Rifah Ratri
Introvert ✨ Artist ✨ Crafter ✨
18/02/2025
নিদারুণ ভাবে আপনার ভালোবাসায় বুদ হইয়া আমি নিজেরে হারাইয়া ফেললাম 💜
Mehendi by: Khubsoorat by Khushy 🥰
#
নিজেরে কয়েক টুকরো করে ফেলা স্মৃতির সাথে নিজেরে দাফন করতে পারলে এই জীবনের অর্ধেক চাওয়াই বুঝি পূরণ হইয়া যাইতো!
24/12/2024
একটা বয়স একটা সময়ের পর আমরা সব মানুষই নদী হয়ে যাই আবার কেউ হই সমুদ্র.........
সমুদ্রের জোয়ার ভাটার মত জীবনের জোয়ার ভাটার পর্ব পুনরাবৃত্তি হয়
বালুরাশির নিচে চাপা পড়ে যায় একরাশ অভিমান অভিযোগ অনুনয়
সমুদ্রের গভীরতার মত আমাদের গভীরতাও বাড়ে........
আমরা বয়সের সাথে জীবনের ভার গভীরতা বয়ে বেড়াতে শিখে যাই .....
11/12/2023
বাবা আমার আত্মচিৎকার না শুনেই মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিয়ে চলে গেলেন।আমি এত করে ডাকার পরেও এই ঘরের দিকটায় কেউ এলো না।
পাশের ঘরে গিয়ে বললেন,"ওমন মেয়ে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো।ওই ঘরের দরজা কেউ খোলার দুঃসাহস ও দেখাবে না।"বাড়ির সবাই বাবাকে জমের মত ভয় পায়।তাই সত্যিই আর কেউ ওই দুঃসাহস দেখায়নি।
সেদিনের কথাটা আজও আমার কানে বাজে জানিস প্রান্ত। ওই ছোট্ট মেয়েটার আত্ম চিৎকার আমাকে তাড়া করে বেড়ায়। সেই যে আজ থেকে বছর ত্রিশেক আগে ও আমায় দেখে বলেছিল,"দিদিভাই আমার খুব কষ্ট হচ্ছে।আমাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যা।"আমি ওর কথা শুনে ওর দিকে তাকিয়ে ছিলাম শুধু।এর বেশি কিছু করার সাধ্য আমার মধ্যে ছিলোনা তখন।" গল্পটা আমার ছেলেকে যখন বলছিলাম ও মাথা নিচু করে বসে ছিল।
কী জানি পুরুষ মানুষ হিসেবে হয়তো নিজেকে নিজের কাছে ছোট মনে করছিল ও। আমি জানিনা ও হয়ত ভেতরে ভেতরে নিজেকে ধিক্কার দিচ্ছিলো।আমি আবার বলতে শুরু করলাম,"আমি তখন পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ি।তখন কেবল বুঝতে শিখেছি আমার খেলার সাথীদের মধ্যেও যে একদল আছে যারা আমার মতই মানুষ। তবে তারা পুরুষ মানুষ।তাদের ওপরে কখনো কোনো কথা বলতে নেই।তাদের পায়ের নিচে আমাদের পরে থাকতে হবে।তারা বেশি শক্তিশালী। সমাজটাকে তারা নিয়ন্ত্রণ করে।একটা পুরুষ ইভটিজিং করলেও তোর প্রতিবাদের অধিকার নেই।এসব শিখেছি তখন। ব্যাপার গুলো আমার কাছে সত্যিই অযৌক্তিক মনে হতো। এই ব্যাপারে মাকে কিছু বলতে গেলে মা বলতেন ,"মেয়ে মানুষকে এত কথা বলতে নেই।"
এভাবেই চলতে চলতে আমি পঞ্চম ষষ্ঠ সপ্তম শ্রেণী পেরিয়ে অষ্টম শ্রেণীতে উঠলাম। আমার সব বান্ধবীরই
প্রায় বিয়ে হওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে তখন। আমিসহ তখন আমার মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন বান্ধবী শুধু অবিবাহিত। কাছের বান্ধবী বলতে শুধু রিতাই ছিল। এক মাসের মধ্যে ওর বিয়ে হয়ে গেল। আমি তখন ভীষণ একা হয়ে গিয়েছিলাম। কেননা সেই ছোট্টবেলা থেকে রিতা আর আমি একসাথে বড় হয়েছি আর একসাথে স্কুলেও যেতাম। তারও বিয়ে হয়ে গেল। পড়াশোনায় মন বসাতে পারছিলাম না। বরাবরের মতোই বাবার সাথে আমি সব কথা খোলামেলা বলি। তাই বাবাকে কিছু বলার আগেই ভাবে বুঝে যেত আমি কি বলতে চাইছি। হঠাৎ একদিন একটা মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে এসে বললেন,"আজ থেকে ও আমাদের এখানেই থাকবে।ওর নাম রিনু। বাপ মা হারা মেয়ে। রাস্তায় ঘুমাত। দেখে ভীষণ মায়া লাগলো। খাবার না পেয়ে মনে হয় আবর্জনার স্তূপে খাবার খুঁজছিল। তাই নিয়ে এলাম। ও আজ থেকে আমাদের এখানেই থাকবে। বাসার সব কাজে তোর মাকে সাহায্য করবে।"
মনটা ভাল হয়ে গেল। আরেকজন সঙ্গী অবশেষে পেলাম। রিতার বিয়ে হয়ে যাওয়ার পরে সবসময়ই খুব একা লাগতো। আমারও একটা সঙ্গী জুটলো।
রিনুর মুখখানা দেখে খুব মায়া লাগলো। ওর মুখের সাথে আমার ছোটবেলায় মারা যাওয়া বোনটার মুখের খুব মিল আছে। বাবাকে বললাম, "বাবা ও আমার সাথেই থাকবে। আমার ঘরে ওকে নিয়ে যাই।"
মা আমার দিকে চোখ রাঙালেও বাবা থাকায় সেভাবে কিছু বলতে পারলেন না। বাবার সম্মতি পেয়ে আমি ওকে ঘরে নিয়ে গেলাম। আমার ছোটবেলার একটা জামা বের করে ওকে দিলাম। আর বললাম গোসলখানা থেকে গোসল করে এসে এটা পড়ে নে। ও অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল। মেয়েটার চোখ দুটো দেখে ভীষণ মায়া লাগছিল। আমার চোখের পানি ছল ছল করছিল। তখনও রিনু হাঁ করে দাঁড়িয়ে। না পেরে ওকে একটা ধমক দিয়ে বললাম," তোকে যেতে বললাম না গোসল খানায়।"আমার ধমক শুনে হয়তো ভয় পেয়ে ই ও ঘরের পাশে গোসলখানায় দৌড়ে ঢুকলো। আমি আমার ঘরের বইখাতা গোছাতে শুরু করলাম। মা ঘরে এসে ঢুকে বললেন,"সাবধানে থাকিস। বাপ মেয়ে তো হয়েছিস এক জাতের। কখন কোথা থেকে কাকে নিয়ে আসে। দেখিস কোন দিন সব নিয়ে চলে যাবে।"এই কথা বলেই গোমরা মুখ নিয়ে মা ঘর থেকে চলে গেলেন। আমি আবার বই গোছানোর কাজে মনোযোগ দিলাম।পড়া শেষ করে পেছনে তাকিয়ে দেখি রিনু হতভম্বের মত দাঁড়িয়ে আছে। ওকে দেখে প্রথমে চিনতে পারিনি।একদম পরীর মত লাগছে। আর জামাটাও মানিয়েছে বেশ। আমার গায়ের রং একটু চাপা হওয়ায় ওই জামাটা আমি পড়তাম না। তবে রিনুর গায়ের রং ফর্সা হওয়ায় ওকে জামাটা বেশ মানিয়েছে।
ওকে আমি বললাম,"আজ থেকে আমায় দিদি ভাই বলে ডাকবি।"ও মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ সূচক জবাব দিল।
এভাবে কয়েক মাস কেটে গেল। একদিন আমি বই পড়ছি হঠাৎ ও আমার এসে জিজ্ঞেস করল, "দিদিভাই পড়ালেখা কী?"ওকে বসতে বলে আমি আমার ঘর থেকে ছোটবেলার বই নিয়ে এলাম।"আমিই ওকে অক্ষরজ্ঞান শিখালাম। এভাবেই দিন যেতে লাগল। রিনুকে নিয়ে আমি ভীষণ খুশি ছিলাম। আমার খুশি দেখে বাবাও আমাকে আর কিছু বলেননি।
নবম শ্রেণীতে উঠলাম আমি। রিনুও তত দিনে অনেক কিছু শিখে গিয়েছে। বাবার কাছে বায়না ধরলাম রিনুকেও আমার সাথে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিতে। বরাবরের মতোই বাবা আমার এ বায়নাও ফেলতে পারলেন না। তিনি রিনুকে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিলেন। রিনু অন্যান্য বাচ্চাদের থেকে বড় হওয়ায় স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে ভর্তি নিল।আর আমি ওকে আগে থেকে অনেক কিছু শিখিয়ে ছিলাম তাই ওর তেমন একটা সমস্যা হতো না।কিন্তু এটাই যে জীবনে কাল হয়ে দাঁড়াবে তা আমি বুঝতে পারিনি।
রিনু রোজ আমার সাথে স্কুলে যেত। স্কুলের সবাই আমার বোন হিসেবে জানতো। আমাদের হেড মাস্টারমশাই আমাকে খুব স্নেহ করতেন। তিনি মানুষ হিসেবেও ভীষণ ভাল ছিলেন। সেই সুবাদে রিনুর কথা শোনার পর রিনুকেও তিনি নিজের মেয়ের মত আপন করে নিয়েছিলেন।এভাবেই পরবর্তী দুটো বছর কেটে গেল। রিনু চতুর্থ শ্রেণীতে আর আমি তখন এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে স্কুল থেকে বের হয়ে গিয়েছি। বাসায় বসে বসে সময় কাটাচ্ছিলাম।
রিনু এখনো রোজ স্কুলে যায়। আমি ওকে এগিয়ে দিয়ে আসি। আমাদের ব্যাচের বিদায় অনুষ্ঠানের কিছুদিন আগে হেডমাস্টার মশায়েরও অবসরপ্রাপ্ত হওয়ার জন্য বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। আমরা সকলেই উনার কাছে দোয়া নিয়েছিলাম। এখনো আমার খোঁজ খবর নেন উনি। ভীষণ ভালোবাসেন মেয়ের মতন আমাকে।
কিছুদিন হল রিনু স্কুলে যেতে চাচ্ছেনা। কারণ জিজ্ঞেস করলে আমাকে বলতেও চাচ্ছে না। আমি ভেবেছিলাম বাচ্চারা তো প্রায়ই এমন করে তাই বোধহয় রিনুও এমন করছে। তাই ওকে ধমক দিয়ে স্কুলে পাঠিয়ে দিতাম। ও আমাকে ভীষন ভয় করত তাই কিছু বলতেও পারত না।
এর মাঝে আমার কলেজে ভর্তি হওয়ার সময় এলো। স্কুলে তাই জরুরি কিছু কাগজপত্র তোলার জন্য যেতে হবে। রিনুকে স্কুলে রেখে এসে আমি বাসার প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে মাকে বলে স্কুলে যাওয়ার জন্য বের হলাম।কিছু কাগজপত্র নেয়ার জন্য হেডমাস্টার মশায়ের স্বাক্ষর প্রয়োজন ছিল। নতুন হেডমাস্টারমশাই সম্বন্ধে আমার কোন ধারণা না থাকায় একটু ইতস্তত করতে করতেই তার রুমের দিকে এগিয়ে গেলাম। কিন্তু তার রুমের সামনে যাওয়ার পর আমি যা দেখলাম তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। তিনি বেত হাতে দাঁড়িয়ে আর রিনু তার সামনে উলঙ্গ..............
চলবে.......
#আত্মচিৎকার
কলমে: Rifah Ratri
পর্ব ১
06/10/2023
নিজেকে খুন করে আত্মহত্যার ট্যাগ না পেলে আমি সবার আগে খুন করতাম নিজেরে
কুটি কুটি করে আলাদা করতাম নিজের মস্তিষ্ক রে যেই হাইপোথ্যালামাস এ তোমার বাস তারে নিজের হাতে শেষ করে নিজের শেষ নিঃশ্বাস টুকু ত্যাগ করে এই অমানুষ থেকে মুক্তি দিতাম তোমারে
আমার মতো মানুষের হাত থেকে মুক্তি পাইয়া তুমি পাইতা শান্তি,স্বস্তি, নতুন জীবন, নতুন মানুষের স্বাদ
আর আমি পাইতাম খোদার সাথে মুলাকাত করার মুহূর্ত
যখন নতুন মানুষে বুঁদ হইয়া আমার শখের গোলাপের সুঘ্রাণে হাজার মোমবাতির মাঝে বইসা তারে জড়ায়া ধরে সুখের সংসার বুনতা
তখন জাহান্নামের আগুনে পুড়তে পুড়তে খোদাকে আমি প্রশ্ন করতাম
"খোদা আমাকে মানুষ বানালো
আমি হতে চেয়েছিলাম বই।
বাংলা বই। লাল মলাট।
মোমের আলোয় বালকেরা আমাকে গলা ছেড়ে পাঠ করতো। বাংলা বই। মোমের আলোয়।
খোদা আমাকে মানুষ বানাল
কেউ পড়তে পারে না!"
কেউ না
- Rifah Ratri
Imtiaz MahmudImtiaz Mahmud - ইমতিয়াজ মাহমুদইমতিয়াজ মাহমুদ এর লেখা থেকে কিছুটা নেয়া
Click here to claim your Sponsored Listing.