AFR Game
acount
نَزَّلَ عَلَيْكَ ٱلْكِتَـٰبَ بِٱلْحَقِّ مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَأَنزَلَ ٱلتَّوْرَىٰةَ وَٱلْإِنجِيلَ
খুবই মূল্যবান ৩০টি ছোট হাদিস যা সবার পড়া উচিৎ🕋
১। রাসূল (সা:)বলেছেন আমার কথা (অন্যদের কাছে) পৌছিয়ে দাও, তা যদি একটি আয়াতও হয়। (সহীহ বুখারীঃ ৩২১৫)
২। রাসূল (সাঃ) বলেছেন, কোন ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটকুই যথেষ্ঠ যে, সে যা শোনে (যাচাই ব্যতীত) তাই বলে বেড়ায়। (সহীহ মুসলিম, মুকাদ্দামা, অনুচ্ছেদ ৩)
৩। রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করবে সে জাহান্নামে যাবে। (দেখুন সহীহ বুখারীঃ ১০৭,১০৯,১০৯,১১০,১১১ সহীহ মুসলিম, মুকাদ্দামা)
৪। পিতা-মাতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহ্ সন্তুষ্ট আর পিতা- মাতার অসন্তুষ্টে আল্লাহ্ অসন্তুষ্ট। (তিরমিযী, সনদ হাসান, মিশকাত হা/৪৭১০)
৫। পাঁচ ওয়াক্ত সলাত আদায় করলে পঞ্চাশ ওয়াক্ত সলাতের সওয়াব পাওয়া যায় (সহীহ বুখায়, মুসলিম ও তিরমিযীঃ ২১৩)
৬। ব্যক্তি এবং শিরক ও কুফরের মাঝ খানে সলাত ছেড়ে দেওয়াই হচ্ছে ব্যবধান। (সহীহ মুসলিমঃ ১৫৪,১৫৫, মিশকাত)
৭। ক্বিয়ামতের দিন বান্দার কাজসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম সলাতের হিসাব নেওয়া হবে। (সহীহ তিরমিযীঃ ৪১৩, ইবনু মাযাহঃ ১৪২৫,১৪২৬)
৮। যে ব্যক্তি ফজর ও আসরের নামায আদায় করবে সে জান্নাতে যাবে। (সহীহ বুখারীঃ ৫৪৬)
৯। আল্লাহ্ তা'আলার নিকট প্রিয় ঐ আমল যা নিয়মিত করা হয় যদিও তা অল্প হয়। (সহীহ বুখারীঃ ৪১,৬০২০)
১০। যে ব্যক্তি (পুরুষ) পায়ের টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পরবে, সে জাহান্নামী। (সহীহ বুখারীঃ৫৩৭১, মিশকাত, হা/৪১২৫)
১১। কালিজিরায় মৃত্যু ছাড়া আর সকল রোগের চিকিৎসা রয়েছে। (বুখারী, হা/৫২৮৬ ও মুসলিম)
১২। নবী করীম (সাঃ) মিষ্টি ওমধু খুব ভালো বাসতেন। (বুখারী, হা:৫২৮০)
১৩। যারা আমার সুন্নতের প্রতি বিরাগ পোষন (অনিহা প্রকাশ) করবে, তারা আমার উম্মতের অন্তর্ভূক্ত নয়। (সহীহ বুখারীঃ ৪৬৯৭)
১৪। যে ব্যক্তি বিদআত সৃষ্টি করবে ও আশ্রয় দিবে তার উপর আল্লাহ্ তা'আলার, ফেরেশতা ও সকল মানব সম্প্রদায়ের লানত । (সহীহ বুখারীঃ ৬৮০৮)
১৫। যার অন্তরে সরিষা সমপরিমাণ ঈমান আছে, সে জাহান্নামে যাবে না। আর যার অন্তরে সরিষা সমপরিমাণ অহংকার আছে সে জান্নাতে যাবে না। (মুসলিম, মিশকাত হা/৫১০৮)।
১৬। যে ঘরে কুকুর ও (প্রাণীর) ছবি থাকে,সে ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না। (সহীহ বুখারীঃ ২৯৯৮, ৫৫২৫, মিশকাত হাঃ৪২৯৮)
১৭। তিন ব্যক্তির দিকে কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তাদের দিকে করুণার দৃষ্টি দিবেন না ও তাদের জন্য কঠিন শাস্তি (ক) গিঁটের নিচে কাপড় পরিধানকারী পুরুষ (খ) খোঁটাদানকারী (গ) মিথ্যা কসমে পণ্য বিক্রয়কারী। (মুসলিম, মিশকাত হা/২৬৭৩)
১৮। "যে ব্যক্তি মারা গেল অথচ জিহাদ করেনি এমনকি জিহাদের আকাঙ্ক্ষাও ব্যক্ত করেনি, সে মুনাফিকের ন্যায় মৃত্যুবরণ করল।" (সহীহ মুসলিমঃ ৪৭৭৯, নাসায়ীঃ ৩০৯৯)
১৯। আত্নীয়ের সাথে ভালো ব্যবহার করলে রিযিক ও হায়াত বৃদ্ধি পায়। (সহীহ বুখারীঃ ৫৫৫৯,৫৫৬০)
২০। কেউ সওয়াল থেকে পবিত্র থাকতে চাইলে আল্লাহ্ তাকে পবিত্র রাখেন। যে অমুখাপেক্ষী থাকতে চায়, আল্লাহ্ তাকে অমুখাপেক্ষী রাখেন এবং যে ধৈর্য ধারণ করতে চায়, আল্লাহ্ তাকে তাই দান করেন। ধৈর্যের চায়ে অধিক ব্যাপক কিছু দান করা হয়নি। (সহীহ বুখারী, হা/১৪৬৯, সহীহ মুসলিম, সহীহ আবু দাউদ, হা/১৬৪৪)
২১। বিনা হিসেবে জান্নাতে যাবে (সত্তর হাজার) ওসব লোক যারা অশুভ অমঙ্গল চিহ্ন মানে না,যারা ঝাড়-ফুক করায় না, যারা মন্ত্রতন্ত্রের ধার ধারে না এবং আগুনে পোড়া লোহার দাগ লাগায় না ; বরং সদা সর্বদা তাদের পরোয়ারদেগারের উপর পূর্ণ ভরসা রাখে। (সহীহ বুখারী, হাদিস ৫৩৪১,৬২৮,৬০৯৯)
২২। যে ব্যক্তি নিষ্ঠার সাথে শহীদি মৃত্যু কামনা করে, আল্লাহ্ তাকে শহীদদের মর্যাদায় পৌছিয়ে দিবেন, যদিও সে তার বিছানায় মৃত্যুবরণ করে। (সহীহ মুসলিমঃ ৪৭৭৮)
২৩। যখন কোন ব্যক্তি তার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দু'আ করে, তখন ফেরেশতাগণ বলেন, আমীন, এবং তোমার জন্যও অনুরুপ হবে। (সহীহ মুসলিম ও আবু দাউদ,হাঃ১৫৩৪)
২৪। কোন ব্যক্তির মন্দ হওয়ার জন্য অশ্লীল বাকচারী ও কৃপণ হওয়াই যথেষ্ট। (আহমাদ, মিশকাত হা/৪৬৯৩)
২৫। রাসূল বলেছেন: “যে ব্যক্তি প্রতি ফরয নামায শেষে আয়াতুল কুরসী পড়ে, তার জান্নাতে প্রবেশ করতে মৃত্যু ছাড়া কোন কিছু বাধা হবে না। (সহীহ আল্ জামে :৬৪৬৪, নাসায়ী, ইবনে হিব্বান, ত্বাবরানী, আল্লামা আলবানী রহ. এর সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহীহা খণ্ড দুই হাদিস নং-৯৭২)
২৬। যে ব্যক্তি উযূ করে এবং উযূকে পূর্ণাঙ্গরুপে সম্পন্ন করে, তারপর কালেমা শাহাদাত পাঠ করে,তার জন্য জান্নাতের ৮(আট)টি দরজা খুলে যায় । সে যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে । (সহিহ মুসলিমঃ ৪৬০, তিরমিযীঃ৫৫, ইবনু মাযাহঃ ৪৭০)
২৭। যে ব্যক্তি দিবসে ১ বার ও রাতে ১ বার আন্তরিকতার সাথে সােয়্যদুল ইস্তেগফার পাঠ করে যদি সে দিন বা রাতে মারা যায়, তাহলে ওই ব্যক্তি জান্নাতি । ( সহিহ বুখারী-৫৮৬৭)
২৮। ওযু করার সময় কেউ যদি উত্তমরূপে ওযু করে তাহলে তার শরীরের সব গুণাহ বের হয়ে যায়। এমনকি তার নখের নিচের গুণাহও বের হয়ে যায়। (সহীহ মুসলিমঃ ৪৮৪,৪৮৫)
২৯। রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তি সর্বোত্তম যে কুরান শিখে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়। (সহীহ বুখারীঃ ৪৬৬১,৪৬৬২)
৩০। কুরআন পাঠে দক্ষ ব্যক্তি উচ্চ মর্যাদা ফিরিশতাদের সঙ্গী হবে। আর যে ব্যক্তি কুরাআন পড়ার সময় আটকে যায় এবং কষ্ট করে তিলাওয়াত করে তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব। (সহীহ বুখারী-৪৯৩৭, মুসলিম আবু দাউদ ১৪৫)
---------------------------------------
মহান আল্লাহ রহমান , 'আমাদের সকলকে আমলগুলো করার তৌফিক দান করুন' (আমীন)।
🕋আলহামদুলিল্লাহ 🖤
🕋আস্তাগফিরুল্লাহ 🕋
মক্কা থেকে মদিনা—দুটি শহরের মধ্যকার পথের দৈর্ঘ্য আনুমানিক ৪১০ কিলোমিটার। আজকের দিনে আধুনিক সড়কপথে টানা গাড়ি চালালে চার থেকে সাড়ে চার ঘণ্টায় এই দূরত্ব অতিক্রম করা যায়। সংখ্যার হিসাবে এটি হয়তো একটি সাধারণ দূরত্ব; কিন্তু ইতিহাসের পাতায় এই ৪১০ কিলোমিটার কেবল পথ নয়—এটি ঈমান, ত্যাগ ও অবিচল বিশ্বাসের এক চিরস্মরণীয় মানচিত্র।
এই পথ শুধু দুটি নগরের মাঝের ভৌগোলিক ব্যবধান নয়; এটি এমন এক যাত্রাপথ, যেখানে মানবতার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ ﷺ নিজের আরামকে বিসর্জন দিয়ে একটি আদর্শকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এগিয়ে গিয়েছিলেন। যে পথ আজ আমরা আরামদায়ক যানবাহনে অতিক্রম করি, সেই একই পথে তিনি চলেছিলেন সীমাহীন ধৈর্য ও আল্লাহর ওপর পরিপূর্ণ ভরসা নিয়ে।
প্রায় ৪১০ কিলোমিটারের এই সফর তিনি সম্পন্ন করেছিলেন আরামদায়ক কোনো বাহনে নয়—আংশিকভাবে উটে আর আংশিকভাবে নিজের পবিত্র পদযুগলে হেঁটে। তপ্ত মরুভূমির প্রচণ্ড গরম, দুর্গম পাহাড়ি পথ, দিনের দহন আর রাতের নিস্তব্ধতা—সবকিছুকে অতিক্রম করে এই যাত্রা সম্পন্ন হয়েছিল প্রায় আট দিন ধরে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন একমাত্র সঙ্গী, আবু বকর সিদ্দীক রাযিয়াল্লাহু আনহু—যিনি শুধু সফরের সাথি নন, বরং ঈমান, বিশ্বস্ততা ও আত্মত্যাগের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
এই যাত্রা নিছক স্থান পরিবর্তনের ঘটনা ছিল না; ছিল নির্যাতন, হুমকি ও হত্যাচেষ্টার প্রেক্ষাপটে সত্যকে রক্ষা করার এক সাহসী ঘোষণা। পথে কোনো বাহুল্য ছিল না, ছিল না দুনিয়ার আরাম-আয়েশ। ছিল সামান্য সম্বল, কিন্তু ছিল অসীম দায়িত্ববোধ। কারণ রাসূল ﷺ বহন করছিলেন এমন এক আমানত, যা মানবজাতিকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসবে—ওয়াহির সেই দায়িত্ব, যা তিনি উম্মাহর জন্য নিঃশর্তভাবে গ্রহণ করেছিলেন।
প্রতিটি কিলোমিটার ছিল ধৈর্যের পরীক্ষা, প্রতিটি দিন ছিল আল্লাহর ওপর ভরসার নতুন অধ্যায়। ক্লান্তি তাঁকে থামাতে পারেনি, কষ্ট তাঁকে পিছিয়ে দিতে পারেনি। কারণ এই পথচলার প্রতিটি পদক্ষেপে লুকিয়ে ছিল ভবিষ্যৎ উম্মাহর জন্য ত্যাগের নীরব সাক্ষ্য।
আজ আমরা যখন নিরাপদ পরিবেশে, শান্ত মনে ইসলাম পালন করি, তখন এই ৪১০ কিলোমিটার আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—এই শান্তি বিনামূল্যে আসেনি। এর পেছনে রয়েছে রাসূল ﷺ–এর সীমাহীন ত্যাগ, সাহাবিদের আত্মনিবেদন এবং এক আদর্শের জন্য অকুণ্ঠ আত্মোৎসর্গ। ইসলাম আমাদের কাছে সহজে পৌঁছেনি; এটি পৌঁছেছে নীরব কষ্টে ভেজা, কিন্তু সত্যে অটল এক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে।
এই ইতিহাস কেবল স্মরণ করার জন্য নয়; এটি আমাদের হৃদয়ে কৃতজ্ঞতা ও দায়িত্ববোধ জাগানোর জন্য। যেন আমরা শুধু অতীত পাঠ না করি, বরং সেই আদর্শকে জীবনে ধারণ করি—ধৈর্য, সত্যনিষ্ঠা ও আল্লাহর ওপর পরিপূর্ণ আস্থা।
এই পথের প্রতিটি ধূলিকণা যেন আমাদের প্রশ্ন করে—আমরা কি সেই ত্যাগের মর্যাদা দিচ্ছি? আমরা কি সেই আদর্শ বহন করছি, যার জন্য তিনি এই দীর্ঘ ও কষ্টসাধ্য ৪১০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছিলেন?
তাই ইতিহাসের এই পথ শুধু দূরত্ব নয়—এটি ঈমানের মানচিত্র, ত্যাগের মাইলফলক এবং ভালোবাসার চিরন্তন নিদর্শন। আসুন, হৃদয়ের গভীর থেকে সেই মহান নবীর প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করি, যাঁর ত্যাগের পথ বেয়েই আজ আমাদের কাছে ঈমানের আলো পৌঁছেছে।
আল্লাহ আমাদের সেই ত্যাগ বোঝার তাওফিক দিন এবং তাঁর প্রিয় হাবীব ﷺ–এর আদর্শে জীবন গড়ার শক্তি দান করুন।
16/01/2026
Click here to claim your Sponsored Listing.