Anisul Hoque
Anisul Hoque is a writer, poet, playwright, columnist lives in Dhaka, Bangladesh ([email protected]). Maa (Freedom's Mother) is his famous book.
HarperCollins published his novel The Ballad of Ayesha. Anisul Hoque is a Bangladeshi writer, poet, playwright, journalist & columnist. Maa (Freedom's Mother) is one of his most famous books. Contact email: [email protected]
http://bn.wikipedia.org/wiki/আনিসুল_হক & http://en.wikipedia.org/wiki/Anisul_Hoque. He is the editor of Kishor Alo. He won the Bangla Academy Award in 2011. He has w
02/06/2026
আমরা কি এমন এক সমাজ গড়ে তুলছি, যেখানে বৃদ্ধ মা-বাবারা জীবনের শেষ সময়ে সবচেয়ে বেশি ভোগেন একাকিত্বে?
পাশের ফ্লাটে নিজের মেয়ে, ঈদের দিনেও খোঁজ নেবেন না? সচিব, বুয়েট শিক্ষক ছেলেরা মা বেঁচে আছেন কিনা, ঈদের দিনেও জানতে চাইবেন না।
মানুষ বিচিত্র, মানুষের জীবনে কত অজানা রহস্য রয়েছে!
কিছুই বলতে পারছি না ।
02/06/2026
প্রতারণা প্রতারণা প্রতারণা। সায়ীদ স্যার এমন কিছু বলেন নাই। সব ফেইক ।
02/06/2026
"ছবির ছেলেটাকে চেনেন? মাঝখানের জনকে?
বলতে গেলে ঢাকার সবচেয়ে বড় লোক পরিবারের ছেলে ছিল। তখনকার দিনে যখন ১ম শ্রেণীর অফিসারের বেতন ছিল খুব বেশি হলে ৫০০-৬০০ টাকা, সে এলভিস প্রিসলির গান শোনার জন্য এক ধাক্কায় ১০০০ টাকার রেকর্ড কিনে আনতো। তাদের বাড়িতে হরিণ ছিল, সরোবরে সাঁতার কাটত ধবল রাজহাঁস, মশলার বাগান থেকে ভেসে আসত দারুচিনির গন্ধ(ডাকে পাখি খোলো আঁখি, এই গানটার শুটিং হয়েছিল তাদের বাড়িতে)।
জ্বী হ্যা, আমি মাগফার উদ্দিন চৌধুরী আজাদ এর কথা বলছি।
আজাদ ক্লাস সিক্সে পড়ে, সেন্ট গ্রেগরি। ১৯৬০ এর দশক। আজাদের বাবা আরেকটা বিয়ে করবেন। আজাদের মা বললেন, তুমি বিয়ে করবে না, যদি করো, আমি একমাত্র ছেলে আজাদকে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাব। আজাদের বাবা আরেকটা বিয়ে করলে আজাদের মা সাফিয়া তার বালকপুতের হাত ধরে ওই রাজপ্রাসাদ পরিত্যাগ করেন এবং একটা পর্ণকুটীরে আশ্রয় নেন। ছেলেকে লেখাপড়া শেখান। আজাদ ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্ন্তজাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে মাস্টার্স পাস করে।
তার বন্ধুরা যোগ দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধে, ফিরে এসেছে আগরতলা থেকে, ট্রেনিং নিয়ে। তার ঢাকায় গেরিলা অপারেশন করে। বন্ধুরা আজাদকে বলল, চল, আমাদের সাথে, অপারেশন করবি। তুই তো বন্দুক পিস্তল চালাতে জানিস। তোর আব্বার তো বন্দুক আছে, পিস্তল আছে, তুই সেগুলো দিয়ে অনেকবার শিকার করেছিস।
আজাদ বলল, এই জগতে মা ছাড়া আমার কেউ নেই, আর মায়েরও আমি ছাড়া আর কেউ নেই। মা অনুমতি দিলেই কেবল আমি যুদ্ধে যেতে পারি।
মাকে আজাদ বলল, মা, আমি কি যুদ্ধে যেতে পারি?
মা বললেন, নিশ্চয়ই, তোমাকে আমার প্রয়োজনের জন্য মানুষ করিনি, দেশ ও দশের জন্যই তোমাকে মানুষ করা হয়েছে।
আজাদ যুদ্ধে গেল।
দুটো অপারেশনে অংশ নিল। তাদের বাড়িতে অস্ত্র লুকিয়ে রাখা হলো। গেরিলারা আশ্রয় নিল।
১৯৭১ সালের ৩০ আগস্ট। ধরা পড়ে ক্র্যাক প্লাটুনের একদল সাহসী মুক্তিযোদ্ধা। সেসময় আজাদকেও আটক করা হয়। তাকে ধরে নিয়ে রাখা হলো রমনা থানা সংলগ্ন ড্রাম ফ্যাক্টরি সংলগ্ন এম.পি হোস্টেলের মিলিটারি টর্চার সেলে।
গরাদের ওপারে দাড়িয়ে থাকা আজাদকে তার মা চিনতে পারেন না। প্রচণ্ড মারের চোটে চোখমুখ ফুলে গেছে, ঠোঁট কেটে ঝুলছে, ভুরুর কাছটা কেটে গভীর গর্ত হয়ে গেছে।
–“মা, কি করব? এরা তো খুব মারে। স্বীকার করতে বলে সব। সবার নাম বলতে বলে।“
–“বাবা, তুমি কারোর নাম বলোনি তো?
–না মা, বলি নাই। কিন্তু ভয় লাগে, যদি আরও মারে, যদি বলে দেই…
–বাবারে, যখন মারবে, তুমি শক্ত হয়ে থেকো। সহ্য করো। কারো নাম বলো না।
–আচ্ছা মা। ভাত খেতে ইচ্ছে করে। দুইদিন ভাত খাই না। কালকে ভাত দিয়েছিল, আমি ভাগে পাই নাই।
–আচ্ছা, কালকে যখন আসব, তোমার জন্য ভাত নিয়ে আসব।
সাফিয়া বেগমের ভেতরটা দুমড়ে-মুচড়ে যায়। গায়ে হাত তোলা তো দূরে থাক, ছেলের গায়ে একটা ফুলের টোকা লাগতে দেননি কোনোদিন। সেই ছেলেকে ওরা এভাবে মেরেছে… এভাবে…
মুরগির মাংস, ভাত, আলুভর্তা আর বেগুনভাজি টিফিন ক্যারিয়ারে ভরে পরদিন সারারাত রমনা থানায় দাড়িয়ে থাকেন সাফিয়া বেগম, কিন্তু আজাদকে আর দেখতে পাননি। তেজগাঁও থানা, এমপি হোস্টেল, ক্যান্টনমেন্ট-সব জায়গায় খুজলেন, হাতে তখন টিফিন ক্যারিয়ার ধরা, কিন্তু আজাদকে আর খুঁজে পেলেন না।
ছেলে একবেলা ভাত খেতে চেয়েছিলেন। মা পারেননি ছেলের মুখে ভাত তুলে দিতে। সেই কষ্ট-যাতনা থেকে পুরো ১৪টি বছর ভাত মুখে তুলেন নি মা! তিনি অপেক্ষায় ছিলেন ১৪ টা বছর ছেলেকে ভাত খাওয়াবেন বলে। বিশ্বাস ছিলো তাঁর আজাদ ফিরবে। ছেলের অপেক্ষায় শুধু ভাতই নয়, ১৪বছর তিনি কোন বিছানায় শোন নি। শানের মেঝেতে শুয়েছেন শীত গ্রীষ্ম কোন কিছুতেই তিনি পাল্টান নি তার এই পাষাণ শয্যা। আর এর মুল কারণ আজাদ রমনা থানায় আটককালে বিছানা পায়নি।
প্রজন্ম কিংবদন্তি আজাদদের চিনেনা, চিনে হলিউডের অ্যাকশন চলচ্চিত্র।
ভালো থাকুক জীবনের প্রেমগুলো। ভালো থেকো কিংবদন্তী।"
লেখাটি প্রিয় লেখক 'আনিসুল হক' এর "মা" বই থেকে নেওয়া হয়েছে।
Copied and pasted.
যদি ভালো লাগে, শেয়ার করুন ।
02/06/2026
"আমি বলি দুই মা। ম্যাক্সিম গোর্কির মা আর আনিসুল হকের মা।... এই দুুই মা যথার্থ মা হয়ে উঠেছেন আমার কাছে।"
-সরদার ফজলুল করিম
মা
আনিসুল হক
ধরন : ঐতিহাসিক, মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস
প্রকাশনী : সময়
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩১৯
পৃথিবীতে কিছু বই আমরা পড়ি, ভালো লাগে এবং রেখে দিই। আবার কিছু এমন বইও আছে যা আমরা পড়ি, উপভোগ করি এবং মাঝে মাঝে আবার খুলে দেখি। রাখার সময়ও খুবই যত্ন করি। আমার সংগ্রহে থাকা আনিসুল হকের 'মা' এমনই একটি বই। যাকে সংরক্ষণের জন্য আমি নিজেই কভার বক্স বানিয়েছি।
ফ্ল্যাপ:
আজাদ ছিল তার মায়ের একমাত্র সন্তান। আজাদের বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করায় বালক আজাদকে নিয়ে তার মা স্বামীর গৃহ-অর্থ-বিত্ত ত্যাগ করে আলাদা হয়ে যান। মা বড় কষ্ট করে ছেলেকে লেখাপড়া করান। আজাদ এমএ পাস করে। এই সময় দেশে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। আজাদের বন্ধুরা যােগ দেয় ঢাকার আরবান গেরিলা দলে। আজাদ মাকে বলে, আমিও যুদ্ধে যাব। মা তাকে অনুমতি দেন। ছেলে যুদ্ধে যায়। ১৯৭১ সালের ৩০ আগস্ট একরাতে ঢাকার অনেক ক’টা মুক্তিযােদ্ধা-নিবাসে হামলা চালায় পাকিস্তানী সৈন্যরা, আরাে অনেকের সঙ্গে ধরা পড়ে রুমী, বদি, আলতাফ মাহমুদ, জুয়েল এবং আজাদ। আজাদের ওপর পাকিস্তানীরা প্রচণ্ড অত্যাচার চালিয়েও কথা বের করতে পারে না। তখন তার মাকে বলা হয়, ছেলে যদি সবার নাম-ধাম ইত্যাদি বলে দেয়, তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। আজাদের মা ছেলের সঙ্গে দেখা করেন এবং বলেন, শক্ত হয়ে থেকো, কারাে নাম বলে দিও না। আজাদ বলে, মা দুদিন ভাত খাই না, ভাত নিয়ে এসাে। মা পরের দিন ভাত নিয়ে হাজির হন বন্দিশিবিরে, কিন্তু ছেলের দেখা আর মেলে না। আর কোনােদিনও ছেলে তার ফিরে আসে নাই আর এই মা আর কোনােদিনও জীবনে ভাত খান নাই। যুদ্ধের ১৪ বছর পরে মা মারা যান, নিঃস্ব, রিক্তবেশে। মুক্তিযােদ্ধারা তাঁকে কবরে শায়িত করলে আকাশ থেকে ঝিরঝির করে ঝরতে থাকে বৃষ্টি।
মুক্তিযােদ্ধাদের কাছে এই কাহিনীর সন্ধান পেয়ে আনিসুল হক বহুজনের সাক্ষাৎকার নিয়ে, বহু দলিল-দস্তাবেজ ঘেঁটে রচনা করেছেন অসামান্য এক উপন্যাস, জানাচ্ছেন এক অসমসাহসিকা মায়ের অবিশ্বাস্য কাহিনী। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, যতদিন স্বাধীনতা থাকবে, এই অমর মাকে ততদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে হবে আমাদের।
পাঠ প্রতিক্রিয়া:
এটার আগে ম্যাক্সিম গোর্কির 'মা' পড়া ছিল। সে মায়ের মতই আরেকটি 'মা' আনিসুল হক উপস্থাপন করেছেন। দুই মায়ের গল্প, প্রেক্ষাপট সবই আলাদা__ কিন্তু পৃথিবীর সকল মায়ের চরিত্রই এক। অনেক ক্ষেত্রে আনিসুল হকের 'মা' সেরা হয়ে উঠেছে। কারণ মুক্তিযুদ্ধের সময়ে এদেশের নিযুত মায়ের প্রতিনিধি হিসেবে এক মায়ের গল্প এটা। আজাদ সেই নিযুত যোদ্ধার প্রতিনিধি।
পাঁচবছর আগে পড়া বইটি নিয়ে এখনও একই রকম মুগ্ধতা আছে। গত কয়েকবছরে কয়েকবার পড়ার কারণে বইটির গল্প আমার পুঙ্খানুপুঙ্খ মনে আছে। লেখক খুবই যত্ন__ তার চেয়েও বেশি পরিশ্রম করে এ বইটি লিখেছেন তার ছাপ স্পষ্ট। প্রতিটি সাক্ষাৎকারের সাথে তিনি নিজের লেখক-স্বাধীনতা কতটা ব্যবহার করেছেন তা আমার জানা নেই। তারপরও এ গল্পের ঐতিহাসিক সত্যতা এর কিছু চরিত্র এখনও জীবন্ত।
আজাদ এবং সাফিয়া বেগমের এ গল্পটা যেমন করুণ, তেমনই আনন্দদায়ক। হাসি-কান্না মিলেমিশে একাকার। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অনেক কিংবদন্তি এ বইয়ের একেকটি চরিত্র। তাদের উপস্থিতি বইটাকে আরো মাহাত্ম্য দিয়েছে। ঢাকার বিভিন্ন গেরিলা অপারেশনের বিবরণে অ্যাডভেঞ্চারের কমতি নেই।
লেখনী:
লেখক খুবই সহজ-সরল ভাষায় আজাদের বীরত্ব, গেরিলা অপারেশন, পাকিস্তানি হানাদারদের বর্বরতা, মুক্তিযুদ্ধের সাময়িক পরিস্থিতি, সর্বোপরি মায়ের জীবনসংগ্রাম বর্ণনা করেছেন। কারণ গল্পটা সব বয়েসী পাঠকের জন্য। উপস্থাপনা কখনো আনন্দ দিয়েছে, কখনো মন খারাপ করিয়েছে। আনিসুল হক তার সবটুকু এ উপন্যাসে দিয়েছেন। তাই এটা উনার সবচে' জনপ্রিয় উপন্যাস। বানানভুল একদম নেই।
সাফিয়া বেগমের দৃঢ় মনস্তাত্ত্বিক গঠন এ বইয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ। এ মনস্তাত্ত্বিক কাঠামো থেকেই 'মা' এবং শহীদ আজাদের জন্ম।
"One of the best novels of Indian sub-continent. It made my eyes watery. Perhaps the success lies behind the strong theme of humanity."
-সরোজিনী সাহু
একজন বাংলাদেশি হিসেবে আনিসুল হকের 'মা' অবশ্যই একবার পড়া উচিত। 'মা'-এর মুগ্ধতা ছড়িয়ে পড়ুক প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।
Goodreads Rating: 4.27/5.00
Personal Rating : 9.1/10
02/06/2026
আনিসুল হকের ‘মা’ উপন্যাস নিয়ে আউটলুকইন্ডিয়া ডটকমে একটি পর্যালোচনা বা রিভিউ লিখেছেন মনিশঙ্কর আয়ার।
মনিশঙ্কর আয়ার মূলত ভারতীয় কূটনীতিক ও রাজনীতিবিদ। ‘ইন দ্য স্ট্রিটস অব ঢাকা’ শিরোনামে লেখা তাঁর এই পর্যালোচনায় তিনি আনিসুল হকের উপন্যাসটিতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং গণমানুষের বীরত্বগাঁথার কথা উঠে এসেছে বলে উল্লেখ করে জানিয়েছেন—লেখকের এ উপন্যাস বস্তুনিষ্ঠ এক বয়ান।
‘মা’ বইটির পর্যালোচনা করতে গিয়ে লেখক ফিরে গেছেন ৪৪ বছর আগে; স্বাধীন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে। তিনি সে সময় বাংলাদেশে একটি ত্রাণ কমিটির দায়িত্বে ছিলেন। সেখানে তাঁর ও নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদক সিডনি শনবার্গের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে এনেছেন তিনি।
আয়ার তাঁর পর্যালোচনায় আনিসুল হকের ‘মা’ উপন্যাসটির ভারসাম্যের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, এ উপন্যাসে বলা কথাগুলো উঠে এসেছে অরাজনৈতিক এক তরুণের কাছ থেকে।
আনিসুল হককে বাংলাদেশর অন্যতম জনপ্রিয় লেখক হিসেবে উল্লেখ করে আয়ার বইটির প্রশংসা করেন।
বাংলাদেশের বীরত্বগাঁথার সেই সময় যাঁদের জন্ম হয়নি, সেই তরুণ প্রজন্মকে এই বইটি পড়ার জন্যও পরামর্শ দিয়েছেন আয়ার।
মনিশঙ্কর আয়ারের লেখা রিভিউটি পড়া যাবে এই লিংক থেকে (http://www. outlookindia. com/article/In-The-Streets-Of-Dacca/ 293394)
02/06/2026
গাধাবিষয়ক অনেক কৌতুক আছে।
সার্কাস দলে ছিল এক গাধা।
তার সঙ্গে কথা হচ্ছে গৃহস্থের গাধার।
সার্কাসের গাধা বলল, খুব কষ্টে আছি। খেতে পাই না। আবার বকাঝকা খাই।
গৃহস্থের গাধা বলল, তাহলে এই দল ছেড়ে চলে যাও না কেন।
সার্কাসের গাধা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, এখানে কষ্ট থাকলেও একটা আশা আছে। আশায় আশায় আছি। সার্কাসের মালিকের সুন্দরী মেয়ে আছে। সে দড়ির ওপর দিয়ে হাঁটে। মালিক তাকে বলেছে, ঠিকভাবে হাঁট। যদি পড়ে যাস, তাহলে তোকে গাধাটার সাথে বিয়ে দিয়ে দেব। আশায় আশায় আছি, যদি দড়িটা ছেঁড়ে...
আরেকটা গাধা একটা স্কুলের সামনে দিয়ে যাচ্ছে। শুনতে পেল, এক অভিভাবক বলছে, মাস্টারমশাই, আমার ছেলে তো বোকাসোকা, দেখেন ওকে মানুষ করতে পারেন কি না।
মাস্টার বললেন, রেখে দিয়ে যান। কোনো চিন্তা নাই। কত গাধাকে পিটিয়ে মানুষ করলাম। আর আপনারটা তো কেবলই বোকাসোকা। পারব।
গাধা স্কুলের আশপাশে ঘুরতে লাগল। মাস্টারের চোখে যদি সে পড়ে। তাকে যদি মাস্টারমশাই পিটিয়ে মানুষ করে দেন।
একদিন এক লোক ঘোড়ার পিঠে চড়ে যাচ্ছে। শুনতে পেল, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে টাকার বিনিময়ে ডক্টরেট ডিগ্রি পাওয়া যায়।
সে গেল। টাকা দিল। তাকে পিএইচডি ডিগ্রি দেওয়া হলো।
সে ঘোড়ার পিঠে চড়ে ফিরছে। তখন তার মনে হলো আমার ঘোড়াটার জন্যও তো একটা পিএইচডি ডিগ্রি দরকার। সে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে গেল।
বলল, এই নিন টাকা। আমার ঘোড়াটাকেও একটা ডিগ্রি দিন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলল, আমরা শুধু গাধাকে পিএইচডি দিই। ঘোড়াকে দিই না।
একদিন নাসিরউদ্দীন হোজ্জার কাছে একজন এসেছে। মোল্লা সাহেব, আপনার গাধাটাকে ধার দিন।
হোজ্জা বললেন, আমার তো গাধা নাই।
কী হয়েছে?
মারা গেছে।
এই সময় তঁার উঠানে তঁার গাধা ডেকে উঠল।
পড়শি বলল, ওই যে গাধা ডেকে উঠল।
হোজ্জা বললেন, আমি নিজের মুখে বললাম, সেটা বিশ্বাস করলেন না, আর আপনি একটা গাধার মুখের কথা বিশ্বাস করলেন। যান, আপনাকে গাধা দেব না।
এই গল্পটা আগেও গদ্যকার্টুনে লিখেছিলাম। হুবহু কপি-পেস্ট করলাম:
এই গল্পটা বলেছিলেন আব্রাহাম লিংকন।
আব্রাহাম লিংকন সবে প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। গৃহযুদ্ধের পরে।
দলে দলে লোকে তাঁর কাছে এসে বলতে লাগল, আমরা দেশের জন্য অনেক স্বার্থত্যাগ করেছি। পদ চাই। আমাদের মূল্যায়ন করুন।
তখন আব্রাহাম লিংকন এই গল্পটা করেন।
এক রাজা বেরোবেন শিকারে। তিনি মন্ত্রীকে জিগ্যেস করলেন, আজকের আবহাওয়া কেমন। পথে ঝড়-বৃষ্টি হবে না তো?
মন্ত্রী বললেন, না না, আজ ঝড়-বৃষ্টি হবে না। আবহাওয়া চমৎকার।
কিছুদূর যাওয়ার পরে এক ধোপার সঙ্গে দেখা। ধোপা বলল, রাজামশাই, বেশ তো চলেছেন, কিন্তু সামনে তো ঝড়-বৃষ্টি হবে।
রাজা এগোলেন। ঝড়-বৃষ্টির কবলে পড়লেন।
তখন তিনি ওই মন্ত্রীকে বরখাস্ত করে সেই পদে বসালেন ধোপাকে।
ধোপা বলল, রাজামশাই, যখন ঝড়-বৃষ্টি হয়, তখন আমার গাধার কান নড়ে। আমার গাধার কান নড়া দেখে আমি বুঝেছিলাম আজ
বৃষ্টি হবে।
রাজা তখন ধোপাকে বরখাস্ত করে গাধাটাকে মন্ত্রী বানালেন।
তখন হলো আসল বিপদ। রাজ্যের সব গাধা এসে রাজাকে ঘিরে ধরল, আমরাও তো গাধা। আমাদেরও মন্ত্রী বানান।
এক লোক বলল, আমি গাধা কিনব। প্রতিটি গাধা ১০ ডলার।
গ্রামবাসী সবাই খুঁজে খুঁজে গাধা আনল। সে ১০ ডলার দিয়ে গাধা কিনতে লাগল।
এরপর সে বলল, আমি প্রতিটি গাধা ২০ ডলারে কিনব। গ্রামবাসী অনেক খুঁজে আরও কিছু গাধা হাজির করল। লোকটা ২০ ডলার দিয়েই কিনে নিল।
এরপর সে বলল, আমি এবার গাধা কিনব ৫০ ডলার করে।
গ্রামে আর গাধা নাই। ক্রেতা বলল, আমি একটু পাশের গ্রাম থেকে ঘুরে আসছি।
এদিকে তার সঙ্গী বলল, আমি ৩৫ ডলার করে গাধা বেচব।
গ্রামবাসী ঘটিবাটি বিক্রি করে ৩৫ ডলারে গাধা কিনে নিল। ক্রেতার সঙ্গীও পালিয়ে গেল। তারা আর ফিরল না।
ইশপের গল্প না বলে এই লেখা শেষ করা উচিত হবে না।
একদিন এক গাধা বনের ভেতর দিয়ে হাঁটছিল। সামনে পড়ল এক নেকড়ে।
গাধা তখন আত্মরক্ষার বুদ্ধি বের করল। সে এক পা খুঁড়িয়ে হাঁটতে লাগল।
তারপর নেকড়েকে বলল, আমার পায়ে কাঁটা বিঁধেছে। তুমি যদি কাঁটাটা বের করে দাও তাহলে আমাকে খেয়ে মজা পাবে। তা না
হলে আমার বাঁকা পা তোমার ভোজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করবে।
নেকড়ে ভাবল, তাই তো। আচ্ছা দেখি তোমার কোন পায়ে কাঁটা বিঁধেছে।
নেকড়ে কাছে এসে মাথা নত করতেই গাধা তাকে আঘাত করল।
নেকড়ে ব্যথা পেয়ে চলে যেতে যেতে বলল, আসলে আমি তো ডাক্তার নই, আমার ডাক্তারি করতে যাওয়া উচিত হয় নাই।
02/06/2026
বাংলাদেশ থেকে বিশ্বকাপ ফুটবল কি দেখা যাবে? সবাই বলে, না দেখায়ে কি পারবে? কিন্তু কোনো উদ্যোগ কি কেউ নিয়েছেন?
02/06/2026
সন্দ্বীপে ব্রাজিল সমর্থকদের বৃক্ষরোপণ। এর জবাবে নীল-সাদা সমর্থকদের কী করতে হবে?
02/06/2026
ইগনাইটেড মাইন্ডস বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে ড. এ. পি. জে. আবদুল কালাম স্বপ্নে পাঁচজন মহান মানুষের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা তাঁকে শান্তি, ন্যায় ও মানবতার কথা বলেন।
স্বপ্নে তাঁরা তাঁকে কী বলেন?
মহাত্মা গান্ধী বলেন, মানুষে মানুষে ভালোবাসা থাকতে হবে। সহিংসতা নয়, অহিংসার পথেই শান্তি আসে।
সম্রাট অশোক বলেন, যুদ্ধ শুধু কষ্ট আর ধ্বংস ডেকে আনে। সত্যিকারের বিজয় হলো মানুষের হৃদয় জয় করা।
খলিফা ওমর বলেন, সব মানুষ সমান। কাউকে জোর করে নিজের মত বা বিশ্বাস মানতে বাধ্য করা উচিত নয়।
আলবার্ট আইনস্টাইন বলেন, বিজ্ঞান মানুষের উপকারে আসবে তখনই, যখন তার সঙ্গে নৈতিকতা ও মানবিকতা থাকবে।
আব্রাহাম লিংকন বলেন, ন্যায়বিচার ও মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করাই একজন নেতার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
এই পাঁচজনের কথার মূল শিক্ষা হলো—পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে আমাদের ভালোবাসা, সহনশীলতা, সমতা, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিতে হবে। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ নয়, পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতাই একটি সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলতে পারে।
02/06/2026
॥আজ যে দেশপ্রেমিক হিরো, কাল সে বিশ্বাসঘাতক গণশত্রু॥
রবার্ট ব্রাউনিং-এর বিখ্যাত কবিতা “The Patriot”।
দেশপ্রেমিক
১
গোলাপে গোলাপে ভরা ছিল আমার পথ,
তার সঙ্গে ছিল গাঁথা সুগন্ধি মির্টল ফুল;
বাড়ির ছাদগুলো যেন দুলে উঠছিল আনন্দে,
গির্জার চূড়াগুলো জ্বলজ্বল করছিল পতাকায়,
আজ থেকে ঠিক এক বছর আগে এই দিনে।
২
ঘণ্টাধ্বনিতে বাতাস ভরে গিয়েছিল কুয়াশার মতো,
জনতার চিৎকারে কেঁপে উঠেছিল পুরোনো দেয়াল।
যদি বলতাম, “ভালো মানুষ, শুধু এই কোলাহল নয়—
ওই আকাশের সূর্যটাকেও এনে দাও আমাকে!”,
তারা বলত, “তারপর আর কী চাই তোমার?”
৩
হায়, আমিই তো সূর্যের দিকে লাফিয়ে উঠেছিলাম,
আমার প্রিয় বন্ধুদের জন্য তাকে এনে দিতে!
মানুষ যা করতে পারে, এমন কিছুই আমি বাদ দিইনি;
আর আজ দেখছ তো আমার ফসল—
এক বছর পর এই দিনে আমি কী ফল পাচ্ছি!
৪
এখন আর কেউ ছাদে দাঁড়িয়ে নেই—
কেবল কাঁপা-কাঁপা কয়েকজন জানালার ধারে।
কারণ সেরা দৃশ্যটি, সবাই বলে,
কসাইখানার ফটকের কাছে— কিংবা তারও চেয়ে ভালো,
ফাঁসির মঞ্চের একেবারে পাদদেশে।
৫
আমি বৃষ্টির মধ্যে হেঁটে চলেছি;
পেছনে বাঁধা দড়ি কেটে দিচ্ছে দুই কবজি।
মনে হয় কপাল থেকেও রক্ত ঝরছে,
কারণ যার ইচ্ছে, সেই-ই
আমার এক বছরের ‘অপরাধের’ জন্য ছুড়ে মারছে পাথর।
৬
এভাবেই আমি এসেছিলাম, এভাবেই চলে যাচ্ছি!
বিজয়-উৎসবেও তো মানুষ হঠাৎ মরে যায়।
“পৃথিবী তোমাকে যা দিয়েছে, তার বদলে তুমি আমাকে কী দিলে?”—
ঈশ্বর হয়তো এমন প্রশ্ন করতে পারতেন; কিন্তু এখন,
বরং ঈশ্বরই আমার পাওনা শোধ করবেন— তাতেই আমি নিরাপদ।
Click here to claim your Sponsored Listing.