Star Track
This is an entertainment zone :)
রাজধানীর জাতীয় ক্যানসার হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাক্তার আহমেদ হোসেনকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
15/04/2026
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় অনলাইন জুয়ায় সর্বস্বান্ত হয়ে এক যুবক প্রকাশ্যে দুধ দিয়ে গোসল করে জুয়া ছেড়ে দেওয়ার শপথ নিয়েছেন। বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার বালিঘাটা ইউনিয়নের গণেশপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম মহীপুর সরকারি কলেজের সামনে এ ব্যতিক্রমী পথ বেছে নিয়েছেন। তার এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, মহীপুর সরকারি কলেজের মূল ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে জাহিদুল ইসলাম নিজের গায়ে দুধ ঢালছেন। এ সময় তিনি বলেন, জুয়া খেলতে গিয়ে তার সংসার ও আর্থিক অবস্থা নষ্ট হয়ে গেছে। তাই তিনি দুধ দিয়ে গোসল করে আজ থেকে জুয়া ছেড়ে দেওয়ার শপথ নিচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বালিঘাটা ইউনিয়নের গণেশপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহিদুল দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়া ও বিভিন্ন ধরনের অবৈধ জুয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এতে ধীরে ধীরে তার সঞ্চয় ও সম্পদ নষ্ট হয়ে যায়। একপর্যায়ে তিনি চরম আর্থিক সংকটে পড়েন। পরে নিজের ভুল বুঝতে পেরে বুধবার দুপুরে প্রকাশ্যে ২০ লিটার দুধ দিয়ে গোসল করে জুয়া খেলা ছেড়ে দেওয়ার শপথ করেন। এসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই তার এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ এটিকে লোক দেখানো বলেও মন্তব্য করেছেন।
পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজ মো. রায়হান বলেন, একজন যুবক দুধ দিয়ে গোসল করে জুয়া ছেড়ে দেওয়ার শপথ নিয়েছেন বলে শুনেছি। জুয়া সম্পূর্ণ অবৈধ। আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। কেউ জড়িত থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের মূল লক্ষ্যই হলো অপরাধমুক্ত সমাজ গড়া এবং জনগণকে ভালো রাখা। কোনো অপরাধী যদি নিজের ভুল বুঝতে পেরে সুপথে ফিরে আসতে চায়, তবে তাকে সবসময়ই স্বাগত জানানো হয়।
08/04/2026
যোগদান করেই স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে ক্লাস নিলেন ডিসি
ঠাকুরগাঁওয়ে নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ রফিকুল হক। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন। যোগদানের প্রথম দিনেই তিনি নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং শিক্ষাক্ষেত্রে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তার নয়া যাত্রার সূচনা করেছেন।
নতুন ডিসির প্রথম কর্মদিবসের প্রথম প্রহরে (বুধবার ৮ এপ্রিল) তিনি কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিদর্শন করেন। স্কুলের দশম শ্রেণির প্রথম পিরিয়ডে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে প্রায় এক ঘণ্টা পাঠদানসহ নানান দিক-নির্দেশনা দেন। এই অনন্য মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পরই তা ব্যাপক প্রশংসা ও ভাইরাল হয়।
বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকাকালীন তিনি প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন। শিক্ষাব্যবস্থা উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদানের বিষয়ে তার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেন। নতুন জেলা প্রশাসক বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো সমাধান করে সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে একটি মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের আশা প্রকাশ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) এবং জেলা প্রশাসনের একাধিক ম্যাজিস্ট্রেট।
কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মো. মোতালেব হোসেন জানান, নবাগত জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ রফিকুল হক স্যার এই বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। তাই তিনি তার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম অফিসিয়াল দিনে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। ডিসি স্যার বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণি-কক্ষ পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষার্থীদের ক্লাশ নেন। প্রায় এক ঘণ্টা তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিভিন্ন বিষয়ের ওপর কথা বলেন।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা জানায়, ডিসি স্যার আমাদের ক্লাস নিয়েছেন। এটা আমাদের জন্য খুবই আনন্দের এবং অনুপ্রেরণামূলক। আমরা আগে কখনও এমন অভিজ্ঞতা পাইনি। তিনি ঘণ্টাখানিক ধরে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর আলোচনা করেন। শিক্ষার প্রতি ডিসি স্যারের আগ্রহ আমাদেরকে আরও ভালোভাবে পড়াশোনা করতে উদ্বুদ্ধ করছে। আমরা আশা করি ভবিষ্যতেও আমাদের জন্য এমন সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
শিক্ষার্থী ওমর বলে, ডিসি স্যারের ক্লাস খুব ভালো লেগেছে। তিনি আনন্দ সহকারে পড়িয়েছেন। তার কাছ থেকে আমরা অনেক নতুন বিষয় জানলাম।
05/04/2026
সন্তানকে কিডনি দিতে চেয়েও পারছেন না এক মা। এ ঘটনায় প্রতিনিয়ত কাঁদছেন তিনি। ঘটনাটি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার দিগনগর ইউনিয়নের আগুনিয়াপাড়া গ্রামের। ওই গ্রামের ভ্যানচালক রেজাউল ইসলামের বড় ছেলে মিঠু হোসেন (২১) কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। ডাক্তার জানিয়েছেন, জরুরি ভিত্তিতে একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হবে মিঠুর। তাহলে সুস্থ হয়ে উঠবেন তিনি।
ছেলেকে একটি কিডনি দেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে সব পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন মা শাহনাজ বেগম। ছেলের রক্তসহ সব কিছুই মায়ের সঙ্গে মিলে গেছে। এখন শুধু কিডনি প্রতিস্থাপনের অপেক্ষা। কিন্তু কিডনি প্রতিস্থাপন করতে যে খরচ সেই পরিমাণ টাকা নেই তাদের কাছে। পরিবারে বিক্রি করার মতোও কিছু নেই। নতুন করে ধারদেনা করার মতোও কোনো জায়গা নেই।
জানা যায়, প্রায় চার মাস আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মিঠু। পরে বিভিন্ন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে জানা যায়, তার একটি কিডনি সম্পূর্ণ বিকল হয়ে গেছে এবং অপর কিডনিটিও প্রায় ৮০ শতাংশ বিকল। বর্তমানে তাকে সপ্তাহে দুই দিন ডায়ালাইসিস করাতে হচ্ছে। এতে খরচ হচ্ছে প্রায় ১০ হাজার টাকা।
মিঠুর মা জানান, সংসারের সবকিছু বিক্রি করে ইতোমধ্যে ঢাকার শ্যামলীতে সিকেডি হাসপাতালে ছেলের চিকিৎসা চালানো হয়েছে। সেখানকার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কিডনি প্রতিস্থাপন করা গেলে মিঠু আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।
তিনি আরও বলেন, অপারেশন, কেবিন ভাড়া, আইসিইউ ও ওষুধসহ মোট প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ হবে। কিন্তু আমরা গরিব মানুষ, এতো টাকা জোগাড় করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আমি সমাজের সকলের কাছে আমার ছেলের জীবনের জন্য সাহায্য চাই।
স্থানীয় বাসিন্দা মেহেদী হাসান জানান, মিঠুর পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে তারা নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। এখন সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা পেলে মিঠুর জীবন বাঁচানো সম্ভব।
একই গ্রামের শাহাজান বিশ্বাস বলেন, মিঠুর বাবা একজন ভ্যানচালক। চিকিৎসার জন্য তার যা কিছু ছিল সব বিক্রি করে দিয়েছে। এখন টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। দ্রুত সহায়তা পেলে মিঠুর জীবন রক্ষা পেতে পারে।
এদিকে, মিঠুর পরিবারের পক্ষ থেকে সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের কাছে আর্থিক সহায়তার জন্য আকুল আবেদন জানানো হয়েছে। আরও বিস্তারিত জানতে মিঠুর সঙ্গে সরাসরি কথা বলা যাবে ০১৯৬০-২৬৯১২০ নম্বরে।
অর্থাভাবে নিভতে বসেছে জাবিতে সুযোগ পাওয়া তিন মেধাবীর স্বপ্ন
মেধার জোরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে (৫৫ ব্যাচ) ভর্তির সুযোগ পেলেও চরম অর্থসংকটে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তিন শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন। রসায়ন, ইতিহাস ও তুলনামূলক সাহিত্য ইনস্টিটিউটে চান্স পাওয়া এই তিন মেধাবীর পরিবারের পক্ষে ভর্তির ন্যূনতম খরচটুকু বহন করাও এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। রিকশা ও ভ্যানচালক বাবার সন্তানদের এই লড়াকু পথচলা এখন দারিদ্র্যের দেওয়ালে আটকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। সামাজিক সংগঠন ‘ইচ্ছা’ সূত্রে জানা গেছে, প্রথম শিক্ষার্থীর বাড়ি টাঙ্গাইলে। বাবা সাভারে রিকশা চালান এবং মা ঢাকায় একটি মিষ্টির দোকানে শ্রমিকের কাজ করেন। অতি কষ্টে নানার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে তিনি এবার তুলনামূলক সাহিত্য ইনস্টিটিউটে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছেন। দ্বিতীয় শিক্ষার্থীর বাড়ি দিনাজপুর জেলায়। তার বাবাও একজন রিকশাচালক। চার সদস্যের অভাবী সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। রসায়ন বিভাগে পড়ার সুযোগ পেলেও ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় ১৫ হাজার টাকা জোগাড় করতে পারছেন না তার নিঃস্ব পরিবার। তৃতীয় শিক্ষার্থীর বাড়ি রংপুরে। তার বাবা ভ্যান চালিয়ে অতি কষ্টে সংসার ও ছেলের পড়াশোনা টেনে নিয়েছেন এতদূর। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে ভর্তির স্বপ্ন এখন টাকার অভাবে ফিকে হতে চলেছে। এই অসহায় শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অরাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন ‘ইচ্ছা’।
সংগঠনটি ইতোমধ্যে বর্তমান সেশনে আরও ৫ জন অসচ্ছল শিক্ষার্থীর ভর্তি নিশ্চিত করেছে। এছাড়া বিগত কয়েক বছরে তারা ১৭ জন শিক্ষার্থীর ভর্তির ব্যয়ভার বহন করেছে।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান (ম্যাথ-৫১তম ব্যাচ) জানান, আমরা চাই না অর্থের অভাবে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন অকালে ঝরে যাক। এই তিন শিক্ষার্থীর জীবন গড়তে জাবিয়ানসহ সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের এগিয়ে আসার সবিনয় অনুরোধ জানাচ্ছি। সমাজের সচেতন ও সামর্থ্যবান মানুষ এগিয়ে এলে এই তিন শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার পথ সুগম হবে এবং তারা দেশের সম্পদে পরিণত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
উৎপাদন ও পরিবহন খাতে ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল না পাওয়ায় ভোলা বিসিক শিল্প নগরীতে অবস্থিত মেসার্স খান ফ্লওয়ার মিল ও জেকে ট্রেডার্স নামে দুটি পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার পথে বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানের মালিক মো.জামাল উদ্দিন খান। এতে তার কারখানার প্রায় ২ শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মহীন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ভোলার খেয়াঘাট সড়কে অবস্থিত বিসিক শিল্প নগরীতে নিজ প্রতিষ্ঠানের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করেন জামাল উদ্দিন খান। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় মজুদ থাকা ডিজেল শেষ হয়েছে, বর্তমানে কোনো ডিজেল মজুদ নেই। তার পরিপ্রেক্ষিতে আমার নিকটবর্তী নদী ঘাট হতে আমার গুদামে গাড়িতে গম উত্তোলনের জন্য কোনো ডিজেল নেই এবং দুটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্য ময়দা, ভূষি, মুড়ি ভোলার দক্ষিণ আইচা থেকে ইলিশা ফেরিঘাট পর্যন্ত এবং ভোলার আনাচে-কানাচে উৎপাদিত পণ্য নিজ পরিবহনের দ্বারা পৌঁছানো হয়। জামাল খান আরও বলেন, আজ থেকে যদি আমি ডিজেল সরবরাহ না পাই তাহলে ভোলা জেলার চরফ্যাশন, লালমোহন ও বিভিন্ন উপজেলায় আমার প্রতিষ্ঠানে উৎপাদিত পণ্য পৌঁছানো সম্ভব হবে না। ডিজেলের জন্য পণ্য উৎপাদন করতে না পারলে দুঃখের সাথে আমাকে বলতে হচ্ছে দুটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ কর্মহীন হয়ে যাবে। এছাড়া তিনি দাবি করেন, আমি ভোলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ঘুরেও ডিজেল পাচ্ছি না, তারা আমাকে দিচ্ছে না। এছাড়া তার শিল্প প্রতিষ্ঠান দুটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য সরকারের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি। এসময় পণ্য উৎপাদনকারী ওই প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।
02/04/2026
দুই সাংবাদিককে হাতকড়া পরিয়ে হেনস্তা করা কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নূরকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) থেকে প্রত্যাহার করে সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার অফিসে সংযুক্ত হওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব বরমান হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেওয়া হয়। পরে তা 'সরকারি কর্মচারি বাতায়ন' ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়।
আদেশে বলা হয়, বিসিএস ক্যাডারে নিম্নবর্ণিত কর্মকর্তাকে (ফয়সাল আল নূর, ১৯১০৯ সহকারী কমিশনার (ভূমি) চান্দিনা, কুমিল্লা) সহকারী কমিশনার (ভূমি) থেকে প্রত্যাহার পূর্বক সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে পরবর্তী পদায়নের জন্য নামের পাশে বর্ণিত বিভাগের (সিলেট) বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যাস্ত করা হলো। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নূরেকে ফোন করা হলে তিনি কল কেটে দিলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এর আগে গত বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নূরের অফিসে এক নিকটাত্মীয়ের জমির খারিজের বিষয়ে শুনানিতে যান দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার দেবিদ্বার প্রতিনিধি রাসেল সরকার এবং ফেস দ্য পিপলের দেবিদ্বার প্রতিনিধি আব্দুল আলীম। বেলা ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত দুই সাংবাদিককে বসিয়ে রেখে শুনানি না করে নিজের ব্যক্তিগত কাজ করেছিলেন এসিল্যান্ড। এসময় দুই সাংবাদিক জানতে চান তাদের শুনানিটা আজ হবে কিনা। এসময় এসিল্যান্ড দুই সাংবাদিকের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে থাকলে তারা এসিল্যান্ডের বাজে আচরণ ভিডিও করতে থাকেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিকের হাত থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নিতে ধস্তাধস্তি করেন এসিল্যান্ড। পরে থানায় ফোন করে এনে দুই সাংবাদিককে আটকের বিষয়ে বলন। পরে পুলিশ এসে তাদের নিয়ে যায়। এসময় দুই সাংবাদিক এ ঘটনা নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করবেন না মর্মে মুচলেকা রাখেন দুই সাংবাদিকের কাছ থেকে। এ ঘটনায় দেশের শীর্ষ গণমাধ্যমগুলোতে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোচনার সৃষ্টি হয়।
হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতে না পারায় নবজাতককে বিক্রির চাপ
নীলফামারীর ডোমারে মমতা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক প্রসূতি নারীর সিজারের পর বিল পরিশোধ করতে না পেরে নবজাতককে বিক্রি করার জন্য স্বজনদের ওপর চাপ দেওয়ার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সায়লা সাঈদ তন্বী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এতে থানা পুলিশের সদস্যরা সহায়তা করেন।
ভুক্তভোগীর স্বজন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দক্ষিণ গোমনাতি এলাকার কৃষক রাকিবুল হাসানের স্ত্রী হাবিবা সুলতানার গত শুক্রবার রাতে হঠাৎ করে প্রসব বেদনা শুরু হলে তাকে ওই ক্লিনিকে নিয়ে যায় স্বজনরা। পরে সেখানে সিজার শেষে তাকে গত রোববার রিলিজ দেওয়ার কথা ছিল। তবে প্রসূতি ক্লিনিকের বিল পরিশোধ করতে না পারায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাকে রিলিজ না দিয়ে নবজাতককে বিক্রি করে বিল পরিশোধ করার চাপ দেয়।
আরও জানা যায়, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ প্রসূতি ও নবজাতককে রুমের মধ্যে আটকিয়ে রাখেন। পরে সেখানের চিকিৎসক ডা.ফারজানা আফরিন বিল পরিশোধের জন্য বাইরে থেকে কয়েকজন ব্যক্তিকে নিয়ে এসে নবজাতককে ২২ হাজার টাকায় বিক্রির চেষ্টা করেন। পরে ভুক্তভোগী ভ্রাম্যমাণ আদালতকে জানালে তারা এসে ঘটনার সত্যতা পেয়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে ১ লাখ ৫০ টাকা জরিমানা করেন।
এ বিষয়ে ডা. ফারজানা বলেন, বাচ্চা বিক্রি করতে বলেছি এটা সত্য নয়। নির্ধারিত সময়ে রোগী রিলিজ নিতে পারছিল না, তাই বিল পরিশোধের জন্য বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ক্লিনিকটিতে দায়িত্বে অবহেলা, পর্যাপ্ত জনবলের অভাব এবং দায়িত্বরত চিকিৎসক না থাকার মতো বেশ কিছু অনিয়ম ধরা পড়েছে। এসব অনিয়মের জন্য ক্লিনিকটিকে এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং প্রসূতি ও নবজাতককে উদ্ধার করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
30/03/2026
ঈদের এক সপ্তাহ আগে মোটরসাইকেল কেনার কথা ছিল নজরুল ইসলামের। কিন্তু জ্বালানি তেলের সংকটের কথা শুনে সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেন তিনি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পছন্দের ২৫০ সিসি মোটরসাইকেল কিনবেন। তবে কবে নাগাদ জ্বালানি তেলের সংকট ঘুচবে আর কবেই বা তিনি স্বস্তির নিঃশ্বাস নিয়ে সড়কে নতুন মোটরসাইকেল নিয়ে ছুটবেন, সেই প্রশ্ন তার মনে এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে রংপুর নগরীর শাপলা চত্বর হাজীপাড়ায় সিএফ মোটো ব্রান্ডের পিসিডিটি মটরস্ শো-রুমে কথা হয় নজরুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।
কাউনিয়া উপজেলার সারাই ইউনিয়নের মালিয়াটারী মধ্যপাড়ার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, ঈদের চতুর্থ দিনে বিয়ে করেছেন তিনি। ইচ্ছে ছিল পছন্দ করে রাখা মোটরসাইকেল বিয়ের পরদিন কিনবেন। সেই মোটরসাইকেলে সহধর্মীনিকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরতে যাবেন দূরে। কিন্তু জ্বালানি তেলের সংকট আর ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় সেই সিদ্ধান্ত থমকে গেছে তার।
তিনি বলেন, বর্তমানে যেভাবে সারা দেশে জ্বালানি তেলের সংকট প্রকট হচ্ছে, এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেল ছাড়া তো মোটরসাইকেল নিয়ে দূরে কোথাও যাওয়া সম্ভব হয়। আবার জ্বালানি তেল নিতে হলে মোটরসাইকেলের কাগজপত্রও সঙ্গে রাখতে হবে। যদি কষ্ট করে তেল সংগ্রহও করি কিন্তু প্রশাসন পথে গাড়ি আটক করলেও ছাড় পাবো না। উল্টো মামলাসহ জরিমানা কিংবা হয়রানির শিকার হতে হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মোটরসাইকেল কিনবেন তিনি।
নজরুল ইসলামের মতো অনেকেরই শখ পছন্দসই প্রিয় ব্রান্ডের মোটরসাইকেল কেনার। আবার কারও কারও প্রয়োজনের তাগিদেই কিনতে হবে দুই চাকার এই বাহন। কিন্তু জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে অনেক গ্রাহকই এখন মোটরসাইকেল কিনছেন না। বিক্রেতাদের দাবি, যুদ্ধ পরিস্থিতির আগেও যেখানে দিনে ৭-৮টি মোটরসাইকেল বিক্রি হতো তা এখন তা নেমে এসেছে শূন্যে।
মোটরসাইকেল চালক, গ্রাহক ও বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ইরান-ইসরাইলে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে সৃষ্ট অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশে দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট। যার প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা। আর মোটরসাইকেল শো-রুমগুলোতে ব্যবসায় নেমেছে মন্দাভাব।
গণমাধ্যমকর্মী শরিফুল ইসলাম প্রতিদিন পেশাগত কাজে শহর ও গ্রামগঞ্জে ছুটে বেড়ান। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তেল সংকটের কারণে কাজের গতি কিছুটা কমেছে। আগের মতো চাইলেও তিনি দূর-দূরান্তে যেতে পারছেন না। এর কারণ জানতে চাইলে শরিফুল ইসলাম বলেন, আগে তো ইচ্ছে মতো জ্বালানি তেল কেনা যেত। কিন্তু ২০০ টাকার বেশি তেল কেনার সুযোগ নেই। তাও আবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাম্পে অপেক্ষা করতে হবে। কখনো কখনো সেটাও পাওয়া যায় না। এখন তেল পাওয়াটা ভাগ্যের ব্যাপার।
সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রংপুর নগরীর বাংলাদেশ ব্যাংক মোড়ে মেসার্স সিটি ফিলিং স্টেশন, শাপলা চত্বরে মেসার্স ইউনিক ট্রেডার্স ও স্টেশন রোডে ছালেক পাম্পসহ বেশ কয়েকটি পাম্পে শত শত মোটরসাইকেল ও গাড়ির লাইন দেখা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে অনেক গ্রাহককে তেল না পেয়ে ফিরে যেতেও দেখা যায়।
যেসব স্টেশনে তেল সরবরাহ রয়েছে, সেগুলোতেও সীমিত পরিমাণে বিক্রি করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একজন গ্রাহককে সর্বোচ্চ ২০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে তারা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানান।
এদিকে, ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহে শৃঙ্খলা ফেরানোসহ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন। রংপুরের বেশির ভাগ ফিলিং স্টেশনে পুলিশি নিরাপত্তার পাশাপাশি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ট্যাগ অফিসার। জেলার তিনটি জ্বালানি তেল ডিপোতে মোতায়েন করা হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি। এছাড়াও সড়কে শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধে বিশেষ করে অনিবন্ধিত মোটরসাইকেল চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
গতকাল নগরীর ডিসির মোড়, মেডিকেল মোড়, কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল, মর্ডাণ মোড়, সাতমাথা মোড় ও শাপলা চত্ত্বরে মেট্রোপলিটন পুলিশ বিশেষ চেকপোস্ট পরিচালনা করে। এসময় ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকা এবং আইন অমান্য করায় ২১টি মোটরসাইকেল ও ৫টি যানবাহনে মামলা, ২৭টি যানবাহন আটক করা হয়।
এ পরিস্থিতিতে মোটরসাইকেলের ড্রাইভিং লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশনসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের জন্য বিআরটিএ অফিসেও আগের চেয়ে কিছুটা বাড়তি ভিড় বেড়েছে। যদিও বেশির আবেদন আনলাইনে করতে হয় চালকদের।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআরটিএ রংপুর অফিস সূত্র জানিয়েছে, চলতি মাসে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনের জন্য ৪৬৫ আবেদন করেছেন। এছাড়াও চারটি বড় গাড়ির আবেদনও রয়েছে। রমজান, ঈদ ও স্বাধীনতা দিবসের ছুটি থাকার পরও গত মাসের চেয়ে এ মাসে আবেদনের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।
বিআরটিএ রংপুর অফিসের মোটরযান পরিদর্শক মো. মাহবুবার রহমান বলেন, প্রতি মাসে ৪০০ থেকে ৪৫০টি, আবার কখনো কখনো আবেদনের সংখ্যা বেশিও হয়। আনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া সহজ এবং ঝামেলামুক্ত হওয়ায় চালকদের আগ্রহ বেড়েছে। তাছাড়া এখন সচেতনতাও বেড়েছে। মানুষ মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহন নিয়ে সড়কে নেমে কাগজের বিড়ম্বনায় পড়তে চায় না।
এদিকে, দুপুরে বিআরটিএ রংপুর অফিস সংলগ্ন জেলা মডেল মসজিদ চত্বরে ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনকারীদের জটলা দেখা যায়। যাদের অনেকই তাদের কাঙ্ক্ষিত লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিতে এসেছেন। সেখানে আবেদনসহ অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে উত্তীর্ণ চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের কাগজপত্র বিতরণ করা হয়।
রংপুর নগরীর শাপলা সিনেমা টকিজ সংলগ্ন সুজুকি ব্রান্ডের মমতাজ মটরস শো-রুমের ব্যবস্থাপক মারুফ আহমেদ হিরা বলেন, জ্বালানি তেল সংকটের প্রভাবে ব্যবসায় ধস নেমেছে। আগের মতো মোটরসাইকেল বিক্রি নেই বললেই চলে। গত দুই মাসের তুলনায় এ মাসে অর্ধেকে নেমেছে বিক্রি। জ্বালানি তেলের সংকটে সৃষ্ট এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে শো-রুমে সার্ভিসিং ছাড়া বিক্রয় কার্যক্রম শুন্যে নামবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
কথা হয় নগরীর শাপলা চত্বর হাজীপাড়ায় সিএফ মোটো ব্রান্ডের পিসিডিটি মটরস্ শো-রুমের ব্যবস্থাপক তানবীর ফেরদৌসের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমাদের সিএফ মোটো ব্রান্ডের মোটরসাইকেল ২৫০ সিসি থেকে শুরু, এসব মোটরসাইকেলে তেল পরিমাণে বেশি লাগে। বর্তমানে জ্বালানি সংকটের কারণে ব্যবসায় মন্দাভাব যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, রমজানে এবং ঈদের আগে কিছু গ্রাহক মোটরসাইকেল কেনার জন্য বুকিং করেছিল। কিন্তু তেল সংকটের কারণে এখন বিক্রি কমেছে। অনেকে শোরুমে এসে খোঁজ নিচ্ছেন, কিন্তু কিনছেন না। চাহিদা মতো জ্বালানি না পাওয়া ও কাগজপত্রের ঝামেলার কারণে মোটরসাইকেল বিক্রি কিছুটা স্থবির হয়ে গেছে। গত মাসে যেখানে ১৪-১৫টি মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে। এ মাসে ৭-এ দাঁড়িয়েছে সেই সংখ্যা।
রংপুরের জেলা প্রশাসক এনামুল আহসান জানান, জ্বালানি তেল বিপণন পরিস্থিতি দেখাশোনার জন্য ৮৫টি জ্বালানি তেল পাম্পে বিভিন্ন পর্যায়ের ৮৫ জন কর্মকর্তাকে ট্যাগ অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা প্রতিদিন জ্বালানি তেল বিক্রি কার্যক্রম পরিচালনা তদারকি করবেন।
30/03/2026
রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে হামে আক্রান্ত চার শিশু ভর্তি রয়েছে। রোগীদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাম নিয়ে আতঙ্কিত না হলে আক্রান্তদের হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহ থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশু আসতে শুরু করে। রোববার পর্যন্ত হাসপাতালে ৪ হামে আক্রান্ত শিশু ভর্তি হয়েছে।
এর মধ্যে গত ২৩ মার্চ লালমনিরহাট সদর উপজেলার আব্দুস সালামের মেয়ে আমাতুল্লাহ জান্নাত (৮ মাস), ২৫ মার্চ দিনাজপুর পাবর্তীপুরের রণজিৎ রায়ের মেয়ে প্রজ্ঞা রায় (৭ মাস), ২৯ মার্চ গাইবান্ধা সুন্দরগঞ্জের মো. আলামিনের ছেলে আরাফাত (২ বছর) ও ২৯ মার্চ রংপুর নগরীর তাজহাট এলাকার সোহাগ আহম্মেদের ছেলে সাইয়েম আহম্মেদ (৯ মাস) হাসপাতালে ভর্তি হোন। আক্রান্তদের শিশু বিভাগ থেকে স্থানান্তর করে আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আইসোলেশন ওয়ার্ডে শিশুদের জন্য অক্সিজেন সরবরাহসহ চিকিৎসার সার্বিক ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ। রংপুর নগরীর সোহাগ আহম্মেদ বলেন, রোববার সকাল থেকে বাচ্চার শরীরে র্যাশ উঠা শুরু হয়েছে। সকাল ৯টার পর থেকে বেশি পরিমাণ উঠতে শুরু করে। পরে শিশু চিকিৎসককে দেখালে তিনি হামের কথা বলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে বাচ্চার চিকিৎসা চলছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, হাম নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে ৪ জন শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। তাদের শিশু বিভাগের পার্শ্বে একটি আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, রোগীরা যেন ভালো চিকিৎসা পায় সেই লক্ষে হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আনম তানবীর আহমেদকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। রোগীর চাপ বাড়লেও চিকিৎসার জন্য সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the public figure
Website
Address
Dhaka
1207