NU Roshid
قُلْ لَن يُصِيبَنَآ إِلَّا مَا كَتَبَ ٱللَّهُ لَنَا
16/05/2026
একটা সংগঠন কতটা আপডেট, কতটা সময়োপযোগী এবং কতটা চিন্তাশীল হতে পারে তা বুঝতে হলে ইসলামী ছাত্রশিবিরকে দেখতে হয়।
শিবির যে কতটা ইউনিক, তা অন্য অনেক ছাত্রসংগঠনের সাথে তুলনা করতে গেলেই পার্থক্যটা স্পষ্ট হয়ে যায়। শিবিরের মতো ছাত্রদলকে ভাবতে গেলে মনে হয় পাপ করছি।
গত বুধবার “তারুণ্যের বাজেট ভাবনা” শীর্ষক একটি সেমিনার আয়োজন করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। সেখানে আলোচনা হয়েছে দেশের তরুণরা সংসদে কেমন বাজেট দেখতে চায়, শিক্ষাখাতে কী ধরনের বরাদ্দ প্রয়োজন, এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার কী হওয়া উচিত।
খেয়াল করুন, এখনো সংসদে বাজেট নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তার আগেই ছাত্রদের প্রতিনিধিরা দায়িত্বশীলভাবে জানিয়ে দিচ্ছেন দেশ ও শিক্ষা খাতে কী ধরনের বাজেট পাস হওয়া উচিত।
এটাই ভিশন।
এটাই প্রস্তুতি।
এটাই নেতৃত্ব।
রাজনীতি শুধু মিছিল না, শুধু পোস্টার না, শুধু স্লোগানও না রাজনীতি মানে রাষ্ট্রচিন্তা, নীতিনির্ধারণ, এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রোডম্যাপ তৈরি করা।
এই জায়গায় শিবির সবসময় আলাদা।
যখন অন্যরা শুধু পদ পাওয়ার জন্য নেতার আশেপাশে ঘুরে বেড়ায়, সালাম দেওয়ার প্রতিযোগিতায় জুতা ক্ষয় করে, কিংবা অপমানের পরও ব্যক্তিস্বার্থে নীরব থাকে ঠিক তখন শিবির একের পর এক প্রোডাক্টিভ, পলিসি ভিত্তিক, চিন্তাশীল প্রোগ্রাম করে যাচ্ছে।
এরা শুধু নেতৃত্ব চায় না যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করে।
এরা শুধু ক্ষমতার কথা বলে না রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলে।
এটাই পার্থক্য।
একটা সংগঠন বড় করে তার চিন্তা, তার মান, তার প্রস্তুতি।
আর সেই জায়গায় শিবির সত্যিই ব্যতিক্রম।
শুধু সংগঠন না একটি বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তি, একটি চরিত্র গঠনের প্রতিষ্ঠান, একটি নেতৃত্ব তৈরির কারখানা।
16/05/2026
স্মার্ট, পরিণত নেতৃত্ব এটাই আমীরে জামায়াতের সৌন্দর্য।
আজ আমীরে জামায়াত শায়েখ আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ এবং তাঁর প্রতিষ্ঠান রাজশাহীর জামিয়াতুস সালাফিয়া মাদ্রাসা পরিদর্শনে গিয়েছেন। পুরো পরিবেশের হাস্যোজ্জ্বল মুখগুলোই বলে দিচ্ছিল এই সাক্ষাৎ শুধু আনুষ্ঠানিক ছিল না, বরং পারস্পরিক সম্মান, সৌহার্দ্য এবং ইতিবাচক বার্তার বহিঃপ্রকাশ ছিল।
শায়েখ আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ আহলে হাদীস অঙ্গনের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী মুখগুলোর একজন। তাঁর সঙ্গে এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক কেবল ব্যক্তি পর্যায়ের বিষয় নয় এটি বৃহত্তর উম্মাহর ঐক্যেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।
আমীরে জামায়াত শুধু একটি দলের নেতা নন তিনি দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে একটি দায়িত্বশীল কণ্ঠস্বর। এদেশের ইসলামপন্থীদের সবচেয়ে বড় ও দায়িত্বশীল অবিভাবকদের একজন। তাই তাঁর দরজা শুধু একটি মত, একটি মাজহাব বা একটি গোষ্ঠীর জন্য সীমাবদ্ধ হতে পারে না।
আহলে হাদীস, হানাফি, দেওবন্দি, সালাফি সবার সঙ্গে সংলাপ, সম্মান এবং সম্পর্ক রক্ষা করাই একজন বড় নেতার পরিচয়।
এই স্মার্ট এবং নিউট্রাল বিহেভারই একজন নেতাকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।
কারণ নেতৃত্ব মানে বিভাজন তৈরি করা নয় সেতুবন্ধন তৈরি করা।
সংকীর্ণতা দিয়ে বড় হওয়া যায় না। দল বড় হতে পারে, কিন্তু উম্মাহ বড় হয় না।
মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু তা শত্রুতা হওয়ার কারণ নয়। নিজের মতকে একমাত্র সত্য মনে করে অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে।
শ্রদ্ধা, প্রজ্ঞা এবং পারস্পরিক সম্মান এই তিনটি ছাড়া কোনো স্থায়ী ঐক্য গড়ে ওঠে না। আর ইসলামপন্থীদের ঐক্য ছাড়া দ্বীন বিজয় কাল্পনিক।
আজকের এই সফর সেই বার্তাই দিয়েছে, দ্বীন বড়, ব্যক্তি নয়। উম্মাহ বড়, গোষ্ঠী নয়। ঐক্য বড়, সংকীর্ণতা নয়।
15/05/2026
ভিপি সাদিক কায়েমের সঙ্গে সেই রহস্যময়ী, ইন্টেলিজেন্ট নারী সাংবাদিক।
জুলাই বিপ্লবের সংগ্রামী ইতিহাসে কিছু গল্প থাকে, যা শুধু রাজনীতি নয় সাহস, বিশ্বাস, বুদ্ধিমত্তা আর অদৃশ্য সমন্বয়ের ইতিহাস হয়ে যায়।
এমনই এক গল্প ভিপি সাদিক কায়েম এবং এক মেধাবী নারী সাংবাদিকের।
জুলাই বিপ্লবের উত্তাল দিনগুলোতে পরিচয় হয়েছিল তবে 'সাদিক কায়েম' নামে নয়, 'সালমান' নামে। কেউ কাউকে সরাসরি দেখেনি, ব্যক্তিগতভাবে চিনতও না। অথচ আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, পরামর্শ, কৌশল এবং কর্মসূচি সবকিছু অনলাইনেই সমন্বিত হতো।
বিশ্বাস ছিল, লক্ষ্য ছিল, আর ছিল একটি রেজিম পতনের জন্য সম্মিলিত প্রতিরোধ।
জুলাই বিপ্লবের পর যখন “সালমান” পরিচয় থেকে বাস্তবের “সাদিক কায়েম” সামনে এলেন তখন অনেকের মতো তিনিও বিস্মিত হলেন।
আর যখন জানলেন এই মানুষটি শুধু একজন আন্দোলনের কৌশলী নন, বরং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি তখন বিস্ময়ের সঙ্গে যুক্ত হলো গভীর চিন্তা।
তিনি ভাবলেন, শিবিরের ছেলেরা এত সাহসী, এত ধৈর্যশীল, এত সংগঠিত এবং এত সংগ্রামী হয় কীভাবে?
এই নারী সাংবাদিক, জিনা তাসরিন নিজেও জুলাইয়ের ঐতিহাসিক অধ্যায়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন।
তিনি শুধু রিপোর্ট করেননি দেখেছেন, বুঝেছেন, থেকেছেন। মাঠ ছাড়েননি। খুনি হাসিনার পতন না হওয়া পর্যন্ত পিছু হটেননি।
ডেইলি স্টারের এই সাহসী সাংবাদিক জানতেন, কিছু সময় শুধু পর্যবেক্ষক হয়ে থাকা যায় না, ইতিহাসের সাক্ষীও হতে হয়।
সাদিক কায়েমের পাশে তাঁর ভূমিকা ছিল দৃশ্যের আড়ালে থাকা এক বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তি পরিকল্পনা, বিশ্লেষণ, সমন্বয় সবখানেই ছিল তাঁর উপস্থিতি।
হাসিনা পতনের পর যখন বাস্তব পরিচয়গুলো উন্মোচিত হতে শুরু করল, তখন তিনি বুঝলেন যার সঙ্গে এতদিন আন্দোলনের মাস্টারপ্ল্যান সাজিয়েছেন, তিনি শুধু একজন সংগঠক নন একটি বৃহত্তর ছাত্ররাজনৈতিক শক্তির মুখ।
সাংবাদিক জুলকার নাইন সায়ের সেই “রহস্যময় নারী” র কথা মনে করতে পারেন?
হ্যাঁ, এই সেই নারী।
ইতিহাসের বড় অধ্যায়গুলোতে কিছু নাম সামনে থাকে, কিছু নাম থাকে ছায়ায়।
কিন্তু দুটোই ইতিহাস লেখে।
14/05/2026
ডাকসুর ভিপি মানে শুধু একটি পদ নয়, বরং দেশের ছাত্রসমাজের সবচেয়ে বড় প্রতিনিধিত্বের প্রতীক। আর সেই জায়গায় ভিপি সাদিক কায়েম আজ যে গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা তৈরি করেছেন, তা সত্যিই আকাশচুম্বী।
ঢাবি শিক্ষার্থীদের কাছে তাঁর অবস্থান শুধু একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে নয় বরং একজন সম্ভাবনাময় জাতীয় নেতৃত্ব হিসেবেও।
গতকালের তাঁর বিয়ের আয়োজনেও সেই জনপ্রিয়তার এক রাজকীয় প্রতিফলন দেখা গেছে। এটি শুধু একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান ছিল না বরং ছিল একজন উদীয়মান নেতৃত্বকে ঘিরে ভালোবাসা, আগ্রহ এবং প্রত্যাশার বহিঃপ্রকাশ।
রাজনীতির আনুষ্ঠানিক বৃহৎ মঞ্চে ভিপি সাদিক কায়েমের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে এখন জোর আলোচনা চলছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন হতে পারে তাঁর আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক যাত্রার বড় সূচনা।
আসন্ন সিটি নির্বাচনে জামায়াতের পক্ষ থেকে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র পদে যদি তিনি প্রার্থী হন, তাহলে তা নিঃসন্দেহে হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাজনৈতিক সমীকরণ।
কারণ জনপ্রিয়তা, নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক শক্তি এবং তরুণদের আস্থা এই চারটি জায়গায় তিনি ইতোমধ্যেই শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।
ঢাকার মানুষ নতুন নেতৃত্ব চায়, যোগ্য, পরিচ্ছন্ন, সাহসী এবং মানুষের পাশে থাকা নেতৃত্ব। সাদিক কায়েম সেই প্রত্যাশার একটি শক্তিশালী নাম হয়ে উঠতে পারেন।
নির্বাচনী বাস্তবতা যদি স্বচ্ছ ও ন্যায্য থাকে, যদি অদৃশ্য প্রভাব ও প্রকৌশলী রাজনীতির কালো ছায়া না পড়ে তাহলে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে তাঁর বিজয় অসম্ভব কিছু নয়।
জনপ্রিয়তা শুধু শোরগোল নয় এটি মানুষের বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ।
আর সেই বিশ্বাসই একজন নেতাকে ভবিষ্যতের বড় মঞ্চে পৌঁছে দেয়।
তাই, নেক্সট মেয়র, ভিপি সাদিক কায়েম, ইনশাআল্লাহ।
13/05/2026
আজ ভিপি সাদিক কায়েমের বিয়ে, একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
তিনি শুধু একজন ব্যক্তি নন আজ তিনি কোটি মানুষের আগ্রহ, প্রত্যাশা ও কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। কমবেশি কোটি মানুষের দৃষ্টি যখন একজন মানুষের দিকে থাকে, তখন সেই অবস্থান শুধু সম্মান নয় এটি এক বিশাল দায়িত্ব, এক গভীর মানসিক চাপও।
এমন বাস্তবতায় দাম্পত্যজীবন শুধু ব্যক্তিগত সুখের বিষয় নয় বরং তা হয়ে ওঠে প্রশান্তি, নিরাপত্তা, স্থিরতা ও আত্মবিশ্বাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়।
আল্লাহর কাছে দোয়া ঘরের বাইরে থেকে আসা সব দুশ্চিন্তা, জনআকাঙ্ক্ষার ভার, প্রত্যাশার চাপ, এবং সব ধরনের নেতিবাচকতার বিপরীতে তাঁর জীবনসঙ্গিনী যেন হন শান্তির উৎস, আশ্বাসের ঠিকানা এবং শক্তির সবচেয়ে বিশ্বস্ত সঙ্গী।
একজন সংগ্রামী মানুষের জীবনে একজন তাকওয়াপূর্ণ, সৎ, সহমর্মী ও প্রজ্ঞাবান সঙ্গী অনেক সময় পুরো পথচলাকেই বদলে দেয়।
বিয়ের পর সাদিক কায়েম যেন আরও নিশ্চিন্তে, নির্বিঘ্নে এবং নির্দ্বিধায় কোনো পিছুটান ছাড়া দেশ, জাতি, উম্মাহ এবং দ্বীনি কল্যাণের বৃহত্তর স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে যেতে পারেন।
তার প্রতি মানুষের যে অধিকারবোধ, যে ভালোবাসা, যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে তা যেন আরও সুন্দরভাবে পূর্ণতা পায়।
দাম্পত্য হোক তাঁর শক্তির নতুন ভিত্তি, সংগ্রামের নতুন প্রেরণা, এবং দায়িত্ব পালনের আরও দৃঢ় সহযাত্রা।
আল্লাহ এই নতুন জীবনে বরকত দিন, ভালোবাসা দিন, সকীনা দিন, এবং উভয়কে দ্বীন, দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের পথে একে অপরের জন্য উত্তম সঙ্গী বানিয়ে দিন।
আমিন।
13/05/2026
কোরবানি মোবারক ভিপি সাদিক কায়েম!
ঢাবি কেন্দ্রীয় মসজিদে বৃষ্টিস্নাত দিনে আকদ অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ।
মোবারকবাদ ও দোয়া রইল।
আল্লাহ আপনার বৈবাহিক জীবনকে রহমতে ভরিয়ে দিন।
12/05/2026
ডাকসুতে শিবিরের অন্যতম সেরা নির্বাচন ছিল মাজহারুল ইসলাম ক্যারিয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক পদে।
যে মানুষটি নিজেই নিজের ক্যারিয়ারে মেডেলিস্ট, যিনি ঢাবি শিবিরের Human Resource Development Secretary হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তাঁর চেয়ে এই পদের জন্য আরও পারফেক্ট চয়েস কল্পনা করা কঠিন।
ক্যারিয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট শুধু একটি পদ নয় এটি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। আর এই দায়িত্বের জন্য প্রয়োজন দৃষ্টিভঙ্গি, পরিকল্পনা, দক্ষতা এবং মানুষ গড়ার মানসিকতা যা মাজহারুল ইসলামের মধ্যে স্পষ্টভাবেই ছিল। এই জায়গায় তিনি শুধু মানানসই নন, বরং অসাধারণ কিছু।
তিনি শুধু সংগঠনের মানবসম্পদ উন্নয়ন করেননি নিজেকেও গড়ে তুলেছেন একটি জাতীয় সম্পদ হিসেবে। নেতৃত্বের প্রকৃত সৌন্দর্য এখানেই নিজে বড় হওয়া, এবং অন্যদের বড় হওয়ার পথ তৈরি করা।
ডাকসুর ক্যারিয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেক্টরকে তিনি দুই হাতে সাজিয়েছেন। অগাধ পরিশ্রম, ধারাবাহিক পরিকল্পনা এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণকে কেন্দ্র করে কাজ করে সর্বোচ্চ ওয়েলফেয়ার দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
ফলাফলও স্পষ্ট।
ডাকসুর সফলতার তালিকায় মাজহারুল ইসলাম তৃতীয় অবস্থানে আসিফ আব্দুল্লাহ ও সর্বমিত্র চাকমার পরেই। তিনজনই শিবিরের প্যানেলিস্ট। তাঁর কাজ, প্রজ্ঞা ও দক্ষতা দিয়ে তিনি ৮৪% শিক্ষার্থীর আস্থা অর্জন করেছেন।
অর্থাৎ, ঢাবির ৮৪% শিক্ষার্থী তাঁর পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট।
আরেকটি বিষয় তাঁকে আরও আলাদা করে তোলে সংকট মোকাবিলার পরিপক্বতা।
কিছুদিন আগে ছাত্রদলের একটি মিছিল থেকে পিছন দিক থেকে তাঁকে লাথি মারা হয়। তিনি চাইলে উত্তেজনার জবাব উত্তেজনা দিয়ে দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। কোনো অস্থিতিশীলতা তৈরি না করে ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন।
এটাই নেতৃত্ব।
ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সংযম দেখানো এটাই চরিত্রের পরীক্ষা।
আফসোসের বিষয় হলো যে মানুষটি দিনরাত পরিশ্রম করে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করেছে, বিনিময়ে কিছু চায়নি, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রায় গোল্ডেন A+ পেয়েছে তাঁকেই পিছন থেকে আঘাত করা হয়েছে।
মানুষ নৈতিকভাবে দুর্বল হতে পারে, কিন্তু পিছন থেকে আঘাত করা সবসময়ই চরিত্রের দারিদ্র্যের প্রমাণ।
তবুও শিবিরের শিক্ষা ভিন্ন।
শিবিরের নীতি প্রতিশোধ নয়.....চরিত্র।
অন্যায়ভাবে কেউ আঘাত করলেও, জবাবে উত্তেজনা নয় সংযম, শৃঙ্খলা ও নৈতিক উচ্চতা।
প্রয়োজনে কাউন্টারে একটি গোলাপই যথেষ্ট।
Because this is Shibir.
12/05/2026
ছাত্রদলের জিল্লতির রাজনীতি আর ইসলামী ছাত্রশিবিরের পার্থক্য।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান একটি বৃহৎ ছাত্র সংগঠনের টপ থ্রি লিডারের একজন। অথচ আজ ঢাবিতে প্রাইম মিনিস্টার তারেক রহমানের নিরাপত্তাকর্মীর গলা ধাক্কা খেতে হয়েছে তাকে।
ছাত্রদলের তথাকথিত জনপ্রিয় ছাত্রনেতা, ডাকসুতে পরাজিত ভিপি প্রার্থী আবিদ তারেক রহমানের সুনজর পেতে তার গাড়ির পিছনে সামনে সমানভাবে দৌড়ায়।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতিসহ টপ টু বটম সবাই পদের জন্য নির্লজ্জের মতো দৌড়ায়। এটাই জিল্লতির রাজনীতি।
শিবিরের সঙ্গে ছাত্রদলের পার্থক্য এখানেই। তাদের পদের জন্য নির্লজ্জের মতো আমীরে জামায়াত বা কোনো নেতার পিছনে দৌড়াতে হয় না। দেখা করার জন্য গলা ধাক্কাও খেতে হয় না। এটাই পার্থক্য।
ছাত্রদল আর শিবিরের এত এত পার্থক্য যেখানে শিবির পজিটিভ আর ছাত্রদল জিল্লতির রাজনীতি করে এসব লিখতে গেলে বই লেখা হয়ে যাবে।
11/05/2026
সাবেক আমীরে জামায়াত শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী থেকে বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার শায়েখ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর, থেকে ইসলামী আন্দোলন ও ইসলামী সংস্কৃতি অঙ্গনের পুরোধা ড. আ জ ম ওবায়দুল্লাহ এই দিনে বিদায় নিয়েছেন। দিনটি ১১ ই মে।
শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ, উপমহাদেশে ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম রাহবার এবং বাংলাদেশে ইসলামী আন্দোলন তথা ইসলামী রাজনীতির পুরোধা ছিলেন। তাকে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার ২০১৬ সালের এই দিনে ফাঁসির রশিতে ঝুলিয়ে শহীদ করে।
ইন্টারেস্টিংলি, একই দিনে জনপ্রিয় ইসলামিক স্কলার শায়েখ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরও সড়ক দুর্ঘটনায় ইন্তেকাল করেন। তিনি এদেশের বহুল জনপ্রিয় একজন আলেম ও স্কলার ছিলেন, যার কথা শুনে কোরআন পিপাসুরা আলো খুঁজে পেত।
১১ মে ২০২৫-এ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি, ইসলামী আন্দোলন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব ড. আ জ ম ওবায়দুল্লাহর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীও।
সোনার পাখিরা একে একে উড়ে যায়,
আসে না তো ফিরে।
11/05/2026
নিজ লেখাতেই যেন নিজের শাহাদাতের ইঙ্গিত রেখে গিয়েছিলেন শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী রহ.
তাঁর “ইসলামি আন্দোলন ও সংগঠন” গ্রন্থে ইসলামী আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি লিখেছিলেন যদি সমাজে যোগ্য, সৎ ও খোদাভীরু নেতৃত্ব তৈরির পাশাপাশি জনসমর্থনের শক্ত ভিত না গড়ে ওঠে, তাহলে আন্দোলনকারীদের সামনে সাধারণত তিনটি পরিণতির একটির মুখোমুখি হতে হয়,
১. তাদের সবাইকে না হলেও উল্লেখযোগ্য অংশকে শহীদ করা হবে
২. তারা দেশ থেকে বহিষ্কৃত হবে
৩. অথবা দেশের মধ্যেই তাদেরকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রাখা হবে
ইতিহাসের নির্মম বাস্তবতা হলো এই প্রথম অবস্থার তালিকায় তিনি শেষ পর্যন্ত নিজের নামটিও যুক্ত করে গেলেন।
তিনি শুধু তত্ত্ব দেননি নিজেই সেই তত্ত্বের জীবন্ত সাক্ষ্যে পরিণত হয়েছেন।
খেলাফত পতনের পর ক্ষমতাহীন, কোণঠাসা মুসলিম উম্মাহর রাজনৈতিক পুনর্জাগরণের জন্য বিশ্বজুড়ে যে ইসলামী আন্দোলনের ধারা গড়ে উঠেছিল হাসান আল বান্না, সাইয়্যেদ কুতুব শহীদ, মাওলানা মওদুদী রহ. এবং তাঁদের উত্তরসূরিরা ছিলেন সেই ধারার প্রধান স্তম্ভ। ভৌগোলিক দূরত্ব আলাদা হলেও সংকট ছিল এক মুসলিম সমাজের নেতৃত্ব, মর্যাদা ও ন্যায়ের পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
বাংলাদেশে সেই ধারার অন্যতম শক্তিশালী কণ্ঠ ছিলেন মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী রহ.
ষাটের দশকে ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব থেকে শুরু করে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পুনর্গঠন প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে তাঁর ভূমিকা ছিল স্পষ্ট ও কেন্দ্রীয়। পরবর্তীতে তিনি আমীরে জামায়াত হিসেবে ইসলামী রাজনীতির অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন।
যখন পশ্চিমা বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনে অনেক মুসলিম দিশেহারা, আত্মপরিচয়ে সংকুচিত তখন মাওলানা মওদুদীর রাজনৈতিক দর্শনের বাংলাদেশি উত্তরাধিকার বহনে নিজামী রহ. ছিলেন সবচেয়ে সংগঠিত, সবচেয়ে দৃঢ় কণ্ঠগুলোর একটি।
কিন্তু তাঁর পুরো রাজনৈতিক জীবনকে হেয় করার জন্য বারবার ১৯৭১ এর প্রশ্নকে সামনে আনা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তথাকথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় যে বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে দেশ-বিদেশে বহু গুরুতর প্রশ্ন উঠেছিল।
Amnesty International, Human Rights Watch, International Commission of Jurists বিচারের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিল। সাক্ষ্য, জেরা, বিচারিক স্বাধীনতা সবকিছু নিয়েই প্রশ্ন ছিল প্রবল। ‘Skypegate’ কেলেঙ্কারি সেই সন্দেহকে আরও গভীর করেছিল।
মাওলানা নিজামীসহ জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলানো ছিল কেবল ব্যক্তি বিচার নয় বরং কাঠামোগত ইসলামবিদ্বেষ, বৈশ্বিক “War on Terror” রাজনীতি, এবং আঞ্চলিক আধিপত্যবাদের যৌথ বাস্তবতার অংশ।
২০১৬ সালের ১১ মে আজকের এই দিনে স্বৈরাচারী হাসিনার সাজানো প্রহসনের রায়ে শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী রহ. শাহাদাত বরণ করেন।
কিন্তু ইসলামী আন্দোলনের ইতিহাস আমাদের শিখিয়েছে ব্যক্তিকে হত্যা করা যায়, আদর্শকে নয়। শহীদের রক্ত আন্দোলনকে থামায় না, বরং আরও বেগবান করে।
ফ্যাসিবাদী কাঠামোর বিরুদ্ধে সংগ্রাম তাই থামেনি বরং আরও গভীর হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় জাতী দেখেছে নতুন প্রতিরোধ, নতুন জাগরণ, নতুন প্রত্যয়।
এই সংগ্রাম চলবে যতদিন না ন্যায়, ইনসাফ ও দ্বীনের ভিত্তিতে একটি সুষম সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী রহ. এর সকল গুনাহ মাফ করুন, তাঁর শাহাদাত কবুল করুন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসীব করুন।
আল্লাহ দেশ বিদেশের সকল শহীদ ও গাজীদের কুরবানী কবুল করুন।
আমীন।
10/05/2026
ডাকসুতে ক্যাপাবল ছিলেন ঢাবি শিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন খাঁন।
ডাকসুর গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোর একটি। কারণ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ শুধু ক্লাসরুমে নয় গবেষণা, জ্ঞানচর্চা, বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্ব এবং প্রকাশনার সংস্কৃতিতেও।
এই জায়গায় যদি নেতৃত্ব দুর্বল হয়, তার প্রভাব পুরো শিক্ষাঙ্গনেই পড়ে।
বর্তমান বাস্তবতায় অনেক শিক্ষার্থীর মূল্যায়নে গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে সানজিদা আহমেদ তন্বী প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। এমনকি অনেকে তাকে ডাকসুর ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যর্থ সম্পাদকদের একজন হিসেবেও দেখছেন। তুলনামূলকভাবে যেখানে অন্য সম্পাদকদের কেউ কেউ উচ্চমাত্রার ইতিবাচক মূল্যায়ন পেয়েছেন, সেখানে এই পদে হতাশা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
কিন্তু এখানে শুধু একজন ব্যক্তির ব্যর্থতা দেখলে পুরো চিত্র বোঝা যাবে না প্রশ্নটা শিক্ষার্থীদের সিদ্ধান্ত নিয়েও।
কারণ এই একই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন ঢাবি শিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ খান যিনি গবেষণা, প্রকাশনা ও বুদ্ধিবৃত্তিক কাজের ক্ষেত্রে অত্যন্ত শক্তিশালী একটি নাম।
স্টুডেন্ট থাকা অবস্থাতেই তিনি বিশ্ব ইসলামি স্কলারদের ওপর যে পরিমাণ গবেষণা করেছেন, তা সত্যিই বিরল। তিনি শুধু পড়েননি অসংখ্য বই প্রকাশ করেছেন, চিন্তার জগতে নতুন পাঠক তৈরি করেছেন, ইউসুফ আল কারযাভি সহ বহু আন্তর্জাতিক স্কলারকে বাংলাভাষী পাঠকের সামনে সহজভাবে তুলে ধরেছেন।
অর্থাৎ গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদটির জন্য প্রয়োজনীয় যে বৌদ্ধিক গভীরতা, বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা এবং কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা সাজ্জাদ হোসেন খানের মধ্যে তা পরিপূর্ণভাবে ছিল।
কিন্তু শিক্ষার্থীরা শেষ পর্যন্ত এমন একজনকে বেছে নিয়েছে, যার গ্রহণযোগ্যতার বড় অংশ তৈরি হয়েছিল আবেগঘন একটি ঘটনার দৃশ্যমানতা থেকে যোগ্যতার পরিমাপ থেকে নয়।
এটাই আমাদের শিক্ষাঙ্গনের বড় সংকট।
অনেক সময় আমরা দক্ষতার চেয়ে মুহূর্তকে, কাজের চেয়ে আবেগকে, দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতার চেয়ে সাময়িক আলোড়নকে বেশি মূল্য দিই। আর পরে যখন প্রতিষ্ঠান ব্যর্থ হয়, তখন হতাশা আমাদেরই ঘিরে ধরে।
গবেষণা ও প্রকাশনা সেক্টরটি সাজ্জাদ খানের মতো মানুষের হাতেই সবচেয়ে বেশি বিকশিত হতে পারত। শুধু ভালো না এই সেক্টরকে তিনি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারতেন।
কিন্তু সেই সুযোগ হারানো হয়েছে। আর ফলাফল আজ দৃশ্যমান।
আশা করি ভবিষ্যতের ডাকসুতে শিক্ষার্থীরা শুধু আবেগ নয় যোগ্যতা, দক্ষতা ও ভিশনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে।
কারণ নেতৃত্ব শুধু জেতার বিষয় না নেতৃত্ব মানে দায়িত্ব বহনের সক্ষমতা।
Click here to claim your Sponsored Listing.