জানা অজানা পথ

জানা অজানা পথ

Share

I know that I know nothing- Socrates

13/05/2026
09/05/2026

১৯৪৬ সালে গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং
সাহাদত হোসেন খান
প্রথম অংশ- Shahadat Hossain Khan

নিখিল ভারত মুসলিম লীগ ভারত থেকে ব্রিটিশদের বিদায়ের পর একটি পৃথক মুসলিম আবাসভূমির দাবিতে সাধারণ ধর্মঘট এবং অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। মুসলিম লীগের আহবানে ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট সারা ভারতের মুসলিমপ্রধান অঞ্চলগুলোতে শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল, ধর্মঘট ও বিক্ষোভ সমাবেশের মধ্য দিয়ে ডাইরেক্ট অ্যাকশন বা প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস পালিত হলেও বঙ্গদেশের রাজধানী কলকাতায় হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে ভয়াবহ সা¤প্রদায়িক দাঙ্গা বেধে যায়। কলকাতার দাঙ্গা ইতিহাসে ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ হিসেবে পরিচিত। আবার দিনটি ‘দ্য উইক অব দ্য লং নাইভস’ হিসেবেও পরিচিত। প্রথম চারদিনের দাঙ্গা ছিল ভয়াবহ। সপ্তাহব্যপী দাঙ্গাকালে কলকাতা মুসলিমপ্রধান ও হিন্দুপ্রধান এলাকায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। এই দাঙ্গা কলকাতাসহ হিন্দু-অধ্যুষিত পশ্চিমবঙ্গ এবং মুসলিম-অধ্যুষিত পূর্ববঙ্গের (বর্তমানে বাংলাদেশ) মধ্যে বাংলা ভাগকে অনিবার্য করে তোলে।
কলকাতার দাঙ্গার প্রতিক্রিয়ায় নোয়াখালী, বিহার, উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব ও উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশেও সা¤প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। ভারত গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়। কলকাতার দাঙ্গা ছিল পরিকল্পিত। সাধারণ হিন্দুদের ক্ষেপিয়ে তুলতে গুজব ছড়ানো হয় যে, নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে না পারলে মুসলিম লীগ সরকার ডিনামাইট দিয়ে কলকাতা নগরী উড়িয়ে দেবে। হিন্দুপ্রধান কংগ্রেস বাংলায় মুসলিম লীগের শাসন মেনে নিতে পারেনি। তাদের উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি করা যাতে বাংলায় মুসলিম লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং গভর্নরের শাসন জারি করা হয়। এছাড়া, তাদের আরেকটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও ছিল। হিন্দুরা ছিল পাকিস্তান আন্দোলন ও প্রস্তাবিত পাকিস্তানে যোগদানের ঘোরতর বিরোধী। সার্বিকভাবে বঙ্গদেশে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও কলকাতায় তারা ছিল সংখ্যালঘু। এ মহানগরীর সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরা হিসাব করে দেখতে পায় যে, প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস সফল হলে তাকে ব্রিটিশ ভারতের প্রথম রাজধানী কলকাতাসহ হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলের পাকিস্তানে যোগদানের সম্মতি হিসেবে গণ্য করা হবে। মুসলিম লীগ যাতে প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস পালনের কর্মসূচি সফল হওয়ার দাবি করে কলকাতাসহ গোটা বঙ্গদেশকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ না পায় সেই জন্য এ কর্মসূচি ব্যর্থ করে দেয়ার চক্রান্ত করা হয়। কংগ্রেস ছিল চক্রান্তের শিরোমণি। ১৪ আগস্ট বঙ্গীয় আইনসভায় কংগ্রেস দলের নেতা কিরণ শঙ্কর রায় হিন্দু দোকানদারদের প্রতি সরকারি ছুটি পালন না করার এবং হরতালের দিন তাদের ব্যবসা খোলা রাখার আহবান জানান।
কলকাতায় ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে’কে একটি বৃহৎ আকারের হরতাল এবং গণসমাবেশ হিসেবে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। মুসলিম লীগ খুব ভালোভাবে এ ধরনের কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ করতে জানতো। জনগণের প্রতিক্রিয়া ছিল প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি। নতুন পরিস্থিতিতে ‘জাতি’ শব্দটি তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ গুরুতরভাবে এ প্রতিক্রিয়ার ভুল হিসাব করেছিলেন। ১৯৪৬ সালের আগস্টে ‘জাতি'’ আর কেবল একটি রাজনৈতিক শ্লোগান ছিল না। বাস্তব রাজনীতি এবং মানুষের কল্পনা উভয় ক্ষেত্রেই জাতি দ্রæত বাস্তবতায় রূপান্তরিত হচ্ছিল। ১৯৪৬ সালের ১১-১৪ ফেব্রæয়ারি থেকে কলকাতায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তীব্রতর ছিল। হিন্দু ও মুসলিম সংবাদপত্রগুলো উত্তেজনাপূর্ণ এবং অত্যন্ত পক্ষপাতমূলক প্রতিবেদনের মাধ্যমে জনসাধারণের অনুভূতিকে উস্কে দেয়। এ উস্কানি দুটি সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধ আরো বাড়িয়ে দেয়। অখÐ হিন্দুস্থান শ্লোগানকে ঘিরে হিন্দু জনমত সংগঠিত হয়েছিল বাংলার কয়েকজন কংগ্রেস নেতা হিন্দু পরিচয়ের একটি শক্তিশালী ভাবাবেগ ধারণ করেছিলেন বিশেষ করে পাকিস্তান আন্দোলনের বিরুদ্ধে নিজেদের সংখ্যালঘু হিসেবে ভাবছিলেন।
প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস শান্তিপূর্ণ একটি নিয়মতান্ত্রিক প্রতিবাদ কর্মসূূচি হলেও কংগ্রেস তার বিরোধিতা করেছিল। দলটির নেতৃত্বের মধ্যে এ ধারণা বদ্ধমূল ছিল যে, এ কর্মসূচি সফল হতে দেয়ার অর্থ হলো অখণ্ড ভারত প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। তবে দাঙ্গাকারী হিন্দুরা কখনো প্রকাশ করেনি যে, তারা কংগ্রেসের সমর্থনে মুসলিম লীগের ঘোষিত কর্মসূচির বিরোধিতা করছে। হিন্দুরা দাবি করছিল যে, আত্মরক্ষার প্রয়োজনে তারা প্রত্যাঘাত করছে। বঙ্গদেশের মুসলমানরা পাকিস্তান দাবির প্রতি সমর্থন দেয়ায় হিন্দুরা ভেতরে ভেতরে ফুঁসছিল। তারা মুসলমানদের একটি উচিত শিক্ষা দেয়ার জন্য প্রহর গুণছিল। ডাইরেক্ট অ্যাকশন বা প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস তাদের সেই সুযোগ এনে দেয়। এ ব্যাপারে ইতিহাসবিদ হারুনুর রশীদের ‘দ্য ফোরশেডিং অব বাংলাদেশ: বেঙ্গল মুসলিম লীগ এন্ড মুসলিম পলিটিক্স; ১৯৩৬-১৯৪৭’ শিরোনামে বইয়ের একটি মন্তব্য উল্লেখ করার দাবি রাখে। তিনি বলেছেন-"Congress and Hindus used the opportunity offered by Direct Action Day to teach the Muslims in Calcutta a lesson and kill them in great numbers. Thus, the riots opened the way to a partition of Bengal between a Hindu-dominated Western Bengal including Calcutta and a Muslim-dominated Eastern Bengal (nowadays Bangladesh" অর্থাৎ ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবসকে কংগ্রেস ও হিন্দুরা কলকাতার মুসলমানদের একটি উচিত শিক্ষা দেয়ার এবং বিপুলসংখ্যক মুসলমানকে হত্যা করার একটি সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে। এ সা¤প্রদায়িক দাঙ্গা বঙ্গদেশকে কলকাতাসহ হিন্দুপ্রধান পশ্চিমবঙ্গ এবং মুসলিমপ্রধান পূর্ববঙ্গে (বর্তমান বাংলাদেশ) বিভক্ত হওয়ার পথ খুলে দেয়।’
কেবিনেট মিশন প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় মুসলিম লীগ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার দাবিতে ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ বা প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস পালনের ডাক দেয়। ১৯৪৬ সালের ২৭-২৯ জুলাই দলের কাউন্সিল মিটিংয়ে এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। পরদিন কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ বোম্বাইয়ে নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তিনি গণপরিষদ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে ব্রিটিশদের পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করছেন। অন্তর্বর্তী সরকারে কংগ্রেসকে মুসলিম লীগের চেয়ে বেশি অংশীদারিত্ব দেয়ায় তিনি এ পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেন। মুসলিম লীগ প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস পালনের ডাক দেয়ায় ব্রিটিশ সরকার ভীত হয়ে পড়ে। ৮ আগস্ট ভাইসরয় ফিল্ড মার্শাল লর্ড ওয়াভেল এ কর্মসূচি নিয়ে উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ, পাঞ্জাব, সিন্ধু, উত্তর প্রদেশ ও বঙ্গদেশের গভর্নরদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
শান্তিপূর্ণভাবে প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস পালনে যুক্তবাংলার মুখ্যমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ১৬ আগস্ট সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন। বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রীর এ ঘোষণার বিরোধিতা করে। তবে বাংলার লেফটেন্যান্ট গভর্নর স্যার ফ্রেডারিক জন বারুস সাধারণ ছুটি ঘোষণার প্রতি সমর্থন জানান। সাধারণ ছুটি ঘোষণার প্রতি তার সমর্থন দানের ব্যাখা দিতে গিয়ে ভাইসরয় লর্ড ওয়াভেলের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি ছুটি ঘোষণা করা না হলে লুটপাট ও হত্যাযজ্ঞ বৃদ্ধি পেতো। তাই ছুটি ঘোষণা করায় সাধারণ মানুষ নিজ নিজ বাড়িঘরে অবস্থান করার সুযোগ পায়।’
১৬ আগস্ট সকালে গোলযোগ শুরু হয়। উত্তর কলকাতায় মুসলিমপ্রধান এলাকায় হিন্দু মালিকানাধীন দোকানপাট বন্ধ করা থেকে দাঙ্গার সূত্রপাত ঘটে। ১০টার আগেই লালবাজারের পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জানানো হয় যে, শহরজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে, দোকানপাট জোর করে বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে এবং মারামারি, ছুরিকাঘাত, পাথর ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হচ্ছে। এসব গোলযোগ মূলত শহরের উত্তর-মধ্যাঞ্চলে রাজাবাজার, কলাবাগান, কলেজ স্ট্রিট, হ্যারিসন রোড, কলুটোলা এবং বড়বাজারে কেন্দ্রীভূত ছিল। ১৯১০ সালের ডিসেম্বরে এসব অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছিল। এসব জায়গায় হিন্দুরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল এবং অর্থনৈতিকভাবেও শক্তিশালী অবস্থানে ছিল। মুসলিম স্বেচ্ছাসেবকরা হরতাল সফল করতে দোকানপাট বন্ধ করার চেষ্টা করলে হিন্দুরা রুখে দাঁড়ায়। সেদিন ছিল শুক্রবার। আবার ছিল রমজান মাস। মুসলমানদের প্রভাবশালী স্থানীয় পত্রিকা ‘স্টার অব ইন্ডিয়া’ ও ‘দ্য ডন’-এ দিবসটির বিস্তারিত কর্মসূচি ছাপা হয়। তাতে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার দাবিতে সমাজের সর্বস্তরে হরতাল ও সাধারণ ধর্মঘট পালনের আহŸান জানানো হয়। পত্রিকায় প্রকাশিত নোটিশে বলা হয় যে, হাওড়া, হুগলি, মেতিয়াবার্জ ও চব্বিশ পরগনাসহ কলকাতার বিভিন্ন স্থান থেকে মিছিল বের করা হবে এবং এসব মিছিল কলকাতার অকটার্লোনি মনুমেন্টের (বর্তমানে শহীদ মিনার) পাদদেশে এসে মিলিত হবে। সেখানে গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন খাজা নাজিমুদ্দিন।
সমাবেশে যোগদানের আমন্ত্রণ জানানোর জন্য কলকাতার প্রতিটি মসজিদে তিন জন করে মুসলিম লীগের স্বেচ্ছাসেবক পাঠানো হয়। প্রতিটি মসজিদে জুম্মার নামাজে ব্রিটিশ ভারত বিশেষ করে বাংলার মুসলমানদের মুক্তির জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। দিনটিকে বিশ্বনবীর (সা:) মক্কা বিজয়ের সঙ্গে তুলনা করা হয়। সকল মুসলমানকে সমাবেশে যোগদানের আহŸান জানানো হয়। অন্যদিকে, হিন্দুরা সমাবেশ বাঞ্ছালের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করে রেখেছিল। জুম্মার নামাজের পর কলকাতার চারদিক থেকে সমাবেশে যোগদানের উদ্দেশে মুসলমানরা মিছিল নিয়ে এগিয়ে যাবার চেষ্টা করলে বাধা দেয়া হয়। ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ, মুসলিম লীগ জিন্দাবাদ, লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান, আল্লাহু আকবর’ প্রভৃতি শ্লোগান দিয়ে হিন্দুপ্রধান এলাকাগুলো অতিক্রম করার সময় মিছিলে ভবনের ছাদ থেকে বৃষ্টির মতো ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হতে থাকে। নিক্ষিপ্ত ইট-পাটকেলে রাস্তা বোঝাই হয়ে যায়। বিকেল ৪টায় সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশে বহু লোকের মৃত্যুর সংবাদ আসতে থাকে। খাজা নাজিমুদ্দিন তার ভাষণে বলেন, সকাল ১১টা থেকে দাঙ্গা শুরু হয়েছে এবং হতাহতদের সবাই মুসলমান। মুখ্যমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দী তার নাতিদীর্ঘ ভাষণে জনগণকে শান্ত থাকার আহŸান জানান। শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ শুরু হলেও চৌরঙ্গিতে জনতার মাঝে ছুটোছুটি শুরু হলে তিনি তার ভাষণ শেষ করতে পারেননি। এত বড় সমাবেশ কলকাতায় আর কখনো হয়নি। সেদিনের সমাবেশে এক লাখ লোক যোগদান করেছিল। কিন্তু সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্সের একজন হিন্দু রিপোর্টারের হিসাব অনুযায়ী সমাবেশে উপস্থিত লোকজনের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩০ হাজার। পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়ানো হয় যে, বেলিয়াঘাটায় দুজন গোয়ালাকে মুসলমানরা হত্যা করেছে। এ গুজব ছড়িয়ে পড়ায় তৎক্ষণাৎ বৌবাজারে দাঙ্গা শুরু হয়। দাবানলের মতো দাঙ্গা এমহার্স্ট স্ট্রিট, মানিকতলা ও বেলিয়াঘাটা থানা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। হিন্দুপ্রধান বালিগঞ্জ, ভবানীপুর, কালিঘাট, টালিগঞ্জ, আলীপুর, কারায়া, কসবা, জয়দেবপুর ও গড়িয়ায় মুসলমানরা ছুরিকাহত ও গুলিবিদ্ধ হতে থাকে। শহরের দক্ষিণে ঘনবসতিপূর্ণ পার্ক সার্কাস রোড, পূর্বদিকে সিআইটি রোড, উত্তরে বিবেকানন্দ রোড ও পশ্চিমে স্ট্রান্ড রোডে সবচেয়ে ভয়াবহ দাঙ্গা সংঘটিত হয়। দাঙ্গায় শহরের জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়ে। মধ্য কলকাতায় হিন্দুরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। টেলিফোন, ট্রেন ও ট্রাম অচল হয়ে পড়ে। ভবানীপুর, শ্যামনগর ও অন্যান্য হিন্দুপ্রধান এলাকার মুসলমানরা পার্ক সার্কাস রোডে লেডি ব্রাবুর্ন কলেজে এসে আশ্রয় নেয়। এ কলেজকে শরণার্থী শিবির হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এখানে যেসব বিশিষ্ট মুসলমান আশ্রয় গ্রহণ করেন তাদের মধ্যে ছিলেন বিখ্যাত বিজ্ঞানী ড. কুদরত-ই-খুদা ও ড. একেএম আবদুল ওয়াহেদ। হাজার হাজার লোক কলকাতা থেকে পালিয়ে যায়। কয়েকদিন যাবৎ হুগলী নদীর উপর হাওড়া সেতু ছিল পলায়নকারী লোকজনে ঠাসা। এসব লোক কলকাতা থেকে পালানোর জন্য হাওড়া স্টেশনে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিল। সহিংসতা শহরের বাইরে ছড়িয়ে পড়ায় এসব হতভাগ্য মানুষ কলকাতা থেকে পালিয়ে গিয়েও রক্ষা পায়নি।
১৬ আগস্ট আহুত সমাবেশে যোগদানের প্রয়োজনে মুসলিম পুরুষরা বাইরে থাকার সময় হিন্দু দাঙ্গাকারীরা মুসলমানদের খালি বাড়িঘরে কিভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল তার বর্ণনা দিতে গিয়ে সোহরাওয়ার্দীর বোন বেগম শায়েস্তা সোহরাওয়ার্দী ইকরামুল্লাহ তার ‘হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী : অ্যা বাইয়োগ্রাফি’ শিরোনামে পুস্তকে লিখেছেন, ÔThe Hindus had an initial advantage of several hours for the Muslim men were away from their homes and so slaughter of the women and children tookplace without any let or hindrance. That the Muslims retaliated in kind I do not deny.‘ অর্থাৎ ‘ মুসলিম পুরুষরা তাদের বাড়িঘর থেকে দূরে থাকায় হিন্দুরা প্রাথমিকভাবে কয়েক ঘণ্টা সুযোগ পেয়ে যায় এবং এসময় কোনো বাধা বিঘœ বা বিরতি ছাড়া মহিলা ও শিশুদের হত্যা করা হয়। মুসলমানরা একইভাবে প্রতিশোধ গ্রহণ করেছিল সে কথা আমি অস্বীকার করছি না।’
১৬ আগস্ট রাতে মুখ্যমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দী শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহŸান জানিয়ে রেডিওতে ভাষণ দেন। কিন্তু তার ভাষণ দাঙ্গাকারীদের নিরস্ত করতে পারেনি। মুখ্যমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন সংখ্যালঘু মুসলমানদের একজন। গরীব মুসলমানদের তিনি ছিলেন নয়নের মণি। ভারতের পূর্বাঞ্চলে ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল স্যার ফ্রান্সিস টুকার কলকাতায় সা¤প্রদায়িক দাঙ্গার সময় ছিলেন নির্বিকার। সোহরাওয়ার্দী শিয়ালদহ রেস্ট ক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনী তলব করার জন্য অনিচ্ছুক ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেন। দুর্ভাগ্যবশত ১৭ আগস্ট রাত পৌনে ২টা নাগাদ ব্রিটিশ কর্মকর্তারা সেনাবাহিনী পাঠাননি।
সংঘবদ্ধ চক্র রক্তের হোলিখেলায় মেতে উঠার সময় সেনাবাহিনী ছিল ব্যারাকে। দাঙ্গা বেধে যাবার ২৪ ঘণ্টা পর সেনাবাহিনীকে তলব করা হয়। ১৭ আগস্ট দিনের বেলায় সবচেয়ে ভয়াবহ হত্যাকাÐ ঘটে। শেষ বিকাল নাগাদ সৈন্যরা সবচেয়ে নাজুক এলাকা নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সেনাবাহিনী রাতারাতি তাদের নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারণ করে। তবে বস্তি এবং অন্যান্য এলাকা তখনো সামরিক নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। সহিংসতা এবং দাঙ্গা প্রতি ঘণ্টায় বৃদ্ধি পায়। ১৮ আগস্ট সকালে বাস এবং ট্যাক্সিতে তরবারি, লোহার রড এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে শিখ এবং হিন্দুরা টহল দিচ্ছিল। সোহরাওয়ার্দী অবস্থান করছিলেন কলকাতার লালবাজারে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে। তার টেবিলের সামনে কলকাতার একটি মানচিত্র ছিল। টেলিফোন পাওয়া মাত্র তিনি মানচিত্র দেখে একটি খোলা জীপ নিয়ে উপদ্রুত এলাকায় ছুটে গিয়ে বহু মানুষের জীবন রক্ষা করেছেন। মারাত্মক দাঙ্গা কবলিত এলাকায় তিনি তার ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে দাঙ্গা বন্ধ করেন। দাঙ্গা দমনে কোথাও কোথাও তাকে বাঘের মতো হাতাহাতি লড়াই করতে হয়েছে। অর্ধ উন্মাদ লোকদের হাত থেকে তাকে রক্তরঞ্জিত তলোয়ার কেড়ে নিতে হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ছিল তার হাতে। তাই তিনি কয়েকটি বিনিদ্র রাত কাটান লালবাজারে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে। ১৮ আগস্ট এক পদস্থ আইপি অফিসার পুলিশ কন্ট্রোল রুমে সোহরাওয়ার্দীকে বিমর্ষ অবস্থায় বসে থাকতে দেখতে পান। সোহরাওয়ার্দী তাকে দেখে দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলে উঠেন, ‘আমার গরীব মুসলমানদের মেরে ফেলা হচ্ছে।’
দাঙ্গা মোকাবিলায় চার জনের বেশি লোকের সমাবেশের উপর ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। ১৯ আগস্ট পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি ঘটে। তবে তখনো হিন্দুদের হামলা অব্যাহত ছিল। ২০ আগস্ট দোকানপাট খুলতে শুরু করে। বাস ও ট্যাক্সি চলাচল পুনরায় শুরু হয়। তবে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। ২১ আগস্ট কলকাতায় ৫ ব্যাটালিয়ন ব্রিটিশ সৈন্য মোতায়েন করা হয়। এসব ব্রিটিশ সৈন্যকে সহায়তা করছিল চার ব্যাটালিয়ন ভারতীয় ও গুর্খা সৈন্য। সৈন্য মোতায়েন করার পরদিন থেকে সহিংসতার মাত্রা হ্রাস পায়। এত সামান্য সৈন্য মোতায়েন করায় ভাইসরয় লর্ড ওয়াভেল বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন। তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে, আরো আগে আরো বেশি ব্রিটিশ সৈন্য তলব করা উচিত ছিল। সেই সময় পর্যাপ্ত সৈন্য মোতায়েন না করার কোনো কারণ তিনি দেখছেন না। মুখ্যমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দীকে দোষারোপ করার জন্য তিনি এ ধরনের মন্তব্য করেছিলেন। সময় মতো সৈন্য মোতায়েন না করার ব্যর্থতা ছিল ভাইসরয়ের নিজের। তিনি ছিলেন ভারতে ব্রিটিশ সরকারের নিয়োজিত সর্বোচ্চ নির্বাহী কর্মকর্তা। সোহরাওয়ার্দী বাধা দিলেও উপেক্ষা করার কর্তৃত্ব তার ছিল। বাস্তবতা সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, মুখ্যমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দীর সৈন্য মোতায়েনে বাধা দেয়ার কথা নয়। সেই অধিকার তার ছিল না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকায় তিনি পুলিশ মোতায়েনে বাধা দিতে পারতেন। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযোগ করা হয়নি। কলকাতা পুলিশে এক হাজার ২ শো হিন্দু পুলিশ সদস্যের বিপরীতে মুসলিম পুলিশ সদস্যের সংখ্যা ছিল মাত্র ৬০ জন। মুখ্যমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দীর সুপারিশে কলকাতা পুলিশে ৬ শো পাঞ্জাবি মুসলমানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। হিন্দুপ্রধান হওয়ায় দাঙ্গাকালে কলকাতা পুলিশ ছিল নিষ্ক্রিয়। (লেখাটি Shahadat Hossain Khan এর ভারতে মুসলিম-বিরোধী দাঙ্গা থেকে নেয়া। বইটি প্রকাশ করেছে আফসার ব্রাদার্স।)

05/05/2026

আজকে বুঝলাম 🙄
একজন চেয়ারম্যান কেন এতো বার চেয়ারম্যান হতে চায় বা কেনোই রাজনৈতিক নেতারা চেয়ারম্যান হতে চায়। কিভাবে কোটিপতি হয় তার বিশাল এক তালিকা নিচে দেওয়া হলো।

একজন চেয়ারম্যানের হাতে যেসকল বরাদ্দ সেবা থাকে ।

আসুন তা জেনে নেই-

১. বয়স্ক ভাতা

২. বিধবা ভাতা

৩. প্রতিবন্ধী ভাতা

৪. মাতৃত্বকালীন ভাতা

৫. দুস্থ মহিলা ভাতা

৬. ভিজিডি (VGD)

৭. ভিজিএফ (VGF)

৮. কর্মক্ষম দরিদ্র সহায়তা

৯. হতদরিদ্র ভাতা

১০. মুক্তিযোদ্ধা ভাতা

১১. অনগ্রসর জনগোষ্ঠী সহায়তা

১২. শিশু সহায়তা কর্মসূচি

১৩. কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য)

১৪. কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা)

১৫. ১০০ দিনের কর্মসূচি

১৬. টিআর (TR) কর্মসূচি

১৭. খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি

১৮. দরিদ্রদের কর্মসংস্থান প্রকল্প

১৯. মৌসুমি কর্মসংস্থান

২০. গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ

২১. শ্রমিক নিয়োগ প্রকল্প

২২. যুব কর্মসংস্থান সহায়তা

২৩. গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণ

২৪. রাস্তা সংস্কার

২৫. ব্রিজ নির্মাণ

২৬. কালভার্ট নির্মাণ

২৭. ড্রেন নির্মাণ

২৮. বাজার উন্নয়ন

২৯. হাট উন্নয়ন

৩০. ঘাট নির্মাণ

৩১. খাল খনন

৩২. পুকুর খনন

৩৩. বাঁধ নির্মাণ

৩৪. পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা

৩৫. গ্রামীণ বিদ্যুৎ সহায়তা

৩৬. টিউবওয়েল স্থাপন

৩৭. গভীর নলকূপ

৩৮. স্যানিটারি ল্যাট্রিন বিতরণ

৩৯. পাবলিক টয়লেট

৪০. নিরাপদ পানি প্রকল্প

৪১. পানি সংরক্ষণ

৪২. ড্রেনেজ উন্নয়ন

৪৩. স্বাস্থ্য সচেতনতা

৪৪. বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

৪৫. পরিচ্ছন্নতা অভিযান

৪৬. স্কুল মেরামত

৪৭. শিক্ষা সহায়তা

৪৮. উপবৃত্তি সহযোগিতা

৪৯. বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ

৫০. নারী ক্ষমতায়ন

৫১. মাদকবিরোধী কার্যক্রম

৫২. সচেতনতা সভা

৫৩. যুব উন্নয়ন

৫৪. সাংস্কৃতিক কার্যক্রম

৫৫. ক্রীড়া উন্নয়ন

৫৬. টিকাদান কর্মসূচি

৫৭. মা ও শিশু স্বাস্থ্য

৫৮. পরিবার পরিকল্পনা

৫৯. স্বাস্থ্য ক্যাম্প

৬০. পুষ্টি কর্মসূচি

৬১. কমিউনিটি ক্লিনিক সহায়তা

৬২. স্যানিটেশন সচেতনতা

৬৩. রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম

৬৪. কৃষি প্রশিক্ষণ

৬৫. বীজ বিতরণ

৬৬. সার সহায়তা

৬৭. সেচ সুবিধা

৬৮. গাছ লাগানো

৬৯. বনায়ন

৭০. মৎস্য চাষ সহায়তা

৭১. প্রাণিসম্পদ সহায়তা

৭২. পরিবেশ সংরক্ষণ

৭৩. ত্রাণ বিতরণ

৭৪. বন্যা সহায়তা

৭৫. ঘূর্ণিঝড় সহায়তা

৭৬. আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনা

৭৭. পুনর্বাসন প্রকল্প

৭৮. দুর্যোগ প্রস্তুতি প্রশিক্ষণ

৭৯. ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার

৮০. জন্ম নিবন্ধন

৮১. মৃত্যু নিবন্ধন

৮২. নাগরিক সনদ প্রদান

৮৩. অনলাইন সেবা। অথচ এই সেবা গুলো দেওয়ার জন্য জনগনকে আজ পর্যন্ত জানতে দেয়া হলোনা। অথচ আমাদেরকে কত রংয়ের ভূগোল যে কয় তার ইয়ত্তা নাই।

আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই

এই সকল ভাতা ও উন্নয়ন প্রকল্প জনগণের অধিকার, কারো ব্যক্তিগত দান না। তাই এখন সময় প্রতিটি তালিকা প্রকাশ করতে হবে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রকৃত উপকারভোগীদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।
চেয়ারম্যান হবেন সেবা করার জন্য।

আজকে বুঝলাম, একজন চেয়ারম্যান কেন এতো বার চেয়ারম্যান হতে চায় বা কেনোই রাজনৈতিক নেতারা চেয়ারম্যান হতে চায়।
কিভাবে কোটিপতি হয় তার বিশাল এক তালিকা দেওয়া হলো।
এই সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে যদি নিজ জনপদের উন্নয়ন দৃশ্যমান দেখতে চান।
গত ১৮ মাসের উন্নয়নের চিত্র কোটি কোটি টাকা লোপাট উপজেলা প্রশাসন হাতিয়া আপনার সহযোগিতা কামনা করছি।
হাতিয়ার প্রায় বেড়িবাঁধের করুন অবস্থা।

কপি পোস্ট = ফৌজিয়া সাফদার সোহেলী

17/04/2026

আদি থেকেই এরা পৃথিবীর অশান্তির মূল যার কারণে যুগে যুগে এরা লাঞ্চিত হয়েছে, অন্যের গোলাম হয়েছে, হি...লারের আক্রমণের স্বীকার হয়েছে। এরা তাদের লাঞ্চনার দিনগুলো ভুলে গেছে। আবার এদের জন্য দূর্দিন অপেক্ষা করছে।

09/02/2026

২০০৮ সালে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থাকলেও নানা করনে সন্দ্বীপ গিয়ে ভোট দেয়ার সুযোগ হয়নি।
এইবার সরকার বাহাদুর সরকারি চাকরিজীবীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের একটা সুযোগ দিয়েছেন। এই সুযোগটি কাজে লাগালাম এবং জীবনের প্রথম ভোটটা দিতে পেরে নিজেকে একজন গর্বিত নাগরিক মনে হচ্ছে।

Photos from জানা অজানা পথ's post 09/02/2026

লাচ্ছি সেমাই আমার পছন্দের খাবার। যখন দোকানে বাজার করতে যাই, চোখে পড়লেই নিয়ে আসি উৎপাদন এবং ব্যবহারের শেষ তারিখ দেখে। বরাবরই ভাল কোম্পানিরটা চয়েস করি। ওয়েল ফুডের সব ধরনের কনফেশনারি পণ্যই আমার খুবই পছন্দের। ওদের পন্যের গুণগত মান অসাধারণ কিন্তু গত কিছুদিন আগে এসবি শপিং থেকে বাজার করার সময় ওয়েল ফুডের এই লাচ্ছি সেমাইয়ের প্যাকেটটা নিলাম মেয়াদ দেখে। উৎপাদনের তারিখ-১৭/০৯/২৫খ্রি. এবং মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ -১৬/৯/২৬খ্রি.। আজকে সন্ধ্যায় নাস্তা করার সময় খেতে গিয়ে একটা উৎকট গন্ধ নাকে আসে। ভাবছিলাম হয়ত দুধ বা মধুর গন্ধ কিন্তু আমি নিজে প্যাকেটের মুখে নাক দিয়ে গন্ধ শুঁকে দেখি খুব বাজে ধরনের একটা গন্ধ যাকে আমাদের স্থানীয় ভাষায় বলে "হিতাইন্না বাস"।
ওয়লে ফুডের মত একটা স্বনামধন্য কোম্পানির পন্য/কনফেকশনারি থেকে এমনটা আশা করিনি। বাংলাদেশে এত এত ভেজালের ভিতরে মানুষ যে কয়েকটা কোম্পানির পন্যের প্রতি আস্থা রাখে ওয়েল ফুড তাদের মধ্যে সামনের সারির বলে মনে করি। অথচ তাদের পণ্যের যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে মানুষের আস্থার জায়গা কোথায়?

06/02/2026

স্বপ্নের ইউরোপ যাবেন?
বৈধ উপায়ে চেষ্টা করুন.....
ঘটনা-১

গত সপ্তাহে একজন ত্রিশোঊর্ধ্ব মহিলা এবং আঠারোর চেয়ে কম ছেলে ইউরোপ যাওয়ার জন্য ইমিগ্রেশনের সমস্ত পক্রিয়া সম্পন্ন করে ফ্লাইটে উঠার আগে সর্বশেষ চেকিং পক্রিয়ায় পুলিশের সন্দেহ হলে সেই দুই জনের পাসপোর্ট সহ সকল ডকুমেন্টস চেক করার সময় জানা যায় যে দুই জনের পাসপোর্ট-ই ফেইক। ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের দুই জনকেই অফিসে নিয়ে এসে অধিকতর তদন্ত করে জানতে পারে যে, মহিলাটি প্রায় দেড় বছর আগে একটা এজেন্সিকে ইউরোপ যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট জমা দেয়। নির্দিষ্ট দেশের এ্যাম্বাসিও ফেইস করে মহিলা। ২২ লাখ টাকা চুক্তি হয় সেই এজেন্সির সাথে। দীর্ঘদিন পর এজেন্সি নির্দিষ্ট দেশের একটা ভিসা ইস্যু করে অন্য একজনের পাসপোর্টের বিপরীতে। মহিলাকে এজেন্সিতে ডেকে নিয়ে নাম ঠিকানা মুখস্থ করানো হয়। সাথে আরেক জনকে ছেলে সাজিয়ে ইমিগ্রেশন পার হওয়ার বিষয়ে বিশদ তালিম দেয়া হয় কিন্তু দূর্ভাগ্য যে তিনি ইমিগ্রেশন পুলিশের নিকট ধরা পরে যান।
টাকা ও গেল, জেলও খাটা লাগলো।
ঘটনা-২
একই এলাকার দুইজন রোমানিয়া যাবে। এজেন্সির সাথে চুক্তি হল বিশাল আংকের টাকায়। দীর্ঘদিন পরে ভিসা হল। বাড়ীতে খুশির জোয়ার। ছেলে গুলো ইউরোপ যাবে, টাকা কামাবে, ভাল পরিবারের সুন্দরী মেয়েকে বউ হিসেবে ঘরে আনবে। কত স্বপ্ন দুচোখে, কত আশা বুকে, আনন্দ ভরা চোখ মুখ নিয়ে ইমিগ্রেশনে এসে জানতে পারলেন তাদের দুই জনের ভিসাই অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে জাল করা হয়েছে। সমস্ত স্বপ্ন নিমিষেই শেষ করে দিলেন ইমিগ্রেশন অফিসার।.............

আমাদের প্রধান উপদেষ্টা মহোদয় বলেছিলেন যে আমরা ডকুমেন্টস নকলে সেরা জাতি। তিনি কি মিথ্যা বলেছেন????

02/02/2026

ইসলামে নারীকে বলা হয় "হুরমত" ( সম্মান, পবিত্রতা ও মর্যাদার প্রতীক)
নারীকে বলা হয় "আমানত" ( আল্লাহর পক্ষ থেকে দায়িত্ব ও বিশ্বাসের প্রতীক।
আরো বলা হয় "রাহমার নিদর্শন" বা পরিবার ও সমাজে নারী হল করুনার উৎস।
আর দেশীয় এবং পশ্চিমা বৈদেশিক শাহবাগীদের জন্য নারী হল "এপস্টেইন ফাইলস"

Want your public figure to be the top-listed Public Figure in Chittagong?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Website

Address

Chittagong