Bijoy Hossain
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Bijoy Hossain, Public Figure, Dhaka.
হালাল শিক্ষণীয় নতুন গল্প!!!
হুজুর মিয়ার বউ:২০পর্ব (১ম খন্ডের শেষ পর্ব)
এরই মাঝে হঠাৎই একদিন বড্ড দুপুরে সেই উকিল মীমের নাম্বারে কল দিয়ে বলল
“আগামীকাল সকাল দশটায় নূরের জামিন হবে, আপনারা উপস্থিত থাকবেন।
মীম’ হায়দার সাহেবকে ডেকে, যতগুলো হাঁস-মুরগী ছিল, কয়েকটা রেখে সব বিক্রি করে দিল। এর আগেও অনেক টাকার হাঁস-মুরগী বিক্রি করেছে। পুঁথির মালা, ব্যাগ, ঘর সাজানোর বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করেও অনেক টাকা পেয়েছে। আর এলাকার অধিকাংশ মেয়েরা তার থেকে কাপড় বানিয়েছে। কেননা সে নিত্যনতুন ডিজাইনে তাদের ইচ্ছে মত কাপড় সেলাই করে দিত। এই সবকিছুর টাকা মিলিয়ে তিন মাসে প্রায় লাখ টাকার উপরে আয় হয়েছে। ব্যয়ের কোনো সংখ্যা ছিলনা, তাই আয়'ও কম হল না।
মীমের খুশি আর দেখে কে! খুশিতে সারারাত ঘুমোতে পারেনি সে। শুধু অপেক্ষার প্রহর গুনছে, কখন সকাল হবে আর নূরের কাছে ফিরে যাবে। তাহাজ্জুত নামায আদায় করে একটা মুরগী জবাই করল। সকাল হওয়ার আগেই পোলাও, মুরগী আর ধনিয়া পাতা ভর্তা করে, বাটিতে ভরে নূরের জন্য নিয়ে গেল।
সকাল দশটার আগেই নূরের পরিবারের সবাই হাইকোর্ডের সামনে একত্রিত হল। খোদার অশেষ মেহেরবানীতে, সকাল দশটা পঁচিশ মিনিটে নূরের জামিন হল। মীম আর তার ভাই, উকিলের হাতে চার লাখ টাকা দিয়ে দিল।
নূর' হাইকোর্ডের সিঁড়ি দিয়ে নামছে আর পরিবারের সকলকে মন ভরে দেখছে। কিন্তু সেখানে 'মীম'কে দেখা গেলনা! নূর' এদিক সেদিক তাকিয়ে খুঁজতে লাগল। দেখল অদুরেই 'মীম' দাঁড়িয়ে নূরের পানে অপলক নেত্রে চেয়ে আছে আর চোখ থেকে খুশির অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছে।
নূর’ সিঁড়ি বেয়ে নেমে, প্রথমেই মা-বাবার কাছে গেল। বাবা, ভাই, শ্বশুর, সমন্দি, তাদের সাথে মুসাহাফা এবং মুয়ানাকা সেরে, মা এবং শ্বাশুড়িকে ভাল-মন্দ জিজ্ঞেস করে, মীমের দিকে এগিয়ে গেল। মীমের কাছে গিয়ে 'নূর' দুই হাত প্রসারিত করে দিল। মীম' কোন কথা না বলেই নূরের বুকে মাথা গুছিয়ে নিল। আঁখিজলে ভিজিয়ে দিল নূরের বুক। সেদিন হাইকোর্ডের সামনে যত জোড়া চোখ ছিল, নূর আর মীমের প্রেমে তীরবিদ্ধ হল। তাদের প্রেম লিলায় জুড়িয়ে দিল সকলের অন্তর। রিয়া মীমের কাছে গিয়ে বলল
সত্যিই, তোমার তুলনা হয় না। তোমার শুনগান বলে শেষ করা যাবেনা। এত কষ্ট সহ্য করে নূরকে উদ্ধার করেছো, তবুও পিছু ফেরোনি। আসলেই তোমার কোনো অদ্বিতীয় হয় না। তোমার সাথে দেখা না হলে, মায়ের জাতি কতটা ত্যাগ শিকার করতে পারে, সেই কথা বুঝতামই না! স্যালুট তোমার মা-বাবাকে, যারা এমন মেয়ে জন্ম দিয়েছে। স্যালুট তোমার ভাইকে, যে এমন ভাবে তার বোনকে গড়ে তুলেছে। স্যালুট তোমার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে, যেখানে তোমায় আদর্শ শিক্ষায় শিক্ষিত করেছে। স্যালুট সেই ব্যক্তিকে, যে তোমাকে বধূ হিসাবে পেয়েছে। সত্যিই তুমি ভাগ্যবান।
রিয়ার কথা শেষ হতেই কাউসার হাসি মুখে বলল
“ভাগ্য শুধু আমারই পুড়া।
রমযান মিয়া কাউসারকে থামিয়ে নূরের পানে চেয়ে বললেন
“এবার চলো সবাই আমার বাসায়। খুব জমিয়ে কাটানো হবে ক'টাদিন।
নূর' মীমের হাত থেকে খাবারের বাটি নিয়ে বলল
"এই পাগলীটি রাত জেগে আমার জন্য রান্না করে এনেছে। সেও
হয়ত এখনো খাবার খায় নি। একসাথে খাব বলে উপবাস রয়েছে। আমার যদি ভুল না হয়, তাহলে শুনেন আমাকে পাওয়ার লক্ষে ঘরের দরজার 'জীন লাগাতেও ভুলে গেছে। বিশ্বাস না হয়, সবাই চলেন আমার কুড়ে ঘরে, তখনই দেখা যাবে।
নূরের কথায় একে অপরের দিকে তাকাতে লাগল। নূর সবাইকে লক্ষ করে বলল “ভয় পাবেননা, থাকার মত অনেক জায়গা রয়েছে। হয়ত আমার ঘরে বিদ্যুৎ নেই তাতে কী হয়েছে, পাশেই হায়দার চাচার ঘর রয়েছে। সেই ঘরে এসিরও ব্যবস্থা আছে। তাই আপনারা যদি দুই দিনের জন্য হলেও আমাদের ভালবাসার ঘরে 'পা' রাখতেন, তাহলে বড্ড খুশি
হতাম।
রমযান মিয়া কয়েক সেকেন্ড নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থেকে, সবাই গাড়িতে উঠে নূরের বাড়ির দিকে চলতে বললেন।
তিনটি গাড়ী নিয়ে দুপুরের দিকে রমযান মিয়া গ্রামে প্রবেশ করলেন। এক সাথে তিনটা গাড়ী দেখে এলাকার মানুষগণ দৌড়ে আসলেন। নূরকে দেখতে সবাই খুশি হলেন। রমযান মিয়া সেই ইমাম সাহেবকে ডাকলেন, যে বিপদের সময় নূরের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ইমাম সাহেব হুজুর আসার পর, রমযান মিয়া কোলাকুলি করে, এক লক্ষ টাকা ইমাম সাহেবের হাতে তুলে দিয়ে বললেন
“এটা আপনার জন্য হাদিয়া।
ইমাম সাহেব আশ্চর্য হয়ে বললেন
“এত টাকা দিয়ে আমি কী করব!? আমার যা আছে এবং মসজিদ মাদরাসা থেকে টুকটাক যা পাই, বেশ চলে যায়। আপনার টাকা ফিরিয়ে নিলে ভাল হয়।
“হাদিয়া কখনো ফিরিয়ে দেয়া যায় না।
বাধ্য হয়ে ইমাম সাহেব টাকা নিয়ে বাড়ী ফিরে গেলেন।
নূর' সবার জন্য নিজ হাতে রান্না করল। মাগরিবের পর খাবার খেয়ে সকলেই বারান্দার সামনে গাছ তলায় বসল। মীমের বাবা জানতে চাইলেন
“মামলা করার মূলত মানুষটি কে?
নূর' মুচকি হেসে বলল-
আছে আমাদের এলাকার রিটায়ার্ড প্রাপ্ত আর্মির বাবুচি এবং তার কিছু চ্যালারা। যারা সারা জীবন উল্টাপাল্টা করেছে, আর এখন মসজিদে গিয়ে ভাল হওয়ার ভান ধরেছে। এলাকার সব নষ্টের মূলে, ওদের নাম রয়েছে।
মীমের বাবা বললেন
"তাহলে তো এদের বিরুদ্ধে কিছু একটা করা দরকার।
নূর মাথা নাড়িয়ে বলল
"না, এদের পিছু সময় নষ্ট করা দরকার নেই। সময়েই এরা বাতাসের
মত উড়ে যাবে।
রমযান মিয়া উচ্চ কণ্ঠে বললেন
“ঠিক বলেছো নূর। সব জায়গায় মশা-মাছি মেরে কাপড় নষ্ট করা যায় না। কিছু কিছু জায়গায় ফুঁ’ দিয়ে উড়িয়ে দিতে হয়।
মীমের বাবা বললেন
খুবই গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন বেয়ায় সাহেব। তাইতো লোকে বলে বাপকা বেটা, সিপাঙ্কা ঘোড়া।
রমযান মিয়ার সকলের পানে তাকিয়ে বলতে লাগলেন
"এবার আপনারা শুনেন আমি গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা বলি। বিশেষ করে কাউসার আর রিয়া শুনো। তোমরা যখন প্রথম বিবাহ করলে, তখনই আমার সন্দেহ লেগেছিল তোমাদের সংসার জীবন সুখি হবে কি না। কেননা, একটা কথা সর্বদাই মনে রাখবা যেকোনো জিনিস শুরু করার আগে যদি কেউ সেই জিনিসটি সম্পর্কে তোমাকে ভাল এবং মন্দের দিক বুঝিয়ে বলে, তরপরও যদি তুমি না বুঝো, তাহলে মনে রেখো, তোমার কপাল পুড়েছে। ঠিক তেমনি, কাউসার বিবাহ করার আগে, বিবাহের পদ্ধতি এবং রীতিনীতি সম্পর্কে নূর' অনেক বুঝিয়েছে। কিন্তু কাউসার তার মত করেই বিবাহ এবং অনুষ্ঠান করেছে। যার ফলে আজ তোমাদের সংসার জীবনে এতটা অশান্তি। কেননা রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা কখন মিথ্যা হতে পারেনা। তিনি তো বলেছেন, 'যার বিয়েতে যত খরচা কম হবে, তার সংসার জীবনে ততটাই বরকত হবে। কিন্তু তোমার বিবাহ ছিল সম্পূর্ণ রাসূলের কথার বিপরিত।
তারপর তোমরা যখন বিবাহ করে আসলে, ভাবলাম আমার যেহেতু মেয়ে নেই, রিয়াকেই মেয়ের মত দেখব। কিন্তু রিয়া শুধু তার মতই থাকতে ভালবাসে। সে তার বন্ধু-বান্ধব, আড্ডা, বেপর্দা, অন্য পুরুষদের সাথে চাকুরী করা, এগুলোকেই ভালবাসে। যা ইসলামে নিষিদ্ধ। আর আমাদের সাথে প্রয়োজন ছাড়া কথা বলাটাই তোমাদের খারাপ লাগত। তারপরও সন্তান বলে আমরা কষ্ট নিতাম না।
অতপর নূর যখন বিবাহ করল, মনে মনে ভয় কাজ করছিল যে, না জানি নূরের বউ কেমন হয়। আল্লাহর কাছে হাজার কোটি শুকরিয়া, তিনি আমাদের ঘরে মেয়ে জন্ম না দিয়েও, মেয়ে পাঠিয়েছেন। মীমের কথা-বার্তা, চাল-চলন, আদব-আখলাক, সবই যেন মন জুড়ানো। আমাদেরকেও সে মা-বাবার নজরে দেখেছে সর্বদাই। মীমের বাবার সাথে হাজারবার গল্প করে বলেছি যে- ‘খাঁটি সোনা জন্ম দিয়েছেন। যার কোনো তুলনা হয় না।'
সেই মেয়েটিকেও তোমাদের কারণে দূরে সরিয়ে দিলাম। তোমরা শুধু চাইতে পৃথক হয়ে কিছু একটা করে দেখাবে। দু'জনেই চাকুরী করবে, অনেক সুখে থাকবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হল কি? দু'জনে চাকুরী করে লাখ টাকা বেতন পেয়েও, এই ছয় মাসে ব্যাংক থেকে সাত লাখ টাকা লোন' নিয়ে রেখেছো। আর আমার থেকে যে কয়েক লক্ষ টাকা 'ধার' নিয়ে ছিলে, সেগুলোর তো দেবার কোনো নামোই নেই। অথচ 'নূর' জেলে যাওয়ার আগে প্রতি মাসে পাঁচ হাজার করে টাকা দিয়ে বলেছে, 'জানি এই টাকায় তোমাদের কিছুই হবেনা, তবুও আমার সামর্থ অনুযায়ী তোমাদের দিলাম। আমাদের কুঁড়ে ঘরে আসলে অনেক খুশি হব।' নূর যে মাসে জেলে গিয়েছে, হয়ত সেই মাসেরও টাকা জমিয়ে ছিল। কিন্তু পাঠানোর আগেই কারাগারে আবদ্ধ হতে হল।
শুনো,
আমি শুধু তোমাদের পরীক্ষা করার জন্য ছয় মাস পৃথক রেখেছি। যাতে করে এই কথা বুঝতে পার, সুখি সংসার কেমন করে গড়া যায় এবং তোমাদের দুটি সংসারের মাঝে কোন সংসার সুখি হয়। হেরে গিয়েছো কাউসার তোমরা। মীম দেখিয়ে দিয়েছে, পর পুরুষের সাথে অফিস আদালতে মেয়েদের চাকুরী না করেও, কেমন করে ঘরে বসে টাকা উপার্জন করা যায়। নূরে আলম দেখিয়ে দিয়েছে, কেমন করে স্ত্রীকে ভালবাসার করিডরে আবদ্ধ রাখতে হয়, কেমন করে প্রিয় মানুষটিকে আপন করে নিতে হয়। এই কারণেই তোমাদের বার বার বলি,
শিক্ষা অর্জন করলেই হয়না, আদর্শ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হয়
__________________________
বিঃ দ্রঃ -- সকলে আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন আমিও মীম এর মতো একজন দীনদার জীবন সঙ্গী পাই।।।।।
__________________________
এখন শুধু তোমাদের সন্তান প্রতিপালনের দিকটা দেখার বাকি অপেক্ষায় রইলাম, নূর এবং কাউসারের সন্তান মানুষ করার পদ্ধতি জানতেন।
(পাঠকদের বলছি সন্তান মানুষ করার পদ্ধতি জানার জন্য চোখ রাখেন, “আমার সন্তান" বইটির দিকে)
হুজুর মিয়ার ব্উ বইটির ১ম খন্ড শেষ আরো আছে। হুজুর মিয়ার ব্উ বইটির মূলত৪খন্ড আছে
বিঃদ্রঃ ভুলগুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন প্লিজ 🙏
সকলে ভালো থাকবেন আর আমার জন্য দোয়া করবেন।
আবারো আপনাদের সামনে আসবো অন্য কোন গল্প নিয়ে ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ হাফেজ।
হালাল শিক্ষণীয় নতুন গল্প!!!
হুজুর মিয়ার বউ:পর্ব (১৯)
প্রিয় জীবনসাথী,
আমি আপনার পরিবারকে বলে দিয়েছি যে
‘আমাদের ওয়াদা করা ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগে যদি, উনাকে ছাড়াতে না পারি, তাহলে আপনারা ছাড়িয়ে নিবেন। এখন আমাকে চেষ্টা করার
সুযোগ দিন।'
আমার এই সিদ্ধান্তে যদি ভুল হয়ে থাকে এবং আপনার পরিবারের
মাধ্যমে মুক্ত হতে চান, তাহলে আমায় বলবেন, উনাদের জানিয়ে দিব। আর যদি আমার ভালবাসার পরিশ্রমে মুক্ত হতে চান, তাহলে একটু অপেক্ষা করতে হবে। ইনশাআল্লাহ আমাদের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই
আপনাকে ছাড়িয়ে আনবো।
আর হ্যা,
আমি আর এখন আগের মতন ভয় পাইনা। ভয়কে জয় করে নিয়েছি। রাতের আঁধারে বাড়ির সামনে পুকুরপাড়ের সাথে কবরস্থান, সেখানে বসে দূর আকাশে চেয়ে, আপনার কথা স্মরণ করি। বাড়ির চারপাশে তীর-ধনুক লাগিয়ে রেখেছি। কেউ আমার উপর আক্রমন করার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হবে।
এইতো সেদিন,
এশার নামায আদায় করে রাতের খাবার খেয়ে ব্যায়াম করছিলাম, এমনি সময় ঘরের ভেতরে ঘন্টা বেজে উঠল। বুঝতে পারলাম কেউ বাড়িতে প্রবেশ করতে চাচ্ছে। সতর্কতা অবলম্বন করলাম। যখনি সেই ছেলেটি ঘরের পিছু হয়ে বাড়ির আঙ্গিনায় প্রবেশ করতে লাগল, ঠিক তখনি তীর গিয়ে তার বাহুতে বিধল। পরের দিন এলাকায় এই নিয়ে কত কথা... সেই একজনের কারণে সব ঠিক হয়ে গেল। এলাকার মহিলাদের থেকে শুনলাম- তারা কয়েকজন এক হয়ে এই কু'বুদ্ধি করেছিল যে- 'ইমাম সাহেব হুজুরের বউ অনেক সুন্দর, তাকে দেখতেই হবে। কিন্তু আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে তাদের আশা নিরাশায় পরিনত হল।
ঐ....যে
অনেক কথাই বলে ফেললাম।
আসল কথায় বলা হল না।
রাত গভীর হয়ে এসেছে। এখন আমাকে ব্যায়াম করার জন্য যেতে হবে। আগের চেয়ে আরো বেশি সময় ধরে ব্যায়াম করার চেষ্টা করি। কারণ, আপনার আর আমার, দুজনের ব্যায়াম আমি একাই করি।
শুনেন,
আপনার ঐ মায়া ভরা দাড়ি, মন জুড়ানো চুল, মাথায় পাগড়ী পড়িয়ে দেয়া, বড্ড মিস করি। কেমন যেন মনে হয়, আপনার দাড়ির স্পর্শ না পেলে আমার ঘুমই আসেনা। আপনার ঐ চুলে হাত বুলাতে না পারলে, সুখ খুঁজে পাইনা। সত্যি, আপনি এবং আপনার সূরতকে অনেক অনেক অনেক মিস করি। বাড়ির প্রতিটা ইঞ্চি জুড়ে আপনার ভালবাসা লুকিয়ে আছে। যখনি ভাবি আপনি পাশে নেই, বুকের ভিতরটা হাহাকার করো উঠে। চোখ হতে অবিরত জল নেমে আসে। এখনো চোখের পানি টলমল করছে। চোখদুটো ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। লিখতে পারছি না। কলম থমকে দাঁড়িয়েছে। খুব করো কান্না করার ইচ্ছে করছে। নাহ, আজ আর কিছু লিখতে পারব না।
তবে হ্যা,
আপনার জন্য কষ্ট আর অপেক্ষা করতে খারাপ নয়, ভালই লাগে। এরই নাম বুঝি ভালবাসা!
ইতি,
আপনার ভালবাসার অপেক্ষার প্রহরী মাহমুদা মীম।
2-6-19
মীম' চিঠি লিখা শেষে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে গেল।
মহিলা উকিলের শেষ শোনানিতে সবাই উপস্থিত হল। সেই মহিলা, ‘মীম'কে বাকি টাকা নিয়ে আসতে বলল। টাকাও আনা হল, কিন্তু নূরের ‘জামিন' হল না। এতে কাউসার ভীষণ রাগ করল। সে নূরকে লক্ষ করে বলল
“তোর বউকে বল, এই খেলা বন্ধ করতে। আমরা ভাল উকিল ধরে তোকে ছাড়িয়ে নিব।
নূরের হাতে হাতকড়া বাধা। সাথে পরিবারের সবাই এবং পুলিশও দাঁড়িয়ে আছে। নূর' কিছু সময় নিরব দাঁড়িয়ে থেকে সবার দিকে তাকিয়ে বলল
“বাবার দেয়া ছয় মাস শেষ হতে আর মাত্র দুই মাসের মত বাকি। এর মাঝে যদি 'মীম' তার নিজস্ব পরিশ্রমে আমাকে ছাড়াতে না পারে, তাহলে তোমরা ছাড়িয়ে নিও।
নূরের কথায় সকলেই নিশ্চুপ বনে গেল। কেউ কোনো কথা বলল না। পুলিশ নূরকে ভিতরে নিয়ে যেতে হাতকড়ায় টান দিল। নূর' পুলিশের হাতে কিছু টাকা ধরিয়ে দিয়ে, বউয়ের সাথে কয়েক মিনিট কথা বলতে চাইল। পুলিশ পাঁচ মিনিটের জন্য সময় দিল। নূর' মীমকে কাছে ডেকে বলল
“আমার মত হাজারো নির্দোষি জেলে পড়ে আছে। এখানে সবই টাকার খেলা। এতদিন জেলে থেকে যতটুকু বুঝলাম যে, সরকারের এই পার্শ্ব'টি চলে, নির্দোষীদের টাকায়। এখানে কোনো একটা উকিল, পুলিশ, জজ, কেউ টাকা ছাড়া পাতা নাড়ায় না। আজ আমাকে আদালতে দাঁড় করানো হয়েছিল, কিন্তু কোনো কথা বলার সুযোগ দেয়া হয়নি। যেখানে আমি বার বার বলেছি,
এগুলো সব মিথ্যা সাজানো গল্প। কে শুনে কার কথা! ওদের সাথে কথা বলা মানেই সময় অপচয় করা। তারাই দুই-চার কথা বলে, মামলা আটকিয়ে দিল। একটা উকিলও ভালভাবে কথা বলতে পারে না। ওখানে উকিল কথা বলেনা, কথা বলে টাকায়। তাই তোমাকে বলি, যা করবে ভেবে চিন্তে করবে।
মীম' কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলল
“জানিনা বন্দি জেলখানা থেকে আপনাকে মুক্ত করতে পারব কিনা,
তবে আমার তরফ থেকে চেষ্টার কোনো কমতি থাকবে না।
নূর' মীমের চোখের পানি মুছে দিয়ে বলল “ধূর পাগলী কান্না করতে হয়না। আমি তো বেঁচে আছি। হয়ত বন্দি জীবন, কিন্তু মরে যাইনি। একবার চিন্তা করে দেখো, নির্যাতিত মুসলিম দেশগুলোর কথা! যেখানে মা-বোন ধর্ষিতা হচ্ছে দিনে রাতে! মায়ের ইজ্জত বাঁচাতে গিয়ে জীবন দিতে হচ্ছে সন্তানের। বিবাহিতা বউ রেখে চলে যেতে হচ্ছে জিহাদের ডাকে। সেখান থেকে আর কখনো ফিরতে পারেনি। তাদের আর দেখাও মেলেনি। যেই দেশের যুবকেরা বন্দি হয়ে জালিমের কারাগারে নির্যাতিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আদৌ তাদের মুক্তি মিলবে কিনা কেউ জানেনা। সেই মহান ব্যক্তিদের তুলনায় এখনো আমার তেমন কোনো পরীক্ষার সম্মুখিন হতে হয়নি। যদি আমার হায়াত বাকি থাকে, তাহলে আজ না কাল, কিংবা কয়েক বছর পর হলেও মুক্তি পাব। আর সামান্য কারণে যদি তুমি এভাবে কান্না কর, তাহলে ভেঙে পড়বে। নিজের ভিতর সাহস রাখো, আল্লাহর উপর ভরসা করো, তোমার সব কাজ সহজ হয়ে যাবে। আর কথা বলা যাবে না। আমার ডান পকেটে তোমার জন্য একটা চিঠি লিখেছি, দিয়ে নিয়ে যাও।
মীমা নূরের পকেট থেকে চিঠি নেয়ার সময় তার পত্রটি সেখানে রেখে ।। নূরের থেকে বিদায় নিয়ে 'মীম' অনলাইনে যোগাযোগ করা একজন দিল। নামীদামি উকিলের সাথে তার ভাইকে নিয়ে দেখা করল। সেই উকিল বাকিদের মত এত কথা বলেনি, তবে অন্যদের থেকে টাকা চেয়েছে বেশি। অবশেষে চার লাখ টাকায় রাজি হল। উকিল সরাসরিই মীমকে বলল
"আপনার থেকে আমি চার লাখ টাকা নিয়ে জজ'কে দিতে হবে এক দেড় লাখ, বিপরিত উকিলদের দিতে হবে কিছু, আরো অনেককেই দিতে হবে। অবশেষে আমার একেবারেই কম থাকবে।
মীম' উকিলের টেবিলে ব্যাগটা রেখে বলল “এটা তো অনেক বড় অন্যায়। আমি আপনার সাথে অনলাইনে যোগাযোগ করেই এসেছি। টাকা দেয়া ছাড়া কি কোনো পন্থা নেই?
তা'ছাড়া উনার ব্যাপারে কোনো প্রমানও নেই।
উকিল মুচকি হেসে বলল
“প্রথমত এই ‘জঙ্গি মামলা’ ভাল কোনো উকিল নিতে চাইবে না। কেননা এর বিপরিত সরকারি উকিল দাঁড়িয়ে যাবে। আর বাকি যত আবোলতাবোল উকিল রয়েছে, তারা টাকা খাবে ঠিকই, কিন্তু মুক্ত করাতে পারবে না। বিশ্বাস না হয়, আরো দশজন উকিল ধরে দেখতে পারেন সর্বশেষ ফল কি হয়। আমি শুধু আপনাকে এই কারণে বলেছি যে, আপনি যখন আপনার ব্যাপারে সব বললেন, তখন মনে হল, আমারো একটা মেয়ে মহিলা মাদরাসায় পড়ে। তাই আপনাকে আসতে বললাম। এখন আপনিই চিন্তা করে দেখেন, কী করা যায়। কেননা এই জঙ্গি মামলার কোনো প্রমাণ লাগেনা। কেউ যদি জঙ্গি বলে কাউকে ধরিয়ে দিতে পারে, সে পুরস্কার পায় এবং যেই পুলিশ ধরে নিয়ে আসে, সেও পুরুষ্কার পায়। তাই এখানে কোনো প্রামাণের দরকার হয় না। এখন যদি প্রমাণের মাধ্যমে আপনার স্বামীকে বের করতে চান, তাহলে কয়েক যুগ কেটে যাবে এবং লাখ লাখ টাকা খরচা হবে, তবুও সঠিক বিচার পাবেন কিনা জানা নেই। বর্তমানে কোর্ডে, মক্কেল হাজির করা মানেই, এই বিভাগের সবাই তার থেকে টাকা খাওয়া। এখন ভেবে দেখেন, কী করবেন? আমার কাছে রাস্তা একটাই, আমায় টাকা দিলে, সেই টাকা বাকিদের দিয়ে মামলা উঠিয়েদিতে পারবা মীম' ব্যাগ থেকে তার দেনমহরের তিন লাখ টাকা উকিলের সামনে রেখে বলল
“এখানে তিন লাখ টাকা আছে, তবে আমারো একটা আবদার।
“কিসের আবদার?
মীমা তার ভাইয়ের মোবাইল বের করে একাউন্টের টাকা দেখাতে বলল। তার ভাই উকিলকে বিশ লাখের মত টাকা দেখালো। তারপর তার ভাইকে বলল- 'ব্যাংকের চেক বই বের করে, চার লাখ টাকার একটি চেক, সবকিছু 'ওকে' করে, শুধু দস্তখত বাদে উনার হাতে তুলে দাও। আর এই তিন লাখ তুমি নিয়ে নাও।' মীমের ভাই তাই করল।
মীম' উকিলের হাতে চেকটি ধরিয়ে দিয়ে বলল “এই চেকটি আপনার বিশ্বাসের জন্য দিলাম। আপনি যেদিন উনাকে ছাড়াতে পারবেন, সেই দিনই কোর্টের বাহিরে নগদ চার লাখ পেয়ে যাবেন। কিন্তু অগ্রিম কিছু দিতে পারব না। এখন আপনিই বলেন, কী
করবেন?
উকিল মুচকি হেসে বলল
“আপনার সাথে কথা না বললে হয়ত বুঝতেই পারতামনা যে, মাদরাসায় মেয়েরাও এত টেলেন্টপুল হয়!
“পরিস্থিতি এমন করেছে স্যার।
“বুঝতে পেরেছি। সমস্যা নেই। আশাকরি অচিরেই সু'সংবাদ শুনতে
পারবেন।
“আল্লাহ কবুল করুন। (আমীন)
মীম তার ভাইকে বিদায় জানিয়ে গ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করতে যাবে, তখন ভাই বলল
“বেলা অনেক হয়েছে। আজ না হয় আমাদের বাসায় চল?
মীম' দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল "ইচ্ছে তো করেই যেতে, কিন্তু কোনো উপায় নেই। বাড়িতে অনেকগুলো হাস-মুরগী রেখে এসেছি, সেগুলো দেখাশোনা করতে হবে। তাছাড়া ঊনার জন্য কষ্ট করতেও কেমন যেন ভাল লাগে। প্রতিটা ক্ষণে ক্ষণে ঊনার কথা মনে পড়ে। বাড়ির চারপাশে ঊনার স্মৃতি ভাসে। তাই উনার ভালবাসার ঘর ছেড়ে কোথাও গিয়ে থাকতে পারব না। তাছাড়া বিকালের ট্রেনের টিকেট, আসার সময় ক্রয় করে রেখেছি, যেতে সমস্যা হবে না।
মীমের ভাই কিছু সময় নিরব থেকে বলল
“সত্যি আজ আমার গর্ব হয় তোর মত বোন পেয়েছি বলে। দু'আ করি প্রতিটা বোন যেন তোর মত হতে পারে।
মীম চোখের পানি মুছতে মুছতে বলল
“আমীন, আল্লাহ কবুল করুন। এবার কমলাপুর পর্যন্ত আমার সাথে চলো, গল্প করতে করতে যাওয়া যাক।
“চল, আমার গাড়ীতে উঠ।
দুই ভাই-বোন কমলাপুর স্টেশনে আসল। মীমকে ট্রেনে উঠিয়ে দিয়ে তার ভাই বাসায় চলে গেল। মীমের বাড়ী পৌঁছাতে প্রায় সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল। বাড়িতে প্রবেশ করে দেখে এলাকার কয়েকজন মহিলা তার সব কাজ গুছিয়ে বারান্দায় বসে গল্প করছে। মীমকে দেখা মাত্রই সবাই দাঁড়িয়ে গেল। জানতে চাইল ‘নূর' কেন আসেনি? মীম ব্যর্থতার চাহনিতে জানালো, এখনো মুক্তি পায়নি। হয়ত আরো কিছুদিন সময় লাগবে।
মীম' তাদের বিদায় জানিয়ে হারিকেনের আলোয় বসে নূরের দেয়া চিঠি পড়তে লাগলো। সেই চিঠিতে লিখা ছিল হুজুর মিয়ার চিঠি,
হুজুরনির হাতে।
দ্বিতীয় পত্রের শুরুতেই কৃতজ্ঞতা আদায় করি সেই মহান রবের দরবারে, যিনি আমাদের ভালবাসায় আবদ্ধ রেখেছেন, এবং জালিমের কারাগারে
থেকেও তাহার গোলামী করার সুযোগ দিয়েছেন।
সালাম নিতে ভুল করোনা যেন প্রিয়তমা। নিশ্চয় তোমার মনটা আজও ভাল। কেননা খানিক আগেই আমাদের দেখা মিলেছে। তারউপর আকাশে চাঁদ মামা তার পূর্ণ যৌবন দুনিয়ার বুকে মেলে ধরেছে। আর জোৎস্না মাখা রাত বিধাতার দেয়া তোমার-আমার সেরা উপহার।
রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই হাদীসের কথা অবশ্যই তোমার মনে পড়েছে। 'যখন রাসূল সাঃ আম্মাজান আয়েশা রাঃ কে নিয়ে, চাঁদের আলোয় খেলা করতেন!'
সাথে আমাদের স্মৃতিময় চাঁদনি রাতের কোথাও ভুল না যেন!
আমাদের কথা বলতেই লজ্জা পেয়েছো, তাই না? আবার হাসিও পাচ্ছে ঐ দেখো, নিচের ঠোটের ডান পাশ নাড়িয়ে দুই দাঁতের মাঝে কামড়ে ধরে আছে !
থাক্' আর লজ্জা পেতে হবেনা। ঠোট কেটে যাবে। স্বাভাবিক হয়ে চিঠি
পড়।
শোনো,
এই জ্যোৎস্নালোকিত নিশিতে যদি থাকতাম তোমার পাশেতে, তোমায় নিয়ে হারিয়ে যেতাম,
‘আইলি বিলে'’র পাড়ে'তে। তোমার কাঁদে হাত রেখে, দেখাতাম চেয়ে থেকে,
নদীর বুকে চন্দ্রকিরণ
কেমনে তারা খেলা করে!
মনে হত যেন, পানির উপর কেহ মুক্তা ছড়িয়ে দিয়েছে!
অবশ্য তোমার কাছেই তাহা ভালো লাগতো, আমার কাছে নহে।
কেননা আমার ভাললাগা, তোমার ভালবাসায় মিশে আছে।
আজ আমি নেই তোমার পাশে, তাই ভাবতে হবেনা আলোকময় রাত নিয়ে। রাতের খাবার খেয়ে জানালার পর্দা সরিয়ে চেয়ে দেখো অপরূপ ঐ চাঁদ হাসছে। এখন আমি চাঁদের পানে তাকিয়ে আছি। তোমাকে বড্ড মিস করছি। কিন্তু এই ভেবে শান্তি পাচ্ছি। তুমি আর আর আমি একই সময়ে, চাঁদের পানে চেয়ে আছি। হোকনা আমি বন্দি কারাগারে, তারপরও তোমার ভালবাসা উকি দেয় এই হৃদয়ে বারে বারে। ভেবোনা আমি দূরে কোথাও হারিয়ে গেছি, এই কথাটাই মনে রেখো, আমি তোমার সাথেই আছি।
ঐ দেখো, চাঁদের পাশে দুটো তারকা খেলা করছে, সেখানেই আমরা রয়েছি। যখনি আমার কথা খুব মনে পড়বে, তখনি মনের মাঝে এই ভাবনায় কথা বলবে যে দু'জনে একই আকাশের নিচে চাঁদের সাথে তারকা হয়ে ঘুরে ফিরছি।
মনে পড়ে তোমার সেই জ্যোৎস্নাময় রাতের কথা! যে-রাতে তরবারি হাতে ‘কারাতে’ প্রশিক্ষণ করছিলাম। তখন বলেছিলে তুমি ‘আমাকেও আত্মরক্ষার কলাকৌশল শিখিয়ে দিন।'
আমি দুই গাল হেসে বলেছিলাম- 'দুটো ইট হাতে নিয়ে পাঁচ মিনিট দৌড়ে আসো। তুমি দুই মিনিট দৌড়ে এসে বলেছিলে- এগুলো এতো ভারি কেন?
তোমার কথায় হাসতে হাসতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিলাম। আমার হাসিতে তুমি রাগ করেছিলে। তোমার সেই রাগ-মাখা মুখটি এখনো আমার চোখে ভাসছে আর আমিও হাসছি। নিশ্চয় তুমিও হাসছো?
এত হাসি ভাল না।
এখন ঘুমিয়ে পড়, আবার শেষ রাতে উঠে তাহাজ্জুদ নামায আদার করতে হবে তো!
আর শুনো,
আমি পাগলের চিঠি বারবার পড়োনা, তাহলে হয়তো প্রতিবারই নতুন করে প্রেমে পড়তে ইচ্ছে করবে। তোমার এত প্রেম আমি রাখব কেমন
করে?
এই যে!
আরেকটা কথা বলাই হয়নি। কথাটি হল, তোমাকে 'জাযাকাল্লাহ । কেননা এখন তুমি অনেক ভাল 'ফাইট' করতে পার। নিজের আত্মরক্ষার কৌশল শিখে নিয়েছো।
শেষ কথাটা শুনে যাও। ‘তোমাকে ভালবাসি' বলাই হয়নি। পরবর্তি চিঠির অপেক্ষায় থেকো। ইতি;
তোমার প্রেমময় জীবনসাথী।
6-6-19
মীম' কয়েকবার পত্রটি পড়ে, চুমু খেয়ে মাটির কলসিতে ভরে রাখল। জানালা দিয়ে ঘরে আসা চাঁদের আলোয় তাকিয়ে থেকে নূরের কথা ভাবতে লাগল।
নূর বেশ কিছু সময় চাঁদের দিকে তাকিয়ে থেকে পায়জামার পকেটে
হাত রাখল। কাগজের মত কিছু একটা মনে হল। তারমানে কি 'মীম'
পত্রটি গ্রহণ করেনি! নূর' তড়িঘড়ি করে পকেট থেকে কাগজটি বের
করল। কিন্তু না, এতো আমার লেখা কাগজের মত লাগছে না! তাহলে কি
মীম'ও আমায় চিঠি লিখেছে!?
নূর' চিঠি হাতে লাইটের আলোয় বসল। তার কাছে মনে হচ্ছে, পত্রটির ভাঁজ খুলছে আর বুকের ভিতরে অন্য রকম এক সুখ অনুভব হচ্ছে। নূর' পত্রটি খুলে বেশ কয়েকবার পড়ল। তার ইচ্ছে হল- ‘ইশ্ এখন যদি পাখি হয়ে মীমের কাছে গিয়ে কপালে একটা চুমু দিতে পারতাম!' ভাবতে ভাবতে চিঠিখানা বুকে রেখেই ঘুমিয়ে গেল।
এভাবেই তারা একে অপরকে চিঠি লিখে খাতার পাতা ভরে। শুধু নূর আর মীমই জানে, চিঠি লেখার মাঝে কতটা প্রেম লুকিয়ে থাকে।
এরই মাঝে হঠাৎই একদিন বড্ড দুপুরে সেই উকিল মীমের নাম্বারে কল দিয়ে বলল
“আগামীকাল সকাল দশটায় নূরের জামিন হবে, আপনারা উপস্থিত থাকবেন------
চলবে ইনশাআল্লাহ-------
বিঃদ্রঃ ভুলগুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন প্লিজ 🙏
আর অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন গল্প গুলো কেমন হয়েছে ___________ইনশাআল্লাহ আগামী পর্বে শেষ করে দিব।
হালাল শিক্ষণীয় নতুন গল্প!!!
হুজুর মিয়ার বউ:পর্ব (১৮)
কাউসার বাসায় এসে কাঁধ থেকে ব্যাগ নামিয়ে, ওয়াশরুমে যাওয়ার সময় 'রিয়া' কফির কাপ হাতে নিয়ে বলল “শুনলাম তোমার ভাই নাকি জঙ্গি মামলায় ধরা খেয়ে কারাগারে পড়ে আছে-
কাউসার রিয়ার পানে ফিরে বলল
“দেশটা আজ কোন পথে চলছে, তুমি আমি সবাই জানি। নির্দোশীরা দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাগারে যাচ্ছে আর দোষীরা দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা হল- জঙ্গী সম্পর্কে না জানে কোন কথা বলবেনা। এই জঙ্গী সম্পর্কে জানার জন্য, আমার ভাইয়ের বুক সেলফে থেকে বই আছে তা পড়ে নিও। তাহলেই আসল তথ্য জানতে পারবে।”
কারো বই পড়তে ইচ্ছে আমার নেই।
“থাকবে কেমন করে নিজকে তো অনেক বড় পণ্ডিত মনে করো। পন্ডিত মনে করিনা, তবে যে নারী, তার শারি হওয়ায় কাম্য। “একেবারে ঠিক কথা বলেছ, মা বাবার কথা না মেনে নিজের পছন্দ অনুযায়ী তোমাকে বিয়ে করেই আমার এখন শাস্তি পোহাতে হচ্ছে। কোন দোষ দিবেনা। তুমিই শুধু ঝগড়া করে
“নাহ' তোমার কোন দোষ নেই, সব দোষ আমার একটু সুস্বাদু তরকারি পর্যন্ত খেতে পারিনা। জামা-কাপড়, খাবার-দাবার, সবকিছু বাহির থেকে কিনে আনতে হয়। দু'দিন পর পর এই বন্ধুর পার্টি ঐ বান্ধবীর পার্টি, বাসায় এসে আড্ডা দেওয়া, এখানে-সেখানে ঘুরতে যাওয়া, এভাবে তিন মাসে প্রায় চার লক্ষ টাকা ব্যাংক থেকে 'লোন' নেওয়া হয়ে গেছে। বাবার টাকা এখনো দেওয়া হয়নি। তাহলে এই চাকরি করে আমাদের লাভ কি?
"তোমার লাভ-লোকসান জানিনা। আমি ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট করে নিয়েছি, এটাই আমার জন্য এনাফ।
"এই ব্যাংকের টাকা দিয়ে বাকি তিন মাসে সব ঋণ পরিশোধ করা যাবে?
“তিন মাসে কেন পরিশোধ করতে হবে? আস্তে আস্তে পরিশোধ করে
দেব।
“তিন মাস পরেই বাবার ওয়াদা করা 'ছয় মাস পূর্ণ হয়ে যাবে। আর যেভাবে আমাদের খরচা হচ্ছে, দিন দিন ব্যাংক থেকে আরো টাকা লোন নিতে হবে।
“কিসের ছয় মাস, এটা তো ঘর থেকে বের হওয়ার বাহানা ছিল মাত্র। আমার যতদিন মন চায় এখানে থাকবো। তোমার মন চাইলে চলে যেও।
কাউসার আর কোনো কথা বলেনা। কেননা সে চায়, যেভাবেই হোক সংসার জীবন যেন এক হয়ে থাকে। রিয়া' সামান্য থেকে সামান্য বিষয় নিয়ে ঝগড়া শুরু করে দেয়। মশারিটা পর্যন্ত কেউ টানাতে চায় না। কাউসার রিয়াকে কোন কাজ করার কথা বললে, রিয়া উত্তর দেয়- 'আমি (কাজের বুয়া নাকি? আমাকে কেন ঘরের কাজ করতে হবে? তুমিও চাকরি করে এসেছো, আমিও চাকরি করে এসেছি, তাহলে আমি একা কেন কাজ করবো।
রিয়ার কথায় কাউসার, না পারে কিছু বলতে না পারে সইতে, তাই ঘরের চেয়ে বেশি সময় বাহিরেই কাটায়।
কাউসার যখন তার বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়। তখন সাংসারিক জীবন নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে। মাঝেমধ্যে নেশাও করে। তাই দেখে বন্ধুরা হাসি তামাশার ছলে বলে
“তোকে আগেই বলেছিলাম বিয়েটা করিস না। এখন ইনজয়ের বয়স, বিয়েটা আরো পরে করলেও চলবে। তুই আমাদের কথা না শুনে বিয়ে করেছিস। আর এখন.................
কাউসার কিছু সময় নীরব থেকে বলে “যে বিষয় সম্পর্কে জানিস না, সেই বিষয় নিয়ে কথা বলবি না। ‘সংসার জীবন' আসলেই শান্তি, কিন্তু সেই শান্তি সবাই অর্জন করতে পারে না। আমার ছোট ভাই ও বিবাহ করেছে। তার সংসার জীবন দেখলে হিংসা হয়। আমার মনে হয়না, আজও পর্যন্ত তাদের মাঝে চোখ রাঙ্গিয়ে কথা হয়েছে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, মিথ্যা মামলায় আমার ছোট ভাইটি জেলে আবদ্ধ হয়ে আছে। অথচ তার বউ, আমার বাবার কথা রক্ষার্থে এখনো গ্রামে পড়ে আছে। আর তোর আমার বউ হলে এতদিন বাবার বাড়ী গিয়ে বসে থাকতো। আমার মনে হয় বিয়েটা হল দু'জনেরই সেক্রিফাইসের ব্যাপার। আর সংসার জীবন সুখী করার জন্য সবচেয়ে বড় শিক্ষা হল, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাংসারিক জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়া। কিন্তু আমরা সেই ব্যাপারে কিছুই জানি না। যার কারণে আমাদের সংসার জীবনে এত অশান্তি।
কাউসারের বন্ধুরা মাথা নাড়িয়ে বলে
“ঠিক বলেছিস। কিন্তু বর্তমান মানুষদের সংসারের অবস্থা দেখে, বিয়ে করার ইচ্ছেটাই মরে যাচ্ছে।
কাউসার হেসে বলে “আমার ছোট ভাইয়ের সাংসারিক জীবনের কথা শুনলে, বিয়ে করার
ইচ্ছাটা আরো তাড়াতাড়ি জন্মাবে।
“আচ্ছা তোর ভাই জেলে গেল কেমন করে?
“বলিস না আর, দেশটাতে এখন ভালো হয়ে থাকার মত কোন সিচুয়েশন নাই। নির্দোষীদের দোষি বানিয়ে জেলে ভরে দিচ্ছে!
“তাহলে ছাড়িয়ে আনছিস না কেন?
“তার বউ তিন মাসের সময় নিয়েছে, সেই নাকি ছাড়িয়ে আনবে। যদি তিন মাসের ভিতরে ছাড়িয়ে আনতে না পারে, তাহলে আমরা চেষ্টা করব।
আচ্ছা দেখ কি হয়, আমরাও আছি তোর সাথে।
এভাবেই কাউসার তার বন্ধুদের সাথে সময় অতিবাহিত করে। বাসায় গেলে, দুইদিন ভালো কাটলে তিনদিন ঝগড়া লেগে থেকে। তাই অনলাইন, বন্ধু-বান্ধব, অফিস, আড্ডা, এগুলো মিলিয়েই তার সময় কাটে। সাংসারিক জীবনটা কেমন যেন “পার্ট-টাইম জব এর মত হয়ে গিয়েছে। যেখানে সংসার জীবন সবচেয়ে বেশি মূল্যবান থাকার কথা ছিল, সেই সংসার'ই এখন আনুষাঙ্গিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারপরও কাউসারের চেষ্টার কমতি নেই। সে সর্বদাই চায়, কেমন করে সংসার জীবনেসুখ শান্তি ফিরিয়ে আনা যায়। একা চাইলেই তো আর হয় না, দুজনে মিলেই শান্তির চেষ্টা করতে হয়।
নূরের সাথে দেখা করে বের হওয়ার সময় বেশ কয়েকজন উকিল। এসে হায়দার সাহেবকে ধরল। তারা নূরের মামলার ব্যাপারে লড়তে চাইল। কেননা এ'দেশের সরকারি উকিল দিয়ে মামলা লড়া মানে- “কোন ছেলের জন্ম হয়ে বৃদ্ধে পরিণত হয়েও তার মুক্তি না মিলা।" আর সরকারি উকিল, জঙ্গি মামলায় লড়তে চায় না। তাই বাধ্য হয়ে বেসরকারি কয়েকজন উকিলের সাথে কথা বলল।
সব উকিলদের একই কথা
“আপনারা কোন চিন্তা করবেন না। এ রকম মামলা দুই সপ্তাহে মুক্ত করে দেই। এই ব্যাপারে অনেক রেকর্ড রয়েছে আমাদের। আপনারা আমাদের সম্পর্কে খোঁজ নিতে পারেন, কোন সমস্যা হবে না।
এ রকম সাজালো-গোছানো হাজারো মিথ্যা কথা বলে, একজন আসামির গার্ডিয়ানের সাথে যেভাবেই হোক, ছলে, বলে, কৌশলে বিশ্বাস করিয়ে, তাদের কথার ফাঁদে ফেলে মক্কেল থেকে লাখ টাকা খসিয়ে নেয়। কিন্তু কোনো ফল পাওয়া যায় না।
নূরকে জেল থেকে ছাড়িয়ে আনার জন্য 'মীম' একজন মহিলা উকিলের সাথে কথা বলল। মহিলা উকিল নিযুক্ত করার কারণ হল, পুরুষদের সাথে যেন মীমের কথা বলতে না হয়। সেই মহিলা বিশ দিনের ভিতরে ছাড়িয়ে আনবে বলে কথা দিল। মামলার কাগজপত্র উঠানোর জন্য বেশ কিছু টাকাও নিল। মীম' মহিলা উকিলের সাথে কথা শেষে হায়দার সাহেবের সাথে বাড়ী চলে আসলো।
বন্দি কারাগারে নূরের বেশ কয়েকদিন কেটে গেল। এরই মাঝে পুলিশকে কিছু টাকা দিয়ে সে একটি খাতা-কলম ক্রয় করে দিল। জেলখানায় বসেই খাতার পাতায় ভালবাসার মানুষটির কাছে চিঠি লিখল। চিঠির ধরনটা ছিল এমন
হুজুর মিয়ার চিঠি,
হুজুরনির হাতে
পত্রের শুরুতেই মহান রাব্বুল আল-আমিনের দরবারে শুকর-গুজার করি, যিনি তোমার কাছে চিঠি লেখার মত তওফিক দান করেছেন এবং তোমাকে আমার জীবনসাথী বানিয়েছেন ।
সালাম বাদ তোমাকেই বলছি!
কেমন আছ?
নিশ্চয় ভাল নয়।
কেননা তুমি বিনা আমিও ভাল থাকতে পারিনা। ভাগ্য আজ আমাদের
আলাদা করে রেখেছে। তবে এখন একটু ভাল লাগছে। কারণ, তোমায় নিয়ে চিঠি লিখতে বসেছি।
কি করছ এখন!
হয়ত কুপি-বাতি জ্বালিয়ে, নয়ত হারিকেন ধরিয়ে, আগুনের পানে চেয়ে আছো আর আমি পাগলের কথাই ভাবছো।
এই যে!
আমার কথা এত ভাবতে হবেনা।
আর আগুনের শিখায় আঙ্গুল ধরে রেখেছ কেন! কোমল আঙ্গুলি পুড়ে যাবে
তো! সরিয়ে নাও৷
ভাবছো আমি কেমনে জানি!
আরে পাগলী.……..... তুমিই তো একদিন বলেছিলে- আপনি যখন আমার হতে দূরে থাকেন, তখন বাতি জ্বালিয়ে আগুনের শিখায় আঙ্গুল ধরে রাখি।
আর এতেই আপনার কথা স্বরণ হয়।'
কি!
চিঠি পড়ে হাসি পাচ্ছে তাই না?
হাসতে হবেনা। ঘরের কোণে লুকিয়ে থাকা জীন পরীরাও তোমার মন জুড়ানো হাসির প্রেমে পড়ে যাবে।
লজ্জা পেয়েছো আমার কথায়।
হ্যা, লজ্জা পেতে পার। কেননা 'লজ্জা নারীর ভূষণ।'
মনে আছে তোমার সেই দিনের কথা।
যেদিন জোত্স্না ভরা রাতে তোমায় নিয়ে সাথে,
হাটিতে গিয়েছিলাম বিলের ধারে।
জল থেকে শাপলা এনে, তোমার খোঁপায় দিয়ে ছিলাম গেথে।
তখন তুমি খুশি হয়ে জড়িয়ে ধরে ছিলে মোরে বারে বারে।
আজো দেখো আসমানে চাঁদ উঠেছে। জেলখানা থেকে চাঁদের আলো দেখা যাচ্ছে। সাথে তোমার কথাও খুব মনে পড়ছে। কিন্তু তোমাকে চিঠির পাতায় লিখা আর কল্পনা ছাড়া কাছে পাচ্ছি না।
কি!
মনটা খারাপ হয়ে গেল তাইনা?
শুনো, মন খারাপ করতে হবেনা। মনটাকে সর্বদাই হাসি-খুশি রাখবে।
আমি তোমার পাশে নেই তাতে কী হয়েছে, আমার দেয়া ভালবাসা তোমার কাছে রয়েছে। ভেবে দেখো, আমি তো তোমার পাশেই রয়েছি।
সেদিনের গল্পটাই বলে শেষ করি।
বিল থেকে যখন হাত ধরে দু'জনে বাড়ী ফিরছিলাম, তখন কুকুরের ঘেউ ঘেউ আওয়াজে বড্ড ভয় পেয়ে ছিলে। চোখদুটো বন্ধ করে আমায় জড়িয়ে ধরেছিলে।
মনে আছে কি? তখন বলেছিলাম তোমায় আঁখি খুলে চেয়ে দেখো, কুকুরগুলো চলে গিয়েছে।”
তুমি চোখ খুলবেনা বলে প্রতিজ্ঞা করেছিলে। বাড়ী এসে তারপরেই চোখ। খুললে। চোখ খুলে যখন আবারো কুকুরের মত ছায়া দেখতে পেলে, ফের আমায় জড়িয়ে ধরলে। সারারাত শুয়ে চোখ খুললে না। সে রাতে আর আমাদের তাহাজ্জুত নামায আদায় হল না। এখনো কি আগের মতই ভয় পাও, না আমার অবর্তমানে ভয়কে জয় করে সাহস দেখাও?
পরেরদিন সকালে রাতের গল্প নিয়ে সবাই হেসে ছিল। তুমিও অনেক হেসে ছিলে। এই গল্পটা তোমাকে যতবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছি, ততবারই প্রাণ ভরে হেসেছো। নিশ্চয় আজো হাসছে!!
থাক আর হাসতে হবেনা মাধবীনি। তোমার ঐ হাসিতে আমার ফাঁসি হয়ে। যাবে। আর হেসোনা মাধবীনি।
এই জেলখানায় ভিতরে খুব মনে পড়ছে তোমার ঐ হরিণের দুটি চোখ, গালে ভরা হাসি আর মায়াবীনি মুখ। ঠোঁটের বামপাশে তিলকপড়া এক বিন্দু, যেই বিন্দু দেখে লজ্জায় লুকিয়ে যেত ইন্দু।। এত হেসোনা ওগো, তোমার হাসিতে হতে পারে মোর ফাঁসি.......
তোমার রেশমি কালো চুল আর মায়া ভরা হাসি,
আবারো লজ্জা পেয়েছ তাইনা!
আর লজ্জা পেতে হবেনা। আজ আর কিছু লিখব না। কেননা তোমার মধুমাখা চেহারা আমার চোখে ভেসে উঠেছে। এখনি সব ছেড়ে তোমার আলিঙ্গনে চলে যেতে ইচ্ছে করছে। তাই আজ আর তোমায় নিয়ে লিখব না। বহু কথা জমে আছে মন-পিঞ্জরে, কিন্তু লিখার মত শক্তি পাচ্ছি না।
ঐ শুনো মসজিদের মিনারায় মুয়াজিন এশার নামাযের আহ্বান করছে। যাও, এশার নামায আদায় করে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ো।। আমার কথা আর ভাবতে হবেনা।
সঙ্গিনী!
তোমার জন্য একটা কবিতাও লিখেছি। কবিতার নাম
কল্পনায় বউ আমার।
বউ' তুমি কাছে নেই, তবুও আমি খুশি, কারণ, কল্পনায় তোমায় অনেক ভালবাসি। তোমার হাসিটা, মোর হৃদয়ে জ্বলে বাড়ি। তুমি আমার বউ, আমার জীবন সাথী ।
তোমার ইচ্ছেগুলো, মনের ভিতরে কথা বলে, তোমায় কাছে চাই, ছলেবলে কত কৌশলে। তবুও পারিনা যেতে, তোমার কাছে বারে বারে, কারণ, আমি থাকি দূর থেকে বহু দূরে
তুমি দুঃখ করোনা, আমি আসবো চলে,
তুমি দেখো বউ, তোমায় যাবনা কখনো ফেলে ।।
তুমি হেসে দাও, আমিও হাসবো তোমার কল্পনাতে, তুমি কি জানো বউ, এই মন চায় তোমায় কাছে পেতে !
আর শুনো,
ঘুমানোর আগে কুরআনের পাশে রাখা তরবারিটি মুছে রেখো। জানিনা কখন যুদ্ধের দামামা বেজে উঠবে। তখন তোমার দু'আ আর তরবারি আমার সম্বল হবে। ভালো থেকো মাধবীনি।
ইতি, তোমার প্রেমময় সাথী। দ্বিতীয় চিঠির অপেক্ষায় থেকো।
2-5-2019
নূর চিঠি লিখা শেষে ঘুমিয়ে গেল। পরেরদিন মামলার শোনানিতে 'মীম' ঢাকায় আসল। নূরের সাথে দেখা করে ফেরার সময় 'নূর' মীমের হাতে পত্রটি দিয়ে বলল- মাগরীবের পড়ে এই চিঠি পড়িতে
মীম পত্রটি পাওয়া মাত্রই পড়ার জন্য অস্থির হয়ে গেল। বার বার দুই হাতে উলটপালট করতে লাগল। পুরোটা রাস্তা শুধু চিঠির পানে চেয়ে রইল। বাড়ী ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল। নফল রোজার ইফতার সেরে, মাগরিবের নামায আদায় করে হারিকেনের আলোয় স্বামীর দেয়া চিঠি পড়তে বসল। চিঠির একেকটা লাইন পড়ে আর বুকের ভিতর অন্যরকম প্রশান্তি অনুভব করে। পত্রখানি কয়েকবার পড়ার পর, সেও খাতা-কলম নিয়ে বসে গেল। প্রিয় মানুষটির উদ্দেশ্যে, চিঠি লিখতে শুরু করল
পত্রের শুরুতেই সালাম গ্রহণ করিবেন। আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাহ কাতুহ।
হুজুরনির চিঠি,
হুজুরের কাছে।
কখনো কারো কাছে পত্র লিখা হয়নি; তাই পত্র কিভাবে লিখতে হয় জানিনা। ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইল।
হাজারো প্রশংসা এবং কোটি কোটি শুকরিয়া, সেই মালিকের দরবারে, যিনি আপনার মত ভাগ্যবান একজন স্বামীর খেদমত করার সুযোগ:
দিয়েছেন আমাকে।
পর সমাচার,
আজ সকালে আমাদের বাগানে যতগুলো ফুল ফুটেছে, সবগুলো ফুলের শুভেচ্ছা। সেই সাথে আমার ভালবাসাও গ্রহন করিবেন।
মূল আলোচনা,
শুধু ঐতিহাসিক উপন্যাসে পড়েছি চিঠির কথা। বাস্তবে যে চিঠি পড়তে এত স্বাদ লাগে, এত ভালবাসা লুকিয়ে থাকে, আপনার পত্রটি না পড়লে হয়ত বুঝতামই না। এখন আপনার কাছে চিঠি লিখতে এত ভাল লাগছে যে ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। সত্যি মনের কথা উল্লেখ করার মত সবচেয়ে আপন বস্তু হল চিঠি। যেখানে আমাদের মনের ভাব ফুটিয়ে তুলতে পারি।
আপনাকে তো বলাই হয়নি, আপনি কারাগারে চলে যাওয়ার পর, ঘরে আপনার পাঁচ হাজার টাকা ছিল। সেই টাকা দিয়ে পুরাতন একটা সেলাই মেশিন আর কিছু ‘পুঁথি’ এবং হাস-মুরগী কিনে ছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, বেশ লাভবান আশা করা যাচ্ছে। পাঁচ হাজার টাকা এই কয়দিনে পঁচিশ হাজার টাকার মত হয়ে গেয়িছে। আমাদের ধান ক্ষেতেও অনেক ধান হয়েছে। কখনো কখনো রাতের আঁধারে ফসলও দেখতে যাই।
আপনার তৈরী করা ভালবাসার ঘর ছেড়ে কোথাও যাইনি। আমার কিংবা আপনার পরিবার থেকে একটি টাকাও গ্রহণ করেনি। শুধু এই কারণে যে, পরিস্থিতির মোকাবেলা কেমন করে করতে হয় 'হুজুর মিয়ার বউ' ভাল করেই জানে।
আচ্ছা সেই কথা বাদ।
জানেন, হাস-মুরগীগুলো ডিম দেয়। সারাক্ষণ বাড়ির আঙ্গিনায় ঘুরা ফেরা করে। দেখতে বড্ড ভাল লাগে। আপনার জন্য বড় বড় কয়েকটা মোরগ রেখেছি। যখন জেল থেকে বাড়ী আসবেন, তখন মুরগী পোলাও রান্না করে খাওয়াব।
জানেন,
মহিলারা প্রায় সময় আমাদের কুঁড়ে ঘরে এসে বসে থাকে। তারা আমায় প্রশ্ন করে- 'বাবার এত টাকা থাকা সত্বেও কেন আপনাকে ছাড়িয়ে আনছিনা? এই ভাঙা ঘরে কেন পড়ে রয়েছি?' এরকম আরো কত কথা......
তাদের কথার জবাবে বলি- 'বাবার টাকায় ছাড়িয়ে আনব কেন! আমার ভালবাসার মানুষের জন্য নিজের পরিশ্রমে যদি কিছু করতে পারি, তাহলে সেটাই হবে আমার জীবনের সবচেয়ে খুশির জিনিস। আর এই ভাঙা ঘর বলে পড়ে আছি না, এখানেই আমাদের হাজারো স্মৃতি লুকিয়ে আছে। মৃত্যু পর্যন্ত এই কুঁড়ের ঘরেই উনার জন্য অপেক্ষা করব।'
তারা আমার কথা শুনে হাসে। কেউ কেউ বলে 'তোমাদের প্রেম কাহিনী নিয়ে একটি বই লিখা দরকার। সত্যি, তোমাদের
ভালবাসার তুলনা হয় না।'
চলবে ইনশাআল্লাহ------
বিঃদ্রঃ ভুলগুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন প্লিজ 🙏
প্লিজ কমেন্ট করে জানাবেন গল্প গুলো কেমন হয়েছে!
আশা করি আমাদের সাথেই থাকবেন.।
Click here to claim your Sponsored Listing.