Islamic Library BD
বাংলা সকল বইয়ের Unicode আকারে প্রকাশ করা হ?
আসসালামু আলাইকুম।
৫৮৭ টি ইসলামিক ও জিহাদি pdf বইয়ের এক বিশাল সমারোহ...।
লিঙ্কঃ
https://archive.org/details/azharmea-www.eelm.weebly.com-skype-id-azharmea
ডাউনলোড লিঙ্কঃ
(ফ্রি)
https://archive.org/compress/azharmea-www.eelm.weebly.com-skype-id-azharmea
বসে পানাহার করা সুন্নাত এবং তা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র অভ্যাস ছিল। কোনো ওজর ছাড়া দাঁড়িয়ে পানাহার করা মাকরূহ। কেননা হাদীস শরীফে দাঁড়িয়ে পানাহার করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে।
আনাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে পান করতে নিষেধ করেছেন। (বর্ণনাকারী) কাতাদা বলেন, আমরা আনাস রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম তাহলে দাঁড়িয়ে খাওয়া কেমন? তিনি বললেন, এটা তো আরো মন্দ কাজ। (মুসলিমঃ হাদীস : ২০২৪)
অপর একটি বর্ণনায় আবু হুরায়রা রা. বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে দাঁড়িয়ে পান করতে দেখে বললেন, বমি করে ফেলে দাও। সে বলল, কেন? তিনি বললেন, তুমি কি পছন্দ কর যে তোমার সাথে বিড়াল পান করবে? সে বলল, না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এর চেয়েও মন্দ কেউ? অর্থাৎ শয়তান তোমার সাথে পান করেছে। (শরহু মুশকিলুল আছার, ২১০২; ফাতহুল বারী ১০/৮৫)
তাই হাদীসের নির্দেশনা মোতাবেক স্বাভাবিক অবস্থায় বসেই পানাহার করতে হবে। অবশ্য বিশেষ পরিস্থিতিতে যেখানে বসে পানাহারের কোনো ব্যবস্থা নেই কিংবা বসে খাওয়া বা পান করতে সমস্যা সেক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে পানাহার করা যাবে। কেননা প্রয়োজনবশত দাঁড়িয়ে পান করার কথাও হাদীসে আছে।
(মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৬৬২৭, ২৭৪৪৮; ফাতহুল বারী, ১০/৮৬)
পানাহারের সময় পালনীয় কিছু সুন্নাতঃ
১. ডান হাতে পানাহার করা এবং 'বিসমিল্লাহ' বলে শুরু করা। (তিরমিযীঃ ১৮৫৭)
২. পৃথক পৃথক খাওয়ার চেয়ে একত্রে মিলে খাওয়া । -(ইবনে মাজাহঃ ৩২৮৬)
৩. খাওয়ার সময় কোন খাদ্যকণা নিচে পড়লে তা (পরিষ্কার করে) খেতে সংকোচবোধ না করা । -(তিরমিযীঃ ১৮০২)
৪. মালিক ও কর্মচারী একসাথে খাওয়া । -(ইবনে মাজাহঃ ৩২৮৯)
৫. খাবার শেষে হাতের আঙ্গুল ও খাবার প্লেট চেটে খাওয়া । -(মুসলিমঃ ৫৩০০)
৬. যেকোনো পানীয় অল্প অল্প করে তিন ঢোকে পান করা । -(মুসলিমঃ ৫২৮৭)
৭. দুধ পান করে কুলি করা । -(সহীহাঃ ১৩৬১)
৮. পেয়ালার মধ্যখান থেকে খাবার শুরু না করা । -(সহীহাঃ ১৫৮৭)
৯. পানাহার শেষে 'আলহামদুলিল্লাহ' বলা । -(তিরমিযীঃ ১৮১৬)
১০. সম্মিলিতভাবে পানাহারের সময় পরিবেশনকারী ডান দিক থেকে পরিবেশন করা । -(মুসলিমঃ ৫২৯১)
১১. রাত্রে পানাহারের পর 'বিসমিল্লাহ' বলে খাবার ঢেকে রাখা । -(বুখারীঃ ৫৬২৩)
১২. বাম হাতে পানাহার না করা । -(মুসলিমঃ ৫২৬৭)
১৩. বিনা অজুহাতে দাঁড়িয়ে পানাহার না করা । -(মুসলিমঃ ৫২৬৭)
১৪. সোনা-রূপার পাত্রে পানাহার না করা । -(আবু দাউদঃ ৩৭২৩)
১৫. পানীয় বস্তুতে ফুঁক না দেওয়া । -(মুসলিমঃ ৫২৮৫)
১৬. ভাঙ্গা পাত্রে পানাহার না করা । -(আবু দাউদঃ ৩৭২২)
১৭. বিনা দাওয়াতে কোন অনুষ্ঠানে আহার না করা । -(তিরমিযীঃ ১০৯৯)
আল্লাহ আযযা ওয়া জাল আমাদেরকে আমালের তাওফিক দান করুন।
-Sabet Bin Mukter
#মুরতাদ_হত্যা_দ্বিতীয়_পর্ব
ইমামের অনুমতি, ইস্তেতাব ও তিনদিন অবকাশের বিধান
গত মজলিশে আমরা আলোচনা করে ছিলাম- মুরতাদ হত্যা হুদূদের অন্তর্ভুক্ত কি না। সঠিক মত কোনটি। আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় হচ্ছে- ইমামের অনুমতি, ইস্তেতাব বা ইসলাম পেশ করে তাওবা করতে আহ্বান করা ও তিনদিন অবকাশ দেবার বিধান”।
ইমামের অমুমতি ছাড়া হত্যা কি হারাম?
এ ব্যাপারে কোন দ্বিমত নেই, অন্যান্য বিধান বাস্তবায়ন করা যেমন মুসলিমদের খলীফা অথবা সুলতানের দায়িত্ব। একই ভাবে মুরতাদদের বিধান বাস্তবায়ন করাও তারই দায়িত্ব। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কেউ যদি তাদের অনুমতি নেয়া ছাড়াই হত্যা করে তা কি নাজায়েজ বা হারাম হবে?
ফিকহে হানাফীর নির্ভরযোগ্য প্রায় সব কিতাবে এই মাসআলা উল্লেখ করা হয়েছে ---
فإن قتله قاتل قبل عرض الإسلام عليه كره ولا شيء على القاتل ومعنى الكراهية ههنا ترك المستحب وانتفاء الضمان لأن الكفر مبيح للقتل والعرض بعد بلوغ الدعوة غير واجب
মুরতাদের সামনে ইসলাম পেশ করার পূর্বেই যে কোন ব্যক্তি যদি মুরতাদকে হত্যা করে ফেলে তাহলে তা মাকরূহ বা অপছন্দনীয় হবে। হত্যাকারীর উপর কোন কিছু আবশ্যক হবে না। আর এখানে মাকরূহ হবার অর্থ হচ্ছে- মুস্তাহাব ছেঁড়ে দেয়া এবং হত্যাকারীর উপর রক্তপণ আবশ্যক না হওয়া। কেননা কুফরেই হত্যার বৈধতা প্রদান করে। আর দাওয়াত পৌঁছার পর পুনরায় ইসলাম পেশ ওয়াজিব নয়। (দেখুনঃ হেদায়া, অধ্যায়ঃ আহকামুল মুরাতাদ্দীন। আল-হিন্দিয়্যা, অধ্যায়ঃ কিতাবুস সিয়ার, বাবু আহকামিল মুরাতাদ্দীন। ই’লাউস সুনান। ফাতহুল কাদীর।আল-বাহরুর রায়েক)
বিশিষ্ট ফকীহ আল্লামা কাজী খান বলেন –
وَرِدَّةُ الرَّجُلِ تُبْطِلُ عِصْمَةَ نَفْسِهِ حَتَّى لَوْ قَتَلَهُ الْقَاتِلُ بِغَيْرِ أَمْرِ الْقَاضِي عَمْدًا أَوْ خَطَأً أَوْ بِغَيْرِ أَمْرِ السُّلْطَانِ أَوَأَتْلَفَ عُضْوًا مِنْ أَعْضَائِهِ لَا شَيْءَ عَلَيْه
কোন ব্যক্তির রিদ্দাহ তার জানের নিরাপত্তার অবসান ঘটায়। এমনকি সুলতান বা কাজীর অনুমতি ছাড়াই কোন ব্যক্তি স্বেচ্ছায় বা ভুল করে তাকে হত্যা করে ফেলে অথবা তার কোন অঙ্গহানি করে তার উপর কোন কিছুই আবশ্যক হবে না। (তাবই-নুল হাকায়েক, অধ্যায়ঃ কিতাবুস সিয়ার, বাবুল মুরাতাদ্দীন)
এটাই মুফতা বি-হী মত, এই মতের উপরেই হানাফি মাযহাবের ফাতওয়া।
হাম্বালি মাযহাবের ফকীহ শায়েখ মানসূর বাহুতি রহঃ বলেনঃ-
وإن قتله أي المرتد (غيره) أي غير الامام ونائبه بلا إذنه أساء وعزر لافتياته على الامام أو نائبه ولم يضمن القاتل المرتد لانه محل غير معصوم سواء قتله قبل الاستتابة أو بعدها لانه مهدر الدم في الجملة وردته مبيحة لدمه وهي موجودة قبل الاستتابة كما هي موجودة بعدها إلا أن يلحق المرتد بدار حرب فلكل أحد قتله بلا استتابة وأخذ ما معه من مال لانه صار حربيا
ইমামা অথবা ইমামের নায়েব ছাড়া অন্য কেউ যদি অমুমতি ছাড়াই মুরতাদকে হত্যা করে তা মন্দ কাজ হবে, ইমাম বা তার নায়েবের অবাধ্যতার কারণে তাকে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু মুরতাদের হত্যাকারী থেকে রক্তপণ নেয়া হবে না। কেননা মুরতাদের রক্ত সংরক্ষিত নয়। চাই তাকে তাওবার সুযোগ দেবার আগে হত্যা করুক অথবা পরে। কেননা সর্বাবস্থায় তার রক্তের কোন মূল্য নেই। তার রিদ্দা তার রক্তের বৈধতা দিয়েছে। আর এই বৈধতা যেভাবে ইস্তেতাবের (তাওবার সুযোগ) পরে উপস্থিত আগেও উপস্থিত। আর যদি মুরতাদ দারুল হরবে প্রবেশ করে, ইস্তেতাব ছাড়াই যে কারো জন্য অনুমোদিত, তাকে হত্যা করে ফেলা এবং তার কাছে যে মাল আছে সব নিয়ে নেয়া কেননা এখন সে হারবিতে পরিণত হয়েছে।
হত্যার পূর্বে ইসলাম গ্রহণের আহ্বান ও তিন দিন অবকাশের বিধান
ফিকহে হানাফী অনুস্বারে, মুরতাদকে হত্যার পূর্বে দাওয়াত দেয়া ও ইসলাম গ্রহণের আহ্বান করা মুস্তাহাব। ওয়াজিব নয়। কেউ না করলে কোন গোনাহ হবে না। আর এই দাওয়াতের উদ্দেশ্য হচ্ছে, সে যদি কোন সংশয়ের কারণে ইসলাম থেকে সরে যায় তা দূর করা। এর পর যদি সে ইসলাম গ্রহণ করে তাহলে তো ভাল কথা আর না করলে তাকে হত্যা করতে হবে।
ফিকহে হানাফীর প্রসিদ্ধ অধিকাংশ কিতাবে মাসআলাটি বর্ণীত হয়েছে ----
وَإِذَا ارْتَدَّ الْمُسْلِمُ عَنْ الْإِسْلَامِ وَالْعِيَاذُ بِاَللَّهِ عُرِضَ عَلَيْهِ الْإِسْلَامُ فَإِنْ كَانَتْ لَهُ شُبْهَةٌ كُشِفَتْ لَهُ لِأَنَّ الْعَرْضَ عَلَى مَا قَالُوا غَيْرُ وَاجِبٍ لِأَنَّ الدَّعْوَةَ قَدْ بَلَغَتْهُ كَذَا فِي الْهِدَايَةِ
যখন কোন মুসলিম মুরতাদ হয়ে যাবে (আল্লাহ্র পানাহ) তার সামনে ইসলাম পেশ করা হবে, যদি তার কোন সংশয় থাকে দূর করা হবে, আর এই ইসলাম পেশ করতে যে বলা হয়েছে, তা ওয়াজিব নয় কেননা তার কাছে দাওয়াত পৌঁছে গেছে। এমনটি হিদায়ার মধ্যেও রয়েছে। (আল-জাউহারাতুন নাইয়্যেরাহ, অধ্যায়ঃ কিতাবুস সিয়ার)
একই মাসআলা ফিকহে হানাফীর অন্যান্য কিতাবে দেখুনঃ হিদায়া, অধ্যায়ঃ কিতাবুস সিয়ার, বাবু আহকামিল মুরতাদ্দীন। ফাতহুল কাদীর, অধ্যায়ঃ কিতাবুস সিয়ার, বাবু আহকামিল মুরতাদ্দীন। শরহুল বিকায়া, অধ্যায়ঃ আহকামুল মুরতাদ।
ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম আবু ইয়ূসুফ রহঃ এর মতে মুরতাদকে তাওবার জন্য তিনদিন অবকাশ দেয়া মুস্তাহাব। আর ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ এর মতে যদি সে অবকাশ চায় তাহলে অবকাশ দিতে হবে অন্যথায় সাথে সাথেই তাকে হত্যা করতে হবে।
শামসুল আয়িম্মাহ ইমাম সারাখসী রহঃ বলেনঃ
عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ وَأَبِي يُوسُفَ رَحِمَهُمَا اللَّهُ تَعَالَى أَنَّهُ يُسْتَحَبُّ لِلْإِمَامِ أَنْ يُؤَجِّلَهُ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ طَلَبَ ذَلِكَ أَوْ لَمْ يَطْلُبْ
ইমাম আবু হানীফা ও ইমাম আবূ ইয়ূসুফ রহঃ থেকে বর্ণীত আছে, ইমামের জন্য মুস্তাহাব হচ্ছে মুরতাদকে তিনদিন অবকাশ দেয়া, সে অবকাশ চাক বা না চাক। (আল-মাবসূত, অধ্যায়ঃ কিতাবুস সিয়ার, বাবুল মুরতাদ্দীন)
ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ বলেন-
وإذا ارتد المسلم عن الإسلام عرض عليه الإسلام، فإن أسلم وإلا قتل مكانه، إلا أن يطلب أن يؤجله، فإن طلب ذلك أجّل ثلاثة أيام
যখন মুসলিম ইসলাম ছেঁড়ে মুরতাদ হবে তার সামনে ইসলাম পেশ করা হবে যদি ইসলাম গ্রহণ করে তাহলে তো ঠিক আছে অন্যথায় তাকে সেখানেই হত্যা করা হবে তবে যদি সে অবকাশ চায় তাকে তিন দিনের অবকাশ দেয়া হবে। (আস-সিয়ারুল কাবীর)
পূর্বের আলোচনার সারমর্ম
• মুরতাদ হত্যা হুদূদের অন্তর্ভুক্ত নয়।
• সাধারণ মুরতাদকে ইমামের অনুমতি ছাড়া হত্যা করা মাকরূহ।
• যে কেউ হত্যা করে হত্যাকারীর উপর কোন রক্তপণ আসবে না।
• হত্যার পূর্বে ইস্তেতাব (তওবা করতে বলা) মুস্তাহাব।
• তিনদিন অবকাশ দেয়া মুস্তাহাব।
বিঃ দ্রঃ আমাদের উপরোক্ত সকল আলোচনা হচ্ছে الردة المجردة (আর-রিদ্দাতুল মুজাররাদাহ) বা স্বাভাবিক রিদ্দার ব্যাপারে। আমরা ইনশাআল্লাহ্ সামনে الردة المغلظة (আর-রিদ্দাতুল মুগাল্লাজাহ) নিয়ে আলোচনা করব। আর-রিদ্দাতুল মুগাল্লাজাহ হচ্ছে, মুরতাদ শুধু মাত্র দ্বীন থেকে বের হবার অপরাধেই অপরাধী থাকেনা বরং সাথে আরও কোন গুরুত্বর অপরাধে লিপ্ত হয়। যেমনঃ আল্লাহ্ তায়ালা অথবা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের শানে খারাপ বাক্য উচ্চারণ। দ্বীন নিয়ে ঠাট্টা। মুসলিমদেরকে হত্যা করা। দারুল হারবের কাফেরদের সাথে মিলিত হওয়া।
-Ahmad Nabil
মুরতাদ হত্যা কি হুদূদের অন্তর্ভুক্ত?!!!
২০১০ থেকে ২০১৩। সাইবার জগতে চলছিল কুলাঙ্গার নাস্তিকদের অশ্লীল লাফালাফি। তাদের বিষে মাখা জঘন্য তীর একের পর এক ছুটছিল আমাদের প্রাণের স্পন্দনের ইজ্জতের দিকে। আমাদের উম্মাহাতের (উম্মাহাতুল মুমিনিন) সম্মানে বিঁধতে ছিল তাদের ধারালো খঞ্জর। এত অশ্লীল ভাষায়, এত জঘন্য শব্দে আক্রমণ করছিল যা ইতিহাসকে বাক-রুদ্ধ করেছিল।
জাগ্রত মুমিনদের হৃদয়ে রক্ত ক্ষরণ হচ্ছিল। চোখগুলো অশ্রু বর্ষণ করছিল। তারা ব্যথায় ছটফট করছিল। তখন আল্লাহ্ রাব্বুল ইজ্জাত এক দল মুমিনকে নির্বাচন করলেন। যারা মুহাম্মাদ বিন মাসলামাহ ও আবদুল্লাহ বিন আতিক রাদিঃ এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন। যাদের হাত দিয়ে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা শাতিমদেরকে শাস্তি প্রদান করেন। মুমিনদের হৃদয়গুলোকে প্রশান্তি দান করেন। তাদের বিষদাঁত অনেকটা ভেঙ্গে যায়। তারা সামনে ২টি পথ দেখতে থাকে “হয়ত দেশ ছেঁড়ে পলায়ান নয়ত চাপাতির কোপে মরণ”।
কিন্তু আফসোস! শত আফসোস!, শাসকের তরবারির ভয়ে বা প্রবৃত্তের তাড়নায় অথবা দুনিয়াবি কিছু আশায়, এই বরকতময় আমালের বিরুদ্ধে এক দল আলেম অবস্থান নিতে থাকে। সংশয় ছড়াতে থাকে। নাউজুবিল্লাহ! এই মহান ইবাদাতকে সন্ত্রাস পর্যন্ত বলতে তাদের বুক একটুও কাঁপে না। মুখে একটুও বাঁধে না। কষ্টটা অনেক বেড়ে যায় যখন ঐ ব্যক্তিদের মাঝে এমন আলেমদেরকেও পাওয়া যায়, যাদেরকে উম্মত মুক্তাদা মনে করেন।
তারা নিজেদের মতকে প্রমাণ করার জন্য কিছু খোঁড়া দলীল-যুক্তি পেশ করতে থাকে। তাদের দলীল বা যুক্তি হচ্ছে এই ---
A. মুরতাদ হত্যা হুদুদের অন্তর্ভুক্ত আর হুদুদের জন্য রয়েছে অনেক শর্ত।
B. মুরতাদ হত্যার দায়িত্ব শাসকের। শাসকের অনুমতি ওয়াজিব। অনুমতি ছাড়া হত্যা হারাম।
C. তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিতে হবে। তাদেরকে সুযোগ দিতে হবে। এর আগে হত্যা করা জায়েজ হবে না।
আমরা ইনশাআল্লাহ্ ধাপে ধাপে তাদের যুক্তিগুলো খণ্ডন করব। আল্লাহ্ তায়ালা যদি তাউফিক দান করেন।
আমাদের আজকের আলোচনা- ---
মুরতাদ হত্যা কি হুদূদের অন্তর্ভুক্ত?!!!
প্রচলিত একটা ভুল হচ্ছে, মুরতাদ হত্যাকে হুদূদের অন্তর্ভুক্ত করা। আর হুদূদের সকল হুকুম তার মাঝে প্রয়োগ করা। অথচ, না তা হুদূদের মাঝে অন্তর্ভুক্ত। আর না তার হুকুম আর হুদূদের হুকুম এক। বরং উভয়ের হুকুমের অনেক ক্ষেত্রে পার্থক্য বিদ্যমান।
দলীল-১
ফিকহে হানাফীর বিশিষ্ট ফকীহ আল্লাম কাসানী রহঃ হুদুদের সংখ্যার ব্যাপারে বলেনঃ
فنقول الحدود خمسة انواع حد السرقة وحد الزنا وحد
الشرب وحد السكر وحد القذف-
আমাদের মত হচ্ছেঃ- হুদূদ পাঁচ প্রকারঃ-
১। চুরির হদ।
২। জেনার হদ।
৩। মদ পানের হদ।
৪। মাতালের হদ।
৫। কযফ এর হদ।
(কযফ-কারো ব্যাপারে জেনার অভিযোগ তোলা, কিন্তু তা প্রমাণ করতে না পারা)
(বাদায়েউস সানায়ে’, অধ্যায়ঃ কিতাবুল হুদূদ)
দলীল-২
হানাফী মাজহাবের প্রসিদ্ধ ফকীহ আল্লাম ইবনে নুজাম রহঃ বলেন---
فكان حكمها الاصلي الانزجار عما يتضرر به العباد وصيانة دار الاسلام عن الفساد، ففي حد الزنا صيانة الانساب، وفي حد السرقة صيانة الاموال، وفي حد الشرب صيانة العقول، وفي حد القذف صيانة الاعراض فالحدود أربعة، وما في البدائع من أنها خمسة وجعل الخامس حد السكر فلا حاجة إليه لان حد السكر هو حد الشرب كمية وكيفية وإن اختلف السبب
হূদুদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, বান্দাদেরকে তাদের ক্ষতিকারক বিষয়গুলো থেকে বিরত রাখা। দারুল ইসলামকে ফাসাদ থেকে রক্ষা করা। জেনার হদের মধ্যে নিহিত আছে, বংশের সংরক্ষণ। চুরির হদের মধ্যে রয়েছে মালের সংরক্ষণ। মদ পানের হদের মধ্যে আছে আকল-বিবেকের সংরক্ষণ। আর কযফের হদের মধ্যে ইজ্জতের সংরক্ষণ। সুতারাং হুদুদ চারটি। আর বাদায়েউস সানায়ে এর মধ্যে আছে যে, হুদূদ পাঁচটি, পাঁচ নাম্বারটি হচ্ছে মাতালের হদ। এর কোন প্রয়োজন নেই। কারণ (শাস্তির) পর্যায় ও অবস্থার দিক থেকে মদপানের যে হদ, মাতালের একই হদ। যদিও বা এর কারণ ভিন্ন হয়। (আল-বাহরুর রায়েক, অধ্যায়ঃ কিতাবুল হুদূদ)
দলীল-৩
হাম্বালি মাজহাবের বিশিষ্ট ফকীহ শায়েখ মানসূর আল-বাহুতি রহঃ বলেন ---
----قتل المرتد لكفره لا حدا ولايجوز أخذ فداء عنه أي عن المرتد بل يقتل بعد الاستتابة لما تقدم من قوله (ص): من بدل دينه فاقتلوه -كشاف القناع-
--- মুরতাদ কে হত্যা করা হবে তার কুফরের কারণে। হদ হিসাবে নয়। মুরতাদ থেকে ফিদিয়া নেয়াও জায়েজ নেই। বরং ইস্তেতাবের (তওবার সুযোগ দেয়া) পর তাকে হত্যা করা হবে যার কারণ পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম বলেছেন, যে তার দ্বীনকে পরিবর্তন করে তোমরা তাকে হত্যা কর। (কাশশাফুল কেনা’য়, অধ্যায়ঃ মান ইরতাদ্দা আন দীনিল ইসলাম)
দলীল-৪
সমকালীন আরব সালাফী আলেমগণও একই মত ব্যক্ত করেছেন, মুরতাদকে হত্যা হুদূদের অন্তর্ভুক্ত নয়।
শায়েখ সলেহ আল-উসাইমীন রহঃ বলেন –
الحد إذا بلغ الإمام لا يستتاب صاحبه بل يقتل بكل حال . أما الكفر، فإنه يستتاب صاحبه وهذا هو الفرق بين الحد، وبين عقوبة الكفر وبهذا نعرف خطأ من أدخل حكم المرتد في الحدود وذكروا من الحدود قتل الردة فقتل المرتد ليس من الحدود- -شرح كتاب التوحيد-
হদের ব্যাপার যখন ইমাম পর্যন্ত পৌঁছবে তখন অপরাধী থেকে আর তাওবা গ্রহণ করা হবেনা বরং সর্বাবস্থায় তাকে হত্যা করা হবে। আর কুফুরের ক্ষেত্রে তাওবা চাওয়া হবে। হদ ও কুফরের শাস্তির মাঝে এটাই পার্থক্য। এর থেকে ঐ ব্যক্তিদের ভুল বুঝে আসে যারা মুরতাদের হুকুমকে হুদুদের অন্তর্ভুক্ত করে থাকে, এবং রিদ্দার কারণে হত্যাকে হুদূদের মধ্য থেকে উল্লেখ করে। অথচ মুরতাদকে হত্যা হুদুদের অন্তর্ভুক্ত নয়। (শরহু কিতাবিত তাউহীদ)
উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমাদের সামনে স্পষ্ট হল, মুরতাদকে হত্যা হুদূদের অন্তর্ভুক্ত নয়। এটাই উম্মতের গ্রহণযোগ্য ফুকাহাদের মত। আজ এই পর্যন্ত। আমরা ইনশাআল্লাহ্ সামনে বাকি ২টি সংশয় নিয়ে আলোচনা করব।
-Ahmad Nabil
হযরত আবদুল্লাহ ইবনুূু মাসঊদ রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: সাবধান! (শয়তান) যেন তোমাদের অন্তরে দীর্ঘায়ুর আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি করতে না পারে, অন্যথায় তা তোমাদের অন্তরাত্নাকে শক্ত করে দিবে। সাবধান! নিশ্চয় যা কিছু আসার তা নিকটবর্তী এবং যা দূরবর্তী তা আসার নয়। জেনে রাখো! অবশ্যই সেই ব্যাক্তি দুর্ভাগা যে তার মায়ের গর্ভ থেকেই দুর্ভাগা। খোশনসীব সেই ব্যাক্তি যে অপরকে দেখে নাসীহাত গ্রহণ করে।
# বুখারী ৬০৯৪, মুসলিম ২৬০৬, ২৬০৭/১-৩;
তিরমিযী ১৯৭১,
আবূ দাঊদ ৪৯৮৯,
আহমাদ ৩৬৩১,
এক মহিলা সাহাবীর পর্দা পালন।
পর্দার হুকুম নাযিল হয়েছিল রাতে। রাতে এই হুকুম সম্পর্কে অবহিত হওয়া সবার পক্ষে সম্ভব হয় নি।
যে সকল নারীরা পর্দার হুকুম সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন, তারা সকালে মসজিদে পর্দা করে হাজির হলেন।
একজন মহিলা এসংবাদ জানতে পারেনি। এ মহিলা মসজিদে উপস্থিত হয়ে অন্যান্য মহিলাদের দেখে, আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন কি ব্যাপার? তোমাদের কি হল?
মহিলারা বললেন, রাতে পর্দার হুকুম নাযিল হয়েছে।
সেই মহিলা আফসোস করে বললেন, আহা! আমি তো এই সংবাদ জানতে পারিনি। সাথে সাথে একটি বাচ্চাকে বাড়ী পাঠিয়ে চাদর আনালেন।
মহিলা বাড়ী ফিরে যাওয়ার পর, তার স্বামী বললেন, এভাবে তাড়াহুড়া করার কি দরকার ছিলো?
মহিলা বললেন.. আল্লাহর হুকুম শোনার পর তার নাফারমানির সাথে একটি কদম বাড়াতেও আমার সাহস হলো না। তাই বাচ্চাটিকে পাঠিয়ে দিলাম।
সুবহানাল্লাহ্ শুনার সাথে সাথেই পর্দা করা শুরু করে দিয়েছেন। আর আমার বাংলাদেশে জন্মের পর থেকেই শুনতে থাকি কিন্তু আজ পর্যন্ত পর্দা করলাম না...!
উল্লেখ্যঃ ইসলামের প্রথম যুগে নারীদের জন্য মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়া হত, পরবর্তিতে ফেৎনা থেকে বাচঁতে হযরত আয়শা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) মসজিদে যেতে নিষেধ করেছেন... আর এখনকার অবস্তা তো আরো মারাত্মক তাই মসজিদ নয়, নামাজে জন্য ঘর'ই আমাদের উত্তম যায়গা।
07/07/2016
♥♥ ঈদ মোবারক♥♥
সকলকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা।
08/06/2016
In English she is known as as a 'Housewife'.
In Arabic she is known as 'Rabbaitul Bait' or 'The Queen of the house'.
See the huge difference?
The Arabic language is full of depth and meaning, every woman is a Queen in her own home.
- M***i Ismail Menk
© Mohammad Jobaer Ahmad
02/06/2016
বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের কি-পয়েন্টে এরা কারা?
আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে যে, ৯২ভাগ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসংখ্যা অধ্যুষিত একটি দেশের জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ মুসলমানদের হাতে নেই।
নিচের তালিকাটি কি আসলেই বাংলাদেশের নাকি অন্য কোন দেশের!
১. প্রাথমিক শিক্ষা অধিপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) শ্যামল কান্তি ঘোষ।
২. পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সচিব বজ্র গোপাল ভৌমিক।
৩. কারিগরি শিক্ষা অধিপ্তরের মহাপরিচালক ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জনাব অশোক কুমার বিশ্বাস।
৪. সৃজনশীল পদ্ধতি বাস্তবায়নকারী মাধ্যমিক শিক্ষা খাত উন্নয়ন কর্মসূচির (সেসিপ) যুগ্ম পরিচালক রতন কুমার রায়।
৫.সৃজনশীল পদ্ধতি বাস্তবায়নকারী মাধ্যমিক শিক্ষা খাত উন্নয়ন কর্মসূচির (সেসিপ) বিশেষজ্ঞ ড. উত্তম কুমার দাশ।
৬. ঢাকা বোর্ডের উপ-কলেজ পরিদর্শক অদ্বৈত কুমার রায়।
৭. চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সচিব ড. পীযুষ কান্তি দন্ত।
৮. শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুবোধ চন্দ্র ঢালী।
৯. বাংলাদেশের পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়্যারম্যান নারায়ন চন্দ্র পাল।
১০. ঢাকা বোর্ডের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শ্রীকান্ত কুমার চন্দ্র।
১১. শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব অজিত কুমার ঘোষ।
১২. শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব পতিত পাবন দেবনাথ।
১৩. শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব অসীম কুমার কর্মকার।
১৪. শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-প্রধান স্বপন কুমার ঘোষ।
১৫. শিক্ষামন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব শ্রী বনমালী ভৌমিক।
১৬. শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. অরুণা বিশ্বাস।
১৭. শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব স্বপন কুমার সরকার।
৯২% মুসলমানের এই দেশের সবচেয়ে গুরত্বপূর্ন মন্ত্রনালয়, শিক্ষামন্ত্রনালয়ের গদিতে যদি এরাই বসে তাহলে পুরো দেশে দাংগা আর অরাজগতা সৃষ্টি হতে খুব অল্প সময় বাকি। বিষয়টা এখন পুরোপুরি পরিষ্কার।
◆ কারণ ইতিমধ্যে তারা...
→ ২য় শ্রেনীর বই থেকে ‘সবাই মিলে করি কাজ’ শিরোনামে মহানবি সাঃ-এর সংগক্ষিপ্ত জীবনি বাদ দিয়েছে...।
→ ৩য় শ্রেনীর বই থেকে খলিফা হযরত আবু বকর শিরোনামে একটি সংক্ষিপ্ত জীবনি বাদ দিয়েছে...।
→ ৪র্থ শ্রেনীর বই থেকে খলিফা হযরত ওমর রাঃ এর সংক্ষিপ্ত জীবনি বাদ দিয়েছে…।
→ ৫ম শ্রেনীর বই থেকে বিদায় হজ্জ নামক শেষ নবীর সংক্ষিপ্ত জীবনি বাদ দেয়ার মত দুঃসাহস দেখিয়েছে…।
:
→ ৫ম শ্রেনীর বইয়ে এদেশের ইসলাম-বিদ্বেষী একজন কুখ্যাত নাস্তিক হুমায়ুন আজাদ লিখিত ‘বই’ নামক কবিতা অন্তর্ভূক্ত করেছে…।
যা মূলত মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কোরআন বিরুধী কবিতা।
→ ৬ষ্ঠ শ্রেনীর বইয়ে সত্যেন সেনের ‘লাল গরুটা’ নামক একটি ছোটগল্প। যা দিয়ে মুসলিম শিক্ষার্থীদের শেখানো হচ্ছে গরু হচ্ছে- মায়ের মত, তাই গরু জবাই করা ঠিক নয়; অর্থাৎ হিন্দুত্ববাদ।
→৭ম শ্রেনীর বইয়ে শরৎচন্দ্র চট্রপাধ্যায়ের ‘লালু’ নামক গল্প। যাতে শেখানো হচ্ছে হিন্দুদের কালিপুজাঁ ও পাঠাবলির কাহিনি।
→৮ম শ্রেনীর বইয়ে হিন্দুদের ধর্ম-গ্রন্থ ’রামায়ন’ এর সংক্ষিপ্ত রুপ অন্তর্ভূক্ত করেছে…।
এরকম বলে শেষ করা যাবে না।
ණ পরিশেষে বলতে চাচ্ছি,
আপনার সন্তানদের জিম্মাদার আপনি নিজেই। সুতরাং, এখন থেকে এসকল ইসলাম বিরুধী অপতৎপরতার বিরুদ্ধে স্বচ্চার হোন। নয়ত, অদুর ভবিষ্যতে বড় অংকের মাশুল গুনতেই থাকবেন। কোন ফায়দার দেখা মিলবে না।
:
সবার্ধিক শেয়ার করে ঘুমন্ত জাতিকে জাগ্রত করে দিন....
12/05/2016
এই দ্বীন ইসলাম, এই তাওহীদ, এই ঈমান হঠাত করে একদিনে গড়ে উঠেনা। মন থেকে চাইতে হয়, চেষ্টা করতে হয়। স্রোতের বিপরীতে দাড়াতে হয়। পিতামাতার চোখ রাঙ্গানিকে তুচ্ছ জ্ঞান করে দাড়ি ছেড়ে দিতে হয়। জাহিল বন্ধুদের বহু আকাংখিত সংগ ছেড়ে সমাজে গুরাবা হতে হয়। অপমানিত হতে হয়। অনেক না পাওয়ার বেদনায় দগ্ধ হওয়া, অনেক দীর্ঘশ্বাস চেপে এগিয়ে যাওয়া। কিন্তু তা না করে দুনিয়ার কিছু সস্তা প্রাপ্তির জন্য তাওহীদের বাণীকে মাড়িয়ে যাওয়া, কাফেরদের কাছে দ্বীন বিকিয়ে দেওয়া এ জীবন ঐ ফড়িঙের মত, ঐ জোনাকি পোকার মত। এই দ্বীন পালন যেন উত্তপ্ত মরুভূমিতে একাকি পথ চলা। তৃষ্ণায় কাতর হয়ে ছুটে চলা, থমকে যাওয়া, মাটিতে গড়িয়ে পড়া, শীতল পানিতে তৃষ্ণা মিটানো, কিছুক্ষণ ঝিরিয়ে নেওয়া গাছের ছায়ায়। উস্ককুস্ক চুল, ধুলোমাখা পা, জরাজীর্ণ জামা... অবশেষে রেসের শেষ প্রান্তে পৌছা। যার পরের কদম থেকেই আল্লাহ আযওয়া যাল আমাদের দিয়েছেন অনন্ত সুখের প্রতিশ্রুতি।
"তাদের পালনকর্তার কাছে রয়েছে তাদের প্রতিদান চিরকাল বসবাসের জান্নাত, যার তলদেশে নির্ঝরিণী প্রবাহিত। তারা সেখানে থাকবে অনন্তকাল। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। এটা তার জন্যে, যে তার পালনকর্তাকে ভয় কর।" [সূরা বাইয়্যিনা : ৮]
আমি মনে প্রাণে চাই আল্লাহ আমাদের সেই জীবনের স্বপ্ন অন্তরে বুনে দিন যে জীবন আল্লাহর জন্য বাঁচে। যে জীবন ঘাস ফড়িঙ কিংবা জোনাকি পোকার মত বন্দি নয়। যে জীবন অনেকের ভিড়ে পরাজিত, অধঃপতিত মানসিকতার নয়। যে জীবন এক বিঘত বুকে বিশাল আকাশ ধারণ করে বাঁচে। যেদিন বুক এফোঁড় ওফোঁড় করে বেরিয়ে যাবে শত্রুর আঘাত, মাটিতে গড়িয়ে পড়বে প্রথম রক্তবিন্দু, আল্লাহ সুবাহানু ওয়া তায়ালা দেখিয়ে দেবেন জান্নাতে আমাদের ঘর, সেদিন......। সেদিন হয়ত আকাশের ওপারের ঐ জীবনের জন্য কিছু সঞ্চয় হল। আল্লাহ আমাদের কবুল করুন। আমাদের অক্ষমতা আর অবহেলাকে ক্ষমা করুন । আমাদের সময়ে বরকত দিন। তাঁর দ্বীনের সাথে আমাদের অন্তরটাকে বেঁধে নিন। আমীন ইয়া রব আমীন।
-ইউসুফ আহমেদ
নবীজীবনের একটি ঘটনা : নবীশিক্ষার একটি ঝলক
*************************************************
হযরত আমর ইবনে আবাসা রা. বলেন, জাহেলী যুগে আমি যখন মানুষকে মূর্তিপূজা করতে দেখতাম আমার কাছে মনে হত, নিশ্চয়ই এরা পথভ্রষ্ট। এদের এ সকল কাজ সম্পূর্ণ অসার। হঠাৎ একদিন শুনতে পেলাম, মক্কায় এক ব্যক্তির আবির্ভাব হয়েছে যিনি গায়েবের খবর বলেন। তখন আমি মক্কার উদ্দেশে বের হলাম। মক্কায় পৌঁছে জানলাম, তিনি গোপনে ইসলাম প্রচার করছেন আর কওম তাঁর প্রতি চরম ক্ষিপ্ত হয়ে আছে।
আমি চুপিচুপি তাঁকে খুঁজতে লাগলাম। তিনি মক্কায় ওকাজ নামক স্থানে ছিলেন। আমি সেখানে পৌঁছে তাঁকে সালাম দিলাম। এবং জিজ্ঞাসা করলাম,
‘আপনার পরিচয় কী?’
তিনি বললেন, ‘আমি আল্লাহর নবী।’
বললাম, ‘আল্লাহর নবী মানে কী?’
তিনি বললেন, ‘আল্লাহর বার্তাবাহক।’
বললাম, ‘কে আপনাকে পাঠিয়েছেন?’
বললেন, ‘আল্লাহ।’
আমি বললাম, ‘সত্যিই কি আপনাকে আল্লাহ পাঠিয়েছেন?’
তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ।’
বললাম, ‘(আল্লাহ) আপনাকে কী বার্তা দিয়ে পাঠিয়েছেন?’
তিনি বললেন, ‘আত্মীয়তা রক্ষা করা, মূর্তি (মূর্তি পূজা) ও সকল বাতিল ধর্ম বিলুপ্ত করা, রক্তপাত-হানাহানি বন্ধ করা, মানুষের (জানমাল) চলার পথের নিরাপত্তা বিধান করা, আল্লাহকে এক বলে বিশ্বাস করা ও তাঁর সাথে কাউকে শরীক না করা।’
আমি বললাম, ‘আপনার রব কত সুন্দর সুন্দর বিষয় দিয়ে আপনাকে পাঠিয়েছেন!’ আমি আপনাকে সাক্ষী রাখছি, আমি আপনার উপর ঈমান আনলাম এবং আপনাকে সত্য নবী বলে বিশ্বাস করলাম। আর কে কে আপনার এই দ্বীন গ্রহণ করেছে?’
বললেন, ‘একজন আযাদ ও একজন গোলাম (অর্থাৎ আবু বকর রা. ও বেলাল রা.)।’
আমি আরজ করলাম, ‘আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার সাথে থাকতে চাই এবং আপনার অনুসরণ করতে চাই।’
বললেন, ‘এখন তা সম্ভব নয়। দেখছ না, পরিস্থিতি কত প্রতিকূল? আমি গোপনে দাওয়াত দিচ্ছি আর আমার কওম চরম বিরোধিতা করছে। তুমি এখন পরিবারের কাছে ফিরে যাও। যখন শুনবে আমার বিজয় হয়েছে তখন আমার কাছে চলে এসো।’ একথা শুনে আমি আমার পরিবারের কাছে ফিরে এলাম।
আমর ইবনে আবাসা বলতেন, ‘তখন আমি ছিলাম ইসলামের (মুসলমানদের) চারভাগের একভাগ। অর্থাৎ চারজনের একজন।’
এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় হিজরত করলেন। আমি স্বদেশেই অবস্থান করছিলাম ও সব খবরাখবর রাখছিলাম। ইতিমধ্যে একদিন মদীনার একটি কাফেলা এল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘মক্কা থেকে যিনি মদীনায় গিয়েছেন তার খবর কী?’ তারা বলল, ‘মানুষ খুব দ্রুত তাঁর ধর্ম গ্রহণ করছে। তাঁর কওম তাকে হত্যা করতে চেয়েছিল, পারেনি।’
তখন আমি মদীনায় গেলাম ও রাসূলের সাথে সাক্ষাত করে বললাম, ‘আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আমাকে চিনতে পেরেছেন?’
তিনি বললেন, ‘মক্কায় আমার সাথে তোমার সাক্ষাত হয়েছিল।’
আমি বললাম, ‘জ্বি, হাঁ।’
তারপর আরজ করলাম, ‘আল্লাহর রাসূল! আমার অজানা বিষয়, যা আল্লাহ তাআলা আপনাকে শিখিয়েছেন তা থেকে আমাকে কিছু শিক্ষা দিন।
আমাকে নামায শেখান।’
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘ফজরের নামায আদায় করবে। তারপর সূর্য পূর্বাকাশে উঁচু হওয়া পর্যন্ত নামায পড়া থেকে বিরত থাকবে। কারণ সূর্য উদিত হয় শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝে। ঐ সময় কাফেররা সূর্যকে সিজদা করে।
‘যখন সূর্য উঁচু হয় তখন নামায পড়বে। কারণ নামায আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। এরপর যখন বর্শার ছায়া সংক্ষিপ্ত হয় (অর্থাৎ সূর্য মধ্য গগণে উঠে আসে) তখন নামায পড়া থেকে বিরত থাকবে। কারণ এ সময় জাহান্নাম উত্তপ্ত করা হয়।
এরপর যখন ছায়া দীর্ঘ হতে আরম্ভ করে তখন নামায পড়বে। মনে রাখবে, সকল নামায আল্লাহর দরবারে উপস্থাপন করা হয়।
আসরের নামাযের পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত নামায পড়া থেকে বিরত থাকবে। কারণ সূর্য অস্ত যায় শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝে। ঐ সময় কাফেররা সূর্যকে সিজদা করে।
আমি আরজ করলাম, ‘আল্লাহর রাসূল! আমাকে অযু শেখান।’
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘যখন তোমার সামনে অযুর পানি আসবে প্রথমে কুলি করবে। তারপর নাকে পানি দিবে ও নাক ঝাড়বে। তখন চেহারার, মুখের ও নাকের গুনাহসমূহ ঝরে পড়বে। এরপর যখন আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক মুখমন্ডল ধৌত করবে তখন পানির সাথে দাড়ির অগ্রভাগ দিয়ে চেহারার গুনাহসমুহ ঝরে পড়বে। এরপর যখন কনুইসহ দুই হাত ধৌত করবে তখন আঙ্গুলের অগ্রভাগ দিয়ে দুই হাতের গুনাহসমুহ ঝরে পড়বে। এরপর যখন মাথা মাসেহ করবে তখন চুলের অগ্রভাগ দিয়ে মাথার গুনাহসমূহ ঝরে পড়বে। এরপর যখন টাখনুসহ দুই পা ধৌত করবে তখন পায়ের আঙ্গুলির অগ্রভাগ দিয়ে পায়ের গুনাহসমূহ ঝরে পড়বে। এরপর যদি বান্দা নামাযে দাঁড়ায় এবং আল্লাহর শান মোতাবেক হামদ, ছানা ও তাঁর মহত্ব বর্ণনা করে, অন্তরকে সবকিছু থেকে খালি করে একমাত্র আল্লাহমুখী হয়, তাহলে সে নামায শেষ করার পর সদ্যজাত শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়।’
এ হাদীস শুনে সাহাবী আবু উমামা রা. বললেন, ‘হে আমর ইবনে আবাসা! কী বলছেন ভেবে দেখুন। এভাবে একবার নামায পড়লেই বান্দা এই ফযীলত লাভ করবে?
আমর বললেন, ‘আবু উমামা! আমায় বয়স হয়েছে, মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছে। এ অবস্থায় কীসের আশায় আমি আল্লাহর রাসূলের নামে মিথ্যা বলতে যাব? আমি যদি রাসূল থেকে এ কথা একবার দুইবার তিনবার সাতবার না শুনতাম আমি তা বর্ণনা করতাম না। আমি তো এই কথা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে এর চেয়েও বেশিবার শুনেছি।’
তথ্যসূত্র : সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৮৩২; মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস : ৪৪৭৫; আসসিরাতুয যাহাযিবয়্যাহ ২/৬৮-৬৯
মানুষ যে কয়টা ফিতরাত নিয়ে জন্মায় তার মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য ফিতরাত হলো যৌনতা। মানুষের শারীরিক এবং মানসিক যৌন চাহিদা রয়েছে এবং এটা এমন এক চাহিদা যার কোন অলটারনেটিভ নেই, তাই মানুষ স্বাভাবিকভাবেই এই চাহিদা চরতার্থ করার প্রয়াস পায়, বৈধ উপায়ে না পারলে অবৈধ উপায়ে। এখন কেউ যদি বলে সে সারাদিন অশ্লীল ছবি দেখছে, পর্ণ দেখছে, বান্ধবীকে সাথে নিয়ে হাটে- মাঠে- ঘাটে, লিটনের ফ্ল্যাটে ঘুরে বেড়াচ্ছে কিন্তু এটা তার মধ্যে কোন অনুভূতিই তৈরী করছে না তাহলে হয় সে মিথ্যে বলছে না হয় তার মেডিক্যাল সমস্যা আছে।
যারা আজকের আধুনিক সভ্য মানুষের আদি পিতামাতারা জংলী হয়ে বনে জঙ্গলে ঘুরে বেড়াতো বলে গাঁজাখুরি থিউরি দিয়ে থাকে তারাও নিজেদের ইজ্জতের বিষয়ে অল্পবিস্তার সচেতন। তাই কিনা তারা অন্তত এতটুকু বলে আদিম মানুষ বনে জঙ্গলে ল্যাংটো হয়ে ঘুরে বেড়াতো না, তারা পশুর চামড়া, ঘাস, লতাপাতা দিয়ে নিজেদের লজ্জাস্থান ঢেকে রাখতো, তারপর তাদের থিউরিতে নীতিবাক্য হিসেবে কিছু টীকা থাকে যেমন, মানুষ প্রাকৃতিক ভাবেই সমাজবদ্ধ, লজ্জাশীলতা সেটা আমাদের আদিম যুগ থেকেই মানুষের মধ্যে বাই বর্ন ছিল ইত্যাদি ইত্যাদি। এসব আমরা আমাদের স্কুলের বইতে পড়েছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে যে মানুষ দাবি করে এরকম একটা জংলী পূর্বপুরুষদের আদিমতা চাপিয়ে তারা এখন আধুনিক, সভ্য হয়েছে সেই তারাই এখন পোশাক আশাকে, চালচলনে, ভাবাদর্শে সেই আদিমতাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
দুর্ভাগ্যবসত সেদিন একটা আর্টিকেল পড়ছিলাম। আর্টিকেলটা যে টপিক নিয়ে হবে ভেবেছিলাম মূলত সেই টপিকে ছিল না তাই কিছুদূর গিয়েই অফ করতে হল। আর্টিকেলটা ছিল একটা কথিত কনজার্ভেটিভ মুসলিম ফ্যামিলিতে জন্ম নেওয়া একজন তরুরী তার মা বাবা, সমাজকে ফাঁকি দিয়ে কি করে ডজনেরও বেশী লোকের সাথে যৌনকর্ম সম্পন্ন করেছে তার খুঁটিনাটি। লেখাটা সেই তরুনী নিজেই লিখেছে এবং বেশ কিছু আন্তর্জাতিক পত্রিকায় সেটা ছাপা হয়েছে, টুইটারে সেই আর্টিকেল নিয়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে, এবং মাঝখান দিয়ে সেই তরুনী এরকম একটা অসভ্য কাজ করেও সো কলড সভ্য মানুষের আধুনিক দুনিয়াতে একজন সাহসী, উদারপন্থী নারী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। লজ্জাশীলতা আদিম যুগ থেকেই মানুষের মধ্যে ছিল এই থিউরিতে বিশ্বাস করা বিজ্ঞানমনস্ক মানুষেরা আজ লজ্জাহীনতা, যৌনতা, ব্যভিচারের গল্প বলে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য। তসলিমা নাসরিনরা দুই পয়সার বই বিক্রির জন্য নিজের, স্বামীর, মা বাপের, চাচা কাকু চৌদ্দ গোষ্ঠীর আকাম কুকামের ফিরিস্তি বর্ণনা করে যায় নির্দ্বিধায়। অমুক দল বিশ্বকাপ জিতলে তমুক বিবস্ত্র হবেন, বলিউড মাতাচ্ছেন অমুক পর্ণস্টার এসব আজ আমাদের পত্রিকার শিরোনাম হয়। পর্ণস্টারদের নামে বায়ান্ন হাজার টাকা দামে ঈদের পোশাক বিক্রি হয় এই আমাদের মুসলিম দেশে। আর আমাদের বাবা মায়েরাই সেসব পোশাক কিনে দেন তাদের মেয়েদের, জাতে তোলার জন্য, আধুনিক বানানোর জন্য। একটা রিপোর্ট বলছে মাঝে মাঝে তারকারা ইচ্ছে করেই নিজেদের যৌনকর্মের ভিডিও লিক করেন, শুধুমাত্র বিখ্যাত হওয়ার জন্য, মানুষের কাছে পরিচিত পাওয়ার জন্য, আলোচনায় থেকে তাদের আপকামিং মুভির কাটতি বাড়ানোর জন্য!
সামরিক আগ্রাসনের চেয়েও মুসলিম একটা জাতিকে ধ্বংস করার জন্য কাফেররা যেসব উপকরণ ব্যবহার করেছে তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর হল অবাধ যৌনতা, অশ্লীলতা। যৌনতা আর অশ্লীলতার এই নব্য জাহিলিয়াত ১৪০০ বছর আগের জাহিলিয়াতকেও হার মানিয়েছে। সেই সময়ের জাহেলী যুগে মুশরিকরা বিবস্ত্র হয়ে কাবাঘর তাওয়াফ করত কারণ তারা বলত যে কাপড় পরিধান করে তারা আল্লাহর অবাধ্যতা করে সেই কাপড় পরিধান করে আল্লাহর ঘর তাওয়াফ তারা করতে পারবে না। কিন্তু সেই জাহিলিয়াত অজ্ঞতার কারণে ছিল, আজকের কু প্রবৃত্তি চরিতার্থ করার জাহিলিয়াত ছিল না। বিবস্ত্র হলেও মহিলারা তখন রাতের অন্ধকারে তাওাফ করত আর কবিতা আবৃত্তি করত, “আজ শরীরের কিয়দংশ অথবা পুরো শরীর বিবস্ত্র হয়ে যাবে। কিন্তু যে অংশ বিবস্ত্র হবে তা আমি পরপুরুষের জন্য বৈধ করে দিব না”। মক্কা বিজয়ের পর আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দ যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে বায়াত দিতে আসলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম কুরআনের আয়াত পাঠ করলেন,
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا جَاءَكَ الْمُؤْمِنَاتُ يُبَايِعْنَكَ عَلَىٰ أَن لَّا يُشْرِكْنَ بِاللَّهِ شَيْئًا وَلَا يَسْرِقْنَ وَلَا يَزْنِينَ
“হে নবী, ঈমানদার নারীরা যখন আপনার কাছে এসে আনুগত্যের শপথ করে যে, তারা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না…” [সূরা মুমতাহিনাঃ ১২]
তখন সাথে সাথে হিন্দ বেশ বিস্ময়ের সাথে জিজ্ঞেস করল ইয়া রাসূলুল্লাহ! একজন স্বাধীন নারী কি যিনা করতে পারে? তারা মুশরিক ছিল, অজ্ঞ ছিল। কিন্তু তাদের মধ্যে আখলাক ছিল, হায়া ছিল, শালীনতা ছিল। আর আজকের তথাকথিত সভ্যতার উৎকর্ষতার যুগে স্বাধীনতা আর উদারপন্থার মানে হল বেহায়া হওয়া, নির্লজ্জ হওয়া, যতটা পারা যায়!
শয়তান চায় আপনি নির্লজ্জ হোন, শয়তানের দোসর কাফের মুশরিকরাও চায় আপনি নির্লজ্জ হোন। কারণ তারা জানে সামরিক আগ্রাসন কিছু মানুষকে হত্যা করতে পারে, বাড়িঘর ধন সম্পদ ধ্বংস করতে পারে কিন্তু মানুষের শরীরের ভেতর যে অন্তর সেটা সামরিক শক্তি দিয়ে ধ্বংস করা যায় না। তবে হ্যাঁ সেটা খুব ধীরে ধীরে কলুষিত করা যায়, স্লো পয়জনিং করে অন্তরটাকে মেরে ফেলা যায়, পাথরের মত শক্ত করে দেওয়া যায়। আর এই কাজে সবচেয়ে ফলপ্রসূ হল অশ্লীলতা, যৌনতার নোংরামি। এটা একদিকে মানুষকে নৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেয় অন্যদিকে এমন এক অন্তর তৈরি করে যা আল্লাহর সাথে কোনভাবেই কানেক্টেড হতে পারে না। আল্লাহর কিতাব শুনে সেই অন্তর থাকে নির্লিপ্ত, নিথর। কারণ সেই অন্তর মরে গেছে। And finally there is a spiritual death! তাই আল্লাহ সুরা আল ইসরায় বলেন,
وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَا ۖ إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا [١٧:٣٢]
"আর ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ। [সূরা আল ইসরাঃ ৩২]"
আল্লাহ কিন্তু “লাতাযিনু” বা ব্যভিচার করো না স্রেফ এটা বলেননি। তিনি বলেছেন ব্যভিচারের ধারে কাছেও যেও না, অশ্লীলতার ধারে কাছেও যেও না। কারণ এটা একটা পথ, وساء سبيلا মন্দ পথ, নিকৃষ্ট পথ। অমুক মুভির ঐ কয় মিনিটের খারাপ দৃশ্যটা, ফেসবুক পেজের মাঝে মধ্যে খারাপ ছবিগুলো, ১৫+, ১৮+ যেভাবেই চিন্তা করুন না কেন একটু একটু করে এসব কাজই আপনাকে ঐ পথে নিয়ে যাচ্ছে। তাই আল্লাহ শুধু বলেননি ব্যভিচার করো না, বরং তিনি বলেছেন ব্যভিচারের ধারে কাছেও যেও না, ঐ পথটাই কখনো মাড়িও না। কারণ এটা আমাদের আধ্যাত্মিক মৃত্যু ঘটায়, এর প্রভাব পড়ে আমাদের ঈমানে, আমাদের সালাতে, আমাদের দোয়ায়।
ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হচ্ছে আল্লাহ এই আয়াতের পরের আয়াতে বলেছেন,
وَلَا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ
“সে প্রাণকে হত্যা করো না, যাকে আল্লাহ হারাম করেছেন…” [সূরা আল ইসরাঃ ৩৩]
আল্লাহ বলছেন নিরীহ মানুষকে হত্যা করো না, তার মানে ফিজিকাল মার্ডার। কিন্তু তার আগের আয়াতে আল্লাহ স্পিরিচুয়াল মার্ডারের কথা বলেছেন ,فاحشة যা অন্তরকে মেরে ফেলে আর এরপরই এসেছে ফিজিকাল মার্ডারের কথা قتل। আল্লাহ এখানে দুই ধরণের অপরাধের কথা উল্লেখ করেছেন একটি স্পিরিচুয়াল মার্ডার আরেকটি ফিজিক্যাল মার্ডার, কিন্তু স্পিরিচুয়াল মার্ডারের কথা আগে উল্লেখ করেছেন। কারণ যার আত্মা মরে যায় তার রক্ত মাংসের শরীরটার আর কি দাম থাকে। যার আত্মার শক্তি শেষ হয়ে যায় তার সিক্স প্যাক শরীরের শক্তি আর কি কাজে আসে! আর তাই শয়তান প্রথমে এই আত্মাকে শেষ করে দিতে চায়। আর সেটা আপনাকে ফাহেশা কাজে যুক্ত করার মাধ্যমে।
তাই যারা রাহমানের বান্দা হতে চায়, যারা এই দ্বীনের ঝাণ্ডা বহন করতে চায় তাদের উচিত শারীরিক এবং মানসিক দুইভাবেই শত্রুর বিরুদ্ধে প্রস্তুতি গ্রহণ করা। শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধে সামরিক দুর্গ যেমন দরকার তেমনি দরকার আত্মাকে কুলষতা থেকে মুক্তির জন্য নিশ্ছিদ্র দুর্গ। দরকার আত্মাকে পরিশুদ্ধ করা। দরকার সমস্ত ফাহেশা এবং মন্দ কাজ থেকে আত্মাকে হেফাজরত করা। আল্লাহ বলেন,
قَدْ أَفْلَحَ مَن زَكَّاهَا
وَقَدْ خَابَ مَن دَسَّاهَا
“যে নিজেকে শুদ্ধ করে, সেই সফলকাম হয়। এবং যে নিজেকে কলুষিত করে, সে ব্যর্থ মনোরথ হয়”। [সূরা আশ শামসঃ ৯-১০]
-ইউসুফ আহমেদ
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
1230