Tariq Rizvi
Barrister at Law
Advocate, Supreme Court of Bangladesh
Condonation of delay in holding AGM বা কোম্পনির বার্ষিক সাধারন সভা অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে তামাদি মওকুপ করা।
আইনগত ভাবে প্রতিটি কোম্পানিকে প্রতি বতসরে একটি সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠান করতে হয়। এই বার্ষিক সভা অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে ২ টার ব্যবধান ১৫ মাসের বেশী হইতে পারবে না তবে ১ম বার্ষিক সাধারন সভার ব্যাপারে ব্যতিক্রম আছে। ১ম বার্ষিক সাধারন সভা কোম্পানি গঠনের তারিখ হইতে সর্বোচ্চ ১৮ মাস সময়ের মধ্যে করতে হয়।
কোন কোম্পানি যখন এই বার্ষিক সাধারণ সভা আইনে নির্ধারীত ১ম সভার ক্ষেত্রে ১৮ মাস অন্যান্য সভার ক্ষেত্রে ১৫ মাসের মধ্যে অনুষ্ঠান করতে ব্যর্থ হয় তখন সে কোম্পানিকে বার্ষিক সাধারন সভা অনুষ্ঠানের জন্য আদালতের অনুমতি গ্রহন করতে হয়।
আদালত থেকে কিভাবে অনুমতি নিতে হয় সে নিয়েই আজকের পোস্ট।
বার্ষিক সাধারন সভা অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে অত্যাবশকীয় উপাদান হইলো অডিট রিপোর্ট। প্রথমেই কোন অডিটরের মাধ্যমে কোম্পানির অডিট রিপোর্ট প্রস্তুত করতে হয়। অডিট রিপোর্ট হাতে আসার পর কোম্পানির সর্বশেষ সাধারন সভা অনুষ্ঠানের শিডিউল-X সংগ্রহ করা লাগে।
এসব সহ বার্ষিক সাধারন সভা অনুষ্ঠানের অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের কোম্পানি অধিক্ষেত্রের জুরিডিকশন সম্পন্ন কোন বেঞ্চে আবেদন করা প্রয়োজন হয়। আবেদনে কেন কোম্পানী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এজিএম অনুষ্ঠান করতে ব্যর্থ হইলো তার কারন ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন হয়।
হাইকোর্ট আবেদন করার পরে কোর্ট আবেদনে সন্তুষ্ট হইলে যে কোন একটি বাংলা এবং একটি ইংরেজি জাতীয় দৈনিকে নোটিশ প্রকাশ করার জন্য আদেশ দিবেন। নোটিশ প্রকাশ করে পত্রিকার কপি গুলা আদালতে জমা প্রদান করার পরে আদালত পেপার সমুহ গ্রহন করে নিলে ফাইনাল হিয়ারিং এর জন্য ফিক্স করতে হয়।
আদালতে ফিক্স করার পরে মামলা লিষ্টে আসলে শুনানী করতে হয়। শুনানীর সময় নির্দিষ্ট সময়ে কেন বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠান করা যায় নাই তার কারন ব্যাখ্যা করে আদালতকে সন্তুষ্ট করতে হয়। আদালত সন্তুষ্ট হইলে কোম্পানিকে এক্টি নির্দিষ্ট অংকের টাকা ফাইন করেন এবং উক্ত টাকা দিলেই আদালত বার্ষিক সাধারন সভা অনুষ্ঠানের অনুমতি দিয়ে অর্ডার পাস করেন।
ট্রেড লাইসেন্স করার পদ্ধতি!
নামজারী করার পদ্ধতি!
নামজারী কি?
জমি ক্রয় করলে অথবা জমির বর্তমান মালিক মৃত্যুবরন করিল সরকারের রেকর্ডপত্রে পূর্বের মালিকের নাম পরিবর্তন করে বর্তমান মালিকের নাম সংযুক্ত করাই মূলত নামজারী।
এই নামজারী কীভাবে করবেন?
নামজারী টা মূলত কি সূত্রে করছেন তার উপর নির্ভর করে আপনার কি কি কাগজপত্রের প্রয়োজন হবে। যদি উত্তরাধিকার সূত্রে নামজারী করেন তবে পূর্বতন মালিকের মৃত্যুসনদ এবং ওয়ারিশান সনদ। কোন নিবন্ধিত সংস্থা যদি হয় যেমন কোম্পানি, পার্টনারশিপ ফার্ম, সমবায় সমিতি, সোসাইটি অর্থাৎ সংস্থাটি যেকানে নিবন্ধিত সেখানকার নিবন্ধন সনদ।দলিল সূত্রে জমির মালিকানা লাভ করলে জমির দলিল। এর বাইরে সবার ক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে, এক কপি ছবি, বায়া দলিল, পর্চা, পূর্বতন মালিকের নামজারী বা পূর্বতন মালিকের নাম খতিয়ানে রেকর্ডে থাকলে সে খতিয়ান সমূহ।
বর্তমান সময়ে প্রায় সকল নামজারী ই ই-নামজারী হয়ে গেছে। ফলে আপনাকে নামজারী প্রক্রিয়া সম্পাদন করতে হবে অনালাইনে। ভূমি মন্ত্রলায়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে নামজারীর আবেদনটি সম্পন্ন করতে হবে।
ওয়েবসাইটে থাকা প্রক্রিয়া একের এক অনুসরণ করে এই নামজারী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে অর্থাৎ ওয়েবসাইটে যাওয়ার পর আপনি একের পর তথ্য পূরণ করার জন্য অপশন পাবেন, ধীরে ধীরে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সেসব পূরণ করবেন। এই নামজারী আবেদনের সময় একটা জিনিশ খেয়াল রাখতে হবে যেন জমির দাগ, খতিয়ান, দলিল নম্বর এইসব নির্ভূল যেন থাকে।
আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর আপনার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করতে হবে। আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে কাগজপত্রের এক সেট আপনাকে এসি ল্যান্ড অফিসে জমা প্রদান করতে হতে পারে। আপনার আবেদন সঠিক প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হলে এটি সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে পাঠানো হবে প্রতিবেদনের জন্য। প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর শুনানির জন্য একটা ডেট পড়বে। এই ডেটের তারিখ আপনি মোবাইল এসএমএস এর মাধ্যমে পাবেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে এসিল্যন্ড অফিসে উপস্থিত হবেন শুনানির দিনে। শুনানিতে আবেদন মঞ্জুর হলে নামজারী ফি প্রদান করতে হয়। এই নামজারী ফি ও আপনি অনলাইনে প্রদান করতে পারেন।
নামজারী ফি প্রদান করার পর অনলাইনেই নামজারী খতিয়ান এবং ডিসিআর এর কপি পাবেন।
নামজারী পুরো প্রক্রিয়াই অনলাইনে প্রদর্শিত হয়; অর্থাৎ আবেদনটি কোন ধাপে আছে আপনি তা দেখতে পারবেন। সুতারাং অনলাইনে খেয়াল রাখতে হবে আবেদনের ধাপ এবং সেই অনুযায়ী তদ্বির গ্রহণ করতে হবে।
VAT (Value Added Tax) বা ভ্যাট রেজিস্ট্রেশনের পদ্ধতি;
ভ্যাট কি?পণ্য বিক্রয়ের সময় পণ্যের ধরন অনুযায় সরকারকে একটি কর প্রদান করতে হয় যা মূল্য সংযোজন কর বা VAT হিসেবে পরিচিত।
এই মূল্য সংযোযন কর টা প্রত্যেক ব্যবসায়ী একটা নির্দিষ্ট নম্বরের বিপরীতে প্রদান করেন। এই নম্বরটাই BIN বা VAT Registration Certificate হিসেবে পরিচিত।
ভ্যাট রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস;
(১) ব্যক্তির ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয় পত্র কোম্পানি বা পার্টনারশিপ ফার্মের ক্ষেত্রে ইনকর্পরেশন সার্টিফিকেট
(২) টিন
(৩) ট্রেড লাইসেন্স (নবায়নকৃত)
(৪) আপনার পাসপোর্ট সাইজের ছবি
(৫) ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রত্যয়নপত্র
(৬) ভাড়ার চুক্তিপত্র; অর্থাৎ আপনি যেখান থেকে ব্যবসা করেন সে স্থানের ভাড়াটিয়া চুক্তিপত্র আর ব্যাবসার স্থান আপনার নিজ মালিকানাধীন হলে মালিকানা দলিল ।
এই সকল ডকুমেন্টস থাকলে আপনি খুব সহজেই ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন করে নিতে পারবেন । বর্তমানে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পাদিত হয়। ফলে ঘরে বসেই কারো সাহায্য ছাড়াই আপনি BIN বা VAT Registration Certificate টি পেতে পারেন।
এই ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট বা বিন নাম্বারের জন্য আপনি প্রথমেই https://vat.gov.bd এই লিঙ্কে গিয়ে সাইন আপ করবেন। সাইনআপ করার পর ওই ওয়েবসাইটে আপনার নামে একটি একাউন্ট খোলা হবে। লগইন আইডি দিয়ে আপনি একাউন্টে প্রবেশ করে সেখানে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন এর অপশন পাবেন। অপশন অনুযায়ী একের পর তথ্য প্রদান করে আপনি আবেদনটি করতে পারেন।
আবেদন করার পর এটি যাচাই বাছাই এর জন্য অপেক্ষমাণ থাকবে। এর মধ্যে আপনি ইমেইলে নজর রাখবেন, কোন তথ্য প্রয়োজন হলে আপনাকে ইমেইলের মাধ্যমে জানানো হবে। আপনার আবেদনের সকল তথ্য ঠিক থাকলে আপনি ইমেইলের মাধ্যমেই পেয়ে যাবেন BIN বা VAT Registration Certificate ।
Divorce বা তালাক কার্যকর করার পদ্ধতি।
অভিভাবকত্ব বা Guardianship পাওয়ার পদ্ধতি।
IRC, ERC লাইস্যান্স নিয়ে আজকের আলোচনা।
আমদানী বা রপ্তানী করার জন্য লাইস্যান্স সংগ্রহ করতে হয়, এই লাইস্যান্স ই IRC, ERC নামে পরিচিত। এই লাইস্যান্স প্রদান করেন চীফ কন্ট্রোলার অফ এক্সপোর্ট এন্ড ইম্পোর্ট।
IRC, ERC লাইস্যান্স প্রদান করা হয় দুটি ক্যাটাগরিতে; কমার্শিয়াল এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল। কমার্শিয়াল ক্যাটাগরীতে তুলনামূলক সহজে IRC, ERC লাইস্যান্স পাওয়া যায়।
এই লাইস্যান্স আপনি ব্যক্তি, পার্টানারশীপ ফার্ম অথবা কোম্পানি হিসেবে করতে পারেন। সব নিয়ে লিখতে গেলে লেখার কলেবর যেহেতু বড় হয়ে যায় তাই প্রাথমিক ধারনা দেয়ার জন্য সংক্ষেপে ইন জেনেরাল আলোচনা করা।
এই লাইস্যান্স করার জন্য প্রথমেই আপনাকে একটি ট্রেড লাইসেন্স এবং একটি ব্যাংক একাউন্ট এবং কোন একটি ব্যাবসায়ীক সংঘঠনের সদস্য হতে হবে।
আপনার হাতে ট্রেড লাইসেন্স, ব্যাঙ্ক একাউন্ট এবং কোন একটি ব্যাবসায়ীক সংঘঠনের সদস্য সার্টিফিকেট থাকলে আপনি প্রস্তুত IRC, ERC লাইস্যান্স এর জন্য।
আপনার হাতে প্রয়োজনীয় এসব ডকুমেন্ট থাকলে আপনি https://olm.ccie.gov.bd এই ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করে একটি একাউন্ট করবেন । এরপর ওয়েবসাইটে থাকা নির্ধারীত ফর্মে তথ্য পূরণ করে আপনি IRC, ERC লাইস্যান্স এর জন্য আবেদন করতে পারেন। আবেদন করা হয়ে গেলে আপনার ডকুমেন্ট আপলোড করার জন্য অপশন আসবে সেখানে সব গুলি ডকুমেন্ট আপলোড করবেন । এরপর আসবে পেমেন্ট লিঙ্ক। পেমেন্ট করা হয়ে গেলে আপনার আপ্লিকেশন শেষ।
আপনার আপ্লিকেশন এ প্রদত্ত সমস্ত তথ্য সঠিক থাকলে এবং IRC, ERC লাইস্যান্স পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হলে আপনার নামে ইলেক্ট্রনিক ভাবে একটি IRC, ERC লাইস্যান্স প্রস্তুত হবে এবং স্বয়ংক্রিয় ভাবেই আপানর ইমেইলে এসে পৌঁছাবে।
বিদেশ থেকে তালাক প্রদান করার নিয়ম;
অনেক প্রবাসী জানতে চান বিদেশে অবস্থানকালীন সময়ে কীভাবে তালাক প্রদান করবেন।
তালাক নিবন্ধন করার পূর্বে অবশ্যই স্থানীয় কাউন্সিলর অথবা চেয়ারম্যান, সালিশি পরিষদ এবং স্ত্রী বরাবরে তালাকের নোটিশ প্রদান করতে হয় এবং প্রত্যেক তলাক ই আইনত নিবন্ধন করতে হয়।
বিদেশে অবস্থানকালীন সময়ে যেহেতু এই সকল কার্য নিজে করা সম্ভবপর হয় না সেহেতু তালাকদাতা একজনকে আমমোক্তার প্রদান করবেন তাঁর পক্ষ হয়ে তালাক নিবন্ধন করার জন্য।
বিদেশে অবস্থান করা ব্যক্তি তালাক প্রদানের জন্য দেশে অবস্থিত কোন বিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে তালাকের নোটিশ এবং আমমোক্তারনামা প্রস্তুত করে সংগ্রহ করবেন। অতঃপর আমমোক্তারনামা এবং তালাকের নোটিশ এই দুইটি ডকুমেন্টে বিদেশী নোটারী পাবলিক, আদালতের বিচারক, ম্যাজিস্ট্রেট বা বাংলাদেশ দুতাবাসের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধির সম্মুখে স্বাক্ষর করবেন এবং তার দ্বারা মোক্তারনামাটি প্রত্যায়ন করে পাঠাতে হবে এবং নিজ দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তা সত্যায়িত করাতে হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে স্ট্যাম্পযুক্ত হতে হবে।
অতঃপর আমমোক্তার দাতার পক্ষে পরবর্তী কার্যক্রম আমমোক্তার গ্রহীতা সম্পাদন করবেন। বিদেশ থেকে পাঠানো তালাকের নোটিশটি স্থানীয় কাউন্সিলর অথবা চেয়ারম্যান, সালিশি পরিষদ এবং স্ত্রী বরাবরে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে প্রেরণ করবেন। এরপর ৯০ দিন অপেক্ষা করতে হবে । ৯০ দিন পরে কাজী সাহেবের অফিস থেকে তালাকের নিবন্ধন করে তালাকের সার্টিফিকেট সংগ্রহ করবেন।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Dhaka