনীতি মেনে চলতে হয়। সে নিয়ম না মানলে চালক অথবা মোটরযানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয় ট্রাফিক বিভাগ। আইনগত ব্যবস্থার ক্ষেত্রে প্রথমেই মামলা দেওয়া হয়। সে মামলায় নির্দিষ্ট অঙ্কের জরিমানা করা হয়। যদি জরিমানা পরিশোধ করা হয়, তাহলে আর ঝামেলা থাকে না। আবার যদি জরিমানা পরিশোধ করা না হয়, সে ক্ষেত্রে আদালত পর্যন্ত বিষয়টি গড়ায়। পাঠকের উদ্দেশ্যে আইনটি তুলে ধরা হলো।

কী কারণে মামলা হতে পারে

বৈধ কাগজপত্র না থাকলে, রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, ফিটনেস সার্টিফিকেট, ট্যাক্স টোকেন, ইন্স্যুরেন্স, সাধারণ পরিবহনের জন্য রুট পারমিট, সর্বোপরি চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স ইত্যাদি না থাকলে মোটরযান আইনে মামলা হতে পারে।

এ ছাড়া ভুল করে বা ইচ্ছাকৃতভাবে ট্রাফিক আইন না মানা-ট্রাফিক সিগন্যাল, লাইট না মেনে গাড়ি চালানো, বিপজ্জনকভাবে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো, যখন তখন লেন পরিবর্তন করা, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বলা, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো ইত্যাদি কারণে মামলা হতে পারে।

যানবাহনের ত্রুটি

যানবাহনের বিভিন্ন ত্রুটি, যেমন : হেডলাইট না জ্বলা বা না থাকা, ইন্ডিকেটর লাইট না থাকা বা না জ্বলা, সাধারণ পরিবহন, গাড়ির বডিতে পার্টিকুলার বা বিবরণ না থাকা, মালিক বা মালিকের নাম ঠিকানা না থাকা, গাড়িতে অতিরিক্ত আসন সংযোজন অথবা গাড়িতে বিআরটিএ অনুমোদন ছাড়া কোনো সংযোজন বা পরিবর্তন করা, ইত্যাদি কারণে যানবাহন মামলা হতে পারে।

মামলা কে করবেন

মামলা করা প্রয়োজন এবং যথাযথ মনে করলে কর্তব্যরত যেকোনো পুলিশ কর্মকর্তা এই মামলা করতে পারেন। রাস্তায় তাৎক্ষণিক মামলার ক্ষেত্রে মামলা প্রদানকারী কর্মকর্তা যানবাহনের একটি ডকুমেন্ট জব্দ করেন। তবে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে মোটরযান আইন ছাড়াও নিয়মিত মামলা হতে পারে।

মামলা হলে করণীয়

যেকোনো আইন ভাঙার জন্য মামলা হতে পারে। ডকুমন্টারি বা অন্য কোনো কারণে মোটরযান আইনে মামলা হলে সেটা বিশেষ উদ্বেগজনক কিছু নয়।

ঢাকা শহরে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের চারটি জোন বা এলাকা (পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণ) আছে। একজন ডেপুটি কমিশনার (ডিসি, ট্রাফিক) প্রতিটি জোনের দায়িত্বে আছেন। কাজেই যেকোনো মামলার ক্ষেত্রে আগে বিবেচনা করতে হবে সেটি কোনো এলাকার আওতাভুক্ত। কোন ট্রাফিক বিভাগের অধীনে মামলা হয়েছে, সেটা জরিমানার সময় যে টিকেট দেওয়া হয় তার পেছনে লেখা থাকে।

সংশ্লিষ্ট জোনের ডেপুটি কমিশনারের দপ্তরে গিয়ে কিছু দাপ্তরিক কাজ সম্পাদনের মাধ্যমে খুব সহজেই মামলা নিষ্পত্তি করা যায়। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্টভাবে জরিমানা প্রদান করতে হবে। বিচারক অথবা ডিসি ট্রাফিক জরিমানার অঙ্ক নির্ধারণ করেন। জরিমানা নির্ধারণকারী পূর্ণ জরিমানার চার ভাগের এক ভাগ পর্যন্ত জরিমানা করতে পারেন, এমনকি মওকুফও করতে পারেন। জরিমানা প্রদানের পরপরই জব্দ হওয়া ডকুমেন্ট বুঝে নেওয়া দরকার।

নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি না করা হলে ওয়ারেন্ট ইস্যুর জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা পাঠানো হয়। আদালত থেকে ওয়ারেন্ট ইস্যুর পর পুলিশ কর্মকর্তারা রাস্তায় সংশ্লিষ্ট গাড়িটি আটক করে এবং আদালতে জরিমানার টাকা দিলে আদালত গাড়িটি ছেড়ে দেওয়ার আদেশ দিতে পারেন। অনেক সময় অভিযুক্ত চালক আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে পুলিশের মামলার বিষয়ে চ্যালেঞ্জ করা যায়।

শুভ্র সিনহা রায়
সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে ট্রাফিক আইন নিয়মনীতি মেনে চলতে হয়। সে নিয়ম না মানলে চালক অথবা মোটরযানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয় ট্রাফিক বিভাগ। আইনগত ব্যবস্থার ক্ষেত্রে প্রথমেই মামলা দেওয়া হয়। সে মামলায় নির্দিষ্ট অঙ্কের জরিমানা করা হয়। যদি জরিমানা পরিশোধ করা হয়, তাহলে আর ঝামেলা থাকে না। আবার যদি জরিমানা পরিশোধ করা না হয়, সে ক্ষেত্রে আদালত পর্যন্ত বিষয়টি গড়ায়। এনটিভি অনলাইনের পাঠকদের জন্য এ সংক্রান্ত আইন তুলে ধরা হলো।

কী কারণে মামলা হতে পারে

বৈধ কাগজপত্র না থাকলে, রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, ফিটনেস সার্টিফিকেট, ট্যাক্স টোকেন, ইন্স্যুরেন্স, সাধারণ পরিবহনের জন্য রুট পারমিট, সর্বোপরি চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স ইত্যাদি না থাকলে মোটরযান আইনে মামলা হতে পারে।

এ ছাড়া ভুল করে বা ইচ্ছাকৃতভাবে ট্রাফিক আইন না মানা-ট্রাফিক সিগন্যাল, লাইট না মেনে গাড়ি চালানো, বিপজ্জনকভাবে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো, যখন তখন লেন পরিবর্তন করা, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বলা, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো ইত্যাদি কারণে মামলা হতে পারে।

যানবাহনের ত্রুটি

যানবাহনের বিভিন্ন ত্রুটি, যেমন : হেডলাইট না জ্বলা বা না থাকা, ইন্ডিকেটর লাইট না থাকা বা না জ্বলা, সাধারণ পরিবহন, গাড়ির বডিতে পার্টিকুলার বা বিবরণ না থাকা, মালিক বা মালিকের নাম ঠিকানা না থাকা, গাড়িতে অতিরিক্ত আসন সংযোজন অথবা গাড়িতে বিআরটিএ অনুমোদন ছাড়া কোনো সংযোজন বা পরিবর্তন করা, ইত্যাদি কারণে যানবাহন মামলা হতে পারে।

মামলা কে করবেন

মামলা করা প্রয়োজন এবং যথাযথ মনে করলে কর্তব্যরত যেকোনো পুলিশ কর্মকর্তা এই মামলা করতে পারেন। রাস্তায় তাৎক্ষণিক মামলার ক্ষেত্রে মামলা প্রদানকারী কর্মকর্তা যানবাহনের একটি ডকুমেন্ট জব্দ করেন। তবে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে মোটরযান আইন ছাড়াও নিয়মিত মামলা হতে পারে।

মামলা হলে করণীয়

যেকোনো আইন ভাঙার জন্য মামলা হতে পারে। ডকুমন্টারি বা অন্য কোনো কারণে মোটরযান আইনে মামলা হলে সেটা বিশেষ উদ্বেগজনক কিছু নয়।

ঢাকা শহরে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের চারটি জোন বা এলাকা (পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণ) আছে। একজন ডেপুটি কমিশনার (ডিসি, ট্রাফিক) প্রতিটি জোনের দায়িত্বে আছেন। কাজেই যেকোনো মামলার ক্ষেত্রে আগে বিবেচনা করতে হবে সেটি কোনো এলাকার আওতাভুক্ত। কোন ট্রাফিক বিভাগের অধীনে মামলা হয়েছে, সেটা জরিমানার সময় যে টিকেট দেওয়া হয় তার পেছনে লেখা থাকে।

সংশ্লিষ্ট জোনের ডেপুটি কমিশনারের দপ্তরে গিয়ে কিছু দাপ্তরিক কাজ সম্পাদনের মাধ্যমে খুব সহজেই মামলা নিষ্পত্তি করা যায়। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্টভাবে জরিমানা প্রদান করতে হবে। বিচারক অথবা ডিসি ট্রাফিক জরিমানার অঙ্ক নির্ধারণ করেন। জরিমানা নির্ধারণকারী পূর্ণ জরিমানার চার ভাগের এক ভাগ পর্যন্ত জরিমানা করতে পারেন, এমনকি মওকুফও করতে পারেন। জরিমানা প্রদানের পরপরই জব্দ হওয়া ডকুমেন্ট বুঝে নেওয়া দরকার।

নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি না করা হলে ওয়ারেন্ট ইস্যুর জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা পাঠানো হয়। আদালত থেকে ওয়ারেন্ট ইস্যুর পর পুলিশ কর্মকর্তারা রাস্তায় সংশ্লিষ্ট গাড়িটি আটক করে এবং আদালতে জরিমানার টাকা দিলে আদালত গাড়িটি ছেড়ে দেওয়ার আদেশ দিতে পারেন। অনেক সময় অভিযুক্ত চালক আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে পুলিশের মামলার বিষয়ে চ্যালেঞ্জ করা যায়।

লেখক : আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট।
ট্যাক্স আইনজীবী
চেম্বার-সফুরা কমপ্লেক্স, ২৬ কোর্ট হাউজস্ট্রীট, রুম নং-ই ৯, ৫ম তলা, কোতায়ালী,ঢাকা।
মোবাইল-০১৭৫৫২৩৫৩০৬

09/04/2023

মেঘালয় ভ্রমন পার্ট -২

এত সুন্দর ঝর্ণা.... আগে দেখিনি

07/10/2022

আইন সংক্রান্ত একটি পেইজ

আইনজীবী তালিকাভুক্তির লিখিত পরীক্ষা ২৬ সেপ্টেম্বর 27/07/2020

আইনজীবী তালিকাভুক্তির লিখিত পরীক্ষা ২৬ সেপ্টেম্বর আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য লিখিত পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। সংস্থাটির ওয়েবসাইট.....

How Baby walking In Walker 22/06/2019

How Baby walking In Walker

How Baby walking In Walker Baby

Photos 03/08/2014
27/07/2014

We provide All type of Court Marriage, ‍Special Marriage act,Divorce, Separation.

Want your business to be the top-listed Travel Agency in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Website

Address

Dhaka