Muhammad Rakib Raza
"এমন জীবন তুমি করিও গঠন
মরনে হাসিবে তুমি কাঁদিবে ভূবন"
29/01/2026
আলহামদুলিল্লাহ! দাওয়াতে ইসলামীর জন্য এক ঐতিহাসিক ও আনন্দঘন মুহূর্ত 🌿
দাওয়াতে ইসলামীর দারুল ইফতা আহলে সুন্নাতের পক্ষ থেকে অত্যন্ত খুশির সংবাদ—
মুসাদ্দাক (অনুমোদিত) মুফতিয়ানে কিরামের সংখ্যা ৪ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে এখন ৭ জনে পৌঁছেছে।
এছাড়াও নায়েবে মুফতিয়ানে কিরামের সংখ্যা হয়েছে ৩ জন।
এখানে স্মরণ রাখা জরুরি—
দারুল ইফতা আহলে সুন্নাতে মুফতি কিংবা নায়েবে মুফতি হওয়া কোনো সহজ বিষয় নয়।
আলিম ও মুফতি কোর্স শেষ করার পর পর্যায়ক্রমে
মুদাররিস → মু‘আউন → মুতাখাসসিস → সিনিয়র মুতাখাসসিস → নায়েবে মুফতি → মুফতি
—এই দীর্ঘ ও কঠিন ধাপ অতিক্রম করেই এই মর্যাদায় পৌঁছাতে হয়।
অনেক ক্ষেত্রে শুধু নায়েবে মুফতি হতে গিয়েই ১২–১৫ বছর সময় লেগে যায়।
এই অর্জন প্রমাণ করে—
দাওয়াতে ইসলামী কেবল দাওয়াত ও নসিহতের কাজই নয়,
বরং গভীর ইলম, তাহকীক ও দায়িত্বশীল ইফতার ঐতিহ্য গড়ে তুলছে।
আল্লাহ তাআলা মুফতিয়ানে কিরামকে ইলমে দ্বীন ছড়িয়ে দেওয়ার তাওফিক দান করুন
এবং দাওয়াতে ইসলামীকে কিয়ামত পর্যন্ত দ্বীনের খেদমতে কবুল রাখুন।
দাওয়াতে ইসলামী জিন্দাবাদ ✨
মানুষকে ক্ষমা করার ফযিলত
১. প্রিয় নবী على الله عليْهِ وَآلِهِ وَسَلَّم ইরশাদ করেন: যে ব্যক্তির মাঝে তিনটি বিষয় থাকবে, আল্লাহ পাক (কিয়ামতের দিন) তার হিসাব অত্যন্ত সহজ পদ্ধতিতে গ্রহণ করবেন এবং তাকে আপন রহমতে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। সাহাবায়ে কিরাম عَلَيْهِم الرضوان আরয করলেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّم ! সেই বিষয়গুলো কী কী? ইরশাদ করলেন:
(১) যে তোমাকে বঞ্চিত করে তাকে তুমি দান করো
(২) যে তোমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে তুমি তার সাথে সম্পর্ক জুড়ে রাখো এবং
(৩) যে তোমার উপর অত্যাচার করে তুমি তাকে ক্ষমা করে দাও।
(মুজামু আওসাত, ৪/১৮, হাদীস: ৫০৬৪)
২. ইরশাদ করেন: কিয়ামতের দিন ঘোষণা করা হবে: যার প্রতিদান আল্লাহ পাকের দয়াময় যিম্মায় রয়েছে, সে যেন দাঁড়ায় এবং জান্নাতে প্রবেশ করে। জিজ্ঞাসা করা হবে: কার জন্য প্রতিদান? ঘোষণাকারী বলবে: যারা ক্ষমা করে দেয় তাদের জন্য। তখন হাজার হাজার মানুষ দাঁড়াবে এবং হিসাব ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করবে।
(মুজামু আওসাত, ১/৫৪২, হাদীস: ১৯৯৮)
৩. ইরশাদ করেন: যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের ভুল ক্ষমা করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ পাক তার ভুল ক্ষমা করে দিবেন।
(ইবনে মাজাহ, ৩/৩৬, হাদীস: ২১৯৯)
صَلُّوا عَلَى الْحَبِيبِ صَلَّى اللهُ عَلَى مُحَمَّد
অসুস্থ চোখ থেকে প্রবাহিত অশ্রুর বিধান
❁ চোখের অসুখের কারণে চোখ থেকে যে অশ্রু প্রবাহিত হয় তা নাপাক। আর এরূপ অশ্রু দ্বারা অযুও ভঙ্গ হয়ে যায়। (বাহারে শরীয়াত, ১ম খন্ড, ৩১০ পৃষ্ঠা)
আফসোস! অধিকাংশ লোক এ মাসয়ালা সম্পর্কে অবগত না হওয়ার কারণে রুগ্ন চক্ষু হতে যে অশ্রু প্রবাহিত হয় তাকে সাধারণ অশ্রুর মত মনে করে আস্তিন বা জামার আচল ইত্যাদি দ্বারা মুছে কাপড় নাপাক করে ফেলে।
❁ অন্ধ ব্যক্তির চোখ হতে রোগের কারণে যে পানি বের হয় তা নাপাক এবং তা দ্বারা অযুও ভঙ্গ হয়ে যায়।
(বাহারে শরীয়াত, ১ম খন্ড, ৩০৬ পৃষ্ঠা)
পাক এবং নাপাক আর্দ্রতা
মানুষের শরীর থেকে যে তরল আর্দ্রতা বের হয়, আর অযু ভঙ্গ করে না, তা পাক। উদাহরণ স্বরূপ- রক্ত বা পূঁজ বের হয়ে গড়িয়ে না পড়লে অথবা সামান্য বমি যা মুখ ভর্তি নয়, তা পাক।
(বাহারে শরীয়াত, ১ম খন্ড, ৩০৯ পৃষ্ঠা)
বমি দ্বারা কখন অযু ভঙ্গ হয়?
মুখভর্তি বমিতে যদি খাদ্য, পানি বা পিত্ত রঙের তিক্ত পানি নির্গত হয় তাহলে অযু ভঙ্গ হয়ে যায়। যে বমিকে নিবারণ করা খুবই কষ্টকর তাকে মুখভর্তি বমি বলে। মুখভর্তি বমি প্রস্রাবের মতই নাপাক। তাই এরূপ বমির ছিটা থেকে কাপড় ও শরীর রক্ষা করা একান্ত প্রয়োজন। (বাহারে শরীয়াত, ১ম খন্ড, ৩০৬ এবং ৩৯০ পৃষ্ঠা)
সতর দেখা গেলে কি অযু ভঙ্গ হয়ে যায়?
জন সাধারণের মধ্যে প্রচলন আছে যে, হাঁটু বা সতর খুলে গেলে, নিজের কিংবা অপরের সতর দেখা গেলে অযু ভঙ্গ হয়ে যায়। কিন্তু এটা একেবারে ভুল। হ্যাঁ! অযুর সময় নাভী থেকে হাঁটু পর্যন্ত সমস্ত সতর ঢেকে রাখা অযুর আদব। বরং প্রস্রাব ও পায়খানা সেরে তাড়াতাড়ি সতর ঢেকে ফেলা উচিত। কেননা, বিনা প্রয়োজনে সতর খোলা রাখা নিষেধ এবং জন সম্মুখে সতর খোলা হারাম।
(বাহারে শরীয়াত, ১ম খন্ড, ৩০৯ পৃষ্ঠা)
যে ব্যক্তি আযান চলাকালীন সময়ে কথাবার্তায় ব্যস্ত থাকে, আল্লাহ্র পানাহ তার মন্দ মৃত্যু হওয়ার (অর্থাৎ মৃত্যুর সময় তার ঈমান ছিনিয়ে নেয়ার) আশংকা রয়েছে। (বাহারে শরীয়াত, ১য় খন্ড, ৪৭৩ পৃষ্ঠা)
সুফী তত্ত্বের মহান মাদানী ব্যবস্থাপত্র
হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম আবু হামীদ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ গাযালী رَحۡمَۃُ اللّٰہ ِتَعَالٰی عَلَیہِ বলেন: অযু থেকে অবসর হয়ে যখন আপনি নামাযের ইচ্ছা পোষণ করবেন তখন এ ধ্যান করুন যে, যে সকল প্রকাশ্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের উপর মানুষের দৃষ্টি পড়ে ঐগুলোতো পাক হয়ে গেলো কিন্তু অন্তরের পবিত্রতা ছাড়া আল্লাহ্ তাআলার দরবারে মুনাজাত করা একটা নির্লজ্জতা। কেননা, আল্লাহ্ তাআলা অন্তর দেখেন। তিনি আরো বলেন: প্রকাশ্য অযুকারীর (পবিত্রতা অর্জনকারীর) এ কথা স্মরণ রাখা উচিত যে, অন্তরের পবিত্রতা তাওবা, গুনাহ্ বর্জন ও সুন্দর চরিত্র গঠনের মাধ্যমে হয়ে থাকে। যে ব্যক্তি অন্তরকে পাপের ময়লা থেকে পরিস্কার করে না শুধু বাহ্যিক পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য্যরে প্রতি যতœবান হয় তার দৃষ্টান্ত ঐ ব্যক্তির মত, যে বাদশাহকে তার ঘরে আমন্ত্রণ করলো এবং বাদশাহের আগমন উপলক্ষ্যে তার ঘরের বাইরে খুবই সাজসজ্জা ও চাকচিক্য করলো অথচ ঘরের ভিতর অপরিস্কার, নোংরা ও ময়লা আবর্জনা পূর্ণ রেখে দিল। এখন বাদশাহ তার ঘরে আগমন করে ঘরের ভিতর প্রবেশ করে যখন ময়লা আবর্জনা ও দুর্গন্ধ দেখতে পাবেন তখন তিনি কি খুশী হবেন না অসন্তুষ্ট হবেন, তা প্রত্যেক বিবেকবান ব্যক্তিই সহজে অনুধাবন করতে পারে।
(ইহ্ইয়াউল উলুম, ১ম খন্ড, ১৮৫ পৃষ্ঠা)
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تُلۡہِکُمۡ اَمۡوَالُکُمۡ وَ لَاۤ اَوۡلَادُکُمۡ عَنۡ ذِکۡرِ اللّٰہِ ۚ وَ مَنۡ یَّفۡعَلۡ ذٰلِکَ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡخٰسِرُوۡنَ ﴿۹﴾
কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ধন সম্পদ, না তোমাদের সন্তান-সন্ততি কোন কিছুই যেন তোমাদের আল্লাহর যিকির (স্মরণ) থেকে উদাসীন না করে;এবং যে কেউ তেমন করে তবে ঐ সমস্ত লোক ক্ষতির মধ্যে রয়েছে।
( পারা ২৮ ‘সূরা মুনাফিকুন’ এর আয়াত নং ৯ )
মহিলারা কি চাকরি করতে পারবে?
পাঁচটি শর্ত মেনে মহিলারা চাকরি করতে পারবে। ইমামে আহলে সুন্নাত, মুজাদ্দীদে দ্বীন ও মিল্লাত, ইমাম আহমদ রযা খাঁন রহিমাহুল্লাহ বলেন— ‘এক্ষেত্রে পাঁচটি শর্তাবলী রয়েছে:
[১] কাপড় যেন পাতলা না হয়। যা দ্বারা মাথার চুল অথবা হাতের কব্জি ইত্যাদি এবং সতরের কোন অংশের রং প্রকাশ পায়।
[২] কাপড় যেন আঁটোসাঁটো না হয়। যা দ্বারা শরীরের অবস্থাদি (অর্থাৎ বুকের উত্থান অথবা রানের গোলাকৃতি) ইত্যাদি প্রকাশ পায়।
[৩] চুল অথবা গলা কিংবা পেট বা হাতের কব্জির বা পায়ের গোড়ালীর কোন অংশ যেন প্রকাশ না পায়।
[৪] কখনও যেন কোন পর-পুরুষের সাথে সামান্য সময়ের জন্যও একাকীত্বে অবস্থান করতে না হয়।
[৫] তার (মহিলার) সেখানে চাকরি করাতে বা বাহিরে আসা যাওয়াতে কোন ফিতনার আশংকাও যেন না হয়।
যদি এই পাঁচটি শর্তাবলী পূরণ হয় তবে কোন সমস্যা নেই। আর যদি এর মধ্যে একটিও কম হয়, তবে চাকরী করা হারাম।’ (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ২২তম খন্ড, ২৪৮ পৃষ্ঠা)
বর্তমান যুগ মুখর্তা ও কপটতার যুগ। বর্ণিত পাঁচটি শর্তাবলীর উপর আমল করা বর্তমানে খুবই কঠিন। আজকালকার অফিসগুলোতে পুরুষ ও মহিলা (আল্লাহর পানাহ!) একত্রে কাজ করে। আর এভাবেই উভয়ের জন্য বেপর্দা, অন্তরঙ্গতা আর কুদৃষ্টি দেয়া হতে বেঁচে থাকা একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়ে। এজন্য মহিলাদের উচিত, ঘর ও অফিস ইত্যাদিতে চাকরি না করে অন্য কোন ঘরোয়া উপার্জনের মাধ্যম অবলম্বণ করা।
__কিতাব, [اسکرین سے متعلق سوالات اور جوابات]
মানুষদের মধ্যে সর্বাধিক মন্দ ব্যক্তি:
নবীজি ﷺ এরশাদ করেন, আমি কি তোমাদেরকে সর্বাধিক মন্দ ব্যক্তি সম্পর্কে বলবো? সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন হে আল্লাহর রাসুল বলুন। নবীজি ﷺ এরশাদ করলেন,
১. সর্বাধিক মন্দ ব্যক্তি হলো সে, যে একাকী খায়, দান করে না, এবং অধিনস্তদেরকে প্রহার করে।
২. এরচেয়ে বেশি মন্দ ব্যক্তি হলো সে, যে মানুষকে ঘৃনা করে এবং মানুষও তাকে ঘৃনা করে।
৩. এরচেয়ে বেশি মন্দ ব্যক্তি হলো সে, যে মানুষের ওজর গ্রহন করে না এবং ভুল ক্ষমা করে না।
৪. এরচেয়ে বেশি মন্দ ব্যক্তি হলো সে, যার থেকে ভালো ও কল্যানকর কিছুর আশা করা হয় না এবং যার মন্দ থেকে নিরাপদ থাকা যায় না।*
লক্ষ্য করুন, সর্বাধিক মন্দ ব্যক্তি হিসেবে নবীজি যাদের কথা বলেছেন তাদের কেও আল্লাহর হক্ব নষ্ট করেছে তথা নামাজ রোযা কাযা করেছে এমন ব্যক্তি নয়। অথবা যে ব্যক্তি তার নিজের হক্ব নষ্ট করেছে তথা মদ পান করেছে বা অন্য কোন গুনাহ করেছে তাদের কথাও বলা হয়নি। বরং এমন কিছু বৈশিষ্ট তুলে ধরা হয়েছে যা আল্লাহ বা তার নিজের সাথে সম্পর্কিত বিষয় নয়, বরং অন্যের সাথে সম্পর্কিত বিষয়।
মানুষ সামাজিক জীব হিসেবে কেউ চাইলেও সমাজ ছাড়া চলতে পারে না। সেই সমাজে এমন কিছু মানুষ বসবাস করে যাদের অনিষ্ট থেকে বাঁচতে মানুষের যাওয়ারও কোন জায়গা থাকে না, বাধ্য হয়েই খোঁচা মারা কথার দ্বারাই হোক কিংবা ভিন্ন কোন উপায়ে বিভিন্ন ধরনের অনিষ্টতা তাকে সহ্য করে যেতে হয়। আর যারা এভাবে অন্যের জীবনকে বিভীষিকাময় করে তুলে, তাদের লেবাস কিংবা আমল যত সুন্দরই হোক তারা সব মন্দ লোক থেকেও আরো বেশি মন্দ। তাই কেউ ভালো কথা বলতে না পারলে উচিত মন্দ কথা না বলা বা চুপ থাকা, মানুষের উপকার করতে না পারলে উচিত অন্তত কারো ক্ষতি না করা।
সুনানে আবি দাউদ, হাদিস নং-১৪৮৫ সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস- ১১৮১
নামাজী ব্যক্তির জন্য পাঁচটি পুরস্কার:-
আল্লাহ পাকের প্রিয় হাবীব হুযুর صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّم ইরশাদ করেন: যে ব্যক্তি নিয়মিত নামায আদায় করবে, আল্লাহ পাক তাকে পাচঁটি বিষয় দ্বারা সম্মানীত করবে:
(১) তার কাছ থেকে পেরেশানী এবং
(২) কবরের আযাব দূরীভূত করে দিবেন
(৩) আল্লাহ পাক আমলনামা তার ডান হাতে দিবেন
(৪) সে পুলসিরাত বিদ্যুতের চেয়েও দ্রুত গতিতে পার হয়ে যাবে
(৫) বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
Click here to claim your Sponsored Listing.