Dawah
প্রকৃত দ্বীনের দাওয়াত দিতে চাই!
একবার নবীজি ﷺ সা’দ ইবনে উবাদাহ (রা) এর সাথে দেখা করতে গেলেন। দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে বললেন, ”সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু” (অর্থঃ তোমাদের উপর আল্লাহর তরফ থেকে শান্তি, রাহমাহ আর বারাকাহ বর্ষিত হোক)।
সা’দ সালাম শুনে মনে মনে জবাব দিলেন যাতে নবীজি ﷺ শুনতে না পান।
নবীজি ﷺ আবারও বললেন, ”সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।”
সা’দ এবারও মনে মনে জবাব দিলেন।
এভাবে মোট তিনবার ঘটার পর নবীজি ﷺ চলে যেতে উদ্যত হলেন। সা’দ তাড়াতাড়ি নবীজির সামনে এসে বললেন,
”যিনি আপনাকে সত্য বাণী দিয়ে পাঠিয়েছেন সেই রবের শপথ, আমি প্রত্যেকবার আপনার সালামের জবাব দিচ্ছিলাম। আমি তো শুধু চাচ্ছিলাম, আপনি যাতে আল্লাহর রহমতের দোয়া আমাদের জন্য আরো বেশি করতে থাকেন (তাই চুপ ছিলাম)।”
বইঃ A day in the life of Muhammad ﷺ
ইবনুল মুবারক রাহিমাহুল্লাহ বলেন
“বিনয় হচ্ছে—তুমি তোমার থেকে কম জ্ঞানী ব্যক্তির কাছেও নিজেকে নিচু মনে করো, এবং তোমার থেকে নিচু মর্যাদার কারও কাছ থেকে সত্যকে গ্রহণ করো।”
[হিলইয়াতুল আওলিয়া ৮/১৬৭]
ওহে!
তোমাকে যদি তাড়িয়ে দেওয়া হয়, তবু দরজা থেকে সরবে না!
তোমাকে যদি দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়, তবু কাছ থেকে নড়বে না!
কাকুতি-মিনতির স্বরে (আল্লাহকে) বলবে,
“আমি কার কাছে যাবো?!”
- ইবনুল জাওযী (রাহিমাহুল্লাহ)
[আল-মুদহিশ: ২০২]
যে আপনাকে জান্নাতে না পেলে খুঁজবে!
"শাইখ আব্দুর রহমান আরিফী [হাফিযাহুল্লাহ] একবার ওনার এক লেকচারে একটা ঘটনা বলেছিলেন।
হাসান আল বাসরী [রহিমাহুল্লাহ] বলেছেন, তোমরা পৃথিবীতে ভাল মানুষদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে তৎপর হও, কারন এই সম্পর্কের কারণে হয়ত তোমরা আখিরাতে উপকৃত হতে পারবে।
তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো কিভাবে?
তিনি বললেন যখন জান্নাতিরা জান্নাতে অধিষ্ঠিত হয়ে যাবে তখন তারা পৃথিবীর ঘটনা স্মরণ করবে এবং তাদের পৃথিবীর বন্ধুদের কথা মনে পড়ে যাবে। তারা বলবে, আমি তো আমার সেই বন্ধুকে জান্নাতে দেখছিনা, কি করেছিল সে?
তখন বলা হবে, সেতো জাহান্নামে। তখন সেই মু'মিন ব্যক্তি আল্লাহর কাছে বলবেন, হে আল্লাহ, আমার বন্ধুকে ছাড়া আমার কাছে জান্নাতের আনন্দ পরিপূর্ণ হচ্ছেনা।
অতঃপর আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা'আলা আদেশ করবেন অমুক ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে বের করে জান্নাতে প্রবেশ করাতে।
তার বন্ধু জাহান্নাম থেকে রক্ষা পেল এই কারনে নয় যে সে তাহাজ্জুদ পড়ত, বা কুরআন পড়ত বা সাদাকাহ করত বা রোজা রাখত, বরং সে মুক্তি পেল কেবলই এই কারণে যে তার বন্ধু তার কথা স্মরণ করেছে। তার জান্নাতী বন্ধুর সম্মানের খাতিরে তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হল।
জাহান্নামিরা তখন অত্যন্ত অবাক হয়ে জানতে চাইবে কি কারনে তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হল, তার বাবা কি শহিদ? তার ভাই কি শহিদ? তার জন্য কি কোন ফেরেশতা বা নবী শাফায়াৎ করেছেন?
বলা হবে না, বরং তার বন্ধু জান্নাতে তার জন্য আল্লাহর কাছে অনুরোধ করেছে।
এই কথা শুনে জাহান্নামিরা আফসোস করে বলবে হায় আজ আমাদের জন্য কোন শাফায়াৎকারি নেই এবং আমাদের কোন সত্যিকারের বন্ধু নেই, যার উল্লেখ আছে এই আয়াতগুলোতে:
"আমাদের কোন সুপারিশকারী নেই। আর কোন সহৃদয় বন্ধুও নেই।" [সূরা শু'য়ারা : ১০০-১০১]
খুব বেশি বন্ধু নেই আমার। আর এতো বন্ধুর প্রয়োজনও নেই। এমন একজন হলেই তো যথেষ্ট যে জান্নাতে যাবার পর আমায় সেখানে না পেলে খুঁজবে।
সত্যিই কি এমন কেউ আছে, যে জান্নাতে আমায় না পেলে খুঁজবে?
ঈশার নামাজের পর রিকশা নিয়ে বাসায় ফিরছি। স্বাভাবিক যে রোডে যাওয়ার কথা সেই রোডে না গিয়ে আশেপাশে বেশ কয়েকটি রোড ঘুরছি।
রিকশাওয়ালার বয়স বড়জোর ১৮/২০ হবে। খুব রাগ হয়ে বললো - এক জায়গায় যাওয়ার কথা বলে কয় জায়গায় যাইতেসেন?
আসলে একটা এটিএম বুথ খুজছিলাম, খুব জরুরী ছিল বলেই। রিকশায় ওঠার পর মনে পড়েছিল, তাই ওঠার আগে বলে ওঠা হয় নি। রিকশাওয়ালাকে বললামও সেটা।
কিন্তু সে থামলো না। দ্বিগুন রাগ হয়ে গেলো।
"আপনারা হুজুররা এমনই। আপনাগো কথা ঠিক নাই। হুজুর হইয়া মিসা কথা কন।"...
কোন উত্তর দিলাম না। বুঝতেসিলাম, তার কষ্ট হচ্ছে। দরদর করে ঘাম পড়ছে। কিন্তু তারপরও! এমন ব্যবহার!
অবশেষে বাসার গেটে নামলাম। ভাড়া সর্বোচ্চ ৪৫/৫০ টাকা হবে। তাকে ১০০টাকা দিলাম। বাকি টাকা ফেরত দিতে যাবে, বললাম রেখে দাও। পাশের দোকান থেকে একটা ২০ টাকার ঠান্ডা পানি কিনে দিয়ে বললাম, খাও! আরাম লাগবে!
পানি দিলাম, কিন্তু হাত বাড়িয়ে নেয় না। মুখের দিকে তাকিয়ে দেখি, চোখ দুটো ছলছল করে উঠেছে।
- মামা! আমার ভুল হয়ে গেসে মাফ করে দেন!
_________
প্রচন্ড পিপাসার্ত কাউকে ঢকঢক করে পানি খেতে দেখার দৃশ্য! কী অদ্ভুত মায়াবী,তাই না।
দুইটা থাপ্পড় দিয়ে যে সম্মান আমি কোনদিন আদায় করতে পারতাম না, সামান্য ভাল ব্যবহার দিয়ে প্রাপ্য সম্মানটুকু ঠিকই পেলাম আমি।
সুরা হা-মিম সিজদাহতে একটি আয়াত আছে, যার সারমর্ম মোটামুটি এরকম,
"উত্তম কিছু দিয়ে মন্দকে প্রতিহত করুন। দেখবেন,আপনার সাথে যার শত্রুতা রয়েছে, সেও হয়ে যাবে যেন আপনার অন্তরঙ্গ বন্ধু।" - (সূরা ৪১, আয়াত ৩৪)
আয়াতটা আমাদের অনেকেরই হয়তো অনেকবার তিলাওয়াত হয়েছে। কিন্তু এর উপর যখন আমল হয়, দৃশ্যটা কত সুন্দর হয়!
ওয়া লিল্লাহিল হামদ।
রিজওয়ানুল কবির
এক বন্ধুর বাসায় গিয়েছিলাম। ড্রয়িংরুমে কিছুক্ষণ বসার পর সে তার সাত মাস বয়সী মেয়েকে নিয়ে ঢুকলো। কোলে নেয়ার জন্য হাত বাড়ালাম, আসবে না। মুখ দিয়ে কত অঙ্গভঙ্গি করলাম, আদর করে ডাকলাম, কিছুতেই আসবে না। কেমন যেন ভয়ের চোখে তাকিয়ে আছে। অপরিচিত মানুষ দেখলে বাচ্চারা যেমন করে আর কি। এরপর যেই না জোর করে কোলে নিতে গেলাম, চিৎকার করে কেঁদে উঠলো।
মেয়ের বাবা আদর করল, ধমকও দিল। এত ভয় পাবার কি আছে? কিন্তু ধমক খেয়েও সে বাবার কোলেই থাকবে, আমার কোলে আসবে না।
২)
ফেসবুকে পরিচিত এক দ্বীনি ভাইয়ের সাথে কথা হচ্ছিল সেদিন। তিনি তার ছোট ভাইয়ের ব্যাপারে বলছিলেন। উমরা করে এসে সম্পূর্ণ পরিবর্তন হয়ে যান। দাড়ি রাখেন, নিয়মিত নামাজ পড়া শুরু করেন। কথা বার্তা আচার আচরণ সব কিছুতেই তার আমূল পরিবর্তন আসে। উমরা থেকে এসে এক বছর পর বিয়ে করেন। একটি ছেলেও হয়। সব কিছু বেশ ভাল ভাবেই চলছিল।
কিন্তু বছরখানেক ধরে তার জীবনে একটার পর একটা বিপদ আসছে। প্রথমে তার ব্যবসায়িক পার্টনার তাকে ধোঁকা দেয়। যার কারণে অনেক বড় অঙ্কের টাকা লোকসান হয়। এর কিছুদিন পর এক্সিডেন্ট করে পা ভেঙ্গে ফেলেন। আর সর্বশেষ মাসখানেক আগে তার একমাত্র ছেলেটি মারা যায়।
এসব শুনে কিছু বলার মত ভাষা ছিল না। তারপরও জিজ্ঞেস করলাম, আপনার ভাইয়ের এখন কি অবস্থা। একদম তো ভেঙ্গে পড়ার কথা। তিনি জবাব দিলেন, না ভাই! আল্লাহর রহমতে যথেষ্ট স্বাভাবিক আছে। একটা সময় ছিল, যখন আমার এই ভাইয়ের আচার আচরণের কারণে আমরা কেউ মুখ দেখাতে পারতাম না। আর এখন ওর কাছেই আমরা ঈমানের দৃঢ়তা শিখি। এত বড় বড় বিপদের পরও বলে, আল্লাহই বিপদ দেন, তিনিই এর প্রতিদান দিবেন।
------------
ঘটনা দুটোর মাঝে কি কোন মিল আছে? হয়তো আছে।
একটি ছোট বাচ্চা, কথা বলা শেখার আগেই পরিচিত ও অপরিচিতের মাঝে পার্থক্য করতে শিখে। তার কাছে মনে হয়, তার পরিচিত মানুষটি ধমক দিলেও, সে তার আপন। তাকে ভয় পাবার কিছু নেই। আর অপরিচিত কেউ আদর করলেও তাকে সে ভয় পায়, ইনসিকিউর ফিল করে।
ঠিক একই ভাবে, একজন প্রকৃত মুমিনও তার আপনকে চিনে। সে জানে এ জগতে তার সবচেয়ে আপন তার রব, তার মালিক। পৃথিবীর সবাই তাকে ভুলে গেলেও তিনি তাকে ভুলবেন না। তিনি যদি তাকে বিপদে ফেলেন, তিনিই তাকে উদ্ধার করবেন। তিনি যদি তার কাছ থেকে কিছু নিয়ে যান, তিনিই এর থেকে উত্তম কিছু তাকে দিয়ে দিবেন।
তাই মু’মিন হতাশও হয় না, হীনমন্যতায়ও ভুগে না। বিপদ তার ঈমানকে আরও বাড়িয়ে দেয়। কষ্ট তাকে করে আরও শক্তিশালী।
রিযওয়ানুল কবীর
এক গ্লাস ঠান্ডা পানির হিসাব দিতে গিয়ে যদি আপনার পুরো আমলনামা শেষ হয়ে যায়?
সুরা তাকাসুরের তাফসিরে নবিজি ﷺ বলেন, "বিচারের দিন মানুষের তিনটি খাতা থাকবে—একটিতে ভালো কাজ, একটিতে পাপ, আরেকটিতে আল্লাহর দেয়া নেয়ামতের হিসাব।
"বিচার দিনে আল্লাহ সবচেয়ে ছোট নেয়ামতটিকে বলবেন, যাও ওই বান্দার ভালো কাজ থেকে নিজের দাম বুঝে নাও। এই ক্ষুদে নেয়ামতটি তার সব ভালো কাজ নিয়ে বলবে, 'এখনো আমার পুরো দাম শোধ হয়নি।'
"অথচ পাপের হিসাব আর বাকি সব নেয়ামতের ঋণ তখনো বাকি!
"কিন্তু আল্লাহ যাঁর ওপর দয়া করতে চান, তাঁকে বলবেন, 'বান্দা, তোমার ভালো কাজ বাড়িয়ে দিলাম, পাপগুলো মাফ করে দিলাম। আর আমার সব নেয়ামত তোমাকে এমনিই উপহার দিলাম।' [আত-তারগিব]"
একদা সুনান আবু দাউদের লেখক ইমাম আবু দাউদ (রহ) জাহাজে ছিলেন। হঠাৎ করে এক প্রান্ত থেকে কারও হাঁচির শব্দ এবং 'আলহামদুলিল্লাহ্' শুনলেন। তিনি দ্রুত একটা ছোট নৌকা ভাড়া করলেন এক দিরহামের বিনিময়ে এবং নৌকা দিয়ে হাঁচিওয়ালার কাছে গিয়ে জবাব দিলেন 'ইয়ার-হামুকাল্লাহ' (আল্লাহ তোমাকে রহম করুক)। এরপর তিনি আবার জাহাজে ফেরত আসলেন।
জাহাজের মানুষেরা অবাক হয়ে তার কর্মকাণ্ড দেখে জিজ্ঞেস করলো,"আপনি এমনটা কেন করলেন? "
তিনি জবাব দিলেন, "হতে পারে আমার এই দুয়া আল্লাহ ক্ববুল করে নিবেন"
পরে জাহাজের সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়লো,তখন তারা এক আহবানকারীর আওয়াজ শুনতে পেলো। সে বলছিলো, "হে জাহাজের লোকসকল! আবু দাউদ তো আল্লাহর কাছ থেকে জান্নাতকে এক দিরহামের বিনিময়ে কিনে নিয়েছে"
- ইমাম ইবনু আব্দিল বার সহিহ সনদে বর্ণনা করেছেন
(ফাতহুল বারী ইবনু হাজার,১০/৬১০)
নবীর ﷺ এর কোন সুন্নাহকেই ছোট করে দেখবেন না,হতে পারে সেটা আপনার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির কারণ!
সংগৃহীত
ধান মাপার সময় সামান্য চিটা ধান বেরোলেই কৃষকের মন খারাপ হয়ে যায়। অথচ কথা বলার সময় আমাদের মুখ দিয়ে ফাহেশা কথা বের হলেও কোন ভাবান্তর হয় না।
অথচ সম্মানীত লেখকবৃন্দ (কিরামান-কাতিবিন) পাই টু পাই মেপে রাখছেন আমাদের উচ্চারিত প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি কথা। সেদিন কড়ায়গণ্ডায় বুঝিয়ে দিবেন। একপাই কম-বেশী করবেন না।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা ইরশাদ করেন,
মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে তা লিপিবদ্ধ করার জন্য তৎপর প্রহরী তার সাথেই রয়েছে।” [সূরা ক্বা-ফ, আয়াত : ১৮]
রাসূল (সাল্লাল্লাহু 'য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে সতর্ক করে বলেছেন যে, মুখের কথা খুবই বিপদজনক। সহীহ সূত্রে বর্ণিত একটি হাদীসে এসেছে নাবী (সা:) বলেছেন,
“বান্দা অনেক সময় এমন কথা বলে যাতে সে গুরুত্ব দেয় না অথচ সেই কথা আল্লাহ্কে সন্তুষ্ট করে। ফলে আল্লাহ্ তা‘আলা এর দ্বারা তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। পক্ষান্তরে, বান্দা অনেক সময় এমন কথাও বলে যাতে সে গুরুত্ব দেয় না অথচ সেই কথা আল্লাহ্কে অসন্তু করে। ফলে সেই কথাই তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করে।”
[বুখারী; অধ্যায় : ৮, খণ্ড : ৭৬, হাদীস : ৪৮৫]
সাহাবাদের চোখে দুনিয়া'য় একটা আছার রয়েছে। একবার আবু বকর আস-সিদ্দিক (র'দ্বিয়াল্লাহু তা'য়ালা 'আনহু) তার জিহবা বের করে টেনে ধরে ছিলেন। কেউ একজন জিজ্ঞ্যেস করেছিল, এর কারণ কি? তিনি বলেছিলেন, এটাই আমাকে শেষ করে দিয়েছে।
একজন আলিম বলেছিলেন, জবানকে নিয়ন্ত্রণ রাখা সবচেয়ে দুঃসাধ্য কাজ। বাইশ চাকার গাড়িও ব্রেক করা সহজ, কিন্তু দুই ইঞ্চির এই জবানকে নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন।
হাজার রাকাত তাহাজ্জুদ পড়নেওয়ালার জবানও যদি নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তাহলে সেও ধ্বংস। শতবার হজ্বকারীর জবান যদি অনিয়ন্ত্রিত থাকে, তাহলে সেও ধ্বংস।'
(পরিমার্জিত)
Rajib Hasan ভাই
"উমরের রবের কসম, তুমি মিথ্যা বলেছ! নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো বান্দাকে তার প্রথম পাপের কারণে এভাবে মানুষের সামনে সোপর্দ করেন না।"— হযরত উমর (রা.) [মুসনাদুল ফারুক লি-ইবনে কাছির]
এক চোর যখন খলিফা উমর (রা.)-এর দরবারে ধরা পড়ে দাবি করেছিল যে সে জীবনে প্রথমবার চুরি করেছে, তখন আমীরুল মুমিনীন এই ঐতিহাসিক কথাটি বলেছিলেন। পরে প্রমাণিত হয়েছিল যে লোকটা আগেও বহুবার চুরি করেছিল।
এই উক্তিটি আমাদের এক বিরাট বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায়। আমরা অনেক সময় ভাবি—আমি খুব চালাক, আমার গোপন গুনাহগুলো কেউ দেখছে না, বা আমি খুব সুন্দরভাবে নিজের ভুলগুলো আড়াল করতে পারছি। কিন্তু সত্যি বলতে, এটা আমাদের কোনো কৃতিত্ব নয়। এটা সম্পূর্ণ মহান আল্লাহর 'আস-সাত্তার' (দোষ গোপনকারী) গুণের কারণে।
তিনি দয়া করে আমাদের প্রথম ভুলগুলো, প্রথম গুনাহগুলো মানুষের সামনে আনেন না। আমাদের তওবা করার সুযোগ দেন। কিন্তু মানুষ যখন বারবার একই ভুল করতে থাকে, গুনাহকে অভ্যাস বানিয়ে ফেলে এবং অহংকারী হয়ে ওঠে, তখন আল্লাহ সেই আড়াল বা পর্দা সরিয়ে নেন।
মহান আল্লাহ আমাদেরকে সীমালঙ্ঘন থেকে হেফাজত করুন।
সংগৃহীত
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Dhaka
11564