Golam Rabbii
Motivation & Writing চাকরি করবো না, চাকরি দেব ।
ওস্তাদ ত্বকি ওসমানী তখন ছাত্র । একদিন তার শিক্ষক তাকে বললেন আজকে তোমাকে আমি খুব বড় একটা উপহার দিব । উপহার বলতে আমরা সাধারণত যা বুঝি, ওস্তাদ ত্বকি ওসমানী সেরকম কিছু একটা ভেবে ভীষণ এক্সাইটেড ।
কিন্তু ওস্তাদ ত্বকি ওসমানী যার ছাত্র তিনি তো আর সাধারণ কোন শিক্ষক নন । তার উপহারটা একটু ব্যতিক্রম হবে এটাই স্বাভাবিক ।
তিনি বললেন 'আজ থেকে তুমি চার নিয়তে দু'রাকাত করে ৮ রাকাত নামাজ পড়বে প্রতিদিন ।
প্রথম দু'রাকাত আল্লাহর সকল নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে ।
দ্বিতীয় দুই রাকাত সকল প্রকার গুনাহের ক্ষমা প্রার্থনা করে ।
তৃতীয় দুই রাকাত সকল বিপদ আপদ মুসিবত দুঃখ কষ্ট অস্থিরতা পেরেশানি অসুস্থতা সহ সকল অশান্তি থেকে মুক্তি চেয়ে ।
চতুর্থ দু'রাকাত দুনিয়া এবং আখেরাতে তোমার যা প্রয়োজন, জানা অজানা সে সকল প্রয়োজনের প্রার্থনায়।
/
চিন্তা করে দেখলাম, প্রতিদিন এই আট রাকাত নামাজ যদি পড়া যায় আর যা যা চেয়ে এই ৮ রাকাত নামাজ পড়া হচ্ছে যদি আল্লাহ তা দিয়ে দেন তাহলে আর বাকি থাকে কি ?
যদি একসাথে আট রাকাত পড়া যায় তো ভাল আর যদি ব্যস্ততা থাকে তবে যোহর, আসর, মাগরিব, এশা প্রতি রাকাতে ওয়াক্তের বাকী সুন্নতের সাথে দুই দুই করে পড়ে ফেললে তো হয়েই যায় ।
আল্লাহ আমাকে তৌফিক দিন ।
আমিন ।
/
‘যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান?’ বিবেকবান লোকেরাই কেবল উপদেশ গ্রহণ করে।' সূরা যুমার : ৯ ।
জামাতে নামাজের ফুটেজ চেক করতে বলেছে, আমি যদি নামাজ পড়ি তবে আমি ছাত্র শিবির কর্মী - রিমান্ডে থাকা অবস্থায় বর্ণনা দিতে গিয়ে টিভি সাক্ষাৎকারে কিশোর ফাইয়াজ ।
আমি ছয় মাস গোসলখানায় ফজরের নামাজ পড়েছি। ছাত্রলীগের ছেলেরা মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতো, যে নামাজ পড়ে সেই শিবির কর্মী - জহুরুল হক হলের এক শিক্ষার্থী । ২০১০-১১ সেশন ।
ভেতর থেকে ডাকলে একজন আসে । আমি তখন তার কাছে একটি কোরআন শরীফ চাই । সে বলে 'কুরআন শরীফ দিয়ে কি হবে ?' আমি বললাম ' রমজান মাস একটু কোরআন পড়তে ইচ্ছে করছে ।' সে বলল 'কুরআন পড়ে কি হবে, তোর আল্লায় তোরে বাঁচাইতে পারবো - আয়না ঘর থেকে মুক্তি পাওয়া তানভীর মাহতাব ।
যারা পর্দা করে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি না হয়ে বাসায় পড়াশোনা করা উচিত - অধ্যাপক ওয়াহিদুজ্জামান চাঁন , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ।
ঢাবি'তে কোরআন তেলাওয়াত অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া ছাত্রদের শাস্তি চেয়ে ডিনের চিঠি- কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আব্দুল বাসির ।
আয়না ঘরের ভিতরে বড় ফ্যান চালিয়ে রাখা হতো যাতে ভেতরে শব্দ বাহিরে না যায় । একবার পনেরো মিনিটের জন্য ফ্যান নষ্ট ছিল, তখন মসজিদের মাইক থেকে সেহেরির জন্য ডাকা হচ্ছিল শুনে বুঝলাম রমজান মাস চলছে - আয়না ঘর থেকে মুক্তি পাওয়া বন্দী
৩৮ তম বিসিএসে প্রথম হয়েও বাদ পড়লেন মারুফ কোরআনের হাফেজ হওয়ার কারণে ।
বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার নামাজী ছিল । ভারতের শোষণ নিয়ে লিখতো তাই ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করল শিবির ট্যাগ দিয়ে ।
আশেপাশে মসজিদ ছিল, হালকা আজান শোনা যেত । তখন তারা জোরে মিউজিক ছেড়ে যেত যাতে আজান শুনতে না পারি - এনটিভিতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আয়না ঘরের বন্দী ব্যারিস্টার আরমান ।
Loading...
বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন ও জাতীয় সংগীত আমার সোনার বাংলা :
এ দেশের হিন্দু মুসলিম বাংলা ভাষাভাষীরা ছিল কলকাতা নির্ভর । এ কারণে আমরা ছিলাম শোষিত,বঞ্চিত, পিছিয়ে পড়া । এ শোষণ থেকে মুক্তি পেতে এবং এই অঞ্চলের মানুষের উন্নতির জন্য যেসব মুসলিম নেতা বঙ্গভঙ্গের ডাক দেন তাদের ভেতর অন্যতম নবাব সলিমুল্লাহ ।
এবং সেটা ১৯০৫ হয়ে তারপরে ১৯৪৭ সাল, পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি, এরপর বাংলাদেশ । বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের হাত ধরেই বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সৃষ্টি । বঙ্গভঙ্গ অস্বীকার করা মানে আপনার সৃষ্টিকে অস্বীকার করা ।
যেসব জমিদার রাজা সে সময় বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের ঘোর বিরোধিতা করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাদের অন্যতম ।
আমার সোনার বাংলা বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত মূলত বঙ্গমাতা সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক ১৯০৫ সালে রচিত হয়। বাউল গায়ক গগন হরকরার গান "আমি কোথায় পাব তারে" থেকে এই গানের সুর ও সঙ্গীত উদ্ভূত। ১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের বিরোধিতার পরিপ্রেক্ষিতে এই গানটি রচিত হয়েছিলো।
১৯৪৭ এর সফল বঙ্গভঙ্গের পর এ অঞ্চলের মানুষের শিক্ষা দীক্ষার কথা চিন্তা করে নবাব সলিমুল্লাহ এ দেশে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপনের প্রস্তাব তোলেন । তারই পরিপ্রেক্ষিতে আজকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় । আর এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় আপত্তি এবং প্রচন্ড বিরোধিতা করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।
এ কেমন পরিহাস, যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রবীন্দ্রনাথের বিরোধীতার উপর দাঁড়িয়ে আছে, আজ সে বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্রনাথকে দেবতা মানা হয় আর আমরা ভুলে গেছি আমাদের নবাব সলিমুল্লাহ কে ।
এ কেমন নির্মম পরিহাস, দেশ স্বাধীন হলো ১৯৭২ সালের মন্ত্রিসভার প্রথম অধিবেশনে জাতীয় সংগীত হিসেবে রবীন্দ্রনাথের 'আমার সোনার বাংলা গানের' প্রথম ১০ লাইন অনুমোদিত হয় ।
যে গানের সৃষ্টি তোমার সৃষ্টিকে বিরোধিতা করে, তোমার সৃষ্টি হওয়ার পরে সে গানকে তোমার জাতীয় সংগীত হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া হলো, মূলত এটা ছিল এদেশে ভারতীয় আগ্রাসনের শুরু ।
রবি বাবু শুধু এই বাংলাদেশের বিরোধী ছিল না , এ নির্যাতক জমিদার ছিল প্রচন্ড মুসলিম বিদ্বেষী মূলত, সে ছিল সাম্প্রদায়িক কবি ।
আর সকল সম্প্রদায়ের ঊর্ধ্বে ছিলেন আমাদের কবি কাজী নজরুল ইসলাম । তিনি হিন্দু নিয়ে লিখেছেন, মুসলিম নিয়ে লিখেছেন, তিনি মানুষ নিয়ে লিখেছেন । তিনিও এদেশে উপেক্ষিত ।
চল চল চল!
ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল
নিম্নে উতলা ধরণি তল,
অরুণ প্রাতের তরুণ দল
চল রে চল রে চল
চল চল চল।।
ঊষার দুয়ারে হানি' আঘাত
আমরা আনিব রাঙা প্রভাত,
আমরা টুটাব তিমির রাত,
বাধার বিন্ধ্যাচল।
নজরুলের এই সৃষ্টি এদেশের মানুষের বুকে আগুন ধরিয়ে দেয়, স্বাধীনতা আর নব উদ্যমের । আমাকে অস্বীকার করা ঘুম পাড়ানীর গানের পরিবর্তে নজরুলের এই চল চল .. কেই জাতীয় সংগীত করা হোক ।।
Click here to claim your Sponsored Listing.