Fact Review
Fact Review is committed to exposing misinformation and ensuring the truth reaches everyone in Bangladesh.
Together, we fight fake news and build a safer, more informed internet. Fact Review: Uncovering the Truth, One Fact at a Time
Fact Review is a pioneering fact-checking platform dedicated to identifying misinformation, debunking false narratives, and combating fake news in Bangladesh. With a strong commitment to promoting truth and transparency, we work tirelessly to verify news, expose deceptive
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রতি একটি নির্বাচনী ফেস্টুনের ছবি ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। ছবিটিতে দাবি করা হচ্ছে, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের নির্বাচনী প্রচারণার ফেস্টুনে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ মামলার একজন অভিযুক্তের ছবি রয়েছে। কিন্তু এই দাবি কতটুকু সত্য?
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ছবিটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর সরেজমিনে পল্লবীসহ সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকা পরিদর্শন করা হয়। বাস্তবে ওই এলাকার কোথাও এমন কোনো ফেস্টুন, ব্যানার বা পোস্টারের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। পল্লবী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীরাও স্বতন্ত্রভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে একই তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ভাইরাল ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তৈরি করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর আসল নির্বাচনী ফেস্টুনে ডিজিটাল কারসাজির মাধ্যমে অভিযুক্তের ছবি জুড়ে দেওয়া হয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীরাও এটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
সবমিলিয়ে ভাইরাল এই ফেস্টুনের ছবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। এটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৈরি একটি ভুয়া কনটেন্ট। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, এআই দিয়ে ভুয়া তথ্য ছড়ানো এখন একটি গুরুতর সাইবার হুমকিতে পরিণত হয়েছে। তাই যেকোনো স্পর্শকাতর ছবি বা তথ্য শেয়ার করার আগে তা অবশ্যই যথাযথভাবে যাচাই করে নেওয়া উচিত।
22/05/2026
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পোশাক পরিহিত কয়েকজন ব্যক্তির হাতে শেখ হাসিনার প্রতিকৃতি দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
তবে বিস্তারিত অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ছবিটি বাস্তব নয়। এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।
ছবিটি বিশ্লেষণ করে একাধিক অসংগতি শনাক্ত করা যায়। ছবিতে উপস্থিত ব্যক্তিদের মুখাবয়ব, শারীরিক গঠন ও উচ্চতায় অস্বাভাবিক মিল লক্ষ্য করা যায়, যা সাধারণত এআই-জেনারেটেড ছবিতে দেখা যায়। এছাড়া, একজন ব্যক্তির হাতে চারটি আঙুল দেখা যায়—যা এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি ছবিতে প্রায়শই দেখা যাওয়া ত্রুটিগুলোর একটি।
পরবর্তীতে ছবিটি এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল ‘Hive Moderation’-এ পরীক্ষা করা হলে বিশ্লেষণে দেখা যায়, ছবিটি এআই দ্বারা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।
বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ঘিরে বিভ্রান্তি ও প্রতিক্রিয়া তৈরির উদ্দেশ্যে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া ছবি তৈরি ও প্রচার করা হয়েছে।
সুতরাং, সেনাসদস্যদের হাতে শেখ হাসিনার প্রতিকৃতি দাবিতে প্রচারিত ছবিটি সম্পূর্ণ এআই-নির্মিত, ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর।
22/05/2026
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বক্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে শায়েখ আহমাদুল্লাহ বলেছেন— “শরীয়াহ আবেগ দিয়ে চলে না। শরীয়াহ আইনে ধ`র্ষ`ণ প্রমাণের জন্য ৪ জন সাক্ষী অত্যাবশ্যক। যেটা শিশু রামিসার ধ`র্ষ`ণে`র ক্ষেত্রে নেই আপাতত।”
তবে বিস্তারিত অনুসন্ধানে এ বক্তব্যের কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস পাওয়া যায়নি। শায়েখ আহমাদুল্লাহর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল কিংবা গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যে এমন মন্তব্যের প্রমাণ মেলেনি।
এছাড়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত পোস্টগুলোতেও বক্তব্যটির পূর্ণাঙ্গ ভিডিও, অডিও বা যাচাইকৃত সূত্র উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে উদ্ধৃতিটি সত্যিই তিনি বলেছেন কিনা, তার পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হয়, সংবেদনশীল একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনমনে বিভ্রান্তি ও প্রতিক্রিয়া তৈরির উদ্দেশ্যে যাচাইকরণ ছাড়াই বক্তব্যটি প্রচার করা হচ্ছে।
সুতরাং, শিশু রামিসার ঘটনা নিয়ে শায়েখ আহমাদুল্লাহ এ ধরনের মন্তব্য করেছেন—এ মর্মে প্রচারিত দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি এবং এটি বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচারিত হচ্ছে।
21/05/2026
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি হৃদয়বিদারক ছবি ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে কোরবানি ঈদের ঠিক আগে "কৃষক রহিম" নামের এক ব্যক্তির তিনটি গরুকে শত্রুতা করে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি মরা গরুগুলোর পাশে বসে মাথায় হাত দিয়ে অত্যন্ত করুণভাবে কাঁদছেন এবং আশেপাশের কয়েকজন তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন। এই আবেগঘন পোস্টটি দেখে সাধারণ মানুষ গভীরভাবে প্রভাবিত হচ্ছেন এবং অনেকেই এটি সত্য ভেবে শেয়ার করে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন।
তবে আমাদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভাইরাল হওয়া এই ছবিটি মোটেও বাস্তব কোনো ঘটনার ছবি নয়। এটি মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিখুঁতভাবে তৈরি করা হয়েছে। ভালো করে লক্ষ্য করলে ছবিটিতে বেশ কিছু স্পষ্ট অসঙ্গতি চোখে পড়ে। যেমন— মাঝখানে বসে থাকা ক্রন্দনরত লোকটির হাতের আঙুলগুলো স্বাভাবিক নয়; সেগুলো অস্বাভাবিকভাবে বাঁকা এবং একটির সাথে আরেকটি লেগে আছে, যা এআই-জেনারেটেড ছবির একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য। এছাড়া তার পাশে বসে থাকা বৃদ্ধ লোকটির হাত ও আঙুলের গঠনও বেশ বিকৃত।
এর বাইরেও ছবিটিতে আরও কিছু অবাস্তব বিষয় রয়েছে। গরুর মুখ থেকে বের হওয়া ফেনাগুলো কোনো স্বাভাবিক তরল বা লালার মতো নয়, বরং দেখতে কৃত্রিম ও আলগা রঙের মতো লাগছে। সামনের কালো গরুটির মুখের দড়িটি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, সেটি পশুর চামড়ার সাথে অবাস্তবভাবে মিশে গেছে। পেছনের দিকে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর মুখমণ্ডল অস্পষ্ট এবং গোয়ালঘরের বাঁশের খুঁটিগুলোর গঠনেও রয়েছে জ্যামিতিক ত্রুটি। মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষের আবেগ ও সহানুভূতিকে পুঁজি করে লাইক-শেয়ার বা এনগেজমেন্ট বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই এই ধরনের বিভ্রান্তিকর ছবি ও গল্প তৈরি করা হয়েছে। তাই এই ধরণের কোনো ভুয়া পোস্টে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ রইল।
21/05/2026
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম–এর নামে একটি মন্তব্য ভাইরাল হয়। ফটোকার্ডটিতে দাবি করা হয়, তিনি হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত একটি মন্তব্য করেছেন।
তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আলোচিত মন্তব্যটির কোনো সত্যতা নেই। শফিকুল আলম এমন কোনো বক্তব্য দেননি; বরং একটি সার্কাজম বা ব্যঙ্গধর্মী ফেসবুক পেজ থেকে প্রচারিত কনটেন্ট পরবর্তীতে বাস্তব দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভাইরাল পোস্টগুলো বিশ্লেষণ করে দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র, ভিডিও, সাক্ষাৎকার বা সংবাদ প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। এছাড়া, মূলধারার কোনো গণমাধ্যম কিংবা বিশ্বস্ত সূত্রেও এ ধরনের বক্তব্যের অস্তিত্ব মেলেনি।
পরবর্তীতে শফিকুল আলম–এর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট পর্যবেক্ষণ করেও আলোচিত মন্তব্যের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তার মতো পরিচিত ব্যক্তিত্ব এমন মন্তব্য করলে তা গণমাধ্যমে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, হামে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যু নিয়ে শফিকুল আলমের নামে প্রচারিত মন্তব্যটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও ভিত্তিহীন।
20/05/2026
সাম্প্রতিক এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে এক কিশোরীকে পা দিয়ে লিখে পরীক্ষা দিতে দেখা যায়। পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থীর বাস্তব দৃশ্য এটি।
তবে তথ্য যাচাইয়ে দেখা গেছে, প্রচারিত ছবিটি বাস্তব কোনো পরীক্ষার্থীর নয়। অনুসন্ধানে ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
যাচাইয়ে জানা যায়, চলতি বছরে শারীরিকভাবে বিশেষভাবে সক্ষম কয়েকজন শিক্ষার্থীর পা দিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। বিশেষ করে সিরাজগঞ্জের এক পরীক্ষার্থীর বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে। কিন্তু ভাইরাল ছবির কিশোরীর সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীর পোশাক, চেহারা কিংবা পরীক্ষাকেন্দ্রের কোনো মিল পাওয়া যায়নি।
এছাড়া, ছবিটি বিশ্লেষণ করে হাত-পায়ের গঠন, খাতার অবস্থান এবং আশপাশের পরিবেশে একাধিক অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করা যায়, যা সাধারণত এআই-নির্মিত ছবিতে দেখা যায়। নির্ভরযোগ্য কোনো সংবাদমাধ্যম বা বিশ্বস্ত সূত্রেও আলোচিত ছবিটির বাস্তবতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, পা দিয়ে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া কিশোরীর দাবিতে প্রচারিত ভাইরাল ছবিটি বাস্তব নয়; এটি এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি একটি বিভ্রান্তিকর ছবি।
20/05/2026
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের মাতা লোপা কায়সার বলেছেন— “নাহিদ সারজিসরা আমার মেয়ের লাশ নিয়ে ব্যবসা করলে তাদের কাউকে আমি ক্ষমা করবো না।”
তবে বিস্তারিত অনুসন্ধানে দেখা গেছে, লোপা কায়সার এমন কোনো মন্তব্য করেননি। নির্ভরযোগ্য কোনো গণমাধ্যম, সাক্ষাৎকার বা যাচাইকৃত সূত্রে এই বক্তব্যের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, একটি স্যাটায়ার বা ব্যঙ্গাত্মক পেজের পোস্টকে বাস্তব বক্তব্য হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। যদিও গত ১৭ মে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে লোপা কায়সার বলেছিলেন— “আমরা জুলাইযোদ্ধা নই, আমরা মানবযোদ্ধা।” তবে তার বক্তব্যের সঙ্গে ভাইরাল ফটোকার্ডে প্রচারিত মন্তব্যের কোনো মিল নেই।
বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হয়, আংশিক সত্য বক্তব্যের সঙ্গে বানোয়াট উক্তি যুক্ত করে বিভ্রান্তি তৈরির উদ্দেশ্যে পোস্টটি প্রচার করা হয়েছে।
20/05/2026
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডেমরা থানা জাতীয় ছাত্রশক্তির মুখ্য সংগঠক আফতাব আহমেদের স্ত্রীর ছবি দাবিতে একাধিক আপত্তিকর ছবি প্রচার করা হচ্ছে। দাবি করা হচ্ছে, ছবিগুলো তার স্ত্রীর বাস্তব ছবি।
তবে বিস্তারিত অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রচারিত ছবিগুলো বাস্তব নয়। এগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি করা হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপটে জানা যায়, গত ১৫ মে ডেমরায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মিছিল ঘিরে উত্তেজনার সময় আফতাব আহমেদের নেতৃত্বে ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এর পরপরই তাকে লক্ষ্য করে এবং বিশেষ করে তার পরিবারকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার শুরু হয়।
আলোচিত ছবিগুলো এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম Hive Detect-এ পরীক্ষা করা হলে দেখা যায়, ছবিগুলো এআই-জেনারেটেড হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ। ছবিগুলোর ভিজ্যুয়াল বিশ্লেষণেও এআই-সৃষ্ট কনটেন্টের একাধিক অসামঞ্জস্য ও অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করা যায়।
বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া ও আপত্তিকর ছবি তৈরি করে প্রচার করা হয়েছে।
সুতরাং, আফতাব আহমেদের স্ত্রীর ছবি দাবিতে প্রচারিত আপত্তিকর ছবিগুলো সম্পূর্ণ এআই-জেনারেটেড, ভুয়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার।
19/05/2026
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোকচিত্রী ও শহিদুল আলম–এর নামে একটি মন্তব্য ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, তিনি হামে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যু প্রসঙ্গে গাজায় নিহত শিশুদের উদাহরণ টেনে একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন।
তবে তথ্য যাচাইয়ে দেখা গেছে, আলোচিত মন্তব্যটি শহিদুল আলম কখনোই করেননি। অনুসন্ধানে দাবিটির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র, সাক্ষাৎকার, ভিডিও বা গণমাধ্যম প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
ভাইরাল ফটোকার্ডটির উৎস অনুসন্ধান করে দেখা যায়, এটি মূলত একটি স্যাটায়ারধর্মী ফেসবুক পেজ থেকে প্রচার করা হয়েছিল। পেজটিতে নিজেদের কনটেন্টকে ব্যঙ্গাত্মক ও প্যারোডি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই পেজে এ ধরনের আরও বহু ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট পাওয়া যায়, যা থেকে স্পষ্ট হয় যে আলোচিত পোস্টটিও বাস্তব তথ্য হিসেবে প্রকাশ করা হয়নি।
এছাড়া, শহিদুল আলম–এর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট বা নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রেও এমন বক্তব্যের অস্তিত্ব মেলেনি। তার মতো পরিচিত ব্যক্তিত্ব এ ধরনের মন্তব্য করলে তা মূলধারার সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু তেমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, গাজা ও হামে শিশু মৃত্যুর তুলনা করে শহিদুল আলমের নামে প্রচারিত মন্তব্যটি ভুয়া ও ভিত্তিহীন।
19/05/2026
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি ছড়িয়ে পড়েছে যে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি “গোপন সামরিক চুক্তি” চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যার আওতায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক বিমান বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মাতারবাড়ী বন্দর ব্যবহার করতে পারবে।
তবে বিস্তারিত অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই দাবি সঠিক নয়। গত ১৫ মে ২০২৬ তারিখে ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেটি কোনো সামরিক চুক্তি নয়। বরং এটি ছিল জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি “কৌশলগত সহযোগিতা” বিষয়ক সমঝোতা স্মারক (MoU)।
চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট। প্রকাশিত তথ্য ও অফিসিয়াল বিবৃতিতে কোথাও সামরিক ঘাঁটি, যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন বা বন্দর ব্যবহারের মতো কোনো বিষয় উল্লেখ নেই।
বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হয়, একটি অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সহযোগিতা চুক্তিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে “দেশবিরোধী সামরিক চুক্তি” হিসেবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
18/05/2026
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে টিকটকে একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটিতে হেলিকপ্টার থেকে একাধিক সেনাসদস্যকে প্যারাসুটের মাধ্যমে অবতরণ করতে দেখা যায়। পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, এটি ভারতীয় সেনাবাহিনী–এর বাস্তব প্রশিক্ষণ বা অভিযানের দৃশ্য।
তবে তথ্য যাচাইয়ে দেখা গেছে, প্রচারিত ভিডিওটির সঙ্গে বাস্তব কোনো সামরিক অভিযানের সম্পর্ক নেই। অনুসন্ধানে ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সেনাসদস্যদের চলাফেরা, প্যারাসুটের গতিবিধি এবং হেলিকপ্টারের সঙ্গে দৃশ্যের সামঞ্জস্যে একাধিক অসংগতি রয়েছে। কিছু অংশে চরিত্রগুলোর নড়াচড়া অস্বাভাবিক এবং পরিবেশের ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনাও বাস্তবসম্মত নয়—যা সাধারণত এআই-নির্মিত ভিডিওতে দেখা যায়।
এছাড়া, ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম, সামরিক সূত্র বা সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী টুলের মাধ্যমে পরীক্ষা করলেও ভিডিওটি এআই প্রযুক্তিতে তৈরি হওয়ার শক্তিশালী ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
সুতরাং, ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্যারাসুট জাম্পের বাস্তব দৃশ্য দাবিতে প্রচারিত ভাইরাল ভিডিওটি প্রকৃত নয়; এটি এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি একটি বিভ্রান্তিকর ভিডিও।
Click here to claim your Sponsored Listing.