Smart Bot

Smart Bot

Share

Let's Talk About REALITY.

02/09/2024

ও নারী!
তোমার পিরিয়ড চলাকালীন যেখানে স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি কিংবা অফিসে তুমি একদিনও ছুটি পাও না। সেখানে আল্লাহ তা'আলা ওই সময়টাতে তোমার কষ্টের কথা ভেবে নামাজ, রোজাসহ অন্য ইবাদত সমূহের ক্ষেত্রেও তোমাকে ছাড় দিয়েছেন।
ও নারী!
তোমার রবের এই নিয়ামতের কথা কখনো ভেবে দেখেছো কি? আহা! তোমার রব তোমার প্রতি কত দয়ালু।
সুবহানআল্লাহ!..❤❤

22/08/2024

ইমাম মাহদী আসার আগেই মুসলিম উম্মাহর বিজয়ের ধারা শুরু হয়ে যাবে

18/08/2024

?

17/08/2024

Indeed ❤

16/08/2024

নারীর নিরাপত্তা তার ঘরে, না হয় তার স্বামীর ছায়ায়, আর না হয় কবরে 💥

29/07/2024

মেয়েটি এসে বলল- 'আচ্ছা আমাদের ধর্মে বিয়ের পূর্বে রিলেশন সম্পর্কে হুকুম কি?'
বললাম- 'হারাম।'
সে জিজ্ঞেস করল- 'আমি যদি আল্লাহর ভয়ে হারাম থেকে চলে আসি তিনি আমাকে কি দিবেন?'
ওতোটা গভীরভাবে তার বিষয়টি নিইনি, তবুও বলেছিলাম-
ولمن خاف مقام ربه جنتن
"আর যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের নিকট উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে, তার জন্য রয়েছে দু'টি (জান্নাতে) বাগান।'
(সূরা আর-রাহমান : ৪৬)
ওয়াল্লাহি আমি কখনো ভাবতে পারিনি মেয়েটি হারাম ছেড়ে বেলা ফুরাবার আগে তার আসল নীড়ে ফিরবে।
পরদিন ক্লাসে সে নিরবে পাশে এসে আমার দু-হাত শক্ত করে ধরে কান্নাভেজা কণ্ঠে বলল- 'আমি আল্লাহর ভয়ে ৮ বছরের সম্পর্ক ছেড়ে দিয়েছি, প্লিজ বলো আল্লাহ কি আমাকে সে দু'টি বাগান দিবেন??'
- উম্মে আমারাহ।
©

28/07/2024

‘মুখমণ্ডল’ পর্দার অন্তর্ভুক্ত!

মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَائِهِنَّ أَوْ آبَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ أَبْنَائِهِنَّ أَوْ أَبْنَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي أَخَوَاتِهِنَّ أَوْ نِسَائِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ أَوِ التَّابِعِينَ غَيْرِ أُولِي الْإِرْبَةِ مِنَ الرِّجَالِ أَوِ الطِّفْلِ الَّذِينَ لَمْ يَظْهَرُوا عَلَى عَوْرَاتِ النِّسَاءِ وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِنْ زِينَتِهِنَّ وَتُوبُوا إِلَى اللهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ.

‘মুমিন নারীদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। তারা যেন যা সাধারণত প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের ওড়নার আঁচল নিজ বক্ষদেশে নামিয়ে দেয় এবং নিজেদের ভূষণ যেন স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভাই, ভাতিজা, ভাগিনা, আপন নারীগণ, যারা নিজ মালিকানাধীন যৌনকামনা জাগে না এমন খেদমতগার এবং নারীদের গোপনীয় অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ বালক ছাড়া আর কারও সামনে প্রকাশ না করে।
মুসলিম নারীদের উচিত ভূমিতে এভাবে পদক্ষেপ না করা, যাতে তাদের গুপ্ত সাজ জানা হয়ে যায়।
হে মুমিনগণ! তোমরা সকলে আল্লাহর কাছে তাওবা করো, যাতে তোমরা সফলতা অর্জন করতে পারো।’

এই আয়াতে ‘স্বভাবতই যা প্রকাশিত থাকে তা ব্যতীত’ দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে মূলত এটাকে কেন্দ্র করেই ফুকাহায়ে কেরামের মধ্যে ইখতিলাফের সৃষ্টি।
কিন্তু এই মত-ভিন্নতার প্রকৃতিটা বোঝা আমাদের জন্য জরুরি।
এটা সত্য যে, পূর্ববর্তী ইমামদের মাঝে মুখ পর্দার অন্তর্ভুক্ত হওয়া নিয়ে ইখতিলাফ ছিল।
কিন্তু তাদের সবার কাছে মুখ ঢাকাই উত্তম হিসেবে বিবেচিত হতো।
এমনকি পরবর্তী অধিকাংশ উলামায়ে কেরাম মুখ ঢাকাকে ওয়াজিব হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

পূর্ববর্তী ফিকহের কিতাবে মতবিরোধের দেখা মিললেও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জমানা থেকে আধুনিক ইতিহাসের সূচনা পর্যন্ত মুসলিম উম্মাহর তাওয়ারুসি তথা প্রজন্ম পরম্পরায় আমল ছিল মুখ ঢাকা।
এটাই ছিল মুসলিম নারীসমাজের চিত্র।
এজন্য অনেকে মুখ ঢাকার ওপর মুসলিম উম্মাহর ইজমায়ে আমালী দাবী করেছেন। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে মুমিনদের নীতি ছিল স্বাধীন মহিলারা মুখসহ পুরো শরীর ঢেকে রাখত।’

ইমাম ইবনে আরসালান রহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘নারীরা চেহারা খুলে ঘর থেকে বের হবে না—এই ব্যাপারে মুসলিমরা একমত।’

ইমাম আবু হামিদ আল গাজালি রহিমাহুল্লাহ বলেন, সব যুগেই মুসলিম পুরুষরা চেহারা খোলা রাখত আর নারীরা ঢেকে রাখত।

ইমাম আবু হাইয়্যান আল আন্দালুসি রহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘স্পেনের মুসলিম নারীদের রীতি ছিল তারা এক চোখ ছাড়া পুরো শরীর ঢেকে রাখতেন।’

ইমাম মাওযিয়ি আশ শাফেয়ি রহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘আগে পরে সব যুগে, সব দেশে এটাই ছিল মুসলিমদের আমল।
তারা বৃদ্ধাদের মুখ খুলতে দিতেন এবং তরুণীদের মুখ খোলার অনুমতি দিতেন না; বরং এটাকে খারাপ কাজ মনে করতেন।’

সালাফদের কিতাবে এমন অসংখ্য বক্তব্য ও ঘটনা আছে, যা থেকে এটা স্পষ্ট যে, নববি যুগ থেকে আধুনিক ইতিহাস পর্যন্ত মুখ ঢাকার ওপরই মুসলিম নারীদের আমল ছিল।
প্রজন্ম পরম্পরায় মুসলিম উম্মাহর এই আমল থেকে স্পষ্ট যে, উম্মাহর ফকিহরা এই মাসআলায় কোন মতের ওপর উম্মাহকে নির্দেশনা দিয়েছেন এবং কোন মতকে তারা সমাজে বাস্তবায়িত রেখেছেন। তারা উম্মতকে সেই মতের ওপরই আমল করার নির্দেশ দিয়েছেন, যেই মত উম্মাহর পবিত্রতা ও মর্যাদা রক্ষা করবে।
তবে এই বিষয়টিও স্বীকৃত যে, চার মাযহাবের পরবর্তী ইমামরা আধুনিক যুগে মুখ ঢাকাকে ওয়াজিব হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
অল্প কিছু আলেম ব্যতিক্রম মত দিয়েছেন।

নববি যুগ থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত গাইরে মাহরামদের সামনে মুখ খোলা কখনোই মুসলিম নারীদের সংস্কৃতি ছিল না।
মুখ খোলার ব্যাপারে দায়িত্বশীল পুরুষ ও মুখ আবৃতকারী নারীর মাঝে এতটাই আত্মমর্যাদাবোধ ছিল যে, তারা এটার কল্পনাই করতে পারত না।
এই ব্যাপারে ইবনুল জাওযি রহিমাহুল্লাহ খুব সুন্দর একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন।

২৮৬ হিজরিতে কাজি মুসা ইবনে ইসহাকের দরবারে একজন নারী তার অভিভাবকসহ একটা মুকাদ্দামা নিয়ে আসল।
তিনি মুকাদ্দামা পেশ করতে বললে নারীর পিতা বলল, তার মেয়ে স্বামীর কাছ থেকে মহর বাবদ ৫০০ দিনার পায়।
স্বামী তা অস্বীকার করল।
এরপর কাজি নারীপক্ষকে বলল, তোমাদের সাক্ষী আছে?
মেয়ের অভিভাবক বলল, হ্যাঁ, আমরা সাক্ষী নিয়ে এসেছি।
তখন কোনো এক সাক্ষী মেয়েটাকে দেখতে চাইল, যেন সে নিজের সাক্ষীর ব্যাপারে পরিষ্কার হতে পারে।
এরপর ওই সাক্ষী মেয়েটাকে দাঁড়াতে বলল।
তখন তার স্বামী দাঁড়িয়ে গিয়ে বলল, তোমরা এসব কী করছ?
তখন উকিল বলল, তারা তোমার স্ত্রীকে মুখ খোলা অবস্থায় দেখতে চায়, যেন তারা তাকে চিনতে পারে।
স্বামী বলল, আমি কাজি সাহেবকে সাক্ষী রেখে বলছি যে, আমার স্ত্রী যেই মোহর আমার ওপর দাবি করেছে, সে আমার থেকে তা প্রাপ্য।
তার চেহারা খোলার কোনো প্রয়োজন নেই।
স্বামীর এই গায়রতপূর্ণ আচরণ দেখে স্ত্রী বলে উঠল, আমিও কাজি সাহেবকে সাক্ষী রেখে বলছি, এই মোহর আমি তাকে হাদিয়া দিয়ে দিলাম এবং দুনিয়া ও আখেরাতে এর দায় থেকে তাকে মুক্ত করে দিলাম।

মূলত প্রজন্ম পরম্পরায় সতরের প্রতি এটাই ছিল মুসলিম উম্মাহর গাইরাত।
মুখ খোলার প্রশ্ন কিংবা মুসলিম নারীদের সৌন্দর্য প্রদর্শন ও ফ্রি-মিক্সিংয়ের যেই সংস্কৃতি, এটা শুরুই হয়েছে ঊনবিংশ শতাব্দীতে মুসলিম দেশগুলোতে ইউরোপীয় উপনিবেশবাদ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে। মুসলিম দেশগুলোতে উপনিবেশ আমলের শুরু পর্যায়ের প্রামাণ্যচিত্রগুলোও আমরা যদি ঘেটে দেখি, তখন আমাদের সামনে বিভিন্ন দেশের মুসলিম নারীদের আপাদমস্তক আবৃত চিত্রই নজরে আসবে। রাস্তাঘাট, বাজার সর্বত্র মুসলিম নারীদের আমরা এই পোশাকেই দেখতে পাব।

আমরা যদি মাকাসিদে শরিয়াহর আলোকে মুখ খোলা রাখা প্রসঙ্গটির দিকে দৃষ্টি দিই, তাহলে দেখব বর্তমানে মুখ খোলা রাখা নিশ্চিতভাবে মাকাসিদে শরিয়ায় উত্তীর্ণ হয় না।
ইসলামি শরিয়ায় পর্দার বিধানের উদ্দেশ্য হলো, নারীর সৌন্দর্যকে গাইরে মাহরাম পুরুষ থেকে আবৃত রাখা।
যেন নারীর প্রতি পুরুষের স্বভাবজাত যেই আকর্ষণ সেটা নিয়ন্ত্রিত থাকে এবং কোনো অঘটন না ঘটে।
আর একজন নারীকে পছন্দ হওয়া কিংবা তার প্রতি প্রাথমিক আকর্ষণ তৈরি হওয়ার ক্ষেত্রে তার চেহারার দর্শনই প্রধান ভূমিকা রাখে। চেহারা ঢেকে রাখাই মাকাসিদে শরিয়াহর দাবি।

এখানে আরেকটা বিষয় হলো, আমরা যারা ইখতিলাফের দোহাই দিয়ে চেহারা খুলে রাখার সুবিধা গ্রহণ করতে চাই, তাদের অধিকাংশই আসলে এই মতটা এই জন্য গ্রহণ করছেন না যে, মতটা শরিয়াহর সার্বিক দলিলসমূহ দ্বারা প্রমাণিত; বরং নিজের অবস্থান কিংবা প্রবৃত্তিকে বহাল রাখার জন্য এই সুবিধাটা গ্রহণ করা হচ্ছে। আবার যারা মুখ খোলা রাখার মত বর্ণনা করেন, তাদের অনেকেই অত্যন্ত সাধারণভাবে বিষয়টাকে উপস্থাপন করেন। খোলা রাখার মত গ্রহণ করলেও যে এখানে অনেক শর্ত ও নীতিমালা আছে, সেটা তাদের বক্তব্যে উঠে আসে না।
যেমন, চুল ও কান সতরের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ব্যাপারে কারও দ্বিমত নেই। কিন্তু অনেক নারী মুখ খোলা রাখতে গিয়ে মাথার উপরিভাগের চুলকেও প্রকাশ করেন, আবার কানকেও খোলা রাখেন।
যা সবার ঐক্যমতে হারাম।
আবার যেই মতে মুখমণ্ডলকে স্বভাবতই প্রকাশিত থাকা হিসেবে মুখ খোলা রাখা বৈধ হওয়ার কথা বলা হয়েছে, সেখানেও যদি কোনো প্রকার কৃত্রিম সৌন্দর্য, মেকাপ বা অন্য যেকোনো প্রকার সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়, তাহলে তা প্রকাশ করা হারাম হয়ে যাবে।
কারণ তাদের মতে তখন সেটা আর স্বাভাবিক সৌন্দর্য থাকবে না।
এজন্য তাদের মতে অনুমোদিত অংশগুলোও কোনো প্রকার সাজসজ্জা ছাড়া প্রকাশ করতে হবে।
(কুরআন-সুন্নাহর আলোকে পোশাক, পর্দা ও দেহ-সজ্জা, ২৬৮ পৃষ্ঠা।
আল মারআতু বাইনাল ফিকহি ওয়াল কানুন, পৃষ্ঠা ১২৫; আমালুল মারআতি ওয়া ইখতিলাতুহা, পৃষ্ঠা ৭৫)

বর্তমানে যারা মাথা ঢেকে মুখ খুলে বের হয়, তাদের কেউই সৌন্দর্যবর্ধনকারী জিনিস ব্যবহার করা ছাড়া বের হয় বলে মনে হয় না।
যদিও এরকম কাউকে পাওয়া যায়, তবে সেটা একদমই বিরল ঘটনা।
সুতরাং জমহুর উলামায়ে কেরামের মতই নিরাপদ ও বাস্তবতার আলোকে উত্তীর্ণ। কিছু আলেমদের যেই মত, সেই মত অনুযায়ীও মুখ খোলা রাখা অবস্থায় সতরের শরয়ি বিধান পালিত হচ্ছে না।

এখানে আমরা উভয় পক্ষের দলিলসমূহ এনে পর্যালোচনা করে আলোচনা দীর্ঘ করতে চাচ্ছি না।
এর উপযুক্ত স্থানও এটি নয়।
তবে আমরা সংশ্লিষ্ট মাসআলায় উত্তম সিদ্ধান্তে পৌঁছার জন্য মৌলিক কিছু বিষয় তুলে ধরলাম।
নিষ্ঠার সাথে আমরা যদি বিবেচনা করি, তাহলে আমাদের সামনে মুখ ঢাকার মতটিকেই বিশুদ্ধ ও উম্মাহর জন্য কল্যাণকর মনে হবে।
মাকাসিদে শরিয়াহ, উম্মাহর সুদীর্ঘকালের আমল ও বর্তমান সমাজের অবস্থা সর্বদিক বিবেচনায় মুখ ঢাকাই ইসলামি শরিয়াহর প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত এবং উসুলে ফিকহের দৃষ্টিতে মুখ ঢাকা ওয়াজিবের পর্যায়ভুক্ত। বৃদ্ধ নারী, যাদের দেখে আকর্ষিত হওয়ার সুযোগ নেই, তাদের জন্য কিংবা একান্ত প্রয়োজনের সময় মুখ খোলা রাখার মতের ওপর আমল করা যেতে পারে।

বর্তমানে মডার্নিস্ট কিছু মুসলিমের পক্ষ থেকে একটি অবান্তর দাবি করা হয়।
সেটা হলো, নিকাব বা হিজাবের বিধান কেবল রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের জন্য বিশেষ বিধান। বাকি মুসলিম মেয়েরা এই বিধানের আওতাভুক্ত নয়।
মূলত এই ধরনের আপত্তি সাহাবাদের যুগ থেকে নিয়ে উপনিবেশ আমলের আগ পর্যন্ত মুসলিম-সমাজে প্রচলিত ছিল না। উপনিবেশের আমলে পশ্চিমা সভ্যতা দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কিছু মুসলিম মুসলিম-সমাজের ভেতর এই আপত্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছে।
এর মধ্যে কাসিম আমিনের নাম সবিশেষ উল্লেখযোগ্য, বইয়ের ভূমিকাতে যার আলোচনা আমরা করে এসেছি।
কাসিম আমিন তার লিখিত তাহরিরুল মারআহ গ্রন্থে এই দাবি করে মুসলিম নারীদের পশ্চিমা নারীদের মতো সৌন্দর্য প্রকাশ করার জন্য উদ্বুদ্ধ করে।

তখনকার সময়ের বিখ্যাত আলেমে দীন, উসমানি খিলাফার একজন বিচারক শাইখুল ইসলাম মুস্তফা আস সবারি তার বিশ্ববিখ্যাত কিতাব মাওকিফুল আকলি ওয়াল ইলমি ওয়াল আলামি এর ভেতর কাসিম আমিনের এই দাবির খণ্ডন করেছেন।
তিনি বলেন, ‘কাসিম আমিন তার বইয়ে মুসলিম নারীদের হিজাব ও পুরুষদের থেকে তাদের দূরে থাকার যে বিধান, তার ওপর নগ্ন আক্রমণ চালিয়েছে।
সে পশ্চিমা নারীদের মতো সৌন্দর্য প্রদর্শনের পক্ষে প্রতিরোধকারী হিসেবে নিজেকে আত্মপ্রকাশ করেছে।’

তার মতে মুসলিম-সমাজে প্রচলিত যে হিজাব, সেটা উম্মাহাতুল মুমিনিনের সাথেই খাস।
তার এই দাবির পক্ষে সে সুরা আহযাবের ৩২ এবং ৫৩ নং আয়াত দিয়ে দলিল পেশ করে।
তার যুক্তি হলো, এই আয়াতে যে সর্বনাম ব্যবহার করা হয়েছে, তা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের উদ্দেশ্য করে।
এজন্য আয়াতে উল্লিখিত বিধিনিষেধ বিশেষভাবে তাদের জন্যই আরোপ হবে, অন্য কোনো মহিলার জন্য নয়।
আমরা বলব, সুরা আহযাবের ৩২ নং আয়াতে মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘হে নবীপত্নীরা, তোমরা অন্যান্য মহিলাদের মতো নও।’
এখানে উনাদের বিশেষত্ব আদেশ-নিষেধের ক্ষেত্রে নয়; বরং এই বিশেষত্বের সম্পর্ক তাদের পূণ্য ও পাপের বদলার সাথে।
যা মহান আল্লাহ তাআলা সুরা আহযাবের ৩০ এবং ৩১ নং আয়াতে বলেছেন।
৩২ নং আয়াতের পর যেসব বিধিনিষেধ এসেছে, এর সাথে ৩২ নং আয়াতের প্রথম অংশের কোনো বিশেষত্ব নেই।
আর সেই বিধিনিষেধগুলো হলো—

‘হে নবী পত্নীগণ! তোমরা সাধারণ নারীদের মতো নও, যদি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো।
সুতরাং তোমরা কোমল কণ্ঠে কথা বলো না, পাছে অন্তরে ব্যাধি আছে এমন ব্যক্তি লালায়িত হয়ে পড়ে।
আর তোমরা বলো ন্যায়সঙ্গত কথা।
নিজ গৃহে অবস্থান করো, (পর-পুরুষকে) সাজসজ্জা প্রদর্শন করে বেড়িও না, যেমন প্রাচীন জাহেলী যুগে প্রদর্শন করা হতো। নামাজ কায়েম করো, জাকাত আদায় করো এবং আল্লাহ ও তার রাসুলের আনুগত্য করো।
হে নবী পরিবার (আহলে বাইত)! আল্লাহ তো চান তোমাদের থেকে মলিনতা দূরে রাখতে এবং তোমাদেরকে এমন পবিত্রতা দান করতে, যা সর্বতোভাবে পরিপূর্ণ হবে।’

যদি এই আয়াতের বিধানগুলো উম্মাহাতুল মুমিনিনের সাথে খাস হয়, তাহলে কি মুসলিম নারীদের পুরুষদের আকর্ষণ করার জন্য নম্র স্বরে কথা বলা, সৎ কথা না বলা, ঘরে অবস্থান না করা, জাহিলিয়াতের মতো নিজেদের সৌন্দর্য প্রদর্শন করা, সালাত না পড়া, জাকাত না দেওয়া, এমনকি আল্লাহ ও তার রাসুলের আনুগত্য না করা—এ সবকিছু বৈধ হয়ে যাবে?

তারপর ৫৩ নং আয়াতে বলা হয়েছে,
وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَاسْأَلُوهُنَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ ذَلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ .

‘নবীর স্ত্রীগণের কাছে তোমাদের কিছু চাওয়ার থাকলে পর্দার আড়াল থেকে চাবে। এ পন্থা তোমাদের অন্তর ও তাদের অন্তর অধিকতর পবিত্র রাখার পক্ষে সহায়ক হবে।’

রাসুলের স্ত্রী, যারা এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ নারী এবং রাসুলের সাথিবর্গ, যারা উম্মাহর শ্রেষ্ঠ অংশ হওয়া সত্ত্বেও অন্তরের পবিত্রতা কি কেবল তাদেরই প্রয়োজন, আর বাকি মুসলিম নারী-পুরুষের অন্তরের পবিত্রতার প্রয়োজন নেই?

সুতরাং উপরোক্ত আলোচনা থেকে বোঝা গেল, সুরা আহযাবে হিজাবের যেই বিধান, সেটা উম্মাহাতুল মুমিনিনের জন্য বিশেষ বিধান নয়; বরং সমস্ত মুসলিম নারীদের জন্যই এই বিধান প্রযোজ্য।
কিন্তু কাসিম আমিন নিজের প্রবৃত্তিকে প্রচারের জন্য আকল ও বুঝ-শক্তির ভুল ব্যবহার করেছে এবং আল্লাহর কালামে বিকৃতি সাধন করেছে।

সুরা আহযাবেই আরেকটি আয়াত আছে, যেটি কাসিম আমিনের দাবিকে খণ্ডন করে দেয়।
সেই আয়াতে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হিজাব সকল মুসলিম নারীর জন্য আবশ্যক।
নবীপত্নী ও অন্যান্য নারীর মাঝে এই বিধান প্রযোজ্য হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য নেই।
মহান আল্লাহ তাআলা বলেন,
يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ ذَلِكَ أَدْنَى أَنْ يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ وَكَانَ اللهُ غَفُورًا رَحِيمًا.
‘হে নবী! তুমি তোমার স্ত্রীদের, তোমার কন্যাদের ও মুমিন নারীদের বলে দাও, তারা যেন তাদের চাদর নিজেদের (মুখের) ওপর নামিয়ে দেয়।
এ পন্থায় তাদের চেনা সহজতর হবে, ফলে তাদের উত্যক্ত করা হবে না।
আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’

এর থেকে সুস্পষ্ট বিধান আর কী হতে পারে!
‘জালাবিব’ শব্দটি ‘জিলবাব’ এর বহুবচন। আর ‘জিলবাব’ ওই চাদরকে বলে, যার ভেতর নারীর পুরো শরীর আবৃত থাকে।
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা কেবল জিলবাবের কথা উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হননি; বরং সেই চাদরকে মাথার ওপর দিয়ে ঝুলিয়ে দিতে বলেছেন।
যেন চেহারাও চাদরে আবৃত হয়ে যায়।
(মাওকিফুল আকলি, ওয়াল ইলমি ওয়াল আলামি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪১১-৪১২; ইসলাহি খুতুবাত, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৬৭-১৭০)

সোর্সঃ ‘আধুনিক প্রাচ্যবাদের কবলে মুসলিম নারী সমাজ’ - বইয়ের পরিশিষ্ট থেকে।

লেখকঃ হাসসান বিন সাবিত

28/07/2024

Indeed

Want your business to be the top-listed Media Company in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Website

Address

Dhaka