Omi
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Omi, Digital creator, Chak Gazipur, Dhaka.
এক ছায়া মানবের গল্প .....
অনেক অনেক অনেক সুন্দর একটা গল্প পড়ে দেখতে পারেন অবশ্যই ভালো লাগবে ......
ছায়া মানব ( সিজন ২)
লেখিকা সাথী ইসলাম....
1.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/165610329935869/?app=fbl
2.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/165612986602270/?app=fbl
3.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/165715886591980/?app=fbl
4.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/166344193195816/?app=fbl
5.https://www.facebook.com/100094607092404/posts/166945176469051/?app=fbl
6.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/167594649737437/?app=fbl
7.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/168318386331730/?app=fbl
8.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/169049586258610/?app=fbl
9.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/169454896218079/?app=fbl
10.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/170055906157978/?app=fbl
11.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/171368796026689/?app=fbl
12.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/171945582635677/?app=fbl
13.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/173313332498902/?app=fbl
14.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/173917655771803/?app=fbl
15.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/174199899076912/?app=fbl
16.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/174424612387774/?app=fbl
17.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/174955459001356/?app=fbl
18.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/175414628955439/?app=fbl
19.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/175414978955404/?app=fbl
20.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/176035835559985/?app=fbl
21.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/176111915552377/?app=fbl
22.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/176440388852863/?app=fbl
23.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/176779898818912/?app=fbl
24.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/177465802083655/?app=fbl
25.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/177466265416942/?app=fbl
26.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/177987368698165/?app=fbl
27.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/178003978696504/?app=fbl
28.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/178758308621071/?app=fbl
29.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/178759385287630/?app=fbl
30.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/179140711916164/?app=fbl
31.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/179164461913789/?app=fbl
32.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/179730845190484/?app=fbl
33.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/180070898489812/?app=fbl
34.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/180421448454757/?app=fbl
35.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/180600668436835/?app=fbl
36.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/181417015021867/?app=fbl
37.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/181785324985036/?app=fbl
38.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/182667281563507/?app=fbl
39.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/183166418180260/?app=fbl
40.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/183687638128138/?app=fbl
41.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/184781864685382/?app=fbl
42.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/184784561351779/?app=fbl
43.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/185352267961675/?app=fbl
44.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/185826554580913/?app=fbl
45.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/186139647882937/?app=fbl
46.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/541408512356047/?app=fbl
47.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/187641931066042/?app=fbl
48.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/188418220988413/?app=fbl
49.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/188424654321103/?app=fbl
50.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/189081800922055/?app=fbl
51.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/541381222358776/?app=fbl
52.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/541893895640842/?app=fbl
53.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/542350482261850/?app=fbl
54.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/542930878870477/?app=fbl
55.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/543460198817545/?app=fbl
56.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/543724112124487/?app=fbl
57.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/543870728776492/?app=fb
58.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/544258968737668/?app=fbl
59.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/544615268702038/?app=fbl
60.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/545039838659581/?app=fbl
61.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/546183911878507/?app=fbl
62.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/546553161841582/?app=fbl
63.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/547002401796658/?app=fbl
64.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/547363328427232/?app=fbl
65.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/547630221733876/?app=fbl
66.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/548558151641083/?app=fbl
67.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/549177531579145/?app=fbl
68.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/550853681411530/?app=fbl
69.
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/559354263894805/?app=fbl
70.....Last part....
https://www.facebook.com/100094607092404/posts/560002003830031/?app=fbl
..
গল্পটা পড়ে অবশ্যই নিজের অনুভূতি জানাবেন 🥰🥰🥰🥰
ধন্যবাদ... 🥰🥰
অদ্ভুত_প্রেমবিলাস
লেখিকাঃ সারজীন ইসলাম
|পর্ব-৩৮|
ইভান খাবার টেবিলে বসে আছে। আড়চোখে আশেপাশে তাকায়। না তাঁর প্রিয়সি তাঁর আশেপাশে কোথাও নেই। ইভান খাবারে হাত দেওয়াও আগে জোনাকি ভাবির দিকে তাকিয়ে ভাঙা গলায় বলল,
' ভাবি তোমার ননদ কোথায়? তাকে দেখছি না যে?'
জোনাকি পানির জগ টা এনে টেবিলে রেখে ইভানের দিকে তাকিয়ে মৃদু স্বরে বলল,
' সে তো তোমাদের জন্য বসে থাকতে থাকতে কিছুক্ষণ আগে নিজের ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে।'
ইভান ছোট করে বলল,
' রাতে খাবার খেয়েছে ভাবি?'
জোনাকি ডান-বাম মাথা দুলিয়ে বলল,
' না কিছু খাইনি। আমি আর আম্মা জোর করেছিলাম খাওয়ার জন্য কিন্তু ধারা খিদে নেই বলে ঘুমতে চলে গেছে। সেই সন্ধ্যার পরে আমাদের সাথে বসে নাস্তা করেছি তারপরে আর কিছু খায়নি।'
জোনাকির কথা শুনে সম্রাট চোখ গুলো ছোট ছোট করে বলল,
' সে কি সেই সন্ধ্যায় খেয়েছে ও, আর এখন তো রাত দশটার বেশি বাজে এখনো কিছু খাইনি? শীতের এত বড় রাতে মেয়েটা না খেয়ে থাকবে?'
ইভান জোনাকির দিকে তাকিয়ে মৃদু স্বরে বলল,
' ভাবি তুমি আমার আর ধারার খাবারটা এক প্লেটে বেড়ে দাও। আমি ওকে খাইয়ে দেবো তোমরা চিন্তা করো না।'
জোনাকি মুচকি হেসে মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানায়। তাড়াতাড়ি করে ইভান আর ধারার খাবার এ প্লেটে বেড়ে দেয়। এরমধ্যে রান্নাঘর থেকে ধারার আম্মা বেরিয়ে এসে বলল,
' বাবা তুমি আমার মেয়ের জন্য এত কিছু ভেবেছো দেখে আমার মন জুরিয়ে গেছে। আমি নিশ্চিত ও তোমার কাছে সুখী থাকবে। কিন্তু আমার মেয়েটা যে একবারও ঘুমিয়ে পড়লে বাড়িতে চোর ডাকাত পড়লেও ওকে ঘুম থেকে তোলা যায় না। তুমি আমার অমন ঘুম কাতুরে মেয়ে কে কিভাবে ঘুম থেকে তুলে খাইয়ে দেবে? তার থেকে বরং তুমি এখানে বসে খেয়ে নাও। কাল সকালে ধারা ঘুম থেকে উঠলে আমি ওকে পেট ভরে খাইয়ে দেবো।'
ইভান ঠোঁটে হাসি ফুটিয়ে বলল,
' আম্মু আপনি চিন্তা করবেন না আমি ওকে সামলে নিতে পারবো।'
জোনাকি মুচকি হেসে খাবারের প্লেট ইভানের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,
' এই যে হিরো, এই নাও তোমার আর তোমার বউয়ের খাবার। খাবার-পানি ধারার ঘরেই আছে।'
ইভান ঠোঁটের হাসিটা আর একটু প্রসারিত করে, বসা থেকে উঠে জোনাকির হাত থেকে খাবারের প্লেট নিয়ে ধীর পায়ে চলে যায়।
সম্রাট ইভানের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আনমনে বলল,
' আমি আল্লাহ তালার কাছে ধারার জন্য যেমন রাজপুত্র চেয়েছি, আল্লাহ তায়ালা তার থেকে শতগুণ ভালো রাজপুত্র পাঠিয়েছে আমাদের ধরার জন্য।'
ধারার আম্মা খানিকটা অস্পষ্ট স্বরে বলল,
' কথাটা তুই শতভাগ সত্যি বলেছিস বাবা!'
ইভান খাবারের প্লেট ধারার পড়ার টেবিলের উপর রেখে ধীর পায়ে হেঁটে গিয়ে ধারার পাশে বসে। ইভান সরল চোখে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ তার প্রিয়সি দিকে। না বেশিক্ষন তাকিয়ে থাকা যাবে না ওর দিকে। মায়ায় পড়ে আর এই পিচ্চি কে ঘুম থেকে তুলতে পারবে না। বড্ড মায়াবী চেহারা তার। ইভান মুচকি হেসে ধারার দিকে ঝুঁকে ধারা কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে সোজা হয়ে বসে। ধারার গালে একহাত দিয়ে ইভান ধীর গলায় বলল,
' লিটিল এঞ্জেল, এই লিটিল এঞ্জেল।'
ইভান ছোট নিঃশ্বাস ফেলে বিড় বিড় করে বলল,
' আসার সময় শাশুড়ি আম্মু তো বলেছিল ও খুব ঘুম কাতুরে। একবার ঘুমিয়ে পড়লে চোর ডাকাত বাড়িতে এসে ওকে শুদ্ধ চুরি করে নিয়ে গেলেও না কী ওকে ঘুম থেকে তোলা যায়। সেই হিসেব মতো ওকে এত মিষ্টি মিষ্টি করে ডাকলে কিছুতেই ওকে ঘুম থেকে তোলা যাবে না। সো ইভান গেট রেডি ফর ব্যাটেল।'
ইভান বিছানা থেকে উঠে ধারার পড়ার টেবিলে রাখা খাবার পানির জগ থেকে পাশে থাকা গ্লাসে এক গ্লাস পানি ঢেলে নেয়। ইভান শয়তানি হেসে আবার গিয়ে ধারার পাশে বসে, গ্লাস থেকে অল্প কিছু পানি হাতে ঢেলে নিয়ে ধারার মুখে ছিটিয়ে দেয়।
ঘুমের মধ্যে হঠাৎ করে মুখে পানি এসে পড়ায়, ধারা হকচকিয়ে লাফিয়ে উঠে ঘুম থেকে। বড় বড় নিঃশ্বাস নিতে নিতে প্রথমেই চোখ যায় সামনে। নির্লজ্জ লোকটা কেমন বেয়াক্কেল এর মত দাঁত বের করে হাসছে। ধারা সেদিকে খেয়াল না দিয়ে আশে পাশে তাকায় তার মুখে কোথা থেকে পানি এসে পড়লো সেটা খোঁজার জন্য। ঘরে তো তারা দুইজন ছাড়া আর কেউ নেই। মামাতো বোন গুলো বাড়ির দক্ষিণের ঘরে ঘুমিয়ে আছে। ওরা এখানে থাকলে না হয় বুঝতো ওরা এই কাজ করেছে। তার মধ্যে ধারার দুই বিচ্ছু মামাতো বোন ই ধারার বিয়েতে আসতে পারেনি। ঘরের দরজা ও তো ভিতর থেকে বন্ধ। তাহলে? ধারা ইভান কে সতর্ক চোখে পর্যবেক্ষণ করে। ইভান হেলে দুলে আবার উঠে গিয়ে ধারার পড়ার টেবিলের গ্লাসটা রেখে বলল,
' এইতো উঠে পড়েছ এবার যাও গিয়ে হাত মুখে পানি দিয়ে এসো। তারপরে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে যেও।'
ধারা এতক্ষণে বুঝে গেছে এই ইভান নামক ছেলেটা তার মুখে পানি ছিটিয়ে তাকে ঘুম থেকে তুলেছে। ধারা কপট রাগ দেখিয়ে বলল,
' আপনি আমার মুখে পানি ছিটিয়েছেন কেনো? দেখতে পাননি আমি ঘুমিয়ে ছিলাম।'
ইভান সে ধারার কথা না শোনার ভান করে বলল,
' থাক তোমাকে এই শীতের মধ্যে আর হাত মুখ ধুতে হবে না। তার চেয়ে বরং আমি তোমাকে খাইয়ে দেই।'
ইভানের কথা শুনে ধারা চোখ বড় বড় করে ওর দিকে তাকায়। এই ছেলে নিশ্চয়ই মাথায় সমস্যা আছে। যে কথা জিজ্ঞেস করুক না কেন সবসময় উল্টোপাল্টা উত্তর দেয়। আর এমন পাগলের সঙ্গে কিনা তার সারা জীবন কাটাতে হবে। এসব ভেবে দেখো ছোট্ট নিঃশ্বাস ফেলল বলল,
' আমার খিদে নেই। আমি খাব না। আপনি না খেয়ে থাকলে আপনি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন। আমার প্রচন্ড ঘুম পাচ্ছে আমি ঘুমালাম।'
ধারা এইটুকু বলে যেই শুয়ে পড়তে যাবে। ইভান বড় বড় পা ফেলে এসে হাত ধরে বলল,
' এখন যদি তুমি না খেয়ে ঘুমিয়েছো না, তাহলে তোমাদের বাড়ির পিছনে যে ভূত আছে না, তার কাছে গিয়ে তোমাকে রেখে আসবো। এবার তুমি ডিসাইড করো কী করবে, খাবার খাবে না ভূতের বাড়ি যাবে?'
ধারা শুকনো গলায় ঢোক গিলে ভয়ে ভয়ে আশে পাশে তাকায়। ইভানের দিকে একটু এগিয়ে এসে বলল,
' আপনি জানেন না রাতের বেলায় তাদের নাম নিতে নেই। যদি একবার তারা চলে আসে তাহলে কিন্তু আপনারা ঘাড় মটকে দেব সাথে আমার ঘাড় টাও ফ্রিতে মটকে দিবে।'
ইভান ঠোঁট চেপে হাসি থামিয়ে বলল,
' তাই? আমি তো জানতাম না। যাই হোক এবার খাবার খেয়ে নাও নাহলে কিন্তু আমি তোমাকে ওই ভূতের বাড়িতে দিয়ে আসব।'
ধারার কিছু একটা মনে পড়ে গেলে ইভানের দিকে ভীতু চোখে তাকিয়ে বলল,
' শুনুন না আমার মনে হয় কালকে রাতে ওই ভূত টা আমাদের ঘরে এসেছিলো।'
ইভান চোখ ছোট ছোট করে বলল,
' তুমি কিভাবে বুঝলে যে ভূত টা আমাদের এই ঘরে এসেছিলো?'
ধারা ওর হাতে ইভানের পরিয়ে দেওয়া আংটি টা দেখিয়ে ভীতু গলায় বলল,
' এই দেখুন এই আংটিটা আমার হাতে কখনো ছিল না। কালকে রাতের পর থেকে এটা আমার হাতে দেখছি। সকালবেলা বাড়ির সবাই জিজ্ঞেস করেছিল আমি আংটি টা কোথায় পেয়েছি? আমি জানি না বলায় ভাবিরা কী হাসাহাসি করেছিল আমাকে নিয়ে। আমার কী মনে হয় জানেন? কাল রাতে ওই ভূত টা আমাদের ঘরে চুপি চুপি এসে আমার হাতের আংটিটা পড়িয়ে দিয়ে গেছে। চিন্তা করে দেখেন একবার কী সাংঘাতিক ভূত!'
চলবে....
গল্প – লাভার নাকি ভিলেন? (সিজন ২)
পর্ব – ২৮
লেখিকা – স্নিগ্ধা হোসাইন মনা
আকাশ মেঘলা ২ জনেই রাজনীতি নিয়ে ব্যাস্ত। আবির শেষ পর্যন্ত মেঘলার পাশেই দাঁড়াল।আর আকাশের হয়ে কাজ করছে ইরা। আর মাত্র ১ দিন বাকি নির্বাচনের।
এদিকে সামিরার বাড়িতেও সাজ সাজ রব। নাবিল তার এক ফ্রেন্ডের কাছ থেকে টাকা এনে সামিরার বিয়ের সমস্ত মার্কেটিং করে দিয়েছে।সামিরার খুশি যেন আর ধরে না। জনিও কোন ঝামেলা করে নি।
আজ সামিরা আর নাবিলের হলুদ সন্ধ্যা।সামিরা খুব খুশি নাবিলও খুশি তবে কোথাও একটু ঝামেলা আছে তাই নাবিলের মুখে হাসি নেই।
সামিরাঃ আচ্ছা তুমি কি এই বিয়েতে খুশি নও? সত্যি করে বলো আমাকে কি তোমার পছন্দ না?
নাবিলঃ তোমাকে আমি ভালবাসি সামিরা তোমাকে নিয়ে আমার কোন ঝামেলাও নেই।
সামিরাঃ তবে কি নিয়ে টেনশান করছো? যে খুন তুমি করো নি সেটা নিয়ে চিন্তা করার কোন মানে হয় না সত্যির জয় একদিন হবেই।
নাবিলঃ আমি সেটা নিয়েও ভাবছি না...
সামিরাঃ তাহলে...??
নাবিলঃ যানো এই অনুষ্টান আয়োজন দেখে আমার বারবার একটা কথাই মনে হচ্ছে এই বুঝি আকাশ আসবে এসে বলবে দোস্ত তুই আমাকে রেখে বিয়ে করে ফেলছিস তুই না বলেছিলি তোর বিয়েতে আমরা ২ জন ঠিক এক রকম করে সাজব। আমি বলেছিলাম জীবনের সবচেয়ে মজা তোর বিয়েতে করব আজ তুই সব ভুলে গেলি?আমাকে ছাড়াই বিয়ের পীড়িতে বসে পড়লি তুই এটা পারলি দোস্ত?কথাগুলি বলতে নাবিল কেঁদে ফেলেছে।
সামিরাঃ যে তোমার জীবন টা উলট পালট করে দিল তুমি এখনো তার কথা ভাবছো?
নাবিলঃ কি করে ভুলে যাব সামিরা? আমি যে সেই দলের নই যারা ৯৯ দিনের কথা ভুলে গিয়ে ১ দিনের কথা মনে রাখে। আকাশ আমার বুকের একটা পাঁজর ছিল আর সেটা এমনি এমনি হয় নি আমার সকল বিপদে সবার আগে ছুটে আসত আকাশ। আমাকে কেউ কিছু বললে আকাশ সহ্য করতে পারত না ছোট বেলায় একটা চকলেট খেলেও আমাকে ভাগ দিয়ে খেত। জীবনে যত অনুষ্টানে ও গিয়েছে আমাকে ছাড়া যায় নি।
যখন মারামারি করে হাসপাতালে থাকতাম আকাশ সারারাত জেগে আমার পাশে বসে থাকত আজ কি করে সব ভুলে যাব? কি করে ভুলে যাব আকাশ নামের একটা ছায়া ছিল আমার।কি করে মেনে নিব সেই ছায়াটা আর নেই।
যানো ওকে আমি ক্ষমা করে দিয়েছি ওর উপড় আমার কোন অভিযোগ নেই আজ আকাশ এখানে থাকলে আমার যে কত ভাল লাগত।কতই না মজা করত আকাশ সারা বাড়ি একাই মাতিয়ে রাখত।আর আমার পাগলি বোনটা তো খুশিতে পাগলই হয়ে যেত।
ওদের ছাড়া আমি বিয়ে করছি ভাবতেই পারছি না।আজ তোমার সারাবাড়ি লোকজনে ভর্তি থাকলেও আমার মনের ঘর যে শুন্য সামিরা।তাই হাসতে চেয়েও হাসতে পারছি না। সামিরা আমাকে একটু একা থাকতে দাও প্লিজ।
সামিরাঃ ঠিক আছে আমি চলে যাচ্ছি আর দোয়া করি তোমাদের মধ্যে সব যেন খুব তাড়াতাড়ি মিটে যায় আমি তোমার মুখে হাসি দেখার অপেক্ষায় থাকব নাবিল।আমি বিশ্বাস করি এত ভালবাসা কখনই বিফল যেতে পারে না আকাশ তোমার ভালবাসা ঠিক বুঝবে দেখো।
নাবিল সামিরাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলল।সব খারাপের পিছনে নাকি একটা ভাল দিক থাকে দেখো সামিরা সব উলট পালট হওয়ার বিনিময়ে আমি তোমাকে পেলাম
তুমি না খুব ভাল সামিরা তোমার জায়গায় অন্য কেউ হলে রাগ করত।অথচ তুমি আমাকে বুঝলে আমি ভাগ্যবান যে তোমাকে পেয়েছি।
।
।
।
।
।
।
দেখতে দেখতে সন্ধ্যা গড়িয়ে গেল নাবিল আর সামিরার হলুদ শুরু হবে।
সময়মত বেশ উৎসবের সাথে গায়ে হলুদ হয়ে গেল। সামিরার সব ফ্রেন্ডরা মিলে অনেক মজা করেছে নাবিলো অনেক মজা করেছে । অনুষ্টানের শেষে সবাই মিলে আড্ডা দিচ্ছিল।
কিন্তু হটাৎই নাবিলের চোখ গেল পাশের রুমের টিভির পর্দায় আর নিউজটা কানে আসতেই নাবিলেদউয়র হাসি মুখ নিমিষেই কাল হয়ে গেল।
নাবিল ছুটে গেল টিভির রুমে।
টিভিতেঃ
ব্রেকিং নিউজ, আগামীকাল অনুষ্ঠিত হতে চলেছে দলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন যাতে থাকছে ১২ টি পদ এবং প্রতিটি পদের বীপরিতে ২ জন করে মোট ২৪ জন অংশগ্রহন করতে চলেছে । যার মধ্যে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আকাশ চৌধুরী ও মেঘলা হোসাইন।
এই আকাশ চৌধুরী বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং মেঘলা সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নাবিলের বোন।
(আমি রাজনীতি সম্পর্কে বা পদ বিষয়ে তেমন কিছু যানি না পদের নামে ভুল থাকলে ক্ষমা করবেন)
তবে আশ্চর্যের বিষয় আজ সারাদিন আকাশ এবং মেঘলা ২ জনেই প্রচারনায় ব্যাস্ত থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকেই তাদের কারোরি খোঁজ মিলছে না।
আকাশ এবং তার এসিস্ট্যান্ট ইরা কারোরি দেখা মিলছে না পার্টি অফিসে।অন্যদিকে মেঘলার এসিস্ট্যান্ট আবিরের দেখা মিললেও সে যানে না মেঘলা ম্যাডাম কোথায় আছেন।তারা সবাই কি ঠিক আছেন নাকি কোন ঝামেলা হয়েছে সেসবের খোঁজ জানাব কিছুক্ষনের মধ্যেই সে পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকুন ধন্যবাদ।
নিউজটা শুনার সাথে সাথে নাবিলের মাথায় যেন আকাশ ভেংগে পড়ল।নাবিলের হাত পা ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে।
নাবিল টিভির রুম থেকে বেরিয়েই নিজের ঘরে গিয়ে হলুদের কাপড় চোপড় খুলে ড্রেস চেঞ্জ করে নিল।
এরিমধ্যে সামিরা তার ঘরে এল।
সামিরাঃ কি করছো?
নাবিল বিচলিত হয়ে গম্ভির গলায় উত্তর দিল চলে যাচ্ছি।
সামিরাঃ মজা করছো?
নাবিলঃ না সত্যি সত্যি আমি চলে যাচ্ছি আমাদের বিয়েটা হচ্ছে না সামিরা।
সামিরাঃ তুমি এসব কি বলছো নাবিল?
নাবিলঃ বলছি না যা ঘটছে সেটাই দেখাচ্ছি।বলে নাবিল পা বাড়াল।
পিছন থেকে সামিরা নাবিলের হাত টেনে ধরল।
সামিরাঃ না তুমি এটা করতে পারো না নাবিল আমি তুমাকে ভালবাসি তুমি আমায় কোথায় রেখে যাচ্ছো।আজ বাদে কাল আমাদের বিয়ে আমাদের হলুদ হয়ে গেছে এখন বিয়েটা ভেংগে গেলে আমি লোকের সামনে মুখ দেখাব কি করে।
নাবিলঃ তোমার বিয়ের অভাব হবে না সামিরা আর জনিও হাসপাতালে আছে ও যেহেতু এতদিন কিছু করে নি আর কোন ঝামেলা করবে বলে মনে হয় না। আর আমি চলে যাওয়ার পর মান সম্মান রাখতে তোমার বাবা মা তোমাকে ভাল ছেলে দেখে বিয়ে দিয়ে দিবে। তোমার জন্য এটাই ভাল হবে সামিরা।আমার সাথে নিজেকে জড়িয়ে কষ্ট পেয় না।আর আমাকে আটকানোর চেষ্টা করে লাভ নেই সামিরা আমাকে যেতে হবে।আমার মনে হচ্ছে আকাশ মেঘলা ২ জনেই বিপদে আছে। আমি থাকতে ওদের কোন ক্ষতি হতে দিব না।
সামিরাঃ আর আমি? আমি কি কেউ নই নাবিল? সত্যিই তুমি আমাকে ভালোবাসো নি।কিন্তু আমি তোমাকে বেসেছি বিশ্বাস করো আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারব না।প্লিজ আমাকে ছেড়ে যেও না।
নাবিলঃ ভাল ত আমিও বাসি সামিরা কিন্তু দায়িত্বের বেড়াজালে আজ নিজের ভালবাসাকে বলি দিতে হচ্ছে আমাকে। আমি যানি আকাশ আর মেঘলা বিপদে আছে ওদের রক্ষা করা আমার কর্তব্য। (মনে মনে)
নাবিল সামিরার হাত থেকে নিজের হাত টা ছাড়িয়ে চলে যেতে লাগল কিছুটা দুরে গিয়ে সামিরার দিকে ফিরে তাকিয়ে নাবিলের ভিতরটা মোচড় দিয়ে উঠল।
সামিরার ২ চোখ বেয়ে নোনা জল গড়িয়ে পড়ছে হাজারো না বলা কথার সাক্ষি দিচ্ছে তার কাঁপা কাঁপা ঠোঁট।
নাবিলঃ কি করে এই মায়ামাখা মুখটাকে ভুলে যাব? আমি চলে যাওয়ার পরেই তো ওকে অন্য যায়গায় বিয়ে দিয়ে দিবে আমি কি করে সেটা মেনে নিব।আর ওকে আমি নিয়েই বা যাব কি করে? আমি যে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি সেখানে ওকে নিয়ে ওর জীবনটা নষ্ট করার অধিকার আমার নেই তারচেয়ে ও নাইবা হলো আমার অন্য কারোর কাছে সুখি হোক।নাবিল নিজের চোখের জল লুকাতে হন হন করে হেঁটে চলে গেল।
।
।
।
।
।
নাবিল ফিরে এসে মেঘলাকে খুঁজতে শুরু করেছে।সে আকাশের সকল গোপন জায়গায় চিনে তাই প্রথমে সেখানে খোঁজার চেস্টা করল যদিও তার দৃঢ় বিশ্বাস আকাশ মেঘলাকে বিপদে ফেলে নি বরং মেঘলা এবং আকাশ ২ জনেই বিপদে আছে।
কিন্তু নাবিল অনেক খুঁজেও আকাশ বা মেঘলার খোঁজ পেল না।
।
।
।
।
এদিকে মেঘলা হাত বাঁধা অবস্থায় মাটিতে বসে আছে আর আকাশ বন্দুক হাতে তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। সাথে ইরা আরো কিছু গুন্ডাও আছে।
আকাশঃ মেঘলা ভালই ভালই বলছি তুই পেপারে সাইন কর তুই নিজের পদ প্রত্যাহার করবি।
মেঘলাঃ আমার ভাবতেও লজ্জা করছে এই আকাশকে আমি একদিন ভালবেসেছিলাম।
আকাশঃ লজ্জা তো আমারও করছে যে তোর মত একটা মেয়েকে আমি ভালবেসেছিলাম যে কিনা কখনো কোনদিন আমাকে বুঝে নি।যাক সেসব কথা ভালবাসার হিসাব নিতে আমি এখানে আসি নি আর দায়িত্ব যখন নিয়েছিলাম পালন তো করতেই হবে সাইন কর তা না হলে তোকে মেরে এখানেই পুঁতে রেখে যাব।
মেঘলাঃ আমি সাইন করব না মরে গেলেও করব না।
আকাশঃ তুই জানিস আমার কথা না শুনলে তোর সাথে কি কি ঘটবে।
এবার আকাশ আর মেঘলা ২ জনকেই অবাক করে দিয়ে দিয়ে পিছন থেকে নাবিল বলে উঠল। আমিও দেখতে চাই কি কি ঘটতে পারে।
চালা গুলি আকাশ পৃথিবীর বুক থেকে ভালবাসা বিশ্বাস ভরসা নামক শব্দগুলি মুছে যাক।
নাবিলকে দেখে মেঘলা চিৎকার করে কেঁদে উঠল।
মেঘলাঃ ভাইয়া তুই বেঁচে আছিস?
ইরাঃ বেঁচে থাকলেও এখন আর থাকবে না আজ তোদের ২ টা কে এখানে পুঁতে রেখে যাব।
নাবিলঃ হ্যা হ্যা হ্যা চালাও গুলি ইরা আর বাঁচতে চাই না বাঁচার সব ইচ্ছাই আজ মারা গেছে।এতদিন ভেবেছিলাম আমার সাথে এমন করার পিছনে নিশ্চুই কোন কারন আছে আজ দেখলাম কোন কারন নেই বরং শুধুমাত্র ক্ষমতার জন্য ও আমার সাথে এত জঘন্য গেম টা খেলেছে।
ছিঃ আকাশ ছিঃ তুই তো বন্ধু নামের কলংক প্রেমিক নামের বেইমান।
জীবনে প্রথম বলছি আমি তোকে চিনতে ভুল করেছিলাম তুই নাবিলের বন্ধু হওয়ার যোগ্য নস। তুই ভালবাসা না ঘৃনা পাওয়ার যোগ্য।তোর জন্য কি না করেছি আকাশ? অযথা কত ছেলেকে মেরেছি তুই এক কথায় কত কিছু ছেড়ে দিয়েছি একবার বলে দেখতি হাসতে হাসতে পদ ছেড়ে দিতাম। কিন্তু তুই তো আমাদের বন্ধুত্বটাকে অপমান করলি।
কান খুলে শুনে নে আকাশ আজ তোর জয় নাই সবচেয়ে বড় পরাজয় হচ্ছে।যে নাবিল তোর জন্য হাসতে হাসতে মরতে রাজি ছিল সে আজ তোকে বলছে সে তোকে ভাল নয় ঘৃনা করে i just hate you akash...!!!
চালা গুলি আগে আমার বুকে গুলি চালা। নিজের চোখে তো বোনের মৃত্যু দেখতে পারব না।তাই আগে আমাকেই মার অন্তত এইটুকু উপকার কর।
মেঘলাঃ ভাইয়া ওকে এসব বলে লাভ নেই ওকে চিনতে আমরা সবাই ভুল করেছি ও কোনদিনি লাভার ছিল না ও একটা ভিলেন। শোন আকাশ ভাইয়া নির্বাচন করছে না তাই ওর সাথে তোমার কোন শত্রুতা নেই যা আছে আমার সাথে আছে তাই ওর কোন ক্ষতি করো না। ওকে যেতে দাও। ভাইয়া তুই এখান থেকে যা।
আকাশ এতক্ষন চুপচাপ সব শুনছিল কিছুই বলে নি।এবার আকাশ চেঁচিয়ে উঠল,
আকাশঃ এই তোদের এত সাহস হয় কি করে আমাকে কথা শুনাস? জানিস না আমি তোদের এই কথাগুলি সহ্য করতে পারব না তবুও কেন বললি? কেন বললি?আকাশ অস্থির হয়ে গেছে।পাগলের মত আবল তাবল করতে করতে বলল
আজ আমি সব হিসাব মিলাব তোদের সবাইকে সবকিছু থেকে মুক্তি দিয়ে নিজেও মুক্ত হব।
এই কে আছিস নাবিলকে ধর।মুহুর্তেই কয়েকজন এসে নাবিলকে ধরে ফেলল নাবিল একটুও বাঁধা না দিলেও মেঘলা চেঁচিয়ে উঠল।
মেঘলাঃ ভাইয়াকে ছেড়ে দাও আকাশ প্লিজ।
আকাশ মেঘলার দিকে বন্দুক তাক করে বলল আবার বল আমি কি?
মেঘলাঃ তুমি একটা ভিলেন....
আকাশ যেই বন্দুকে ফিগার টানতে গেল নাবিল চেঁচিয়ে উঠল না আকাশ না মেঘলা আমার একমাত্র বোন তুই ওর সাথে এমনটা করিস না ওকে ক্ষমা করে দে।
আকাশ হা হা করে হেসে উঠল,
আকাশঃ একজনের জন্য অন্যজনের কত টান একেই বোধহয় বলে রক্তের টান।একজন অন্যজনের কত আপন।
আফসোস জীবনে কত কিছু করলাম কতবার নিজের জীবনের বাজি রাখলাম কিন্তু কেউ তা মনে রাখল না সবাই ভুলে গেছে।
যানিস নাবিল নাতো নাবিল আর নাতো আকাশ বেইমান আসলে এই পৃথীবিটাই বেইমান রে নাবিল বলেই আকাশ নিজের উপড় নিজে গুলি চালিয়ে দিল।
সাথে সাথে নাবিল আর মেঘলা চিৎকার করে উঠল। মেঘলা সাথে সাথেই সেন্সলেস হয়ে গেল আর নাবিল সবাইকে এক ঝটকায় ছাড়িয়ে দিয়ে দৌড়ে গিয়ে আকাশকে জড়িয়ে ধরল।
নাবিলঃ কি করলি আকাশ? তুই এটা কেন করলি?
আকাশঃ তোর মনে আছে নাবিল? একদিন বলেছিলি পৃথিবীর সবাই একপাশে থাকলে আর আমি আকাশ অন্যপাশে থাকলে নাবিল আকাশের পাশেই থাকবে।মনে আছে কথাগুলি?তুই না ভুলে গেছিস রে নাবিল কিন্তু আমি ভুলি নি।তোর বলা সব কথা আজ মিথ্যে হয়ে গেছেরে তাই আমার বাঁচার ইচ্ছেটাও শেষ হয়ে গেছে।
যানি আমাকে তুই ঘৃনা করিস তবুও শেষ সময়ে আমার শেষ ইচ্ছা টা রাখিস। মেঘলাটা সারাজীবনেই বোকা ছিল এখনো আছে ওকে কোথায় রেখে যাচ্ছি যানি না তবুও আমার শেষ ইচ্ছা ওকে তুই দেখে রাখিস। নাবিল আমাকে কথা দে তুই ওকে দেখে রাখবি।
নাবিলঃ চুপ কর আকাশ চুপ কর তোর কিচ্ছু হবে না আমি তোর কিছু হতে দিব না।
আকাশঃ কেন বাঁচাবি আমায় আমি তো একটা বেইমান....!!! আমি আর বাঁচতে চাই না কার জন্য বাঁচব? বুকের একপাশ তোর নামে অনেক আগেই লিখে দিয়েছিলাম কিন্তু আজ তুই তা শুন্য করে দিলি। মেঘলা নাহয় বোকা কিন্তু তুই আমায় কি করে ভুল বুঝলি নাবিল? তুই না আমার না বলা কথা বুঝতি।
নাবিলঃ চুপ করবি তুই...???
আকাশঃ তোর নির্দোষ হওয়ার সমস্ত প্রমান আবিরের কাছে আছে নিয়ে নিস। কেন কি করেছি আর হয়েছিল সময়ের অভাবে বলে যেতে পারলাম না আমি মারা যাওয়ার পর হয়ত যানতে পারবি অথবা কোনদিন যানবি না। কিন্তু একটা কথা যেনে রাখিস আমার বুকের পাঁজর টা নাবিলেই ছিল আছে যতক্ষন বাঁচব ততক্ষন থাকবে ।
আমি আর কথা বলতে পারছি না দম নিতে কষ্ট হচ্ছে অনেকদিন ঘুমাইনি রে নাবিল আজ তোর বুকে মাথা রেখে পরম শান্তির ঘুম দিব এর চেয়ে ভাল আর কি হতে পারে? নাবিল আমার সময় শেষ হয়ে আসছে একটাবার মেঘলাটাকে আমার কাছে আনবি শেষবার ওর মুখটা দেখে যাই...
বলতে বলতে আকাশের কথা বলা বন্ধ হয়ে গেল চোখ বন্ধ করে নিয়েছে আকাশ।
আকাশের কথা বলা বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে নাবিলের নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে আকাশের মাথা নাবিলের কোলে,আকাশের সারা শরীর রক্তে ভেসে যাচ্ছে পাশেই মেঘলা অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে.....!!! ............
[চলবে....]
মন_বাড়িয়ে_ছুঁই ❤
পর্বসংখ্যা_১২.
ফাবিয়াহ্_মমো.
রাতে সেই চুমুক-ঘটিত ঘটনার পর আর কোনো ঝামেলা হয়নি। মাহতিমের কাছ থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত ইশারা পেয়ে বুদ্ধির দরজা তখনো খুলেনি। কেনো মাহতিম চায়ের কাপে সেই চুমুক স্থানে আঙ্গুলের টোকা মারলো সেটি নিয়ে পুরো রাত ভেবেছে মেহনূর। কিন্তু আফসোস! সে কিছুই ধরতে পারেনি। সকালটা নির্লিপ্তভাবে কেটে গেলে মহিলারা দুপুরের রান্নায় মনোযোগ দিতে চলে যায়। এদিকে সৌভিকরা এসে আঙিনায় বসে আড্ডার মজলিশ বসায়। দুইদল বিভক্ত হয়ে মোবাইলে লুডু খেলার ভান করে গোপন আলাপ শুরু করে। গোল করে পুরো আট মাথা একসাথে লাগিয়ে মোবাইল স্ক্রিনের দিকে দৃষ্টি রাখে। সবাই এমন একটা ভঙ্গি ধরলো যেনো লুডু খেলার জন্য সবাই একত্র হয়েছে এখানে। ফারিন ফিসফিসিয়ে সবার উদ্দেশ্য নিচু স্বরে বললো,
- আজকের প্ল্যান বলো জলদি। আর বিগ ব্রোর জন্য কি মেহনূরই ফাইনাল? ওটাই কি ফিক্সড?
ফারিনের উত্তর শুনে সামিক লুডুর লাল গুটিতে ক্লিক মেরে চাল দিয়ে বললো,
- হু, ওই মেয়েই ফাইনাল। ওটাই ডান।
সামিকের জবাব শেষ হতেই নীতি উদ্বিগ্ন সুরে বললো,
- মেয়েটা কি বয়সে বেশি ছোট হয়ে যায় না? শানাজ হলে মেবি পার্ফেক্ট হয়। কি বলো সবাই?
নীতির বেকুব মার্কা কথায় চটে উঠলো তৌফ। ভ্রুঁ কুঁচকে রাগী দৃষ্টিতে তাকালো ওর দিকে। কন্ঠ নিচু করে ক্রুদ্ধভাবে বললো ওকে,
- তোর নাম নীতি না দিয়ে দূর্নীতি দেওয়া উচিত ছিলো! যদি আরেকবার এমন বি-চ মার্কা কথা বলোস, থাপড়ায়া এক্কেবারে কানের চামড়া লাল বানায়া দিমু!
তৌফের উগ্র কথায় বিরক্ত হলো নীতি। নিজেকে সামলে নিয়ে কিন্ঞ্চিৎ পরিমাণে রাগ দেখিয়ে বললো,
- তোমার সমস্যা কি তৌফ ভাই? কথায়-কথায় এমন থাপ্পড় মারার কথা আসে ক্যান? মেহনূর যে বয়সে ছোট সেটা কি তোমরা বুঝতে পারো না? ওই মেয়ে যদি ভাইকে দেখভাল করতে না পারলো তখন তোমরা কি করবা? তাছাড়া মেহনূর যে ভাইয়ার দিকে ওই নজরে তাকায় না সেটা কি খেয়াল করছো?
নীতির কথায় যুক্তি দেখে এবার সৌভিক মুখ খুললো,
- দ্যাখ নীতি, আমরা সবাই জানি মাহতিম কেমন লাইফ লিড করে। ওর জন্য কি ঠিক, কি বেঠিক, এসব নিয়ে আমাদের চিন্তা করে লাভ নেই। আমি নিজেই মাহতিমের সাইড থেকে মেহনূরের জন্য পজিটিভ সাইন দেখেছি। যদিও সাইনটা হেব্বি ছিলোনা, তবুও ফার্স্ট টাইমের জন্য হলেও মাহতিম আনসারীর মধ্যে এমন একটা নেচার দেখাটা বড় সৌভাগ্যের ব্যাপার। তুই নিজেই একবার ভেবে দ্যাখ, একটা ছেলে কি শুধু-শুধুই কারণ ছাড়া একটা মেয়ের জন্য আরেকজনের উপর শোধ তুলবে? সুরাইয়ার যেই হাল করেছে এ্যাটলিস্ট আমরা সবাই বুঝে গেছি, হি ইজ অন দ্যা লাইন। ও বেহুদা কারণে কারোর প্রতি সদয় হতে চায়না। তোদের সাথে কিছু উলটাপালটা করতে নিলে ও যে কি অবস্থা করে সেটা আর বলার প্রয়োজন মনে করলাম না। জাস্ট এটাই মাথায় রাখ, মাহতিম যেনো ভুলেও এখান থেকে যেতে না পারে। ওর পাসপোর্ট কোনোভাবেই ওর হাতে দিবিনা।
সৌভিকের শাসানো বাণী শুনে সবাই সম্মতি জানিয়ে সভা-ভঙ্গ করলো। ফারিন ও প্রীতি পুকুরপাড়ে চলে গেলো, সামিক চলে গেলো নিজের রুমে। এদিকে নীতি কোনোভাবেই ঠান্ডা হতে পারছেনা, বারবার মন বলছে মাহতিমের জন্য মেহনূর হয়তো ঠিক হবেনা। তবুও নিজের মনকে বুঝ দিয়ে যাচ্ছে মাহতিমের জন্য এটাই সম্ভবত বেটার অপশন হবে। মেহনূর ঠিকই আজ-নয়তো-কাল মাহতিমের প্রতি নরম হয়ে যাবে, মনের মধ্যে যতো ভয়জনিত ভীতি থাকবে সেগুলোও একটু-একটু করে দূর হয়ে যাবে ওর। শানাজের সাথে গল্প করার জন্য নীতি ওর রুমের দিকে যেতে থাকলো। নীতি নিজের মনে যখন এসব নিয়ে চিন্তা করছিলো, তখন হঠাৎ ওর দৃষ্টি সাবার রুমের দিকে আটকে গেলো। সাদা শার্ট পড়ুয়া তরুণ সাবার রুমে ঢুকে দ্রুত ভেতর থেকে দরজা আটকে দিচ্ছিলো। এমন আশ্চর্যজনক দৃশ্য দেখে কয়েক মিনিটের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেলো নীতি। কি দেখলো চোখে? সাবার রুমে তরুণ ঢুকে দরজা আটকে দিচ্ছে? বাড়ির মানুষ যদি এই ঘটনা জানতে পারে তাহলে কি কাণ্ড হতে পারে জানা আছে? নীতি কিছু সময়ের জন্য চিন্তাচেতনা হারিয়ে ফেললো। কিছু না ভেবেই সাবার রুমের দিকে দুমাদুম এগুতে লাগলো। অচিন্তনীয় অবস্থায় ফেঁসে গিয়ে শেষমেশ পা থামিয়ে দাড়িয়ে পরলো নীতি। আর সেদিকে এগুলৌনে সে। শানাজের রুমের দিকে পা ঘুরাতেই শানাজের রুমেও আজগুবি ব্যাপার দেখলো। শানাজও অজানা কারনে ভেতর থেকে দরজা লাগিয়ে দিয়েছে। নীতি দুদফায় আশ্চর্য হয়ে বুকভর্তি নিশ্বাস নিলো। সেটা নির্লিপ্তে ছেড়ে দিতেই বন্ধ দরজায় তিনবার টোকা মারলো। প্রায় দুইমিনিট পেরিয়ে গেলো, কিন্তু দরজা আর খুললোনা। নীতি যেই দ্বিতীয়বার কড়া মারা জন্য হাত উঠাবে , ঠিক তখনই খট করে দরজা খুলে গেলো শানাজের। শানাজ কেমন অপ্রতিভ মুখে জোরপূর্বক হাসি পেনে নীতির দিকে তাকিয়ে আছে। নীতি সেটা খুঁটিয়ে-খুঁটিয়ে দেখতে থাকলে একপর্যায়ে প্রসন্ন গলায় প্রশ্ন করে,
- তোমার দরজা খুলতে দেরি হলো কেন ?
কথাটা শুনে শানাজের মুখ যেনো অপ্রস্তুত হয়ে উঠলো। নিজেকে যথাসাধ্য ভাবে স্বাভাবিক করে ঠেলেঠুলে হাসি টেনে বললো,
- আসলে কুচি ঠিক করছিলাম তো, এজন্য দরজা লাগিয়েছিলাম।
উত্তরটা সম্পূর্ণ বেখাপ্পা লাগলো নীতির কাছে। যে মেয়ে অন্যসময় দরজা খোলা রেখে শাড়ি বদল করে, সেই মেয়ে সামান্য কুচি ঠিক করার জন্য দরজা লাগিয়ে দিবে এটা কেমন রহস্য-রহস্য লাগলো। তার উপর শানাজের চেহারাও কেমন চোরের মতো কাঁচুমাচু করছিলো। নীতি কিছু বলবে তার আগেই শানাজ ' জরুরী কাজের ' অজুহাতে মুখের উপর দরজা লাগিয়ে দিলো। দুবোনের রুমের ভেতর কিছু যে কাহিনী রটছিলো সেটা আচঁ করতে পারে নীতি। চুপিসারে সাবার রুমের দিকে এগিয়ে চারপাশে সর্তক দৃষ্টিতে দেখে নিলো। কেউ এই মূহুর্তে ওকে দেখছে কিনা সেটা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করলো। ডানে-বায়ে কাউকে দেখতে না পেয়ে বন্ধ দরজায় কান রাখলো নীতি। ডানকানের কর্ণকুহরে এমন একটা শব্দ এলো তৎক্ষণাৎ চমকে উঠে কয়েক পা পিছিয়ে গেলো সে। বুকের উপর হাত রেখে জোরে-জোরে নিল্বাস নিতেই তাড়াতাড়ি দৌড় লাগিয়ে মাহতিমের রুমে এসে পৌছঁলো। মাহতিম তখন খাটের উপর দুহাত এবং ফ্লোরের সাথে পা ঠেকিয়ে ননস্টপ ভঙ্গিতে পুশআপ-ক্ল্যাপ করছিলো। রুমের ভেতর হুড়মুড় করে নীতি ঢুকে পরলে চকিত ভঙ্গিতে কপাল কুঁচকে ওর মুখের দিকে তাকালো মাহতিম। সাথে-সাথে মাহতিম পুশআপ থামিয়ে সোজা হয়ে দাড়িয়ে পরলো। উন্মুক্ত গায়ে দ্রুত টিশার্ট জড়ানোর জন্য খাটের উপর থেকে খুলে রাখা টিশার্টটা নিলো। নীতির হাপানো অবস্থা দেখে কপালে ভাঁজ ফেলে প্রশ্ন ছুড়েঁ বললো,
- কি হয়েছে? হাপাচ্ছিস কেন? পানি খাবি?
নীতি ওই অবস্থায় হাটুতে দুহাত রেখে মেঝের দিকে তাকিয়ে ' না ' বোধকে ইশারা করলো। মাহতিম টিশার্টটা গায়ে জড়াতেই চুলে ব্যাকব্রাশ করা অবস্থায় নীতির দিকে এগিয়ে গেলো। নীতি তখন হাপানি শেষ করে একটু ধাতস্থ হয়ে সোজা হয়ে দাড়াঁলো। মাহতিমের দিকে আতঙ্কিত দৃষ্টিতে সবকিছু খুলে বললো। সবকিছু শুনতে-শুনতে কপালের ভাঁজ আরো কুঁচকে আসছিলো মাহতিমের। নীতিকে চুপ থাকতে বলে দ্রুত রুম থেকে পাঠিয়ে দিলো ওকে। ঘটনা আরো তলিয়ে দেখার জন্য চিন্তা করতে থাকলো সে। সাবার ঘটনাতে নিশ্চয়ই বিরাট অজানা রহস্য আছে। সাবা কালরাতেও সন্দেহজনক কাজ করেছে। এ বিষয়ে যদিও বাড়ির মানুষ কেউ জানেনা। কিন্তু সবার অগোচরে নির্ঘাত খারাপ কিছু হচ্ছে! কালরাতে কেনো কান্না করলো ও? সাথে কি সৌভিকের সাথে কোনো সম্পর্ক ছিলো?
গ্রাম্য-প্রকৃতি বিকেলের দিকে শান্ত হয়ে গেলো। পাখিদের কলরব গাছের ডালে-ডালে বেড়ে উঠলৌ। আকাশ হয়ে উঠলো রোমাঞ্চকর, চারপাশ হয়ে উঠলো আরো সুন্দর-মনোহর-মনোরম ভঙ্গিতে শীতল। মোল্লা বাড়ির সামনে যেই মেঠো পথের রাস্তা রয়েছে সেখান দিয়ে গ্রামের মানুষ অনাগ্রহ ভঙ্গিতে চলাচল করতে লাগলো তখন। কিছু মানুষ বাজার নিয়ে বাড়ির দিকে ছুটছিলো। বারান্দা থেকে দূরের পুকুরটা তখন স্পষ্টরূপে দেখা যাচ্ছিলো। পুকুরের পানিতে শুভ্র বর্ণের পাতিহাঁসগুলো কোমলচিত্তে সাতাঁর কাটছিলো। দোতলার মস্ত বারান্দায় দাড়িয়ে মাহতিম সে দৃশ্যগুলো শান্ত ভঙ্গিতে দেখছিলো। ঠান্ডা মৃদ্যু বাতাসে গা এলিয়ে মনের সব ক্লান্তি যেনো দূর হয়ে যাচ্ছিলো কাঠের রেলিংয়ে দুহাত ফেলে সেই বাতাসে গা ছেড়ে চোখ বন্ধ করলো মাহতিম। কানে শোঁ-শোঁ করে বাতাসের প্রতিধ্বনি শোনা গেলেও মনের মধ্যে সুক্ষ আচেঁ দারুণ কিছু মূহুর্ত ভাবতে লাগলো। আনচান করে বুকের মধ্যে, কোথাও যেনো উশখুশ করে উঠলো কিছু তীব্র আকাঙ্ক্ষার প্রতি। চোখের মানসপটে ভেসে উঠলো কেশবতী বালিকার ছবি। কিন্তু সেই ভাবনার রেশ কেটে দিয়ে রুমে প্রবেশ করলো মারজা। পেছন থেকে ' মাহতিম ' ডাক দিতেই রুমের দিকে ফিরে তাকালো মাহতিম। রেলিং থেকে হাত সরিয়ে চলে গেলো রুমের ভেতরে। মারজা ছেলের বিছানায় এসে নম্রভাবে বসলেন। মাহতিম পা চালিয়ে ক্লান্ত ভঙ্গিতে বিছানায় উঠে পরলো, মায়ের কোলে মাথা ছেড়ে আলস্য ভঙ্গিতে শুলো। সুন্দর দৃষ্টিজোড়ার চোখদুটো বন্ধ করে নিলো। মারজা আঙ্গুলের ডগায় ছেলের চোখের পাপড়ি বুলিয়ে ওর চুলের মধ্যে আঙ্গুল চালনা করতে লাগলেন, ছেলের মুখের পানে দৃষ্টি দিয়ে মুগ্ধ-নয়নে বিভোর হচ্ছিলেন। ক্লিন শেভ করা গালটায় দুহাত রেখে মাথা নুয়ে টুপ করে ছেলের কপালে স্নেহের এক চুমু বসিয়ে দিলেন। মাহতিম চোখ বন্ধ করা অবস্থায় মায়ের অকস্মাৎ কাজে মৃদ্যু ভঙ্গিতে হেসে দিলো। সেই হাসিটা সুন্দরভাবে বজায় রেখে মায়ের একটা হাত টেনে নিজের গালে চেপে ধরলো । সরল গলায় শান্ত ভঙ্গিতে মায়ের উদ্দেশ্যে বললো,
- বাড়ি কবে যাবে মা? অনেক দিন তো হয়ে গেলো। এবার কি বাড়ি ফেরা উচিত না? আমার যে ছুটি শেষ হয়ে আসছে। বাসায় কিছু সময় কাটানোর সুযোগ না পেলে কাজে মন লাগাতে পারবো না।
মারজা বেশ উদাস ভঙ্গিতে হতাশার নিশ্বাস ছাড়লেন। শ্রান্ত চক্ষুদুটো বিছানাঘেষা জানালার বাইরে ফেলে বিকেলের আকাশে তাকালেন। অনেকক্ষন যাবৎ চুপটি থাকার পর হঠাৎ নিরবতা চ্ছিন্ন করে অন্যমনষ্ক ভঙ্গিতে বললেন,
- তুই কি বিয়ে করবি না মাহতিম? এভাবেই সারাজীবন একা থাকবি? এবার তো নিজের দিকটা দ্যাখ। নিজেকে নিয়ে একটু চিন্তা কর। আর কতো একা থাকবি?
মায়ের উদাস গলার কন্ঠ শুনে চট করে তাকালো মাহতিম। মায়ের মুখটা ভীষণ করুণ দেখালো তখন, দৃষ্টিদুটো কেমন নিগূঢ় বিষণ্ণতায় ছেয়ে ছিলো তাঁর।গালের উপর থেকে মায়ের হাতটা টেনে ঠোঁটের উপর আনলো মাহতিম, চোখ বন্ধ করে হাতের তালুতে নিজের উষ্ণ ওষ্ঠ ছুয়িঁয়ে দিলো। সেই শক্তিহীন, লাবণ্যহীন, কুচঁকানো চামড়ার হাতটা নিজের দুহাতের মাঝে আকঁড়ে ধরলো। নিচু স্বরে আক্ষেপ ভঙ্গিতে মারজার দিকে তাকিয়ে বললো,
- বিয়ে নিয়ে তর্ক করতে চাইনা মা। এই ব্যাপারটার জন্য একদম ফোর্স করো না। তুমি এসব ব্যাপারের জন্য আমাকে একা ছেড়ে দাও। আমি সত্যিই এই মুহুর্তে বিয়ের জন্য আগ্রহী নই।
মারজ ছেলের বিমত ভাব দেখে তৎক্ষণাৎ জানালা থেকে মুখ ফিরিয়ে তাকালেন। মাহতিমের দিকে প্রশ্নবিদ্ধ চাহনিতে কপাল কুচঁকে জিজ্ঞাসা করলেন,
- এখানে তোর সমস্যাটা কোথায় মাহতিম? উলটো তোর বউ খোঁজার জন্য তোর মামীকেও কাজে লাগিয়ে দিয়েছি। মাহতিম, তুই একটাবার হ্যাঁ বল, আমি তোর জন্য সব থেকে সুন্দরী, গুণবতী, রূপসী বউ এনে দিবো। তুই শুধু সম্মতি দে মাহতিম। আর একা থাকিস না। অন্তত এইবার বিয়েটা করে আমার জন্য মেয়ে দিয়ে যা। আমার মেয়ে পালার শখটা পূরণ কর মাহতিম। তুই তো ছুটি কাটিয়ে চলেই যাবি, এদিকে আমার দিকটা কি কখনো চিন্তা করেছিস? ভেবেছিস আমি কেমন করে একা বাড়িতে থাকি? মাহদির জন্য পুরো সময়টা ছেড়ে দিলেও আমার মন তো সেই কবে থেকেই মেয়ের প্রতি আটকে আছে। এবার অন্তত হ্যাঁ বলে দে মাহতিম। তুই একবার হ্যাঁ বললেই আমি খবর পাঠিয়ে তোর মামীর সাথে সবকিছু পাকা করে ফেলবো।
মাহতিম কোনো উত্তর দিলো না। হামেশার মতোই চুপ করে রইলো। কিন্তু চুপের রেশ বেশিক্ষণ না যেতেই হঠাৎ বিগলিত কন্ঠে সে বললো,
- মা আমার বউ নিয়ে এতো এক্সাইটেড কেন? আমার বয়স কি চোখে দেখেছো? আমার সাথে যেগুলো পড়তো, সেগুলো পচিঁশের মধ্যেই বিয়ে করে এতোদিনে দুবাচ্চার বাপ পযর্ন্ত হয়ে গেছে। এই তথ্য যদি বাইরে পাচার করি কোনো ভদ্রঘরের মেয়ে কিন্তু আমার জন্য আসবেনা। বাকিটা রইলো আমার স্ট্যাটাস আর ক্লাস, সেগুলো দেখে বিয়ে করার জন্য অবশ্যই মেয়ের কমতি হবেনা। কিন্তু তুমিতো জানো আমি এসবে অভ্যস্ত না। ওইসব মেয়ে দেখলে আমরা মুখ কম, হাত চলবে বেশি। এজন্য বলছি আমাকে এসবের টেনো না। আমি যথেষ্ট ভালো আছি।
মারজা ছেলের কথা শুনে কঠিন কিছু বলবেন অমনেই দরজা দিয়ে হুড়মুড় করে মাহদি এসে ঢুকলো। বিছানার কাছে এসে মায়ের সামনে দাড়িঁয়ে ব্যস্ত ভঙ্গিতে বললো,
- মা, মা তুমি কি একটু আসবে? নানাভাই ডাকছে।
মারজা ওর অস্থিরতা দেখে কিছুটা বিচলিত হলেন। প্রশ্নাত্মক দৃষ্টিতে তাকিয়ে চট করে জিজ্ঞাসা করতেই জানতে পারলেন হান্নান শেখ এক আত্মীয়ের বাড়িতে নেওয়ার জন্য মারজাকে ডাকছেন। মারজা চটপট সেই ডাকে সাড়া দিয়ে সুজলার সাথে বাইরে চলে গেলেন। এদিকে মাহমুদাও মেহনূরের খালাকে দেখতে একসাথে বেরিয়ে গেলেন। জানিয়ে এশারের পরপরই বাড়ি ফিরে আসবেন।
বিছানায় শুয়ে চুল ছেড়ে বই পড়ছে মেহনূর। বাইরে আছরের আযানটা শেষ হতেই সুরাইয়া এসে ঢুকলো। মেহনূর বই থেকে চোখ না সরিয়ে সুরাইয়ার উদ্দেশ্যে বললো,
- তোমার কি কিছু লাগবে বুবু?
সুরাইয়া বেণী দুলিয়ে বিছানায় বসে বললো,
- লাগলেও তোর থেকে অনুমতি নেইনা, এটা তুই ভালো করেই জানোস। তুই আবার চুল ছাড়ছোস ক্যান? তোরে না চুল বাইধা রাখতে বলছে?
মেহনূর বই থেকে চোখ সরিয়ে সুরাইয়ার দিকে তাকালো। চুলে হাত দিয়ে চেক করতেই শান্ত সুরে বললো,
- বুবু চুল যে এখনো ভেজা, আমি তো ভেজা চুল বাধতে পারিনা। ভেজিআচুল বাধলে ঠান্ডা লাগে। আম্মা চুল বাধতে না করে দিছে।
সুরাইয়া ছোট্ট সুরে ' ওহ্ ' বলে মেহনূরকে জোর করে নিচে নিয়ে গেলো। মেহনূর যেতে না চাইলেও জোর খাটিয়ে ডান কবজি ধরে নিয়ে যেতে লাগলো। মেহনূর বারবার জিজ্ঞেস করতে লাগলো কোথায় নিয়ে যাচ্ছে, এই প্রশ্নের জবাবে একবারও মুখ খুললো না সুরাইয়া। উঠোনের দিকে গোয়ালঘরে গিয়ে মৃদ্যু ধাক্কা মেরে ভেতরে ঢুকিয়ে দিলো ওকে। গোয়ালঘরে ঢুকে ' বুবু তুমি এখানে ' বলে প্রশ্নটা যেই করবে ওমনেই পেছন থেকে দরজা লাগিয়ে ছুটে পালালো সুরাইয়া। গোয়ালঘরের ভেতর একদম অন্ধকার অবস্থা। মেহনূর দরজায় কয়েকবার সজোরে ধাক্কা দিলো কিন্তু কেউ সেটা শুনলো না। একচালা এই গোয়ালঘরের ভেতর কেবল দুটো জানালা আছে। মেহনূর অন্ধকার ঘুচানোর জন্য যেই জানালার দিকে এগুবে তখনই ফট করে পেছন থেকে আলো জ্বলে উঠলো। কেউ ওর পেছনে দাড়িয়ে আগুনের আলো ধরিয়েছে। মোমবাতির শিখার মতো সরু লম্বা আলো দপদপ করে জ্বলছে। কিন্তু কে ঢুকেছে এই ঘরে সেটা বুঝতে পারলো না মেহনূর। পেছনে ফিরে যেই তাকালো ওমনেই দুচোখ বিশাল বড় হয়ে আকস্মিক ভয়ে কয়েক পা পিছিয়ে গেলো। কন্ঠরোধ হয়ে বুক ধড়াস-ধড়াস করতে লাগলো ওর। পানির তেষ্টায় বুক, গলা শুকিয়ে খাঁ খাঁ করে তোলপাড় শুরু করলো। মেহনূর ছোট থেকেই যার সঙ্গ অপছন্দ করে সেটা ছিলো তরুণ। তরুণের হাব-ভাব কোনোকালেই সঠিক ছিলো না। বিশেষ করে ওর হাত দেওয়ার অভ্যাসটা ভালো না। সুযোগ পেলেই পিঠে হাত রেখে খারাপভাবে চালনা করতে থাকে, পায়ের উপর পা উঠিয়ে সুড়সুড়ি দিতে থাকে, নানাপ্রকার ফাজলামির বাহানায় শরীরের বিভিন্ন জায়গায় টাচ করার চেষ্টা করে। এসব কথা কাউকে বলা যায়না, সহ্য করা যায়না, স্মৃতি থেকেও মুছেনা। দিনের-পর-দিন খারাপ অভিজ্ঞতা নিয়ে মন গুমরে থাকে। তরুণ লাইটার জ্বালিয়ে মেহনূরের দিকে বিশ্রী দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। শরীরের প্রতিটি ভাঁজে-ভাঁজে দূরবীনের মতো দৃষ্টি দিয়ে রেখেছে। মারাত্মক লালসাগ্রস্থ চাহনিতে মেহনূরকে গিলে খাচ্ছে। দাঁত দিয়ে নিচের ঠোঁটটা অপ্রতিভ ভঙ্গিতে কামড়ালো, এরপর জিহবা দিয়ে নিচের ঠোঁটটা বিশ্রী কায়দায় ভিজিয়ে নিলো। সবই যখন মেহনূরের চোখের সামনে ঘটছিলো তখন ভয়জনিত কন্ঠে মেহনূর নিচু স্বরে আওড়ালো,
- আ-পপনি এখানে কেন ভা-ভাইয়া?
তরুণ একটা বিশ্রী হাসি দিয়ে দুপাটি দাঁত বের করলো। লাইটারটা অন-অফ করতেই পা চালিয়ে আসতে লাগলো। মেহনূর ওই অবস্থা দেখে প্রচণ্ড ভয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছিলো। কি করা উচিত এখন? চিৎকার দিলেও শব্দ বাইরে যাবেনা। আপাতত বাড়ির কেউই কোনো শব্দ শুনতে পাবেনা। তরুণ ততক্ষণে মেহনূরের একেবারে সামনে এসে হাজির। লাইটারটা ডানহাতে আকঁড়ে মেহনূরের ভয়ার্ত মুখটার দিকে তাকিয়ে হাসছে। মেহনূর সহজে এই নোংরা মানুষটার সামনে পরেনা, কিন্তু যখন পরে তখন এই মানুষটা কিছু না করে ছাড়েনা। তরুণ আবার মেহনূরের আপাদমস্তক দেখে নিলো, চুম্বকের মতো দৃষ্টিটা মেহনূরের গলার সেই তিলের উপর আটঁকে ছিলো। মেহনূরের দিকে বাম হাতটা এগিয়ে ওর কাধে রাখলো তরুণ। হাসি দিয়ে মিথ্যা সৌজন্যতার অভিনয় করে বললো,
- পড়াশোনা কেমন চলছে মেহনূর? সব ঠিকঠাক?
প্রশ্ন করছে ঠিকই কিন্তু মেহনূর এদিকে দাঁত শক্ত করে খিচ মেরে আছে। উত্তরের জন্য কুকঁড়ে গিয়ে বারবার কথা গুলিয়ে ফেলছে। তরুণ ওর কাধের উপর পাঁচ আঙ্গুল দিয়ে দিচ্ছে, বেহায়ার মতো গলার সেই তিলের উপরও আঙ্গুল ছুয়াঁচ্ছে। এমন বীভৎস আচরণে নিজের গলায় ফাঁস লাগাতে ইচ্ছে করছে মেহনূরের। তরুণের অসভ্য হাতের ছোঁয়া লেগে গা যেনো নর্দমার মতো হয়ে যাচ্ছে। তরুণ চুপ থেকে আবার উপদেশ ভঙ্গিতে বললো,
- ছাই কালার শাড়ি পরলে সাদা কালার ব্লাউজ পরবা। কালো কালার ব্লাউজ কিন্তু একটুও মানায় না। সাদা কালার পরলে একদম ফকফকা সুন্দর লাগে। মেহনূর, তুমি না হাতা একটু ছোট করবে কেমন? এই বয়সেই দাদিদের মতো ব্লাউজের হাতা পরা লাগবেনা।
কথাটুকু শেষ করতেই কাধ থেকে হতয় সরালো তরুণ। আটকে রাখা দম যেনো ছাড়তে পারলো মেহনূর। বাইরে থেকে ওকে যতটা শান্ত দেখাচ্ছিলো, ভেতরের অবস্থা ততই করুণ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাচ্ছে ওর। চোখের বাধ যেকোনো সময় ভাঙার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছে। তবুও নিজেকে যথাসাধ্য সামলে নিয়ে তরুণের আচরণ সহ্য করে যাচ্ছে। তরুণ এবার যেই জায়গায় হাত দিলো পুরো শরীর যেন বিষযুক্ত কাটার মতো ফুটে উঠলো ওর! মাথার ভেতর ঝিমঝিম করে ঝিঁঝি পোকার শব্দের বাজ পরলো! শিরা-উপশিরা টান-টান ভঙ্গিতে সমস্ত শরীর বিদ্যুতের মতো ঝিমিয়ে উঠলো। মেহনূরের পায়ের উপর বৃদ্ধাঙ্গুল দিয়ে নাড়াচাড়া করছিলো তরুণ, সেই সাথে নানা কথার মুখরোচক প্রসঙ্গ তুলে পিঠের দিকে হাত রেখে দিয়েছিলো। তরুণের ধূর্ত ইচ্ছা ছিলো ব্লাউজের বোতাম খুলে লালসার প্রবৃত্তি এখুনি মিটিয়ে খেলতে, কিন্তু মেহনূর তখনই চোখ খিচুঁনি মেরে কেদেঁ উঠলো। মেহনূর দুহাতে শাড়ির আচঁলটা মুষ্টিবদ্ধ করে ধরেছিলো, হুহু করে ফুপিয়ে কেদেঁ উঠলে তরুণ বোতাম খোলার ইচ্ছাটা তখনই ত্যাগ করলো। সাথে-সাথে লাইটটারের গ্যাস সাইডটা বন্ধ করে ব্যাটারি লাইট জ্বালালো। জ্বালিয়ে সেটা মেহনূরের পেছনে চৌকির উপর রেখে দিলো। মেহনূরের কান্নার সুযোগ নিয়ে ওর দুগালে নিজের দুহাত রাখলো তরুণ। মেহনূর ওই মূহুর্তে আবারও ওকে বৃথা চেষ্টায় ধাক্কা দিয়ে ওকে সরাতে চাইলো কিন্তু তরুণের থাবার মতো হাতের জন্য পারলো না। তরুণ বিভিন্নভাবে কান্না থামানোর জন্য তোষামোদ করতে লাগলো ওকে,
- কাদঁছো কেন মেহনূর? আমি তো তোমার ভাইয়া হই সোনা । ভাইয়া ধরলে কিচ্ছু হয়না। তুমি না লক্ষ্মী মেয়ে? কান্না বন্ধ করোতো, লোকে শুনলে খুব খারাপ বলবে। চুপ করো সোনা, আমি তোমাকে কতো আদর করি, কতো ভালো মেয়ে তুমি। ভালো মেয়েরা কাঁদে না মেহনূর।
তরুণ নানাভাবে বোঝাতে লাগলো, চুপ করানোর জন্য নানা কথা শোনালো। কিন্তু মেহনূর এদিকে থামলো না। কান্নার জন্য নাক লাল হয়ে র-ক্ত জবার মতো রঙ ধারণ করেছে, ঠোঁটদুটোও ক্রমশ লাল হয়ে উঠেছে ওর। থরথর করে কাপঁছেও ওষ্ঠজোড়া। তরুণ ওর মুখের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতেই হঠাৎ ওর ঠোঁটদুটোর প্রতি উন্মাদ হয়ে উঠলো। ভয়ঙ্করভাবে ছুইঁয়ে দেওয়ার জন্য গাল ধরে এগুতে লাগলো। কিন্তু মেহনূর এবার পাগলের মতো ছুটাছুটি করতে লাগলো ছাড় পাওয়ার জন্য, প্রচণ্ড অস্থিরতায় নাশ হয়ে তরুণকে ধাক্কা মেযে জানালার দিকে ছুটে গেলো। এদিকে তরুণ নাকে ব্যথা পেয়ে মাটিতে পরে গিয়েছিলো, নাকের নিচে ঠোঁটের উপর হাত দিতেই রক্তের উপস্থিতি টের পেলো। মাথা ঘুরিয়ে তাকিয়ে দেখলো মেহনূর জানালায় বসে দু-পা উঠিয়ে জানালার বাইরে ফেলার চেষ্টা করছিলো। তরুণ যেই চেচিঁয়ে ওকে ডাক দিয়ে উঠবে তখনই মেহনূর জানালার মাধ্যমে বাইরে বেরিয়ে গেলো।তরুণ তাড়াতাড়ি নাকে রুমাল চেপে সেই জানালা টপকে বেরুলো। কিন্তু মেহনূরকে আর নাগালে পেলো না ও। রাগে-ক্ষোভে সুরাইয়াকে ইচ্ছেমতো গালিগালাজ করতে লাগলো। নিজের এই রূপ ঢাকার জন্য দ্রুত বাড়ির বাইরে বাজারে চলে গেলো তরুণ।
মেহনূর তীব্ররূপে হাপাঁতে-হাপাঁতে শেষমেশ কাশতে শুরু করেছে। হাটুঁতে হাত রেখে মাটির দিকে নুয়ে আছে। মুখ হা করে নিশ্বাস নিতেই হঠাৎ ভক করে বমির ঢেকুর উঠলো। অন্যদিকে কলপাড়ে হাত-মুখ ধুতে এসেছিলো মাহতিম। কিন্তু দূর থেকে মেহনূরের ওমন কাহিল অবস্থা দেখে ভ্রুঁ কুঁচকে তাকিয়ে রইলো। মেহনূর লম্বা শ্বাস টেনে নিজেকে ঠান্ডা করার প্রক্রিয়ায় ছিলো, কিন্তু বারবার হাপানি রোগীর মতো শ্বাসটান উঠলে মাহতিম আর সেই দৃশ্য দেখার জন্য দাড়িয়ে থাকলোনা। দ্রুত বড়-বড় পা ফেলে এগিয়ে গেলো মেহনূরের দিকে। কাছে গিয়ে ওর উদ্দেশ্যে কিছু জিজ্ঞেস করবে তখনই মেহনূর মাথা নুয়ে ভকভক বমি করে দিলো। মাহতিম ওর অবস্থা আশ্চর্য হয়ে গেলো। নাক-মুখ লাল হয়ে শরীর যেনো কনকন শীতের মতো কাঁপছে ওর। মাহতিম প্রশ্ন করতে গিয়েও শেষমেশ গিলে খেলো কথাটা। মেহনূরের জন্য পানি এনে চটপট মুখে পানি দিতে বললো। মেহনূর মুখ ধুয়ে কুলি করতেই চোখ শান্ত মাটির দিকে তাকিয়ে রইলো। শরীর নিস্তেজ হয়ে আসছে, প্রচণ্ড অসাড়-ক্লান্ত-বিষণ্ণ লাগছে। মাহতিম ওর অবস্থা দেখে কোমল কন্ঠে বললো,
- তোমার কি হয়েছে? হঠাৎ এখানে এসে বমি করলো কেন? জ্বর এসেছে?
মেহনূর ধীরে-ধীরে মাথা তুলে মাহতিমের দিকে ঝাপসা দৃষ্টি রাখলো। মাথাটা ভোঁ ভোঁ করে চরকীর মতো ঘুরপাক খাচ্ছিলো। শরীর গুলিয়ে প্রচণ্ড খারাপ লাগছিলো। একটুও কথা বলার শক্তি পাচ্ছিলোনা, আজ ইচ্ছে করছে প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে, এই অসভ্য লোকটাকে সবিস্তারে সব খুলে বলতে, কিন্তু শরীরের সায় যেনো একটুও পেলোনা মেহনূর। আধো-আধো চাহনিতে পলক ঝাপটাতে লাগলো ও। মেহনূরের ওমন অপ্রতিভ অবস্থা দেখে মাহতিম একটু এগিয়ে আসলো। কিন্তু অবাকের বিষয় হলো মেহনূর একদম ভয় পেলোনা, একপা-ও পিছিয়ে গেলো না, ওকে দেখে থরথর করে কাপঁলোনা। কেমন নিষ্প্রভ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো মাহতিমের দিকে। মাহতিম আরেকটু এগিয়ে ওর মুখের পানে শান্ত দৃষ্টি ফেলে তাকালো। মেহনূর এবারও ওর এগুনো দেখে চমকে উঠলোনা। দানবীয় দেহের সুউচ্চ লম্বার মানুষটা আসলেই খুব লম্বা। তার সামনে দাড়ালে নিজেকে একদম এইটুকুনি লাগে। ওই প্রশস্ত বুকটার দিকে তাকালে মনেহয় আস্তো একটা রাজ্য যেনো গোগ্রাসে রাখতে পারবে। মাহতিম ওই ভঙ্গিতেই ওর উদ্দেশ্যে শান্ত সুরে বললো,
- খারাপ লাগছে? কোলে তুলবো?
মেহনূর এ প্রশ্নের জবাবে ' হ্যাঁ ', ' না ' কিছুই বললো না। চোখের পাতা হিংস্রভাবে বন্ধ হয়ে আসছে ওর। চিন্তার চাকাও যেনো কাজ করছেনা। মাহতিম ওর নিরুত্তর অবস্থা দেখে নেভি ব্লু শার্টের স্লিভদুটো কনুইয়ে তুলে ফেললো। ওর ঘাড়ের নিচে হাত ঢুকিয়ে দুহাটুঁর নিচে হাত রেখে কোলে তুলে নিলো। মেহনূর চোখ বন্ধ করে সমস্ত ভর মাহতিমের বাহুর উপর ছেড়ে দিলো। বন্ধ চোখজোড়ার দিকে একপলক তাকালো মাহতিম। প্রচণ্ড উৎকন্ঠায় ওর বুকের ভেতরটা যেনো ধসে এলো। সাথে-সাথে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিজেকে শক্ত করলো সে, মেহনূরের মুখের দিকে একদম যাবেনা। পথিমধ্যে তৌফের সাথে দেখা পেলে তৌফ আশ্চর্যে চক্ষুতারা বিরাট বড় করে তাকিয়ে রইলো। মাহতিম ওকে সংক্ষিপ্ত ঘটনা বলতেই রাস্তা ক্লিন কিনা সেটা দেখতে বললো। তৌফ সবকিছু চেক করে মাহতিমকে নিশ্চিন্তে যেতে বললো। মাহতিম সোজা আঙিনা পেরিয়ে সিড়ি ধরে মেহনূরের রুমে গিয়ে থামলো। ওকে বিছানায় শুইয়ে দরজাটা ভেতর থেকে খিল তুলে আটঁকালো। পুনরায় ফিরে এসে মেহনূরের কাছে এসে বসলো সে। মেহনূর ততক্ষণে যেনো গভীর নিদ্রায় তলিয়ে গিয়েছে। ওর ম্লান মুখটার দিকে তাকালো মাহতিম। একটু এগিয়ে গেলো ওর মুখের দিকে, চিকন-চিকন আঙ্গুলগুলো ধরার জন্য আবারও মন ব্যকুল হয়ে উঠেছে। নিজেকে কঠোরভাবে সংযত করে ওর মাথায় হাত রাখলো মাহতিম। ধীরে-ধীরে কপাল থেকে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকলো ওর। মেহনূরের মুখের দিকে তাকিয়ে অন্যমনষ্ক ভঙ্গিতে বললো,
- তোমার শরীরে তো জ্বর নেই। কিন্তু বমিটা করলে কেনো? তোমার অবস্থা দেখে মনেহচ্ছে কেউ তোমাকে গলা টিপে ধরেছিলো।
মাহতিমের কন্ঠ শুনেই হোক বা অন্য কোনো কারনে, মেহনূর কিছুক্ষণ পর ঘোরের মধ্যে অনবরত বলতে লাগলো,
- বমি পাচ্ছে, বমি করবো। বমি পাচ্ছে,
মাহতিম ওর কথা অস্থির কন্ঠে বললো,
- বমি করবে? তুমিতো হুঁশে নেই। তুমি চোখ খুলো তো, তুমি কি শুনতে পাচ্ছো?
মেহনূরের গালে আলতো থাপ্পড় দিয়ে চেতনা ফিরানোর চেষ্টা করছে মাহতিম। মেহনূর এতে চোখটা পযর্ন্ত খুললোনা! একপর্যায়ে মেহনূর আবার বিড়বিড় করে উঠলে মাহতিম ওর গালে মৃদ্যু থাপ্পর দেয়া বন্ধ করলো। ওর ডান গালে গাঢ় করে হাত রেখে মাহতিম ওর মুখের উপর ঝুকঁলো। মেহনূর ঘোরের মধ্যেই বলে উঠলো,
- তরুণ ভাইয়া গায়ে হাত দিয়ো না ।আমার বমি পাচ্ছে।আম্মা আমার বমি পাচ্ছে।
চলবে...
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Culinary Team
Attire
Website
Address
Dhaka