Save Delivery - NVD
আমি একজন মিডওয়াইফ। বিগত ৩ বছর যাবত ডেলিভারি নিয়ে কাজ করছি।
নরমাল ডেলিভারি কত সপ্তাহে হয়?
শিশু যদি গর্ভাবস্থার ৩৭তম সপ্তাহ পূর্ণ হওয়ার পরে জন্মায়, তাহলে আমরা সাধারণত নরমাল ডেলিভারি হয়েছে বলি। এই সময়ের আগে ডেলিভারি হলে তাকে অকাল প্রসব বা প্রিম্যাচিউর ডেলিভারি ধরা হয়। সচরাচর গর্ভকালীন ৩৭তম–৪২তম সপ্তাহের মধ্যে নরমাল ডেলিভারি হলে তা মা ও গর্ভের শিশুর জন্য সবচেয়ে নিরাপদ বিবেচনা করা হয়।
তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, ৩৭তম–৪২তম সপ্তাহে জন্মানো সব শিশুর সুস্থ থাকার সম্ভাবনা সমান নয়।বরং গর্ভাবস্থার ৩৯তম–৪১তম সপ্তাহের আগে অথবা পরে ডেলিভারি হওয়া শিশুদের গর্ভকালীন ও প্রসব-সংক্রান্ত জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামুলক বেশি। তাই ডাক্তারের সাথে ডেলিভারির পরিকল্পনা তৈরি করার সময়ে এই বিষয়টি মাথায় রাখবেন।
নরমাল ডেলিভারির জন্য বাচ্চার ওজন কত হওয়া প্রয়োজন?
শিশু আকারে বড় হলে নরমাল ডেলিভারি করা কঠিন হয়ে পড়ে। সাধারণত জন্মের সময়ে একটি সুস্থ বাচ্চার ওজন ২.৫ থেকে ৪ কেজির মধ্যে হয়ে থাকে। মায়ের প্রসবের রাস্তা যথেষ্ট প্রশস্ত হলে এবং কোনো জটিলতা না থাকলে এই ওজনের শিশুর নরমাল ডেলিভারি করা যায়।
কিন্তু ৪ কেজির বেশি ওজনের শিশু আকারে স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত বড় হয়। তাই নরমাল ডেলিভারির ফলে জটিলতার ঝুঁকি বেড়ে যায় এবং সিজারের প্রয়োজনীয়তা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
09/09/2024
মিডওয়াইফ সুন্দর আগামী দিনের জন্য
আজ অনেক দিন পরে একটা নরমাল ডেলিভারি করলাম আলহামদুলিল্লাহ মা ও বাচ্চা ২ জনি সুস্থ্য আছে।
প্রসবকাল শুরু হওয়ার নিশ্চিত লক্ষণ
গর্ভাবস্থার ৩৮ থেকে ৪২ সপ্তাহের মাঝে সাধারণত প্রসব শুরু হয়ে থাকে। প্রাথমিক লক্ষণগুলো বুঝতে সমস্যা হয়ে থাকলেও প্রসবের কিছু নির্ভরযোগ্য লক্ষণ হলো—
১. পেটে তীব্র টান ও ব্যথা অনুভব করা:
সক্রিয় প্রসব প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেলে আপনি পেটে তীব্র টান ও ব্যথা অনুভব করবেন—যা নির্দিষ্ট সময় পর পর হতে থাকবে। ব্যথা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থায়ী হবে এবং তারপর কমে যাবে। কত সময় পর পর ব্যথা হচ্ছে এবং কত সময় ধরে ব্যথা হচ্ছে সেটি লক্ষ করুন।
প্রকৃত প্রসববেদনা তীব্র হবে, আপনি টানের মাঝে কথা বলতে পারবেন না এবং ব্যথায় আপনার চোখে পানিও চলে আসতে পারে।
২. কোমর ব্যথা:
যদি পেটে টান অনুভব করার সাথে আপনার কোমর ব্যথা হতে থাকে এটি প্রসবের একটি বিশেষ লক্ষণ। পেটে এক টান থেকে পরবর্তী টানের মাঝেও কোমর ব্যথা থাকবে। এর অর্থ হলো আপনার সন্তান তখন নিচের দিকে নামতে শুরু করেছে এবং আপনার কোমরে চাপ তৈরি করছে। তবে অনেকের মতে জরায়ুর সংকোচনের ফলে কোমরে এই ব্যথা তৈরি হয়।
৩. পানি ভাঙা:
জরায়ুর ভেতরে আপনার সন্তান ‘আ্যমনিওটিক স্যাক’ নামের একটি থলের মধ্যে বেড়ে ওঠে। সেখানে ‘অ্যামনিওটিক ফ্লুইড’ নামের এক ধরনের তরলের মধ্যে সে ভাসমান থাকে। প্রসব শুরুর সময়ে এই থলিটি ছিঁড়ে বা ভেঙে গিয়ে আপনার যোনি দিয়ে এই পানি বের হয়ে আসে। একে আমরা সাধারণ ভাষায় ‘পানি ভাঙা’ বলি।
যদি আপনার পানি ভেঙে যায় তবে প্রসববেদনা শুরু না হয়ে থাকে তবে একে বলা হয় ‘প্রিম্যাচুর রাপচার অফ মেমব্রেন’। পানি ভাঙার ৬ থেকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে যদি আপনার প্রসব প্রক্রিয়া শুরু না হয়ে থাকে তবে চিকিৎসক আপনাকে ঔষধ ব্যবহার করে প্রসব শুরু করার উপদেশ দিতে পারেন।
এর কারণ হলো, অ্যামনিওটিক ফ্লুইড আপনার সন্তানকে বিভিন্ন জীবাণু থেকে সুরক্ষা দেয়। পানি ভাঙার পর, তরল ছাড়া গর্ভের ভেতর সন্তান বেশি সময় থাকলে তার ইনফেকশন হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেজন্য চিকিৎসক আপনাকে ঔষধের সাহায্যে দ্রুত প্রসব প্রক্রিয়া শুরু করার পরামর্শ দিতে পারেন।
এক জন সুস্থ্য নবজাতক।
জন্মের সময় তার স্বাভাবিক ওজন আড়াই থেকে চার কেজি হওয়ার কথা। শ্বাসপ্রশ্বাস ক্রিয়া থাকে স্বতঃস্ফূর্ত, ছন্দময় এবং মিনিটে ৩০ থেকে ৬০ বার—এই হারে চলতে থাকে। হৃৎস্পন্দন প্রতি মিনিটে ১০০ থেকে ১৬০ বার। মাথার বেড় (ওএফসি) প্রায় ৩৫ সেমি এবং অবশ্যই কোনো প্রকার জন্মগত দৈহিক ত্রুটি বা বিকৃতি নেই।
জন্মনিয়ন্ত্রন পিলের অপকারিতা।
বেশির ভাগ মেয়েই জন্মনিয়ন্ত্রন পিল খায়। জন্মনিয়ন্ত্রনের জন্য পিল খাওয়া মেয়েদের কাছে একটি সাধারন ব্যাপার, তাছাড়া মাসিক ঠিক করার জন্য ও অনেক সময় মেয়েরা পিল খায়। কিন্তু এই পিল সম্পর্কে মানুষের ধারণা খুব কম। একজন মেয়ের জন্য পিল কখনোই ভাল কিছু না বরং একটা মেয়ের জীবনকে ধিরে ধিরে শেষ করতে এই পিলই যথেষ্ট।
কি কি সমস্যা হতে পারে এই পিল খেলে?
১) হার্ট হ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ৩৫ বছরের বেশি মহিলাদের কখনোই পিল খাওয়া উচিত না কারণ এতে হার্ট এট্যাক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
২) পিলে লেভেনোগ্যাস্ট্রেল ও ৩০ মিলিগ্রাম ইস্ট্রোজেন থাকে, যেসব মেয়েদের মাইগ্রেন থাকে তারা যদি পিল কন্টিনিউ করে তাহলে তাদের স্ট্রোকের সম্ভাবনা বেশি থাকে।
৩) উচ্চ রক্তচাপের একটি উল্লেখযোগ্য কারণ হল পিল সেবন।
৪) যারা বেশি পিল খায় তাদের ভেনাস থ্রোম্বোএম্বলিসম নামক রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
৫) বেশি মাথা ব্যথা হয়।
৬) হতাশার একটি কারণ ও হল অতিরিক্ত পিল খাওয়া।
৭) খিটখিটে মেজাজ ও দেখা যায়, পিল খাওয়ার কারণে।
৮) বমি বমি ভাব এবং বমি হয়।
৯) ব্রেস্টে অনেক ব্যথা হয়।
১০) সাদা স্রাব হয়।
১১) যারা পিল খায় নিয়মিত তারা সেক্সের সময় তেমন আনন্দ পায় না।
১২) জরায়ু সিস্ট ও জরায়ু টিউমারও হতে পারে।
১৩) স্তন ও জরায়ুর বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে।
১৪) পিল খাওয়ার কারণে ওজন বেড়ে যায়।
১৫) ১ বছরের বেশি পিল খেলে তাদের গ্লুকোমা হয়।
দীর্ঘদিন পিল খেলে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।
সুতরাং যত কম পিল খাওয়া যায়, একটা মেয়ের জন্য তা ততই মঙ্গলজনক। নিয়মিত না খেয়ে কিছুদিন গ্যাপ রেখে রেখে খেতে পারেন।
07/09/2024
মিডওয়াইফ
Click here to claim your Sponsored Listing.