Family Seba
স্বাস্থ্যকর্মীর তত্ত্বাবধানে চুলের যেকোনো সমস্যার প্রাকৃতিক সমাধান, আয়ুর্বেদ ও আধুনিকতার সংমিশ্রনে।
02/01/2024
চুলের যত্নে তুলসী পাতা :
----------------------------
তুলসীতে পাওয়া ঔষধিগুণ নানাভাবে চুলের উপকার করে। সেই সঙ্গে চুল পড়া (Hair Fall), খুশকি (Dandruff) ও শুষ্ক চুল থেকে মুক্তি পেতে নানাভাবে ব্যবহার করা যায়। আপনি যদি আপনার চুল সংক্রান্ত সমস্যার সম্মুখীন হন তবে আপনি এটি ব্যবহার করতে পারেন।
তুলসী পাতাকে শুকিয়ে পাউডার তৈরি করে চুলে ব্যবহার করতে পারেন। তুলসী পাতা চুলের ফলিকলগুলিকে পুনরায় সক্রিয় করতে সহায়ক, যা চুল পড়ার সমস্যাও নিরাময় করতে পারে। এছাড়াও এটি মাথার ত্বককে ঠান্ডা রাখে এবং রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক আপনি তুলসী পাতাকে কী কী উপায়ে চুলের যত্নে ব্যবহার করতে পারবেন।
তুলসী পাতার তেল- চুল পাতলা হওয়ার পেছনে অনেক কারণ থাকে। পরে তা কমতে থাকে, এর জন্য অনেকে ওষুধ ও বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসার আশ্রয় নেয়। আজকাল নারী-পুরুষ উভয়েই এই সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে এই সমস্যা মোকাবেলায় তুলসী পাতা মিশিয়ে ভেষজ তেল তৈরি করতে পারেন। এর জন্য যে কোনও হেয়ার অলের সঙ্গে কিছু তুলসী পাতার গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। মেশানোর পর ১ ঘণ্টা রেখে দিন। এই সময় তেল রোদে রাখার চেষ্টা করুন। এরপর এটি মাথার ত্বকে ভালো করে লাগিয়ে তারপর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।
হেয়ার মাস্ক- খুশকি তৈলাক্ত এবং শুষ্ক উভয়ই হয়। যদিও শুষ্ক খুশকির মোকাবিলা করার জন্য অনেক ঘরোয়া প্রতিকার রয়েছে, কিন্তু আপনি যদি তৈলাক্ত খুশকির সমস্যায় ভুগে থাকেন তবে কারি পাতা এবং তুলসী মিশিয়ে একটি হেয়ার প্যাক তৈরি করতে পারেন। এর জন্য ১০টি কারি পাতা এবং তুলসী পাতা একসঙ্গে মেশান। এর সঙ্গে ১ বা ২ ফোঁটা পেপারমিন্ট এসেন্সিয়াল অয়েল মেশান। এবার এটি আপনার মাথার ত্বকে লাগান। যদি এটি পাউডার আকারে হয় তবে আপনি দই মিশিয়ে প্রয়োগ করতে পারেন। চুলের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী কারি ও তুলসী পাতা নেবেন। হেয়ার মাস্কটি অন্তত ৩৫ মিনিট রাখার পর চুল ধুয়ে ফেলুন।
হেয়ার স্প্রে- তুলসী পাতার জলও চুলের জন্য ভালো। কিছু মানুষের জন্য এটা জাদুর মত কাজ করে। হেয়ার প্যাক লাগানোর সময় না থাকলে তুলসীর জলও ব্যবহার করতে পারেন। এর জন্য ৩ গ্লাস জল গরম করুন। এবার এতে ২০-২৫টি তুলসী পাতা মেশান। ভালো করে ফুটিয়ে নিন, যাতে এর রস জলে দ্রবীভূত হয়। এরপর এটি ঠান্ডা করে নিন। এবার শ্যাম্পু করার পর এই জল দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এই সময় আপনার আঙুল দিয়ে মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করতে থাকুন। এই দেশীয় পদ্ধতি খুবই উপকারী প্রমাণিত হতে পারে।
-------- রুমি চক্রবর্তী, সিনিয়র স্টাফ নার্স
https://familyseba.com
01/01/2024
চুলের যত্নে জয়তুন তেল :
----------------------------
১. জয়তুন তেলের চুলের উপকারিতা বলতে গেলে প্রথমে যেটা বলতে হবে সেটা হচ্ছে যাদের মাথায় চুল পড়ে তারা যদি এই জয়তুন তেল ব্যবহার করতে থাকে তাহলে ইনশাআল্লাহ তাদের সমস্যা ঠিক হয়ে যাবে।
২. বিশেষজ্ঞরা মতবাদ করেন যে যাদের মাথায় কম চুল গজিয়েছে তারা যদি এই জয়তুনের তেল নিয়মিত মাথায় লাগাতে পারে তাহলে তাদের মাথায় বেশি বেশি চুল ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।
৩. যাদের মাথার চুলের গোড়া অনেকটা নরম তারা যদি জয়তুনের তেল মালিশ করতে পারে তাহলে তাদের চুলের গোড়া ও আগের থেকে অনেক শক্ত হয়ে যাবে।
৪. এছাড়াও যাদের চর্মরোগ রয়েছে তারা যদি তাদের শরীরে জয়তুনের তেল লাগায় তাহলে তারাও অনেকটা উপকৃত হবে।
৫. যাদের মাথা ব্যথা করে এবং মাথার ভেতর অন্য সমস্যা আছে তারাও যদি এই জয়তুনের তেল ব্যবহার করতে পারে ইনশাআল্লাহ মাথার সমস্যা গুলো ঠিক হয়ে যাবে।
এগুলো ছাড়াও জয়তুন তেলের চুলের উপকারিতা আরো অনেক রয়েছে যেগুলো যখন আপনারা নিজেরা এই জয়তুন তেল ব্যবহার করবেন তখন নিজেই বুঝতে পারবেন।
জয়তুন তেল ব্যবহার করার নিয়ম
আপনারা যারা জয়তুনের তেল চুলে কিংবা শরীরের অন্য কোথাও ব্যবহার করতে চাচ্ছেন তারা সবাই একই নিয়মে এই তেল ব্যবহার করতে পারেন।
প্রথমে জয়তুনের তেল আপনার হাতে নিতে হবে হাতে নিয়ে চুলের গোড়ায় লাগাতে হবে। এছাড়াও যারা জয়তুনের তেল শরীরে ব্যবহার করতে চাচ্ছেন তারাও একইভাবে তেল হাতে ঢেলে নিয়ে শরীরের যে স্থানে সমস্যা সেই স্থানে আস্তে আস্তে মেসেজ করবেন।
প্রতিদিন গোসল করে আসার পর আপনারা এই নিয়মে জয়তুনের তেল ব্যবহার করলে নিশ্চয় জয়তুন তেলের চুলের উপকারিতা খুব ভালোভাবে অনুভব করতে পারবেন।
-------- রুমি চক্রবর্তী, সিনিয়র স্টাফ নার্স
https://familyseba.com
31/12/2023
চুলের যত্নে কাঠবাদাম :
---------------------------
কাঠবাদামে ফ্যাটি অ্যাসিডের সঙ্গে বিভিন্ন রকম ভিটামিনও আছে। এই ভিটামিনগুলো চুলের গোড়া থেকে পুষ্টি জুগিয়ে
চুলকে ভেতর থেকে শক্ত ও মজবুত করে।
এতে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিড চুল নরম, স্ট্রেইট ও সিল্কি রাখতে সাহায্য করে। খুশকির সমস্যা থেকে দ্রুত রেহাই পেতে চাইলে নিম তেলের সঙ্গে সমান অনুপাতে বাদাম তেল নিয়ে রাতে ভালো করে মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করে নিন। এরপর সকালে ভালো করে শ্যাম্পু করে ফেলুন।
ঘুমানোর আগে শুধু বাদাম তেল আঙুলের ডগায় নিয়ে মাথার ত্বকে ভালোভাবে ম্যাসাজ করুন। এতে মৃত কোষ ও খুশকি নরম হবে। সকালে শ্যাম্পু করলে নরম হয়ে যাওয়া খুশকি, মৃতকোষ ও ময়লা ধুয়ে মাথার ত্বক পরিষ্কার হয়ে যাবে।
চুল পড়া কমাতে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন মাথার ত্বকে ভালো করে বাদাম তেল ম্যাসাজ করুন।
এই তেলের সঙ্গে নারকেল তেল, ক্যাস্টর অয়েল, মেথির গুঁড়া মিশিয়ে ভালোভাবে মাথার ত্বকে লাগিয়ে নিলে চুলের গোড়া শক্ত হবে এবং চুল বড় হবে।
১টি ডিমের কুসুমের সঙ্গে ১ টেবিল চামচ মধু ও ১ টেবিল চামচ বাদাম তেল মিশিয়ে চুলের গোড়ায় ভালো করে লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিট। এরপর গরম পানিতে একটি তোয়ালে ডুবিয়ে পানি চিপে শুকিয়ে নিন। কিন্তু তোয়ালেতে যেন গরম ভাপ থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এরপর সেই তোয়ালে পুরো মাথায় ভালো করে পেঁচিয়ে নিন। এভাবে ৪ থেকে ৫ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে নিন। সপ্তাহে অন্তত এক দিন এ মিশ্রণ ব্যবহারে নতুন চুল গজাবে এবং চুল পড়া কমে আসবে।
-------- রুমি চক্রবর্তী, সিনিয়র স্টাফ নার্স
https://familyseba.com
30/12/2023
চুলের যত্নে রিঠা :
-------------------------
রিঠা মূলত এক ধরনের ফল। এর বৈজ্ঞানিক নাম স্পিনডুস এমারজিনাতুস
গায়ে মাখার সাবানের উপাদান হিসেবে রিঠা বেশি ব্যবহূত হয়ে থাকে। ভারতবর্ষে প্রাচীন কাল থেকে রিঠা আয়ুর্বেদশাস্ত্রে নানাভাবে ব্যবহার হয়ে আসছে। বিশেষ করে চুল পরিষ্কারের জন্য রিঠার ব্যবহার আদিকাল থেকে। রিঠা সম্পূর্ণ প্রাকৃৃতিক গুণাগুণসম্পন্ন একটি ভেষজ উপাদান। রিঠা ব্যবহারে চুলের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় না।
এটি গোসলের সময় শ্যাম্পু হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।
উপকারিতা:
১। রিঠা চুলের ডগা ফাটা বন্ধ করে
২ । মাথার ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দূর করে
৩ । চুলের ঘনত্ব বাড়ে।
৪। চুল পড়া কমে
৫। উকুনের সমস্যা সমাধান হয়
৬। কন্ডিশনার ব্যবহার করার দরকার হয় না
৭। চুল ভালো ও মজবুত থাকে
৮। কোঁকড়া চুল সোজা হয়
৯ । চুল নরম ও মসৃণ করে
১০। নতুন চুল গজায়।
সতর্কতা:
১. চুল শুষ্ক হলে অল্প পরিমাণে রিঠা ব্যবহার করতে হবে।
২. সপ্তাহে দুবারের বেশি রিঠা দিয়ে শ্যাম্পু করা যাবে না। এতে চুল বেশি শুষ্ক হয়ে যেতে পারে।
৩. রিঠা ব্যবহার করলে নিয়মিত সপ্তাহে এক দিন চুলে নারকেল তেল দিতে হবে।
-------- রুমি চক্রবর্তী, সিনিয়র স্টাফ নার্স
https://familyseba.com
29/12/2023
চুলের যত্নে শিকাকাই :
-------------------------
মজবুত ও ঝলমলে চুলের জন্য শিকাকাই অতুলনীয়। প্রোটিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে এই ভেষজে। শিকাকাই পাউডার দিয়ে হেয়ার প্যাক তৈরি করে ব্যবহার করতে পারেন চুলের যত্নে। এটি চুল দ্রুত বাড়ানোর পাশাপাশি বন্ধ করবে চুল পড়া। জেনে নিন কীভাবে চুলের যত্নে শিকাকাই পাউডার ব্যবহার করবেন।
হেয়ার প্যাক ১:
একটি পাত্রে ১ চা চামচ শিকাকাই পাউডার নিন।
৩ চা চামচ নারকেল তেল মেশান।
মিশ্রণটি চুলের গোড়ায় লাগিয়ে রাখুন।
১ ঘণ্টা পর মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন চুল।
দুই সপ্তাহে একবার ব্যবহার করবেন এই হেয়ার প্যাক।
হেয়ার প্যাক ২:
১ চা চামচ শিকাকাই পাউডার নিন।
২ টেবিল চামচ আমলকীর তেল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন।
১ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন।
শুকিয়ে গেলে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে শ্যাম্পু করে নিন।
মাসে একবার ব্যবহার করুন এই হেয়ার প্যাক।
হেয়ার প্যাক ৩:
একটি পাত্রে ১ চা চামচ শিকাকাই পাউডার নিন।
২ টেবিল চামচ গ্রিন টি লিকার মিশিয়ে হেয়ার প্যাক তৈরি করুন।
চুলের গোড়ায় ১ ঘণ্টা লাগিয়ে রাখুন।
পানি ও শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে নিন চুল।
১৫ দিনে একবার ব্যবহার করুন এই হেয়ার প্যাক।
হেয়ার প্যাক ৪:
১ চা চামচ শিকাকাই পাউডার নিন।
২ থেকে ৩ চা চামচ দই মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন।
মিশ্রণটি চুলের গোড়ায় লাগিয়ে রাখুন।
শুকিয়ে গেলে প্রচুর পানি দিয়ে ধুয়ে শ্যাম্পু করে নিন।
মাসে একবার ব্যবহার করতে পারেন এই হেয়ার প্যাক।
হেয়ার প্যাক ৫:
একটি পাত্রে ২ চা চামচ শিকাকাই পাউডার নিন।
একটি ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে শিকাকাই পাউডার মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন।
চুলে মিশ্রণটি লাগিয়ে রাখুন ৪০ মিনিট।
কুসুম গরম পানি দিয়ে চুল ধুয়ে মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।
দুই সপ্তাহ পরপর ব্যবহার করবেন এই হেয়ার প্যাক।
হেয়ার প্যাক ৬:
একটি পাত্রে পরিমাণ মতো শিকাকাই পাউডার নিন।
পেঁয়াজের রসের সঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন।
চুলের গোড়ায় লাগিয়ে রাখুন মিশ্রণটি।
আধা ঘণ্টা পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন চুল।
মাসে একবার ব্যবহার করবেন এই হেয়ার প্যাক
হেয়ার প্যাক ৭:
১ চা চামচ শিকাকাই পাউডার নিন বাটিতে।
আধা চা চামচ আপেল সিডার ভিনেগার মেশান।
২ চা চামচ গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন।
মিশ্রণটি চুলের গোড়ায় লাগিয়ে রাখুন।
শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
-------- রুমি চক্রবর্তী, সিনিয়র স্টাফ নার্স
https://familyseba.com
28/12/2023
চুলের যত্নে জবা ফুল :
-------------------------
জবা ফুল মাথায় ত্বকের রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে। ফলে চুলের ফলিকলগুলোও পুষ্টি পায়। যা নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করে।
১. চুলের ঘনত্ব বৃদ্ধি করতে:
নারকেল তেলের সঙ্গে জবা ফুলের পাপড়ি বেটে মিশিয়ে নিন। গোসলের আধা ঘণ্টা আগে মাথায় মেখে রাখুন। চুলের ঘনত্ব বাড়িয়ে তুলতে এই মিশ্রণ ম্যাজিকের মতো কাজ করে।
২. রুক্ষ চুলের যত্নে:
কাঠবাদামের তেলের মধ্যে রোদে শুকোনো বেশ কিছু জবা ফুলের পাপড়ি কাচের শিশিতে ভরে রেখে দিন। ১০ থেকে ১৫ দিন ২-৩ ঘণ্টা করে সূর্যের আলোতে রাখুন। তার পর গোসলের আধা ঘণ্টা আগে মাথায় মেখে শ্যাম্পু করে ধুয়ে নিন। রুক্ষ চুলও হবে রেশমের মতো মোলায়েম।
৩. খুশকি দূর করতে:
জবা ফুলের পাপড়ির সঙ্গে তিলের তেল মিশিয়ে নিন। গোসলের আধা ঘণ্টা আগে মাথায় মেখে রাখুন। পরে শ্যাম্পু করে নিন। খুশকির সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন অচিরেই।
৪. চুল ঝরা রুখতে:
অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে জবা ফুলের পাপড়ি বেটে মিশিয়ে নিন। গোসলের আধা ঘণ্টা আগে এই মিশ্রণ মাথায় মেখে রাখুন। চুল পড়া রুখতে এই মিশ্রণ দারুণ কার্যকরী।
৫. অকালপক্কতা রোধ করতে:
পানির রং লালচে হয়ে আসলে তা ঠান্ডা করে একটি স্প্রে বোতলে ভরে রেখে দিন। অকালে চুল পেকে যাওয়ার সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সপ্তাহে দু-তিন বার ব্যবহার করুন।
-------- রুমি চক্রবর্তী, সিনিয়র স্টাফ নার্স
https://familyseba.com
27/12/2023
চুলের যত্নে লবঙ্গ :
----------------------
লবঙ্গের পানিতে থাকে ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট, যা অ্যান্টি-হেয়ার লস হিসেবে কাজ করে। তাই চুল পড়া রোধ করতে চাইলে এটি ব্যবহার করতে পারেন।বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে, লবঙ্গ দিয়ে তৈরি পানিতে থাকে প্রচুর অ্যান্টি-মাইক্রোবায়াল উপাদান। এই মসলায় থাকে ফেনলিক এবং ফ্যাভোনয়েড, যা কাজ করে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট হিসেবে। এই উপাদান চুলের জন্য দারুণ উপকারী।
জেনে নিন চুলে লবঙ্গ ব্যবহারের উপকারিতা :
(১) মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখতে কাজ করে।
(২) চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।
(৩) চুল কোমল করে।
(৪) চুলে পর্যাপ্ত পুষ্টি জোগাতে কাজ করে।
(৫) স্ক্যাল্পে ফাঙ্গাল ইনফেকশন ও খুশকির সমস্যা দূর করে।
(৬) চুল লম্বা করে।
(৭) চুলের গোড়া শক্ত করে চুল পড়া কমায়।
(৮) অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়।
-------- রুমি চক্রবর্তী, সিনিয়র স্টাফ নার্স
https://familyseba.com
26/12/2023
চুলের যত্নে আদা :
-----------------------------------
হেয়ার ফলের মাত্রা কমে:
মাত্রারিক্ত চুল পড়ছে নাকি? তাহলে চুলের পরিচর্যায় আজ থেকেই কাজে লাগাতে শুরু করুন আদাকে। দেখবেন হেয়ার ফলের মাত্রা তো কমবেই, সেই সঙ্গে চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে চোখে পরার মতো। আসলে আদার ভেতরে উপস্থিত ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস এবং আরও নানাবিধ উপকারি উপাদান হেয়ার ফলিকেলের ভেতরে পুষ্টির ঘাটতি দূর করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই চুল এতটাই শক্তপোক্ত হয়ে ওঠে যে হেয়ার ফলের আশঙ্কা কমে। প্রসঙ্গত, এক্ষেত্রে ১ চামচ আদার পেস্ট নিয়ে তার সঙ্গে ১ চামচ অলিভ অয়েল বা নারকেল তেল মিশিয়ে সেই মিশ্রনটি স্কাল্পে লাগিয়ে ধীরে ধীরে মাসাজ করতে হবে। এরপর ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে ভাল করে ধুয়ে ফেলতে হবে চুলটা। প্রসঙ্গত, সপ্তাহে দুবার এইভাবে চুলের পরিচর্যা করলেই কেল্লা ফতে!
খুশকির প্রকোপ কমে:
আদায় রয়েছে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রপাটিজ, যা স্কাল্পে সংক্রমণের মাত্রা কমানের পাশাপাশি হারিয়ে যাওয়া আদ্রতাকেও ফিরিয়ে আনে। ফলে খুশকির সমস্যা কমতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে স্কাল্পে কোনও ধরনের সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়। এখন প্রশ্ন হল এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে কাজে লাগাতে হবে আদাকে? এক্ষেত্রে ২ চামচ আদার পেস্ট নিয়ে তাতে ৩ চামচ তিল তেল এবং হাফ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে তারপর সেই পেস্টটি ভার করে স্কাল্পে এবং চুলে লাগিয়ে ৩০ অপেক্ষা করতে হবে। সময় হয়ে গেলে ধুয়ে ফলতে হবে চুলটা। সপ্তাহে কম করে দুবার এই পেস্টটিকে কাজে লাগালে দেখবেন খুশিকর মতো ত্বকের রোগ ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারবে না।
চুলকে আদ্র রাখে:
পরিবেশ দূষণের মাত্রা বাড়ার কারণে চুলের বারোটা বাজে। বিশেষত চুলের ভেতরে আদ্রতা কমে যাওয়ার কারণে চুল হয়ে যাচ্ছে রুক্ষ। আর একথা তো সবারই জানা আছে রুক্ষ চুলের আয়ু বেশি দিন হয় না। ফলে মাথা ফাঁকা হয়ে যেতে সময় লাগে না। প্রসঙ্গত, এমন পরিস্থিতির শিকার কি আপনিও হয়েছেন? তাহলে সপ্তাহে কম করে ২-৩ তিন আদার পেস্ট চুলে লাগাতে শুরু করুন। এমনটা করলে দেখবেন স্কাল্প এবং চুলের ভেতরে আদ্রতা বাড়তে শুরু করেছে। ফলে চুল পড়ার হার তো কমবেই, সেই সঙ্গে চুলের সৌন্দর্যতাও বৃদ্ধি পাবে চোখে পরার মতো।
চুলের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে:
বেশ কিছু স্টাডিতে দেখা গেছে, আদার ভেতরে থাকা জিঞ্জেরল নামক উপাদানটি স্কাল্পের ভেতরে প্রবেশ করার পর চুলের গোড়ায় রক্তের প্রবাহ বাড়িয়ে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই চুলের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটতে সময় লাগে না। আর এমনটা হলে চুল সুন্দর হয়ে উঠতে যে সময় লাগে না, তা কি আর বলার অপেক্ষা রাখে! প্রসঙ্গত, সপ্তাহে কম করে ৩-৪ দিন আদার পেস্ট চুলের গোড়ায় লাগাতে হবে, তাহলেই দেখবেন উপকার মিলবে একেবারে হাতে-নাতে!
চুল উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে:
আদার ভেতরে উপস্থিত একাধিক উপকারি ফ্যাটি অ্যাসিড, যেমন লাইনোলিক অ্যাসিড, চুলকে যেমন শক্তপোক্ত করে, তেমনি পুষ্টির ঘাটতি দূর করার মধ্যে দিয়ে চুলকে উজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত করে তুলতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এক্ষেত্রে ১ চামচ আদার পেস্টের সঙ্গে হাফ কাপ শসা, ১ চামচ নারকেল তেল এবং ১ চামচ তুলসি তেল মিশিয়ে বানানো পেস্ট, সপ্তাহে ২-৩ বার চুলে লাগাতে হবে, তাহলেই কেল্লা ফতে!
চুলের গ্রাথ বাড়াতে কাজে আসে:
২ চামচ আদার পেস্টের সঙ্গে পরিমাণ মতো পেঁয়াজের পেস্ট মিশিয়ে নিয়ে তা যদি নিয়মিত চুলে লাগানো যায়, তাহলে স্কাল্পের ভেতরে সালফারের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। সেই সঙ্গে আরও নানা সব উপকারি উপাদানের ঘাটতিও দূর হয়। ফলে চুলর গ্রোথ দারুনভাবে হতে থাকে। তাই তো বলি, অল্প বয়সেই যদি মাথা ফাঁকা হয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে এই ঘরোয়া টোটকাটিতে কাজে লাগাতে ভুলবেন না যেন!
-------- রুমি চক্রবর্তী, সিনিয়র স্টাফ নার্স
https://familyseba.com
25/12/2023
চুলের যত্নে তিসির তেল :
-----------------------------------
তিসির বীজে ভিটামিন বি রয়েছে যা আপনার চুলের ফলিকলকে শক্তিশালী করতে এবং দ্রুত চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এছাড়াও, তিসির বীজে ভিটামিন ই রয়েছে যা আপনার মাথার ত্বকে ফ্রি র্যাডিক্যালের প্রভাব কমায়, যা দ্রুত চুলের বৃদ্ধি ঘটায়। তিসির বীজ ভিটামিন ই সমৃদ্ধ যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এগুলি ফ্রি র্যাডিক্যালের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে এবং চুলের ফলিকলকে শক্তিশালী করে।
তিসির বীজে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা মাছের মধ্যেও পাওয়া যায়। কিন্তু তিসির বীজে আলফা-লিনোলিক অ্যাসিড নামে ভিন্ন আকারে উপস্থিত থাকে। এটি মাথার ত্বকের প্রদাহ কমায় এবং চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
তিসির বীজের মধ্যে ময়েশ্চারাইজিং বৈশিষ্ট্য আছে। এটি চুলের শুষ্কতা দূর করতে সাহায্য করে। তিসির বীজ ভিটামিন ই, ফাইবার এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের মতো বৈশিষ্ট্যে সমৃদ্ধ। তিসির বীজে থাকা ফাইবার এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড চুলের জন্য সবচেয়ে ভালো। এটি চুল মজবুত করতে সাহায্য করে।
-------- রুমি চক্রবর্তী, সিনিয়র স্টাফ নার্স
https://familyseba.com
24/12/2023
চুলের যত্নে অলিভ অয়েল :
------------------------------------
চুলের যত্নে অলিভ অয়েল খুবই কার্যকরী। এটি আপনার চুলের প্রাকৃতিক জেল্লা ধরে রাখতে সাহায্য করে। চুলে পুষ্টিরও জোগান দেয়। এর মধ্য়ে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই, পলিফেনল থাকে। তাই অলিভ অয়েলের হেয়ার মাস্ক আপনি সহজেই চুলে ব্যবহার করতে পারেন।
এই তেল চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে। ডগাচেরা চুল সারিয়ে তুলতে পারে। এছাড়া চুলের বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। নরম, কোমল এবং স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল পাবেন এই তেলের গুণেই।
অলিভ অয়েল সব ধরনের চুলেই ব্যবহার করা সম্ভব। এই তেল হালকা। এর মধ্য়ে একাধিক হিলিং উপাদান আছে। সোজা চুল কিংবা কোঁকড়া চুলে এই তেল ব্যবহার করতে পারেন।
এটি আপনার চুলে প্রাকৃতিক আর্দ্রতার জোগান দেয়। আপনার চুলকে স্টিকি হতে দেয় না। স্ক্যাল্পে অলিভ অয়েল মাসাজ করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। ফলে, চুলের বৃদ্ধিও হয় দেখার মতোই।
-------- রুমি চক্রবর্তী, সিনিয়র স্টাফ নার্স
https://familyseba.com
23/12/2023
চুলের যত্নে ক্যাস্টর অয়েল :
------------------------------
ক্যাস্টর অয়েল স্ক্যাল্পে মালিশ করলে কি চুলের বৃদ্ধি তাড়াতাড়ি হয়? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা গেল যে, কোনও গবেষণায় এমন কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
তবে ক্যাস্টর অয়েলে এমন কিছু উপাদান রয়েছে. যেগুলি চুলের জন্যে বেশ উপকারী। স্ক্যাল্পের সুস্বাস্থ্য ধরে রাখে। খুশকির প্রকোপও কমে। চুলের বৃদ্ধিতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে বলে দাবি করেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
তাহলে আর অপেক্ষা কেন, জেনে নেওয়া যাক ক্যাস্টর অয়েলের গুণাগুণ।
স্ক্যাল্পের সুস্বাস্থ্য ধরে রাখে:
ক্যাস্টর অয়েলে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি ফাঙ্গাল গুণ রয়েছে। গবেষণাতেও উঠে এসেছে এমন তথ্য। এর অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাঙ্গাল উপাদান আপনার স্ক্যাল্পের নানা সমস্যা মেটাবে।
এছাড়াও ক্যাস্টর অয়েলে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদানের হদিশও মেলে। এটি আপনার স্ক্যাল্পের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে, খুশকিও কমবে। গবেষণাতেও এই তথ্যের উল্লেখ পাওয়া গিয়েছে।
স্ক্যাল্পের সুস্বাস্থ্য বজায় থাকলে স্বাভাবিক ভাবেই চুলের বৃদ্ধি হয় দেখার মতো। অকারণে অতিরিক্ত চুলও ঝরে না।
ক্যাস্টর অয়েল নিয়মিত স্ক্যাল্পে মালিশ করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। স্বাভাবিক ভাবেই টক্সিন বেরিয়ে যায়। হেয়ার ফলিকলে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি মেটে। তাই চুলের স্বাস্থ্য ফিরতেও সময় লাগবে না।
ক্যাস্টর অয়েল আপনার চুলকে ময়শ্চারাইজ রাখতে সাহায্য করে। চুল মাঝখান থেকে ভেঙে যাওয়া এবং ডগা-চেরা চুলের সমস্যাও কমায়।
এই তেলে আছে রাইসিনোলিক অ্যাসিড (Ricinoleic Acid)। গবেষণাতেও এই উল্লেখ পাওয়া গিয়েছে। এটি ফলে চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং পাতলা চুল ঘন করতে পরোক্ষভাবে ভূমিকা পালন করে।
-------- রুমি চক্রবর্তী, সিনিয়র স্টাফ নার্স
https://familyseba.com
Click here to claim your Sponsored Listing.