Apon's Reflection
Apon's Reflection is a space where I share my personal reflections, ideas, and insights.
30/09/2024
জুলাই বিপ্লব।। ১৬ বছরের ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন।।
সরকার পতনের পরপরই বিভিন্ন রকম মহল থেকে বিপ্লবের নানা রকম কাহিনী বের হচ্ছে।। একেক জন একেক জনকে বিপ্লবের জন্য মহানায়ক বলছে।৷
কেউ বলছে ছাত্রদের আন্দোলন, ছাত্ররাই এই বিপ্লব ঘটিয়েছে।। কেউ বলছে ছাত্র জনতার আন্দোলন।। কেউ বলছে এই আন্দোলনের মুখ্য ভূমিকা পালনকার করা দল শিবির।।। আবার বিএনপি বলছে তারাও এই বিপ্লবের অংশ।। আর নতুন নতুন মাস্টারমাইন্ড দেখা যাচ্ছে।।
আমার চোখে বিপ্লব টা কেমন ছিল সেটাই বলবো।।
আসলে বিপ্লবটা শুরুতে বিপ্লব ছিল না সাধারণ একটা আন্দোলন ছিল যেটা ছিল কোটা আন্দোলন।। যেটা শুরু করে ঢাকা ইউনিভার্সিটির ছাত্ররা।। তাদের সাথে প্রায় সকল ভার্সিটি, শুধু ভার্সিটি বললে ভুল হবে সকল ছাত্ররা একত্বতা প্রকাশ করে।। আন্দোলন শুরু হয়।।
ফ্যাসিস্ট সরকার বরাবরি তার ক্যারেক্টার অনুযায়ী দমন পিরন করা শুরু করে।। প্রথমে লেলিয়ে দেয় ছাত্রলীগকে।। তারপর তার অন্যান্য ক্যাডার বাহিনী (আইন শৃঙ্খলা বাহিনী) ।।
কিন্তু আন্দোলনটা গতি বৃদ্ধি পায়, সাঈদ হত্যার পর থেকে।। তখন জনগণ ধীরে ধীরে এতে সম্পৃক্ত হতে শুরু করে।। সকল স্তরের মানুষ তখনও সম্পৃক্ত ছিল না।। কিন্তু যখন ফাহাদ, মুগ্ধ, সহ আরো অনেকেই মারা যায়।। অনেকে আহত হয়।। তখন শিক্ষক সমাজ সহ বাকি সবাই এতে অংশগ্রহণ শুরু করে।। আন্দোলন প্রখর হতে শুরু করে।।
কিন্তু তখনও এই ফ্যাসিস্ট কে দমানো সম্ভব ছিল না, যদি না সকল রাজনৈতিক দলরা এতে অংশগ্রহণ না করে।।।
সুতরাং এই ফ্যাসিস্টকে সরানোর কৃতিত্ব কোন একা কারো না।। এখানে কোন মাস্টারমাইন্ড ছিল না।। ছিল সকল জনতা।। ছিল সবার অধিকার পাওয়ার লড়াই।।
আমি ছাত্র না, কোন দল করি না, আমি সাধারণ একজন জনগণ।। আমি কেন আন্দোলনে যাই? আমার যাওয়ার রিজন ছিল দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মানে অসহায়ত্তা, ভোটার হওয়ার পরেও একবারও ভোট না দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা, আর বাকি জুলুমের কথা তো সবাই জানে।।
এভাবেই সবাই একে একে অংশগ্রহণ করে।।
সুতরাং কেউ যদি মনে করে এই আন্দোলনটা কারো একার, বা সমন্বয়কদের জন্যই আন্দোলনে সবাই এসেছে, ভাই এখানে কোন মাস্টারমাইন্ড ছিল।। তাহলে আমার মতে সবাই ভুল।।
এ আন্দোলন সবার আন্দোলন ছিল।। দলমত নির্বিশেষে সবার আন্দোলন।।
২০১৩ সালে আমি ভোটার হই। ২০১৪ সাল নির্বাচন।। ভোটার হওয়ার পরে প্রথম ভোট।। খুবই এক্সাইটেড ছিলাম ভোট দেওয়ার জন্য।। যদিও একদলীয় নির্বাচন ছিল।। তারপরও চেয়েছিলাম প্রথম ভোটটা দিতে।।।
নৌকায় ভোট দিতাম না।। কারণ আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতি ঘৃণা করা শুরু করি ২০০৯ সালে।। যখন বিডিআর বিদ্রোহ তে এতগুলো সেনার মৃত্যু দেখি, তখন সবাই জানতো এতে আওয়ামী লীগের হাত আছে।। এমন খুনিদের রাজনীতি পছন্দ করার মত কিছুই নাই।। ২০১৩ সালে হেফাজত ইসলামের উপর বর্বরতা দেখার পর এই দলটার প্রতি শুধু ঘৃণাই জন্মাইছে।। তারপরও চেয়েছিলাম ২০১৪ সালে ভোটে গিয়ে যেকোনো কাউকে ভোট দিব।। কিন্তু সেই সৌভাগ্য হলো না।। ভোট বিহীনভাবেই আমাদের আসন থেকে আওয়ামী লীগ বিজয়ী।।
তারপর আর চেয়ারম্যান মেম্বার এসব নির্বাচনে ভোট দেয়ার কোন ইচ্ছাই হয়নি।। ফলাফল আগে থেকে জানা যেত কে চেয়ারম্যান কে মেম্বারে হচ্ছে।। এসব নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রতি শুধু ঘৃণা জন্মাচ্ছে।। তাদের ভোট ডাকাতি, চুরি লুটতরাজ, গুম, খুন।। আশেপাশে বন্ধুদের সাথে কথা বললে ওরা সব সময় আমাকে বলতো চুপ থাক তুই অনেক কথা বলিস।। কখন না জানি তোকে গুম করে ফেলে।। ফেসবুকে অনেক কিছুই লিখতাম।। তো আমি পপুলার কেউ না তাই আমার লেখাগুলো হয়তো কারো চোখে ওভাবে পড়তো না।। পরলে হয়তো জেলে সময় কাটাতে হতো।।
২০১৮ সাল।। আবারো ভোটের সময়।। ভাবলাম জাতীয় ভোট দিয়েই নিজের ভোট দেওয়া শুরু করব।। সকল দলই অংশগ্রহণ করলো প্রায়।। ভোট দিতে যাব বাট এলাকার আওয়ামী লীগের নেতা ভোটার স্লিপ নিতে গেলে বলল, ভোট দিতে যাওয়ার দরকার নাই তোমার ভোট হয়ে গেছে।। আমি তবু শুনলাম না তার কথা।। কেন্দ্র পর্যন্ত গেলাম, ফলাফল ঢুকিয়ে দিল না বললো ভোট হয়ে গেছে।। আর বেশি সাহস করে পুলিশের কাছে গেলাম না, গেলেও লাভ হতো না।। নিজের দেশেই পরাধীন এর মত বসবাস শুরু করলাম।। চোখ কান মুখ সব বন্ধ।। যা পারতাম সেটা ফেসবুকে লেখা।।
২০২৪ এর ভোটটাও তেমন।। আমি ডামি মামি নির্বাচন।।৷ অনেকটা ধরেই নিয়েছিলাম এদের পতন হবে না।। ভেবেই নিয়েছিলাম এরা কখনো যাবেনা।। ভেবে নিয়েছিলাম স্বাধীনতা স্বাদ পাবো না।। ভেবেই নিয়েছিলাম নিজের দেশে গোলামের মত বেঁচে থাকতে হবে।। ভেবে নিয়েছিলাম সবকিছু দেখেও চোখ বন্ধ করে থাকতে হবে।। কিন্তু কোন কিছুই যে অবিনশ্বর নয়, তার প্রমাণ আবারও দেখলাম।। সাক্ষী হলাম।।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
1216