Abdullah Ripon
আসসালামু আলাইকুম। আপনাকে আমার পেইজে স্বাগতম।
25/01/2026
20/01/2026
18/01/2026
নবী করিম ﷺ - এর চোখে ১২ প্রকার মানুষ সবচেয়ে সর্বোত্তম !
আসুন চেক করে দেখি আপনি আমি সেই লিস্টে আছি কি না?
● ১.
রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন,
ﺧَﻴْﺮُﻛُﻢْ ﻣَﻦْ ﺗَﻌَﻠَّﻢَ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥَ ﻭَﻋَﻠَّﻤَﻪُ
‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ওই ব্যক্তি, যে নিজে কোরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়।’
(বুখারি, হাদিস নম্বর : ৫০২৭)
● ২.
রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন,
ﺇِﻥَّ ﺧِﻴَﺎﺭَﻛُﻢْ ﺃَﺣَﺎﺳِﻨُﻜُﻢْ ﺃَﺧْﻼَﻗًﺎ
‘নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ওই ব্যক্তি, যে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম আচরণের অধিকারী।’ (বুখারি, হাদিস নম্বর : ৬০৩৫)
● ৩.
রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন,
ﺇِﻥَّ ﺧِﻴَﺎﺭَﻛُﻢْ ﺃَﺣْﺴَﻨُﻜُﻢْ ﻗَﻀَﺎﺀً
‘তোমাদের মধ্যে সর্বসেরা ব্যক্তি সে, যে ঋণ পরিশোধের বেলায় ভালো।’
(বুখারি, হাদিস নম্বর : ২৩০৫)
● ৪.
রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন,
‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ওই ব্যক্তি, যার কাছ থেকে সবাই কল্যাণ আশা করে, অনিষ্টের আশঙ্কা করে না।’ (তিরমিজি, হাদিস নম্বর : ২২৬৩/২৪৩২)
● ৫.
রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন,
‘তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ওই ব্যক্তি, যে তার পরিবারের কাছে ভালো।’
(সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নম্বর : ৪১৭৭)
● ৬.
রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন,
ﺧِﻴَﺎﺭُﻛُﻢْ ﺃَﻃْﻮَﻟُﻜُﻢْ ﺃَﻋْﻤَﺎﺭًﺍ ﻭَﺃَﺣْﺴَﻨُﻜُﻢْ ﺃَﻋْﻤَﺎﻟًﺎ
তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি সেই, যে তোমাদের মধ্যে বয়সে বেশি এবং (নেক) কাজে উত্তম।
(আহমাদ ৭২১২, ৯২৩৫, সিঃ সহীহাহ ১২৯৮)
● ৭.
রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন,
ﺧَﻴْﺮُ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﺃﻧْﻔَﻌُﻬُﻢْ ﻟِﻠﻨَّﺎﺱِ
সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ সেই ব্যক্তি, যে মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী।
(সহীহুল জামে’ হা/ ৩২৮৯, দারাক্বুত্বনী, সিঃ সহীহাহ ৪২৬)
● ৮.
রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন,
ﻣَـﺨْﻤُﻮْﻡِ ﺍﻟْﻘَﻠْﺐِ ﺻَﺪُﻭْﻕِ ﺍﻟﻠِّﺴَﺎﻥِ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﺻَﺪُﻭْﻕُ ﺍﻟﻠِّﺴَﺎﻥِ ﻧَﻌْﺮِﻓُﻪُ ﻓَﻤَﺎ ﻣَـﺨْﻤُﻮﻡُ ﺍﻟْﻘَﻠْﺐِ
‘শ্রেষ্ঠ মানুষ হলো যার অন্তর পরিচ্ছন্ন ও মুখ সত্যবাদী। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসুল! সত্যবাদী মুখ বোঝা গেল, কিন্তু পরিচ্ছন্ন অন্তরের অধিকারী কে? রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন, যে অন্তর স্বচ্ছ ও নির্মল, মুত্তাকি, যাতে কোনো পাপ নেই, বাড়াবাড়ি বা জুলুম নেই, নেই খেয়ানত ও বিদ্বেষ।
(ইবনে মাজাহ ৪২১৬ ,সহিহুল জামে, হাদিস :৩২৯১
● ৯.
রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন,
ﺧَﻴْﺮُ ﺍﻷَﺻْﺤَﺎﺏِ ﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺧَﻴْﺮُﻫُﻢْ ﻟِﺼَﺎﺣِﺒِﻪِ ﻭَﺧَﻴْﺮُ ﺍﻟْﺠِﻴﺮَﺍﻥِ ﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺧَﻴْﺮ
04/01/2026
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সুখের উৎসগুলোর একটি হলো সন্তান। সন্তান শুধু একটি সম্পর্ক নয়—সে ভালোবাসা, আশা, দায়িত্ব এবং জীবনের অর্থকে নতুনভাবে উপলব্ধি করার এক অনন্য উপহার।
১. নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রতীক :
সন্তান জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই বাবা–মায়ের হৃদয়ে নিঃস্বার্থ ভালোবাসার জন্ম দেয়। এই ভালোবাসায় কোনো শর্ত থাকে না। সন্তানের হাসি, প্রথম হাঁটা, প্রথম কথা—সবকিছু বাবা–মায়ের জীবনে অপার আনন্দ এনে দেয়।
২. জীবনের অর্থ ও প্রেরণা :
সন্তান মানুষকে জীবনের নতুন উদ্দেশ্য দেয়। বাবা–মা নিজের কষ্ট ভুলে সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য পরিশ্রম করে। সন্তানই অনেক সময় মানুষকে ভালো মানুষ হওয়ার প্রেরণা জোগায়।
৩. দুঃখ-কষ্ট ভুলিয়ে দেওয়ার শক্তি :
ক্লান্তি, ব্যর্থতা বা দুঃখের মুহূর্তে সন্তানের একটি হাসি, একটি ডাক বা একটি আলিঙ্গন সমস্ত কষ্ট ভুলিয়ে দিতে পারে। সন্তানের উপস্থিতি ঘরকে আনন্দে ভরিয়ে তোলে।
৪. পারিবারিক বন্ধনের দৃঢ়তা :
সন্তান পরিবারকে একসূত্রে গাঁথে। বাবা–মা, দাদা–দাদি, নানা–নানির মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর হয়। পরিবারে প্রাণচাঞ্চল্য আসে সন্তানের মাধ্যমেই।
৫. ভবিষ্যতের আশা :
সন্তান হলো আগামীর স্বপ্ন। বাবা–মা সন্তানের মধ্যে নিজের অসম্পূর্ণ স্বপ্নগুলো পূরণের আশা দেখে। সন্তানের সফলতা বাবা–মায়ের জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য হয়ে ওঠে।
৬. আত্মত্যাগের আনন্দ :
সন্তানের জন্য করা ত্যাগ কষ্টের মনে হলেও তাতে এক গভীর আনন্দ লুকিয়ে থাকে। সন্তানের ভালো থাকাই বাবা–মায়ের প্রকৃত সুখ।
৭. উপসংহার :
সন্তান হলো আল্লাহর এক অমূল্য নিয়ামত। অর্থ, সম্পদ বা খ্যাতি ক্ষণস্থায়ী হলেও সন্তানের ভালোবাসা চিরস্থায়ী। তাই বলা যায়—পৃথিবীর সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও গভীর সুখের উৎস হচ্ছে সন্তান।
19/12/2025
দুরুদ পাঠের সময় 📿
স্মরণ থাকুক ৪টি বিষয়
চারটি বিষয় মাথায় রেখে দুরুদ পড়ুন, আপনার দুরুদের প্রতি আকর্ষণ বাড়তেই থাকবে ইনশাআল্লাহ।
১) আপনি যখনি রাসূল ﷺ এর উপর দুরুদ পড়েন, সাথে সাথে একজন ফেরেশতা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে গিয়ে আপনার নাম বলে। হ্যাঁ, স্বয়ং রাসূল ﷺ কে আপনার "নাম" বলে।
২) রাসূল ﷺ এর প্রতি ১বার সালাম পাঠালে, স্বয়ং আল্লাহ, জ্বি স্বয়ং আল্লাহ, আপনার উপর ১০ বার সালাম পাঠান।
৩) অবিরত দুরুদ পড়লে আপনার সমস্ত সমস্যার দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহ নিয়ে নেন। এমনকি যদি আপনি ঐসব সমস্যার জন্য আলাদা করে দুআ নাও করেন।
৪) আপনি তাঁর প্রতি সালাম পাঠাচ্ছেন, যিনি শুধুমাত্র আপনাকে আমাকে জাহান্নাম থেকে বাঁচানোর জন্য বারবার রক্তাত্ত হয়েছিলেন। যার সামনে তাঁর প্রিয় সাহাবীদের হত্যা করা হয়েছিল।
সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
#সাল্লাল্লাহুআলাইহিওয়াসাল্লাম
24/11/2025
22/11/2025
কোরআন-হাদিসের আলোকে আল্লাহর রহমত পাওয়ার ১০টি উপায় বর্ণনা করা হয়েছে, যা প্রতিটি মুমিনের জানা প্রয়োজন।
১. সৃষ্টির প্রতি দয়া দেখানো
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘দয়াশীলদের ওপর আল্লাহ দয়া করেন। তোমরা পৃথিবীবাসীর প্রতি দয়া করো, যাতে আকাশের মালিকও তোমাদের প্রতি দয়া করেন’ (আবু দাউদ: ৪৯৪১)। একটি পিপাসার্ত কুকুরকে পানি পান করালে আল্লাহ ক্ষমা করেন—এমন উদাহরণও হাদিসে রয়েছে।
২. ফরজ ইবাদত পালন
নামাজ, রোজা, জাকাতের মতো ফরজ কাজগুলো আল্লাহর দয়া পাওয়ার মূল চাবিকাঠি। সূরা নুরে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা নামাজ কায়েম করো, জাকাত দাও এবং রাসুলের আনুগত্য করো, যাতে তোমরা অনুগ্রহভাজন হতে পারো।’ (আয়াত: ৫৬)
৩. ইহসান বা আন্তরিকতার সঙ্গে আমল
নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করলে আল্লাহ খুশি হন। সুরা আরাফে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর অনুগ্রহ সৎকর্মপরায়ণদের নিকটবর্তী।’ (আয়াত: ৫৬)
৪. তাকওয়া অবলম্বন
আল্লাহভীরু ব্যক্তিরাই তাঁর রহমতের বেশি হকদার। সূরা আরাফে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমার দয়া- তা তো প্রত্যেক বস্তুকে ঘিরে রয়েছে। কাজেই আমি তা লিখে দেব তাদের জন্য যারা তাকওয়া অবলম্বন করে, ঈমান আনে।’ (আয়াত: ১৫৬)
৫. কোরআন তেলাওয়াত ও চর্চা
কোরআন শুনলে, পড়লে এবং বুঝে আমল করলে আল্লাহর রহমত নেমে আসে। সূরা আনআমে বলা হয়েছে, কোরআনের অনুসরণ করলে দয়া করা হবে।’ (আয়াত: ১৫৫)
৬. কোরআন শ্রবণ
মনোযোগ দিয়ে কোরআন তেলাওয়াত শোনা দয়ার পথ খুলে দেয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন কোরআন পাঠ করা হয়, তখন তা মনোযোগ দিয়ে শোন এবং চুপ থাক, যাতে তোমরা রহমত লাভ কর।’ (সুরা আরাফ: ২০৪)
৭. দ্বীনি কাজে কষ্ট স্বীকার
হিজরত ও জিহাদের পথ বেছে নেওয়া মুমিনদের জন্য বিশেষ অনুগ্রহের প্রতিশ্রুতি বহন করে। (সুরা বাকারা: ২১৮)
৮. সুন্নাহর অনুসরণে রহমত মেলে
আল্লাহ বলছেন- ‘তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করো, যাতে তোমরা দয়া লাভ করতে পারো।’ (সুরা আলে ইমরান: ১৩২)
৯. ইস্তেগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা
ইস্তেগফার আল্লাহর দয়ার দরজা খুলে দেয়। সূরা নামলে নবী সালেহ (আ.) তাঁর সম্প্রদায়কে বলেছিলেন, ‘কেন তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছ না যেন তোমাদেরকে রহমত করা হয়?’ (আয়াত: ৪৬)
১০. রহমত লাভের দোয়া
সুরা কাহফের দোয়া— رَبَّنَاۤ اٰتِنَا مِنۡ لَّدُنۡكَ رَحۡمَۃً ‘হে আমাদের রব! আমাদেরকে আপনার পক্ষ থেকে রহমত দান করুন’ (আয়াত: ১০)—প্রতিদিন পড়ুন।
মহিউস সুন্নাহ টেলিগ্রাম চ্যানেল থেকে সংগৃহীত
17/11/2025
"বাবার উপস্থিতি শিশুরা বেশি পছন্দ করে... অন্য যেকোন মূল্যবান জিনিসের চেয়ে!" 💖
একজন বাবার উপস্থিতি শিশুর জীবনে শুধু ভালোবাসা নয়, নিরাপত্তার এক অদৃশ্য ছায়া।
বাবা যখন পাশে থাকে—শিশুর চোখে পৃথিবীটা অনেক বেশি নিরাপদ, রঙিন আর বিশ্বাসযোগ্য লাগে। 🌍💫
মনোবিজ্ঞানের ভাষায়, বাবার নিয়মিত উপস্থিতি শিশুর আত্মবিশ্বাস, সাহস এবং মানসিক ভারসাম্য গঠনে বিশাল ভূমিকা রাখে।
বাবা পাশে থাকলে শিশু জানে — “যা-ই হোক, আমি নিরাপদ।”
এটাই সেই বিশ্বাস, যা কোনো দামি খেলনা বা উপহার দিতে পারে না। 🎁💔
অন্যদিকে, যখন বাবা ব্যস্ততার কারণে দূরে থাকে বা সময় দিতে পারে না — শিশুর মনে এক ধরনের অপূর্ণতা তৈরি হয়।
সে তখন চুপচাপ হয়, কখনো রাগ করে, কখনো অবুঝ কষ্টে ডুবে যায়…
কারণ, শিশু জানে না ‘কেন’ বাবা সময় দিতে পারে না, সে শুধু ‘অনুপস্থিতি’টা অনুভব করে। 😔
একটা ছোট্ট হাত যখন বাবার হাত ধরে হাঁটে, তখন শুধু রাস্তা নয় — জীবনের দিকগুলোও ঠিকভাবে শেখে।
বাবা পাশে থাকলে বাচ্চারা কম ভয় পায়, কম হোঁচট খায়, আর বেশি হাসে।
বাবার কণ্ঠের আশ্বাসটাই অনেক সময় পুরো পৃথিবীর থেকে বড় হয়ে যায়! 💪👨👧
তাই সন্তানের জন্য সবচেয়ে দামী উপহার কোনো গিফট না...
সবচেয়ে দামী উপহার হলো “বাবার সময়”, “বাবার উপস্থিতি” এবং “বাবার ভালোবাসা”।
কারণ এটাই সেই ভালোবাসা — যা থেকে তৈরি হয় এক আত্মবিশ্বাসী, সাহসী এবং সুখী মানুষ।
12/10/2025
একটা দুধ বহনকারী গাড়ি অন্য গাড়ির সাথে ধা/ ক্কা লেগে গেল উল্টে! দুধে ভেসে গেল রাস্তা। ভিড় জমে গেল সেখানে।
ভিড়ের মাঝ থেকে অমায়িক চেহারার এক ভদ্রলোক বেরিয়ে এসে দুধ বহনকারী গাড়ির ড্রাইভারকে বললেন, এজন্য নিশ্চয়ই তোমার মালিক তোমাকে দায়ী করবে৷ ক্ষতিপুরণ চাইবে।
: জ্বি
: তুমি তো গরীব। এত টাকা পাবে কোথায়? এক কাজ কর, এই আমি পাঁচ টাকা দিলাম, এখন অন্যদের কাছ থেকে আরও কিছু-কিছু নিলে বোধহয় হয়ে যাবে তোমার।
কিছুক্ষণের মধ্যেই বেশ কিছু টাকা উঠে গেল। ভিড় কমে গেলে ভদ্রলোকটিও চলে গেলেন। একজন পথিক আপন মনে বলে উঠল, 'কে এই ভদ্রলোক?'
ড্রাইভার বলল, 'আমার মালিক।'🙂
10/10/2025
♦ এক দেশে এক অদ্ভুত নিয়ম ছিল। সেখানে যখন কেউ বৃদ্ধ হতো, তখন তাকে পাহাড়ে ফেলে আসতে হতো।
♦ দেশের রাজা মনে করতেন, বৃদ্ধদের যত্ন করার ঝামেলা কমালে মানুষের জীবন সহজ হবে।
♦ সেই দেশে এক পিতা ও পুত্র থাকত, যাদের মধ্যে অটুট ভালোবাসা ছিল। সময়ের স্রোতে পিতা বুড়ো হয়ে গেলেন এবং আর আগের মতো কাজ করতে পারলেন না।
♦ দেশের নিয়ম মেনে ছেলেকে বাবাকে পাহাড়ে ফেলে আসতে হবে। কিন্তু ছেলে বাবাকে ফেলে আসার কথা ভাবতেই পারছিল না। তবু নিয়মের ভয়ে সে বাবাকে কাঁধে নিয়ে পাহাড়ের দিকে রওনা দিল।
♦ পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছে ছেলের মন কেঁদে উঠল। শেষ পর্যন্ত সে বাবাকে ফেলে আসতে পারল না।
♦ ছেলেটি বাবাকে সঙ্গে নিয়ে ফিরে এল এবং বাড়ির পেছনে লুকিয়ে রাখল। প্রতিদিন চুপিচুপি খাবার এনে বাবাকে খাওয়াত।
♦ একদিন রাজা প্রজাদের বুদ্ধি পরীক্ষা করতে চাইলেন। তিনি ঘোষণা করলেন:
— "যে ছাই দিয়ে দড়ি তৈরি করে আনতে পারবে, তাকে পুরস্কার দেওয়া হবে!"
♦ এ কথা শুনে সবাই অবাক হয়ে গেল। ছাই দিয়ে কখনো দড়ি বানানো যায়? ছেলে বাবার কাছে গিয়ে বলল, "বাবা, এটা কিভাবে সম্ভব?"
♦ বাবা বললেন, "একটা দড়ি নাও, সেটি পাত্রে পেঁচিয়ে রাখো, তারপর আগুনে পুড়িয়ে দাও।"
♦ ছেলে বাবার কথামতো করল। দড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেল, কিন্তু তার আকার ঠিক আগের মতোই রইল। ছেলে সেই ছাইয়ের দড়ি রাজাকে দেখাল। রাজা খুশি হয়ে ছেলেকে পুরস্কার দিলেন।
♦ কিছুদিন পর রাজা আরেকটি ধাঁধা দিলেন:
— "এই কাঠের ডালের আগা আর গোড়া খুঁজে বের করো!"
♦ ডালের দুই প্রান্ত দেখতে একই রকম, তাই কেউ বুঝতে পারল না কোনটা আগা, কোনটা গোড়া। ছেলে ডালটি বাবাকে দেখাল।
♦ বাবা বললেন, "ডালটি পানিতে রাখো। যেটি বেশি ডুবে যাবে, সেটি গোড়া, আর যেটি ভেসে থাকবে সেটি আগা।"
ছেলে বাবার বুদ্ধিতে আবারও রাজাকে সঠিক উত্তর দেখিয়ে পুরস্কার পেল।
♦ এরপর রাজা আরও কঠিন ধাঁধা দিলেন:
— "একটি ঢোল তৈরি করো, যা আঘাত ছাড়া শব্দ করবে!"
♦ সবার মাথা ঘুরে গেল। কেউই এর সমাধান খুঁজে পেল না। ছেলে আবার বাবার কাছে ছুটে গেল।
বাবা বললেন, "একটা ঢোল তৈরি করে তার ভেতরে মৌমাছির চাক রাখো।"
♦ ছেলে বাবার নির্দেশ মতো ঢোল বানিয়ে রাজাকে দিল। রাজা ঢোল নাড়াতেই ভেতরের মৌমাছিরা গুনগুন করে শব্দ তুলতে লাগল। রাজা বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন:
— "তুমি কিভাবে এসব করছ?"
♦ ছেলে বিনয়ের সঙ্গে বলল,
— "মহারাজ, এ আমার বাবার জ্ঞান। তাঁর অভিজ্ঞতাই আমাকে সাহায্য করেছে।"
♦ রাজা চমৎকৃত হয়ে বললেন,
— "বুঝেছি, অভিজ্ঞতা অমূল্য। তাই আজ থেকে আর কোনো বৃদ্ধকে পাহাড়ে ফেলে আসতে হবে না।"
♦ এরপর থেকে সকল বৃদ্ধ পরিবারের সঙ্গে ভালোবাসায় থাকত, আর সবাই বুঝতে পারল—
অভিজ্ঞতাই জীবনের আসল পথপ্রদর্শক।
♦♦ শিক্ষা: বয়স্করা আমাদের জীবনের আশীর্বাদ। তাদের যত্ন নেওয়া আমাদের দায়িত্ব—এটা শুধু কর্তব্য নয়,সৌভাগ্য।
Click here to claim your Sponsored Listing.