Projonmokantho
This is a news portal. Here you will find all kinds of news including details of various new events.
26/03/2026
❝পদ্মার অতল❞
— কবি এম আর টিপু
তোমাদের কাছে দামী ওই মখমল লাল-সবুজের নিশান,
সুরক্ষিত সীমানার দম্ভ, আর ক্ষমতার কুটিল অভিধান।
তোমরা যখন কষো জিডিপির সূক্ষ্ম অংকের লাভ-ক্ষতি,
তখন আমার পৃথিবীর মানচিত্র জুড়ে শুধুই অভাবের বসতি।
আমার কাছে দামী ছিল মায়ের ঘামে ভেজা জীর্ণ আঁচল,
বাবার হালের বলদ, আর হোগল পাতার ঘেরা ঘর-অঁচল।
বুজির আলতা-চুরি, ময়না পাখির ডাক, আর দিনশেষে—
বাজানের ক্লান্ত গলার স্বরটুকু, যা সব কষ্ট দিত ভুলিয়ে এসে।
ইদের খুশিতে এক চিলতে হাসি নিয়ে ফিরছিল তারা,
কর্মস্থলের টানে, বাঁচার আশায়, হয়ে ঘরছাড়া।
দৌলতদিয়ার পন্টুনে এক লহমায় থেমে গেল সব স্পন্দন,
পদ্মার ঢেউয়ে ডুবে গেল কত জননীর নাড়ির বন্ধন।
মা-বাজান-বুজি আজ পদ্মার অতল তলে—নিথর, শান্ত,
মুহূর্তে ফুরিয়ে গেল জীবন-লড়াইয়ের যত ক্লান্তি শ্রান্ত।
ওরা তো মুক্তি পেল এই অভাব আর বঞ্চনার জগত থেকে,
রাহুর গ্রাস থেকে পালিয়ে বাঁচল নীল পদ্মার বুকে ঢেকে।
আর আমি? নিঃসঙ্গ এক বন্দী হয়ে রইলাম এই পোড়া দেশে,
যেখানে মানুষের চেয়ে দামী পতাকা, জয়গান আর ক্ষমতার বেশে।
তোমাদের উন্নয়নের চাকায় পিষ্ট এই হাহাকার আর বিলাপ—
আমার কাছে আজ জীর্ণ স্বাধীনতার শিকল, এক মহান অভিশাপ!
অতল জলের তলে ওরা অমর, ওরা সব দায়মুক্ত আজ,
আমিই কেবল বয়ে বেড়াই এই 'সোনার শিকল'—শাসকের রাজ।
তোমাদের জিডিপি বাড়ছে বাড়ুক, বাড়ছে সীমানার গর্ব—
আমার পৃথিবী তো ওই নদীগর্ভে আজ সবটুকু খর্ব।
#বাংলাকবিতা #কবিএমআরটিপু #বাসডুবি #পদ্মা
04/03/2026
❝রক্তের জবানবন্দি❞
—কবি এম আর টিপু
সীতাকুণ্ডের গহীন বুক।
সবুজ পাতায় জমাট রক্ত।
সাত বছরের এক টুকরো শৈশব—
নরপশুদের নখ আর দাঁতে আজ ছিন্নভিন্ন।
আদিম লালসার বীভৎস উৎসব।
কণ্ঠনালীতে ধারালো ছুরির অভিষেক।
পিশাচের অট্টহাসি—
ভেবেছিল, নিভে গেছে একটি নক্ষত্র।
ভুল। চরম ভুল।
রক্তাক্ত নগ্নতা নিয়ে উঠে দাঁড়াল প্রাণ।
টলমল পায়ে যমদূতকে তাচ্ছিল্য।
সে তো এক শিশু নয়—
সে এক অবিনাশী দ্রোহের মানচিত্র।
আমাদের সভ্যতা?
এক নপুংসক পাথুরে দেয়াল।
আমাদের বিবেক?
নর্দমায় পচা কোনো মৃত শকুনি।
বিচার?
সে তো অন্ধ আইনের এক নিষ্ঠুর পরিহাস।
সাত বছরের ওই কাটা গলা—
আজ এক জীবন্ত আগ্নেয়গিরি।
তার প্রতিটি ক্ষত
আমাদের পিঠে এক একটি চাবুক।
জেগে ওঠো জঠর থেকে।
উপড়ে ফেলো ওই মুখোশধারী ঘৃণা।
পিশাচের জন্য বরাদ্দ হোক শুধু ঘৃণা আর ফাঁসির দড়ি।
নিষ্পাপ রক্তে লেখা হলো আজ এক নতুন ইশতেহার।
এই আগুনের কোনো শেষ নেই—
যতক্ষণ না পুড়ে ছাই হয় এই কলঙ্কিত কাল।
সে মরে নি।
সে মরতে জানে না।
সে আজ আমাদের মরা সমাজের গালে—
এক অমর, রক্তাক্ত চপেটাঘাত।
#গলাকাটা #কবিএমআরটিপু #বাংলাকবিতা #সীতাকুণ্ড
❝২০০ যুদ্ধবিমান ইরানের ৫০০ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে: ইসরায়েলি সেনাবাহিনী❞
28/02/2026
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি আর ‘বেঁচে নেই এমন লক্ষণ পাওয়া গেছে’ বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে তিনি খামেনির নিহত হওয়ার কথা সরাসরি নিশ্চিত করেননি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এএফপির খবরে বলা হয়, নেতানিয়াহু সংক্ষিপ্ত বার্তায় এ কথা জানিয়েছেন।
20/02/2026
❝একুশের জননী❞
—কবি এম আর টিপু
এখনো উঠোনে পড়ে আছে সেই নিস্পন্দ থালার ভাত,
অপেক্ষার প্রহরে স্তব্ধ— ব্যথিত জননীর হাত।
মিছিলের শব্দে যে খোকা ঘর ছেড়েছিল কবে,
সে কি জানত, ফিরবে সে এক রক্তিম উৎসবে?
আমি সেই মা, যার হাহাকারে আজো কাঁপে বর্ণমালা,
বুকের পাজরে গেঁথেছি আমি শোকের অগ্নিজ্বালা।
শোন রে তরুণ, তোদের কন্ঠে আমার বাছার স্বর,
তোদের মিছিলে জেগে ওঠে আজ সেই সে অবিনশ্বর।
অ-আ-ক-খ—এগুলো কি শুধু নিছক কালোর রেখা?
এ তো আমার খোকার বুকের তপ্ত রক্তে লেখা।
যে ভাষায় মা ডাকল না সে, সে ভাষার দায়ভার—
তুলে দিলাম আজ তোদের হাতে, ভাঙবি কি অন্ধকার?
একুশ মানে কি কেবল সজ্জা? রিক্ত চরণে হাঁটা?
একুশ মানে তো অন্যায়ের পথে বিঁধিয়ে দেওয়া কাঁটা।
আমার আঁচলে বাঁধা আছে আজ বাংলার মানচিত্র,
শহীদ রক্তে ধুয়ে নিয়ে তোরা করবি তাকে পবিত্র।
জাগরণী গান হোক তবে আজ শৃঙ্খল ভাঙার মন্ত্র,
তোদের শিরায় বহুক মুক্তি— স্তব্ধ হোক ষড়যন্ত্র।
আমি মা হয়ে হুকুম দিলাম, রুখে দাঁড়া বীরবেশে,
অক্ষরগুলো অস্ত্র হয়ে নামুক এ বঙ্গদেশে।
মায়ের ভাষার মর্যাদা যদি থাকে তোদের মজ্জায়,
তবে কেন আজ বীরের জাতি নুয়ে থাকে কাল-লজ্জায়?
জেগে ওঠ আজ একুশে চেতনায়, নতুন সূর্যালোকে,
বিপ্লব হাসুক চিরকাল ধরে— আমার খোকার চোখে।
#শহীদদিবস #ভাষাদিবস #আন্তর্জাতিকভাষাদিবস #একুশেফেব্রুয়ারি
#বাংলাকবিতা #কবিএমআরটিপু
16/02/2026
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে ক্ষমতার আনুগত্য নয়—অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস।
16/02/2026
গণতন্ত্র মানে একমত হওয়া নয়; গণতন্ত্র মানে ভিন্নমত সহ্য করার সাহস।
15/02/2026
দৃষ্টি শক্তির পরীক্ষা হয়ে যাক ⁉️
09/02/2026
With Saruar Hasan Sajeeb – I'm on a streak! I've been a top fan for 7 months in a row. 🎉
02/02/2026
❝পোড়া শৈশব❞
—কবি এম আর টিপু
আমরা কি মানুষ?
নাকি মানুষের ছদ্মবেশে এক একটি আদিম গুহা?
বিবেকের শ্মশানে দাঁড়িয়ে আমরাই তো জ্বেলেছি
নরকের লেলিহান উহু!
নিষ্পাপ শিশুর কোমল চামড়ায়—
যেখানে আঁকার কথা ছিল আদরের দাগ,
সেখানে আমরাই এঁকে দিই জ্বলন্ত ইস্পাতে ক্রুর হায়েনার রাগ।
রাষ্ট্রের সুউচ্চ শিখরে বসে, ধোপদুরস্ত কাপড়ের আড়ালে,
সভ্যতার মুখোশ পরে পিশাচেরা হাসে আজ শিশুর পোড়া কপালে।
এক হতভাগ্য পিতা—
জীবিকার তপ্ত কড়াইয়ে যার স্বপ্নগুলো পুড়ে হয়েছে ছাই,
ক্ষুৎপিপাসার দংশনে, অন্ধ বিশ্বাসে খুঁজেছিল একটু ঠাঁই।
রাষ্ট্রের এক ক্ষমতাধর প্রভু, অর্থের জৌলুসে যার গড়া ইমারত,
পিতা ভেবেছিল—সেখানে মিলবে কন্যার নিরাপদ ভবিষৎ।
ওরা বলেছিল—❝কিসের চিন্তা? আপন কন্যার স্নেহে রাখিব জড়ায়ে,
শিক্ষায়-দীক্ষায় মানুষ করিব, রাখিবে না কোনো আয়ে!❞
হায় রে নিয়তি! ক্ষুধার্ত পেট চেনে না তো নেকড়ের দাঁত,
সরল বিশ্বাসে পিতা তুলে দিল কসাইয়ের হাতে তার প্রভাত।
স্বপ্নিল সেই এগারো বসন্তের কলি—
বই-খাতা নয়, চোখের নোনাজলে লিখেছিল বোবা এক লিপি।
খেলার সাথী হওয়ার ছলনায়, প্রাসাদের অন্ধ কুঠুরিতে—
নরম শরীরে বিঁধল এসে নখর, দাসত্বের নিগড় কষে দিতে।
ওরা মানুষ নয়—ওরা ক্ষমতার মদমত্ত মেধাবী অসুর,
শিশুর কান্না ওদের কাছে মনে হয় উৎসবের সুর!
মাসের পর মাস—মহাকালের দীর্ঘশ্বাস!
পিতা শুধু শুনেছে—❝আজ নয়, কাল❞—প্রবঞ্চনার দেয়াল,
ওদিকে রুদ্ধ দ্বারে রচিত হয়েছে এক নিষ্ঠুর আকাল।
গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, আর লোহা পোড়ানো গন্ধে—
শিশুর পাঁজরে লেখা হলো ইতিহাস, আগুনের ছন্দে।
ও কি মানুষের হাড়? নাকি ফুলের পাপড়ি, যা পিষে মারে দানব?
আর্তনাদ কি পৌঁছায়নি সেই বিমানে ওড়া দেবতার কানে?
নাকি ক্ষমতার তুলো দিয়ে কান বন্ধ রাখাটাই আজব?
অবশেষে সেই তিমির বিদারী প্রহরে,
যখন আবর্জনার মতো ছুড়ে ফেলা হলো এক জীবন্ত লাশের ভরে।
ও তো মেয়ে নয়—ও যেন পোড়া মানচিত্র, সভ্যতার দগদগে ঘা,
যার প্রতিটি ক্ষতে লেখা আছে আমাদের পরাজয়ের বা।
রাষ্ট্রের সেই বড় কর্তা, যার আঙিনায় বিচার নতজানু রয়,
তার ঘরেই চলে শৈশব পোড়ানোর এই বীভৎস যজ্ঞ-জয়!
আজ তারা কারাগারে—লোকদেখানো নাটকের মঞ্চে,
কিন্তু এ দেশে ন্যায়ের প্রদীপ জ্বলে কি আর জরাজীর্ণ লন্ঠনে?
হাতকড়া আজ বিত্তশালীর হাতে যেন সোনার কাঁকন,
অন্ধ রাতে বিচার কাঁদে, শোনে না তো কেউ তার ক্রন্দন।
আইনের চোখে কালো কাপড়—সে কি নিরপেক্ষতা? নাকি লজ্জার ঢাকনি?
পিশাচের অট্টহাসিতে কেঁপে ওঠে আজ ধরণীর চালনি।
শোনো হে জনতা!
যদি আজ তুমি এই আগুনের বিরুদ্ধে না হও শামিল,
কাল তোমার ঘরেও হানা দেবে এই পিশাচের দল, এই কিল।
মানুষ হয়েও অমানুষ মোরা—ললাটে কলঙ্ক তিলক,
ছিঁড়ে ফেলো আজ ভণ্ডামির এই মেকি সভ্য পালক।
মানুষ কি তবে মরে গেছে? বেঁচে আছে কেবল শরীর?
নাকি পতাকা কেবলি নিরেট কাপড়, নেই কোনো তেজ অধীর?
এই হাহাকার কেবলি কবিতা নয়—এ এক অভিশাপের নাম,
এ আমাদের জাতির কপালে আঁকা, শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ জংধরা খাম।
জেগে ওঠো, নতুবা এই পোড়া শৈশবের ছাই—
পুড়িয়ে মারবে সমগ্র জাতি, বাঁচার কোনো পথ নাই!
#গৃহকর্মীশিশু #বিমানএমডি #অমানুষ #বাংলাকবিতা #কবিএমআরটিপু #মানবাধিকার #পোড়াশৈশব
Click here to claim your Sponsored Listing.